Home Blog Page 227

এস আলমের কোম্পানিগুলোর এলসি খুলতে ব্যাংককে নির্দেশনা – ৭ ব্যাংককে ২০ হাজার ৫০০ কোটি টাকা দিল বাংলাদেশ ব্যাংক

গ্রাহকের আস্থা ফেরানোর লক্ষ্যে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে তারল্য সহায়তা দেওয়া শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। গত ২দিনে ৭টি ব্যাংককে ভল্ট থেকে ২০,৫০০ কোটি টাকা দেয়া হয়েছে। গভর্নর প্রাথমিকভাবে দুর্বল ব্যাংকগুলোকে ৭০ হাজার কোটি টাকা সহায়তা দেওয়ার ইঙ্গিত দিয়েছেন বলে জানিয়েছে সংশিষ্ট সূত্র। সূত্র জানিয়েছে, মূলত আওয়ামী লীগ আমলে ব্যাপক অনিয়মের কারণে তারল্য সংকটে ভুগতে থাকা বেসরকারি খাতের ব্যাংক ন্যাশনাল ব্যাংক, এক্সিম ব্যাংক, সোশ্যাল ইসলামি ব্যাংক এবং ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামি, ইউনিয়ন ব্যাংকে তারল্য সহায়তা দিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

সূত্র আরো জানায়, ৫ আগস্টের পর থেকে ব্যাংকগুলো এস আলম গ্রুপের এলসি খুলতে রাজি হচ্ছিল না। এমন পরিস্থিতিতে রমজানের আগে নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানি নিশ্চিত করতে এস আলম গ্রুপের মালিকানাধীন ভাজ্যতেল, চিনি ও আটা-ময়দার কাম্পানিগুলোর এলসি খুলতেও ব্যাংকগুলোকে নির্দেশনা দিয়েছেন গভর্নর। গত ২০ আগস্ট গভর্নর আহসান এইচ মনসুর সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে বলেছিলেন, দুর্বল ও সমস্যাযুক্ত ব্যাংকগুলোকে টাকা ছাপিয়ে আর সহায়তা দেওয়া হবে না।

এরপর গত ৪ সেপ্টেম্বর তিনি প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে বলেন, ‘তারল্য সংকটে থাকা ‘দুর্বল’ ব্যাংককে সচল রাখতে বিভিন্ন হিসাব-নিকাশ বিবেচনায় নিয়ে গ্যারান্টির মাধ্যমে আন্তঃব্যাংক বাজার থেকে নগদ টাকার ঋণ সহায়তার ব্যবস্থা করা হবে।’ সেই পদ্ধতিতে দুর্বল ব্যাংকগুলো প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা ধার নিয়েছে। কিন্তু তাতে সংকট দূর না হওয়ায় আবারও তারল্য সহায়তা দিচ্ছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক।

শিবির নেতার যোগদান নিয়ে বিভক্ত নাগরিক কমিটির সদস্যরা

কমিটি সদস্যদের একাংশের আপত্তি উপেক্ষা করে ইসলামী ছাত্র শিবিরের ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সাবেক সভাপতি আলী আহসান জোনায়েদকে বর্ধিত কেন্দ্রীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। শুক্রবার সাধারণ সভায় যোগদানকারী একাধিক সূত্র জানায়, সদস্যদের একটি দল জোনায়েদের অন্তর্ভুক্তির তীব্র বিরোধিতা করেছিল। উইমেন অ্যান্ড জেন্ডার স্টাডিজ বিভাগের প্রাক্তন ছাত্র জোনায়েদ ২০১৯ সালে শিবিরের ঢাবি ইউনিটের নেতৃত্ব দিয়েছিলেন আন্ডারগ্রাউন্ডে। নাগরিক কমিটিতে যোগদানের আগে তিনি শিবিরের কেন্দ্রীয় কমিটির সেক্রেটারিয়েট সদস্যদের একজন ছিলেন, একটি সূত্র জানায়।

নাগরিক কমিটির মুখপাত্র সামান্থা শারমিন বলেছেন, ‘বর্ধিতকরণের সিদ্ধান্তটি সর্বসম্মত ছিল’। তিনি বলেন, এটি বিভাজনের সময় নয় এবং তারা সমস্ত ফ্যাসিবাদবিরোধী গ্রুপকে যুক্ত করতে চান। ফ্যাসিবাদ বিরোধী আন্দোলনে শিবিরের লোকেরা গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল তা অস্বীকার করার উপায় নেই। তিনি অবশ্য বলেন, নাগরিক কমিটির একটি অবস্থান রয়েছে যে জামায়াত শিবিরকে দল হিসেবে ১৯৭১ সালে তাদের ভূমিকা স্পষ্ট করতে হবে, যদি তারা রাজনীতিতে থাকতে চান।

শারমিন বলেন- বর্ধিত কমিটিতে সাবেক ছাত্রদল, ছাত্রশিবির, ছাত্র ফেডারেশন, ছাত্র ইউনিয়ন, ২০১৯ সালের ডাকসু নির্বাচনের স্বতন্ত্র প্রার্থী, সাংবাদিক, নারী, আদিবাসী প্রতিনিধিসহ সবধরনের মানুষ যুক্ত করা হয়েছে তাদের আদর্শগত অবস্থান নির্বিশেষে। সংশ্লিষ্টরা জানান, জোনায়েদ আড়ালে থেকে আন্দোলনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেন। বর্ধিত নাগরিক কমিটিতে এখন ১০৭ জন সদস্য রয়েছে এবং তাদের মধ্যে ৮-১০ জন সাবেক শিবির নেতা।

যোগাযোগ করা হলে জোনায়েদ জানান, তিনি ২০২০ সালে শিবির ছেড়ে একটি গবেষণা প্রতিষ্ঠানে যোগ দেন। কোটা সংস্কার আন্দোলনের মূল সংগঠকদের সাথে তাদের যোগাযোগ ছিল এবং আন্দোলনটি সরকারবিরোধী রূপ নিলে তিনি ব্যক্তিগতভাবে এতে অংশ নেন।

ইসকন নিষিদ্ধ চায়না বিএনপি , বিভাজন , বিদ্বেষ সৃষ্টি বিষয়ে সতর্কতার আহ্বান

প্রধান উপদেষ্টার সঙ্গে বৈঠক শেষে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাংবাদিকদের বলেছেন, ‘উদ্ভূত পরিস্থিতে, বিশেষ করে কয়েক দিন ধরে যে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি, ছাত্রদের সমস্যা-এগুলো নিয়ে দলের পক্ষ থেকে আমরা উদ্বেগের কথা জানিয়েছি। এসব বিষয়ে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি করার আহ্বান জানিয়েছি। সংস্কারগুলো সম্পন্ন করে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের রোডম্যাপ দেওয়ার কথাও বলেছি।’

বৈঠকে সনাতন ধর্মাবলম্বীদের সংগঠন ‘ইসকন’ ও বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর গ্রেপ্তারের প্রসঙ্গ ওঠে। তাঁকে গ্রেপ্তারের কারণও তাঁরা জানতে চান। বিভিন্ন দল ও সংগঠন ইসকনকে নিষিদ্ধ করার যে দাবি তুলেছে, এর সঙ্গে বিএনপি দ্বিমত জানিয়েছে; তারা ইসকনকে আলোচনায় ডেকে শান্তিপূর্ণ সমাধানের দিকে যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারকে। বিশেষ করে দুটি শীর্ষস্থানীয় গণমাধ্যমের ওপর আক্রমণ, বিভাজন সৃষ্টি ও বিদ্বেষ ছড়ানোর বিষয়ে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে বলেছে বিএনপি।

এদিকে, বিদ্যমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিতে বুধবার গণমাধ্যমে দেয়া বিবৃতিতে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেন ‘গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী বাংলাদেশে এক দিকে দীর্ঘ দেড় দশক ধরে অধিকার বঞ্চিত মানুষের চাওয়া-পাওয়ার হিসাব, অপর দিকে পলাতক স্বৈরাচারের প্রতিশোধের আগুন-সব মিলিয়ে দেশে ঘোলাটে পরিস্থিতি বিরাজমান। পলাতক স্বৈরাচারের দোসররা সরকারকে অস্থিতিশীল করতে জনগণের দাবি আদায়ের আন্দোলনকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করে আন্দোলনকারীদের সঙ্গে মিশে গিয়ে ষড়যন্ত্রকারীরা দেশে অরাজক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টায় লিপ্ত হয়েছে।’

পিছু হটার পর ইমরান খানের পিটিআই এখন কী করবে !

সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইন-সাফের (পিটিআই) নেতা কারাবন্দী ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে হাজার হাজার কর্মী-সমর্থকের গাড়িবহর সোমবার রাতে রাজধানী ইসলামাবাদের ডি-চক এলাকায় পৌঁছায়। তাঁকে মুক্ত না করা পর্যন্ত সেখানে অবস্থান নিয়ে থাকার আহ্বান জানিয়েছিলেন ইমরানের স্ত্রী বুশরা বিবি। কিন্তু ২৪ ঘণ্টার মধ্যে মঙ্গলবার মধ্যরাতের আগে অভিযান চালিয়ে বিক্ষোভকারী কর্মী-সমর্থকদের হটিয়ে দেন আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যরা। এ সময় দুই পক্ষে সংঘর্ষ হয়। ঘটে হতাহত হওয়ার ঘটনা।

ইমরান খান ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে আছেন। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে পার্লামেন্টে অনাস্থা ভোটে হেরে ক্ষমতাচ্যুত হয় ইমরান সরকার। এর পর থেকে দলটি একের পর এক বিক্ষোভ করে আসছে। গত ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনে পিটিআই প্রার্থীরা বেশির ভাগ আসনে জয়ী হয়েছিলেন। কিন্তু দলটি সরকার গঠনে ব্যর্থ হয়। পিটিআই দাবি করছে, তাদের ম্যান্ডেট ছিনিয়ে নেওয়া হয়েছে।

লাহোরভিত্তিক রাজনৈতিক বিশ্লেষক বেনজির শাহ বলেন, ইমরান খানের মুক্তির জন্য আরেকটি বড় আকারের বিক্ষোভ শুরু করা এ মুহূর্তে পিটিআইয়ের জন্য প্রশ্নাতীত বলেই মনে হচ্ছে। পিটিআইকে নিজেদের কৌশল পুনর্বিবেচনা করতে হবে। একটি সম্ভাব্য কৌশল হতে পারে, অন্যান্য রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জোট গড়া ও জনপ্রিয় আন্দোলন গড়ে তোলা। মানবাধিকার ও সামাজিক ইস্যু সামনে রেখে ঐক্যবদ্ধ আন্দোলন জাতীয় গতি নির্ধারণে সহায়তা করতে পারে।

সরকার ব্যাপক শ্রম সংস্কার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : প্রধান উপদেষ্টা

সোমবার (২৫ নভেম্বর) প্রধান উপদেষ্টার কার্যালয়ে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের একটি বড় শ্রম ও ব্র্যান্ড প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎকালে ড. মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন- আমরা আমাদের শ্রম আইনকে বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে সমান করতে চাই। এটা আমার অঙ্গীকার। মার্কিন প্রতিনিধি দলকে ড. ইউনূস বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দেশে আরও বিদেশি ক্রেতাদের আকৃষ্ট করার জন্য ব্যাপক শ্রম সংস্কার করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।

তিনি বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার কেবলমাত্র দেশের শ্রম আইন সংস্কার করতে, স্থানীয় ও আন্তর্জাতিক শ্রম অধিকার গোষ্ঠী, আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা এবং পশ্চিমা দেশগুলোর উদ্বেগগুলো সমাধানের জন্য একজন বিশেষ দূত নিয়োগ করেছে। প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন মার্কিন শ্রম দপ্তরের অর্থ’ উপ-সচিব থিয়া মেই লি এবং আন্তর্জাতিক শ্রম বিষয়ক বিশেষ প্রতিনিধি কেলি ফে রদ্রিগেজ। দুই জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা বলেন- যুক্তরাষ্ট্র, বৈশ্বিক শ্রম অধিকার গোষ্ঠী এবং শীর্ষ আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ডগুলো যারা বাংলাদেশ থেকে পোশাক ও জুতা কেনে, তারা শ্রম আইন সংস্কার এবং বাংলাদেশের কারখানায় শ্রমিকবান্ধব পরিস্থিতি তৈরিতে অধ্যাপক ইউনূসের পদক্ষেপকে সমর্থন করে।

বাংলাদেশে শ্রমমান ও শ্রমিক অধিকার নিশ্চিত করতে ট্রেড ইউনিয়নের নিবন্ধন সহজ করা এবং ন্যূনতম মজুরি বৃদ্ধির বিষয়ে জোর দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ঢালাওভাবে মামলা ও আটকের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে বাংলাদেশে ১১ দফা শ্রমবিষয়ক কর্মপরিকল্পনা ও শ্রম আইনের সংস্কার দ্রুত বাস্তবায়নের তাগিদ দিয়েছে দেশটি। তারা বলেন, এসব বাস্তবায়িত হলে অবশ্যই বাংলাদেশের রপ্তানি বাড়বে এবং ন্যায্যমূল্য পাবে। ক্রেতাদের বলতে পারবেন বাংলাদেশে মানবাধিকার ও শ্রম অধিকার সংরক্ষিত হচ্ছে।

চিন্ময় দাস গ্রেফতারে দিল্লির বিবৃতি বন্ধুত্বের চেতনার পরিপন্থী : ঢাকা

সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র ও চট্টগ্রামের পুণ্ডরীক ধামের অধ্যক্ষ চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীকে গ্রেপ্তারের ঘটনায় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতির প্রতিক্রিয়ায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় মঙ্গলবার রাতে এক বিবৃতিতে বলেছে : ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিটি বাংলাদেশ সরকারের দৃষ্টিগোচর হয়েছে। এমন একটি বিষয় নিয়ে এই বিবৃতি দেওয়া হয়েছে, যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়। নির্দিষ্ট অভিযোগের ভিত্তিতে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে উল্লেখ করে বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, এরপরও অত্যন্ত হতাশা ও গভীর দুঃখের সঙ্গে সরকার লক্ষ করছে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে গ্রেপ্তার করার ঘটনাকে কিছু মহল ভুলভাবে তুলে ধরছে। (ভারতের) এ ধরনের ভিত্তিহীন বিবৃতি শুধু সত্যকে ভুলভাবে তুলে ধরছে না, পাশাপাশি দুই প্রতিবেশী দেশের বন্ধুত্ব ও বোঝাপড়ার চেতনারও পরিপন্থী।

বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলছে, দেশের সব ধর্মের মানুষের মধ্যে বিদ্যমান সম্প্রীতি ও অসাম্প্রদায়িক দেশ গড়তে সরকারের যে প্রতি-শ্রুতি ও প্রচেষ্টা, ভারতের বিবৃতিতে তা প্রতিফা-লত হয়নি। বাংলাদেশে জনগণের ওপর গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচারহীনতার যে ধারা চলে আসছিল, তার সমাপ্তি টানতে সরকার দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এবং সংখ্যাগুরু ও সংখ্যালঘুদের একই নজরে দেখা হয়। অথচ ভারতের বিবৃতিতে এসব বিষয়ে সম্পূর্ণ উপেক্ষিত হয়েছে।

সরকার দৃঢ়ভাবে আবারও প্রত্যেক বাংলাদেশির তাঁর ধর্মীয় পরিচয় নির্বিশেষে, নিজ নিজ ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন বা বাধা ছাড়াই মতপ্রকাশের অধিকারের বিষয়টি নিশ্চিত করছে বলে উল্লেখ করেছে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ‘সব নাগরিকের বিশেষ করে ধর্মীয় সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা বাংলাদেশ সরকারের একটি দায়িত্ব। গত মাসে বাংলাদেশে শান্তিপূর্ণভাবে দুর্গাপূজা পালনের মাধ্যমে এটি আবারও প্রমাণিত হয়েছে। আমরা আবারও জানাতে চাই, বাংলাদেশে বিচার বিভাগ সম্পূর্ণ স্বাধীন। সরকার বিচার বিভাগের কাজে হস্তক্ষেপ করে না। আর চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের বিষয়টি বর্তমানে বিচারাধীন।’

সরকার দেশে সাম্প্রদায়িক সম্প্রীতি সমুন্নত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়েছে, মঙ্গলবার বিকেলে চট্টগ্রামে সাইফুল ইসলাম নামের এক আইনজীবীকে নৃশংসভাবে হত্যার ঘটনায় সরকার গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। যেকোনো মূল্যে ধর্মীয় সম্প্রীতি বজায় রাখার জন্য বন্দরনগরীতে নিরাপত্তা জোরদার করেছে কর্তৃপক্ষ।

পতিত স্বৈরাচার দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা করছে , সতর্ক থাকুন : মির্জা ফখরুল

পতিত স্বৈরাচার পেছন থেকে আবারও দেশকে অস্থিতিশীল করার অপচেষ্টা করছে উল্লেখ করে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। তিনি বলেছেন, ‘আজকে দেশের চারদিকের অবস্থা দেখে অনেকে একটু আতঙ্কিত হচ্ছেন, একটু উদ্বিগ্ন হচ্ছেন, এগুলো কী হচ্ছে? আসলে আপনাদের বুঝতে হবে, আমাদের সেই শত্রুরা পেছন থেকে দেশকে আবার অস্থির করে তুলছে।’ মঙ্গলবার রাজধানীর গুলশানে হোটেল লেকশোরে তারেক রহমানের জীবন ও রাজনৈতিক চিন্তাধারা নিয়ে লেখা বইয়ের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি এই কথা বলেন।

ফখরুল আরও বলেন, ‘দুর্ভাগ্যক্রমে আজকে একটা ভয়াবহ কাজ শুরু হয়েছে, যেটা হচ্ছে সংবাদপত্রের ওপর আঘাত। স্বাধীন মতামত প্রকাশের ক্ষেত্রে আঘাত। যার জন্য আমরা সব সময় সংগ্রাম করেছি, লড়াই করেছি।’ ‘এটা কোনোভাবেই কোনো সচেতন মানুষের, দেশপ্রেমী মানুষের মেনে নেওয়া উচিত নয়। আমি সংশিষ্ট সবাইকে অনুরোধ জানাবো, এই ভয়াবহ আত্মহননের কাজ থেকে সরে আসুন। গণতন্ত্রকে একটি প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্য সহযোগিতা করুন,’ বলেন তিনি। তিনি আরও বলেন, ‘এই সরকারের পক্ষে সব কিছুই একত্রে করে ফেলা সম্ভব না। আমরা সংস্কারবিরোধী নই নির্বাচন ছাড়া এই ধরনের সমস্যাগুলো, চ্যালেঞ্জকে মোকাবিলা করা সম্ভব না।’

বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘দুর্ভাগ্য আমাদের, দেশের মানুষের কেন জানি না সহনশীলতার অভাব রয়েছে। একটু ধৈর্য ধরতে হবে। আজকে এই সরকারকে আমাদের সহযোগিতা করতে হবে। কারণ এই সরকার ফেল করলে অভ্যুত্থান ফেল করে যাবে, বিপ্লব ফেল করে যাবে এবং আমরা সেই আবারও অন্ধকারে চলে যাব।’

বাংলাদেশে রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে উদ্বিগ্ন যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টারি গ্রুপ

যুক্তরাজ্যভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ইন্ডিপেনডেন্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- বাংলাদেশে চলমান রাজনৈতিক অস্থিরতা নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছেন যুক্তরাজ্যের একদল আইনপ্রণেতা। দেশটির একটি আন্তদলীয় পার্লামেন্টারি গ্রুপ সতর্ক করে বলেছে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি যেভাবে প্রতিনিয়ত অস্থিতিশীল হয়ে উঠছে, তাতে যুক্তরাজ্য আরও একটি ‘বৈশ্বিক উত্তেজনায়’ জড়িয়ে পড়তে পারে।

এ নিয়ে যুক্তরাজ্যের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ডেভিড ল্যামিকে সতর্ক করে একটি প্রতিবেদনও দিয়েছে দ্য অল-পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ ফর দ্য কমনওয়েলথ (এপিপিজি)। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার সরকার পতনের পর বাংলাদেশে দুই হাজারের বেশি নৃশংসতার ঘটনার প্রমাণ পাওয়া গেছে। তারা সতর্ক করে বলেছে যে, বাংলাদেশের বর্তমান সরকার প্রতিশোধ নেওয়ার জন্য আইন ও বিচারব্যবস্থাকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এ ছাড়া শেখ হাসিনার পতনের পর বাংলাদেশে ইসলামি চরমপন্থীদের উত্থানের বিষয়টি নিয়েও সতর্ক করেছেন তাঁরা।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘সহিংসতা ও অস্থিতিশীলতার পরও গত আগস্টের শুরুতে শেখ হাসিনা সরকারের পতন অনেকের মনে খুশি ও আশার সঞ্চার করেছিল। কিন্ত আমরা এমন কিছু ঘটনার প্রমাণ পেয়েছি যেগুলো নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি করেছে। আইনকে রাজনৈতিক অস্ত্র হিসেবে ব্যবহারের সংস্কৃতি জরুরি ভিত্তিতে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। পাশাপাশি মানবাধিকার ও আইনের শাসন সমুন্নত রাখতে হবে। এসব করতে ব্যর্থ হলে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন নতুন অন্তর্বর্তী সরকারের জন্য তা ভালো হবে না।’

এপিপিজি বলেছে, বাংলাদেশের সাবেক মন্ত্রী, এমপি, আওয়ামী লীগের নেতা, সাবেক বিচারক, শিক্ষাবিদ, আইনজীবী ও সাংবাদিকদের বিরুদ্ধে হত্যার অভিযোগে মামলার প্রমাণ আমাদের হাতে এসেছে। এত বিপুল সংখ্যায় এসব হত্যা মামলার বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আগস্টের শেষ নাগাদ বাংলাদেশে ১ হাজার মানুষ নিহত হওয়ার বিষয়টি উল্লেখ করে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ‘ছাত্রদের বিক্ষোভ থেকে শুরু হওয়া আন্দোলনে শেখ হাসিনা সরকারের পতন ও অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের তিন মাসের বেশি সময় পার হয়ে গেছে। আমরা জানতে পেরেছি এরপরও বাংলাদেশের কিছু কিছু জায়গায় নিরাপত্তা পরিস্থিতি খুবই বিপজ্জনক অবস্থায় রয়েছে বলে।’

বিগত কয়েক মাসে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যা-লঘুদের নিশানা করে যেসব ঘটনা ঘটেছে, তা নিয়েও উদ্বেগ জানিয়েছেন ব্রিটিশ আইনপ্রণেতারা।পাশাপাশি তাঁরা বলেছেন, ‘কট্টর ইসলামপন্থীদের এখন ক্রমশ রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ও দৃশ্যমান হওয়ার মতো প্রমাণ আসতে শুরু করেছে।’

ইসলামাবাদে মধ্যরাতে অভিযান – ৮ জনের মৃত্যু ; ইমরান খান সমর্থকদের অবস্থান কর্মসূচি বাতিল

পাকিস্তানি জিও নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয় ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে ইসলামাবাদের প্রাণকেন্দ্রে অবস্থান কর্মসূচিতে গতকাল মধ্যরাত্রে নিরাপত্তা বাহিনী ব্যাপক হামলা চালিয়েছে, এতে অন্তত ৮ জন নিহত হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে আজ সকালে কর্মসূচি বাতিলের ঘোষণা দেয় ইমরান খানের দল পিটিআইয়ের নেতৃত্ব। গত ২৪ নভেম্বর থেকে ইমরান খানের সমর্থকেরা রাজধানী অভিমুখে গাড়িবহর নিয়ে যাত্রা শুরু করে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে। পথে পথে নিরাপত্তা বাহিনীর বাধা ভেঙ্গে গতকাল ২৬ নভেম্বর সন্ধ্যায় তারা রাজধানী শহরের অত্যন্ত সুরক্ষিত রেড জোনের প্রান্তে ডি-চকে পৌঁছে যায়।

মধ্যরাতে পাকিস্তানের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ইমরান খানের সমর্থকদের ওপর ব্যাপক দমন অভিযান চালিয়ে তাদের ছত্রভঙ্গ করে দেয়। এরপর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাওয়ায় এই কর্মসূচিতে নেতৃত্বদানকারী পিটিআই নেতা ও খাইবার পাখতুনখাওয়ার মুখ্যমন্ত্রী আলী আমিন গান্দাপুর এবং ইমরান খানের স্ত্রী বুশরা বিবি দ্রুত ঘটনাস্থল ত্যাগ করেন। পিটিআই প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে জানিয়েছে, ‘সরকারের বর্বরতা ও নিরস্ত্র নাগরিকদের জন্য ফেডারেল রাজধানীকে কসাইখানা বানানোর পরিকল্পনার পরিপ্রেক্ষিতে আমরা আমাদের শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদ কর্মসূচি সাময়িকভাবে স্থগিত ঘোষণা করছি।’

ইমরান খানের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত রেড জোনে অবস্থান কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছিলেন তারা। এর আগে লংমার্চকারীদের গাড়িচাপায় ৪জন আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য নিহত হয়েছে বলে অভিযোগ করেছিল সরকার। সংঘর্ষে ২জন বিক্ষোভকারী নিহতের দাবী করেছিল পিটিআই। রেড জোনে অবস্থান ঠেকাতে ‘দেখামাত্র গুলির’ নির্দেশ দিয়ে রাজধানীতে সেনা মোতায়েন করা হয়। ৪ দিন ধরে মোবাইল ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ ছিল।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতা তারার জানিয়েছেন, জেলে থাকা ইমরান খানের দল পিটিআইকে নিষিদ্ধ করতে পদক্ষেপ নিবে তার সরকার।

২০১৮-‘২২ সাল পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী থাকার পর অনাস্থা ভোটে ক্ষমতাচ্যুত হন ইমরান খান। এরপর তাকে কারাগারে পাঠানো হয়। ইমরানের বিরুদ্ধে শতাধিক মামলার বেশ কয়েকটিতে অভিযোগ গঠনও করা হয়েছে। তবে অনেক মামলাই উচ্চ আদালত খারিজ করেছে, অথবা সাজা দিয়ে ঘোষণা করা রায় বাতিল করেছে। এ বছরের শুরুতে জাতীয় নির্বাচনে পিটিআইকে অংশ নেয়া থেকে নিষিদ্ধ করা হয়েছিল। তারপরও স্বতন্ত্র হিসাবে দলটির ৯৩ জন সদস্য নির্বাচনে জিতে সবচেয়ে বড় বিরোধী গ্রুপ হিসাবে ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে গিয়েছে। গত সপ্তাহে পাকিস্তান সুপ্রিম কোর্ট রায় দিয়েছে, ন্যাশনাল অ্যাসেম্বলিতে অন্তত ২০টি আসন থেকে অন্যায়ভাবে পিটিআইকে বঞ্চিত করা হয়েছে।

বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে ১ জন নারী খুন হন স্বজন বা সঙ্গীর হাতে : জাতিসংঘ রিপোর্ট

২০২৩ সালে বিশ্বব্যাপী প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী তাঁর সঙ্গী বা পরিবারের কোনো সদস্যের হাতে খুন হয়েছেন। সোমবার জাতিসংঘের এক প্রতিবেদনে এমন চিত্র উঠে এসেছে। জাতিসংঘ মাদক ও অপরাধ বিষয়ক দপ্তর (ইউএনওডিসি) এবং জাতিসংঘের নারীবিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেন-এর একটি যৌথ গবেষণা প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত বছর প্রায় ৮৫ হাজার নারী ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়ে হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে।

প্রতিবেদনে দেখা গেছে, এর মধ্যে প্রায় ৬০ শতাংশ-অর্থাৎ ৫১ হাজার জনেরও বেশি নারী ও মেয়ে তাদের সঙ্গী বা পরিবারের সদস্যদের হাতে প্রাণ হারিয়েছে। সে হিসাবে দৈনিক গড়ে ১৪০ জন নারী হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছে। অর্থাৎ, প্রতি ১০ মিনিটে নিকটজনের হাতে খুন হয়েছেন একজন নারী প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নারী ও অপ্রাপ্ত বয়স্ক মেয়েদের জন্য প্রাণঘাতী সহিংসতার ঝুঁকির ক্ষেত্রে নিজের বাড়ি এখনো সবচেয়ে বিপজ্জনক স্থান হিসেবেই রয়ে গেছে!

বিশ্বে খুনের পরিসংখ্যানে অবশ্য পুরুষেরা নারীদের তুলনায় চারগুণ বেশি। ২০২৩ সালে মোট হত্যাকাণ্ডের ৮০ শতাংশের শিকার পুরুষ। তবে তাদের বেশির ভাগই অপরিচিত ব্যক্তির হাতে নিহত হয়েছে।
জাতিসংঘের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, আফ্রিকায় পরিস্থিতি সবচেয়ে ভয়াবহ। সেখানে ২০২৩ সালে ২১ হাজার ৭০০ নারী তাদের নিকটজনের হাতে খুন হয়েছেন।