Home Blog Page 231

“ ছাত্রদের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি করা যাবে না ” – মির্জা ফখরুল

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেছেন – প্রধান উপদেষ্টার জাতির উদ্দেশে বক্তব্যে আমি একটু আশাহত হয়েছি। আমি আশা করেছিলাম প্রধান উপদেষ্টা মহোদয় তার সমস্ত প্রজ্ঞা দিয়ে সমস্যাগুলো চিহ্নিত করে নির্বাচনের রূপরেখা দেবেন। মির্জা ফখরুল বলেন, ছাত্রদের সঙ্গে দূরত্ব সৃষ্টি করা যাবে না। এরা তরুণ, এদের উদ্দীপনা এমনই।… এখন একটা পরিবর্তন এসেছে, এটাকে বুঝতে হবে-ছেলেরা কী বলছে? বিএনপির মধ্যে অনেকেই আছেন এটা বলতে রাজি না, ছেলেরা এই লড়াইটা একাই করেছেন। আমরা ১৫ বছর লড়াই করেছি, রক্ত দিয়েছি, কিন্তু একটা বিষয় আছে- গোল দিতে শেষ লাথিটা বলে কে দিয়েছে?

মহাসচিব বলেন, আপনারা কম কষ্ট করেননি, কিন্তু বুক পেতে দিতে দাঁড়াননি। সাঈদ যেভাবে বুক পেতে দাঁড়িয়েছে সেটাই আন্দোলনের টার্নিং পয়েন্ট। ছাত্ররা অনেক কথা বলছে, বলবেই। আমাদের বয়স হয়ে গেছে, আমরা অনেক হিসাবি- কী করা যাবে, কী করা যাবে না। অন্তর্বর্তী সরকারকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, দ্রুত নির্বাচন হলেই দেশের জন্য মঙ্গলজনক। বর্তমান সরকারের ক্ষমতায় থাকার কোনও ম্যান্ডেট নেই, তেমন কোনও শক্তি নেই। তাই যৌক্তিক সময়ের মধ্যে সংস্কার শেষ করে দ্রুত নির্বাচনের ব্যবস্থা করার আহ্বান জানাই। তা না হলে মানুষ ভাববে, দীর্ঘদিন ক্ষমতার থাকার চেষ্টা করছেন আপনারা, যেমন করেছিলেন ফখরুদ্দিন-মঈনুদ্দিন।

অত্যাবশ্যকীয় সংস্কার শেষেই নির্বাচন , জাতির উদ্দেশ্যে : প্রধান উপদেষ্টা

অন্তর্বর্তী সরকারের ১০০ দিন পূর্তি উপলক্ষে রোববার জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন- নির্বাচনী সংস্কারের সিদ্ধান্ত হয়ে গেলে খুব দ্রুত নির্বাচনের রোডম্যাপও (রূপরেখা) পাওয়া যাবে। প্রয়োজনীয় কিছু অত্যাবশ্যকীয় সংস্কারকাজ শেষ করেই নির্বাচনের আয়োজন করা হবে। তবে নির্বাচনের ট্রেন যাত্রা শুরু করেছে। এটা আর থামবে না। অবশ্য সংস্কারের জন্য নির্বাচন কয়েক মাস বিলম্বিতও করা যেতে পারে। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, কয়েক দিনের মধ্যে নির্বাচন কমিশন গঠন হয়ে যাবে। এর পর থেকে নির্বাচন আয়োজন করার সমস্ত দায়িত্ব তাদের ওপর বর্তাবে। নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা হালনাগাদসহ আরও কিছু কাজ শুরু করে দিতে পারবে, যা একটি অবাধ নির্বাচনের সঙ্গে সরাসরি এক সম্পৃক্ত।

ড. ইউনূস বলেন- আমি নিশ্চিত নই, সংস্কার প্রস্তাবগুলো বাস্তবায়নের সুযোগ আমরা কতটুকু পাব। তবে আমি আপনাদের কথা দিচ্ছি, আপনারা সুযোগ দিলে প্রয়োজনীয় কিছু অত্যাবশ্যকীয় সংস্কারকাজ শেষ করেই আমরা আপনাদের কাঙ্ক্ষিত নির্বাচন আয়োজন করব। তত দিন পর্যন্ত আমি আপনাদের ধৈর্য ধারণ করার অনুরোধ করব। তিনি বলেন, নির্বাচন ছাড়াও আরও গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করার ব্যাপারে ঐকমত্য গঠনের জন্য অতিরিক্ত সময় প্রয়োজন হতে পারে। দেশবাসীর কাছে, বিশেষ করে রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে ক্রমাগতভাবে প্রশ্ন তুলতে থাকব, কী কী সংস্কার নির্বাচনের আগে করে নিতে চান। নির্বাচনের আয়োজন চলাকালীন কিছু সংস্কার হতে পারে।

তিনি আরো বলেন – প্রতিটি হত্যার বিচার আমরা করবই। জুলাই-আগস্ট হত্যাকাণ্ডের বিচারের যে উদ্যোগ আমরা নিয়েছি, তার কাজও ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। পতিত স্বৈরাচার শেখ হাসিনাকেও আমরা ভারত থেকে ফেরত চাইব। কেবল দেশে নয়, গুম-খুন ও জুলাই-আগস্ট গণহত্যার সঙ্গে জড়িতদের আন্তর্জাতিক আদালতেও বিচারের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে ড. ইউনূস বলেন, ইন্টারন্যাশনাল ক্রিমি- নাল কোর্টের প্রধান কৌঁসুলি করিম খানের সঙ্গে তাঁর ইতিমধ্যে কথা হয়েছে।

বাইডেন ইউক্রেনকে রুশ ভূখণ্ডে হামলাচালাতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিলেন

ইউক্রেনকে রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকৃত দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। ১৭ নভেম্বর দুজন মার্কিন কর্মকর্তা এবং সিদ্ধান্তের সাথে জড়িত একটি সূত্রে রয়টার্স এ খবর জানিয়েছে। এটি ইউক্রেন-রাশিয়া সংঘাতে ওয়াশিংটনের নীতিতে বড় পরিবর্তন। সূত্র অনুযায়ী, ইউক্রেন আগামী কয়েক দিনের মধ্যে প্রথমে দূরপাল্লার হামলা চালানোর পরিকল্পনা করেছে। তবে অভিযান-সংক্রান্ত নিরাপত্তার কারণে হামলা সম্পর্কিত বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কয়েক মাস ধরে এটিএসিএমএস নামক এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারে বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন, যাতে কিয়েভ নিজ সীমান্তের বাইরে হামলা করতে পারে।

রোববার এ সিদ্ধান্তের বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাতে গিয়ে জেলেনস্কি বলেন, ‘এ ধরনের বিষয় ঘোষণা দিয়ে হয় না। ক্ষেপণাস্ত্র নিজেরাই নিজেদের উপস্থিতি জানান দেবে।’ হোয়াইট হাউস এবং মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর এ বিষয়ে কোনও মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। ক্রেমলিনের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনও প্রতিক্রিয়া জানানো হয়নি। তবে তারা পূর্বে সতর্ক করেছিল যে, ইউক্রেনকে মার্কিন অস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ার ভেতরে হামলা চালানোর অনুমতি দেওয়া হলে তা বড় ধরনের উত্তেজনা তৈরি করবে।

রাশিয়ার সংসদের আন্তর্জাতিক বিষয়ক কমিটির উপপ্রধান ভ্লাদিমির জাবারভ সতর্ক করেছেন, ‘ওয়াশিংটন কিয়েভকে রাশিয়ার গভীরে আঘাত করার অনুমতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত এই সংঘাতকে বিশ্বযুদ্ধের দিকে নিয়ে যেতে পারে।’ ট্রাম্পের ঘনিষ্ঠ পররাষ্ট্র নীতি উপদেষ্টা রিচার্ড গ্রেনেল এই সিদ্ধান্তের সমালোচনা করে বলেছেন, ‘বিদায় নেওয়ার আগে বাইডেন যুদ্ধগুলো আরও বাড়িয়ে দিচ্ছেন।’ বাইডেন প্রশাসনের সিনিয়র কর্মকর্তারা বলেছেন, ট্রাম্পের জয়ের পর অবশিষ্ট সময়ে ইউক্রেনের যুদ্ধ সক্ষমতা নিশ্চিত করতে এবং রাশিয়ার সঙ্গে শক্তিশালী অবস্থান থেকে শান্তি আলোচনার সুযোগ তৈরিতে তারা উদ্যোগী।

অলিগার্ক গোষ্ঠীকে ভেঙ্গেদিয়ে রাষ্ট্র মেরামত করতে হবে – দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য

অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেছেন- গত এক দশকে বাংলাদেশে যে অলিগার্ক শ্রেণির উত্থান ঘটেছে, সেই গোষ্ঠীকে ভেঙে দিতে না পারলে অদূর ভবিষ্যতে কোনো সংস্কার সম্ভব হবে না। তিনি বলেন, এই অলিগার্ক গোষ্ঠীকে ভেঙে দিয়ে রাষ্ট্র মেরামত করতে হবে এবং এর মাধ্যমে বিভিন্ন ক্ষেত্রে সংস্কার কর্মসূচি এগিয়ে নিতে হবে। সংস্কারের জন্য আগে অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করার ওপর জোর দেন তিনি। অর্থনীতিসংক্রান্ত শ্বেতপত্র প্রণয়ন জাতীয় কমিটির প্রধান দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য গত দেড় দশকে আর্থিক খাত কীভাবে কিছু রাজনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও আমলাদের মাধ্যমে লুটপাটের শিকার হয়েছে, তার ভয়ংকর বর্ণনা দেন। তিনি বলেন, এই গোষ্ঠী সংস্কারের বিপক্ষে ও দুর্নীতির পক্ষে যোগসাজশ করে একটি অলিগার্ক শ্রেণির উত্থান ঘটিয়েছে।

তিনি বলেন- উন্নয়নের যে বয়ান তৈরি করা হয়েছিল, সেটি বাংলাদেশের অর্থনীতির ইতিহাসে পরিচিতি পাবে অলিগার্ক উত্থানের দশক হিসেবে।অলিগার্কদের তিনি বর্ণনা করেন এভাবে – একটি গোষ্ঠী যারা বেসরকারি খাতের সামগ্রিক স্বার্থে নয়, বরং রাষ্ট্রের দখল নিয়ে নিজেদের ক্ষুদ্র স্বার্থে এর নীতি প্রণয়নকে প্রভাবিত করেছে।দেবপ্রিয় বলেন, এই অলিগার্করা কেবল একটি ক্ষেত্রে নিজেদের সীমাবদ্ধ রাখেনি। বরং তারা ব্যাংকিং কিংবা জ্বালানি খাত থেকে শুরু করে পুঁজিবাজার এবং সম্ভবত অফশোর ব্যাংকিং ও অবৈধভাবে অর্থ পাচারের সঙ্গে নিজেদের জড়িত করেছে। তারা বাংলাদেশের দুই ফুসফুস-আর্থিক খাত ও জ্বালানি খাত খেয়ে ফেলেছে। তারাই ব্যাংক লুট করেছে, পুঁজিবাজার লুট করেছে, অবৈধপথে বিদেশে অর্থ পাঠিয়েছে। তারাই মেগা প্রকল্পের ঠিকাদার।

তিনি আরো বলেন-আপনি যদি রাষ্ট্রের কাঠামোর দিকে তাকান, তাহলে দেখবেন আইন প্রণয়নের সঙ্গে জড়িতরা, নির্বাহী বিভাগের সঙ্গে জড়িতরা, এমনকি আইন বিভাগের সঙ্গে জড়িতরা-সবাই একত্র হয়ে পুরো দেশকে এখানে নিয়ে এসেছে।

সিপিডির সম্মানীয় এই ফেলো বলেন- গণতান্ত্রিক রূপান্তর যদি মূল লক্ষ্য হয়, তাহলে অর্থনৈতিক সংস্কারগুলোর অগ্রাধিকার ঠিকমতো সাজাতে হবে। এর গতি কী হবে, সেটা ঠিক করা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। ১৬ নভেম্বর ব্র্যাক বিজনেস স্কুল আয়োজিত ‘বাংলাদেশে আর্থিক ও অর্থনৈতিক সংস্কার’ শীর্ষক এক সংলাপে অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য এসব কথা বলেন।

বাংলাদেশ – ভারত সম্পর্ক কোনো একটি ইস্যুতে আটকে থাকতে পারে না : ভারতীয় হাইকমিশনার

বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা বলেছেন – ‘আমাদের সম্পর্ক কোনো একটি এজেন্ডা বা এক ইস্যুতে আটকে থাকতে পারে না। আমাদের পারস্পরিক নির্ভরতার যে বাস্তবতা, তা রাজনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন হলেও বারবার সামনে চলে আসবে। … এটি যেভাবেই চিহ্নিত করা হোক না কেন, আমরা (ভারত) বিশ্বাস করি এই সম্পর্ক মানুষের সঙ্গে মানুষের। নিজেদের জনগণের স্বার্থে ভারত এ সম্পর্ককে স্থিতিশীল অবস্থায় নিয়ে যাবে।’ প্রণয় ভার্মা আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সন্ত্রাসবাদের প্রতি জিরো টলারেন্স এবং ভারতীয় বিদ্রোহীদের আশ্রয় না দেওয়ার বিষয়টি ভারতের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’

দুই দেশের পারস্পরিক নির্ভরতার দিকটি তুলে ধরে তিনি বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ভারত দীর্ঘমেয়াদি দৃষ্টিভঙ্গি ধারণ করে এবং বিশ্বাস করে যে – দুই দেশের শান্তি, নিরাপত্তা, অগ্রগতি ও সমৃদ্ধি পরস্পরের সঙ্গে জড়িত। ভিসা কার্যক্রমের উল্লেখ করে হাইকমিশনার বলেন, ‘আমরা এখানকার অন্য যেকোনো কূটনৈতিক মিশনের চেয়ে বেশি ভিসা ইস্যু করি।’ তবে, বর্তমানে বাংলাদেশে ভারতের ভিসা কার্যক্রম সীমিত বলেও উল্লেখ করেন তিনি। রোববার ঢাকায় সিজিএস আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনে ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় কুমার ভার্মা এই আলাপ করেন।

বাংলাদেশ – ভারত সম্পর্ক মেরামতের সময় এসেছে : বঙ্গোপসাগর সংলাপে দুই দেশের বক্তারা

বাংলাদেশ ও ভারতকে উত্তেজনা থেকে এসে দ্বিপাক্ষিক সমস্যা সমাধান ও আঞ্চলিক নিরাপত্তার হুমকি মোকাবেলায় উচ্চ পর্যায়ে আলোচনা শুরু করতে হবে। পাশাপাশি, দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কে পারস্পরিক শ্রদ্ধাবোধ থাকতে হবে। ঢাকায় বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনস-এ বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক নিয়ে এক অধিবেশনে দুই দেশের নাগরিক সমাজের নেতৃবৃন্দ, শিক্ষাবিদ ও সাংবাদিকরা এসব কথা বলেন। সংলাপে বাংলাদেশ ও ভারতের কূটনৈতিক সম্পর্কের ছয়টি দিক নিয়ে আলোচনা হয়-সীমান্ত হত্যা, অভিন্ন নদীর পানিবণ্টন, দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য, রোহিঙ্গা সংকট, সাংস্কৃতিক সম্পর্ক ও সাম্প্রতিক রাজনীতি এবং জলবায়ু পরিবর্তন ও পরিবেশ।

বাংলাদেশ ও ভারতের আলোচকদের বক্তব্যে উঠে আসে যে দুই দেশের মধ্যে চার হাজার কিলোমিটারের বেশি সীমান্ত রয়েছে, বড় বাণিজ্য সম্পর্ক রয়েছে। বাংলাদেশের যেমন ভারতের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রাখা দরকার, ভারতেরও বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা প্রয়োজন। ভারতের উচিত রাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক রাখা, কোনো নির্দিষ্ট রাজনৈতিক দলের সঙ্গে নয়। আবেগ নয়, বাস্তবতা বিবেচনা করে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নিতে হবে।
ভারতীয় একজন আলোচক শেষে বলেন, ভারত আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর আস্থা রেখেছিল তার নিরাপত্তার প্রয়োজনে। বাংলাদেশের নতুন সরকার যদি নিরাপত্তা নিশ্চিতের আশ্বাস দেয়, তাহলে ভবিষ্যতে অনেক ভালো কিছু দেখা যাবে।

ভারতীয় একজন আলোচক স্বীকার করেন, অভিন্ন নদীর পানিবণ্টনের বিষয়ে ভারতের ‘রিপোর্ট কার্ড’ ভালো নয়। বাংলাদেশি আলোচকেরা সীমান্তে বাংলাদেশি নাগরিকদের হত্যাকে একটি বড় সমস্যা হিসেবে উল্লেখ করেন। জবাবে ভারতীয় আলোচকেরা বলেন, সীমান্তে শুধু বাংলাদেশিরা হত্যার শিকার হন না, ভারতীয়রাও হন। এটা দুই দিকের জন্যই সমস্যা। এটা নিয়ে অনেক বছর ধরে কথা হচ্ছে। এখন সমাধান খুঁজতে হবে। শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত পাঠিয়ে বিচারের মুখোমুখি করা প্রসঙ্গে ভারতীয় এক আলোচক বলেন- শেখ হাসিনার বিষয়ে যা এসেছে, তা সংবাদমাধ্যমে, মানুষের আলোচনায়।

আদালতে বিচার এখনো শেষ হয়নি। বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষ ভারতের কাছে শেখ হাসিনাকে ফেরত চায়নি। ফেরত চাওয়ার পর বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হওয়া উচিত। বক্তারা বলেন, পপুলিস্ট নীতি এবং রাজনীতিতে ধর্মের ব্যবহার প্রায়ই দেশগুলোর মধ্যে উত্তেজনা সৃষ্টি করে। ঢাকায় সেন্টার ফর গভার্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত বে অব বেঙ্গল কনভারসেশনস-এ ‘ব্রিজিং ডিভাইডস: নেভিগেটিং দ্য কমপ্লেক্সিটিস অব ইন্ডিয়া-বাংলাদেশ রিলেশন্স’ শিরোনামে এই বিশেষ অধিবেশনে আলোচনা টেবিলের এক পাশে ছিলেন বাংলাদেশি ছয় আলোচক। তাঁরা হলেন সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান-যুক্তরাষ্ট্রের ইলিনয় স্টেট ইউনিভার্সিটির ডিস্টিংগুইশড প্রফেসর আলী রীয়াজ, নিউ এজের সম্পাদক নূরুল কবীর, চাকমা সার্কেলের প্রধান দেবাশীষ। রায়, সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন, যুক্তরাষ্ট্রের কোলগেট ইউনিভার্সিটির শিক্ষক নাভিন মুরশিদ এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের (বিআইপিএসএস) গবেষণা ফেলো শাফকাত মুনির।

আরেক পাশে ছিলেন ভারতের সাবেক কূটনীতিক ও ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত, মিলেনিয়াল ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল চেম্বার অব কমার্স, ইন্ডাস্ট্রি ও অ্যাগ্রিকালচারের প্রেসিডেন্ট অনিল ত্রিগুনায়ত, সাবেক সেনা কমান্ডার অরুণ কে সাহনি, সাবেক কূটনী-ি তক অশোক সাজনহর, ভারতের ইনস্টিটিউট অব ডিফেন্স স্টাডিজ অ্যান্ড অ্যানালাইসিসের গবেষণা ফেলো শ্রুতি এস পট্টনায়ক এবং ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর কূটনৈতিক সম্পাদক সুহাসিনী হায়দার।

হামাস ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে রাজি, প্রস্তাব পর্যালোচনা করছে হিজবুল্লাহ

এএফপি-র রিপোর্টে বলা হয়েছে- ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস ইসরায়েলের সঙ্গে যুদ্ধবিরতিতে যেতে প্রস্তুত। গতকাল শুক্রবার হামাসের পক্ষ থেকে গাজায় যুদ্ধবিরতিতে সম্মতির কথা জানানো হয়। দোহাভিত্তিক হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য বাসেম নাইম এএফপিকে বলেন, ‘যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দেওয়ার পাশাপাশি একে সম্মান দেখানো হলে হামাস গাজা উপত্যকায় যুদ্ধবিরতিতে পৌঁছাতে প্রস্তুত।’ বাসেম নাইম আরও বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন ও ট্রাম্পের প্রতি ইসরায়েলি আগ্রাসন বন্ধ করতে চাপ প্রয়োগের আহ্বান জানাচ্ছি।’

শুক্রবার হামাসের মিত্র ইসলামিক জিহাদ ইসরায়েলি এক জিম্মির ভিডিও প্রকাশ করেছে। মধ্যস্থতা থেকে কাতার সরে যাওয়ার পর জিম্মিদের ভাগ্য নিয়ে অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছিল। এদিকে লেবাননের কর্মকর্তারা বলছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি খসড়া যুদ্ধবিরতি প্রস্তাব তাঁরা পেয়েছেন যেটি পর্যালোচনা করা হচ্ছে। লেবাননে সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সমর্থক ইরান লেবাননে যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবকে সমর্থন জানাবে। ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতির সময় লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে সেনা মোতায়েন রাখবে লেবান কর্তৃপক্ষ। ইসরায়েল কর্তৃপক্ষ অবশ্য হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধে ‘প্রয়োজনমত’ হামলার অধিকার অব্যাহত রাখতে চায়।

কর্তৃত্ববাদ প্রতিষ্ঠায় বিচার বিভাগ এবং গণমাধ্যমের একাংশ অনুঘটকের কাজ করেছে – ড. ইফতেখারুজ্জামান

ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন- ‘বিচার বিভাগ এবং গণমাধ্যমের একাংশ, যাদের জবাবদিহি নিশ্চিত করার কথা ছিল, তারা কর্তৃত্ববাদী চর্চাকে উৎসাহিত করতে জড়িত ছিল।’ ড. ইফতেখার বলেন, ‘গত ১৬ বছরে কর্তৃত্ববাদ চরমে পৌঁছে গিয়েছিল। সমস্ত রাষ্ট্রীয় সংস্থাকে করায়ত্ত করে তাঁদের রাজনীতিকীকরণ করা হয়েছিল। পেশাজীবীদের অঙ্গনে দেউলিয়াত্ব সৃষ্টি করা হয়েছিল, যার অন্যতম শিকার ছিল এই বিচার বিভাগ। দুঃখজনকভাবে বিচার বিভাগ কর্তৃত্ববাদ প্রসারণে অনুঘটকের কাজ করেছিল।’

টিআইবি নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘এমনকি গণমাধ্যমের একটি অংশও একই ভূমিকা পালন করেছে, কারণ তারা কর্তৃত্ববাদের কাছে আত্মসমর্পণ করে অযাচিত সুবিধা গ্রহণ করেছিল। তবে এখানে অবশ্য একটি মিশ্র পরিস্থিতিও লক্ষ্য করা গেছে। সামগ্রিকভাবে গণমাধ্যম শত প্রতিকূলতার মধ্যেও তার যথার্থ ভূমিকা পালনের চেষ্টা করেছে। এমনকি বিচার বিভাগের ক্ষেত্রেও একই কথা বলা যায়।’ তিনি বলেন, ‘বিচার বিভাগ ও গণমাধ্যমের স্বাধীনতা অঙ্গাঙ্গিভাবে জড়িত। গণমাধ্যম অনুসন্ধানী প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে বিচার বিভাগের জবাবদিহিতা নিশ্চিতে অনুঘটকের মত দায়িত্ব পালন করতে পারে।’

ড. ইফতেখার বলেন, ‘বিভিন্ন খাতে সংস্কার কমিশন গঠন করে অনেক ধরনের সংস্কার কার্যক্রম চলছে। কিন্তু আমাদের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে কোনো পরিবর্তন না আসা পর্যন্ত, শুধুমাত্র প্রণীত প্রতিবেদন অনুযায়ী সংস্কারের কোনো সুফল আমরা পাব না।’ টিআইবি নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান শনিবার আইনবিষয়ক অনুসন্ধানী সাংবাদিকতা প্রশিক্ষণ কর্মশালায় এসব মত প্রকাশ করেন।

অনেক অপ্রাপ্তি থাকার পরও জনগণ এখনো এই সরকারের ওপর আস্থা রাখতে চাইছে – তারেক রহমান

অন্তর্বর্তী সরকার জন-আকাঙ্ক্ষার দিকে দৃষ্টি দিচ্ছে না বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এই সরকারকে ব্যর্থ করে দিতে পতিত স্বৈরাচার ও তার দোসররা বসে নেই। এ রকম একটা পরিস্থিতিতে অন্তর্বর্তী সরকারের কিছু কিছু সিদ্ধান্তের কারণে মনে হয় তারা জন-আকাঙ্ক্ষার প্রতি ভ্রুক্ষেপ করতে চাইছে না; বরং তারা যেটা ভালো মনে করছে, সেটাই হয়তো তারা চাপিয়ে দিতে চাইছে।

তারেক রহমান বলেন, অনেক অপ্রাপ্তি থাকার পরও জনগণ কিন্তু এখনো এই সরকারের ওপর আস্থা রাখতে চাইছে, তারা আস্থা হারাতে চাইছে না। তবে একটা প্রশ্ন হচ্ছে, সরকার কি আদৌ জনগণের ওপর আস্থা রাখতে চায়? কারণ, জনগণের সঙ্গে সরকারের আস্থার সম্পর্ক নিবিড় থাকলে ষড়যন্ত্রকারীরা ডালপালা বিস্তারের সুযোগ পাবে না। দেশের ভেতরে হোক, বাইরে হোক; প্রশাসনের ভেতরে হোক বা বাইরে হোক; ওরা কিন্তু ওত পেতে আছে। কারণ, এদের ব্যর্থ করে দেওয়া গেলে বাংলাদেশের গণতন্ত্রকে ব্যর্থ করে দেওয়া যাবে।

তিনি বলেন, সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত একটি প্রশাসন ও রাষ্ট্রের দায়িত্ব নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। মাফিয়া সরকারের প্রায় ১৫ বছরের তৈরি করা জঞ্জাল তিন মাসে দূর করা সম্ভব নয়। তবে তিন মাস পর এই অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সফলতা বা ব্যর্থতা নিয়ে জনমনে প্রশ্ন ওঠা অন্যায্য কিংবা অস্বাভাবিকও নয়। তারেক রহমান বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের একটি বিষয়ে মনে রাখা দরকার যে জনগণের সব দাবি হয়তো তাদের পক্ষে পূরণ করা সম্ভব নয়। কিন্তু সরকার পরিচালনায় যদি অদক্ষতা পরিলক্ষিত হয় বা জনগণ দেখতে পায়, সেটাও কিন্তু জনগণ সহজভাবে মেনে নেবে না।

অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের উদ্দেশে বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, ‘রাষ্ট্র মেরামতের কর্মযজ্ঞ সম্পাদন করতে গিয়ে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অগ্রাধিকার নির্ধারণে যদি ভুল হয়, সেটি জনগণের কাছে সরকারের অদক্ষতা হিসেবে বিবেচিত হবে।’ তারেক রহমান প্রশ্ন তোলেন, স্বাভাবিকভাবে প্রশ্ন উঠতে পারে যে জুলাই-আগস্টের ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানে আহত ব্যক্তিদের চিকিৎসা, নিরাপত্তা কেন অন্তর্বর্তী সরকারের অগ্রাধিকারে নেই বা সেটা কত নম্বরে ছিল। বাজার সিন্ডিকেট ভাঙা সরকারের অগ্রাধিকারের কত নম্বরে আছে?

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার জনগনের ভোটাধিকার নিশ্চিত করার লক্ষ্যে কাজ করছে। আমরা দেখেছি অন্তর্বর্তী সরকার নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠনের উদ্যোগ নিয়েছে। জনগণ আশা করছে, নিরপেক্ষ ও স্বচ্ছ পরিবেশে ভোট দিতে সক্ষম হবে। জনগণ তাদের প্রতিনিধি নির্বাচিত করার সুযোগ পাবে। জনগণ যখন সত্যিকার অর্থে বুঝতে পারবে তাদের ভোটের অধিকার প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার কাজ করছে, তখন জনগণের সঙ্গে সম্পর্কটা দৃঢ় হবে। শনিবার জাতীয়তাবাদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের (জেটেব) তৃতীয় জাতীয় কাউন্সিলে ভার্চুয়াল বক্তৃতায় বিএনপি ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান এসব কথা বলেন।

বিশ্বে ৩০ বছরে আক্রান্তের হার দ্বিগুণ , উন্নত দেশগুলোতে কমেছে ; উন্নয়নশীল দেশে বেড়েই চলেছে।

বিশ্বজুড়ে প্রায় ৮০ কোটির বেশি প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত, যা আগের হিসাবের তুলনায় দ্বিগুণ। ল্যানসেট সাময়িকীতে ১৪ নভেম্বর প্রকাশিত এক গবেষণায় এ তথ্য জানানো হয়েছে। গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২২ সালে বিশ্বজুড়ে ১৮ কিংবা তার বেশি বয়সীদের মধ্যে প্রায় ৮২ কোটি ৮০ লাখ ডায়াবেটিক রোগী শনাক্ত হয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, ১৯৯০ সালে বিশ্বব্যাপী প্রায় ৭% প্রাপ্তবয়স্ক মানুষ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত ছিলেন। যা বর্তমানে বেড়ে হয়েছে ১৪%। ১৯৯০ সালে ডায়াবেটিসে আক্রান্ত মানুষের সংখ্যা ছিল প্রায় ২০ কোটি।

গবেষণায় দেখা গেছে, উন্নত দেশগুলো যেমন জাপান, কানাডা, ফ্রান্স এবং ডেনমার্কে ডায়াবেটিসের হার কমেছে। কিন্তু উন্নয়নশীল দেশগুলোতে এটি ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। গবেষকরা বলছেন, ডায়াবেটিস রোগ ধরা পরার পর সেটির চিকিৎসা খরচের বোঝা ও ডায়াবেটিসের চিকিৎসা না হওয়ার বোঝা ক্রমশ নিম্ন-মধ্যম আয়ের দেশগুলোর ওপর পড়ছে।