Home Blog Page 224

ট্রাম্প মন্ত্রিসভা সাজাচ্ছেন বিলিয়নিয়ারদের নিয়ে

দ্বিতীয়বার প্রেসিডেন্ট নির্বাচিত ডোনাল্ড ট্রাম্পের মন্ত্রিসভায় যারা জায়গা পাচ্ছেন, তাদের বেশির ভাগই হাজার কোটি টাকার মালিক। এর মধ্যে আছেন বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক ও ভারতীয় বংশোদ্ভূত বিবেক রামস্বামীর মতো ব্যক্তিরা। ব্রিটিশ দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, এখন পর্যন্ত ট্রাম্প যাদের মন্ত্রিসভায় নিয়েছেন, তাদের সম্পদের মোট পরিমাণ ৩৪০ বিলিয়ন ডলার। যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে এবার সবচেয়ে ধনী মন্ত্রিসভা গঠিত হতে যাচ্ছে।

সংবাদমাধ্যমটি আরও জানিয়েছে, ট্রাম্পের মন্ত্রিসভার অন্তত ১১ জনের নিজস্ব বা স্বামী-স্ত্রীর অথবা খুব কাছের ব্যক্তির এক বিলিয়ন ডলার করে আছে। ট্রাম্প নির্বাচনী প্রচারণায় খেটে খাওয়া সাধারণ মানুষকে নিয়ে কাজ করার কথা বলেছিলেন। কিন্তু তিনি এখন সরকার চালানোর জন্য এমন ব্যক্তিদের নিচ্ছেন, যাদের সঙ্গে সাধারণ মানুষের অনেক তফাত। এই ব্যক্তিরাই সরকারের এমন কিছু খরচ কমানোর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নেবেন, যেগুলোর সুবিধা পেয়ে থাকেন গরিব ও সবচেয়ে দুর্বল শ্রেণির মানুষ।

অতীতের মত বর্তমান সরকারও সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা অস্বীকার করছে – সনাতনী জাগরণ জোট

সংখ্যালঘু নির্যাতনের প্রতিবাদে আন্দোলনে থাকা সংগঠন বাংলাদেশ সম্মিলিত সনাতনী জাগরণ জোট বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে বলেছে সংখ্যালঘু নির্যাতনের ঘটনা স্বীকার না করে উল্টো এসব ঘটনাকে ‘বানোয়াট ও গল্প’ বলে অতীতের মত বর্তমান সরকারও অস্বীকার করছে। শেখ হাসিনা সরকারও সংখ্যালঘু নির্যাতন ‘অস্বীকার করেছে’ উল্লেখ করে বিবৃতিতে বলা হয়, “ যেমনটা করা হয়েছে ২০০১, ২০১২, ২০১৮ ও ২০২১ সালের রক্তাক্ত শারদে।” জোট নেতারা বলেন, “যদি সংখ্যালঘু নির্যাতনই না হয়, তাহলে ৮ দফা মেনে নিতে অসুবিধা কোথায়? সংখ্যালঘু কমিশন করে পেছনের ঘটনাগুলো তদন্ত করলে অসুবিধা কোথায়?”

সরকারের উদ্দেশ্যে বিবৃতিতে বলা হয়, “আমরাও পারস্পরিক সহাবস্থান চাই। সনাতনীরা মহান মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনেও প্রাণ দিয়েছে। আমাদের ত্যাগ নিয়ে আর বৈষম্য করবেন না।” শুধু রাজনৈতিক দোষারোপের ‘সংস্কৃতিতে’ না থেকে আলোচনায় বসার আহ্বান জানিয়ে সনাতনী জোট বলছে, “তার আগে সংগঠনের মুখপাত্র চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে মুক্তি দিন। কথা দিচ্ছি, আপনারা ৮ দফা বাস্তবায়নে পদক্ষেপ নিলে আমরা চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর নেতৃত্বে আন্দোলনের মাঠ ছেড়ে দেব। “যারাই আমাদের ৮ দফার পক্ষে কাজ করবে আমরা তাদেরই সমর্থন দেব।”

আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ হত্যার ঘটনায় ‘অনুতাপের’ কথাও বলা হয় বিবৃতিতে। “বিষয়টি নিয়ে আমরাও অনুতপ্ত। কারণ সনাতনীরা শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানে বিশ্বাসী। আইনজীবী সাইফুল ইসলাম আলিফ এর হত্যাকাণ্ডে যারা জড়িত তাদের সর্বোচ্চ বিচার হউক সেটা আমরা চাই। এবং যেন প্রকৃত অপরাধী ছাড়া কোনো নিরীহ ব্যক্তির উপর কোনো অন্যায় অত্যাচার না হউক সেই বিষয়ে আমরা প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাই।”

গত ৩ ডিসেম্বর চিন্ময়ের জামিন শুনানিতে কোনো আইনজীবী কেন হাজির হতে পারেনি, সে বিষয়টিও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, “অব্যাহত হামলা ও মামলা এবং গণপিটুনির ভয়ে চিন্ময় কৃষ্ণ দাস ব্রহ্মচারীর পক্ষে কোনো আইনজীবী দাঁড়াতে পারেনি। যার কারণে জামিন শুনানি এক মাস পিছিয়ে ২ জানুয়ারি ২০২৫ ধার্য করেছেন আদালত।” আদালতে আইনজীবী দাঁড়াতে না দেওয়া বা দাঁড়াতে না পারার মত পরিবেশ সৃষ্টি করাকে ‘সম্পূর্ণ মানবাধিকার পরিপন্থী’ উল্লেখ করে দেশে বিদেশের মানবাধিকার সংগঠনগুলোর দৃষ্টিও আকর্ষণ করেছে সনাতনী জাগরণ জোট।

গত ৩ ডিম্বের জামিন শুনানির দিন আদালত চতুরে আইনজীবীদের বিক্ষোভ সমাবেশে চিন্ময়ের পক্ষে শুনানি করলে আদালতপাড়ায় গণপিটুনি দেওয়ার হুমকিও দেওয়া হয় বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়। বিবৃতিতে গত ৫ অগাস্ট সরকার পতনের দিন থেকে যত হামলা হয়েছে তার তথ্য এবং ‘ধর্ম অবমাননার’ নামে যাদেরকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে, তাদের তথ্য ও মামলার কপি পাঠানোর আহ্বান জানিয়েছে তারা।

খাদ্য মজুতে টান, বাড়ছে ঝুঁকি

চাল ও গমের অভ্যন্তরীণ সংগ্রহ উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে দেশে, একই সঙ্গে কমেছে খাদ্যশস্য আমদানি। ফলে সরকারি গুদামে খাদ্যের মজুত কমে আসছে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, এতে দেশে খাদ্যনিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত পরিস্থিতির উন্নতি না হলে চালের দাম বাড়তে পারে, যা সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রায় বড় ধরনের প্রভাব ফেলবে। খাদ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত সরকারি গুদামে মজুত ছিল ১০ লাখ ৯০ হাজার টন। অথচ চার মাস আগেও সরকারি গুদামে খাদ্যশস্যের মজুত ছিল প্রায় ১৮ লাখ টন।

চলতি আমন মৌসুমে ১০ লাখ টন ধান, চাল ও গম সংগ্রহের লক্ষ্য ঠিক করেছে সরকার। তবে ১৭ নভেম্বর থেকে ৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত ১৫ দিনে সরকারি গুদামে সংগ্রহ হয়েছে মাত্র ২৪ হাজার টন, যা দৈনিক গড়ে ১ হাজার ৭১৪ টন। অথচ দৈনিক সংগ্রহ হওয়ার কথা ১১ হাজার টনের বেশি। এই ধীরগতির কারণে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে লক্ষ্যমাত্রা পূরণ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।

যেখানে মানুষের কল্যান নেই , সেই দেশপ্রেমর দরকার কী ? – মহিউদ্দিন আহমদ

… এ দেশের মানুষ নানা কারণে ভারতবিরোধী। মূল কারণ দুটি। প্রথমত, এটা হিন্দু-মুসলমানের ঝগড়া। এটা চলছে, চলবে, যত দিন মানুষ তার ধর্মীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেবে। ভারত হয়েছে হিন্দুরাষ্ট্র, বাংলাদেশ হয়েছে মুসলমানের দেশ। তাই অযোধ্যায় মসজিদ ভাঙা হলে এখানে মন্দির ভাঙচুর হয়। এসব কারা করে? আমরা অনেক সময় বলি এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা। আমরা দাবি করি, এখানে সম্প্রীতির ফুরফুরে বাতাস বয়ে যাচ্ছে নিরবধি। কতিপয় দুষ্কৃতকারী এসব হীন কাজ করে আমাদের মধ্যকার সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়। সমস্যা হলো বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো নিয়মিত ঘটছে। যারা ঘটায়, তারা বলে কেন, ইন্ডিয়া তো এটা করেছে।

… মাঠ কে কত গরম রাখতে পারেন, এখন চলছে তার প্রতিযোগিতা। তা ছাড়া নজর কাড়ার ব্যাপারও আছে। সব মিলিয়ে একটা যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব। … যুদ্ধ মানেই হত্যা, ধ্বংস, ক্ষয়। … যুদ্ধ যারা চান, তারা যুদ্ধ করেন না। তবে যুদ্ধের ফসল পকেটে পুরতে তারা সবার আগে হাজির হন। এটা তো আমাদের চোখের সামনেই দেখা। … একটা নিরুপদ্রব জনপদে অশান্তি তৈরি করে সেটি ছারখার করে দেওয়ার লোক আছে অনেক। …বুয়েটের কোনো এক জায়গায় কে বা কারা ভারতের একটা পতাকা রেখে দিয়েছিল, যাতে অন্যরা সেটা মাড়িয়ে যায়। এর প্রতিক্রিয়া হলো কলকাতায়, আগরতলায়।

বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কখনোই চলেনি। কখনো ভালো, কখনো মন্দ। কখনো গলাগলি, কখনো আড়াআড়ি। একটি ছোট ও দুর্বল প্রতিবেশীর সঙ্গে কীভাবে শান্তিতে সহাবস্থান করতে হয়, ভারত সেটি শেখেনি। একটি বড় ও শক্তিশালী প্রতিবেশীর সঙ্গে কীভাবে সমমর্যাদা নিয়ে টিকে থাকার কৌশল রপ্ত করতে হয়, এটি বাংলাদেশ শেখেনি।এ অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ শান্তিপ্রিয়।… জাতীয় পতাকাকে মাড়িয়ে যাওয়ার বুদ্ধি কার মাথায় প্রথম এসেছিল, জানি না। কিন্তু এর ফলে অর্জন কী হলো? উগ্র রাষ্ট্রবাদকে উসকে দেওয়া হলো। এর সঙ্গে দেশপ্রেমের কোনো সম্পর্ক নেই।… যেখানে মানুষের কল্যাণ নেই, সেই দেশপ্রেমের দরকার কী?

আরেক দিকে আছে ধর্মান্ধতা। ধর্মান্ধতার সঙ্গে ধর্মের কোনো যোগ নেই। উগ্র রাষ্ট্রবাদ আর ধর্মান্ধতা মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। আমাদের এই অঞ্চলে অনেক বছর ধরেই উগ্র রাষ্ট্রবাদ আর ধর্মান্ধতার নিবিড় চাষ হচ্ছে। এর ফলে লাভবান হচ্ছে একশ্রেণির রাজনৈতিক ফড়িয়া। তাদের তরক্কি বাড়ছে তরতর করে। … আমরা একটা গভীর অসুখের মধ্যে পড়েছি। দেশ যাচ্ছে ক্রমাগত খাদের কিনারায়। … অন্যদিকে অনেকেই নিরাপদ দূরত্বে থেকে ডুগডুগি বাজাচ্ছে। দৈনিক প্রথম আলো প্রকাশিত কলামের সংক্ষেপ।

ঐক্য করতে গিয়ে বাকশাল করলে তা কাজে আসবে না – মঈন খান

বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মঈন খান বলেছেন, ‘জাতি – ধর্ম – বর্ণ নির্বিশেষে ঐক্য অবশ্যই প্রয়োজন। এতে কারও কোনো দ্বিমত থাকতে পারে না। কিন্তু এই প্রশ্নে সতর্ক করে দিতে চাই, একটা কথা আছে, “ইউনিটি ইন ডাইভার্সিটি ”।আমরা ঐক্য করতে গিয়ে যদি আবার বাকশাল করে ফেলি, তাহলে কিন্তু সেই ঐক্যে কাজ হবে না। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে। ডেমোক্রেসি মুখে বলা সহজ, কিন্তু বাস্তবে রূপদান করা কিন্তু এত সহজ না।’ বৃহস্পতিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে আন্তর্জাতিক ফারাক্কা কমিটি আয়োজিত স্মরণসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মঈন খান বলেন : ‘শুধু ঐক্য নয়, ঐক্য ও বৈচিত্রে আমরা সামনের দিকে এগিয়ে যাব। এটাই আমাদের প্রত্যাশা।’ তিনি আরো বলেন, স্বৈরাচার পালালেও দেশে গণতন্ত্র পুরোপুরি ফিরে আসেনি। প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে। অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে বিএনপি নেতা বলেন, ‘আজ সংস্কারের কথা বলছেন, খুব ভালো কথা। সংস্কার তো লাগবেই। কিছু মনে করবেন না, আমি স্পষ্ট ভাষায় বলে দিই, আমরা যতক্ষণ পর্যন্ত না নিজেরা নিজেদের সংস্কার না করব, ততক্ষণ কোনো সংস্কারই কাজে আসবে না।’

পতাকার ওপর হেঁটে ভারতের হাতে অস্ত্র তুলে দেয়া হচ্ছে – আনু মুহাম্মদ

বুধবার সন্ধ্যায় রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয়ে আলোচনা সভায় অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেছেন, ‘ভারতের পতাকার ওপর দিয়ে হেঁটে গিয়ে নিজের মধ্যে একটা আনন্দ হতে পারে। কিন্তু এটা যারা করছে, তারা বাংলাদেশেরই বড় ধরনের ক্ষতি করছে। ভারতের পতাকার ওপর দিয়ে হেঁটে গিয়ে ভারতের ক্ষতি হচ্ছে না, বরং ভারতের যারা বাংলাদেশবিরোধী চক্রান্ত করছে, তাদের জন্য একটি নতুন পুঁজির সরবরাহ করা হলো। তাদের হাতে একটি অস্ত্র তুলে দেওয়া হলো। এ ধরনের কাজ করে ভারতবিরোধিতা হবে না।’

গণতান্ত্রিক অধিকার কমিটির সদস্য আনু মুহাম্মদ আরও বলেন, ‘ভারতের আধিপত্যবাদের বিরোধিতা করতে হলে ভারতের সঙ্গে হওয়া চুক্তি নিয়ে কথা বলতে হবে। কারণ, শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘আমরা যা দিয়েছি, ভারত তা চিরদিন মনে রাখবে।’ তিনি আসলে কী কী দিয়েছেন এবং চুক্তি করেছেন, সেই তথ্য উপাত্ত যেহেতু বর্তমান সরকারের কাছে রয়েছে, সেটি দেশের জনগণের কাছে প্রকাশ করতে হবে। তার মধ্যে যেগুলো জাতীয় স্বার্থবিরোধী, সেগুলো কীভাবে বাতিল করা যায়, সেই পথ তৈরি করতে হবে।’

অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘বাংলাদেশে হিন্দুদের ওপর অত্যাচার হচ্ছে, এটা ভারতের একটি অস্ত্র। তাদের দেশের হিন্দুরা কী অবস্থায় রয়েছে? পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে বেশিসংখ্যক গরিব বাস করে ভারতে। আর এদের সংখ্যাগরিষ্ঠ হচ্ছে হিন্দু।তাদের জন্য ভারত সরকার কী করেছে? ভারতের কাশ্মীর, অন্ধ্র প্রদেশ, আসামসহ মোট জনসংখ্যার প্রায় এক-তৃতীয়াংশ সামরিক শাসনে রয়েছে। তাদের ধর্মও তো হিন্দু। তুমি নির্যাতন করছ, শোষণ করছ, তাদের না খাইয়ে রাখছ। অথচ তোমার মনে হচ্ছে, তুমি বাংলাদেশের হিন্দুদের প্রতি প্রেমাসক্ত। এটা তো তোমার আসল প্রেম নয়, এটা তোমার অস্ত্র।’

ভারতের অপপ্রচার রোধে একটি সেল গঠন করা উচিত বলে মন্তব্য করেন আনু মুহাম্মদ। তিনি বলেন, ‘বৈষম্যহীন বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠাই গণতান্ত্রিক রূপান্তরের মূল জিনিস। গত ১৫ বছরে মাথাপিছু আয় বৃদ্ধির অন্তরালে মূলত বৈষম্যই বেড়েছে।’ আনু মুহাম্মদ আরো বলেন- ‘সংবিধানের মধ্যে একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধের কারণে বৈষম্য নিপীড়নের বিরুদ্ধে, মৌলিক অধিকারের পক্ষে অনেক ধারা আছে। কিন্তু কোনো সরকারই সেটি নিয়ে কাজ করেনি।প্রত্যেকটি সরকারই এই সংবিধান লঙ্ঘন করেছে। শ্রেণি ও ক্ষমতার স্বার্থে সংশোধন করতে করতে এই সংবিধানকে স্বৈরতন্ত্রী, সাম্প্রদায়িক ও বৈষম্যবাদীতে পরিণত করেছে।’

তৈরি পোশাকশিল্প : মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে সিদ্ধান্ত ছাড়াই সভাশেষ হল

তৈরি পোশাকশিল্পের মালিক ও শ্রমিক পক্ষের বৈঠক কোনো সিদ্ধান্ত ছাড়া শেষ হয়েছে। নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত পোশাক-শ্রমিকদের বার্ষিক মজুরি বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্ট আগের ৫% এর সঙ্গে ২% বাড়িয়ে ৭% করতে চান মালিকেরা। শ্রমিকেরা চান ১২%।

ন্যূনতম মজুরি পুনর্মূল্যায়ন ও বার্ষিক মজুরি বৃদ্ধি নিয়ে মালিক ও শ্রমিকপক্ষের শ্রম মন্ত্রণালয় গঠিত কমিটির চতুর্থ বৈঠক হয় মঙ্গলবার। মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব সবুর হোসেনের সভাপতিত্বে বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মালিক ও শ্রমিকপক্ষের ছয়জন প্রতিনিধি।

প্রায় আড়াই ঘণ্টা ধরে চলা বৈঠকে মালিক ও শ্রমিকপক্ষ নিজেদের দাবির পক্ষে যুক্তি তুলে ধরে। মালিকপক্ষ ৭% ইনক্রিমেন্ট দিতে রাজি আছে জানালে শ্রমিকপক্ষ আগের অবস্থান থেকে সরে এসে ১২% দাবি করে। গত ৪ নভেম্বর কমিটির দ্বিতীয় সভায় শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধিরা নিম্নতম মজুরি পুনর্নির্ধারণ না হওয়া পর্যন্ত বার্ষিক মজুরি ১৫% বৃদ্ধির প্রস্তাব দেন। কমিটির তৃতীয় বৈঠকে মালিকপক্ষ নিয়মিত ৫ শতাংশের সঙ্গে অতিরিক্ত ১% সহ মোট ৬% মজুরি বৃদ্ধির প্রস্তাব দেয়। বৈঠকে শেষ পর্যন্ত বার্ষিক মজুরি কত শতাংশ বাড়বে, সে বিষয়ে সমঝোতা না হওয়ায় আগামী সপ্তাহে আবার কমিটির বৈঠক করার সিদ্ধান্ত হয়

উপস্থিত ছিলেন নিট পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিকেএমইএর নির্বাহী সভাপতি ফজলে শামীম এহসান, তৈরি পোশাকশিল্প মালিকদের সংগঠন বিজিএমইএর সহায়ক কমিটি সদস্য এ এন এম সাইফুদ্দিন ও বাংলাদেশ এমপ্লয়ার্স ফেডারেশনের মহাসচিব ফারুক আহাম্মাদ এবং জাতীয়তাবাদী শ্রমিক দলের কেন্দ্রীয় কমিটির যুববিষয়ক সম্পাদক মোহাম্মদ খোরশেদ আলম, বাংলাদেশ গার্মেন্টস অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রিয়াল শ্রমিক ফেডারেশনের সাধারণ সম্পাদক বাবুল আখতার ও বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহসভাপতি কবির আহম্মেদ।

বাবুল আখতার বলেন, ‘মজুরি বাড়ানোর প্রসঙ্গ এলেই মালিকপক্ষ কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার ভয় দেখায়। অথচ বছর বছর পোশাক রপ্তানি বাড়ছে। আবার প্রতিবছরই কিছু নতুন কারখানা হয়, আবার কিছু কারখানা বন্ধও হয়-পোশাক খাতে এটা নিয়মিত চিত্র। ক্রয়াদেশ পেতে মালিকেরা চুপি চুপি কম দামে ক্রয়াদেশ নেন। ফলে আমরা বাস্তবতার ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে অনুরোধ করেছি।’

ফজলে শামীম এহসান বলেন, গত বছর নিম্নতম মজুরি ৫৬% বেড়েছে। ফলে নতুন করে আবার ১২% মজুরি বাড়ানো কারখানাগুলোর পক্ষে কঠিন। শ্রমিকপক্ষের প্রতিনিধি যে দাবি করেছেন, সেই দাবি ২০-২৫% কারখানা পূরণ করতে পারলেও বাকিরা পারবে না। ধীরে ধীরে কারখানা বন্ধ হয়ে যাবে। এ কারণে ৭% বার্ষিক মজুরি বৃদ্ধির প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

ক্ষতিকর তেল ৮৭% হোটেল , রেস্তোরাঁয়

সম্প্রতি রাজশাহীর বেশ কিছু খাবারের দোকানের তেল পরীক্ষা করেছে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ। ওলিও টেস্ট কিটের মাধ্যমে রাজশাহী শহর এবং গোদাগাড়ী ও পুঠিয়ায় ৮৭% হোটেল ও রেস্তোরাঁয় ক্ষতিকর তেলে রান্নার প্রমাণ মিলেছে। আর প্রায় ৫৮% খাবার দোকানের রান্নায় যে তেল ব্যবহৃত হচ্ছে, তা খাবার অনুপযোগী। চিকিৎসকরা বলছেন, দীর্ঘ মেয়াদে এমন তেলের খাবার খেলে ক্যানসার, কিডনি, হৃদরোগসহ নানা ধরনের সমস্যা দেখা দিতে পারে শরীরে। যার পরিণতিতে হতে পারে মৃত্যুও।

নভেম্বর মাসে প্রতিষ্ঠানটি জেলার গোদাগাড়ী ও পুঠিয়ায় ১৬টি হোটেল ও রেস্তোরাঁর তেল পরীক্ষা করে। এ ছাড়া রাজশাহী নগরীর ২২টি রেস্তোরাঁয় তেল পরীক্ষা করা হয়। পরীক্ষায় প্রাপ্ত ফলে ৮৭% তেলেই ক্ষতিকর পোলার ম্যাটেরিয়াল পাওয়া যায়। এর মধ্যে ৫৭.৮৯% খাবারের দোকানে বেশি ক্ষতিকর তেলের ব্যবহার দেখা গেছে। মূলত এসব দোকানে পোড়া তেল দিয়ে খাবার তৈরি করা হচ্ছিল।

ইসরায়েলি সেনাদের বর্ণনায় গাজায় গণহত্যা – যুদ্ধাপরাধ !

বেসামরিক জনগণের ওপর হামলা, শিশুদের হত্যা করা, ফিলিস্তিনিদের বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেয়া, সম্পদ চুরি করাসহ ইসরায়েলি সেনাদের বিভিন্ন যুদ্ধাপরাধের ভয়াবহ বর্ণনা উঠে এসেছে বিবিসির এক প্রতিবেদনে। গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর চলমান গণহত্যায় অংশ নেওয়া ইসরায়েলি সেনাদের একটি অংশ যুদ্ধক্ষেত্রের ভয়াবহতা দেখে ও যুদ্ধাপরাধের অনুতাপ থেকে তাদের নাম প্রত্যাহার করেছেন। গাজায় যেতে অস্বীকৃতি জানানো এসব সেনার বর্ণনায় উঠে এসেছে গাজায় ১৪ মাস ধরে চলা ইসরায়েলি গণহত্যা ও যুদ্ধাপরাধের ভয়াবহতা।

দেশ আক্রমণের মুখে, দেশকে রক্ষার চিন্তা থেকেই যুদ্ধে যোগ দিয়েছিলেন ২৬ বছর বয়সী ইসরায়েলি যুবক ইউভাল গ্রিন। হামাসের কাছে জিম্মি ইসরায়েলিদের মুক্ত করাই ছিল তার প্রাথমিক লক্ষ্য। কিন্তু যুদ্ধের ময়দান তার পুরোনো ভাবনায় নাড়া দেয়। ইউভাল বলেন, ‘গাজার পুরো জনসংখ্যাকে হত্যার কথা বলা হচ্ছিল, যেন এটা বইয়ে থাকা কোনো স্বাভাবিক ধারণা। তাদের এসব কথা শুনে সেনারা গাজায় ঢুকেছে। (হামাসের হামলায়) তাদের অনেকের আত্মীয়স্বজন নিহত হয়েছে, আবার তারা অন্য সেনাদের মৃত্যুর খবরও শুনছে।’

ইউভাল বলেন, ‘আমি এসবের বিরুদ্ধে যতটা সম্ভব কথা বলার চেষ্টা করতাম। কিন্তু বাস্তবতা হচ্ছে, (ইসরায়েলি ক্যাম্পে) মানবতা বিবর্জিত, প্রতিশোধমূলক মানসিকতা বিরাজ করছিল।’ ‘তারা একটি বাড়ি পুড়িয়ে দেওয়ার আদেশ দেয়। কোনো যুক্তিসঙ্গত কারণ ছাড়া একজনের বাড়ি পোড়াতে রাজি ছিলাম না আমি। তাই আমি না করি এবং সেখান থেকে চলে আসি।’ ইসরায়েলের ‘আত্মরক্ষার’ চিন্তাধারা থেকে যুদ্ধে যোগ দেওয়া আরেক বলেন, ‘আমি বুঝতে পারি, ইসরায়েলিদের সুরক্ষার জন্য অভিযান পরিচালিত হচ্ছে না।’ তিনি জানান, প্রায়শই সহকর্মীদের গাজায় নিরীহ ফিলিস্তিনিদের নির্যাতন করে সেটা নিয়ে বাহাদুরি করতে শুনেছেন তিনি।

পশ্চিমা যুদ্ধ – পর্যটকদের ভিড় ইউক্রেনে !

এএফপি রিপোর্ট: ইউক্রেনের ডজনখানেক কোম্পানি ‘কালো পর্যটন’ নাম দিয়ে পর্যটকদের যুদ্ধের ঘটনাস্থলগুলো ঘুরে দেখানোর ব্যবস্থা করছে। এই বিশেষায়িত খাতটি নিতান্ত ছোট। তবে এটা বড় হচ্ছে। ‘ওয়ার ট্যুর’সহ বেশ কয়েকটি কোম্পানি ইউক্রেন যুদ্ধের উল্লেখযোগ্য স্থানগুলো ভ্রমণের ব্যবস্থা করেছে। তারা জানিয়েছে, গত জানুয়ারি থেকে নভেম্বর পর্যন্ত ৩০ জুন পর্যটক পেয়েছে। এই পর্যটকদের বেশির ভাগই ইউরোপের বিভিন্ন দেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক। আর এই ভ্রমণের জন্য জনপ্রতি ১৫৭ ডলার থেকে ২৬২ ডলার খরচ করতে হয়েছে তাদের।

ওয়ার ট্যুরের সহপ্রতিষ্ঠাতা দিমিত্রি নিকিফরোভ বলেন, তাঁদের লভ্যাংশের অংশ সেনাবাহিনীকে দেন তাঁরা। তিনি বলেন, ‘বিষয়টা টাকা আয়ের নয়। এটা হচ্ছে যুদ্ধের স্মারক ধরে রাখার ব্যাপার।’ সাধারণত কিয়েভ ও এর শহরতলির আশপাশ ঘিরেই এ ধরনের ভ্রমণের ব্যবস্থা করা হয়। তবে কিছু কিছু কোম্পানি যুদ্ধক্ষেত্রের আরেকটু কাছাকাছি ভ্রমণের ব্যবস্থা করছে। এর মধ্যে দক্ষিণ ইউক্রেনের মতো জায়গা রয়েছে। সেখানে কয়েক দিনের ভ্রমণের জন্য জনপ্রতি খরচ ৩ হাজার ৩০০ ইউরো।