Home Blog Page 222

তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্য ‘রাজনীতিবিরোধী’ : মির্জা ফখরুল

রাজনৈতিক দলগুলো অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করার চেষ্টা করছে বলে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলামের যে বক্তব্যে দিয়েছেন, তা ‘রাজনীতিবিরোধী’ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। যুক্তরাজ্যে সফর শেষে বৃহস্পতিবার ঢাকায় হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উপস্থিত সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ মন্তব্য করেন।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, ‘আমি জানি না, আসলে উনি কী উদ্দেশ্যে, কেন এটা বলেছেন। কিন্তু ওনার এই বক্তব্য রাজনীতিবিরোধী বক্তব্য এবং আমি আশা করি না যে তাঁরা এ ধরনের বক্তব্য রাখবেন। কারণ, রাজনৈতিক দলগুলো সব সময়ই এই অন্তর্বর্তী সরকারকে সমর্থন করেছে। এবং এই সমর্থনের একটা উদ্দেশ্য আছে, সেটা হচ্ছে গণতন্ত্রকে পুনঃপ্রতিষ্ঠা করা। সেটার জন্যই আমরা কাজ করছি ১৫ বছর ধরে। আমরা সংগ্রাম, লড়াই করেছি, এটা উনি কী উদ্দেশ্য, কেন বলেছেন, আমি জানি না।’

বিএনপির লংমার্চ কর্মসূচি সামনে রেখে বাংলাদেশ ও ভারত সংকটের সমাধান বিষয়ে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আলোচনার মধ্য দিয়ে সংকটের সমাধান হবে। এগোচ্ছে তো।’ বিএনপি সংস্কারের চেয়ে নির্বাচনকে প্রাধান্য দিচ্ছে, এমন আলোচনা নাকচ করে দেন বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, ‘এ ধরনের ধারণা সম্পূর্ণ ভুল। আমরা দুই বছর আগে সংস্কারের কথা বলেছি, ৩১ দফা সংস্কার প্রস্তাব দিয়েছি। তারও আগে ২০১৬ সালে আমরা ভিশন ২০২৩ দিয়েছিলাম। এবং আমরা এখনো বলছি, ন্যূনতম সংস্কারগুলো করে নির্বাচন দিতে। এই জন্য যে বাংলাদেশে সব সমস্যাগুলো তৈরি হচ্ছে, এই সমস্যাগুলো নির্বাচিত সরকার ছাড়া সমাধান করা বেশ চ্যালেঞ্জিং।’

সাইবার যুদ্ধে তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্টদের কাজে লাগাতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান মির্জা ফখরুলের

বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেছেন, এখনকার যুদ্ধ সমাবেশ মিছিলের নয়, সাইবার যুদ্ধ। এজন্য তথ্যপ্রযুক্তি সংশ্লিষ্টদের কাজে লাগাতে নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। লন্ডনে মির্জা ফখরুল যুক্তরাজ্য বিএনপির সঙ্গে মতবিনিময় সভায় এ কথা বলেন। বিএনপি মহাসচিব বলেন, গণতন্ত্রের জন্য লড়াই সংগ্রাম অব্যহত রেখেছে বিএনপি। আর রক্তপাত, প্রতিহিংসা নয়, সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে দেশ গড়তে হবে। বিদেশে বাংলাদেশের ভাবমুর্তি রক্ষার দায়িত্ব প্রবাসীদের।

মির্জা ফখরুল বলেন, ৫ আগস্টের পর বিএনপি সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন করেছে বলে ভারত সারাবিশ্বে অপপ্রচার চালিয়েছে।আমাদের এই অপপ্রচারের বিরুদ্ধে লড়াই চালাতে হবে। আওয়ামী লীগ ভয়ের রাজত্ব সৃষ্টি করেছিল উল্লেখ করে মির্জা ফখরুল বলেন, অনেকে আশা ছেড়ে দিলেও বিএনপি কখনও বসে থাকেনি। শুধু ক্ষমতায় যাওয়ার জন্য নয়, ন্যূনতম গণতান্ত্রিক অধিকারের লড়াইয়ে আন্দোলন শুরু করেছিল বিএনপি। নতুন দেশ, নতুন স্বপ্নের লক্ষ্যে ৩১ দফা ঘোষণা করা হয়েছিল।

ইউরোপ সিরীয় শরণার্থীদের ফিরিয়ে দেবে !

যুক্তরাজ্যসহ ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশ সিরীয় শরণার্থীদের আশ্রয় আবেদন প্রক্রিয়া স্থগিত করেছে। যুক্তরাজ্যে ২০১১ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে ৩০ হাজারেরও বেশি সিরীয়কে মানবিক কর্মসূচির আওতায় আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল। সিরীয় শরণার্থীদের অপেক্ষমাণ সব আবেদন স্থগিত রেখেছে জার্মানির ফেডারেল অফিস ফর মাইগ্রেশন অ্যান্ড রিফিউজিস। মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে সবচেয়ে বেশি সিরীয় নাগরিক রয়েছেন জার্মানিতে, যাঁদের সংখ্যা প্রায় ১০ লাখ। ফ্রান্স আশ্রয়প্রার্থী সিরীয় নাগরিকদের আবেদনগুলো নিয়ে ভাবছে।

অস্ট্রিয়ার তত্ত্বাবধায়ক সরকার সিরীয়দের সব আশ্রয় আবেদন স্থগিত করে দিয়েছে। দেশটি সিরীয়দের নিজ দেশে ফিরিয়ে দেওয়ার বা বহিষ্কারের পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে অস্ট্রিয়ায় প্রায় ৯৫ হাজার সিরীয় নাগরিক আছেন। এদিকে, দেশে ফিরছেন লেবানন ও জর্ডানে নির্বাসিত হাজার হাজার সিরীয়। আবার সিরিয়া ছেড়ে ওই দুটি দেশে চলে যাচ্ছেন অনেকে। সেখানে থাকা বিবিসির এক সংবাদদাতা বলেন, লেবাননে প্রবেশে কড়াকড়ি আরোপ করা হলেও অনেক সিরীয় নাগরিক দেশটিতে প্রবেশের চেষ্টা করছেন। আসাদের পতনের পর বিশৃঙ্খলা বা অপরাধ বাড়ার আশঙ্কায় সিরিয়া ত্যাগ করছেন তারা।

২০২৪ সালে জাতিসংঘের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিবেশি দেশগুলোয় আশ্রয় নিয়েছে ৪৯ লাখ সিরীয়। আর ১৩ লাখ মানুষ অন্যত্র পুনর্বাসিত হয়েছে, বেশিরভাগই ইউরোপে। তবে সবচেয়ে বেশি নিবন্ধিত সিরীয় শরণার্থী রয়েছে প্রতিবেশী তুরস্ক, লেবানন, জর্ডান ও ইরাকে। সিরিয়ার নিবন্ধিত শরণার্থীদের প্রায় অর্ধেক বা ৩১ লাখ তুরস্কে বসবাস করেন। প্রায় ৭ লাখ ৭৪ হাজার নিবন্ধিত সিরীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়ে দ্বিতীয় অবস্থানে রয়েছে লেবানন। অনিবন্ধিত শরণার্থীসহ এ সংখ্যা প্রায় ১৫ লাখ। দেশটিতে প্রতি পাঁচজনের মধ্যে একজন সিরীয় শরণার্থী।

এরপর তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে জার্মানি। দেশটি প্রায় ৭ লাখ ১৬ হাজার সিরীয় শরণার্থীকে আশ্রয় দিয়েছে বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।২০১৫-১৬ সালের অভিবাসী সংকট ইউরোপের রাজনীতিতে প্রভাব ফেলে। সস্তা শ্রমিক পেলেও অভিবাসীদের আগমন দেশগুলিতে উল্লেখযোগ্য জনসংখ্যাগত এবং সাংস্কৃতিক পরিবর্তন ঘটায়। ডানপন্থী দলগুলি জনসাধারণের অভিবাসীবিরোধী উদ্বেগকে পুঁজি করে এবং অনেক দেশে শ্বেতাঙ্গ জাতীয়তাবাদীরা জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

ভারতের ওপর আলু , পেঁয়াজ , চালে নির্ভরশীল নয় বাংলাদেশ !

কয়েক দিন আগে পেট্রাপোল স্থলবন্দরের কাছে ‘বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের ওপর নির্যাতন’ বন্ধ এবং চিন্ময় কৃষ্ণ দাসকে মুক্তির দাবিতে সমাবেশে পশ্চিমবঙ্গের বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী ভারত থেকে আলু ও পেঁয়াজ আসা বন্ধ করে দেওয়ার হুমকি দেন। এদিকে বাংলাদেশের অর্থ উপদেষ্টা সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন ‘তাদের (ভারতের) রাজনৈতিক বক্তব্য যাই হোক, তাদের ব্যবসায়ীদের স্বার্থও দেখতে হবে।’ যে কারণে বাণিজ্যিক সম্পর্কে প্রভাব পড়বে না বলে মনে করেন আহমেদ। ভারত থেকে সর্বশেষ অর্থবছরে বাংলাদেশের আমদানির পরিমাণ প্রায় সাড়ে ১১ বিলিয়ন ডলার, তথ্য ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের।

বাংলাদেশে রপ্তানিকারকদের তালিকায় চীনের পরেই ভারতের অবস্থান। কিন্তু, উল্লেখিত তিন পণ্য – আলু, পেঁয়াজ ও চালের ক্ষেত্রে ভারতের ওপর আসলে নির্ভরশীল নয় বাংলাদেশ। ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য বলছে, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে দেশটি থেকে ১৭ লাখ মার্কিন ডলারের আলু আমদানি হয় বাংলাদেশে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের প্রতিবেদন মতে, ওই অর্থবছরে বাংলাদেশে আলু উৎপাদন হয়েছে ১ কোটি ৬ লাখ মেট্রিক টন। দেশে আলুর চাহিদা প্রায় ৮০ লাখ মেট্রিক টন। উৎপাদন চাহিদার তুলনায় কম নয়।

তবু, ব্যবসায়ীরা আলু কোল্ডস্টোরেজে মজুদ করে দাম বাড়ানোয় সরকার আলু আমদানির দিকে যেতে বাধ্য হয়। দেশে ২০২৩-২৪ অর্থবছরে প্রায় ৩৮ লাখ মেট্রিক টন পেঁয়াজ উৎপাদিত হয়েছে। বাংলাদেশে বার্ষিক পেঁয়াজের চাহিদা ২৭-২৮ লাখ টন। তবু এ বছরও ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, প্রতিবেশী বাংলাদেশে প্রায় ২০ কোটি ডলারের পেঁয়াজ-রসুন রপ্তানি হয়েছে। তথ্যের ঘাটতি না থাকলে এবং অভ্যন্তরীণ সরবরাহ ও বাজার ব্যবস্থায় তদারকি ঠিকমতো করা গেলে পেঁয়াজ আমদানি এড়ানো যেতো বলে বিশেষজ্ঞদের মত।

২০২৩ সালে বাংলাদেশে আট কোটি ডলারের বেশি প্রায় ২ লাখ ১৫ হাজার টন চাল রপ্তানি করেছে ভারত।-জাতিসংঘের বাণিজ্য বিষয়ক ডেটাবেইজ বলছে। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য – সর্বশেষ অর্থবছরে বাংলাদেশে চাল উৎপাদন হয় ৪ কোটি ২০ লাখ মেট্রিক টন। এক্ষেত্রেও চাহিদার তুলনায় উৎপাদন কম না হলেও মুল্যবৃদ্ধির কারণে কিছু চাল আমদানি করতে হয় বাংলাদেশকে। মজুদদারি ঠেকিয়ে সরবরাহ ব্যবস্থা মজবুত করা গেলে চালের মূল্যবৃদ্ধি বা যোগান সংকট মোকাবেলা করা সম্ভব।
বিবিসি বাংলা থেকে সংক্ষেপিত।

সংখ্যালঘুদের বিরুদ্ধে সহিংসতায় আগস্ট – অক্টোবর পর্যন্ত ৮৮ মামলা, ৭০ গ্রেফতার

মঙ্গলবার সংবাদ ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম জানিয়েছেন – দেশে গত ৫ আগস্ট থেকে ২২ অক্টোবর পর্যন্ত সংখ্যালঘুদের টার্গেট (লক্ষ্য) করে সহিংসতার ঘটনায় ৮৮টি মামলায় ৭০ জন গ্রেপ্তার হয়েছেন। প্রেস সচিব জানান, সংখ্যালঘুদের লক্ষ্য করে কিছু সহিংসতা হয়েছে। এ বিষয়ে পুলিশের প্রতিবেদন বলছে, অক্টোবর পর্যন্ত এসব ঘটনায় মোট ৭০ জন গ্রেপ্তার, ৮৮টি মামলা হয়েছে। তালিকা হচ্ছে এরপরের মামলাগুলোর।শফিকুল আলম বলেন – সুনামগঞ্জে একটি ঘটনা ঘটেছে। কিছু কিছু জায়গায়, চট্টগ্রাম, ঢাকার তুরাগ ও নরসিংদীতে ঘটনা ঘটেছে। সেগুলোর প্রতিটির তথ্য সাংবাদিকদের দেওয়া হবে।

গ্রেপ্তার ৭০ জনের রাজনৈতিক পরিচয় আছে কি না – সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, যাঁকে সন্দেহ করা হচ্ছে, যাঁর বিরুদ্ধে অভিযোগ এসেছে, তাঁকেই গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। এই যে ৮৮টি মামলার কথা বলা হলো, যদিও সংখ্যালঘু সহিংসতাসংক্রান্ত মামলা, অনেকগুলো ঘটনার ক্ষেত্রে দেখা গেছে, তিনি হয়তো মেম্বার ছিলেন, ক্ষমতাসীন দলের মেম্বার ছিলেন, তাঁকে আক্রমণ করা হয়েছে। এটাকে কীভাবে নেবেন? … কিন্তু যেহেতু সহিংসতা হয়েছে, অপরাধ হয়েছে এগুলোকে গুরুত্ব সহকারে নেওয়া … হচ্ছে। পুরো বিষয়গুলোই তদন্তের অংশ বলে উল্লেখ করেন তিনি।

আসাদের পতন কি আসলেই আকস্মিক ?

দুই সপ্তাহের যুদ্ধে আসাদের পতনে সশস্ত্র আন্দোলনে নেতৃত্ব দিয়েছে ইসলামপন্থী সংগঠন হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস), তুরস্ক-সমর্থিত সিরিয়ান ন্যাশনাল আর্মি (এসএনএ), যুক্তরাষ্ট্র সমর্থিত কুর্দি সংগঠন সিরিয়ান ডেমোক্রেটিক ফোর্স এবং আরও কয়েকটি ছোট ছোট দলের সমন্বয়ে গঠিত একটি গোষ্ঠী। সিরিয়া ছিল ইরান থেকে লেবাননে হিজবুল্লাহ ও সিরিয়ার মিলিশিয়াদের মূল সামরিক সরবরাহ লাইন। হিজবুল্লাহর সঙ্গে সর্বশেষ যুদ্ধের শুরু থেকে সিরিয়ায় বাশার-সমর্থিত সামরিক বাহিনীর ঘাঁটিতে নিয়মিত হামলা করেছে ইসরায়েল। কার্যত ইসরায়েলের হামলায় দুর্বল হওয়া বাশার বাহিনী ইরান ও রাশিয়ার পর্যাপ্ত সহায়তা না পেয়ে বিদ্রোহীদের হামলার মুখে আর টিকতে পারেনি।

ইউরোপীয় ইউনিয়নসহ পশ্চিমের দেশগুলো আর্থিকভাবে সিরিয়াকে বিচ্ছিন্ন করে রাখায় গত ৪ ডিসেম্বর এক মার্কিন ডলারের বিনিময় হয় সাড়ে ১৭ হাজার সিরীয় পাউন্ডে। দেশটিতে বাশারের জনপ্রিয়তা নেমে আসে শূন্যে। ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক সহায়তায় বিদ্রোহী হায়াত তাহরির আল শামসের নেতৃত্বে বাশারবিরোধী সব গোষ্ঠী ‘এক ছাতা’র নিচে জড়ো হলে বাশারের পতন ঘটে অনেকটা বিদ্যুৎগতিতে। মার্কিন থিংক ট্যাংক নিয়ার ইস্ট সাউথ এশিয়া সেন্টার ফর সিকিউরিটি স্টাডিজের অধ্যাপক ডেভিড ডেস রোচেস বিদ্রোহীদের দ্রুতগতির আক্রমণের সাফল্যকে সিরিয়ান সেনাবাহিনীর ‘মনোবল ও নেতৃত্বের অভাব’ বলে মনে করেন।

রোচেস আল-জাজিরাকে বলেন, ‘রাশিয়া বিমান বাহিনীর সমর্থন সরিয়ে নেওয়ার পর ইরান সমর্থিত প্রক্সি বাহিনী যুদ্ধ করতে অক্ষম হয়ে পড়ে। এর পর বাকি থাকে কেবল মনোবলহীন, দুর্বল নেতৃত্বাধীন, অপর্যাপ্তভাবে সজ্জিত এবং সম্পূর্ণরূপে দুর্নীতিগ্রস্ত একটি সশস্ত্র বাহিনী। এমন পরিস্থিতিতে মানুষ ঝুঁকি নিতে প্রস্তুত থাকে না।’ এ ছাড়া, বিদ্রোহী গোষ্ঠীগুলোকে তুরস্কের তরফ থেকে সরাসরি না হলেও চুপিসারে সহযোগিতা দেওয়া হয়েছে। বিদ্রোহী বাহিনীর মধ্যে গভীর সমন্বয়ের প্রমাণও পাওয়া গেছে। এইচটিএসের বাড়তি শক্তির প্রয়োজন হলে তুরস্ক সমর্থিত সিরিয়ান ন্যাশনাল আমি তাদের সমর্থনে যোদ্ধা পাঠিয়েছে।

একসময় আল-কায়দার শাখা ছিল বিদ্রোহী গোষ্ঠী এইচটিএস। তারা তাদের সাম্প্রদায়িক ভাবমূর্তি থেকে বেরিয়ে আসার চেষ্টা করছে এবং খুব সম্ভবত নিজেদের মতাদর্শেও কিছুটা নরম হয়েছে বলে মনে করেন রয়‍্যাল ইউনাইটেড সার্ভিস ইনস্টিটিউটের জ্যেষ্ঠ সহযোগী ফেলো এইচ এ হেলিয়ের। তিনি বলেছিলেন, গত সপ্তাহে সিরিয়ার সুন্নি বিদ্রোহীদের সাফল্যের একটি বড় কারণ বিভিন্ন সম্প্রদায়ের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপনে তাদের যত্নশীল হওয়া। যেমন বিদ্রোহীরা শিয়া মুসলিমদের গ্রামগুলোতে প্রবেশের সময় আক্রমণ নয় বরং আলোচনা করে একটি সমঝোতায় এসেছেন।

বাংলাদেশ – মিয়ানমার সীমান্ত আরাকান আর্মির নিয়ন্ত্রণে , রোহিঙ্গা ভাগ্যে নতুন দুর্যোগ

রোববার সকালে রাখাইনের মংডু শহরের নিয়ন্ত্রণি নেয়ার দাবি করেছে সশস্ত্র গোষ্ঠী আরাকান আর্মি। ২৭০ কিলোমিটার বাংলাদেশে-রাখাইন সীমান্ত অঞ্চলে এটি মিয়ানমারের জান্তা বাহিনীর সর্বশেষ শক্ত ঘাঁটি ছিল। দখলের পর নাফ নদের আরাকান জলসীমায় অনির্দিষ্টকালের জন্য সব ধরনের নৌযান চলাচলে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে তারা। আরাকান আমির দাবি- তারা জান্তা বাহিনীর পাশাপাশি তাদের মিত্র আরাকান রোহিঙ্গা আর্মি, আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি (আরসা) ও রোহিঙ্গা সলিডারিটি অর্গানাইজেশনের (আরএসও) বিরুদ্ধে হামলা চালিয়েছে। তারা ঘাঁটি ছেড়ে পালিয়েছে।

আরাকান আর্মি গত বছরের নভেম্বর মাস থেকে হামলা চালিয়ে রাখাইনের ১৭টি শহরের মধ্যে ১৩টির নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। মে মাসের শেষ দিকে মংডুতে হামলা শুরু করে। বাংলাদেশ সীমান্তের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শহর রাখাইনের মংডু, বুথিডং ও শিন এলাকার পালেতাওয়ার পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নিয়েছে তারা। এখন দক্ষিণ রাখাইনের গাওয়া, তাউনগুপ ও আন শহর নিয়ন্ত্রণের লড়াই করছে। পর্যবেক্ষণকারী একজন সামরিক বিশ্লেষক বলেছেন, রাখাইন রাজ্যে রোহিঙ্গা সমস্যার সমাধান করতে চাইলে বাংলাদেশ সরকারকে বিদ্রোহী সেনাবাহিনীর সঙ্গে অর্থপূর্ণ সংলাপ করতে হবে। বাংলাদেশের সঙ্গে বাণিজ্য পুনঃস্থাপন করলে জান্তার অবরোধের কারণে দুর্ভিক্ষের মুখোমুখি রাখাইনবাসীর দুর্দশা কমবে।

মিয়ানমার জান্তা সরকারের বিরুদ্ধে লড়াই করা বিদ্রোহী গোষ্ঠী ব্রাদারহুড অ্যালায়েন্সের সদস্য আরাকার আর্মি। ইতিমধ্যে এ গোষ্ঠী গত বছরের অক্টোবর থেকে হামলা চালিয়ে উত্তরের শান রাজ্যের অধিকাংশ নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। এ বিষয়ে আরাকান রোহিঙ্গা সোসাইটি ফর পিস অ্যান্ড হিউম্যানিটির সভাপতি মোহাম্মদ জোবায়ের বলেন, ‘আমরাও বিভিন্ন গণমাধ্যমে শুনেছি আরাকান আর্মি মংডু শহরও দখলে নিয়েছে। এ নিয়ে আমরা খুব চিন্তিত। এবার জান্তা সরকারের সঙ্গে যুদ্ধের কথা বলে আরাকান আর্মির সেদেশে থাকা রোহিঙ্গাদের বিতাড়িত করার শঙ্কা রয়েছে। কারণ, কেউ রোহিঙ্গাদের জাতি হিসেবে স্বীকৃতি দেয়নি।’

বঙ্গোপসাগরে তেল , গ্যাস অনুসন্ধানে দরপত্র : কোন বিদেশী কোম্পানি সাড়া দেয়নি

সুযোগ-সুবিধা বাড়িয়ে পিএসসি সংশোধন করার পরও বঙ্গোপসাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে অংশ নিতে আগ্রহ দেখায়নি কোনো বিদেশি প্রতিষ্ঠান। ৭টি কোম্পানি দরপত্র কিনলেও নির্ধারিত সময় ৯ ডিসেম্বরের মধ্যে জমা দেয়নি কেউ। মার্চে দরপত্র আহ্বান করেছিল পেট্রোবাংলা। দেশে গ্যাস সংকটে সাশ্রয়ী বিদ্যুৎ উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে, শিল্প কারখানার উৎপাদনও ঝুঁকিতে। পেট্রোবাংলার হিসাব অনুযায়ী, প্রাকৃতিক গ্যাসের মজুদ আছে আগামী ছয়-সাত বছরেই ফুরিয়ে যাবে। নতুন গ্যাসক্ষেত্র আবিষ্কার না হলে কঠিন জ্বালানি সংকট তৈরী হবে।

পরিস্থিতি মোকাবিলায় সাগরেই ভরসা খুঁজছে বাংলাদেশ। সেখানে গ্যাস আছে বলেও মনে করেন দেশের জ্বালানি সংশ্লিষ্টরা। বিদেশি কোনো কোম্পানির সাড়া না পাওয়ায় সাগরে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান আরও এক ধাপ পিছিয়ে গেল। ২০১০ সালে গভীর সমুদ্রে দুটি ব্লকে কাজ নেয় কনোকো ফিলিপস। প্রতিষ্ঠানটি দ্বিমাত্রিক জরিপ চালালেও পরে গ্যাসের দাম নিয়ে মতবিরোধে ব্লক ছেড়ে দেয়। একইভাবে চুক্তির পর কাজ ছেড়ে চলে যায় অস্ট্রেলিয়ার স্যান্তোস। কনোকোফিলিপস ও স্যান্তোস দাবি করেছিল তাদের সঙ্গে যে চুক্তি করা হয়েছিল, গ্যাসের দাম যেন তা থেকে বাড়িয়ে দেয়া হয়। বাংলাদেশ সরকার রাজি না হওয়ায় তারা চলে যায়।

দক্ষিণ কোরিয়ার দাইয়ু কর্পোরেশনের সঙ্গে ১২ নম্বর ব্লকে গ্যাস উত্তোলনে ২০১৬ সালে উৎপাদন-অংশীদারিত্ব চুক্তি (পিএসসি) করে পেট্রোবাংলা। গ্যাসের দাম নিয়ে মতবিরোধে দাইয়ু ব্লক ছেড়ে চলে যায়। এখন একমাত্র কোম্পানি হিসেবে অগভীর সমুদ্রের দুটি ব্লকে অনুসন্ধান চালাচ্ছে ভারতের কোম্পানি ওএনজিসি। এ প্রেক্ষিতে আন্তর্জাতিক অনুসন্ধান কোম্পানির বিনিয়োগ ও স্বার্থ বিবেচনায় রেখে নতুন উৎপাদন অংশীদারি চুক্তি (পিএসসি)-২০২৩ চূড়ান্ত হয়। এতে প্রতি ইউনিট গ্যাসের দাম নির্ধারিত না রেখে জ্বালানি তেলের দামের ১০ শতাংশ ধরা হয়। তেলের দাম বাড়লে গ্যাসের দামও বাড়বে, কমলে এটিও কমবে।

এখন তেলের দাম ৭০ থেকে ৭২ ডলার, এতে গ্যাসের দাম হবে ৭ থেকে ৭ দশমিক ২ ডলার। দরপত্র ডাকার সময় তেলের দাম ছিল ৯০ ডলারের বেশি। জ্বালানি বিভাগ ও পেট্রোবাংলার অন্তত চার শীর্ষ কর্মকর্তার সঙ্গে কথা বলে বণিক বার্তা জেনেছে, বিনিয়োগকারীদের আগ্রহী না হওয়ার অন্যতম কারণ হতে পারে দেশে বর্তমান রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা। বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের মূল্যহ্রাসও এক্ষেত্রে প্রভাবকের ভূমিকা রাখতে পারে। দরপত্র কেনা কোম্পানিগুলোর সাথে আলোচনা ও পিএসসি পুনঃমূল্যায়ন করে আবার দরপত্র আহবান করা হবে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

বিএনপি ৩ – ৪ মাসের মধ্যে সংস্কার শেষে নির্বাচন চায়

আগামী জাতীয় সংসদ নির্বাচনের আগে ভোটার তালিকা প্রণয়ন করতে বাড়ি বাড়ি যাওয়ার প্রয়োজন দেখছে না বিএনপি। দলটি ভোটার তালিকার আপগ্রেড (হালনাগাদ) চায়। একই সঙ্গে বিএনপি মনে করে, তিন থেকে চার মাসের মধ্যে সংস্কার শেষ করে দ্রুত নির্বাচন সম্ভব। নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কারে গঠন করা কমিশনে বিএনপির জমা দেওয়া প্রস্তাব তুলে ধরতে সোমবার বিকেলে গুলশানে সংবাদ সম্মেলনে এই অবস্থান তুলে ধরেছে বিএনপি।

সংবাদ সম্মেলন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আবদুল মঈন খান বলেন, সত্যিকার অর্থে একটি সঠিক ভোটার তালিকা চান তাঁরা।কিন্তু এর জন্য বাংলাদেশের ১৮ কোটি মানুষের বাড়ি বাড়ি যাওয়ার প্রয়োজন নেই। বাড়ি বাড়ি যাওয়া অত্যন্ত সময়সাপেক্ষ, অপ্রয়োজনীয় এবং তাতে ভুল হওয়ার আশঙ্কা অনেক বেশি। প্রযুক্তির মাধ্যমে ভোটার তালিকা আপগ্রেডের কাজটি করা হলে তা অবশ্যই নির্ভুল হবে।

নির্বাচন কমিশনের (ইসি) ২ ডিসেম্বরের সভায় সিদ্ধান্ত হয়েছে, ২০২৪ সালের জন্য হালনাগাদ করা চূড়ান্ত ভোটার তালিকা আগামী ২ মার্চ প্রকাশ করা হবে। এরপর ২০২৫ সালের ভোটার তালিকা হালনাগাদের জন্য বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে। ওই হালনাগাদে যাঁদের তথ্য সংগ্রহ করা হবে, তাঁরা ২০২৬ সালের ২ মার্চের চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় (হালনাগাদ) অন্তর্ভুক্ত হবেন। ইসি মনে করছে, চলতি বছর বড়সংখ্যক মানুষ ভোটার হিসেবে নিবন্ধিত হননি। যে কারণে আগামী বছরের হালনাগাদ কার্যক্রমে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করা হবে।

নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘আমরা যেসব প্রস্তাব করেছি, সেসব প্রস্তাব অনুযায়ী দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব। এখানে এমন কোনো প্রস্তাব করা হয় নাই যেটা নতুন করে কোনো কিছু করতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘সরকারের আরও সংস্কার প্রশাসনিক সংস্কার, জুডিশিয়াল সংস্কার, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী সংস্কার আছে, এগুলো সব সম্পন্ন করে নির্বাচন উপহার দিতে আমাদের মনে হয় না খুব বেশি হলে ৩/৪ মাসের বেশি সময় লাগবে।’

মূল্যস্ফীতির নেতিবাচক প্রভাবে ব্যাংক খাত

উচ্চ মূল্যস্ফীতি ব্যাংক আমানতের সুদ খেয়ে ফেলছে। ব্যাংকে টাকা রেখে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন আমানতকারীরা। বর্তমানে আমানতে গড় সুদ হার ১০ শতাংশ, যেখানে মূল্যস্ফীতি ১১ শতাংশের বেশি। এতে বিপাকে পড়েছেন সঞ্চয়ের মুনাফার ওপর নির্ভরশীল মানুষ। আমানতের সুদের চেয়ে মূল্যস্ফীতি বাড়তি থাকলে সঞ্চয়ের প্রবণতা কমবে। এতে ব্যাংক খাতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। এমনিতেই দুর্বল ব্যাংকগুলোতে তারল্য সংকট তীব্র। বিশ্লেষকদের মত, আমানতের প্রবৃদ্ধি কমে গেলে, ব্যাংকেগুলার ঋণ দেওয়ার সক্ষমতাও কমে যাবে। এতে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ধরে রাখা কঠিন হবে বলে।