কিংবদন্তি সংগীতজ্ঞ স্যার এলটন জন বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার কিছু অংশে গাঁজা বৈধ করাটা ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভুলগুলোর একটি ; টাইম সাময়িকীকে দেয়া ‘বর্ষসেরা ব্যক্তি’ সংক্রান্ত এক সাক্ষাৎকারে এ বিষয়ে এলটন জন বলেন, ‘আমি বরাবর এটাকে আসক্তি হিসেবে দেখে আসছি। এটা মানুষকে অন্য মাদকের দিকে নিয়ে যায়। যদি আপনি আসক্ত হয়ে পড়েন, আমি যেমনটা হয়েছিলাম, তখন আপনার স্বাভাবিক চিন্তাশক্তি লোপ পাবে।’ প্রখ্যাত ব্রিটিশ সংগীতশিল্পী ও গীতিকার এলটন জন নিজেও একসময় মাদকাসক্ত ছিলেন। নিরাময়কেন্দ্রে থাকার পর সেই ‘অন্ধকার জীবন’ থেকে সদর্পে ফিরেও এসেছেন তিনি।
আন্দোলনের ঘটনায় মামলা বাজি , বিরক্ত পুলিশও
আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর সারা দেশে অজস্র মামলা হয়েছে। বিভিন্ন সংবাদ মাধ্যমে প্রতিবেদনে আসছে, আসামি করার পর তার কাছ থেকে টাকা নিয়ে বাদী ‘হলফনামা’ দিয়ে বলছেন, তিনি নির্দোষ। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও আইজিপি একাধিকবার বলেছেন, মামলা হতে হবে ‘সুনির্দিষ্ট’। আবার যখন মামলা হচ্ছে, তখন মন্ত্রণালয় পুলিশকে অভিযোগ নিয়ে গেলেই তা জমা নিতে বলছে। ঢাকার মোহাম্মদপুর থানার এক কর্মকর্তা বলেছেন, মামলা না নিলেই বলা হবে ‘আওয়ামী লীগের দোসর’, এই ঝুঁকি নেওয়া সম্ভব না। কেবল থানা নয়, মামলার আবেদন নিয়ে যাওয়া হচ্ছে আদালতেও।
তদন্তের দায়িত্ব পাওয়া পুলিশ কর্মকর্তারা বলছেন, আসামিদের কাউকে গ্রেপ্তারের জন্য, আবার কাউকে গ্রেপ্তার ‘না করার জন্য’ বাদীপক্ষ থেকে সমানে চাপ আসছে। ‘এত চাপ সামলে মামলাগুলো সুরাহা করা পুলিশের পক্ষে প্রায় অসম্ভব ব্যাপার’ বলেছেন পুলিশের একজন শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা। বেসরকারি সংস্থা মানবাধিকার সংস্কৃতি ফাউন্ডেশন এর নভেম্বরের প্রতিবেদন বলছে, ‘ব্যক্তিগত প্রতিহিংসা, পূর্ব শত্রুতা, রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে শায়েস্তা করা এবং চাঁদাবাজি ও হয়রানি করতে অনেককে আসামি করা হয়েছে বলেও গণমাধ্যমে এসেছে।’
গত ৮ ডিসেম্বর নিজের দপ্তরে সাংবাদিকদের সঙ্গে মত বিনিময়ে ডিএমপি কমিশনার সাজ্জাত আলী বলেন, ‘অনেক বাদী উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে মামলা করেছেন পরিকল্পিতভাবে ‘বাণিজ্য করতে’। এজন্য ১৫০-২০০ বা আরও বেশি আসামি করা হয়েছে। প্রথমে আওয়ামী লীগ নেতা বা বিগত সরকারের শীর্ষ নেতাদের নাম দিয়ে পরে ঢালাওভাবে ইচ্ছেমত নাম মামলায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে, পুলিশকে মামলা নিতে বাধ্য করা হয়েছে।
তার তিন দিন আগে সংবাদ সম্মেলনে আইজিপি বাহারুল আলম বলেন, ‘এসব মামলাকে কেন্দ্র করে অনেকে বাণিজ্য করছে, তারাও প্রভাবশালী লোক। নিরীহ লোকদের আসামি করা হয়েছে, তাদের নানা প্রলোভন দেখাচ্ছেন, প্রতারিত করছেন, টাকা নিচ্ছেন।’ গত ১২ নভেম্বর আইন উপদেষ্টা আসিফ নজরুল বলেন, ‘ঢালাও মামলার একটা মারাত্মক প্রকোপ দেশে দেখা দিয়েছে, এটা আমাদেরকে অত্যন্ত বিব্রত করে।’ এই ধরনের কথা সরকারের তরফে একাধিকবার বলা হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত কারও বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি।
প্রথম দফায় ১৮ হাজার অবৈধ ভারতীয় অভিবাসী ফেরত পাঠাচ্ছে ট্রাম্প !
আমেরিকার অভিবাসন এবং শুল্ক দফতর প্রায় ১৫ লক্ষ অবৈধ অভিবাসীর তালিকা তৈরি করে তাঁদের নিজেদের দেশে ফেরত পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করেছে। আর সেই ‘প্রথম দফার তালিকা’য় রয়েছেন ১৭ হাজার ৯৪০ জন ভারতীয় নাগরিক আগামী ২০ জানুয়ারি ট্রাম্প প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব নেওয়ার পরে প্রত্যাবর্তনের প্রক্রিয়া শুরু হবে। সরকারি তথ্য, আমেরিকায় অবৈধ ভারতীয়র সংখ্যা প্রায় ৭ লক্ষ ২৫ হাজার। মেক্সিকো এবং এল সালভাডর ছাড়া অন্য কোনও দেশ থেকে এত বেআইনি অভিবাসন হয়নি সে দেশে।
শুধু অবৈধ অভিবাসীরাই নন, ট্রাম্পের নির্বাচনী প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়িত হলে ঘোের অনিশ্চয়তার সামনে পড়বে আমেরিকার অন্তত আড়াই লক্ষ ভারতীয় বংশোদ্ভূতের ভবিষ্যৎ। আমেরিকার সংবিধানে বলা আছে, আমেরিকায় জন্মালেই সে আমেরিকার নাগরিক; এই আইনটিই পাল্টে দিতে চাইছেন ট্রাম্প। নয়া আইনে মা বা বাবার মধ্যে অন্তত এক জন আমেরিকার নাগরিক হলেই সন্তান সে দেশে জন্মালে ‘জন্মসূত্রে নাগরিকত্ব’ পাবে। ট্রাম্পের ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির নিশানায় আরও রয়েছেন লক্ষ লক্ষ মানুষ যাঁরা আইনসিদ্ধ ভাবে, কোনও না কোনও ভিসা নিয়ে, আমেরিকায় বসবাস এবং কাজ করছেন। ট্রাম্পের দাবি, ওই আইনি অভিবাসীরা আমেরিকার নাগরিকদের কাজের সুযোগ কেড়ে নিচ্ছেন।
ভারত সরকার হাসিনাকে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যাবার কোনো প্লাটফর্ম বা সুবিধা দেয়নি – বিক্রম মিশ্রি
ঢাকা সফর নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র বিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে ব্রিফিংয়ে পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি বলেছেন- বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারকে নিয়ে ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সমালোচনায় ভারতের সায় নেই। এবং এটা নিয়ে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে একটা অস্বস্তি আছে। বিক্রম মিশ্রি বলেন, শেখ হাসিনা তাঁর মন্তব্যের জন্য ‘ব্যক্তিগত যোগাযোগ ডিভাইস’ ব্যবহার করছেন। ভারত সরকার তাঁকে এমন কোনো প্ল্যাটফর্ম বা সুযোগ-সুবিধা দেয়নি, যা দিয়ে তিনি ভারতের মাটিতে বসে রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালিয়ে যেতে পারেন। এটি তৃতীয় কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ভারতের হস্তক্ষেপ না করার ঐতিহ্যগত রীতির অংশ।
তিনি বলেছেন- ঢাকা সফরকালে তিনি অন্তর্বর্তী সরকারকে জানিয়েছেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভারতের সম্পর্ক ‘একটি বিশেষ রাজনৈতিক দল’ বা একটি নির্দিষ্ট সরকারের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়। বাংলাদেশের জনগণের সঙ্গে সম্পর্ককে অগ্রাধিকার দেয় ভারত এবং বাংলাদেশের বর্তমান সরকারের সঙ্গে কাজ করবে। মিশ্রি বাংলাদেশকে দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতের বাণিজ্য ও যোগাযোগের বৃহত্তম অংশীদার হিসেবে বর্ণনা করেন। বিক্রম মিশ্রি বলেছেন, বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর সহিংসতার অভিযোগের স্বীকৃতি নিয়ে ভারত উদ্বিগ্ন ছিল। তবে সবশেষ খবর, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর থেকে এ সংক্রান্ত সহিংসতার ঘটনায় ৮৮ জনকে গ্রেপ্তারের খবরকে ভারত স্বাগত জানায়।
একাধিক সূত্রের তথ্যমতে, বিক্রম মিশ্রি আরও বলেছেন, তাঁর ঢাকা সফরের পর দুই দেশের মধ্যকার সম্পর্কে দৃশ্যমান উন্নতি হয়েছে।
বিক্রম মিশ্রি বলেন, উভয় পক্ষই তাদের উদ্বেগ ব্যাখ্যা করেছে। ভারতবিরোধী বক্তব্যে লিপ্ত থাকা অনেক দোষী সাব্যস্ত ‘সন্ত্রাসী’র মুক্তির বিষয়ে বাংলাদেশ কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত নিয়ে ভারতের গভীর উদ্বেগ রয়ে গেছে। একাধিক সূত্রের তথ্যমতে, পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির অনেক সদস্য বাংলাদেশে ইসকন নেতাদের গ্রেপ্তারের বিষয়টি ব্রিফিংয়ে তুলেছিলেন। কিন্তু এ বিষয়ে বিক্রম মিশ্রির কাছ থেকে কোনো উত্তর পাওয়া যায়নি।
বিক্রম মিশ্রি অবশ্য পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সদস্যদের বলেছেন, ঢাকা সফরকালে তিনি বাংলাদেশের কর্তৃপক্ষকে জানিয়েছেন, বিভিন্ন মন্দির ও ইন্দিরা গান্ধী সাংস্কৃতিক কেন্দ্রে হামলার ঘটনা স্বীকার করা দরকার। ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বলেছেন, বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার এ-সংক্রান্ত প্রতিবেদনগুলোকে অতিরঞ্জন বা গণমাধ্যমের বানানো হিসেবে বর্ণনা করলেও এ নিয়ে ‘বিশ্বাসযোগ্য’ কিছু সংস্থা কিছু ঘটনা নথিভুক্ত করেছে যেগুলোকে যাচাই করা দরকার। পররাষ্ট্রবিষয়ক সংসদীয় স্থায়ী কমিটিকে বিক্রম মিশ্রি জানান, ড. ইউনূসের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় চুক্তি পর্যালোচনার বিষয়টি নিয়ে তাঁর কথা হয়নি।
সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা চেপে যাওয়ার পুরনো অভ্যাস থেকে বেড়িয়ে আসতে হবে : মানজুর আল মতিন
” মনে প্রশ্ন জেগেছে, ধর্ম অবমাননার ঘটনায় গ্রেপ্তার ও আইনগত প্রক্রিয়া শুরু পরেও কেন উত্তেজনার প্রশমন হয়নি? আশপাশের গ্রাম থেকে কারা লোকজন জড়ো করে এনেছে? স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এটা মনে হয়নি যে এত মানুষ এমনি এমনি হঠাৎ একসঙ্গে এই গ্রামে এসে পড়েছেন। প্রশ্ন জেগেছে, যারা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে বলে উত্তেজিত হয়ে এই কাণ্ড করেছেন বলে বলা হচ্ছে, তারা লুটপাট করলেন কেন? শুধু ইসলাম কেন, কোনো ধর্মই কি মানুষের বাসস্থানে হামলা করা কিংবা লুটপাট করার কথা বলে? ভারতের বন্ধুদের ধন্যবাদ!
মানুজুর আল মতিন
দৈনিক প্রথম আলো, ১২ ডিসেম্বর ২০২৪
এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার একমাত্র উপায় এই ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত। দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা আমরা দোয়রাবাজার থেকে আসার আগপর্যন্ত সেখানে কোনো মামলা হয়নি। পুলিশ বলছে, আক্রান্ত ব্যক্তিরা মামলা করতে আসেননি। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে তাঁরা আসতে ভয় পাবেন, সেটাই স্বাভাবিক। তাই এসব ক্ষেত্রে পুলিশের নিজ উদ্যোগে মামলা ও তদন্ত করা জরুরি।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় ৮৮টি মামলা হয়েছে এবং ৭০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটি আশাব্যঞ্জক। ভারতের গণমাধ্যমের মিথ্যাচারের জবাব কেবল সত্য দিয়েই দেওয়া সম্ভব।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা যেখানে যতটুকু হামলা-নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, তা যেমন গণমাধ্যমকে তুলে ধরতে হবে, একই সঙ্গে এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রতিটি ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা চেপে যাওয়ার পুরোনো অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সংখ্যালঘুর ওপর হামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার না হলে এ ধরনের হামলা বন্ধ হবে না। এটা মনে রাখা প্রয়োজন, ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে এ দেশের প্রতিটি মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা জুলাই অভ্যুত্থানে প্রধানতম অঙ্গীকার। বাংলাদেশে যত দিন একজন নাগরিকও অনিরাপদ বোধ করবেন, তত দিন জুলাইয়ের স্বপ্ন দুরাশাই থেকে যাবে। …
সংক্ষেপিত
৩৮% মানুষ সিদ্ধান্ত নেননি , কাকে ভোট দেবেন – জরিপ
দেশে এখন নির্বাচন হলে কোন দলকে ভোট দেবেন সে বিষয়ে এখনও সিদ্ধান্ত নেননি ৩৮% মানুষ। বাকি মানুষের ১৬% বিএনপিকে, ১১% জামায়াতে ইসলামীকে এবং ৯% ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগকে ভোট দেবেন বলে জানিয়েছেন। এ ছাড়া ৩% মানুষ অন্য ইসলামী দলগুলোকে ও ১% জাতীয় পার্টিকে ভোেট দেয়ার কথা বলেন। ব্র্যাক ইনস্টিটিউট অব গভর্ন্যান্স অ্যান্ড ডেভেলপমেন্টের (বিআইজিডি) ‘পালস সার্ভে’-র দ্বিতীয় ধাপের জরিপ। গত ১৫-৩১ অক্টোবর গ্রাম ও শহরের নানা শ্রেণি, পেশার ৪,১৫৮ মানুষের মতামত টেলিফোনে নেয়া হয়।
শিক্ষার্থীরা কোনো রাজনৈতিক দল গঠন করলে তাদের ভোট দেবেন ৪০% মানুষ, ভোট দেবেন না বলে জানিয়েছেন ৪৪% মানুষ। জরিপে দেখা যায় রাজনৈতিক বিবেচনায় ‘দেশ সঠিক পথে’ মনে করেন ৫৬% মানুষ, ভুল পথে যাচ্ছে মনে করেন ৩৪%। আগস্টে বিআইজিডির প্রথম জরিপে ৭১% মানুষ বলেছিলেন, দেশ ঠিক পথে যাচ্ছে। ভুল পথে যাচ্ছে বলেছিলেন ১২%। অর্থনৈতিক বিবেচনায় দেশ ভুল পথে যাচ্ছে বলে মনে করেন ৫২% মানুষ, ঠিক পথে যাচ্ছে মনে করেন ৪৩% মানুষ। আগস্টে প্রথম জরিপে ৬০% মানুষ বলেছিলেন দেশ ঠিক পথে যাচ্ছে, ভুল পথে যাচ্ছে বলেছিলেন ২৭%।
রাজনীতি ও অর্থনীতি মিলিয়ে আশাবাদী ৩৭% মানুষ এবং নিরাশাবাদী ২৯%। বাকিরা হ্যাঁ/না কিছুই বলেননি। আগের জরিপে আশাবাদী ছিলেন ৬৮% এবং নিরাশাবাদী ১৩%। অন্তর্বর্তী সরকারের চেয়ে নির্বাচিত সরকার দেশ ভালো পরিচালনা করবে কি না, এমন প্রশ্নে ৭৯% উত্তরদাতা নির্বাচিত সরকারের পক্ষে ভোট দিয়েছেন। দ্বিমত প্রকাশ করেছেন ১৫%। অন্তর্বর্তী সরকার নিয়ে ২৪% মানুষ বলেছেন, তিন বছর বা তার বেশি সময় মেয়াদকাল হতে পারে। ১৬% বলেছেন দুই বছর, ১৪% বলেছেন এক বছর, ১৯% বলেন তিন থেকে ছয় মাস। আর অন্তর্বর্তী সরকারের অবিলম্বে ক্ষমতা ছেড়ে দেওয়া উচিত বলে মত দিয়েছেন ৫% মানুষ।
১০০ নম্বরের মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারকে ৪০% মানুষ ৮১ থেকে ১০০ নম্বর দিয়েছেন। গত আগস্টে ৪৮% সরকারকে ৮১ থেকে ১০০ নম্বর দিয়েছিলেন। সরকারের প্রচেষ্টায় সবচেয়ে আস্থাশীল মানুষের সংখ্যা ৮% কমেছে। ৬৭% মানুষ এ মুহূর্তে প্রধান সমস্যা হিসেবে দেশে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, অর্থনৈতিক বা ব্যবসায়িক মন্দার কথা বলেছেন। ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক অন্তর্বর্তী সরকার ভালো সামাল দিচ্ছে বলে জরিপে মত দিয়েছেন ৪১% মানুষ। নেতিবাচক উত্তর দিয়েছেন ২৮%। কিছুই পরিবর্তন হয়নি বলে মনে করেন ২৫% মানুষ।
৭৪’ এর দুর্ভিক্ষ থেকে পাওয়া শিক্ষা : নাওমি হোসেন
… ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ নিয়ে কেউ কথা বলে না। অথচ এটি ছিল বাংলাদেশের জন্য একটি মোড় পরিবর্তনের মুহূর্ত। ১৯৭৪ সালের পর রাষ্ট্র বদলে গিয়েছিল। অনেক বছর ধরে মানুষ ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ নিয়ে কথা বলেনি। কারণ, এ ইতিহাসকে মনে করা হতো রাজনৈতিকভাবে মারাত্মক রকম ‘স্পর্শকাতর’। … শেখ মুজিব জাতিসংঘের কাছে সাহায্যের আবেদন জানিয়েছিলেন। তিনি জানতেন, এই দুর্ভিক্ষ তাঁর বৈধতার অবসান ঘটাবে। দুর্ভিক্ষ ছিল আওয়ামী লীগের জনপ্রিয়তা হ্রাসের কারণগুলোর মধ্যে একটি। এ ছাড়া দুর্নীতি, রক্ষীবাহিনীর বর্বরতা, নেতৃত্বের ঔদ্ধত্য এবং নাগরিক স্বাধীনতা হরণের বিরুদ্ধে জনরোষ তো ছিলই। দুর্ভিক্ষ হয়তো অন্যতম একটি বিষয়, যে কারণে ১৯৭৫ সালে শেখ মুজিব ও তাঁর পরিবারের নৃশংস হত্যাকাণ্ডের পর জনগণের মধ্যে কোনো রকমের শোক দেখা যায়নি
… যে খাদ্য, সাহায্য দেশে এসেছিল, তা শহরের বা মধ্যবিত্ত শ্রেণির মানুষ, সরকারি কর্মচারী এবং রাষ্ট্র পরিচালনার জন্য অপরিহার্য হিসেবে বিবেচিত অন্যান্যের কাছেই পৌঁছেছিল। বন্যায় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত ছিলেন গ্রামীণ ভূমিহীন দরিদ্র মানুষেরা অন্যরা নেওয়ার পর যদি কিছু অবশিষ্ট থাকত, তাদের ভাগ্যে সেটিই জুটত। সেই সময় এমনকি মধ্যবিত্তরাও প্রচণ্ড কষ্টে ছিল; কিন্তু তারা হাজারে হাজারে মারা যায়নি। হাজার হাজার মানুষ মারা গিয়েছিলেন সেই সময়, যাদের বেশির ভাগই ছিলেন নিম্নবিত্ত। তাদের বেদনা ও যন্ত্রণা সম্পর্কে আমরা খুব কমই জানি।
… ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষের কারণ অনেক। তবে মহিউদ্দিন আলমগীরের ফেমিন ইন সাউথ এশিয়া এবং রেহমান সোবহানের পলিটিকস অব ফুড এন্ড ফেমিন সহ কিছু নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে চারটি ব্যাখ্যা প্রধান বলে বিবেচিত হতে পারে। প্রথমত, ভয়াবহ বন্যায় ফসল ধ্বংস হয়েছিল। মজুরির বিনিময়ে যে শ্রমের বাজার, তাও বিপর্যস্ত হয়েছিল। দ্বিতীয়ত, তেল রপ্তানিকারী দেশগুলোর সংস্থার (ওপেক) তেলের মূল্য বৃদ্ধিজনিত সংকট, মজুতদারি, চোরাচালান এবং স্থানীয় খাদ্যঘাটতির কারণে মুদ্রাস্ফীতি গিয়েছিল বেড়ে। তৃতীয়ত, খাদ্যসাহায্য ব্যবহৃত হয়েছিল বাজেট সহায়তা এবং সরকারি কর্মচারীদের বেতনের জন্য। দুর্ভিক্ষ মোকাবিলার জন্য সে সময় যা বরাদ্দ করা হয়েছিল, তা ছিল খুবই সামান্য।
চতুর্থত, আন্তর্জাতিক মানবিক সহায়তা পাওয়ার চেষ্টা কার্যকর হয়নি। বাংলাদেশ কমিউনিস্ট রাষ্ট্র কিউবার সঙ্গে বাণিজ্য করেছে এই অজুহাতে যুক্তরাষ্ট্র এক বছরের জন্য খাদ্যসাহায্য আটকে রেখেছিল। এই চার কারণের সম্মিলিত প্রভাবে ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ বাংলাদেশের জন্য এক ভয়াবহ বিপর্যয় নিয়ে আসে। দুর্ভিক্ষের কারণগুলো হয়তো স্পষ্ট; কিন্তু এর প্রভাব কী ছিল? সন্দেহ নেই যে দুর্ভিক্ষের ফলে আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি জনগণের অসন্তোষ এবং হতাশা বেড়েছিল ব্যাপকভাবে। পরবর্তী রাজনৈতিক সহিংসতা ও সামরিক অভ্যুত্থানকে ব্যাখ্যা করতে গেলেও এই দুর্ভিক্ষের একটি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা আছে। দুর্ভিক্ষ পরবর্তী প্রেক্ষাপটে সরকার আন্তর্জাতিক দাতাদের চাপের মুখে মুদ্রার অবমূল্যায়ন করে এবং অর্থনীতিকে বাজারমুখী করার সিদ্ধান্ত নেয়।
এই দুর্ভিক্ষ খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়ে একটি ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি উন্মোচন করেছিল। শস্যবাজারে আরও স্বচ্ছতা আনার পাশাপাশি সবচেয়ে দরিদ্রদের জন্য সহায়তাও দেওয়া হয়। সেই থেকে বাংলাদেশ রাষ্ট্র খাদ্যনিরাপত্তার বিষয়টি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করতে শুরু করে।
… ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ দেখিয়ে দিয়েছিল যে মানুষের ন্যূনতম জীবনযাত্রার সংকটের রাজনৈতক মূল্য কতটা চড়া হতে পারে। কোনো বৈধ সরকারই দীর্ঘ সময় ধরে জনগণের জীবনযাত্রার মানের চরম অবনতি সহ্য করতে পারে না। এটিই ১৯৭৪ সালের অন্যতম শিক্ষা। এই শিক্ষাই সাম্প্রতিক অতীতের আওয়ামী লীগ সরকার ২০২২ সাল থেকে চলমান লাগামহীন মুদ্রাস্ফীতির বিরুদ্ধে কাজে লাগাতে পারত। কিন্তু সরকারের পক্ষ থেকে তেমন উল্লেখযোগ্য কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। তাঁরা হয়তো ভুলে গিয়েছিলেন, ‘যদি জনগণ অনাহারে থাকে, তবে ক্ষমতায় আপনার দিন গোনা শুরু হয়ে যায়।’
প্রথম আলো থেকে সংক্ষেপিত।
রাজনৈতিক দলগুলো অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করার চেষ্টা করছে : নাহিদ ইসলাম
উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন , রাজনৈতিক দলগুলো চাচ্ছে তাদের অধীনে সংস্কার হোক। তাই তারা বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে ব্যর্থ প্রমাণ করার চেষ্টা করছে। তারা সংস্কারের পরিবর্তে নির্বাচনকে বেশি প্রাধান্য দিচ্ছে। বুধবার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় থেকে পাঠানো সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মঙ্গলবার ব্রিটিশ গ্লোবাল পার্টনার্স গভর্ন্যান্স (জিপিজি) এর প্রতিনিধিদলের সঙ্গে সাক্ষাৎকালে প্রতিনিধিদলের সদস্য চিলির সাবেক সামাজিক উন্নয়নমন্ত্রী জর্জিও জ্যাকসন সংস্কার ও নির্বাচন নিয়ে জানতে চাইলে নাহিদ ইসলাম উল্লিখিত মন্তব্য করেন।
তিনি আরও বলেন, একটি অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে এ সরকার দায়িত্ব নিয়েছে। এটি একটি অভিনব ঘটনা, যা এর আগে কখনো ঘটেনি।নাহিদ ইসলাম বলেন, বাংলাদেশে দীর্ঘদিন ধরে মানবাধিকার সংকট চলেছে। মানুষ ভোট দিতে পারত না, কয়েক হাজার মানুষকে গুম করে ফেলা হয়েছে। একটা দমবন্ধ অবস্থার মধ্যে দেশের মানুষ ছিল। তাই মানবাধিকার রক্ষা করা অন্তর্বর্তী সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।
তথ্য উপদেষ্টা বলেন, আন্তর্জাতিকভাবে নানা রকম অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। গণঅভ্যুত্থানকে অনেকেই ঠিকমতো ব্যাখ্যা করতে পারছে না। এত অল্প সময়ে এত বড় এক স্বৈরশাসকের পতন কীভাবে হলো, তা মানুষ বুঝতে পারছে না। ফলে দেশের ভেতরে ও বাইরে নানা রকম ষড়যন্ত্র হচ্ছে। সংখ্যালঘু নির্যাতন নিয়েও অপপ্রচার চালানো হচ্ছে। এই আন্দোলনটা যে গণতান্ত্রিক অভ্যুত্থান, তা অনেকেই অস্বীকার করার চেষ্টা করছে।
সিরিয়ায় ইসরাইলের দখলদারিত্বে সংঘাত নতুন মোড় নিতে পারে
সিরিয়ায় সরকার পতনের সুযোগে ইসরায়েলের বিমানবাহিনী ইতিহাসে অন্যতম বড় হামলা চালানোর পাশাপাশি ইসরায়েলের সেনারা দেশটির ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ছে। সর্বশেষ ৪৮ ঘণ্টায় দেশটির রাজধানী দামেস্ক ছাড়াও সিরিয়ার ১৪টি প্রদেশের ১৩টিতে হামলা চালায় ইসরায়েল।ইসরায়েলের হামলায় সিরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সব সামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। সিরিয়ার যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ ও হেলিকপ্টার থেকে শুরু করে বিমানবিধ্বংসী অস্ত্র, অস্ত্র উৎপাদন কারখানা, অস্ত্রাগারসহ ট্যাংক, সাঁজোয়া যান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সব ধরনের অস্ত্র ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সিরিয়ার অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিচ্ছে ইসরায়েল। এটা অবশ্যই সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চুপ থাকা এবং ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের কারণে তারা এই সুযোগ নিচ্ছে। নিজেদের নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে আরব ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইসরায়েল যেভাবে কথিত নিরাপদ অঞ্চল গড়ে তুলছে, তাতে আরব রাষ্ট্রগুলো অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। ইসরায়েলের সেনারা ইতিমধ্যে কাতানা শহরে পৌঁছে গেছেন। নিরস্ত্রীকরণ ওই অঞ্চল থেকে শহরটি বেশ কয়েক কিলোমিটার দূরে। সেখান থেকে কিছু দূর এগোলেই দামেস্ক বিমানবন্দর।
১৯৭৩ সালের আরব ইসরায়েল যুদ্ধের সময় গোলান মালভূমি দখল করে ইসরায়েল। যুদ্ধ শেষে সিরিয়ার ভেতরে গোলান মালভূমি লাগোয়া সিরিয়ার একটি ভূখণ্ডকে নিরস্ত্রীকরণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ইসরায়েলের সেনারা এই এলাকায় ঢুকে সামরিক চৌকিগুলোরও নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলেছে, ইসরায়েলের সেনারা ওই অঞ্চলে থেকে যাবেন। এর আশপাশের আরও কিছু এলাকাতেও থাকবেন তারা।
এরই মধ্যে সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে একটি ‘নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল’ গঠনের কথা জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাজ। নিয়ন্ত্রিত ওই অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর স্থায়ী উপস্থিতি থাকবে না, তবে সেটি নিয়ন্ত্রিত হবে। একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, ইসরায়েলের সেনারা যদি আরও অগ্রসর হন অথবা নিয়ন্ত্রিত এলাকায় তাঁরা যদি স্থায়ীভাবে থেকে যান, তাহলে নতুন করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে। কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে পারবে। এতে সংঘাত নতুন মোড় নিতে পারে।
রয়টার্স রিপোর্ট
বিদেশ যাওয়ার প্রবণতা বৃদ্ধি কৃষিতে বড় ধাক্কা !
বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠান (বিআইডিএস) এক প্রতিবেদনে বলছে, দেশের কৃষক ও তাঁদের পরিবার বিদেশে চলে যাওয়ার কারণে প্রায় ৬ শতাংশ কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে পড়েছে, যা কৃষি উৎপাদনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ঢাকায় চার দিনব্যাপী বিআইডিএসের বার্ষিক সম্মেলনের শেষ দিনে ‘ইমপেক্ট ইন্টারন্যাশনাল মাইগ্রেশন অন দি ইউজ অব অ্যাগ্রিকালচার ল্যান্ড : এভিডেন্স ফ্রম বাংলাদেশ’ গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন সংস্থার গবেষক নাদিম উদ্দিন।
প্রতিবেদনে বলা হয় – কৃষকের পরিবার থেকে বিদেশে মাইগ্রেশন করার ফলে দেশের কৃষিজমি অনাবাদি হওয়ার হার আশঙ্কাজনকভাবে বেড়ে যাচ্ছে। ২০১১ থেকে ২০১৮ সালের মধ্যে প্রায় ৬.৩৩% কৃষিজমি অনাবাদি রয়েছে। এ ছাড়া যারা আন্তর্জাতিক মাইগ্রেশন করছে, তাদের পরিবারের হাতে ২.৩% জমি অনাবাদি অবস্থায় রয়েছে। নাদিম উদ্দিন বলেন, মাইগ্রেশন হওয়া পরিবারের সদস্যরা আর তাদের পুরো জমিতে কৃষিকাজ করেন না। বিদেশ থেকে পাঠানো অর্থে তারা পণ্য কিনে খাচ্ছেন, কিন্তু ফসল ফলাচ্ছেন না। এসব জমি মূলত দেশের গ্রামাঞ্চলে অবস্থিত।


