Home Blog Page 225

বিক্ষোভের মুখে সামরিক আইন প্রত্যাহার দক্ষিণ কোরিয়ায়

মঙ্গলবার দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট জাতির উদ্দেশ্যে টেলিভিশন ভাষণে বলেন, ‘উদারপন্থী দক্ষিণ কোরিয়াকে উত্তর কোরিয়ার কমিউনিস্ট বাহিনীর হুমকি থেকে সুরক্ষা দিতে এবং রাষ্ট্রবিরোধী বিভিন্ন শক্তি নির্মূল করতে আমি জরুরি ভিত্তিতে সামরিক আইন জারি করছি।’ তবে আকস্মিকভাবে সামরিক শাসন জারির আদেশ মেনে নিতে পারেননি দক্ষিণ কোরিয়ার আইনপ্রণেতারা। প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওলের সিদ্ধান্তের প্রতিবাদে পার্লামেন্টের বাইরে অবস্থান নেয় বিক্ষোভকারীরা। প্রেসিডেন্টকে গ্রেপ্তারের দাবিতে তাদের স্লোগান দিতে শোনা যায়। একপর্যায়ে কিছু সময়ের জন্য পার্লামেন্ট ভবনে প্রবেশ করেন সেনাসদস্যরা। ভবনের ওপরে হেলিকপ্টার নামতেও দেখা যায়।

এ পরিস্থিতির মধ্যেও রাতেই নিরাপত্তা বাহিনীকে এড়িয়ে পার্লামেন্টে প্রবেশ করতে সক্ষম হন ১৯০ জন আইনপ্রণেতা। তারা সামরিক আইন জারির বিরুদ্ধে ভোট দেন। দক্ষিণ কোরিয়ার সংবিধান অনুযায়ী, পার্লামেন্টের ৩০০ সদস্যের মধ্যে বেশির ভাগ সদস্য চাইলে সামরিক আইন তুলে নেওয়া যাবে। পার্লামেন্ট সদস্যদের বিরোধিতার মুখে প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইওল সামরিক আইন জারির আদেশ প্রত্যাহারের কথা জানিয়েছেন। দেশটির সংবাদমাধ্যমের বরাতে বিবিসি বলছে, দক্ষিণ কোরিয়ার মন্ত্রিসভা সামরিক আইন প্রত্যাহারের প্রস্তাবে সায় দিয়েছে। অবিলম্বে আগের আদেশ বাতিল হয়ে যাবে।

এমন এক সময় দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট সামরিক আইন জারির ঘোষণা দিলেন, যখন আগামী অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে তার দল পিপল পাওয়ার পার্টি এবং বিরোধী দল ডেমোক্রেটিক পার্টির মধ্যে দ্বন্দ্ব চলছে। বর্তমানে দক্ষিণ কোরিয়ার ৩০০ সদস্যের পার্লামেন্টে বিরোধী ডেমোক্রেটিক পার্টির সংখ্যাগরিষ্ঠতা রয়েছে। ইউন সুক ইওল এর মতে, বিরোধী দল ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি’। ভাষণে তিনি বলেন, ‘রাষ্ট্রবিরোধী শক্তি থেকে দেশকে যত দ্রুত সম্ভব মুক্তি দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করব আমি।”

এদিকে প্রেসিডেন্টের স্ত্রী এবং দলের শীর্ষ কয়েকজন নেতাকে জড়িয়ে কেলেঙ্কারির ঘটনায় বিতর্ক দেখা দিয়েছে। তবে এ বিষয়ে স্বাধীন কোনো তদন্ত করতে রাজি নন তিনি। ক্ষমতা নেওয়ার প্রথম দিন থেকেই তাঁর জনসমর্থন ভালো নয়। বলতে গেলে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক সব প্রেসিডেন্টের চেয়ে কম। আর জরিপকারী প্রতিষ্ঠান রিয়েলমিটারের তথ্য অনুযায়ী, গত সপ্তাহে এই সমর্থন মাত্র ২৫ শতাংশে পৌঁছেছে।

বাংলাদেশে একটি নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা খুব কঠিন হবে : আরাইল্ড এঙ্গেলসন রুড

… আমি মনে করি যে গ্রামীণ এবং স্থানীয় পর্যায়ে রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতি পরিবর্তন হয়নি। … বাংলাদেশে এ রকম রাজনৈতিক গতিপ্রকৃতির কারণ হলো এখানে একটি বাইনারি ব্যবস্থা চলে। নির্বাচনে এক পক্ষ জয়ী হয়। অপর পক্ষ হারে। শুধু সংসদে নয়, স্থানীয় পর্যায়েও তাই হয়। এই মেরুকরণে যে বিজয়ী হয়, সে সব ছিনিয়ে নেয়। … বাংলাদেশে রাষ্ট্র দুর্বল। প্রশাসনিক যন্ত্র হিসেবেও রাষ্ট্র দুর্বল। দেশের বড় অংশে কার্যত রাষ্ট্রের কোনো অস্তিত্ব নেই। গ্রামীণ পর্যায়ে আপনি এমন কাউকে ভোট দেন, যিনি প্রয়োজনে আপনাকে রক্ষা করবেন। এমন কাউকে যিনি শক্তিশালী, যার সংযোগ আছে, যিনি হস্তক্ষেপ করতে পারেন।

…এ রকম অবস্থা থেকে তৈরি হয় নেটওয়ার্ক সোসাইটি। রাষ্ট্রের দুর্বলতা মানে নেতা ছাড়া আপনার আর কোনো উপায় নেই। আপনি আপনার প্রশাসনের কাছে যেতে পারবেন না। নেতাদের কাছে না গেলে আপনার কঠিন সমস্যা সমাধানের আশা করতে পারবেন না। তাই লক্ষণীয় রকম পরিবর্তন না ঘটলে বাংলাদেশের মানুষ যে শক্তিশালী, তাকেই ভোট দেবে। … বাংলাদেশে একটি নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করা খুব কঠিন হবে। কারণ, এখানে আছে শক্তিশালী রাজনৈতিক নেতাদের মেরুকৃত সমাজ। তারা স্থানীয় সম্পদ ইত্যাদি নিয়ে এই লড়াই চালিয়ে যাবে।

আমি মনে করি না যে হঠাৎ করে এসব সম্পূর্ণ দূর করার চেষ্টা করা বুদ্ধিমানের কাজ হবে। যা করা যায় তা হলো একে নিয়ন্ত্রণ করা, দুর্নীতি যাতে হ্রাস পায়, তা নিশ্চিত করা। নিশ্চিত করা যে সহিংসতা যেন হ্রাস পায়। এই সব জিনিস একটি যুক্তিসংগত স্তরে নিয়ন্ত্রণ নিশ্চিত করা। গণতন্ত্র কোনো নিখুঁত সমাজ গঠন করে না। গণতন্ত্র হলো সমাজের দ্বন্দ্বগুলোকে সভ্য পদ্ধতিতে পরিচালনা করা।

… আমি মনে করি, এখানে একটি প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক সংস্কৃতি রয়েছে। এই সংস্কৃতি বেশ হিংসাত্মক। এখানে নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি এবং শাসকদের প্রতিনিধিরা একধরনের দায়মুক্তির অনুভূতি নিয়ে ঘোরে। কোনো কিছুই যেন তাদের স্পর্শ করতে পারবে না। এই দায়মুক্তি মোকাবিলা করা উচিত। এই দায়মুক্তি এমন সমাজ, রাষ্ট্র তৈরি করে, যেখানে কিছু লোক অনেক বেশি আর অন্যরা খুবই কম পায়।

বাংলাদেশেও তাই হয়েছে। কিছু অলিগার্ক বিপুল পরিমাণ টাকা হাতিয়ে নিয়েছে। তারপর বাকি জনগণ কোণঠাসা। যদি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানকে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ থেকে স্বাধীনভাবে কাজ করার পরিস্থিতি তৈরি করা যায়, তবে বহাল পরিস্থিতি বদলাতে পারে। … আরাইল্ড এঙ্গেলসন রুড এর প্রথম আলো’র সাথে সাক্ষাৎকার থেকে নেয়া। তিনি নরওয়ের ইউনিভার্সিটি অব অসলোর সাউথ এশিয়া স্টাডির অধ্যাপক

এটা ৭৫’ পরবর্তী পরিস্থিতি নয় – উপদেষ্টা মাহফুজ আলম

অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলম বলেছেন, ভারতের উচিত বাংলাদেশের নতুন বাস্তবতা উপলব্ধি করা এবং দ্ব্যর্থহীনভাবে বাংলাদেশে জুলাই অভ্যুত্থান ও ছাত্র জনতার গণতান্ত্রিক সংগ্রামকে স্বীকৃতি দেওয়া। উপদেষ্টা বুধবার নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্টে এক পোস্টে এ কথা বলেন। ‘ভারত ও বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ক বিষয়ে’ শিরোনামে ইংরেজিতে লেখা এ পোস্টে তিনি বলেন, ‘ভারতের উচিত পোস্ট ‘৭৫ প্লেবুক পাল্টে বাংলাদেশের নতুন বাস্তবতা উপলব্ধি করা। এটা ‘৭৫ পরবর্তী পরিস্থিতি নয়।’

তিনি আরো বলেন, ‘ভারতের উচিত দ্ব্যর্থহীন ভাবে বাংলাদেশে জুলাই অভ্যুত্থান এবং ছাত্র জনতার গণতান্ত্রিক সংগ্রামকে স্বীকৃতি দেওয়া। এটি দিয়েই শুরু করতে হবে। জুলাই অভ্যুত্থানকে পাশ কাটিয়ে নতুন বাংলাদেশের ভিত রচনা করা হলে তা দুই দেশের সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকর হবে।’ মাহফুজ আলম বলেন, ‘জুলাই বিপ্লব ছিল একটি গণতান্ত্রিক, প্রজন্মভিত্তিক ও দায়িত্বশীল সংগ্রাম। আর এই সংগ্রাম চলবে দীর্ঘ সময় ধরে। বাংলাদেশি জনগণ আগের মতো নেই, তারা এখন ঐক্যবদ্ধ ও মর্যাদাবান। তারা মরার আগ পর্যন্ত তাদের মর্যাদার জন্য লড়াই করবে।’

মাহফুজ বলেন, ‘বাংলার এই অংশে ভারতপ্রেমী বা ভারতীয় মিত্ররা ভাবছে যে পরিস্থিতি শান্ত হয়ে যাবে এবং জুলাই বিপ্লব এবং ফ্যাসিবাদীদের নৃশংসতাকে এড়িয়ে গেলে তাদের কিছুই হবে না। এটা একটা ভুল ধারণা। মানুষ সব দেখছে!’ ভারতীয় সংস্থা জুলাই বিপ্লবকে কিছু জঙ্গি, হিন্দুবিরোধী এবং ইসলামপন্থীদের ক্ষমতা দখল হিসেবে চিত্রিত করার চেষ্টা করেছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা মাহফুজ বলেন, ‘কিন্তু তাদের অপপ্রচার ও উসকানি ব্যর্থ হচ্ছে। … দিল্লি না ঢাকা? ঢাকা, ঢাকা!’ ও ‘স্বদেশ না শাহাদাত!’ স্লোগানগুলো বাংলাদেশকে একক অঙ্গে ঐক্যবদ্ধ করার জন্য এ দেশের প্রতিটি কোণে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।

তিনি সতর্কবাণী উচ্চারণ করে বলেন, ‘আর ভারত যেন এই ঐক্যবদ্ধ, মর্যাদাবান ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশকে তার শত্রু না করে।’ দীর্ঘ প্রায় দুই দশক পর বাংলাদেশের জনগণ বিনা বাধায় গণতান্ত্রিক অধিকার ভোগ করছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘সত্য এসেছে মিথ্যা ধ্বংস হবে। চিরকাল!’ উপদেষ্টা দৃঢ় প্রত্যয় ব্যক্ত করে বলেন, ‘৭১-এর পর রাষ্ট্র হিসেবে আমরা ব্যর্থ হয়েছিলাম, কিন্তু এবার নয়!’ ‘আল্লাহ ভরসা!’ বলে পোস্টের ইতি টানেন তিনি।

সম্পর্ক স্বাভাবিক করার বার্তা ঢাকা – দিল্লির

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নিপীড়নের অভিযোগ ও সনাতনী জাগরণ জোটের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাস গ্রেফতারের প্রতিবাদে আগরতলায় বাংলাদেশের সহকারী হাইকমিশনে হামলায় বাংলাদেশ – ভারত সম্পর্কের অবনতি নতুন মাত্রা পায়। দু’দেশের উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই গতকাল মঙ্গলবার ঢাকার ভারতের হাইকমিশনার প্রণয় ভার্মাকে তলব করেছিল পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। এর পরই ঢাকা ও দিল্লি দু’পক্ষ থেকেই ‘সম্পর্ক স্বাভাবিক’ করার বার্তা এসেছে।

কূটনৈতিক সূত্রগুলো বলছে, হামলার ঘটনা নিয়ে অস্বস্তিতে রয়েছে দিল্লি। তারা মনে করে, আগরতলায় যা হয়েছে, তা মোটেও ভালো হয়নি। ভারত পরিস্থিতি স্বাভাবিক করতে চায়।নাম না প্রকাশের শর্তে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা গতকাল সকালে সমকালকে বলেন, এটা অস্বীকার করার উপায় নেই, ভারতে এমন কিছু হিন্দু সংগঠন রয়েছে, যারা সরকারের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। ভারত বড় দেশ, তাই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন। ঠিক যেমনটি সম্ভব নয় বাংলাদেশেও। এ কারণে বিবৃতি দিয়ে দিল্লি ঘটনার জন্য দুঃখ প্রকাশ ও নিরাপত্তা বাড়িয়েছে।

দুঃখ প্রকাশ বা নিরাপত্তা বাড়ালেও বিবৃতিতে দোষীদের শাস্তির বিষয়ে কোনো বক্তব্য ছিল না কেন এ প্রশ্নে তিনি বলেন, অপেক্ষা করুন, আমরা কাজ করে দেখাব। ভারতীয় গণমাধ্যম সূত্রে জানা যায়, আগরতলার ঘটনার সঙ্গে জড়িত সাতজনকে আটক এবং নির্লিপ্ততার জন্য চার পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধের ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। দিল্লির সূত্রগুলো জানায়, কানাডায় শিখ নেতা হত্যার পর পশ্চিমা দেশগুলোর তরফ থেকে বেশ চাপে পড়ে ভারত। এ সময় ভারতীয় গণমাধ্যম কানাডার বিরুদ্ধে নেতিবাচক প্রচারণায় নামে। বিষয়গুলো সবই দেখেছে পশ্চিমা দুনিয়া।

গত ৫ আগস্টের পর বাংলাদেশের বিরুদ্ধেও একই অপপ্রচার শুরু করে ভারতীয় গণমাধ্যম। বিষয়গুলোকে দেশটির প্রশাসন ভালোভাবে না নিলেও রাজনৈতিক ছত্রছায়ায় গড়ে ওঠা ‘গোদি মিডিয়া’কে ঠিক আটকাতে পারেনি। তবে আগরতলা ঘটনার পর উস্কানিমূলক সংবাদ প্রচারের ক্ষেত্রে অসন্তুষ্টি প্রকাশের বিষয়ে চিন্তা করছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।

জেএসএস মাঠে নামলে পার্বত্য শান্তি চুক্তি বাস্তবায়নে ‘পাশে থাকবে’ ইউপিডিএফ

পার্বত্য শান্তি চুক্তি’র বিরোধিতা করেই আড়াই দশকের বেশি সময় আগে জেএসএস থেকে বেরিয়ে পাহাড়ের আঞ্চলিক দল ইউপিডিএফের জন্ম হলেও দলটির মুখপাত্র অংগ্য মারমা এখন বলছেন, ‘জেএসএস পার্বত্য শান্তি চুক্তির মূল স্টেকহোল্ডার। এই চুক্তিতে নানা অসংগতি আছে, চুক্তিটি অসম্পূর্ণ। তবু পাহাড়ের অধিকাংশ মানুষ এই চুক্তিটি চায়। ফলে জেএসএস যদি এই চুক্তির পূর্ণাঙ্গ বাস্তবায়নের জন্য আন্দোলন করে এবং তাতে সহযোগিতা চায় তাহলে ইউপিডিএফ আন্তরিকভাবে তাতে শামিল হবে।’ প্রসীত খিসা নেতৃত্বাধীন ইউপিডিএফ মুখপাত্রের এই ‘উপলব্ধিকে স্বাগত’ জানালেও এটা ‘পরিস্থিতি বুঝে হঠাৎ করে বলা’ বলে মনে করেন জেএসএস (সন্তু লারমা) নেতা সজীব চাকমা।

সজীব বলেন, ‘পাহাড়ের অধিকাংশ মানুষ চুক্তির বাস্তবায়ন চায় ইউপিডিএফকে এটা স্বীকার করার জন্য ধন্যবাদ। তারা যদি বিরোধিতা না করত বা সহিংস ভূমিকায় অবতীর্ণ না হত, তাহলে অবশ্যই চুক্তিটি বাস্তবায়িত হত এবং শান্তিপূর্ণ ও রাজনৈতিক উপায়ে সমস্যা সমাধানের জন্য অবশ্যই চুক্তির বাস্তবায়ন হওয়া উচিত।’ তিনি বলেন, ‘আর চুক্তি অসম্পূর্ণ বা পূর্ণ বলতে কিছু নেই। চুক্তি চুক্তিই। বহু সময় নিয়ে, সংগ্রাম ও সংলাপ করে এই চুক্তি হয়েছে। শাসকগোষ্ঠী ন্যূনতম অধিকারও দিতে চায় না। কিন্তু জনসংহতি সমিতি অনেক লড়াই করে এই চুক্তি আদায় করেছে।’

দেশের সীমান্তের ওপারে যা ঘটছে তার অন্য একটা তাৎপর্য আছে – রাফসান গালিব (সাংবাদিক)

দেশের সীমান্তের ওপারে যা ঘটছে তার অন্য একটা তাৎপর্য আছে। এটি শুধু বাংলাদেশের মামলা না, এটা তাদের অভ্যন্তরীণ রাজনীতির অংশও, বিশেষ করে হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির। বিষয়টা কেমন? ভারতের গদি মিডিয়ার প্রতিক্রিয়া নিয়ে আমরা যে এখানে হাসাহাসি করি, সেটা তারা বুঝেও, জেনেও এই কাজটা দিনের পর দিন করে যাইতেছে। তারা যে প্রপাগান্ডাগুলা করে যাইতেছে সেটি মূলত ইচ্ছা করেই। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে বাংলাদেশ ইস্যুকে ব্যবহার করে বিজেপির হিন্দুত্ববাদী রাজনীতি চাঙ্গা করতেই ওঠেপড়ে নেমেছে তারা। টার্গেট পশ্চিমবঙ্গের আগামী বিধানসভা নির্বাচন। সেইসঙ্গে লোকসভা নির্বাচনে হারানো ভোটব্যাংক পুনরায় ফেরত আনা।

মমতাও সেটি বুঝতে দেরি করছেন, নাকি নিজের কৌশল কীভাবে সাজাবেন সেটি পরিকল্পনা করতেছিলেন, নাকি সময়ের জন্য অপেক্ষা করতেছিলেন তা বলতে পারব না। তবে আজকে বাংলাদেশে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী পাঠানোর আবেদনের মধ্যে স্পষ্ট হইল, তিনি এখন আসলে হিন্দুত্ববাদী বিজেপির চেয়েও আরও কড়া হিন্দুত্ববাদী কৌশলে খেলতে চাইতেছেন। আবার তার মুসলিম ভোটাররা যেন না চটে সেইটাও খেয়াল রাখতে হইতেছে তাকে। এ জন্য তিনি জাতিসংঘের পথ ধরছেন।

আমার মনে হয়, গদি মিডিয়ার মাধ্যমে প্রোপাগান্ডা চালিয়ে বাংলাদেশ ইস্যুতে বিজেপির হিন্দুত্ববাদী অবস্থান, বিভিন্ন কর্মসূচি, সীমান্তে সমাবেশ এগুলা নিয়মিত অনিয়মিতভাবে চালিয়ে যাবে। আজকে বা এর আগে হাইকমিশন অফিসে হামলা তারই অংশ। পশ্চিমবঙ্গ বা ত্রিপুরা বাংলাদেশঘেঁষা অঞ্চলগুলোতে বিজেপি পূর্ণমাত্রায় তার অবস্থান তৈরি করতে এভাবেই হাঁটবে এখন। মমতারে ঘায়েল করার এখন এটাই তার জন্য সবচেয়ে লেটেস্ট ও উত্তম অস্ত্র। মমতাও একই অস্ত্র নিয়ে খেলার জন্য প্রস্তুত সেটি তো বোঝাই গেল।

ফলে এসবের ক্রিয়া প্রতিক্রিয়া বাংলাদেশে হবে, ভারতের পতাকার ওপর হেঁটে যাওয়া ইত্যাদি ঘটতে থাকবে। ভারতের পণ্য বয়কটের কর্মসূচিও হয়তো আবার জোরালো হবে। এই মুহুর্তে বাংলাদেশের সবচেয়ে জরুরি ভারতের সঙ্গে পিপল টু পিপল সম্পর্ক চাঙ্গা করা। কলকাতা থেকে দিল্লি অনেকেই আছেন, বাংলাদেশ নিয়ে ভারতের বাড়াবাড়ি আচরণ পছন্দ করেন না। শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেয়ার বিষয়টিও অনেকে সমালোচনা করেন। আর জুলাই অভ্যুত্থানে বাংলাদেশের পক্ষে মানে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে সংহতি জানিয়ে মিছিলও হয়েছে। তাদের সঙ্গে কানেকশনগুলো আমাদের বাড়াতে হবে।

তাদের দিক থেকেই আওয়াজ ওঠাতে হবে বাংলাদেশ ইস্যুতে বিজেপির হিন্দুত্ববাদী প্রচারণার বিরুদ্ধে। বিজেপির হিন্দুত্ববাদী অবস্থান বা শেখ হাসিনাকে আশ্রয় দেয়ার কারণে বাংলাদেশের মানুষের মধ্যে প্রবল ভারতবিরোধিতা বাড়ছে, সেটির উদ্বেগ তাদের দিক থেকেই আসবে তখন।
পিপল টু পিপল কানেকশনে আমি মনে করি সেটি সম্ভব। ভারতেও প্রতিনিয়ত সংখ্যালঘু নির্যাতন হইতেছে, মনিপুরসহ সেভেন সিস্টার্সের অন্যান্য রাজ্যে নানা ঘটনা ঘটতেছে, মূলত হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির শিকার হইতেছেন সে দেশের অনেক এলাকার মানুষজন, তাদের সঙ্গে আমাদের আত্মিক সম্পর্ক গড়ে তোলা চাই।

শত্রুতা নয়, দুই দেশের মানুষের মধ্যে মিত্রতা গড়ে তুলতে হবে। সেক্ষেত্রে পতাকা মাড়ানো এগুলো নিচু লেভেলের কর্মসূচি। তাদের প্রতিক্রিয়ায় এখানেও ভারতের হাইকমিশন ঘেরাও কর্মসূচিও যুক্তিযুক্ত হবে না, এতে বরং আগুনে ঘি ঢালা হবে। যুদ্ধংদেহী আচরণ দেখিয়ে আদতে ফায়দা নাই।
গদি মিডিয়া বাংলাদেশ নিয়ে যে অপপ্রচার চালাইতেছে প্রতিনিয়ত, তার কাউন্টার দেয়ার জন্য সরকারের একটা সেল তৈরি করা এখন খুব জরুরি। আমাদের ব্যবসা-বাণিজ্যে ভারতনির্ভরতা কমাইতে হবে। ভারতের সঙ্গে চুক্তিগুলো প্রকাশ করে কোনটা বাংলাদেশের স্বার্থবিরোধী তা চিহ্নিত করে সেগুলা থেকে সরে আসার পথ খুঁজতে হবে। আন্তর্জাতিক নদী আইনে আমাদের স্বাক্ষর করতে হবে। এমন অনেক কিছুই আছে করার।

বাংলাদেশকে উপনিবেশ করে রাখতে চাইছে ভারত : সলিমুল্লাহ খান

লেখক অধ্যাপক সলিমুল্লাহ খান বলেছেন, ‘ভারত ১৯৭১ সালে আমাদের সাহায্য করেছে, এই অজুহাতে বাংলাদেশকে তার উপনিবেশ করে রাখতে চাইছে। পাকিস্তানিদের উপনিবেশ শাসন থেকে মুক্ত হওয়ার জন্য এত রক্ত আপনি ঢাললেন ভারতের উপনিবেশ হওয়ার জন্য?’ সোমবার চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ে’ আবুল মনসুর আহমদের রাষ্ট্রচিন্তা: প্রেক্ষাপট গণ-অভ্যুত্থান’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ মন্তব্য করেন। রাষ্ট্রচিন্তার আয়োজনে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

সলিমুল্লাহ খান বলেন, শেখ হাসিনার অপরাধের মধ্যে একটা হচ্ছে বাংলাদেশের হৃৎপিণ্ড তিনি ধ্বংস করেছেন। পাওয়ার সেক্টরে লুটপাট, অর্থপাচার, দেশে অনাচার, গুম, খুন, অত্যাচার, এর বাইরেও বৈদেশিক সম্পর্কের ক্ষেত্রে তিনি বাংলাদেশকে ভারতের দাসে পরিণত করলেন। সেটা থেকে মুক্তি পাওয়ার প্রথম কাজ আপনারা করেছেন। সেটা হচ্ছে শেখ হাসিনাকে উৎখাত করা। দ্বিতীয় হচ্ছে জনগণের মধ্যে ঐক্যবদ্ধতার পরিচয় দেওয়া। গণ্ডগোল বাধানোর জন্য যে উসকানি এখন অন্যরা দিচ্ছে, সেগুলো প্রতিহত করতে রাজনৈতিক সততা দরকার, সচেতনতা দরকার ও রাজনৈতিক শক্তি দরকার।

ভারত, আমেরিকা ও ইসরায়েলের জাতীয় পতাকার ছবিতে পদচিহ্ন আঁকার বিষয়ে খান বলেন, ‘অন্যায়ের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ ন্যায়সঙ্গত। মাও সেতুং বলেছেন। বিদ্রোহের একটা ফর্ম হচ্ছে প্রতীকী। আমেরিকাতে সুপ্রিম কোর্ট ঘোষণা করেছে, পতাকা পুড়িয়ে দেওয়া কোনো অপরাধ নয়। মানুষ বিক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ হিসেবে পতাকার মধ্যে আগুন দিয়েছে আমেরিকায়। অর্থাৎ মানুষের জন্য পতাকা, পতাকার জন্য মানুষ নয়। ইসরায়েল ও আমেরিকার যে ভূমিকা ফিলিস্তিনে, সেটার বিরুদ্ধে ন্যায়সঙ্গত বিক্ষোভ হিসেবে আমরা কি আমেরিকায় গিয়ে বোমা মারতে পারব? তাহলে আমরা কী করব? আমাদের প্রতিবাদের যতটুকু শক্তি আছে, সেটা হচ্ছে পতাকা পর্যন্ত।’

ইসকন প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ইসকনকে ধর্মীয় শান্তিপূর্ণ সংগঠন হিসেবে ইউরোপ-আমেরিকা মনে করে। কিন্তু সেই সংগঠন যদি বাংলাদেশের মতো ক্ষুদ্র দেশে এসে বিশৃঙ্খল আচরণ করে, তাহলে আমাদের এক সাংবাদিক বন্ধু আশরাফ কায়সার বলেছেন, ‘আমি তো এই হরে কৃষ্ণকে চিনতে পারছি না’। বাংলাদেশের হিন্দুরা যদি মনে করেন যে ইসকনই তাদের রক্ষাকর্তা হবে, তাহলে তারা বড় আকারে একটা ভুল করছেন। কারণ ইসকন ছাড়াও বাংলাদেশে হিন্দুরা ছিলেন।’

সংবিধান বিষয়ে সলিমুল্লাহ খান বলেন, ‘বাংলাদেশের সংবিধান অজ্ঞান অবস্থায় আছে। যেটিতে বলা হয়েছে সকল ক্ষমতার উৎস জনগণ, এটি একটি বড় জোচ্চুরি। অর্থাৎ আমরা সকল ক্ষমতা প্রয়োগ করব কিন্তু উৎস জনগণ। এখানে হওয়া উচিত ছিল জনগণ সকল ক্ষমতার মালিক। অর্থাৎ জনগণই সকল ক্ষমতার দণ্ডধর। যেন সরকার দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হলে তাকে সরিয়ে দেওয়া যায়, এমন সুযোগও থাকে।’ বিশ্ববিদ্যালয় রাষ্ট্রচিন্তার উপদেষ্টা, যোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষক আর রাজী অনুষ্ঠানের সভাপতিত্ব করেন।

দেশের ৮৫% সম্পদ ব্যবহার করছে ১০% মানুষ – শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি রিপোর্ট

শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির চূড়ান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী সরকারের সময়ে গড়ে প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার পাচার হয়েছে। ১ ডিসেম্বর বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ দেবপ্রিয় ভট্টাচার্যের নেতৃত্বে গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটি তিন মাসের অনুসন্ধান শেষে চূড়ান্ত প্রতিবেদন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে হস্তান্তর করে। ০২ ডিসেম্বর সংবাদ সম্মেলনে কমিটির প্রধান ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান।

ড. এ কে এনামুল হক বলেন, দেশের উন্নয়ন প্রকল্প মোট ব্যয়ের ৪০ শতাংশ ব্যয় তছরুপ বা লুটপাট করা হয়েছে। কমিটি সদস্য ড. আবু ইউসুফ বলেন, রাজস্ব বোর্ড যে পরিমাণ টিন সার্টিফিকেট থাকার দাবি করে, সেই পরিমাণ রাজস্ব আহরণ হয় না। এমনকি কেউ মারা গেলে সেই সার্টিফিকেট বা নম্বর কি হবে, সেটির কোনো কার্যকর প্রক্রিয়া নেই। কীভাবে বিভিন্ন ব্যক্তি, গোষ্ঠী বা খাতকে কর ছাড় দেওয়া হয়েছে তার কোনো সঠিক কাঠামো নেই। কমিটির সদস্য ড. তাসনীম সিদ্দিকী বলেন, অভিবাসনের জন্য মানুষের কাছ থেকে অতিরিক্ত টাকা নেওয়া হয়েছে। অভিবাসনের মাধ্যমেও অর্থপাচার হয়েছে বলে জানান তিনি।

কমিটি সদস্য ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, মেগা প্রকল্পের মাধ্যমে যেসব টাকা লোপাট করা হয়েছে পরবর্তী প্রজন্মের ঘাড়ে সেই বোঝা থেকে গেল। কমিটির প্রধান দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য বলেন, ‘৩০ অধ্যায়ের ৪০০ পৃষ্ঠার দীর্ঘ শ্বেতপত্রে উঠে এসেছে কীভাবে ক্রোনি পুঁজিবাদ অলিগার্কদের জন্ম দিয়েছে, কীভাবে তারা নীতি প্রণয়নকে নিয়ন্ত্রণ করেছে। দেশের ৮৫ শতাংশ সম্পদ ১০ শতাংশ মানুষ ভোগ করছেন বলেও জানান দেবপ্রিয়।

জাতিসংঘ এখনো মনে করছে, বাংলাদেশের অর্থনীতি স্বল্পোন্নত দেশের তালিকা থেকে বেরিয়ে যাওয়ার জন্য যথেষ্ট। উন্নয়নশীল দেশ হওয়ার পথে কোনো বাধা নেই। দেবপ্রিয় বলেন, দেশের অর্থনৈতিক-রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নিশ্চিত করা না গেলে দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার কার্যক্রম করা যাবে না। পরবর্তী জাতীয় বাজেট আসার আগে দেশের অর্থনৈতিক সংস্কারে বর্তমান সরকার কি কি উদ্যোগ নেবে সেগুলোকে স্পষ্ট করতে হবে। আরও দায়বদ্ধতা আনতে হবে। আপাত দৃষ্টিতে মনে হচ্ছে এই সরকার পাঁচ বছর দায়িত্বে থাকবে না। তবে অন্তত আগামী দুই বছরের কর্মপরিকল্পনা সামনে থাকতে হবে।

বাংলাদেশের রপ্তানি বাণিজ্য ভিয়েতনামের চ্যালেঞ্জে

বাংলাদেশের প্রধান রপ্তানি বাজার ২৭ জাতির ইউরোপীয় ইউনিয়ন-ইইউ। মোট রপ্তানি আয়ের ৫০%’র বেশি আসে এ জোট থেকে। পোশাক রপ্তানিতে বাংলাদেশের প্রধান প্রতিযোগী ভিয়েত নামের সঙ্গে ইইউর মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি-এফটিএ আংশিক কার্যকর হওয়ায় বাংলাদেশের রপ্তানি চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। আগামীতে এ চ্যালেঞ্জ আরও বাড়বে। ২০২৭ এ একদিকে ভিয়েতনামের সঙ্গে এফটিএ শতভাগ কার্যকর হলে দেশটি রপ্তানিতে শুল্ক মুক্ত সুবিধা ভোগ করবে। অন্যদিকে স্বল্পোন্নত দেশ এলডিসির কাতার থেকে উত্তরণের পর শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা হারাবে বাংলাদেশ। তখন বাংলাদেশের পণ্যে ৯% শুল্কারোপ হবে। বাংলাদেশের পণ্যে শুল্কারোপ দাঁড়াবে ভিয়েতনামের চেয়ে ২১ শতাংশ বেশি।

২০২৬ নভেম্বরে এলডিসি থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উত্তরণ হবে বাংলাদেশের। উত্তরণ পরবর্তী ৩ বছর বর্তমানের মতো শুল্কমুক্ত সুবিধা থাকবে। ইইউতে রপ্তানিতে ধাক্কা খেতে পারে বাংলাদেশ এ মেয়াদ শেষ হলেই। বিশ্ববাণিজ্য সংস্থার আশঙ্কা, ইইউ এবং অন্যান্য বাজার মিলে বর্তমানের চেয়ে ১৪.৩% রপ্তানি আয় হারাবে বাংলাদেশ। ২৭ নভেম্বর এক সেমিনারে এ ব্যাখ্যা তুলে ধরেছেন গবেষণা সংস্থা রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্ট র‍্যাপির চেয়ারম্যান ড. আব্দুর রাজ্জাক। জার্মানির অলাভজনক উন্নয়ন সংস্থা ফ্রেডরিক ইবার্ট স্ট্রিপটাং-এফইএস এবং র‍্যাপিড যৌথভাবে সেমিনারের আয়োজন করে।

বক্তারা বলেন, ২০২০ সালে ইইউ-ভিয়েতনাম এফটিএ সইয়ের পর কার্যকর হয়। এখন পর্যন্ত ভিয়েতনামের ৭১ শতাংশ পণ্য শুল্কমুক্ত রপ্তানি সুবিধা ভোগ করছে। বাকি পণ্যগুলোতে বর্তমানে ৪-৬% হারে শুল্কারোেপ রয়েছে। ভিয়েতনামের রপ্তানি বেড়েছে ১১.৩% এতে। আগামী ২০২৭ সালে শতভাগ পণ্যে এ সুবিধা কার্যকর হবে। গত বছর ইইউ জোটে ভিয়েতনামের রপ্তানির পরিমাণ ছিল ৫০.৭ বিলিয়ন ডলার। বাংলাদেশের এ পরিমাণ ২০ বিলিয়ন ডলার।

তবে ভিয়েতনামের রপ্তানিতে পণ্যের মধ্যে বৈদ্যুতিক যন্ত্রপাতি রপ্তানির পরিমাণ মোট রপ্তানির ৪০ শতাংশ। পোশাকের হিস্যা ৮ শতাংশের মতো।কারণ তৈরি পোশাক এখনো শুল্কমুক্ত সুবিধার আওতায় আসেনি। গড়ে ৯.৬% শুল্কারোপ রয়েছে পোশাক পণ্যে। এর বিপরীতে অস্ত্র বাদে সব পণ্য (ইবিএ) স্কিমের আওতায় বাংলাদেশের পণ্য এখনো শুল্কমুক্ত সুবিধা ভোগ করছে। এ সুবিধায় গত বছর পর্যন্ত পোশাকের রপ্তানি ইউর মোট আমদানির ২১.৭%। অর্থাৎ তৈরি পোশাকে এখনো বাংলাদেশ আধিপত্য বজায় রেখেছে।

সুখকে প্রাধান্য দেওয়া রেকর্ড সংখ্যক তরুণ ভুটান ছাড়ছে

বিশ্বের সামনে ‘গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস’ এর ধারণা উপস্থাপন করা ভুটান এখন এক বড় সমস্যার মুখোমুখি। বিনামূল্যে স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা, ক্রমবর্ধমান গড় আয়ু এবং ৩০ বছর উন্নয়নশীল অর্থনীতি থাকা সত্ত্বেও ভুটানের জনসংখ্যার প্রায় ৯% বিদেশে চলে গেছে, যার বেশিরভাগ তরুণ। ভুটানের চতুর্থ রাজা জিগমে সিংগে ওয়াংচুক কিউবায় এক নিরপেক্ষ জাতির শীর্ষ সম্মেলন থেকে ফেরার পথে, ভারতের একটি বিমানবন্দরে সাংবাদিকরা তাকে ভুটানের মোট জাতীয় উৎপাদন (জিএনপি) সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। রাজা তখন বলেন, ‘আসলে, ভুটানে আমাদের জন্য জিএনপি’র চেয়ে গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস (মোট জাতীয় সুখ) অনেক বেশি গুরুত্বপূর্ণ।’

বাক্যটি দ্রুত আন্তর্জাতিক দৃষ্টি আকর্ষণ করে। গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস বাড়ানোই ভুটান সরকারের প্রধান দায়িত্ব হয়ে ওঠে, যা বর্তমানে প্রধানমন্ত্রী শেরিং তোবগের নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস (জিএনএইচ) স্বীকার করে, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গুরুত্বপূর্ণ তবে প্রবৃদ্ধি হতে হবে টেকসই।’ পাঁচ বছর পর পর জরিপে ভুটান জুড়ে মানুষের সুখের মান পরিমাপ করা হয়; ফলাফল বিশ্লেষণ করে সরকারি নীতিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। ‘গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস মুহূর্তের সুখের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত নয়,’ বলেন তোবগে। ভুটান যে সুখকে গুরুত্ব দেয় তা হলো, সন্তুষ্টি, জীবন এবং নিজের প্রতি সুখী থাকা।

বর্তমানে ভুটান একটি ‘আউটমাইগ্রেশন’ সংকটে, যেখানে তরুণরা দেশের বাইরে চলে যাচ্ছেন। কোভিড-১৯ মহামারি ভুটানের অর্থনীতিকে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে, বিশেষত পর্যটন খাতকে। আর্থিক পুনরুদ্ধার ধীর গতির। ফলে অনেক ভুটানি, বিশেষত তরুণরা, উচ্চ বেতনের চাকরি খুঁজতে বিদেশে চলে গেছেন। তাদের ইংরেজিতে দক্ষতা থাকায় অস্ট্রেলিয়ায় অনেকেই নিম্নমানের কাজেও ভালো পারিশ্রমিক পাচ্ছে। ‘এটি এক ধরনের অস্তিত্ব সংকট,’ মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তোবগে।

ভুটানের প্রধানমন্ত্রী মনে করেন, এই দেশত্যাগের পেছনে এক ধরনের বেমানান সাফল্য কাজ করছে। ‘গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেস’ এর সাফল্যই বিদেশে ভুটানের তরুণদের চাহিদা বাড়িয়েছে। এটি ভুটানের জন্য একটি কঠিন পরিস্থিতি। ভুটানের প্রথম পত্রিকার সম্পাদক ও পরে তথ্য ও যোগাযোগ মন্ত্রী দাশো কিনলে দরজি দেশটির জনগণকে এক ধরনের ‘শঙ্কিত’ বলে বর্ণনা করেছেন। তিনি বলেন, ভুটান এমন একটি দেশ, যা ভারত ও চীনের মাঝে অবস্থিত। এর সামরিক শক্তি কিংবা উল্লেখযোগ্য অর্থনৈতিক ক্ষমতা নেই।

এই সংকটে ভুটানের রাজা এক সাহসী পরিকল্পনা গ্রহণ করেছেন, যাতে মানুষদের ফিরিয়ে আনা যায়। রাজা দক্ষিণ ভুটানে একটি নতুন শহর গড়ে তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন, যেখানে থাকবে ভিন্ন নিয়মকানুন, যা দেশটির অর্থনৈতিক উন্নয়ন এবং ভুটানি মূল্যবোধকে সমর্থন করবে। নতুন শহরটির নাম হবে গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি। এটি ডিজাইন করছেন ডেনিশ স্থপতি বিয়ারকে ইংগেলস। শহরটি নদীগুলোর মধ্যে বসবাসের উপযোগী এলাকা তৈরি করবে, যেখানে বিশেষ ধরনের সেতু দিয়ে শহরের বিভিন্ন জায়গা সংযুক্ত হবে। এসব সেতু জনসাধারণের জন্যও ব্যবহারযোগ্য হবে।

যেমন একটি সেতু থাকবে বুদ্ধিস্ট সেন্টারের জন্য, অন্যটি স্বাস্থ্যসেবা সুবিধার জন্য এবং আরেকটি বিশ্ববিদ্যালয়ের জন্য। এখানে কোনো উঁচু ভবন থাকবে না এবং সব নির্মাণ কাজ হবে স্থানীয় উপকরণ দিয়ে। শহরটি আগামী ২০ বছরে পর্যায়ক্রমে নির্মিত হবে এবং কোনো দূষণকারী শিল্পের অনুমতি থাকবে না। রাজা মনে করেন, গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটির সফলতা ভুটানের ভবিষ্যৎ গঠন করবে। প্রকল্পটি প্রমাণ করবে, ভুটান সাংস্কৃতিক-পরিবেশগত মূল্যবোধকে বজায় রেখে অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধ এবং প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত হতে পারে।

রাজা গত মাসে অস্ট্রেলিয়া ভ্রমণ করেন এবং ২০ হাজারের বেশি প্রবাসী ভুটানির সামনে গেলেফু মাইন্ডফুলনেস সিটি এবং ভুটানের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেন। তার লক্ষ্য, একদিন তাদের দেশে ফিরিয়ে আনা। প্রধানমন্ত্রী তোবগে বলেন, ‘যখন আমরা বলি আমরা গ্রস ন্যাশনাল হ্যাপিনেসের নীতিগুলো অনুসরণ করি, তার মানে এ নয় যে আমরা কমে খুশি। আমরাও ধনী হতে চাই, প্রযুক্তিগতভাবেও উচ্চমানের হতে চাই।আমরা চাই, ভুটানিরা মাল্টি মিলিয়ন ডলার কোম্পানির, বহুজাতিক কোম্পানির নেতৃত্ব দিক।’