Home Blog Page 223

সম্প্রসারণের ধারায় দেশের অর্থনীতি

অক্টোবরের পর নভেম্বরেও দেশের অর্থনীতিতে সম্প্রসারণ হয়েছে। কৃষি, উৎপাদন ও সেবা খাতের ওপর ভর করে অর্থনীতির এ সম্প্রসারণ। ফলে নভেম্বর মাসের পারচেজিং ম্যানেজার্স ইনডেক্স বা পিএমআইয়ের সার্বিক মান বেড়েছে। ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের সংগঠন মেট্রোপলিটন চেম্বার অব কমার্স (এমসিসিআই) ও গবেষণা প্রতিষ্ঠান পলিসি এক্সচেঞ্জ যৌথভাবে পিএমআই সূচক প্রণয়ন করছে। নভেম্বর মাসের পিএমআই প্রকাশ করা হয় রোববার। তাতে বিভিন্ন সূচকের ভিত্তিতে গত মাসে অর্থনীতির সম্প্রসারণের চিত্র তুলে ধরা হয়।

এর আগে জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর-তিন মাস দেশের অর্থনীতি সংকোচনের ধারায় ছিল। অক্টোবর থেকে তা সম্প্রসারণের ধারায় ফিরেছে।
অর্থনীতির মূল চারটি খাত কৃষি, উৎপাদন, নির্মাণ ও সেবা কার্যক্রমের ভিত্তিতে পিএমআই তৈরি করা হয়। পিএমআই ৫০ পয়েন্টের বেশি থাকা মানে অর্থনীতি সম্প্রসারণের ধারায় রয়েছে। নভেম্বরে পিএমআই দাঁড়িয়েছে ৬২.২ পয়েন্ট। অক্টোবরে সূচকটির মান ছিল ৫৫.৭ পয়েন্ট। মেট্রো চেম্বার ও পলিসি এক্সচেঞ্জ যৌথভাবে চলতি বছরের মে মাসে প্রথম পিএমআই প্রকাশ করে। চার খাতের উদ্যোক্তা ও প্রতিষ্ঠানের প্রধান নির্বাহীদের মতামতের ভিত্তিতে সংশ্লিষ্ট খাতের সূচকের মান নির্ধারণ করা হয়।

নভেম্বরের পিএমআই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- কৃষি খাতে নতুন ব্যবসা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমের দ্রুত সম্প্রসারণ হয়েছে। যদিও কর্মসংস্থানের গতি এই খাতে কম। উৎপাদন খাতের নতুন ক্রয়াদেশ, রপ্তানি, কারখানায় উৎপাদন-সব ক্ষেত্রেই গতি আগের চেয়ে বেড়েছে। এমনকি এই খাতের আমদানি, কর্মসংস্থান, সরবরাহের ক্ষেত্রেও প্রথমবারের মতো সম্প্রসারণ হয়েছে। সেবা খাতে কর্মসংস্থানে গতি ফিরেছে গত মাসে। সেই সঙ্গে নতুন ব্যবসা ও ব্যবসায়িক কার্যক্রমেও গতি রয়েছে। নির্মাণ খাত নভেম্বরে কিছুটা সংকোচনের ধারায় ফিরে গেছে।

জুলাই – আগস্ট হত্যাকাণ্ডের মামলায় চাঁদাবাজি হচ্ছে – ডিএমপি কমিশনার

জুলাই-আগস্টের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় করা বিভিন্ন মামলায় অসংখ্য লোককে আসামি করে এখন নাম কাটানোর কথা বলে বাদী চাঁদাবাজি করছে বলে জানিয়েছেন ডিএমপি কমিশনার এস এম সাজ্জাত আলী। এসব মামলার বাদীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি। রোববার নিজ কার্যালয়ে ক্রাইম রিপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের নির্বাহী কমিটির সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন- ‘ভুয়া মামলা হয়েছে, গায়েবি মামলা হয়েছে, মামলার আসামি দুইশ-তিনশ। নতুন করে যেটা শুরু হয়েছে, সেটা হলো বাদীরা প্রত্যেকের কাছ থেকে টাকা চাইছে। টাকা দাও, নাম কেটে দেবো বা মামলা উঠায় নেবো।’

ডিএমপি কমিশনার বলেন, ‘উদ্দেশ্যমূলকভাবে এত লোককে আসামি করে মামলা দায়ের করেছে। এক নম্বর আসামি শেখ হাসিনা, তারপর ৫-৭ জনকে রেখে, এরপর খোঁজখবর নিয়ে যার কাছে টাকা আছে, তাকেই আসামি করছে। এখন বাদী টাকা নিতেছে। আমি বলেছি বাদীদের বিরুদ্ধে মামলা করা শুরু করেন।’ তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে আমরা আইনগতভাবে দেখছি। মামলা ঠিক আছে, মামলা নষ্ট হবে না। অন্যভাবে মামলা দাঁড় করানো হবে।’

গেল সপ্তাহে ছুটির দিনেও ঢাকা ছিল বায়ুদূষণের শীর্ষে

সাধারণভাবে মনে করা হয়, যানবাহন চলাচল বেশি থাকলে বায়ু দূষণের মাত্রা বেড়ে যায়। কিন্তু গত শুক্রবার ছুটির দিনে সরকারি সব প্রতিষ্ঠান, স্কুল, কলেজ, কারখানা বন্ধ থাকা সত্ত্বেও বায়ুদূষণের তালিকায় প্রথম স্থানে ছিল ঢাকা। শুক্রবার (৬ ডিসেম্বর) সকাল ৮টা থেকে বেলা সোয়া ১১টা পর্যন্ত বায়ুর মানমাত্রা নির্ধারণকারী সংস্থা যুক্তরাষ্ট্রের এয়ার কোয়ালিটি ইনডেক্স (একিউআই) সূচকে দূষণে শীর্ষ অবস্থানেই ছিল ঢাকা। শুক্রবার ঢাকার দূষণের মাত্রা ১১টা ২৭ মিনিট পর্যন্ত বায়ুদূষণের মাত্রা ছিল ২৬৪, যা সকাল ৮টার দিকে ছিল ২৪২। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে লাহোর ২৪৬ আর দিল্লীতে ১৮৪।

একিউআই ০-৫০ থাকলে বায়ুর মান ভালো। ৫১-১০০ হলে সহনীয়, ১০১-১৫০ সংবেদনশীলদের জন্য অস্বাস্থ্যকর, ১৫১-২০০ অস্বাস্থ্যকর, ২০১-৩০০ হলে খুবই অস্বাস্থ্যকর এবং ৩০১ এর উপরে হলে তা দুর্যোগপূর্ণ পরিবেশ বলা হয়ে থাকে। বায়ুদূষণে বৃহস্পতিবার ঢাকার স্কোর ৩৪১কে ‘দুর্যোগপূর্ণ’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

সিরিয়া ছেড়ে পালিয়েছেন বাশার আল আসাদ

বাশার ও দামেস্কের পতন

রাজধানী দামেস্কে ঢুকে পড়েছে বিদ্রোহীরা। এই পরিস্থিতিতে আজ সকালে একটি উড়োজাহাজে চেপে পালিয়ে গেছেন দুই যুগেরও বেশি সময় ধরে দেশটির শাসক প্রেসিডেন্ট বাশার আল আসাদ। সিরিয়ার দুই শীর্ষ সেনা কর্মকর্তার বরাত দিয়ে রোববার এই তথ্য জানিয়েছে রয়টার্স। বিদ্রোহীরা জানিয়েছেন, তারা বিনা বাধায় রাজধানীতে প্রবেশ করেছেন। সরকারের সেনাবাহিনীর কাছ থেকে কোন ধরনের প্রতিরোধের মুখে পড়তে হয়নি তাদেরকে। কয়েক ঘণ্টা আগে বিদ্রোহীরা মাত্র এক দিনের যুদ্ধেই গুরুত্বপূর্ণ শহর হোমস দখলের ঘোষণা দেয়। সে সময়ই বাশারের ২৪ বছরের ইস্পাত কঠিন শাসনের ভাগ্য সুতোয় ঝুলতে শুরু করে।

ইতোমধ্যে সিরিয়ার প্রধানমন্ত্রী জানিয়েছেন, তিনি ক্ষমতা হস্তান্তর প্রক্রিয়ায় সহায়তা করতে রাজি। হোমসের পতনেই আসাদের নিয়তি নির্ধারণ হয়। কৌশলগত দিক দিয়ে গুরুত্বপূর্ণ এই অঞ্চলের মধ্য দিয়েই আসাদের মূল শক্তির কেন্দ্র থেকে দামেস্কের যোগাযোগ ছিল। হোমস হাতছাড়া হওয়ায় রুশ মিত্রদের নৌ ও বিমানঘাঁটির সঙ্গে দামেস্ক কার্যত বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। সিরিয়া ইস্যুতে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের সিরিয়ার পরিস্থিতি নিয়ে কিছু করার নেই। এটা আমাদের লড়াই নয়। যারা লড়ছে, তাদের লড়তে দিন। এর মধ্যে যুক্ত হওয়ার দরকার নেই।’

সিরিয়া পরিস্থিতি নিয়ে কাতারের দোহায় শনিবার বৈঠকের পর রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই লাভরভ, তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি বলেন পক্ষগুলো সিরীয় সরকার এবং বৈধ বিরোধী দলগুলোর মধ্যে রাজনৈতিক সংলাপ শুরুর বিষয়ে সম্মত হয়েছে। সিরিয়ার বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো তুরস্ক ও যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনপুষ্ট। অন্যদিকে বাশার আল আসাদের বাহিনীকে সহায়তা দিয়ে আসছে রাশিয়া ও ইরান। এ তিন দেশ ২০১৭ থেকে সিরিয়ায় রাজনৈতিক বন্দোবস্তের লক্ষ্যে আলোচনা চালিয়ে আসছে। সিরিয়ায় ২০১১ সালে গৃহযুদ্ধ শুরুর পর থেকে কাতার বিদ্রোহীদের সমর্থন দিয়ে আসছে। এখন তারা এ সংঘর্ষ থামাতে আলোচনার আহ্বান জানিয়েছে।

গত ২৭ নভেম্বর হায়াত তাহরির আল শামের (এইচটিএস) নেতৃত্বে বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলো সরকারি বাহিনীর ওপর আকস্মিক হামলা শুরু করে। আল কায়েদার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট একটি সংগঠন থেকে বের হয়ে এইচটিএস গঠিত হয়। এইচটিএসের নেতৃত্বে ঘটনার আকস্মিকতায় দৃশ্যত অপ্রস্তুত হয়ে পড়ে সরকারি বাহিনী। বিদ্রোহীরা সিরিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর আলেপ্পো দখল করে নেয়। এরপর গত বৃহস্পতিবার মধ্যাঞ্চলীয় হামা শহর থেকে পিছু হটে সরকারি বাহিনী। এর পর থেকে একে একে অন্য শহরগুলোর নিয়ন্ত্রণ হারাচ্ছে আসাদের সরকারি বাহিনী। এর আগে যুদ্ধে বাশার আল আসাদের বাহিনী এত অল্প সময়ের মধ্যে এত গুরুত্বপূর্ণ শহরের নিয়ন্ত্রণ হারায়নি।

আল জাজিরা জানিয়েছে সিরিয়ার পরিস্থিতিতে যৌথ বিবৃতি দিয়েছে পাঁচ আরব দেশসহ আট দেশ। কাতার, সৌদি আরব, জর্দান, মিশর, ইরাক, ইরান, তুরস্ক ও রাশিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা সতর্ক করে বলেছেন, উদ্ভূত পরিস্থিতি সিরিয়ার নিরাপত্তার জন্য বিপজ্জনক।বিবৃতিতে বলা হয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা জোর দিয়ে বলেছেন, সিরিয়ায় সব পক্ষকে রাজনৈতিক সমাধান খুঁজতে হবে, যা সামরিক অভিযান বন্ধ করবে এবং সাধারণ মানুষের সুরক্ষা নিশ্চিত করবে।

সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ‘সেলফ সেন্সরশিপ’ চলছে

শনিবার দলের বনানী কার্যালয়ে আলোচনা সভায় সভাপতির বক্তব্যে জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন – ‘প্রধান উপদেষ্টা একটি জাতীয় ঐক্যের ডাক দিয়ে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের সাথে মতবিনিময় করেছেন। এতে জাতীয় ঐক্যের নামে ‘জাতীয় অনৈক্যের’ সূচনা হল। ৪৮টি নিবন্ধিত দলের মধ্যে মাত্র ১৮টি দলের সাথে মতবিনিময় করেছেন তিনি। আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টিকে বাদ দিয়ে দেশের ৫০ শতাংশ মানুষের প্রতিনিধিত্বকারী দলকে জাতীয় ঐক্যের ডাকের বাইরে রাখা হয়েছে, সংলাপের বাইরে রাখা হয়েছে।’

জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার কি সবার মতামতের ভিত্তিতে সংস্কার করছে? এখন দেখা যাচ্ছে ঐক্যের চেয়ে প্রতিশোধের বিষয়টি সামনে আসছে। হত্যা মামলায় লাখ লাখ মানুষকে আসামি করা হচ্ছে।’ জি এম কাদের বলেন, ‘আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, প্রশাসন ও বিচার বিভাগ হতাশাগ্রস্ত। ইচ্ছা করে সবাই শেখ হাসিনার অপকর্মে জড়ায়নি। সবাইকে ঢালাও অপরাধী বানিয়ে বাদ দিলেন; শূন্যস্থানগুলোতে নিয়োগে দলীয়করণ হয়েছে। তারা সরকারের চেয়ে নিয়োগদাতাদের কথা বেশি শুনছে। এমন প্রশাসন দিয়ে কীভাবে সংস্কার ও নির্বাচন হবে?’

‘শক্তিশালী রাজনৈতিক দলগুলোর কাছে’ অন্তর্বর্তী সরকার ‘জিম্মি’ হয়ে পড়েছে বলেও অভিযোগ করেন জি এম কাদের। তিনি বলেন, ‘মনে হচ্ছে অন্তর্বর্তী সরকার যা করতে চায়, তা করতে পারছে না।’ ব্যবসায়ীসহ সব পেশাজীবীরাও দেশের পরিস্থিতি দেখে চিন্তিত ও দুর্দশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছে বলেও দাবি করেন জাতীয় পার্টির নেতা।

জি এম কাদের বলেন, ‘আমরা জানি, আপনারা সবাই ভালো মানুষ। কিন্তু কাজ করার শক্তি অন্তর্বর্তী সরকার হারিয়ে ফেলেছে। মানুষকে পথেঘাটে নির্যাতন করা হচ্ছে। আমাদের লোকজন ভোট দিতে পারবে? আমাদের নেতাকর্মীরা নির্বাচনের মাঠে দাঁড়াতে পারবে? আওয়ামী লীগের মতো কয়েকটি দল নিয়ে একতরফা নির্বাচন করে সব পাশ করিয়ে দিলে, তা টেকসই হবে? এমন সংস্কারে কি রাষ্ট্র এগিয়ে যাবে? অস্থিরতা কি থামবে? একতরফা নির্বাচনের জন্য শেখ হাসিনা নিন্দা করা হয়, আপনারা কি একই জিনিস করবেন? নির্বাচন হতে হবে অবাধ, নিরপেক্ষ এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক। কোনো রাজনৈ-ি তক দল যদি সন্ত্রাসী সংগঠন না হয়, রাজনীতি ও ও নির্বাচন থেকে বাইরে রাখা যাবে না।’

সংবাদমাধ্যমে ব্যাপকভাবে ‘সেলফ সেন্সরশিপ’ চলছে মন্তব্য করে জাতীয় পার্টির নেতা বলেন, ‘সাংবাদিকরা ভয়ভীতির মধ্যে দিন কাটাচ্ছে। নির্বিচারে আমাদের লোকদের ‘মিথ্যা মামলায়’ জড়ানো হচ্ছে। গ্রেপ্তার করা হচ্ছে কিন্তু জামিন দেওয়া হচ্ছে না, আমরা বিভিন্নভাবে নির্যাতিত হচ্ছি।’ ‘আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা উচিত হবে না’ এমন অবস্থানের কথা তুলে ধরে জি এম কাদের বলেন, ‘আওয়ামী লীগের যারা দোষ করেছে তাদের তদন্তের মাধ্যমে বিচারের মুখোমুখি করুন। ‘আন্দাজে’ মামলা দিয়ে কাউকেই শাস্তি দেওয়া ঠিক নয়। একটি সংগঠনের সবাই কি অপরাধী?’

বাংলাদেশে পাকিস্তানিদের ভিসানীতি শিথিল , ভারতের উদ্বেগ

শনিবার (৭ ডিসেম্বর) ভারতের সংবাদমাধ্যম এনডিটিভিতে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে পাকিস্তানি নাগরিকদের ভিসার জন্য আবেদন করার আগে নিরাপত্তা ছাড়পত্রের প্রয়োজনীয়তা তুলে দিয়েছে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকার। আর এতে নিরাপত্তা উদ্বেগ বেড়েছে ভারতের। ২০১৯ সালে বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্কের টানাপড়েন এবং নিরাপত্তা উদ্বেগের প্রেক্ষিতে এই সিকিউরিটি ক্লিয়ারেন্স বা নিরাপত্তা ছাড়পত্র নেওয়ার বিষয়টি বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। গত ২ ডিসেম্বর বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের নিরাপত্তা পরিষেবা বিভাগ (এসএসডি) এই শর্ত তুলে নেওয়ার ঘোষণা দেয়।

এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়, পাকিস্তানের নাগরিকদের জন্য বাংলাদেশের নিরাপত্তা ছাড়পত্র তুলে দেওয়া ভারতের নিরাপত্তার জন্য গুরুতর প্রশ্ন তুলেছে। বিশেষ করে উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ভারতীয় রাজ্যগুলোতে বাংলাদেশে ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক অবস্থানের পরিবর্তন এই অঞ্চলে চরমপন্থি গোষ্ঠীগুলোকে সহায়তা করতে পারে এমন উদ্বেগও বাড়ছে। এর আগে, গত নভেম্বর মাসে করাচি থেকে চট্টগ্রাম পর্যন্ত সরাসরি কার্গো জাহাজ চলাচলের অনুমতি দেওয়া হয়। ঢাকার নতুন কূটনৈতিক ও রাজনৈতিক দৃষ্টিভঙ্গিতে ভারতের অনিশ্চয়তা বাড়ছে।

বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নিপীড়ন নিয়ে ভারত সরকার বা বিজেপির কিছু বলার নৈতিক অধিকার নেই – পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সংগঠনের বিবৃতি

বাংলাদেশকে বাদ দিয়ে কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসব আয়োজনকে দুর্ভাগ্যজনক বলে উল্লেখ করেছে পশ্চিমবঙ্গের অন্যতম মানবাধিকার সংগঠন অ্যাসোসিয়েশন ফর প্রটেকশন অব ডেমোক্রেটিক রাইটস (এপিডিআর)। সাংস্কৃতিক ক্ষেত্রে আদান প্রদান বাধানিষেধ প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে সংগঠনটি বলেছে, এটা দুই বাংলার মানুষের জন্যই ক্ষতিকর। বাংলাদেশে শান্তি সেনা পাঠানো সংক্রান্ত মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের মন্তব্যেরও নিন্দা জানিয়েছে এপিডিআর। গত বুধবার দেওয়া পৃথক বিবৃতিতে এসব কথা বলেছে এপিডিআর। ১৯৭২ সালে প্রতিষ্ঠিত মানবাধিকার সংগঠন এপিডিআর নাগরিক ও গণতান্ত্রিক অধিকার প্রতিষ্ঠায় কাজ করে যাচ্ছে।

মমতার বক্তব্য প্রত্যাহারের দাবি জানিয়ে এপিডিআর ওই বিবৃতিতে বলেছে, পশ্চিমবঙ্গের বিরোধীদলীয় নেতা বিজেপির শুভেন্দু অধিকারীর সঙ্গে উগ্র হিন্দুত্বের প্রতিযোগিতায় নেমে বাংলাদেশে রাষ্ট্রপুঞ্জের (জাতিসংঘের) শান্তিবাহিনী পাঠানোর জন্য কেন্দ্রীয় সরকারের প্রতি আরজি জানিয়েছেন মুখ্যমন্ত্রী মমতা। বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বলপ্রয়োগের চিন্তা নয়, ভারতের উচিত বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনায় বসে সমস্যা কিছু থাকলে তার সমাধান খোঁজা। অবিলম্বে বাংলাদেশের সঙ্গে আলোচনায় বসুক ভারত সরকার। তাতে যুক্ত করুক পশ্চিমবঙ্গ সরকারকেও।’

বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপরে হামলায় উদ্বেগ প্রকাশ করে ১ ডিসেম্বর বিবৃতিতে এপিডিআর বলেছে, ‘শুধু সরকারি বিবৃতি দিয়ে নয়, জাতি ধর্ম নিরপেক্ষভাবে প্রকৃতই বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিককে রক্ষা করুক ইউনূস সরকার এটা এপিডআরের চাওয়া। এপিডিআর মনে করে, ইউনূস সরকার বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের জানমালের নিরাপত্তা দিতে না পারলে ভারতের সাম্প্রদায়িক শক্তি তার পূর্ণ সুযোগ নেবে। তাই সবারই উচিত এ ব্যাপারে সতর্ক থাকা।’

বিবৃতিতে ভারতে ক্ষমতাসীন দল বিজেপির ভূমিকারও কড়া নিন্দা করেছে এপিডিআর। তারা লিখেছে, ‘আমরা মনে করি, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু নিপীড়ন নিয়ে ভারত সরকার বা বিজেপির কোনো কিছু বলার নৈতিক অধিকারই নেই। ভারতেও সংখ্যালঘু মুসলমান, খ্রিষ্টান ও বৌদ্ধদের ওপরে লাগাতার নিপীড়ন চলছে। বাদ যাচ্ছে না দলিত, আদিবাসীরাও।’

দুই দেশের সাধারণ মানুষের ওপরে ভরসা রেখে তাদের মধ্যে যোগাযোগ ও আদান প্রদান বাড়ানোর ওপরে জোর দিয়েছে পশ্চিমবঙ্গের মানবাধিকার সংগঠনটি। একই সঙ্গে কোনো দেশেই সাম্প্রদায়িক শক্তিকে বাড়তে না দিতে সাধারণ মানুষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে তারা।

বিশ্বের শীর্ষ ১০ সুখী দেশ ও প্রকৃতির সাথে যোগ – জাতিসংঘের ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট

ফিনল্যান্ড

টানা ষষ্ঠবারের মতো জাতিসংঘের সুখী দেশের তালিকায় প্রথম হয়েছে ফিনল্যান্ড। দেশটির মানুষের জীবনযাত্রার মান খুবই উন্নত সংস্কৃতি সমৃদ্ধ। ইউরোপের দেশগুলোর মধ্যে ফিনল্যান্ডে প্রতি বর্গকিলোমিটারে সবচেয়ে বেশি বন রয়েছে। ফিনল্যান্ডের মানুষেরা প্রকৃতি খুব ভালোবাসেন। প্রকৃতির সঙ্গে তাদের নিবিড় যোগাযোগ রয়েছে। তারা নিয়মিত হাঁটতে যান, সাঁতার কাটেন, সাইকেল চালান। এভাবে নিয়মিত ঘুরতে যাওয়া, প্রকৃতির সান্নিধ্য পাওয়া তাদের সুখী জীবনযাপনে বড় ভূমিকা রেখেছে বলে মনে করেন দেশটির অনেক বাসিন্দা।

ডেনমার্ক

ডেনমার্ক টানা ষষ্ঠবার সুখী দেশের তালিকায় দুই নম্বরে আছে। নর্ডিক প্রতিবেশী ফিনল্যান্ডের মতো ডেনমার্কেও মানুষ উচ্চমানের জীবনযাপন করেন। দেশটির মানুষদের কর্মজীবন ভারসাম্যপূর্ণ, পরিবেশ উন্নত এবং তারা উচ্চমানের স্বাস্থ্যসেবা উপভোগ করেন।ডেনমার্কে ধনী ও দরিদ্রদের মধ্যে সম্পদের ব্যবধান বিশ্বে সবচেয়ে কম।

আইসল্যান্ড

নর্ডিক দেশ আইসল্যান্ড তালিকায় তিন নম্বরে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের দেওয়া তথ্যানুযায়ী লিঙ্গ সমতা বিবেচনায় বিশ্বের সেরা দেশ আইসল্যান্ড। এ ছাড়া সবচেয়ে শান্তির দেশ হিসেবে টানা ১০ বছর শীর্ষে অবস্থান করছে আইসল্যান্ড। মনোমুগ্ধকর ভূপ্রকৃতির অধিকারী দেশটির নাগরিকদের খুব বেশি কর দিতে হয় না। সেখানে বিনা মূল্যে স্বাস্থ্যসেবা দেওয়া হয়। শিক্ষাও সম্পূর্ণ অবৈতনিক। আইসল্যান্ডের তিন লাখ ৯০ হাজার বাসিন্দা বই পড়তে ভালোবাসেন। আর ভালোবাসেন প্রকৃতি।

সুইডেন

চার নম্বরে সম্পদশালী এই দেশটির সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা খুবই শক্তিশালী। অন্য যেকোনো দেশের তুলনায় সুইডেনে একজন কর্মী বেতনসহ সবচেয়ে বেশি ৪১ দিন ছুটি উপভোগ করতে পারেন। এ ছাড়া সুইডেনে সন্তান জন্মের পর তাকে লালন-পালনের জন্য বাবা-মা সর্বোচ্চ ৪৮০ দিন সবেতনে ছুটি নিতে পারেন। এই সময়ে তাদের বেতনের প্রায় ৮০ শতাংশ দেওয়া হয়। তবে দেশটিতে কর অনেক বেশি। সেখানে ব্যক্তিকে আয়ের প্রায় ৬০ শতাংশ কর দিতে হয়। অবশ্য সরকার এই রাজস্ব আয় জনগণের স্বার্থেই ব্যয় করে। সুইডেনে স্বাস্থ্য সেবা বিশ্বমানের, বিশ্ববিদ্যালয় পর্যন্ত বিনামূল্যে শিক্ষা দেওয়া হয়।

ইসরায়েল

গাজায় হামাসের সঙ্গে এক বছরের বেশি সময় ধরে যুদ্ধ করছে ইসরায়েল। প্রতিবেশী লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে সদ্য একটি যুদ্ধবিরতি চুক্তি করেছে। তারপরও ইসরায়েল সুখী দেশের তালিকায় পাঁচ নম্বরে। ইসরায়েল অর্থনৈতিক দিক দিয়ে ধনী ও শক্তিশালী। এটি এদের সুখী হওয়ার অন্যতম কারণ। জাতিসংঘের সুখী দেশের তালিকায় ৬ষ্ঠ থেকে ১০ম স্থানে আছে যথাক্রমে নেদারল্যান্ডস, নরওয়ে, লুক্সেমবার্গ, সুইজারল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া।

বৈধভাবে বিদেশে পুঁজি নেয়া বেড়েছে ৬০%

আগে দেশ থেকে বিদেশে পুঁজি বিনিয়োগের কোনো অনুমোদন দেওয়া হতো না। গত সরকারের আমলে সীমিত আকারে কিছু পুঁজি বিনিয়োগের অনুমোদন দেওয়া হয়। এর মধ্যে বিদেশে আর্থিক প্রতিষ্ঠান খাতেই বৈধভাবে বেশি পুঁজি নেওয়া হয়েছে। এছাড়া বিদেশে কারখানা স্থাপনের জন্য কয়েকজন ব্যবসায়ীকে পুঁজি নেওয়ার অনুমোদন দেওয়া হয়। কিন্তু বৈধভাবে নেওয়া হয়েছে খুবই সামান্য। অবৈধভাবে কয়েকশ গুণ বেশি পুঁজি বিদেশে নেয়া হয়েছে। গত সরকারের প্রভাবশালী অনেক ব্যবসায়ী বিদেশে ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গড়েছেন এসব দিয়ে। সম্প্রতি প্রকাশিত অর্থনীতি শ্বেতপত্রে বলা হয়েছে, গত ১৫ বছরে দেশ থেকে প্রতিবছর গড়ে ১৬০০ কোটি ডলার পাচার হয়েছে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের প্রতিবেদন থেকে দেখা যায়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশ থেকে নিট পুঁজি হিসাবে বৈধভাবে বিদেশে নেওয়া হয়েছে ১ কোটি ৯৮ লাখ ডলার যা বাংলাদেশি মুদ্রায় ২৪০ কোটি টাকা। গত ৫ বছরে দেশ থেকে নেওয়া এ পুঁজির পরিমাণ সর্বোচ্চ। ডলার সংকটের মধ্যেও এই প্রবণতা বেড়েছে প্রায় ৬০%। গত অর্থবছরে বাংলাদেশি উদ্যোক্তাদের বিদেশে বিনিয়োগ করা পুঁজি স্থিতির পরিমাণ আগের চেয়ে কমে দাঁড়িয়েছে ৩২ কোটি ৮৯ লাখ ডলার। ২০২২-২৩ অর্থবছরে বিদেশে বিনিয়োগ করা পুঁজির স্থিতি ছিল ৩৪ কোটি ১৪ লাখ ডলার। ওই বছরে দেশ থেকে নিট পুঁজি হিসাবে নেওয়া হয়েছিল ১ কোটি ২৪ লাখ ডলার।

বাংলাদেশ নিয়ে ভুয়া খবর ছড়িয়েছে ভারতের ৪৯ গণমাধ্যম – রিউমার স্ক্যানারের প্রতিবেদন

রিউমর স্ক্যানারের শুক্রবার প্রকাশিত বলা হয়েছে, ১২ আগস্ট ৫ ডিসেম্বর পর্যন্ত – ভারতের ৪৯টি গণমাধ্যমে বাংলাদেশ নিয়ে অন্তত ১৩টি ভুয়া খবর প্রচারিত হয়েছে। এসব ভুয়া খবর ও গুজবের মধ্যে রয়েছে – শেখ হাসিনার পদত্যাগের পর তাঁর নামে ভুয়া খোলাচিঠি, মুসলিম ব্যক্তির নিখোঁজ পুত্রের সন্ধানে মানববন্ধন করার ভিডিওকে হিন্দু ব্যক্তির দাবিতে প্রচার, অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূসের আইসিইউতে ভর্তি হওয়ার ভুয়া খবর, বাংলাদেশে নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনগুলোর ওপর নিষেধাজ্ঞা তুলে নেওয়ার ভিত্তিহীন দাবি এবং ট্রাম্পের বিজয়ের পর ড. ইউনূসের ফ্রান্সে পালিয়ে যাওয়ার ভুয়া দাবি।

ভারতের গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়া ভুয়া খবর ও গুজবের মধ্যে আরও রয়েছে – পাকিস্তানি জাহাজের মাধ্যমে অস্ত্র আনার মিথ্যা দাবি, চট্টগ্রামে নিহত আইনজীবী সাইফুল ইসলামকে চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী হিসেবে প্রচার, বাংলাদেশে ভারতীয় চ্যানেল বন্ধ হওয়ার গুজব, বাংলাদেশে ভ্রমণ নিয়ে যুক্তরাজ্যের জারি করা একটি ভ্রমণ সতর্কতা নিয়ে বিভ্রান্তিকর খবর প্রকাশ। ভারতীয় কিছু গণমাধ্যমে দাবি করা হয় – বাংলাদেশ বিমানবাহিনী চীনের প্রযুক্তি সহায়তায় চিকেন নেকের কাছে এশিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম বিমানঘাঁটি নির্মাণ করবে। রিউমর স্ক্যানারের অনুসন্ধানে জানা যায়, এ দাবি পুরোপুরি মিথ্যা।

এছাড়া ভারতের প্রতিমা বিসর্জনের ভিডিও প্রচার করে বাংলাদেশে মুসলিমদের হামলায় হিন্দু মন্দিরে প্রতিমা ভাঙচুরের দাবি, শ্যামলী পরিবহনের বাসে হামলার মিথ্যা তথ্য প্রচার করা হয়। চিন্ময় দাসের গ্রেপ্তারকে কেন্দ্র করে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন এক ব্যক্তির ছবি নিয়ে বিভিন্ন গুজব ছড়ানো হয়। দাবি করা হয়, ওই ব্যক্তি রমেন রায়, যিনি চিন্ময় কৃষ্ণ দাসের আইনজীবী। যা সত্য নয়।