Home Blog Page 230

ইউক্রেনে প্রথমবারের মতো আন্তমহাদেশীয় ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করলো রাশিয়া

বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় নিপ্রো শহরে আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। ইতিহাসে প্রথমবার যুদ্ধক্ষেত্রে শক্তিশালী এই ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করা হলো। এই হামলাকে ‘নজিরবিহীন’ বলছেন বিশেষজ্ঞরা। আইসিবিএম ব্যবহারের মধ্য দিয়ে আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধে সম্পূর্ণ নতুন মাত্রা যুক্ত হলো। এর আগে গত দুই দিনে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের তৈরি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার ভূখণ্ডে হামলা চালিয়েছে ইউক্রেন। তখনই এ নিয়ে হুঁশিয়ারি দিয়েছিল মস্কো। এরপর আজ এই হামলা চালালো দেশটি।

আইসিবিএম মূলত পারমাণবিক অস্ত্র বহনের জন্য। ব্যবহার করা হয়। তবে আজ ছোড়া ক্ষেপণাস্ত্রে পারমাণবিক অস্ত্র ছিল না বলেই ধারণা করা হচ্ছে। বিষয়টি স্পষ্ট করেনি ইউক্রেনও। কিয়েভভিত্তিক ইউক্রেইনস্ক প্রাভদা জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটির নাম আরএস-২৬ রুবেঝ। এটি ৫ হাজার ৮০০ কিমি দূরের লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে পারে। ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর স্ট্রাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের (সিএসআইএস) দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালে প্রথম আরএস-২৬ রুবেঝ ক্ষেপণাস্ত্র পরীক্ষামূলকভাবে উৎক্ষেপণ করে সফল হয় রাশিয়া। এর উচ্চতা ৪০ ফুট। ওজন ৩৬ হাজার কেজি। একটি আরএস-২৬ রুবেঝ ক্ষেপণাস্ত্র ৮০০ কেজি ওজনের পারমাণবিক অস্ত্র বহন করতে পারে।আইসিবিএম ব্যবহার করে এই রুশ হামলায় কী ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সে বিষয়ে কোনো ধারণা দেয়নি ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী। বিমানবাহিনী শুধু জানিয়েছে, ক্ষেপণাস্ত্রটি রুশ ফেডারেশনের আস্ত্রাত্থান অঞ্চল থেকে ছোড়া হয়। এর দূরত্ব নিপ্রো থেকে ৭০০ কিলোমিটারের বেশি। তবে আঞ্চলিক গভর্নর সেরহি লিসাক বলেছেন, হামলায় নিপ্রো শহরের একটি শিল্পপ্রতিষ্ঠানে আগুন ধরে যায়। এতে দুজন আহত হয়েছেন।

যুক্তরাষ্ট্র – রাশিয়া মুখোমুখি

ইউক্রেন দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে রাশিয়ায় হামলা চালানোয় ওয়াশিংটন ও মস্কো মুখোমুখি লড়াইয়ে নামতে পারে বলে আশঙ্কা করছেন অনেকে। রাশিয়ার কঠোর সতর্কবার্তা সত্ত্বেও ইউক্রেন মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি এটিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার অভ্যন্তরে হামলা চালায়। পাল্টা হামলার আশঙ্কায় এরই মধ্যে ইউক্রেনে মার্কিন দূতাবাস বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। দূতাবাস বন্ধ করে দিয়েছে স্পেন, গ্রিস, ইতালিসহ আরও কয়েকটি দেশ। জরুরি পরিস্থিতিতে বা সংকটকালে দুই পক্ষের মধ্যে আলাপের জন্য যে হটলাইন চালু থাকে, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সেটিও আর সচল নেই।

এ অবস্থায় ইউক্রেনকে মানববিধ্বংসী স্থলমাইন সরবরাহের অনুমতি দিয়েছে জো বাইডেন প্রশাসন। দেওয়া হবে আরও ২৭৫ মিলিয়ন ডলার অস্ত্র ও অর্থ সহায়তা। সব মিলিয়ে ইউক্রেনকে কেন্দ্র করে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছাচ্ছে।মস্কো বলেছে, ইউক্রেনকে দূরপাল্লার টিএসিএমএস ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দেওয়ার ঘটনা এটাই প্রমাণ করে, পশ্চিমা দেশগুলো এ সংঘাতে উস্কানি দিতে চায়। এটাকে যুক্তরাষ্ট্রের বড় ধরনের নীতিগত পরিবর্তন হিসেবে দেখা হচ্ছে।

রাশিয়া ইউক্রেনের বিস্তীর্ণ এলাকা অত্যন্ত দ্রুত গতিতে দখলে নিচ্ছে। ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ারের (আইএসডবিউ) তথ্যের বরাত দিয়ে বিবিসি জানায়, ২০২৪ সালে রাশিয়া আগের বছরের তুলনায় ছয় গুণ বেশি ভূমি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। পাশাপাশি রাশিয়ার কুরস্ক অঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা ইউক্রেন যে আকস্মিক দখলে নিয়েছিল, সে অর্জনও ফিকে হয়ে যাচ্ছে। রুশ সেনারা তাদের পিছু হটাতে বাধ্য করছে।

অশান্ত মণিপুরে আরো ৫০০০ আধা সামরিক বাহিনী পাঠাচ্ছে দিল্লি

জাতিগত দাঙ্গায় বিপর্যস্থ মণিপুর অঙ্গরাজ্যের পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে অতিরিক্ত ৫ হাজারেরও বেশি আধা-সামরিক বাহিনী পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ভারতের কেন্দ্রীয় সরকার। সোমবার নয়াদিল্লিতে কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক উচ্চপর্যায়ের বৈঠক এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়েছে। গত সপ্তাহে এ রাজ্যে নতুন সংঘর্ষে ১৬ জন নিহত হয়েছে। ভারতের উত্তর-পূর্বের মণিপুরে হিন্দু মেইতি সংখ্যাগরিষ্ঠ এবং খ্রিস্টান কুকি সম্প্রাদায়ের মধ্যে ১৮ মাসেরও বেশি সময় ধরে পর্যায়ক্রমিক সংঘর্ষ চলছে, যা রাজ্যটিকে বিভিন্ন জাতিগত ছিটমহলে বিভক্ত করে ফেলেছে। সংঘাতে এ পর্যন্ত অন্তত ২০০ জনের প্রাণহানি ঘটায় আগে থেকেই মনিপুরে হাজার হাজার সৈন্য মোতায়েন আছে গত সপ্তাহে পুলিশকে আক্রমণ করার চেষ্টা করার সময় দশজন সশস্ত্র কুকি নিহত হয়েছিল। কয়েকদিন পরে জিরিবাম জেলায় মেইতেই সম্প্রদায়ের বেসামরিক ৬ জনের লাশ পাওয়া যায়। ধারণা করা হচ্ছে, তারা প্রতিশোধমূলক হামলায় নিহত হয়েছে। ২০২৩ সালের মে মাসে সংখ্যাগুরু জাতিগোষ্ঠী মেইতেইকে তফসিলি জাতির মর্যাদা দেয় মণিপুর হাইকোর্ট। উচ্চ আদালতের এই সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে আন্দোলনে নামে রাজ্যের সংখ্যালঘু কুকি জাতিগোষ্ঠীর লোকজন। কুকিদের এ আন্দোলন অচিরেই রূপ নেয় সাম্প্রদায়িক দাঙ্গায়।

রাজনৈতিক দলগুলো যদি বলে যে তারা সংস্কার চায় না , তাহলে এখনই নির্বাচন দিয়ে দেবো – প্রধান উপদেষ্টা

প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস বলেছেন, সংস্কারের ধরন ও পরিধি নির্ধারণ করবে রাজনৈতিক দলগুলো এবং তাদের ঐকমত্যের ভিত্তিতেই সিদ্ধান্ত হবে যে নির্বাচন কত দ্রুত হবে। দ্য ডেইলি স্টারের সম্পাদক ও প্রকাশক মাহফুজ আনামকে দেওয়া বিশেষ সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন সংস্কার ও নির্বাচন সম্পূর্ণই রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্যের বিষয়, কারণ দেশের জনগণের প্রত্যক্ষ মতামত নিতে হলে গণভোটের আয়োজন করতে হবে।নির্বাচনের বিষয়ে তার বক্তব্য, ‘সংস্কার যত দ্রুত হবে, নির্বাচনও তত দ্রুত হবে। আর যদি রাজনৈতিক দলগুলো বলে যে তারা সংস্কার চায় না, তাহলে এখনই নির্বাচন দিয়ে দেবো।’

নির্বাচন ব্যবস্থা, পুলিশ, বিচার বিভাগ, দুর্নীতি দমন কমিশন, জনপ্রশাসন ও সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনের ভিত্তিতে সংস্কারের জন্য নিজের দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন তিনি। ড. ইউনূস বলেন- অন্তর্বর্তী সরকার দ্রুততম সময়ের মধ্যে রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের মাধ্যমে নির্বাচনের পথ তৈরি করবে। তিনি বলেন, ‘আমরা কোনো কিছুই চাপিয়ে দিচ্ছি না।’ তার ভাষ্য, তার প্রশাসন কেবল প্রক্রিয়াটি সহজ করার জন্য কাজ করছে। নির্বাচনের রোডম্যাপ সম্পর্কে ড. ইউনূস বলেন, ‘আমরা সমান্তরালভাবে দুটো রাস্তায় চলছি। সমান দৃষ্টিভঙ্গি, সমান প্রচেষ্টা দুটোর পেছনেই থাকবে একটি হলো নির্বাচন, অপরটি সংস্কার।’

তিনি বলেন- রাজনৈতিক দলগুলো ‘যদি বলে, … যেভাবে আছে সেভাবেই (নির্বাচন) করে দেন, আমরা করে দেবো। সংস্কারের আগেই সবাই যদি বলে নির্বাচন দিয়ে দেন, দিয়ে দিবো। আমরা কে এটাকে বাধা দেওয়ার!’ সংস্কারের বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে যে আলোচনা হবে, সেখানে আওয়ামী লীগ থাকবে কি না, জানতে চাইলে শান্তিতে নোবেল বিজয়ী এই অধ্যাপক বলেন, ‘এটা সম্পূর্ণ নির্ভর করবে রাজনৈতিক দলগুলোর ওপর।যদি তারা চায় যে আওয়ামী লীগ এই প্রক্রিয়ায় অংশ নিক, তাহলে সেটাই হবে। আমাদের বিশেষ কোনো মতবাদ দিচ্ছি না।’

পশ্চিমা ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা হলে পাল্টা পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারে রাশিয়া

রয়টার্স-এর রিপোর্ট: পারমাণবিক শক্তিধর কোনো দেশের সমর্থন নিয়ে রাশিয়ায় ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হলে পাল্টা জবাবে পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহার করতে পারবে মস্কো। রাশিয়ার পরমাণুনীতি হালনাগাদ করে এমন সুযোগ রাখা হয়েছে। মঙ্গলবার এই নীতিতে বদল এনেছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এমন এক সময় রুশ পরমাণুনীতিতে পরিবর্তন আনা হলো, যখন ইউক্রেনকে যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে রাশিয়ার ভূখণ্ডের গভীরে হামলার চালানোর অনুমতি দেয়া হয়েছে। মনে করা হচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট বাইডেনের অনুমতির জবাব দিতে নিজেদের পরমাণুর্নীতিতে পরিবর্তন এনেছে ক্রেমলিন।

কোন কোন হুমকির পরিপ্রেক্ষিতে রাশিয়ার নেতারা পারমাণবিক হামলার বিষয়টি বিবেচনা করতে পারবেন, তা উল্লেখ করা হয়েছে হালনাগাদ করা পরমাণুনীতিতে। বলা হয়েছে, প্রচলিত বিভিন্ন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও অন্যান্য আকাশযানকে হুমকি হিসেবে বিবেচনা করতে পারেন রুশ নেতারা। এ ছাড়া কোনো জোটের সদস্যদেশ যদি রাশিয়ার বিরুদ্ধে আগ্রাসন চালায়, তাহলে পুরো জোটই এই আগ্রাসন চালিয়েছে বলে বিবেচনা করতে পারবে মস্কো।

আড়াই বছরের বেশি সময় ধরে চলছে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ। যুদ্ধে মস্কোকে মোকাবিলা করতে যুক্তরাষ্ট্রসহ পশ্চিমা দেশগুলোর কাছ থেকে বিপুল পরিমাণ সামরিক সহায়তা পেয়েছে কিয়েভ। ১৯৬২ সালের কিউবা ক্ষেপণাস্ত্র সংকটের পর সবচেয়ে গুরুতর সংঘাতের মুখোমুখি হয়েছে রাশিয়া ও প্রতিদ্বন্দ্বী পশ্চিমা দেশগুলো।

আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করা প্রাসঙ্গিক, আগামী নির্বাচনে অংশগ্রহণ করা অপ্রাসঙ্গিক।

জাতীয় জাদুঘরে ‘কী চাই নতুন বাংলাদেশে’ শীর্ষক আলোচনা সভায় বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ বলেছেন গণঅভ্যুত্থান শুধু ভোটের অধিকারের জন্য হয়নি। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের এক দফা দাবির মধ্যে ছিল ফ্যাসিবাদের বিলোপ এবং নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত। হাসনাত বলেন, বিদ্যমান রাজনৈতিক কাঠামো রেখে পরবর্তী যতই নির্বাচন দেওয়া হোক না কেন, সেই নির্বাচনের গ্রহণযোগ্যতা থাকবে না। মূল সংস্কারগুলো আগে হতে হবে। সেই সংস্কারই দেশকে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের দিকে নিয়ে যাবে। নির্বাচন ও সংস্কার যুগপৎভাবে চলবে।

বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিনের বক্তব্যের সূত্র ধরে তিনি বলেন-এখন বলা হচ্ছে, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান সংস্কারের মূল প্রবক্তা; কিন্তু ২৮ অক্টোবর (২০২৩) কিন্তু সফল হতে দেখা যায়নি। সেখানে সমাজের সব শ্রেণির মানুষ অংশ নেয়নি। অনুষ্ঠানে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘আওয়ামী লীগকে ব্যাক ডোর দিয়ে সেটেলমেন্টে যাবেন… আপনারা যদি মনে করেন, ব্যাক ডোর চ্যানেল দিয়ে সমঝোতা করবেন, তাদের ব্যবসার অংশ হবেন, তাহলে মনে রাখবেন উই আর অলরেডি শহীদ। পিছিয়ে আসার কোনো সুযোগ নেই। যে রাজনৈতিক দলগুলো এ চিন্তা করছেন আপনারা আমাদের ভুলে যাবেন না।’

তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগের সাড়ে ১৫ বছরের ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্র কাঠামোকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে তাদের দেশ ছেড়ে পালাতে বাধ্য করা হয়েছে। যারা পেছনের দরজা দিয়ে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসনের চেষ্টা করছেন, তাঁদেরও সন্দেহের চোখে দেখা হচ্ছে। আওয়ামী লীগ ফিরবে কি, ফিরবে না সে আলোচনার সময় এখনো আসেনি উল্লেখ করে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত না করা পর্যন্ত যাঁরা তাঁদের পুনর্বাসন নিয়ে বক্তব্য দিচ্ছেন, তাঁরা কখনো গণঅভ্যুত্থানকে হৃদয়ে ধারণ করেননি। আগে আওয়ামী লীগের বিচার নিশ্চিত করা প্রাসঙ্গিক। আগামী নির্বাচনে তারা অংশ নেবে কি নেবে না তা অপ্রাসঙ্গিক।

সিঙ্গাপুরের নাগরিক দাবি, বিনিয়োগের সুরক্ষা চায় এস আলম

বাংলাদেশ ব্যাংক এস আলম গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে যে ‘ভীতি প্রদর্শনমূলক ব্যবস্থা’ নিচ্ছে, এর প্রেক্ষিতে সিঙ্গাপুরের নাগরিক হিসেবে ও আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ চুক্তির আলোকে তাঁর সুরক্ষা প্রাপ্য বলে মনে করেন সাইফুল আলম। এ বিষয়ে সাইফুল আলম ও তাঁর পরিবারের সদস্যদের পক্ষে আইনি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ ব্যাংককে চিঠি দিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়, তাঁরা বাংলাদেশের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক সালিসি মামলা করতে পারেন। ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়, শেখ হাসিনার আমলে এস আলম গোষ্ঠী বাংলাদেশ থেকে ১ লাখ ২০ হাজার কোটি পাচারের অভিযোগ করেছেন আহসান মনসুর। সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস পত্রিকাকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে আহসান মনসুর এই অভিযোগ করেন। ওই পরিপ্রেক্ষিতে এস আলম পরিবারের পক্ষে এই চিঠি দিয়েছে আইনি প্রতিষ্ঠান কুইন ইমানুয়েল উকুহার্ট অ্যান্ড সালিভান। চিঠিতে অভিযোগ, গভর্নর আহসান মনসুর এস আলম গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে জনসমক্ষে ভিত্তিহীন ও উসকানিমূলক বক্তব্য দিয়েছেন। তাঁর এ বক্তব্য এস আলম গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে ‘ভীতি প্রদর্শনমূলক’ আখ্যা দেওয়া হয়েছে।

সাইফুল আলম কবে সিঙ্গাপুরের নাগরিকত্ব পেয়েছেন, সে বিষয়ে আইনি প্রতিষ্ঠানের কাছে ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস জানতে চাইলে তারা সাড়া দেয়নি। তাঁরা এখনো বাংলাদেশের নাগরিক কি না, তাও জানা যায়নি। সিঙ্গাপুর সরকারও ফাইন্যান্সিয়াল টাইমসের অনুরোধে সাড়া দেয়নি। বাংলাদেশ ও সিঙ্গাপুরের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বিনিয়োগ সুরক্ষা চুক্তি হয়েছে ২০০৪ সালে। বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্র জানায়, বাংলাদেশের আইন মেনে বিদেশে বিনিয়োগের কোন অনুমোদন সাইফুল আলম নেননি। দেশের যে কয়টা প্রতিষ্ঠান বিদেশে বৈধভাবে বিনিয়োগ করেছে, সেই তালিকায় সাইফুল আলমের নাম নেই।

আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের কথা বললে রাজনৈতিক দল ও দূতাবাসগুলো থেকে বাধা আসে – উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ বলেছেন – ‘গণতন্ত্রের কথা বলে আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে সুযোগ দেওয়ার মাধ্যমে তাদের ফিরিয়ে আনার নানা ধরনের চক্রান্ত হচ্ছে। আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধের কথা যখন সরকারের পক্ষ থেকে বলি, তখন রাজনৈতিক দলগুলো তাদের বক্তৃতায় ও কথায় সেটা বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে। ডেমোক্রেসির কথা বলে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের দূতাবাস থেকে চাপ দেওয়ার চেষ্টা করছে- আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘১৯৪৫ সালে জার্মানির ফ্যাসিস্ট নাৎসি পার্টিকে যদি নিষিদ্ধ করা হয় এবং এখনো তারা নিষিদ্ধ রয়েছে। সেখান থেকেই বোঝা উচিত আওয়ামী লীগের পরিণতি কী হওয়া উচিত।’

তিনি প্রতিটি ক্যাম্পাসে জানুয়ারি-ফেব্রুয়ারি মাসের মধ্যে ছাত্র সংসদ নির্বাচন দেওয়ার জন্য ক্যাবিনেটে আলোচনা করার কথা বলেন। আসিফ মাহমুদ আরো বলেন, ‘৫৩ বছরে যে স্টাবলিশমেন্ট ফ্যাসিবাদী আওয়ামী শক্তি গড়ে তুলেছে, সেটা শুধু রাজনৈতিক নয়, সেটা একইসঙ্গে সামাজিক ও সাংস্কৃতিক। সুতরাং প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের ফ্যাসিবাদীদের রুখে দিতে হবে। ফ্যাসিবাদ যাতে পুনরায় ফিরে না আসে সে জন্য সংগ্রাম চালিয়ে যেতে হবে।’ ১৮ নভেম্বর রাতে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে এক আলোচনা সভায় অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা আসিফ মাহমুদ সজীব ভূঁইয়া এ আলাপ করেন।

বিএনপি সবাইকে নির্বাচনে চায়, আমরা সেটা উপেক্ষা করতে পারি না – ড. মুহাম্মদ ইউনূস

আওয়ামী লীগকে আগামী নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতার সুযোগ দেওয়া হবে কি না, সে প্রশ্নের উত্তরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন – ‘এটা ইতিমধ্যে ঘোষণা করা হয়েছে। আমরা রাজনৈতিক দলের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নিতে চাইনি। বিএনপি এটা করেছে, বলেছে সব রাজনৈতিক দল অবশ্যই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে। সুতরাং ইতিমধ্যে তারা রায় দিয়ে দিয়েছে। আমরা দেশের একটি প্রধান দলের মতামতকে উপেক্ষা করব না।’

১৮ নভেম্বর ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এসব কথা জানান। এসময় আওয়ামী লীগের নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার কোনো আপত্তি আছে কিনা এমন প্রশ্নের উত্তরে ড. ইউনূস বলেন, ‘কোনো একটি দল বা আরেকটি দলকে বেছে নেওয়ার জন্য আমি কোনো রাজনৈতিক ব্যক্তি নই। আমি রাজনীতিকদের আকাঙ্ক্ষাকে বাস্তবে রূপ দিতে সহায়তা করছি।’

খেলাপি ঋণ বেড়ে ২,৮৪,৯৭৭ কোটি টাকা, বেরিয়ে আসছে আসল চিত্র

দেশের ব্যাংকগুলোতে গত সেপ্টেম্বর শেষে খেলাপি ঋণ বেড়ে হয়েছে ২ লাখ ৮৪ হাজার ৯৭৭ কোটি টাকা। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ব্যাংক থেকে নামে-বেনামে যে অর্থ বের করে নেওয়া হয়েছে, তা এখন খেলাপি হিসেবে চিহ্নিত হতে শুরু করেছে। ফলে ব্যাংক থেকে বিতরণ করা ঋণের প্রায় ১৭ শতাংশই বর্তমানে খেলাপিতে পরিণত হয়েছে। অর্থনীতিবিদরা অনেক দিন ধরেই অভিযোগ করছেন, তৎকালীন সরকারের ছত্রচ্ছায়ায় ব্যাংক থেকে বিপুল অর্থ লুটপাট হয়েছে, যার একটা বড় অংশই পাচার হয়েছে বিদেশে।

সাবেক সরকারের আমলে ব্যাংক থেকে প্রভাবশালীদের বড় অঙ্কের ঋণ দিতে নানা সুবিধা দেওয়া হয়। আবার খেলাপি ঋণ কাগজে-কলমে কম দেখাতে নেওয়া হয়েছিল একের পর এক নীতি। সরকার পরিবর্তনের পর সেই নীতি থেকে সরে এসেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ফলে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র বের হতে শুরু করেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, জুন থেকে সেপ্টেম্বর-এই তিন মাসে সরকারি ব্যাংকের খেলাপি ঋণ বেড়েছে ২৩ হাজার ৬২৮ কোটি টাকা। আর বেসরকারি ব্যাংকে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির পরিমাণ ছিল ৪৯ হাজার ৮৮৫ কোটি টাকা।

ব্যাংক খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অবশ্য মনে করেন, প্রকৃত খেলাপি ঋণের পরিমাণ আরও বেশি। কারণ, কেন্দ্রীয় ব্যাংকের খেলাপি ঋণের হিসাবে অবলোপন করা ও আদালতের আদেশে স্থগিত থাকা ঋণ বিবেচনায় নেওয়া হয়নি। সরকার পরিবর্তনের পর ব্যাংক খাত সংস্কারে পদক্ষেপ নিতে শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। ফলে খেলাপি ঋণের প্রকৃত চিত্র আগামী দিনে আরও বেরিয়ে আসবে বলে মনে করছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা।