Home Blog Page 228

সংঘর্ষ – নৈরাজ্যে জনমনে উদ্বেগ : যা ঘটলো

সোমবার সোহরাওয়ার্দী কলেজ ও কবি নজরুল কলেজের কয়েক হাজার শিক্ষার্থী ডেমরার মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে হামলার পর ওই এলাকায় ব্যাপক সংঘর্ষ-ভাঙচুর-লুটপাট ও অন্তত ১০০ জন আহত হয়। এর আগে মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজসহ বেশ কয়েকটি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থী সোহরাওয়াদী কলেজে গিয়ে ব্যাপক ভাঙচুর করে।

প্রথম আলো ভারতীয় আগ্রাসনে সহায়তা করছে, এমন অভিযোগে কয়েকশ বিক্ষোভকারী ব্যক্তি সোমবার (২৫ নভেম্বর) বিকেল সাড়ে চারটা থেকে সেখানে ঘণ্টাখানেক অবস্থান নেন। প্রবাসী অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট পিনাকী ভট্টাচার্য তার ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এই আন্দোলনের ঘোষণা দেন।এর আগে, রোববার সকাল থেকে প্রথম আলোর কার্যালয়ের সামনে ‘ভারতীয় আগ্রাসন প্রতিরোধে প্রথম আলো ও ডেইলি স্টারের জিয়াফত, প্রথম গরু জবেহ’ কর্মসূচি পালন করেন ‘বাংলাদেশ জনগণ’ ব্যানারে কিছু মানুষ।

সোমবার ভোররাত থেকে শাহবাগে সমাবেশ করার উদ্দেশ্যে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে অনেকগুলো বাস মাইক্রোবাস ভর্তি লোকজন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসতে থাকে। ঋণ দেওয়ার নাম করে অহিংস গণঅভ্যুত্থান নামে একটি প্ল্যাটফর্ম তাদের নিয়ে আসে। শিক্ষার্থী ও পুলিশ তাদের বুঝিয়ে ফেরত পাঠায়। ওই প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।

সোমবার বিকেলে ঢাকা থেকে চট্টগ্রামে যাওয়ার সময় শাহজালাল বিমানবন্দর থেকে সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও চট্টগ্রামের হাটহাজারীর পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ প্রভু চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে (৩৮) গ্রেপ্তার করেছে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশ (ডিবি)। তাকে গ্রেপ্তারের প্রতিবাদে রাজধানীর শাহবাগে ও চট্টগ্রামে বিক্ষোভ করেছে তার অনুসারীরা। অন্যদিকে ডিবি কার্যালয়ে গেছেন ধর্মীয় নেতারা।

সোমবার আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত ব্যাটারিচালিত রিকশা চলাচল বন্ধ বা চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করতে হাইকোর্ট যে নির্দেশ দিয়েছিলেন, সেই বিষয়বস্তুর ওপর এক মাসের জন্য স্থিতাবস্থা দিয়েছেন। ঢাকা মহানগর সড়কে ব্যাটারিচালিত রিকশা আপাতত চলতে পারবে। গত কয়েকদিন ধরে ব্যাটারি রিকশা চালকদের অবরোধে ঢাকার বিভিন্ন রাস্তা অচল হয়ে ছিল।

তেজগাঁও এলাকায় কথা কাটাকাটিকে কেন্দ্র করে রোবাবার রাত দুইটা পর্যন্ত সংঘর্ষে লিপ্ত ছিল ঢাকা পলিটেকনিক ইন্সটিটিউট ও বাংলাদেশ টেক্সটাইল ইউনিভার্সিটির (বুটেক্স) শিক্ষার্থীরা।সোমবার (২৫ নভেম্বর) দুপুরে রাজশাহীতে মিছিল করে প্রথম আলো কার্যালয়ে হামলা ও সাইনবোর্ড ভাঙচুর-অগ্নিসংযোগ করেছে আলেম ওলামা ও তাওহিদী জনতার ব্যানারে একদল লোক।

নৈরাজ্য বন্ধে কাজ করবে ছাত্র সংগঠনগুলো – ‘ জাতীয় ছাত্র সংহতি সপ্তাহ ’ ঘোষণা

প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীদের মধ্যে একতা ও সংহতির বার্তা পৌঁছে দেওয়ার পাশাপাশি আওয়ামী ‘ফ্যাসিবাদী’ শক্তির পুনর্বাসন রুখতে আগামী এক সপ্তাহ ‘জাতীয় ছাত্র সংহতি সপ্তাহ’ শীর্ষক কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও ছাত্র সংগঠনগুলো। ঢাকার কয়েকটি কলেজের শিক্ষার্থীদের গত কয়েকদিন ধরে দফায় দফায় সংঘর্ষে জড়িয়ে পড়ার ঘটনার প্রেক্ষিতে এ কর্মসূচি এল।

সিদ্ধান্ত নেয়া হয়েছে গত তিন নির্বাচনে আওয়ামী লীগের এমপি এবং মন্ত্রীদের সম্পদ বাজেয়াপ্ত করতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে চাপ দেওয়া হবে। আরো সিদ্ধান্ত হয়েছে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব ছাত্র সংগঠন নিয়ে জাতীয় ছাত্র কাউন্সিল গঠন করা হবে। এতে প্রতিটি ছাত্র সংগঠনের দু’জন প্রতিনিধি থাকবেন। এই কাউন্সিলের আলোচনার মাধ্যমে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের কর্মপরিধি নির্ধারিত হবে।

এছাড়া, সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সমস্যা নিয়ে তাদের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন এবং ছাত্র সংগঠনগুলো বসবে। ‘জাতীয় ছাত্র সংহতি সপ্তাহে’ ফ্যাসিবাদবিরোধী সব ছাত্র সংগঠন নিজ নিজ অবস্থান থেকে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে গিয়ে কথা বলবে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ঐক্য ফিরিয়ে আনতে কাজ করবে। সোমবার রাতে ঢাকার বাংলা মোটরে ১৯টি ছাত্র সংগঠনের সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের জরুরি বৈঠক শেষে সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা আসে।

নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে যেন জনগণ অংশ না নেয় : নাহিদ ইসলাম

সোমবার সন্ধ্যায় সংবাদ ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘অনেকগুলো ঘটনা আজ ঘটেছে। এর মধ্যে দেখা গেছে ভোররাত থেকে ঢাকায় বাস, মাইক্রোবাসে করে কিছু সাধারণ মানুষকে নিয়ে আসা হয়েছে ঋণ দেওয়ার নাম করে। অহিংস গণঅভ্যুত্থান নামে একটি প্ল্যাটফর্ম পুরো মিথ্যা প্রচারণা করে মানুষকে নিয়ে এসেছে।’ ওই প্ল্যাটফর্মের আহ্বায়ককে পুলিশ হেফাজতে নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।

কোনো পত্রিকা অফিসে ভাঙচুর করা, পত্রিকা বন্ধের জন্য চাপ প্রয়োগ করা সরকার সমর্থন করে না উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘কোনো গণমাধ্যম বা পত্রিকার বিরুদ্ধে যদি জনগণের কোনো অংশের অভিযোগ থাকে, ক্ষোভ থাকে, তারা সেটি প্রকাশ করতে পারে, তবে সেটি অবশ্যই শান্তিপূর্ণভাবে হতে হবে।’ ‘আমরা আহ্বান জানাব, কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত বা নৈরাজ্যকর পরিস্থিতিতে যেন জনগণ অংশ না নেয়। বাংলাদেশের ভাবমূর্তি নষ্ট হয়, এমন কাজ থেকে যেন আমরা বিরত থাকি,’ যোগ করেন মি. ইসলাম।

পশ্চিমা দেশগুলোর ট্রাভেল অ্যালার্ট প্রত্যাহারে সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নেওয়ার আহবান পোশাক শিল্প মালিকদের

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমা বিশ্বের দেশগুলো যেন বাংলাদেশে ভ্রমণের ক্ষেত্রে নিজ নাগরিকদের প্রতি জারি করা ট্রাভেল অ্যালার্ট বাতিল করে, সেজন্য সরকারকে দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে; একইসঙ্গে সংখ্যালঘু নির্যাতন করা হচ্ছে বলে যে অপপ্রচার চালানো হচ্ছে তা মোকাবিলা করতেও সমন্বিত প্রচেষ্টা দরকার বলে মনে করছেন পোশাক শিল্প মালিকরা। এতে ব্যর্থ হলে, বাংলাদেশের পোশাক শিল্প প্রতিযোগী দেশগুলোর কাছে ব্যবসা হারাবে বলেও সতর্ক করেছেন তাঁরা। রোববার দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ড আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে অংশ নিয়ে এসব কথা বলেছেন পোশাকখাতের শীর্ষ উদ্যোক্তারা।

বিজিএমইএ’র সাবেক সভাপতি ফারুক হাসান, ট্রাভেল অ্যালার্টের কারণে বিদেশি ক্রেতাদের মধ্যে উদ্বেগের কথা তুলে ধরেন। তিনি বলেন, ‘নিজ নিজ দেশের সরকারের ট্রাভেল অ্যালার্টের কারণে তাঁরা বাংলাদেশে আসতে স্বস্তিবোধ করছে না। যদিও আমরা তাঁদেরকে বোঝানোর চেষ্টা চালাচ্ছি, কিন্তু তাতে করে দেরী হচ্ছে, ফলে বাধ্য হয়ে আমাদের দেশের বাইরে গিয়ে (বায়ারদের সঙ্গে) দেখা করতে হচ্ছে।’ চলমান অস্থিরতা এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতিকে বাংলাদেশের পোশাক শিল্পের জন্য আরেকটি বড় বাধা বলে উল্লেখ করেন গোলটেবিল আলোচনায় অংশগ্রহণকারীরা।

জান্তা বাহিনীর হয়ে যুদ্ধে যাচ্ছে কিছু রোহিঙ্গা ; বাংলাদেশি কর্মকর্তা সম্পৃক্ত ?

কক্সবাজারের আশ্রয় শিবিরে ১০ লাখের বেশি রোহিঙ্গার বসবাস। গত এক বছরে সেখানে সশস্ত্র দলগুলোর সদস্য সংগ্রহ এবং সহিংসতা- দুটোই বেড়েছে। হাজারো রোহিঙ্গা মিয়ানমারে ফিরে গেছেন যুদ্ধে যোগ দিতে। ঘটনাপ্রবাহ সম্পর্কে অবগত অন্তত চারজনের বক্তব্য এবং দুটি ত্রাণ সংস্থার অভ্যান্তরীণ প্রতিবেদন থেকে এ তথ্য জেনেছে রয়টার্স। মিয়ানমারে দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা বিভিন্ন জাতিগোষ্ঠীর বিদ্রোহ ২০২১ সালে সামরিক অভ্যুত্থানের পর আরও জোরালো হয়েছে। বিভিন্ন সশস্ত্র গোষ্ঠীর মধ্যে চলমান এই জটিল সংঘাতে এখন রোহিঙ্গা যোদ্ধারাও যুক্ত হচ্ছেন।

রোহিঙ্গাদের অনেকে আবার সেই সব গোষ্ঠীর হয়ে লড়াইয়ে যোগ দিচ্ছেন, তাদের নির্যাতনকারী জান্তাবাহিনীর সঙ্গে যাদের যোগাযোগ আছে। তারা লড়াই করছেন রাখাইন রাজ্যের বিদ্রোহী আরাকান আর্মির বিরুদ্ধে। বাংলাদেশের আশ্রয় শিবিরগুলো থেকে ৩ থেকে ৫ হাজার যোদ্ধা সংগ্রহ করেছে রোহিঙ্গা সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো। আরাকান আর্মির সঙ্গে রোহিঙ্গাদের সমঝোতার চেষ্টা ব্যর্থ হওয়া, রোহিঙ্গাদের যুদ্ধে নামাতে জান্তা বাহিনীর অর্থ এবং নাগরিকত্বের প্রলোভন এবং এসব বিষয়ে বাংলাদেশি কিছু কর্মকর্তার সম্পৃক্ততার তথ্যও রয়টার্স পেয়েছে।

রাখাইনের মংডু এলাকার নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে আরাকান আর্মির সঙ্গে লড়ছে জান্তা বাহিনী। মূলত বৌদ্ধ সংখ্যাগরিষ্ঠ রাখাইন সম্প্রদায় আরাকান আর্মিকে সমর্থন দিচ্ছে। মিয়ানমারে টিকে থাকা রোহিঙ্গাদের অন্যতম বড় বসতি পুড়িয়ে দেওয়ার জন্য যে আরাকান আর্মি দায়ী, আর তাদের সঙ্গে লড়ার বিষয়ে আরএসও যে জান্তা বাহিনীর সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছেছে, চলতি বছর রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে সেই বাস্তবতা তুলে ধরা হয়েছিল।
মিয়ানমারের সেনাবাহিনী রোহিঙ্গাদের অস্ত্র, প্রশিক্ষণ এবং অর্থ যুগিয়েছে। জান্তা বাহিনী এর বিনিময়ে মিয়ানমারের নাগরিকত্বের নথিপত্র দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে তাদের।

মার্চ থেকে মে মাসের মধ্যে শরণার্থী শিবিরগুলো থেকে প্রায় দুই হাজার রোহিঙ্গাকে ‘নাগরিকত্ব ও আর্থিক প্রলোভন, মিথ্যা প্রতিশ্রুতি, হুমকি ও জবরদস্তি’ করে জান্তার হয়ে যুদ্ধ করার জন্য দলে টানার তথ্য একটি ত্রাণ সংস্থার জুন মাসের ব্রিফিংয়ে রয়টার্স দেখেছে। একটি সূত্র রয়টার্সকে বলেছে, সশস্ত্র সংগ্রামই রোহিঙ্গাদের মিয়ানমারে ফেরার একমাত্র উপায় বলে বাংলাদেশি কর্মকর্তাদের কেউ কেউ মনে করেন। তারা এও মনে করেন, বাংলাদেশ কোনো বিদ্রোহী গোষ্ঠীকে সমর্থন দিলে তাতে মিয়ানমারের সঙ্গে দর কষাকষির জায়গা আরো বাড়বে।

অভিজিতের মৃত্যু ও ৩৭ কলেজের শিক্ষার্থীদের সংঘর্ষ

পুরান ঢাকার ন্যাশনাল মেডিক্যাল ইনস্টিটিউট হাসপাতালে ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের (ডিএমআরসি) ২৪ ব্যাচের শিক্ষার্থী অভিজিত হাওলাদার ভুল চিকিৎসায় মারা গেছেন বলে অভিযোগ তুলেছেন তার সহপাঠীরা। সহপাঠীদের দাবি, চিকিৎসকদের গাফিলতি এবং ভুল চিকিৎসার ফলে অভিজিতের মৃত্যু হয়েছে। শুধু তাই নয়, মৃত্যুর পর ১০ হাজার টাকা দিয়ে ঘটনাটি ধামাচাপা দেওয়ার চেষ্টা করেছে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ। সেই ঘটনার সূত্র ধরে রবিবার (২৪ নভেম্বর) দুপুরে হাসপাতালে ভাঙচুর করেছে ডিএমআরসির শিক্ষার্থীরা। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছিল ঢাকার আরও ৩৪টি কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা। একপর্যায়ে কবি নজরুল কলেজ ও সোহরাওয়াদী কলেজের শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া শুরু হয়।

ন্যাশনাল হাসপাতাল ভাঙচুরের পর ডিএমআরসি এবং বাকি ৩৪টি কলেজের শিক্ষার্থীরা সম্মিলিতভাবে পুরান ঢাকার কবি নজরুল সরকারি কলেজ এবং সোহরাওয়ার্দী কলেজে হামলা ও ভাঙচুর চালান। এই দুই কলেজসহ সবমিলিয়ে ৩৭টি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের শিক্ষার্থীরা এই সংঘর্ষে জড়িয়েছে। প্রশ্ন উঠেছে, একটি কলেজের শিক্ষার্থী মারা গেছেন, অন্য একটি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে অভিযোগ। তাহলে এখানে কীভাবে অন্য শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলো জড়িয়ে পড়লো?

বাংলা ট্রিবিউন খোঁজ নিয়ে জেনেছে, ফেসবুকে ইউনাইটেড কলেজেস অব বাংলাদেশ (ইউসিবি) নামে একটি গ্রুপে অ্যাকটিভ বিভিন্ন কলেজের উচ্চ মাধ্যমিকের শিক্ষার্থীরা। মূলত এই গ্রুপেই অভিজিতের মৃত্যু নিয়ে একাধিক পোস্ট দিয়ে শিক্ষার্থীদের ঐক্যবদ্ধ করা হয়েছে। সেখান থেকেই আন্দোলনে যোগ দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা। ডেঙ্গতে আক্রান্ত হয়ে গত ১৭ নভেম্বর ঢাকা ন্যাশনাল হাসপাতালে ভর্তি হয়। অভিজিতের মৃত্যুর সুষ্ঠু তদন্ত এবং জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে গত মঙ্গলবার (২০ নভেম্বর) অভিজিৎ রায় এর ঘটনার সুষ্ঠু তদন্তের দাবিতে শিক্ষার্থীরা সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় ঢাকা ন্যাশনাল মেডিক্যাল কলেজ অবরোধ করলে পুলিশ ছাত্রদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। ড. মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজের শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, সেদিন তাদের আন্দোলন দমন করতে কবি নজরুল কলেজ ও সোহরাওয়াদী কলেজ ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা হামলা চালায়। এই ঘটনার জের ধরে ঘটে গতকালের হামলা ও ভাঙচুর। এই প্রতিক্রিয়ায় আজ ২৫ নভেম্বর কবি নজরুল ও সোহরাওয়াদী কলেজের শিক্ষার্থীরা পাল্টা হামলা চালায় যাত্রাবাড়ি মাহবুবুর রহমান মোল্লা কলেজে।

বিচারের আওতায় নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তারা ; নেই রাজনৈতিক দল

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন-১৯৭৩ অধিকতর সংশোধন করে ‘আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ গেজেট প্রকাশ করেছে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়। আন্তর্জাতিক মান ও স্বচ্ছতা রক্ষা মুল লক্ষ্য। আন্তর্জাতিক আইনের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে অপরাধের সংজ্ঞাতে পরিবর্তন করা হয়েছে সংশোধনীতে। বাড়ানো হয়েছে আসামিদের সুযোগ-সুবিধা। আগে আসামিরা বিদেশি আইনজীবী নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ না পেলেও সংশোধিত আইনে বার কাউন্সিলের অনুমতি সাপেক্ষে সেই সুযোগ রাখা হয়েছে।

সেই সঙ্গে সাক্ষীদের সুরক্ষার বিধান রাখা হয়েছে। অধ্যাদেশে বলা হয়, এখন থেকে জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা মামলার বিভিন্ন কার্যক্রমে অংশ নিতে পারবে। সংশোধিত আইনে সেনাবাহিনী, নৌবাহিনী, বিমানবাহিনী, পুলিশ, র‍্যাপিড অ্যাকশন ব্যাটালিয়ন, বর্ডার গার্ড এবং সব গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যদের বিচারের অনুমতি দেয়া হয়েছে। সংশোধনীতে বলা হয়েছে যারা মানবতাবিরোধী অপরাধের আদেশদাতা উস্কানিদাতা বা সহায়তাকারীই কেবল দোষী নয়, যারা জানতেন যে অপরাধটি সংঘটিত হবে, কিন্তু নিষ্ক্রিয় ছিলেন, তাদেরও অভিযুক্ত করা যাবে।

কোনো কমান্ডার বা উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা এই ধরনের অপরাধ সংঘটন প্রতিরোধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হলে বা অধস্তনদের দ্বারা কৃত অপরাধের তথ্য উপেক্ষা করলে, তাকেও বিচারের আওতায় আনা যাবে। ভুক্তভোগীদের ক্ষতিপূরণ দেয়ার আদেশ দিতে পারবে ট্রাইব্যুনাল। বিদেশে বসে কেউ মানবতাবিরোধী অপরাধ করলেও আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের তা আমলে নেওয়ার সুযোগ রাখা হয়েছে অধ্যাদেশে। ট্রাইব্যুনাল চাইলে শুনানির অডিও ও ভিডিও রেকর্ড রাখতে পারবে। তবে গণমাধ্যমের জন্য সম্প্রচারের কোনো ব্যবস্থা থাকবে না।

ট্রাইব্যুনাল আইনে রাজনৈতিক দলকে বিচারের আওতায় আনার যে ধারাটি খসড়ায় রাখা হয়েছিল, তা বাদ দেয়া হয়েছে। ১৯৭১ সালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারের লক্ষ্যে ১৯৭৩ সালে আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইন প্রণয়ন করা হয়েছিল। গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার আন্দোলনের সময় সংঘটিত হত্যা, গণহত্যার বিচার প্রক্রিয়া এরই মধ্যে শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে। পাশাপাশি এ আইনে আওয়ামী লীগ আমলে গুম, খুনের মতো মানবতাবিরোধী অপরাধেরও বিচার হবে।

৩৭% মার্কিন – ইহুদি তরুণ হামাসের প্রতি সহানুভূতিশীল

‘আমি হামাসের প্রতি সহানুভূতিশীল’- এ বক্তব্যকে ‘সমর্থন’ বা ‘শক্ত সমর্থন’ দিয়েছেন ৩৬.৭% মার্কিন ইহুদি তরুণ। তবে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাসকারী ইহুদি তরুণদের মধ্যে ৭% ঐ বক্তব্যের সঙ্গে একমত। জরিপে অংশগ্রহণকারী মার্কিন ইহুদি তরুণদের বড় একটি অংশ এ বক্তব্যের সঙ্গে একমত পোষণ করেছে যে, ইসরায়েল গাজায় গণহত্যা চালাচ্ছে। এ হার ৪১.৩%। বিপরীতে যুক্তরাষ্ট্রের বাইরে বসবাসকারী ইহুদি তরুণদের মধ্যে এ হার ১০%।

বিস্ময়কর হলো, মার্কিন-ইহুদি তরুণদের উল্লেখযোগ্য অংশ শুধু যে হামাসের প্রতিই সহানুভূতিশীল তা নয়, তাঁদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ (৬৬%) সার্বিকভাবে ফিলিস্তিনি জনগণের ব্যাপারেও সহানুভূতিশীল। জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে সংখ্যাগরিষ্ঠ অংশ ইসরায়েলপন্থী মনোভাব পোষণ করে, যেমন ৬২% মার্কিন-ইহুদি তরুণ নিজেদের ইহুদিবাদী বলে বিবেচনা করেন। অন্যদিকে ৮৪% বলেছে, ‘একটি ইহুদি রাষ্ট্র’ হিসেবে ইসরায়েলের টিকে থাকার অধিকার রয়েছে। প্রবাসীকল্যাণ ও ইহুদিবিদ্বেষ মোকাবিলা-বিষয়ক ইসরায়েলের মন্ত্রণালয় কর্তৃক যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারী ১৪-১৮ বছর বয়সী মার্কিন-ইহুদি তরুণদের মধ্যে পরিচালিত জরিপ।

‘ সর্বজনীন নুন্যতম আয় ’ কর্মসূচির প্রস্তাব সিপিডির

দেড় কোটি পরিবারকে দারিদ্র্য ও আয়বৈষম্য কমাতে মাসে ৪,৫৪০ টাকা আয় সহায়তা দিতে খরচ হবে বছরে ৭৫ হাজার কোটি টাকা। দেশে সামাজিক নিরাপত্তার কর্মসূচি পুরোপুরি কার্যকর নয়। অনেক ক্ষেত্রে সঠিক উপকারভোগী এসব সহায়তা পান না। প্রয়োজনীয় বাজেট ও অর্থ বিতরণ নিয়েও রয়েছে জটিলতা। দারিদ্র্য ও আয়বৈষম্য কমাতে ইউনিভার্সেল বেসিক ইনকাম (ইউবিআই) বা ‘সর্বজনীন ন্যূনতম আয়’ নামে একটি সমন্বিত সুরক্ষা কর্মসূচির প্রস্তাব করেছে বেসরকারি গবেষণাপ্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি)। রোববার ঢাকায় আয়োজিত এক সেমিনারে সিপিডির পক্ষ থেকে এ প্রস্তাব তুলে ধরা হয়।

নতুন এ পদ্ধতিতে দেশের প্রতিটি দারিদ্র্যপীড়িত, স্বল্প আয় ও আয়বিহীন পরিবার জীবনধারণের জন্য ন্যূনতম একটি আয় (অর্থসহায়তা) রাষ্ট্র থেকে পাবে। গবেষণায় এসেছে সারাদেশে এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন করা হলে মোট পরিবারের ৩৫.৯০% অর্থাৎ ১ কোটি ৪৭ লাখ ২৫ হাজার পরিবারকে এ অর্থ দিতে হবে। সিপিডি হিসাব করে দেখেছে, পরিবারের আয়ের পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট পরিবারকে মাসে ৪,৫৪০ টাকা ন্যূনতম সহায়তা দেওয়া প্রয়োজন। তাতে একটি পরিবার মৌলিক চাহিদা পূরণ করতে পারবে।

মূল প্রবন্ধে জানানো হয়, এ কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা গেলে জাতীয়ভাবে দারিদ্র্যের হার ৬.১৩% এ নামিয়ে আনা সম্ভব। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নে বছরে সরকারের ৭৫ হাজার ৩৯৩ কোটি টাকা লাগবে। আগামী বাজেট থেকেই স্বল্প বা বিস্তৃত পরিসরে এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের পরামর্শ দিয়ে সিপিডি বলছে, এ কার্যক্রম বাস্তবায়ন হলে শিক্ষা ও কৃষি খাতে ভর্তুকি ছাড়া অন্যান্য সাধারণ সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচির প্রয়োজন হবে না। ফলে নতুন কর্মসূচি বাস্তবায়নে খুব বেশি বাড়তি অর্থের প্রয়োজন হবে না।

প্রতিবেদনে বলা হয়, সর্বজনীন মৌলিক আয় নিশ্চিতে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ নানাভাবে দরিদ্র নাগরিকদের সহায়তা দিয়ে থাকে। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বাস্তবায়ন ও গ্রহণযোগ্য পদ্ধতি হচ্ছে মৌলিক আয় পূরণে একটি অংশ সরকার থেকে দেওয়া। এর জন্য ন্যূনতম একটা আয় লেভেল ঠিক করে তার নিচে যাদের আয় থাকবে, তাদের সহায়তা করা হয়। দেশের প্রতিটি পরিবারের আর্থিক সঙ্গতি বাড়াতে, দারিদ্র্যের হার কমাতে এবং অভ্যন্তরীণ চাহিদা ও উৎপাদন গতিশীল করতে সর্বজনীন ন্যূনতম আয় ভূমিকা রাখে।

অনুষ্ঠানে রেহমান সোবহান বলেন, ‘ইউবিআই নিয়ে প্রথম আলোচনা শুরু হয় ১৯৮০ সালের দিকে। তবে বাংলাদেশে এটি আলোচনার টেবিলে আসতে চার দশক সময় লেগেছে। আমরা এখন নতুন সময়ে উপনীত হয়েছি। এ পরিস্থিতিতে ইউবিআই শুধু একাডেমিক আলোচনায় সীমাবদ্ধ নেই, বরং এ কর্মসূচি গুরুত্বসহকারে বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।’ সিপিডির সম্মানীয় ফেলো অধ্যাপক মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্রের কথা চিন্তা করলে এ ধরনের ভাবনার মধ্য দিয়ে যেতে হবে। এসব ক্ষেত্রে মানুষকে যখন সরকার থেকে টাকা দেওয়া হয়, তখন এর ইতিবাচক প্রভাব সার্বিকভাবে অর্থনীতিতে পড়ে।’

নতুন নির্বাচন কমিশনকে প্রত্যাখ্যান করেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের প্রণীত আইনের অধীনে গঠিত নতুন নির্বাচন কমিশন (ইসি)কে প্রত্যাখ্যান করেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি।সংগঠনটি বলেছে ‘রাজনৈতিক দলগুলোর চাপের কাছে নতি স্বীকার করে অন্তর্বর্তী সরকার ইসি গঠন করতে বাধ্য হয়েছে। এটি গণঅভ্যুত্থানের চেতনার সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতার শামিল।’

লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারের লক্ষ্যে সরকার একটি কমিটি গঠন করেছে। ৩১ ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচনব্যবস্থা সম্পর্কে সার্বিক প্রস্তাব সরকারের কাছে পেশ করা তাদের কাজ। বদিউল আলম মজুমদারের নেতৃত্বাধীন ওই কমিশন কাজ শুরু করেছে দুই মাসও হয়নি। তাদের প্রথম কাজই হচ্ছে নির্বাচন কমিশন (ইসি) গঠনের পদ্ধতি ঠিক করা। তারা কোনো প্রস্তাব দেওয়ার আগেই ইতিমধ্যে সরকার ইসি গঠনের জন্য সার্চ কমিটি গঠন করে। তারা বলেন বাংলাদেশের সর্বস্তরের ছাত্র ও জনগণ অভ্যুত্থানের শরিক। কেবল রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলে ড. মুহাম্মদ ইউনূস এ ধরনের সিদ্ধান্ত নিতে পারেন না।

জাতীয় নাগরিক কমিটি অবিলম্বে নির্বাচন কমিশনসহ আইনটি বাতিল করে নতুন আইনের ভিত্তিতে একটি নিরপেক্ষ নির্বাচন কমিশন গঠনের জোর দাবি জানিয়েছে। নাগরিক কমিটি আরও বলেছে, ‘ড. ইউনুসকে মনে রাখতে হবে, তিনি ছাত্র-জনতার দ্বারা নিয়োগপ্রাপ্ত। তরুণ শিক্ষার্থী সমাজসহ আপামর জনগণের কাছেই তিনি দায়বদ্ধ। রাজনৈতিক দলগুলো না চাইলে সংস্কার হবে না, এ ধরনের অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য আমরা তাঁর কাছ থেকে শুনতে চাই না। গণঅভ্যুত্থানের স্পিরিটবিরোধী কোনো সিদ্ধান্ত জনগণ মেনে নেবে না।’

লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয় ‘এখনো সরকারের সুচিন্তিত সিদ্ধান্ত গ্রহণের সুযোগ রয়েছে। সরকার জনগণের অভিপ্রায়কে প্রতিনিধিত্ব করবে তথা প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার ছাড়াই তড়িঘড়ি করে নির্বাচন আয়োজন করার দিকে অগ্রসর হবে না, এটাই আমাদের দাবি। ড. ইউনূস ও তার সরকারকে অবশ্যই মনে রাখতে হবে, ফ্যাসিবাদী ও অবৈধ সংবিধানের আইনি কাঠামোয় নির্বাচন দিতে এত শহীদ প্রাণ দেননি। তা ছাড়া গণঅভ্যুত্থানের দাবি কেবল নির্বাচনের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। ফ্যাসিবাদী রাষ্ট্রব্যবস্থা বিলোপের লক্ষ্যে সব ধরনের সংস্কার পদক্ষেপ গ্রহণ করা না গেলে অভ্যুত্থানের লক্ষ্য অর্জিত হবে না এবং তা শহীদদের রক্তের সঙ্গে বেইমানির শামিল।’