… এ দেশের মানুষ নানা কারণে ভারতবিরোধী। মূল কারণ দুটি। প্রথমত, এটা হিন্দু-মুসলমানের ঝগড়া। এটা চলছে, চলবে, যত দিন মানুষ তার ধর্মীয় পরিচয়কে প্রাধান্য দেবে। ভারত হয়েছে হিন্দুরাষ্ট্র, বাংলাদেশ হয়েছে মুসলমানের দেশ। তাই অযোধ্যায় মসজিদ ভাঙা হলে এখানে মন্দির ভাঙচুর হয়। এসব কারা করে? আমরা অনেক সময় বলি এসব বিচ্ছিন্ন ঘটনা। আমরা দাবি করি, এখানে সম্প্রীতির ফুরফুরে বাতাস বয়ে যাচ্ছে নিরবধি। কতিপয় দুষ্কৃতকারী এসব হীন কাজ করে আমাদের মধ্যকার সম্প্রীতি নষ্ট করতে চায়। সমস্যা হলো বিচ্ছিন্ন ঘটনাগুলো নিয়মিত ঘটছে। যারা ঘটায়, তারা বলে কেন, ইন্ডিয়া তো এটা করেছে।
… মাঠ কে কত গরম রাখতে পারেন, এখন চলছে তার প্রতিযোগিতা। তা ছাড়া নজর কাড়ার ব্যাপারও আছে। সব মিলিয়ে একটা যুদ্ধ যুদ্ধ ভাব। … যুদ্ধ মানেই হত্যা, ধ্বংস, ক্ষয়। … যুদ্ধ যারা চান, তারা যুদ্ধ করেন না। তবে যুদ্ধের ফসল পকেটে পুরতে তারা সবার আগে হাজির হন। এটা তো আমাদের চোখের সামনেই দেখা। … একটা নিরুপদ্রব জনপদে অশান্তি তৈরি করে সেটি ছারখার করে দেওয়ার লোক আছে অনেক। …বুয়েটের কোনো এক জায়গায় কে বা কারা ভারতের একটা পতাকা রেখে দিয়েছিল, যাতে অন্যরা সেটা মাড়িয়ে যায়। এর প্রতিক্রিয়া হলো কলকাতায়, আগরতলায়।
বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্ক কখনোই চলেনি। কখনো ভালো, কখনো মন্দ। কখনো গলাগলি, কখনো আড়াআড়ি। একটি ছোট ও দুর্বল প্রতিবেশীর সঙ্গে কীভাবে শান্তিতে সহাবস্থান করতে হয়, ভারত সেটি শেখেনি। একটি বড় ও শক্তিশালী প্রতিবেশীর সঙ্গে কীভাবে সমমর্যাদা নিয়ে টিকে থাকার কৌশল রপ্ত করতে হয়, এটি বাংলাদেশ শেখেনি।এ অঞ্চলের অধিকাংশ মানুষ শান্তিপ্রিয়।… জাতীয় পতাকাকে মাড়িয়ে যাওয়ার বুদ্ধি কার মাথায় প্রথম এসেছিল, জানি না। কিন্তু এর ফলে অর্জন কী হলো? উগ্র রাষ্ট্রবাদকে উসকে দেওয়া হলো। এর সঙ্গে দেশপ্রেমের কোনো সম্পর্ক নেই।… যেখানে মানুষের কল্যাণ নেই, সেই দেশপ্রেমের দরকার কী?
আরেক দিকে আছে ধর্মান্ধতা। ধর্মান্ধতার সঙ্গে ধর্মের কোনো যোগ নেই। উগ্র রাষ্ট্রবাদ আর ধর্মান্ধতা মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ। আমাদের এই অঞ্চলে অনেক বছর ধরেই উগ্র রাষ্ট্রবাদ আর ধর্মান্ধতার নিবিড় চাষ হচ্ছে। এর ফলে লাভবান হচ্ছে একশ্রেণির রাজনৈতিক ফড়িয়া। তাদের তরক্কি বাড়ছে তরতর করে। … আমরা একটা গভীর অসুখের মধ্যে পড়েছি। দেশ যাচ্ছে ক্রমাগত খাদের কিনারায়। … অন্যদিকে অনেকেই নিরাপদ দূরত্বে থেকে ডুগডুগি বাজাচ্ছে। দৈনিক প্রথম আলো প্রকাশিত কলামের সংক্ষেপ।


