Home Blog Page 229

দেশে ডিমের আনুমানিক মাথাপিছু বার্ষিক চাহিদা ১০৪টি

রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তর (ডিএলএস) জানিয়েছে, দেশে ডিমের মাথাপিছু বার্ষিক চাহিদা (আনুমানিক) ১০৪টি। সেই হিসাবে ১৭ কোটি জনসংখ্যার জন্য গড়ে প্রতিদিনে চাহিদা দাঁড়ায় ৪ কোটি ৮৪ লাখ ডিম। ডিএলএসের তথ্যানুসারে বর্তমানে বার্ষিক মাথাপিছু ডিমের উৎপাদন ১৩৫টি। গড়ে দিনে ৬ কোটি ২৮ লাখ ডিম উৎপাদন হয়।

ডিএলএসের কর্মকর্তারা বলেছেন, কোনো কোনো মৌসুমে ডিমের চাহিদা ও সরবরাহ ঘাটতি তৈরি হয়। তাছাড়া প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণেও এমনটি ঘটে থাকে। ফলে এসব সময়ে ডিমের বাজারে অস্থিরতা দেখা যায়। প্রতি বছর আগস্ট থেকে অক্টোবর-বাজারে সবজি ও মাছের সরবরাহ ঘাটতির কারণে ডিমের চাহিদা বেড়ে যায়; ফলে দামও বেড়ে যায়।

পোলট্রি খাতের বেসরকারি প্রতিষ্ঠান কাজী ফার্মসের পরিচালক কাজী জাহিন হাসান বলেন, ডিমের মোট উৎপাদন নিশ্চিত করা কঠিন। বাণিজ্যিক খামারগুলোতে প্রতিদিন আনুমানিক ৩ কোটি ৫০ লাখ থেকে ৪ কোটি ডিম উৎপাদন হয়। পাশাপাশি গৃহস্থ বাড়িতেও হাঁস ও মুরগির প্রচুর ডিম উৎপাদন হয়।

তিনি বলেন, ডিমের উৎপাদন স্থির নয়, চাহিদাও স্থির নয়। গরম আবহাওয়ায় মুরগি কম ডিম পাড়ে। সে কারণে গ্রীষ্মকালে ডিমের সরবরাহ কমে এবং দাম বাড়ে। চলতি বছরে বন্যায় বিভিন্ন জেলায় খামার ডুবে যাওয়ায় ডিমের উৎপাদন ঘাটতি তীব্র হয়েছে। ডিমের উচ্চমূল্য প্রমাণ করে যে সরবরাহ ঘাটতি ছিল। অদক্ষ সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে অনেকগুলো হাত হয়ে ভোক্তার হাতে ডিম পৌঁছায়। এতে করে খামারির বিক্রয় মূল্য থেকে ভোক্তার ক্রয়মূল্যের মধ্যে দামে বড় ধরনের ব্যবধান সৃষ্টি হয়।

১ বছরের মধ্যে নির্বাচন চায় ৬১.১% মানুষ – ভয়েস অব আমেরিকার জরিপ

দেশের ৬১.১% মানুষ মনে করে, এক বছরের মধ্যে আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়া উচিত। তবে আরেকটি প্রশ্নের উত্তরে ৬৫.৯% বলেছে, অন্তর্বর্তী সরকার যা যা সংস্কারের প্রয়োজন বলে মনে করবে তার সব করার পরই ভোটের আয়োজন করা উচিত। শুধু নির্বাচনসংক্রান্ত জরুরি সংস্কারগুলো শেষ করে নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে মত দিয়েছে ৩১.৯% উত্তরদাতা।

ভয়েস অব আমেরিকা বাংলার তত্ত্বাবধানে এক জরিপের ফলাফলে এ তথ্য তুলে ধরা হয়েছে। ১৩–২৭ অক্টোবর পর্যন্ত জরিপটি পরিচালনা করে গবেষণা প্রতিষ্ঠান ওআরজি-কোয়েস্ট রিসার্চ লিমিটেড। ভয়েস অব আমেরিকার ঠিক করে দেয়া প্রশ্নমালার ওপর ভিত্তি করে কম্পিউটার অ্যাসিস্টেড টেলিফোন ইন্টারভিউইংয়ের মাধ্যমে দেশের আটটি বিভাগে ১৮ বছর বা এর চেয়ে বেশি বয়সী এক হাজার মানুষের মধ্যে জরিপটি পরিচালিত হয়।

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ১৮.৭% চায় দুই-তিন বছরের মধ্যে নির্বাচন। আর ৮.৬% নির্বাচন চায় ১৮ মাসের মধ্যে। ৫৮.৪% মানুষ মনে করে, অন্তর্বর্তী সরকার ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের তুলনায় দেশ পরিচালনায় ভালো করছে। ৪০.৫% মানুষের মতে, অন্তর্বর্তী সরকার দেশ শাসনে আওয়ামী লীগের চেয়ে খারাপ করছে বা একই রকম করছে।

যারা মনে করছে অন্তর্বর্তী সরকার আগের সরকারের চেয়ে দেশ শাসনে খারাপ করছে, তাদের সংখ্যা ২০.৪% আর একই রকম করছে বলে মত দিয়েছে ২০.১%। ৬৩.২% মনে করেন আইন-শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অন্তর্বর্তী সরকার আগের সরকারের চেয়ে ভালো করছে। যদিও ৪৯.৮% উত্তরদাতা অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে আগের চেয়ে বেশি নিরাপদ বোধ করছেন প্রায় একই সংখ্যক উত্তরদাতা জানিয়েছে (৪৯.৯% শতাংশ) তারা আওয়ামী আমলেই বেশি বা একই রকম নিরাপদ বোধ করেছে।

শুরু হচ্ছে “ কার্বন ক্রেডিট “ ব্যবসা

কার্বন নিঃসরণ কমানোর লক্ষ্যে একটি বৈশ্বিক বাজার তৈরি ও এর নিয়মনীতি নিয়ে একটি চুক্তি চূড়ান্ত হয়েছে গতকাল শনিবার আজারবাইজানের জাতিসংঘের জলবায়ু সম্মেলনে (কপ২৯)। প্রস্তাবিত এই বাজারে ‘কার্বন ক্রেডিট’ কেনাবেচা করতে পারবে দেশগুলো।

চুক্তি অনুযায়ী, বায়ুবিদ্যুৎ উৎপাদন ও বৃক্ষরোপণের মতো নানা প্রকল্প হাতে নেবে দরিদ্র দেশগুলো। এভাবে প্রতি এক টন কার্বন ডাই অক্সাইড বা গ্রিনহাউস গ্যাস নিঃসরণ কমানোর বিনিময়ে একটি ‘কার্বন ক্রেডিট’ পাবে তারা। বৈশ্বিক একটি বাজার থেকে অর্থের বিনিময়ে ওই ‘ক্রেডিট’ কিনতে পারবে বিভিন্ন দেশ ও প্রতিষ্ঠান। প্রতিটি ‘ক্রেডিট’ কিনলে তারা এক টন কার্বন নিঃসরণের অনুমতি পাবে।

‘কার্বন ক্রেডিট’ বাজারের নিয়মনীতির বিষয়ে ঐকমত্যের পর আগামী বছরেই জাতিসংঘের সহায়তায় এ সংক্রান্ত বাণিজ্য শুরু হতে পারে। বাকু সম্মেলনে ‘কার্বন ক্রেডিট’ কেনাবেচার একটি দ্বিপক্ষীয় ব্যবস্থা নিয়েও জোর আলোচনা হয়েছে। ওই ব্যবস্থায় জাতিসংঘের আওতার বাইরেও এই ‘ক্রেডিট’ সরাসরি কেনাবেচা করতে পারবে দুটি দেশ।

বিশ্বে ‘কার্বন ক্রেডিট’ বেচাকেনার সমর্থন দিয়ে আসা ব্যবসায়ী গোষ্ঠী ‘আইইটিএ’র ভাষ্যমতে, আগামী ২০৩০ সাল নাগাদ জাতিসংঘ সমর্থিত এই বাজারমূল্য ২৫০ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়াতে পারে। আর এই বাজারের মাধ্যমে ‘ক্রেডিট’ বেচাকেনার ফলে প্রতিবছর অতিরিক্ত ৫ বিলিয়ন টন কার্বন ডাই অক্সাইড নিঃসরণ কমতে পারে।

এক দশক আগে ‘কার্বন ক্রেডিটের’ বাজার গড়ে তোলা নিয়ে আলোচনা শুরু হয়। এই বাজার কতটা কার্বন নিঃসরণ কমাবে এবং জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় কতটা কাজে আসবে, তা নিশ্চিত করতে এত দিন আলোচনা চলছিল। চুক্তিটির পক্ষের লোকজন বলছেন, চুক্তির ফলে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের বিরুদ্ধে লড়তে শত শত কোটি ডলারের বিনিয়োগ হবে নিত্যনতুন প্রকল্পে।

“ রাস্তায় নেমেছিল লাখো মানুষ এই সত্য তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেনি । ” – ভারতীয় গণমাধ্যম ও বাংলাদেশ ভারত সম্পর্ক : মাহফুজ আনাম

বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর ভারতীয় গণমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রচারিত খবরগুলো আমার মতে তিন ভাগে ভাগ করা যায়:
১. শেখ হাসিনার সরকার পতনের ঘটনাটিকে পাকিস্তানের আইএসআই, বাংলাদেশের ইসলাম-পন্থী গোষ্ঠী বা চীনপন্থি শক্তির কাজ বলে উপস্থাপন করা হয়েছে, যাদের লক্ষ্য ছিল ‘ভারতবান্ধব’ সরকারকে হটিয়ে ‘ভারতবিরোধী’ সরকার প্রতিষ্ঠা করা। সাধারণ মানুষ বা ছাত্রদের ভূমিকা, ছাত্রজনতা হত্যা এসব কোনো প্রসঙ্গ তাদের প্রতিবেদনে নেই। আন্দোলনের পেছনে বিদেশিদের হাত থাকার প্রমাণ কোথায়? এসব দাবির উৎস কী?অথচ, দোষারোপ থেমে নেই।
২. নতুন সরকার হিন্দুদের ওপর নিপীড়ন চালাচ্ছে এবং এমনকি ‘গণহত্যা’ করছে বলে অভিযোগ তোলা হয়েছে। বিবিসিসহ বিভিন্ন ফ্যাক্টচেকাররা এসব আখ্যানের অনেকগুলোই ভুল বলে প্রমাণ করেছে। তারপরও সেগুলোর প্রচার বন্ধ হয়নি, এমনকি কমেওনি।
৩. শেখ হাসিনা সরকার পতনের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের জড়িত থাকার বিষয়টিও বলা হয়েছে। তারা এর সঙ্গে পাকিস্তানের ঘটনাগুলোর তুলনা করে দাবি করছে, ইমরান খানের সরকার পতন করার পর যুক্তরাষ্ট্র শেখ হাসিনার সরকারেরও পতন ঘটিয়েছে। জুলাই-আগস্টের ছাত্রজনতার আন্দোলন নিয়ে ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদনের কয়েকটি বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করা প্রয়োজন :

১. ছাত্র-জনতার উত্তাল এই আন্দোলন বৃহৎ পরিসরে এড়িয়ে গেছে ভারতীয় গণমাধ্যমগুলো। …রাস্তায় নেমেছিল লাখো মানুষ এই সত্য তাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করেনি। বরং তারা কেবল সরকার পতনের ঠিক পরপরই সংঘটিত হিন্দুদের ওপর হামলার ঘটনাগুলোই দেখেছে। অথচ, এসব ঘটনা এমন এক সময় ঘটেছিল যখন দেশে কোনো সরকার ছিল না এবং পুলিশও ছিল অনুপস্থিত।
২. নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের ওপর ব্যাপক গুলিবর্ষণ করে ৫ আগস্ট পর্যন্ত অন্তত ৭০০ জনকে হত্যা করা হলো, সেটা তাদের কোনো গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে নেই বললেই চলে। দক্ষিণ এশিয়ার ইতিহাসে নিরস্ত্র আন্দোলনকারীদের ওপর এমন বর্বর হত্যাযজ্ঞ বিরল। …ভারতের মূলধারার ছয়টি গণমাধ্যমে আমি সাক্ষাৎকার দিয়েছি, যেখানে তারা আন্দোলনের ব্যাপকতা বা বেসামরিক মানুষকে হত্যার বিষয়টি উল্লেখ করেনি, বরং শুধুমাত্র বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য ভাঙা বা সরকারি সম্পত্তিতে হামলার মতো ঘটনাই তুলে ধরেছে।
৩. বাংলাদেশ সফরকারী ভারতীয় সাংবাদিকরা কেবল হিন্দুদের ওপর হামলার বিষয়টি নিয়েই প্রতিবেদন করেছে, উপেক্ষা করেছে শেখ হাসিনা সরকারের এত বড় মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো। এর ফলে বাংলাদেশি পাঠকদের কাছে তাদের বিশ্বাসযোগ্যতা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
৪. ভারতীয় গণমাধ্যমের প্রতিবেদন বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, তারা কেবল বাংলাদেশের হিন্দু জনগোষ্ঠীর বিষয়ে আগ্রহী, পুরো দেশের মানুষের প্রতি নয়। তাহলে কি দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সুন্দর সম্পর্ক এগিয়ে যেতে পারবে? আগেও বলেছি এবং আবারও বলছি, ভারতের উচিত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাগুলোকে শেখ হাসিনার চোখে না দেখে গণতন্ত্রের চোখে দেখা।
৫. সম্প্রতি ভারতের সুপরিচিত গণমাধ্যম দ্য প্রিন্টের প্রকাশিত ভিডিওতে বিজেপি নেত্রী ও আইনজীবী মীনাক্ষী লেখি বলেছেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা বাংলাদেশের নাম ইসলামিক রিপাবলিক অব ইস্ট পাকিস্তান করতে চান।’ তিনি এ তথ্য কোথায় পেলেন? তার এই বক্তব্যের উৎস কী? তার এই দাবি সম্পূর্ণ ভ্রান্ত এবং অপপ্রচারমূলক। শেখ হাসিনার বড় সাফল্যগুলো তুলে ধরার সময় তিনি ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচনে কারচুপির মতো গুরুত্বপূর্ণ তথ্য বাদ দিয়েছিলেন-অথচ এগুলোই শেখ হাসিনা সরকারের প্রতি মানুষের ক্ষোভের মূল কারণ। দ্য ডেইলি স্টারে আমার টিমের সঙ্গে ৯ জুলাই থেকে ২০ নভেম্বর পর্যন্ত ভারতীয় গণমাধ্যমে প্রিন্ট ও অনলাইন প্রকাশিত ৫৬টি প্রতিবেদন পর্যালোচনা করেছি। এর মধ্যে হাতেগোনা কয়েকটি ছাড়া সবই ‘মতামতভিত্তিক প্রতিবেদন’, ‘সংবাদ প্রতিবেদন’ নয়। অনেক শিরোনামের মধ্যে রয়েছে- ‘নির্বাচন এড়ানোর কৌশল হিসেবে সংস্কারের অজুহাত দিচ্ছেন ইউনূস’; ‘প্রতিশোধের রাজনীতি মন্ত্রীসহ ১৩ জন বিচারের সম্মুখীন’; ‘বাংলাদেশে কি গণতন্ত্র ফিরবে?’ ‘বাংলাদেশে ছাত্র নেতৃত্বাধীন আন্দোলনের পেছনে চীন, আইএসআই’; এবং ‘শেখ হাসিনাকে সরিয়ে ভারতবিরোধী সরকার প্রতিষ্ঠায় আইএসআইয়ের ষড়যন্ত্র’। এমনকি কিছু টেলিভিশন সংবাদে এটাকে ‘ইসলামপন্থীদের দখল’ বলে আখ্যা দেওয়া হয়েছে। এর কোনোটিতেই বাংলাদেশে ঘটে যাওয়া ঘটনাগুলোর বিস্তারিত বিশ্লেষণ করার কোনো চেষ্টাও ছিল না। এসব সংবাদের উৎস, উপস্থাপনা, শিরোনাম ও প্রতিবেদনের ভাষা বিশ্লেষণ করলে স্পষ্ট হয়, ভারতীয় জনগণের মধ্যে বাংলাদেশের প্রতি গভীর ঘৃণা সৃষ্টি করতেই এই আখ্যান ছড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে যে বাংলাদেশে হিন্দুরা নিরাপদ নয়।

সাধারণ মানুষ এখনো দেশের কোনো রাজনৈতিক দলকেই পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারে না : চলচ্চিত্র নির্মাতা আশফাক নিপুণ

জনপ্রিয় ওয়েবসিরিজ ‘মহানগর’ নির্মাতা আশফাক নিপুণ গতকাল ফেসবুক পোস্টে দেশের সাম্প্রতিক বিষয় ও রাজনীতি নিয়ে লিখেছেন “জুলাই গণঅভ্যুত্থানে সর্বস্তরের ছাত্র এবং সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল, বাসায় বসে বসে দোয়া করেছিল, যার যা সামর্থ্য দিয়ে সহায়তা করেছিল কারণ তারা দেখেছিল লড়াইটা আওয়ামী ফ্যাসিস্ট শাসক বনাম সাধারণ ছাত্র জনতার। এটাও অস্বীকার করার কোন উপায় নাই যে এই আন্দোলন বেগবান করতে বিরোধী সকল দলের কর্মীদের ভূমিকা অনস্বীকার্য। তাদের সংগ্রামও গত দেড় দশকের। কিন্তু এটা যদি শুধুমাত্র রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যকার লড়াই হত তাহলে সাধারণ মানুষ এই লড়াই থেকে দূরে থাকত। সেই প্রমাণ বিগত ১৫ বছরে ভুরিভুরি আছে।

কারণ, দেশের সাধারণ মানুষ এখনো দেশের কোন রাজনৈতিক দলকেই পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারে না। এটাই বাস্তবতা। এই বাস্তবতা মেনে সকল রাজনৈতিক দলগুলোর উচিত কিভাবে সাধারণ জনগণের ভেতর নিজের দলের প্রতি আস্থা তৈরী করা যায় সেই বিষয়ে নিরলস কাজ করা। এই আস্থা ক্ষমতায় গিয়ে অর্জন করা সম্ভব না। কারণ সাধারণ মানুষ আজীবন এস্টাবলিশমেন্টের বিপক্ষে। এই আস্থা অর্জন করতে হয় ক্ষমতা বলয়ের বাইরে থেকেই। অরাজনৈতিক সরকার দিয়ে দীর্ঘদিন দেশ চালানো যেমন কাজের কথা না, ঠিক তেমনি রাজনৈতিক সরকার হতে চাওয়া সকল রাজনৈতিক দলগুলোর বোঝা উচিত মুক্তিযুদ্ধের পরে বাংলাদেশের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় গণঅভ্যুত্থান সংগঠিত হয়েছে সকল প্রকার পূর্বানুমান (যেমন- বর্ষাকালে আন্দোলন হয় না, নির্বাচনের আগেই কেবল জোরেশোরে অন্দোলন হয়, ঘোষণা দিয়ে বিরোধী সকল পক্ষ আন্দোলনে সামিল না হলে সফল হয় না) অগ্রাহ্য করেই। সেটা সম্ভব হয়েছে সাধারণ মানুষের ন্যায্যতার আকাঙ্খা থেকেই।

ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনা সাধারণ মানুষের এই আকাঙ্খার দুই পয়সার দাম দেন নাই। সাধারণ মানুষের এই আকাঙ্খা, ইচ্ছা আর দেশপ্রেমকে পুঁজি করে অরাজনৈতিক এবং রাজনৈতিক যারাই রাজনীতি রাজনীতি খেলতে চাইবে তাদের দশাও কোন এক সময় যেন পলাতক শেখ হাসিনার মত না হয়, সেই বিষয় নিশ্চিত করতে হবে তাদেরকেই।’

কোন রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের পক্ষে নয় জামায়াত

জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ‘সংস্কারের পর যৌক্তিক সময়ে নির্বাচন হবে। তবে এই যৌক্তিক সময় কত দিন বা কত বছর তা নির্দিষ্ট করে বলা যাবে না। নির্বাচন কমিশন, পুলিশ প্রশাসন ও নির্বাহী বিভাগ সংস্কারের পর সুষ্ঠু নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হলেই নির্বাচন হতে পারে।’ জামায়াতের এই নেতা আরও বলেন, ‘বিএনপিসহ দেশের সব রাজনৈতিক সংগঠনের সঙ্গে জামায়াতের গভীর সম্পর্ক রয়েছে। ইসলামীসহ সব দলের সঙ্গে সংলাপ চলছে। গণতন্ত্রের স্বার্থে যারা ঐক্যবদ্ধ থাকবে, তাদের সঙ্গেই জোটবদ্ধ নির্বাচন করবে জামায়াত।’

জামায়াত কোনো দলকেই নিষিদ্ধের পক্ষে নয় বলেছেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার। শুক্রবার বিকেলে মেহেরপুরে জামায়াতের কর্মী সম্মেলনে তিনি এই মন্তব্য করেন। অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন ‘৫ আগস্টের চার দিন আগে জামায়াতকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। কিন্তু তারপর চার দিনও টিকতে পারেনি আওয়ামী লীগ। জনরোষে পড়ে দেশ ছেড়ে ভারতে পালাতে বাধ্য হয়েছেন শেখ হাসিনা ও তার আত্মীয়স্বজন। তার বিচার জনগণই করবে। তারা নির্বাচনে আসতে পারবে কি না, সেটি জনগণের ওপর নির্ভর করবে। তবে কোনো দলকে নিষিদ্ধের পক্ষে নয় জামায়াত।’

একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে অস্বীকার করা যাবে না : মির্জা ফখরুল

শুক্রবার (২২ নভেম্বর) রাতে যশোর জেলা বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন ‘গণতান্ত্রিক, মানবিক মূল্যবোধসম্পন্ন সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে আমরা এই ভূখণ্ড পেয়েছি। যে গণতন্ত্রের জন্য যুদ্ধ করেছি, দেশ স্বাধীন করেছি। ত্রিশ লক্ষ শহীদ, দুই লক্ষ মা বোন সম্ভ্রম দিয়েছে। সেই গণতন্ত্র আওয়ামী লীগ ধংস করেছে। অনেকে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধকে বাদ দিয়ে চিন্তা করতে বলছে। আমরা এটাকে বাদ দিয়ে চিন্তা করতে পারি না। একই সঙ্গে ৭ নভেম্বরকে আমরা ভুলতে পারি না।’ সংস্কারের বিষয় উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আমরাই সবার আগে সংস্কার চেয়েছি।

কিন্তু সেই সংস্কার সাসটেইনেবল হতে হবে। সেজন্য জনগণের সমর্থন আগে দরকার। একটা কমিটি করে সংবিধান সংস্কার হবে না। ওটা করতে গেলে সাংবিধানিক কিংবা সংসদের প্রতিনিধি লাগবে। সেটার জন্য ধৈর্য ধরতে হবে। সবচেয়ে প্রধান যে জিনিসটা দরকার, সেটি হলো নির্বাচন।একদিকে যেমন মানুষ পরিবর্তনের জন্য জীবন দিয়েছে, তেমনি নির্বাচনের জন্যও মানুষ প্রাণ দিয়েছে। হঠাৎ করেই কোনোকিছু পরিবর্তন করে ফেললে হবে না। সেটা কতটা টেকসই সেই চিন্তাও করতে হবে। তার জন্য গণতান্ত্রিক পথে যেতে হবে। তারা যদি বলতো, বিপ্লবী সরকার গঠন করেছি, তাহলে বিপ্লব সরকার করতো। আমাদের কিছু বলার ছিল না। এটা (অন্তর্বর্তীকালীন সরকার) বিপ্লবী সরকার নয়, সাংবিধানিক সরকার। আপিল বিভাগ থেকে এর বৈধতা নেওয়া হয়েছে। ওটাকে ধরে রেখেই আমাদের এগোতে হবে।’

দেশে দখল ও চাঁদাবাজির বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘একেবারে যে হচ্ছে না তা বলবো না। সে কারণে ইতোমধ্যে বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের প্রায় সাড়ে সাতশ নেতাকর্মীকে বহিষ্কার করা হয়েছে।’ তিনি আরো বলেন, ‘দেশে হিন্দুদের ওপর নির্যাতন হয়েছে; কিন্তু তারচেয়ে বেশি প্রচারণা চালানো হয়েছে। দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভারতীয় মিডিয়াগুলো থেকে এই অপপ্রচার চালানো হয়েছে।’ এটি একটি সুপরিকল্পিত চক্রান্ত বলে তিনি মন্তব্য করেন।

পশ্চিমা দেশগুলোতে হামলা চালাতে পিছপা হবে না রাশিয়া : পুতিন

এএফপি রিপোর্ট: সময় গড়ানোর সঙ্গে জটিল হচ্ছে ইউক্রেন যুদ্ধ পরিস্থিতি। যুদ্ধটা মূলত ইউক্রেন ও রাশিয়ার মধ্যে হলেও এতে পরোক্ষভাবে জড়িয়ে পড়েছে বিভিন্ন দেশ। এমন পরিস্থিতিতে ইউক্রেন যুদ্ধের মধ্যে ‘বৈশ্বিক’ এক যুদ্ধের বৈশিষ্ট্য দেখতে পাচ্ছেন রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। হুঁশিয়ারি দিয়ে তিনি বলেছেন, দরকার হলে পশ্চিমা দেশগুলোতে হামলা চালাতে পিছপা হবেন না তিনি। যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের দেওয়া ক্ষেপণাস্ত্রগুলো আঘাত হানার আগেই রাশিয়ার আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা সেগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে বলে জানিয়েছেন পুতিন। গতকাল তিনি বলেন শত্রুরা যা লক্ষ্য করেছিল, তা অর্জন করতে পারেনি। আর রাশিয়ার ওপর হামলা চালাতে যেসব দেশ তাদের অস্ত্র ব্যবহারের অনুমতি দিয়েছে, ওই দেশগুলোর সামরিক স্থাপনায় হামলার বিষয়টিও বিবেচনা করতে পারে মস্কো।

পশ্চিমাদের দেওয়া দূরপালার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করে গত মঙ্গল ও বুধবার রাশিয়ার ভূ-খণ্ডে হামলা চালায় ইউক্রেন। তার পাল্টায় গতকাল বৃহস্পতিবার ইউক্রেনের নিপ্রো এলাকায় নতুন ধরনের ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালায় রাশিয়া প্রথমে একে আন্তমহাদেশীয় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র (আইসিবিএম) মনে করা হলেও পরে মস্কো জানিয়েছে, সেটি নতুন প্রজন্মের হাইপারসনিক ক্ষেপণাস্ত্র ছিল। এই ক্ষেপণাস্ত্রও আইসিবিএমের মতো পারমাণবিক অস্ত্র বহন করতে পারে বলে জানিয়েছেন পুতিন।

রাশিয়ার ভূ-খণ্ডে হামলার অনুমতি দিলে তার পরিণতি ভালো হবে না বলে আগেই হুঁশিয়ারি দিয়েছিলেন রুশ প্রেসিডেন্ট পুতিন। তার কথায় পাত্তা না দিয়ে যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনা আরও বাড়ানোর পথ বেছে নেওয়ার পর এবার সরাসরি পশ্চিমে হামলার সম্ভাবনা নাকচ না করার কথা জানালেন তিনি। ৩৩ মাসের বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধে ইউক্রেনকে বিপুল পরিমাণ সামরিক সহায়তা দিয়ে টিকিয়ে রেখেছে দেশটির পশ্চিমা মিত্ররা।

বিচারের পরেই নির্বাচনে স্বাগত জানানো হবে আওয়ামী লীগকে – টাইম ম্যাগাজিনকে ড. ইউনূস

বিশ্ববিখ্যাত টাইম ম্যাগাজিনে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত সাক্ষাতকারে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলছেন-‘আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য স্বাগত জানানো হবে, তবে তার আগে জুলাই-আগস্টে ছাত্র আন্দোলনে হতাহতের ঘটনায় জড়িত আওয়ামী লীগ ও সহযোগীদের প্রত্যেকের বিচার নিশ্চিত করা হবে।’ তিনি বলেন, ‘আওয়ামী লীগের যারা হত্যা ও নির্যাতনের জন্য দায়ী তাদের জবাবদিহির আওতায় আনা হবে। বিচারে অপরাধী প্রমাণিত না হলে তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের অধিকার পাবে। যারা অপরাধী নয় তারা নির্বাচনে অংশগ্রহণের জন্য অন্যদের মতোই স্বাধীন। তাদের (আওয়ামী লীগ) বিরুদ্ধে রাজনৈতিক ভিত্তিতে লড়াই করব আমরা। রাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলো এমনভাবে পুনর্গঠন করা হবে যাতে স্বৈরাচার আর কখনও ফিরে আসতে না পারে।’

প্রধান উপদেষ্টা বলেন, হাসিনা শুধু ভারতেই আশ্রয় নিয়েছেন তা নয়, সবচেয়ে খারাপ বিষয় হলো তিনি যে কথা বলছেন, এটা আমাদের জন্য অনেক সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি ভারতে বসে সরকারের উপদেষ্টারদের বিরুদ্ধে অপপ্রচার চালিয়ে যাচ্ছেন। যার ফলে সহিংসতার জন্য শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দায়ের করা মামলার প্রেক্ষিতে তিনি শেখ হাসিনাকে বাংলাদেশে ফেরত চেয়েছেন। যদিও কেউ বিশ্বাস করে না যে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি তাতে রাজি হবেন।

টাইমস এর ভাষ্যমতে ধারণা করা হয়, নবনির্বাচিত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পকে আওয়ামী লীগ ও প্রভাবশালী ভারতীয় আমেরিকানরা বাংলাদেশের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপের জন্য লবিং করছে। তবে ড. ইউনূস এ ব্যাপারে আত্মবিশ্বাসী যে, তিনি ডোনাল্ড ট্রাম্পের সঙ্গে এ নিয়ে কথা বলতে পারবেন। সাক্ষাৎকারে প্রধান উপদেষ্টা বলেন ট্রাম্প একজন ব্যবসায়ী। আমরাও ব্যবসা নিয়ে ভাবছি। আমরা কোনো সংকটে সাহায্য করার জন্য বিনামূল্যে টাকা চাইছি না; আমরা একটি ব্যবসায়ী অংশীদার চাই। বিশ্বব্যাপী প্রতিষ্ঠানগুলোকে আশ্বস্ত করতে হবে যে, বাংলাদেশ ব্যবসার জন্য খোলা রয়েছে।

হেফাজত নেতাদের চাপে নারায়ণগঞ্জে লালন মেলা হচ্ছে না ।

নারায়ণগঞ্জের সদর উপজেলার কাশিপুরের মধ্য নরসিংহপুর গ্রামে ‘মুক্তিধাম আশ্রম ও লালন একাডেমি’ প্রাঙ্গণে আয়োজিত ‘মহতী সাধু সঙ্গ ও লালন মেলা’ আয়োজনের অনুমতি বাতিল করেছে জেলা প্রশাসন। নিরাপত্তার কারণ এবং স্থানীয় হেফাজত নেতাদের আপত্তির জেরে এই অনুমতি বাতিল করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার বিষয়টি নিশ্চিত করে জেলা প্রশাসক মাহমুদুল হক বলেন, ‘এই মেলা বন্ধের জন্য স্থানীয় হেফাজতের নেতারা দাবি জানিয়েছেন। মেলার অনুমতি দেওয়া হলে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি তৈরি হতে পারে। সার্বিক নিরাপত্তা বিবেচনায় আমরা লালন মেলার অনুমতি দেইনি।’

এর আগে, ১৫ নভেম্বর হেফাজতে ইসলামের নেতাকর্মীরা এই মেলাকে ইমান বিধ্বংসী আখ্যা দিয়ে মেলা বন্ধে মিছিল করে। পরে মুক্তিধাম আশ্রমের অদূরে জড়ো হয়ে সেখানে বক্তব্য দেন হেফাজতের কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির মাওলানা আব্দুল আউয়াল। হেফাজত নেতা আব্দুল আউয়ালের হুমকির প্রতিবাদে ২০ নভেম্বর নারায়ণগঞ্জ শহরে মানববন্ধনে সাংস্কৃতিক জোটের রফিউর রাব্বী বলেন, ‘প্রশাসনের দায়িত্ব হচ্ছে মানুষের মতপ্রকাশ, ধর্ম পালন এবং শান্তিশৃঙ্খলা নিশ্চিত করা। নির্বিঘ্নে লালন মেলা আয়োজনের জন্য রাষ্ট্র ও সরকারের প্রতিনিধি হিসেবে আপনাদের কাজ করতে হবে। সকল ধর্ম, বর্ণ ও মতের মানুষের বসবাস এই দেশে। নিজের মত আরেকজনের ওপর চাপিয়ে দিয়ে তার কণ্ঠরোধ করা শুধু ‘২৪-এর গণঅভ্যুত্থানের বিরুদ্ধেই নয়, এটি আমাদের সংবিধানেরও বিরোধিতা।’

মুক্তিধাম আশ্রম ও লালন একাডেমির প্রতিষ্ঠাতা ফকির শাহ জালাল বলেন, ‘১০ বছর আগে আমার জমিতে আশ্রম প্রতিষ্ঠা করি। সাত বছর ধরে দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে লালন ভক্তরা এখানে আসেন। আমরা তো কারও বিরুদ্ধে কিছু বলি না। আমাদের মতো করে সাঁইজির গান চর্চা করি, ভক্তদের মাঝে খাবার বিতরণ করি। এমন পরিস্থিতি আগে কখনো হয়নি। এলাকার মানুষও বাধা দেয়নি। কিন্তু এবার তৌহিদি জনতা বলছে মেলা বন্ধ না করলে সব ভেঙে ফেলবে।’