Home Blog Page 226

২১ আগস্টের হামলায় বিদেশি শক্তি যুক্ত : মির্জা আব্বাস

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস বলেছেন, ‘২১ আগস্টের গ্রেনেড হামলাটা ছিল পরিকল্পিতভাবে কোনো বিদেশি শক্তির। গ্রেনেড হামলায় কখনোই বিএনপি জড়িত ছিল না।’ মির্জা আব্বাস বলেন, ‘একটা বিদেশি শক্তি এই অপকর্মটা করে দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া এবং আমাদের নেতা বিএনপির অ্যাক্টিং চেয়ারম্যান তারেক রহমানকে ফাঁসাতে চেয়েছিল। একটা ভুল মিথ্যা মামলা তৈরি করে সাজানো একটি গল্প তৈরি করে সেই গল্পের ওপর ভিত্তি করে তাকে (তারেক রহমান) সাজাও দিয়ে দিয়েছিল। আরও অনেককে সাজা দিয়েছিল।’

তারেক রহমান দ্রুত দেশে ফিরে আসবেন-এমন আশাবাদও ব্যক্ত করেন মির্জা আব্বাস। একই পরম্পরায় বিএনপি নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে করা লাখ লাখ মামলাতেও ন্যায়বিচার আশা করছেন বলে মন্তব্য করেন তিনি। রোববার হাইকোর্টে এই মামলার রায় ঘোষণার পর জাতীয় প্রেসক্লাবে স্বাধীনতা ফোরামের এক আলোচনা সভায় এ কথা বলেন তিনি।

মিয়ানমারে চীনা নিরাপত্তা কর্মী ও উত্তেজনার নতুন মাত্রা

বেইজিংয়ের অর্থনৈতিক ও কৌশলগত স্বার্থ রক্ষার জন্য মিয়ানমারে চীনা নিরাপত্তা কোম্পানি মোতায়েন করা হয়েছে। ফলে চীনা নাগরিকরা মিয়ানমারের চলমান গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে যেতে পারে। বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন, এতে সম্ভাব্য মারাত্মক ঘটনা ঘটতে পারে এবং কূটনৈতিক সংকট উস্কে দেওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, চীনা প্রকল্পগুলো পুনরায় চালু করার অনুমতি দিতে মিয়ানমারের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে রাজি করাতে গিয়ে চীনের নিরাপত্তা কর্মীরা ‘ব্যাপক চ্যালেঞ্জের’ সম্মুখীন হবে। বিশেষ করে যেহেতু অনেক প্রকল্পের অবস্থান বর্তমানে বিরোধীদের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত এলাকায়।

বিবিসি প্রতিবেদন বলছে- মিয়ানমারে ইতোমধ্যে দিক চারটি চীনা বেসরকারি নিরাপত্তা কোম্পানি কাজ করছে। প্রস্তাবটি আগস্টে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের মিয়ানমার সফর এবং এই মাসের শুরুতে মিয়ানমারের সামরিক নেতা মিন অং হাইংয়ের প্রথম চীন সফরের পর উত্থাপিত হয়। ইউনিভার্সিটি অব সাউথ অস্ট্রেলিয়ার প্রভাষক অ্যাডাম সিম্পসন বলেছেন, চীনা বেসরকারি সামরিক করপোরেশনগুলো নিরাপত্তা কার্যক্রম পরিচালনা করার ফলে চীনা নাগরিকদের গৃহযুদ্ধে জড়িয়ে পড়া এবং সম্ভবত প্রাণহানির আশঙ্কা তৈরি হয়। ‘এটি নিঃসন্দেহে একটি কুটনৈতিক ঘটনার জন্ম দেবে।’ তিনি বলেন, এই চীনা কোম্পানির উপস্থিতি জান্তার পক্ষ থেকে একটি ‘বিব্রতকর স্বীকৃতি’।


সিম্পসন বলেন, তারা যে মিয়ানমারে চীনা স্বার্থের মৌলিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে অক্ষম- এই ঘটনা তারই স্বীকৃতি দেয়। নিরাপত্তা ভূমিকায় থাকা চীনা নাগরিকরা প্রধান অর্থনৈতিক ও জন-কেন্দ্রগুলোর নিয়ন্ত্রণ সুরক্ষিত করতে গিয়ে বিরোধীদের তৎপরতাকে জটিল করে তোলে। চীনের তেল ও গ্যাস পাইপলাইনের স্বার্থ রক্ষার জন্য রাখাইনের কিয়াউকপিউতে পিপলস লিবারেশন আর্মির ‘প্রক্সি’ নিয়ে ভারত সম্ভবত উদ্বিগ্ন। সিম্পসন বলেছেন, ভারতের বিলম্বিত কালাদান মাল্টি-মডেল ট্রানজিট ট্রান্সপোর্ট প্ৰকল্প একই প্রদেশে হওয়ার কথা। বাংলাদেশ ‘তাদের দোরগোড়ায়’ সৈন্য নিয়ে চিন্তিত। একইভাবে থাইল্যান্ড তাদের প্রতিবেশী রাষ্ট্রে চীনা নাগরিকদের নিরাপত্তা কার্যক্রম নিয়ে উদ্বিগ্ন।

সিম্পসন এ কথাও বলেছেন, তারা মিয়ানমারের কর্মকর্তাদের সঙ্গে হয়তো বৈঠকে বসতেও ইতস্তত বোধ করবেন।ইউনাইটেড স্টেটস ইনস্টিটিউট অব পিসের মিয়ানমার বিশেষজ্ঞ জেসন টাওয়ার বলেছেন, বেইজিং দেখেছে কীভাবে জান্তা জোরপূর্বক সেনা নিয়োগের মাধ্যমে মিয়ানমারের নিজস্ব বেসরকারি নিরাপত্তা সংস্থাগুলো ‘পরস্পরকে ধ্বংসকারী বানিয়েছে। এ কারণেই উদ্বিগ্ন যে, দুর্বল নিরাপত্তা সক্রিয় সংঘাতপূর্ণ অঞ্চলে চীনা প্রকল্পগুলোর অপারেশন বন্ধ করতে বাধ্য করবে। তবে চীনা নিরাপত্তা কর্মীরা দেশের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে প্রকল্পগুলো পুনরায় শুরু করার অনুমতি দিতে গিয়ে ‘ব্যাপক চ্যালেঞ্জের’ মুখোমুখি হবে।

টাওয়ারের মতে, চীন স্পষ্টভাবে দেখছে, জান্তা তার বিনিয়োগ রক্ষা করতে লড়াই করছে। যেমন চীন-মিয়ানমার পাইপলাইন প্রকল্প ও রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন খনিসহ রাখাইন রাজ্যে গভীর সমুদ্রবন্দরের মতো পরিকল্পিত বিনিয়োগ। তিনি এও বলেছেন, অনেক প্রকল্প এখন জাতিগত সশস্ত্র সংগঠন ও জনগণের প্রতিরক্ষা বাহিনীর মিশ্রণে নিয়ন্ত্রিত। সামরিক বাহিনী পাইপলাইনের বড় অংশে এখনও ঢুকতে পারেনি। মিয়ানমারের সেনাবাহিনী নিরাপত্তার জন্য ক্রমশ দুর্বল হয়ে পড়ছে এবং চীনের ওপর নির্ভরশীলতা বাড়ছে। টাওয়ারের মতে, বেইজিং সেই সঙ্গে বিদেশে তার নিরাপত্তা কোম্পানি সম্প্রসারণের জন্য দেশটিকে পরীক্ষামূলক হিসেবে ব্যবহার করছে।

আমরা একটা ঐতিহাসিক মোড়ে দাঁড়িয়ে : ড. কামাল হোসেন

ড. কামাল হোসেন বলেছেন- ‘সংবিধান সংশোধন করার মাধ্যমে জুলাই-আগস্ট অভ্যূত্থানে ছাত্র-জনতার ইতিহাসকে ধারণ করতে হবে, যাতে ভবিষ্যতে বাংলাদেশে আর কোনো স্বৈরাচার আর মাথাচাড়া দিতে না পারে। …১৯৭১ এ আমরা মুক্তিযুদ্ধের মাধ্যমে অর্জিত অধিকার নিয়ে সংবিধান রচনা করেছিলাম, যেখানে বৈষম্য নিরসন এবং ধর্ম নিরপেক্ষতায় একটি বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।’

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরসি মজুমদার মিলনায়তনে ‘অভ্যুত্থান ও রাষ্ট্র কাঠামোর সংস্কার, সংবিধান বিষয়ে কর্তব্য ও গন্তব্য’ শীর্ষক অনুষ্ঠান শনিবার যৌথভাবে আয়োজন করে রিডিং ক্লাব ট্রাস্ট ও আইনের কথা ডটকম।

কামাল হোসেন বলেন, ‘আমাদের ছাত্র-ছাত্রীদের এবং অজস্র নাগরিকের ওপর ঘটে যাওয়া গণহত্যা ও দমন-পীড়ন এবং আইনের শাসনের প্রতি যে অবজ্ঞা আমরা দেখেছি, তা অবশ্যই আমাদের সংবিধানে স্থান পাওয়া উচিত। … আমাদের দায়িত্ব হলো সংবিধানকে এমনভাবে সংশোধন করা এবং চর্চা করা, যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না হয়। আমরা যেন এই শিক্ষাগুলোকে আমাদের সংবিধানের মূল কাঠামোতে গেঁথে দিতে পারি, যাতে কোনো নাগরিকের সাথে অন্যায়, অবিচার আবার না ঘটে।’

মূল প্রবন্ধে সংবিধান গবেষক আরিফ খান বলেন, এই জাগরণ আমাদের অতীত রাজনৈতিক অভিজ্ঞতার আলোকে গুরুতর ও আত্মঘাতী সব ভুলত্রুটির সংশোধন করে নিজেদেরকে পুনর্নিমার্ণের এক ঐতিহাসিক সুযোগ সামনে এনে দিয়েছে। জুলাই মহা-জাগরণ আমাদের জাতীয় জীবনের সর্বসাম্প্রতিক রেনেসাঁ।’ আরিফ খান বলেন- ‘আমি এই জাতিরাষ্ট্রের সুদীর্ঘ রাজনৈতিক সংগ্রাম ও ঐতিহ্যের মধ্য দিয়ে উত্থিত, লালিত ও গৃহীত সাংবিধানিক আদর্শসমূহের ধারাবাহিকতার পক্ষে। তাই আমি সংবিধান সংস্কারেরও পক্ষে। মুক্তিযুদ্ধের মধ্য দিয়ে অর্জিত সাংবিধানিক কাঠামো ও আদর্শকে সম্পূর্ণ বাতিল করে দিয়ে নতুন সংবিধান প্রণয়নের চেষ্টা রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে সাংঘর্ষিক মতাদর্শকেলড়াকু অবস্থায় ঠেলে দেবে। ফলে তা জাতীয় জীবনে এক বিশাল শূন্যতা ও বিরোধ সৃষ্টির আশঙ্কা আছে। তাই আমাদের বর্তমান কর্তব্য নির্ণয়ের প্রয়োজনে সংবিধান ছুড়ে ফেলা নয় বরং প্রয়োজন সাংবিধানিক রেনেসাঁ বা পুনর্জাগরণের। ডা. জাহেদ উর রহমান বলেন- ‘আওয়ামী লীগ সরকার নির্বাচনী ব্যবস্থা ধ্বংস করে দিয়েছিল। এ কারণেই অভ্যুত্থান হয়েছে। তাই গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা দরকার।’ তিনি আরও বলেন, যারা সংবিধান পুর্নলিখনের কথা বলছেন তাদের অতি উৎসাহী হওয়ার যুক্তি দেখি না। কারণ পৃথিবীতে এমন কোনো দলিল নেই যা এনে বসিয়ে দিলে সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে। তাই সংবিধান সংস্কার হওয়াটাই বাঞ্ছনীয়।’

অন্তর্বর্তী সরকার বাজার নিয়ন্ত্রণে খারাপ করছে মনে করে ৪৪.৭% মানুষ : ভয়েস অব আমেরিকার জরিপ

বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার নিত্যপ্রয়োজনীয় দিক পণ্যের মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের তুলনায় খারাপ করছে বা পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে বলে মনে করছেন অধিকাংশ মানুষ। জরিপে অংশ নেওয়া ৪৪.৭% উত্তরদাতা বলেছেন, চাল, মাছ, সবজি, ডিম, মাংস, তেলসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম কমানোর ক্ষেত্রে অন্তর্বর্তী সরকার আগের চেয়ে খারাপ করছে।

এক-চতুর্থাংশের কম, অর্থাৎ ২৩.৮% উত্তরদাতা মনে করেন, বর্তমান সরকার মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে পূর্ববর্তী সরকারের তুলনায় ভালো করছে। অন্যদিকে, প্রায় ৩০.৮% উত্তরদাতা মনে করেন, পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে।

ভয়েস অব আমেরিকা (ভিওএ) বাংলার এই জরিপে আট বিভাগের ১ হাজার উত্তরদাতাকে অন্তর্বর্তী সরকারের কার্যক্রম এবং ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার শাসনের তুলনা করতে বলা হয়।

জরিপে দেখা গেছে, নারী ও পুরুষ নারী ও পুরুষ উত্তরদাতাদের মতামতে পার্থক্য রয়েছে। পুরুষদের মধ্যে ৩১.৩% মনে করেন, বর্তমান সরকার ভালো কাজ করছে। তবে নারীদের মধ্যে এই সংখ্যা মাত্র ১৬.৩%। নারী উত্তরদাতাদের ৪১.২% মনে করেন, পরিস্থিতি অপরিবর্তিত রয়েছে। পুরুষদের ক্ষেত্রে এই হার ২০.৩%।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গত জুনে দেশের মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৭২%। এটি অক্টোবরে বেড়ে ১০.৮৭% পৌঁছায়।

সিপিডির গবেষণা পরিচালক খন্দকার গোলাম মোয়াজ্জেম জানান, রাজনৈতিক অস্থিরতা এবং প্রাকৃতিক দুর্যোগ মূল্যস্ফীতির এই উর্ধ্বগতির প্রধান কারণ। তিনি বলেন, ‘জুলাই-আগস্ট মাসে

আন্দোলন এবং সরকারপতনের কারণে সরবরাহ চেইন ব্যাহত হয়েছে। পাশাপাশি পরপর দুটি বন্যা খাদ্য উৎপাদনে বড় প্রভাব ফেলেছে।’ অন্তর্বর্তী সরকার চাল, আলু, চিনি, তেল ও পেঁয়াজের ওপর আমদানি শুল্ক কমানোসহ বিভিন্ন পদক্ষেপ নিলেও বিশেষ কোনো পরিবর্তন আসেনি। তিনি আরও বলেন, ‘মূল্যস্ফীতি এবং সরবরাহ চেইন ব্যবস্থাপনায় গতিশীল উদ্যোগের অভাব রয়েছে।

অর্থনীতিবিদ গোলাম মোয়াজ্জেম বলেন, বাংলাদেশে কৃষিবাজারে সংস্কার আনার মাধ্যমে দীর্ঘমেয়াদি সমাধান সম্ভব। বাজার মনিটরিং এবং ডিজিটাল লেনদেন নিশ্চিত করলে পরিস্থিতির উন্নতি হতে পারে। এর জন্য সময় প্রয়োজন জরিপটি বাংলাদেশের জনমিতিক বৈচিত্র্য বজায় রেখে পরিচালিত হয়। এতে সমানসংখ্যক নারী ও পুরুষ অংশ নেন। উত্তরদাতাদের ৯২.৭% ছিলেন মুসলিম। তাঁদের অর্ধেকের বেশি ছিলেন ৩৪ বছরের নিচে। এ ছাড়া প্রায় এক-চতুর্থাংশ উত্তরদাতা শহরাঞ্চলের বাসিন্দা।

যুক্তরাজ্যে হাসিনা – ঘনিষ্ঠদের বিপুল সম্পত্তির সন্ধান

যুক্তরাজ্যের আবাসন খাতে তাঁদের বিনিয়োগ করা সম্পত্তির পরিমাণ ৪০ কোটি পাউন্ডের (৬ হাজার কোটি টাকা) বেশি। বাংলাদেশ থেকে পাচার করা অর্থ দিয়ে এসব সম্পত্তি কেনা হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম অবজারভার ও বার্লিনভিত্তিক দুর্নীতিবিরোধী প্রতিষ্ঠান ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশ- নালের যৌথ অনুসন্ধানে এসব তথ্য উঠে এসেছে। শনিবার যুক্তরাজ্যের সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ান এই অনুসন্ধান নিয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।

অবজারভার ও ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনালের অনুসন্ধানে বলা হয়েছে, যুক্তরাজ্যে শেখ হাসি- না-ঘনিষ্ঠ ব্যক্তিদের নামে প্রায় ৩৫০টি সম্পত্তির সন্ধান পাওয়া গেছে। এর মধ্যে ফ্ল্যাট থেকে শুরু করে সুবিশাল অট্টালিকা (ম্যানশন) পর্যন্ত রয়েছে। যুক্তরাজ্য ও দেশটির বাইরের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের (অফশোর কোম্পানি) নামে এই সম্পত্তির অনে- কগুলো কেনা হয়েছে।

অনুসন্ধানে দেখা গেছে, অফশোর কোম্পানির মাধ্যমে কেনা সম্পত্তির অনেকগুলোর মালিকানায় রয়েছেন সাবেক প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি শিল্প ও বিনিয়োগবিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান ও বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের পরিবারের সদস্যরা।

এ ছাড়া সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী, নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার ও তাঁদের পরিবারের সদস্যদেরও অনেক সম্পত্তির মালিকানা রয়েছে।

লন্ডনের মেফেয়ার এলাকার গ্রোসভেনর স্কয়ারে সালমানের ছেলে আহমেদ শায়ান রহমান একটি অ্যাপার্টমেন্ট কিনেছেন ২ কোটি ৬৭ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ডে, একটি ফ্ল্যাট কিনেছেন ৩ কোটি ৫৫ লাখ পাউন্ডে। আরেক ছেলে আহমেদ শাহরিয়ার রহমানের ৪টি সম্পত্তির দাম ২ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড।

সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তাঁর পরিবারের ৩০০টির বেশি সম্পদের দাম অন্তত ১৬ কোটি পাউন্ড।

যুক্তরাজ্যের সারে এলাকায় বসুন্ধরা গ্রুপের চেয়ারম্যান আহমেদ আকবর সোবহানের পরিবারের সদস্যদের দুটি সম্পত্তির দাম ১ কোটি ৩০ লাখ পাউন্ড।

নাসা গ্রুপের চেয়ারম্যান নজরুল ইসলাম মজুমদার ও তাঁর পরিবারের সদস্যরা লন্ডনের কেনসিংটনে ৩ কোটি ৮০ লাখ পাউন্ডের ৫টি সম্পত্তি কিনেছেন ।

আগের অবস্থান থেকে সরে এসে টাকা ছাপাবে বাংলাদেশ ব্যাংক

গ্রাহকের আস্থা ফেরাতে টাকা ছাপিয়ে হলেও দেশের দুর্বল ব্যাংকগুলোকে তারল্য সহায়তা দেওয়া হবে, এমন ঘোষণা দিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ড. আহসান এইচ মনসুর। তিনি জানান, ইতিমধ্যে ব্যাংকগুলোকে ২২ হাজার ৫০০ কোটি টাকার সহায়তা দেওয়া হয়েছে এবং প্রয়োজন হলে আরো সহায়তা দেওয়া হবে; আগামী রোববার থেকে গ্রাহকরা কোনো অবস্থাতেই ব্যাংক থেকে টাকা না পেয়ে ফিরে যাবেন না।

বৃহস্পতিবার বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন। তিনি গ্রাহকদের অনুরোধ করেছেন, তাঁদের যেটুকু প্রয়োজন, সেটুকু টাকা তোলার জন্য। গভর্নর বলেন- ‘আমি বলেছিলাম টাকা ছাপাব না, কিন্তু এখন সাময়িকভাবে সরে এসেছি। মানুষের অবস্থার কি পরিবর্তন হয় না? তবে বন্ড ইস্যুর মাধ্যমে আমরা সেই টাকা আবার তুলে নিয়ে আসব। তবে মনিটরিং পলিসি আগের মতোই টাইট থাকবে। এখানে নেট মানি ক্রিয়েশন হচ্ছে না। একদিকে সহায়তা দেওয়া হচ্ছে, অন্যদিকে বন্ডের মাধ্যমে তা তুলে নেওয়া হবে। গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী এই সহায়তা দেওয়া হবে। আমাকে ডিপোজিটর ও মূল্যস্ফীতি দুটিই রক্ষা করতে হবে।’

আগে তো টাকা ছাপিয়ে সহায়তা দেওয়া হয়েছিল, আবার এখনো দেওয়া হচ্ছে-এই দুইয়ের মধ্যে তফাৎ জানতে চাইলে গভর্নর বলেন, ‘ব্যাংক থেকে এখন আর টাকা চুরি হচ্ছে না। আগে টাকা ছাপিয়ে সহায়তা দেওয়ার পর টাকা বাইরে চলে গেছে। কিন্তু এখন জবাবদিহি নিশ্চিত করা হচ্ছে।’ বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আরও বলেন, ‘যারা অনিয়মে যুক্ত ছিলেন, তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার প্রয়োজনীয়তা রয়েছে, তবে আমাদের এখন পেছনে ফিরে দেখার সময় নেই। নির্দিষ্ট অভিযোগ না পেলে আমি নিজে কোনো ব্যবস্থা নেব না। এখানে দলাদলি আছে। লাল, নীল দলের প্রতিনিধিত্ব না করে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হয়ে কাজ করেন।’

বর্তমানে ব্যাংক খাতে খেলাপি ঋণ পরিমাণ ২ লাখ ৮৫ হাজার কোটি টাকা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘খেলাপি ঋণ কমিয়ে দেখানোর কোনো ইচ্ছে আমার নেই। হয়তো ভবিষ্যতে খেলাপি ঋণ ২৫ শতাংশ পর্যন্ত যেতে পারে। তবে কোনো তথ্য গোপন করা হবে না। এখনো সব চিত্র সামনে আসেনি। তথ্য-উপাত্ত নিয়ে আবার কাজ করছি। যতই হোক, সঠিক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করা হবে। …অনিয়ম ঢাকব না, খেলাপি ঋণ প্রকাশ করা হবে। গোপনীয়তার কোনো বিষয় নেই। যত দূর হয়, খেলাপি ঋণ ১২ শতাংশ থেকে ২৫ শতাংশ হলেও কোনো সমস্যা নেই। সেখান থেকে কমানোর লক্ষ্য আমাদের।’

ভারতের সংবাদমাধ্যমের বাংলাদেশ বিষয়ে গুজব আন্তর্জাতিক চেহারা নিচ্ছে

ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের শুরু থেকেই ভারতের মূলধারার সংবাদমাধ্যমে একের পর এক বাংলাদেশবিরোধী গুজব ছড়ানো হচ্ছে। ৫ আগস্ট সরকার পতনের পর তা ক্রমাগত বেড়েছে। এএফপি বাংলাদেশ বুরোর প্রধান ফ্যাক্ট চেকার কদরুদ্দিন শিশির সমকালকে বলেছেন, ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানকে ইসলামী উগ্রপন্থার উত্থান হিসেবে দেখানোর চেষ্টা করেছে। বাংলাদেশের হিন্দুরা নিপীড়নের শিকার হচ্ছেন এমন বয়ান তৈরি করছে। যত সময় যাচ্ছে, গুজব তত ছড়াচ্ছে, সামাজিক মাধ্যম থেকে ভারতীয় মূলধারার গণমাধ্যমে যাচ্ছে। এরপর আন্তর্জাতিক পর্যায়ে যাচ্ছে, যা উদ্বেগের। এসব গুজব হলেও বাংলাদেশের বিষয়ে আন্তর্জাতিক দৃষ্টিভঙ্গি প্রভাবিত করে।

ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগের হাতে বিলিয়ন ডলার রয়েছে, তারা মিথ্যা এবং অপতথ্য ছড়িয়ে দিতে সক্ষম। তারা বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পৌঁছাতে সক্ষম। যুক্তরাষ্ট্রে বিরাট সংখ্যক ভারতীয় বংশোদ্ভূত রয়েছে। তাদের তৃতীয় প্রজন্ম প্রশাসন, ব্যবসাসহ অনেক জায়গা সিদ্ধান্ত গ্রহণের পর্যায়ে রয়েছে। তারা এসব মিথ্যা ও অপতথ্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় পৌঁছাতে সক্ষম। এর মোকাবিলায় শুধু সামাজিক মাধ্যমে ফ্যাক্ট চেক বা সরকারের বিবৃতি যথেষ্ট নয় বলে মনে করেন কদরুদ্দিন শিশির। তিনি বলেছেন, সরকারকে গুজবের উৎস চিহ্নিত করে ব্যবস্থা নিতে হবে। ভারতে নিউজ ব্রডকাস্টিং এবং ডিজিটাল স্ট্যান্ডার্ড অথরিটি (এনবিডিএসএ) নামের স্বাধীন সংস্থা রয়েছে। এই প্রতিষ্ঠান গত এক বছরে ভারতের অন্তত তিনটি শীর্ষ টিভি চ্যানেলকে শাস্তি দিয়েছে ভুয়া খবর প্রচারের দায়ে। বাংলাদেশ-সংক্রান্ত ছড়ানো ভুয়া খবর প্রচারের জন্য ভারতীয় সংবাদমাধ্যমকে এনবিডিএসএর মুখোমুখি করা সম্ভব বলে জানিয়েছেন ফ্যাক্ট চেকাররা। তারা বলছেন, কাজটি সরকারকেই করতে হবে। সরকারের হয়ে দিলির বাংলাদেশ হাইকমিশন করবে।

একাধিক অবসরপ্রাপ্ত কূটনীতিক সমকালকে বলেছেন, ভারতকে বিশ্বের কাছে হাজারো নিরস্ত্র বাংলাদেশি হত্যার হুকুমদাতা শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেওয়ার কারণ ও তাঁর বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে উত্তর দিতে হচ্ছে। এ অবস্থায় চাপ কমাতে, যে কোনো উপায়ে বাংলাদেশকে উল্টো চাপে রাখতে দিলি সংখ্যালঘু নিপীড়নকে অতিরঞ্জিত করে প্রচার করেছে বলে অভিমত বিশেষকদের। তাদের ভাষ্য, এ কারণেই বাংলাদেশের অভ্যুত্থানকে উগ্র ইসলামপন্থিদের উত্থান বলে দেখাতে চাচ্ছে।

বাংলাদেশে নিযুক্ত পশ্চিমা দেশের দুতাবাসের রাজনৈতিক বিভাগের এক কূটনীতিক সমকালকে বলেন, ড. মুহাম্মদ ইউনুস সরকার গঠনের পর বেশ কিছু শিল্প উদ্যোক্তা ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশে ব্যবসার উদ্দেশ্যে আসতে চেয়েছিলেন। শেষ মুহূর্তে তারা সফর বাতিল করেন। তাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, প্রতিষ্ঠানগুলো ভারতীয় গণমাধ্যমের খবরে বাংলাদেশের বিষয়ে ভীত। তারা মনে করছেন, এখানে গৃহযুদ্ধের মতো পরিস্থিতি বিরাজ করছে।

কম্যুনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে চীন গেছেন জামায়াতসহ পাঁচ ইসলামি দলের নেতৃবৃন্দ

জামায়াতে ইসলামী, ছাত্রশিবিরের ১০ জন নেতাসহ আরও ৪টি ইসলামি দলের একটি প্রতিনিধিদল চীন সফরে গেছেন। ১৪ সদস্যের এই দলের নেতৃত্ব দেবেন জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও সাবেক সংসদ সদস্য সৈয়দ আবদুল্লাহ মো. তাহের। ক্ষমতাসীন দল চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে বুধবার রাতে এ রাজনৈতিক দলের নেতারা চীনের উদ্দেশে রওনা দিয়েছেন। জামায়াতসহ কোনো ইসলামি দলের নেতাদের চীনের ক্ষমতাসীন দলের আমন্ত্রণে সে দেশে যাওয়ার ঘটনা এই প্রথম।

এ সফরে বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের (একাংশ), খেলাফত মজলিস, বাংলাদেশ নেজামে ইসলাম ও হেফাজতে ইসলাম যোগ দিচ্ছে. প্রতিনিধিদলটি আগামী ৫ ডিসেম্বর দেশে ফিরবে বলে জানা গেছে। সম্প্রতি চীনা কমিউনিস্ট পার্টির আমন্ত্রণে সে দেশ সফর করে বিএনপির একটি প্রতিনিধিদল। দলের ভাইস চেয়ারম্যান আসাদুজ্জামান রিপনের নেতৃত্বে চার সদস্যের প্রতিনিধিদলটি ১৬ নভেম্বর দেশে ফিরেছে।

রিকশার কি , কেন , কিভাবে ?

রিকশা, ব্যাটারিচালিত রিকশা, অটোরিকশা, ইজিবাইক চালনা এবং সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন পেশার ওপর এক কোটির বেশি মানুষের জীবন ও জীবিকা নির্ভরশীল। পরিবহন হিসেবে এদের ওপরই নির্ভরশীল শহরগুলোর বেশিরভাগ মানুষ। অথচ তাদের কর্মপরিবেশ, সুবিধা-অসুবিধা, নিরাপত্তা দেখা ও উন্নয়নের জন্য কোনো রাষ্ট্রীয় উদ্যোগ নাই, বরং বিপরীতে রাষ্ট্র পরিচালিত হামলা, হুমকি, চাঁদাবাজীই প্রধান। ঢাকা শহরে থাকা প্রায় ২ লাখ অটোরিকশাসহ ১২ লাখ রিকশা রয়েছে ও সারা দেশে আনুমানিক ৪০ লাখ ইজিবাইক ও অটোরিকশা রয়েছে। সরকারি, বেসরকারি কোনো প্রতিষ্ঠানের কাছেই এ সংক্রান্ত কোনো সঠিক পরিসংখ্যান নেই।

জরিপ থেকে দেখা যাচ্ছে- রিকশা চালানোর ফলে ঠান্ডা, গায়ে ব্যথা, দুর্বলতা, ডায়রিয়ার মতো রোগে ঢাকার ৯৪% রিকশাচালকই অসুস্থ থাকেন। এর মধ্যে ৩০% চালক আবার জন্ডিসে আক্রান্ত। কারণ, তাদের জন্য রাস্তাঘাটে সুপেয় পানির কোনো জোগান নেই, টয়লেটের ব্যবস্থা নেই। এক গবেষণা থেকে জানা যায়- পায়ে টানা রিকশা চালিয়ে সংসারের মাত্র শতকরা ৬৮ ভাগ খরচের জোগাড় হয়, বাকি খরচের জোড়াতালি আসে প্রধানত গার্মেন্টস শ্রমিক স্ত্রী, কিংবা বাসাবাড়িতে ঝিয়ের কাজ নেওয়া স্ত্রীর আয়ের টাকা থেকে।

ঢাকা শহরের ৬৭.৭% রিকশাচালকই পরিজনহীন অবস্থায় থাকেন মূলত পরিবারসহ শহরে থাকার খরচ বাঁচাতে। গ্যারেজে ঘুমিয়ে, হোটেলে/মেসে খেয়ে যতটা সম্ভব টাকা আপনজনদের কাছে পাঠানো যায় সেই চেষ্টা করেন। তারা গড়ে প্রতি পাঁচ মাসে একবার বাড়ি যান। রিকশা টানতে প্রতি মিনিটে প্রায় ২৪ কিলোজুল শক্তি খরচ হয়, যা কিনা অলিম্পিকে অংশ নেয়া অ্যাথলেটের ঘামঝরানো পরিশ্রমের সমান। অন্য যানবাহনের অভাবে কিংবা তুলনামূলক সস্তা বাহন হিসেবে সহজপ্রাপ্তির কারণে, ঢাকাবাসীর ব্যক্তিগত যাতায়াতে রিকশা ব্যবহৃত হয় সর্বোচ্চ, যা যাতায়াতে মোট বাহন ব্যবহারের ৩৫%।

পত্রিকায় প্রকাশিত রিপোর্ট থেকে জানা যায়, ঢাকায় যে অন্তত ২ লাখের মতো ব্যাটারিচালিত রিকশা রয়েছে সেই প্রতিটি রিকশা মাসে গড়ে দেড় হাজার টাকা টোকেন বাণিজ্যের শিকার হয়। এই হিসাবে মাসে ৩০ কোটি টাকা অবৈধভাবে আদায় করা হয়। ব্যাটারিচালিত ইজিবাইকে যাত্রী প্রতি কিমি তে বিদ্যুতের খরচ ০.২০ টাকার বিপরীতে পেট্রোলে চালিত থ্রি-হুইলার প্রতি যাত্রী প্রতি কিলোমিটারে জ্বালানি খরচ ০.৮৩ টাকা। কার্বন ডাই-অক্সাইড নিঃসরণ মাত্রা হিসেবেও বিদ্যুৎচালিত ইজিবাইকের তুলনায় পেট্রোলচালিত থ্রি-হুইলারের নিঃসরণ প্রায় দ্বিগুণ।

অর্থনৈতিক নিরাপত্তাহীন ব্যবস্থায় রিকশা চালনা পেশা একটা সামাজিক সুরক্ষা বলয় হিসেবে কাজ করছে। ভূমিহীন কৃষক দুই ফসলের মাঝের সময়টায় শহরে চলে আসেন রিকশা চালিয়ে সংসারটাকে বাঁচিয়ে রাখতে, ছোট কিংবা মাঝারি কৃষক রিকশা চালাতে আসেন ফলনের ক্ষতি পোষাতে কিংবা পরের ফসল লাগানোর বীজ, সার, সেচের খরচ জোগাতে, কলেজ পড়ুয়া সন্তান দুই পরীক্ষার মাঝের সময়টায় চলে আসে শহরে রিকশা চালিয়ে পরের বছরের ভর্তি ফির টাকাটা জমিয়ে রাখতে। ত্রৈমাসিক সর্বজনকথায় প্রকাশিত মওদুদ রহমানের লেখার সংক্ষেপ।

কেন জাতীয় ঐক্যের ডাক ?

কয়েক দিনের নৈরাজ্যে উদ্বিগ্ন রাজনৈতিক দলগুলো। মোকাবিলায় সরকার, রাজনৈতিক দল এবং অভ্যুত্থানের ছাত্র নেতৃত্ব জাতীয় ঐক্যের কথা বললেও কীভাবে হবে, তা স্পষ্ট নয়। নির্বাচন, কূটনৈতিক সম্পর্ক, আওয়ামী লীগের ভবিষ্যৎ নির্ধারণসহ নানা ইস্যুতে তাদের মতবিরোধ প্রকাশ্যে বেরিয়ে আসছে।

বিএনপি সূত্রের ভাষ্য, ধর্মীয় ইস্যুতে কিছু হঠকারিতা চলছে। ইসকন বিতর্কও অহেতুক। অভ্যুত্থানের সময় সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সরব ‘ইনফ্লুয়েন্সাররা’ তাদের অনুসারীদের দিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি করছে। সংবাদপত্রের কার্যালয়ে হামলা এবং সংবাদমাধ্যমের ওপর চাপের কারণে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুন্ন হচ্ছে। এতে বার্তা যাচ্ছে সরকার দেশ চালাতে পারছে না। এ পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে হাজারো মানুষের রক্তস্নাত অভ্যুত্থানে প্রতিষ্ঠিত সরকার জনসমর্থন হারাবে। সরকার ব্যর্থ হলে অন্য কোনো পক্ষ সুযোগ নিতে পারে।

জামায়াত সূত্রের ভাষ্য, সরকার কোনো কাজই ঠিকঠাক এগিয়ে নিতে পারছে না। কিছু সিদ্ধান্ত নিয়েও মাঝপথে পিছিয়ে এসেছে। অভ্যুত্থানের সফলতা ধরে রাখতে সরকারের সুস্থিরতা প্রয়োজন। কিন্তু ছাত্রসহ অভ্যুত্থানের নানা শরিক যেভাবে নানা দাবিতে হুটহাট সরব হচ্ছে, চাপ তৈরি করছে, তাতে সুস্থিরতা আসছে না।

সরকারের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত একটি দলের শীর্ষস্থানীয় নেতা সমকালকে বলেন- রাজনৈতিক দলগুলো, বিশেষত বিএনপি উদ্বেগ থেকেই ঐক্যের কথা বলছে। দলটির শঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে অভ্যুত্থানের বৃহত্তম শরিক হিসেবে দায় নিতে হবে। নৈরাজ্য চললে নির্বাচন বিলম্বিত হতে পারে। তৃতীয় পক্ষ এ পরিস্থিতির সুযোগ নিতে পারে। আওয়ামী লীগ নেতাকর্মী কিছুটা সংগঠিত হতে শুরু করায়, তারা এতে সমর্থন দেবে। আবার ছাত্র নেতৃত্ব যেভাবে বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ককে মুখোমুখি করছে, তাও ক্ষতির কারণ হতে পারে। বড় রাজনৈতিক দলগুলো তাই স্থিতিশীলতা চায়, যাতে নির্বাচন দ্রুত হয়।

নেতারা ঐক্যের কথা বললেও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পক্ষে-বিপক্ষে প্রচারণা চলছে। এক পক্ষ আরেক পক্ষকে ঘায়েল করছে। সরকারকে পূর্ণ সমর্থন ও সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিলেও দ্রুততম সময়ের মধ্যে নির্বাচন চায় বিএনপি। সরকার যাতে একটি রোডম্যাপ দিয়ে দ্রুত নির্বাচনমুখী হয়, সে তাগিদও অব্যাহত রাখছে। কিন্তু জামায়াত, ছাত্র নেতৃত্বের অবস্থান ভিন্ন। তারা সংস্কারে গুরুত্ব দিচ্ছে। ছাত্র নেতৃত্বের প্ল্যাটফর্ম জাতীয় নাগরিক কমিটি যেভাবে নির্বাচন কমিশন গঠনের বিরোধিতা করেছে, তা ভালোভাবে নেয়নি বিএনপি। তারা নির্বাচন কমিশন গঠনকে স্বাগত জানিয়েছে।