Home Blog Page 220

টানা চার মাস দেশে মুঠোফোন ও ইন্টারনেটের গ্রাহক কমেছে , এ সময় মুঠোফোনের গ্রাহক কমেছে ৬১ লাখের বেশি ।

নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে ইন্টারনেটের চেয়ে খাবার কেনায় খরচ করা বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে

টানা চার মাস দেশে মুঠোফোন ও ইন্টারনেটের গ্রাহক কমেছে। এ সময় মুঠোফোনের গ্রাহক কমেছে ৬১ লাখের বেশি। ৫০ লাখ কমেছে ইন্টারনেটের গ্রাহক। মুঠোফোন অপারেটর ও খাতসংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা বলছেন, সর্বশেষ বাজেটে মুঠোফোনে কথা বলা ও ইন্টারনেট সেবার ওপর সম্পূরক শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। প্রভাব পড়েছে মুঠোফোন ও ইন্টারনেট সেবায়। পাশাপাশি দেশের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক পরিস্থিতিও দায়ী। বিটিআরসি’র তথ্য, চলতি বছর মুঠোফোনের সর্বোচ্চ গ্রাহক ছিল গত জুনে, ১৯ কোটি ৬০ লাখের বেশি। এরপর গ্রাহক কমতে থাকে। অক্টোবরে গ্রাহক ছিল ১৮ কোটি ৯৯ লাখ।

জুনে দেশে সর্বোচ্চ ১৪ কোটি ২১ লাখের বেশি ইন্টারনেট গ্রাহক ছিল। এর পর থেকে টানা চার মাস গ্রাহক কমেছে। অক্টোবরে দেশে ইন্টারনেট গ্রাহক ছিল ১৩ কোটি ৭১ লাখের বেশি। আগে মুঠোফোনে কথা বলা ও ইন্টারনেট সেবার ওপর ১৫ শতাংশ মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) দিতে হতো। চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের বাজেটে তা বাড়িয়ে ২০ শতাংশ করা হয়েছে। এ ছাড়া সিম কার্ড বিক্রির সময় আগে ২০০ টাকা ভ্যাট দিতে হতো; চলতি বাজেটে তা বাড়িয়ে ৩০০ টাকা করা হয়েছে।

অপারেটরগুলো বলছে, জুলাই আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের সময় ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম বন্ধের পর অনেক গ্রাহকই আর ইন্টারনেট সংযোগে ফেরেননি। নিত্যপণ্যের দাম যেভাবে বাড়ছে, তাতে নিম্ন আয়ের মানুষের কাছে এক জিবি (গিগাবাইট) ইন্টারনেট কেনার চেয়ে খাবার কেনায় খরচ করা বেশি জরুরি হয়ে পড়েছে।

বাংলাদেশিরা বিদেশে বছরে ৫০০ কোটি ডলারের চিকিৎসা নেন : বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর

বাংলাদেশিরা বিদেশে চিকিৎসার জন্য বছরে পাঁচ বিলিয়ন ডলারের বেশি খরচ করেন, জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর আহসান এইচ মনসুর। গভর্নর বলেন, চিকিৎসার জন্য বেশিরভাগ বাংলাদেশি ভারত ও থাইল্যান্ডে যান। কারণ এসব দেশের স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা বাংলাদেশের তুলনায় উন্নত। এই খরচের বড় অংশ অনানুষ্ঠানিকভাবে পাঠানো হয়, যা দেশের ব্যালেন্স অব পেমেন্ট বা বৈদেশিক লেনদেনের ওপর চাপ তৈরি করে। উন্নত চিকিৎসার জন্য বিদেশগামীদের এই প্রবণতা দেশের চিকিৎসা ব্যবস্থার সীমাবদ্ধতা ও বিশেষায়িত চিকিৎসার অভাবের দিকটি স্পষ্ট করছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

রবিবার, ১৫ ডিসেম্বর রাজধানীর একটি হোটেলে পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশ (পিআরআই) ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ উদ্যোগে আয়োজিত ‘ক্রস বর্ডার ডাটা ফ্লো : এ বাংলাদেশ পারসপেক্টিভ’ শীর্ষক কর্মশালায় তিনি কথা বলেন।

২৪’ এর বিচারের আগে বাংলাদেশের নির্বাচন হবে না : নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী

আগামী এক-দুই মাসের মধ্যে রাজনৈতিক দল ঘোষণা করা হবে, জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী।সোমবার মহান বিজয় দিবসে সাভারে জাতীয় স্মৃতিসৌধে শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানানোর পর তিনি এ কথা বলেন। নাসীরুদ্দীন বলেন, ‘আমরা জাতীয় নাগরিক কমিটি এখনো রাজনৈতিক দল হিসেবে আত্মপ্রকাশ করিনি। আমরা একটি রাজনৈতিক উদ্যোগ, যে উদ্যোগগুলো ২৪ এর গণঅভ্যুত্থানে অনেকগুলো শক্তি মাঠে এসেছিল, যারা আওয়ামী ফ্যাসিবাদকে পরাজিত করেছিল এবং যারা বাংলাদেশকে নতুনভাবে সাজাতে চায়। চাঁদাবাজি, টেন্ডারবাজি থেকে মুক্ত করে বাংলাদেশকে একটি সুন্দর জায়গায় নিয়ে যেতে চায়। আগামীর বাংলাদেশকে সুন্দরভাবে স্বপ্নভূমি দক্ষিণ এশিয়া এবং বিশ্বমঞ্চে উপস্থাপন করতে চায়। সে জায়গা থেকে জাতীয় নাগরিক কমিটি এবং বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন আগামী এক-দুই মাসের মধ্যে বাংলাদেশে একটি সুন্দর দল উপহার দেবে।’

সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে পাটওয়ারী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের এবং ফ্যাসিবাদীর যারা দোসর রয়েছে, তাদের বিচারের আগে বাংলাদেশে কোনো নির্বাচন হবে না। কারণ, একাত্তরের পরও যারা বাংলাদেশের মানুষের বিরুদ্ধে দাঁড়িয়েছিল, তাদের বিচার এখনো করতে পারিনি।নব্বইয়ে যারা জেহাদকে হত্যা করেছিল, তাদের বিচারও এখনো করতে পারিনি। নব্বই থেকে একাত্তর-আমাদের শিক্ষা, ২৪-এর বিচারের আগে বাংলাদেশের নির্বাচন হবে না।’

কেন সত্তরের নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হয়েছিল !

৭০’ এর নির্বাচন সে অর্থে ‘‌তত্ত্বাবধায়ক সরকারের’ অধীনে হয়েছিল।

সত্তরের নির্বাচন সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ হয়েছিল, কারন –

তৎকালীন রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপির ধারণা তখনো আসেনি। ১৯৫৪-৭১ সাল পাকিস্তানে যত নির্বাচন হয়েছিল তার কোনোটাতেই ভোট ডাকাতি হয়নি।

৬৯-এর গণঅভ্যুত্থানের ফলে ইয়াহিয়া খান ক্ষমতায় এসেছিলেন। ফলে আইয়ুব খানের ধ্বংস করে দেয়া নির্বাচন ব্যবস্থা, বিলুপ্ত ভোটাধিকার ইত্যাদি ফিরিয়ে দেয়ার জন্য জনআকাঙ্ক্ষার চাপ ছিল ইয়াহিয়া খানের ওপর।

নির্বাচনের ব্যাপারে জনগণের আগ্রহ ছিল ব্যাপক। নির্বাচনের মাধ্যমে পূর্ব পাকিস্তানে স্বায়ত্তশাসন ও আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং বৈষম্য অবসানের দাবিতে সংঘবদ্ধ ছিল মানুষ।

সরকার ভাবেইনি যে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পাবে। ইয়াহিয়ার ধারণা ছিল পূর্ব ও পশ্চিম পাকিস্তানের বিভিন্ন দল মিলিয়ে কোয়ালশন সরকার হবে, যা প্রেসিডেন্টের মাধ্যমে সাময়িক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণের বাইরে যেতে পারবে না। তাই তারা নির্বাচনে হস্তক্ষেপ করেনি।

সত্তর সালের নির্বাচনে কোনো ক্ষমতাসীন রাজনৈতিক দল অংশগ্রহণ করেনি। ইয়াহিয়া খান সরকারের মন্ত্রিসভার কোনো সদস্যের এ নির্বাচনে অংশ নেয়ার অনুমতি ছিল না। জিডব্লিউ চৌধুরীর মতে, সে নির্বাচন সত্যিকার অর্থে ‘তত্ত্বাবধায়ক সরকারের’ অধীনে হয়েছিল।

বণিক বার্তা বিশেষ সংখ্যা থেকে

দেশে আছে ৪৫ হাজার বৈধ ভারতীয় , চীনা ১০ হাজার

কোনো ধরনের কাগজপত্র ছাড়াই দেশে অনুপ্রবেশ করে থেকে যাওয়া কয়েক লাখ বিদেশীর মধ্যেও ভারতীয়ের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি বলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে

স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের বিশেষ শাখার গত ১৩ ডিসেম্বর পর্যন্ত হালনাগাদকৃত তথ্য অনুযায়ী, দেশে বৈধভাবে অবস্থানরত ভারতীয় নাগরিকের সংখ্যা ৪৫ হাজার। দেশে বৈধভাবে অবস্থানরত বিদেশীদের মধ্যে সংখ্যার দিক থেকে ভারতীয়রাই শীর্ষে। তাদের মধ্যে বড় একটি অংশ দেশের বিভিন্ন শিল্প-কারখানায় কাজ করছেন। আবার একাংশ পড়াশোনা করছেন দেশের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে।

অবৈধভাবে অবস্থানকারীদের দিক থেকেও ভারতীয়রা শীর্ষে। পুলিশের হিসাবে, বাংলাদেশে এভাবে অবস্থানরত ভারতীয়ের সংখ্যা ৭ হাজার ৪৭২। তাদের একাংশ বাংলাদেশে এসেছিলেন বৈধভাবে। কিন্তু পাসপোর্ট বা ভিসার মেয়াদ শেষ হওয়ার পরও তারা অবৈধভাবে থেকে গেছেন। তাদের অনেকেই আত্মগোপনে থেকে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে কাজ করছেন বলেও তথ্য রয়েছে। আর কোনো ধরনের কাগজপত্র ছাড়াই দেশে অনুপ্রবেশ করে থেকে যাওয়া কয়েক লাখ বিদেশীর মধ্যেও ভারতীয়ের সংখ্যাই সবচেয়ে বেশি বলে আইন শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সূত্রে জানা গেছে।

দেশে এখন বৈধভাবে অবস্থান করছেন ১ লাখ ১৯ হাজার ৫০০ বিদেশী। এর মধ্যে ভারতীয় ৪৫ হাজার। দ্বিতীয় অবস্থানে আছে ১৩ হাজার মার্কিন পাসপোর্টধারীরা। তাদের বড় একটি অংশ আবার যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশের দ্বৈত নাগরিক। তৃতীয় অবস্থানে চীনের নাগরিক আছে ১০ হাজার ৫০০। এছাড়া যুক্তরাজ্যের নাগরিক আছেন ৭ হাজার ৫০০, কানাডার ৪ হাজার ৫০০, নেপালের ৩ হাজার ৫০০, রাশিয়ার ৪ হাজার ৫০০, জাপানের ৪ হাজার ৫০০, শ্রীলংকার ২ হাজার ৫০০, পাকিস্তানের ২ হাজার, ইতালির ২ হাজার ইত্যাদি। আর অন্যান্য দেশের নাগরিক আছেন ১৭হাজার ৯২৮ জন, যাদের বেশিরভাগ আফ্রিকার বিভিন্ন দেশ থেকে এসেছেন।

আইনি দুর্বলতা ও বিদেশী নাগরিকদের সমন্বিত কোনো তথ্যভাণ্ডার না থাকায় বিনা বাধায় বাংলাদেশে বসবাসের সুযোগ পাচ্ছেন অবৈধভাবে থেকে যাওয়া বিদেশীরা। তাদের অনেকেই মাদক ব্যবসা, উপহারের নামে প্রতারণা, এটিএম জালিয়াতি, বিভিন্ন দেশের জাল মুদ্রার কারবার, অবৈধ ভিওআইপি ব্যবসা, স্বর্ণ চোরাচালান, অনলাইনে ক্যাসিনো ও মানব পাচারসহ সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্রগুলোর সঙ্গে জড়িয়ে পড়েছেন। আবার কেউ কেউ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে চাকরি করছেন এবং কর ফাঁকি দিয়ে উপার্জিত অর্থ হুন্ডির মাধ্যমে নিজের দেশে পাচার করে নিয়ে যাচ্ছেন।

বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ড কারা ঘটিয়েছে , সেটি জাতির সামনে এখনো প্রকাশিত করা হয়নি : জামায়াতে ইসলামী

শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটি আয়োজিত এক আলোচনা সভার সভাপতি মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন- ‘বিজয়ের এক দিন আগে বেছে বেছে সাংবাদিক, শিল্পী, গবেষক, শিক্ষক বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করল কারা? এটি স্পষ্ট, আধিপত্যবাদীরাই এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।’
প্রধান অতিথি জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন- এই হত্যাকাণ্ড কারা ঘটিয়েছে, সেটি জাতির সামনে এখনো প্রকাশিত করা হয়নি। যারা দেশকে বন্দুকের নলে লিজ দিতে চেয়েছিল এবং বিদেশি আগ্রাসনের এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে দায় রয়েছে।

তিনি বলেন ‘যে পাকিস্তানিরা পরাজিত, তারা নিজের জীবন যেখানে রক্ষা করতে পারছে না, তাদের আত্মসমর্পণের অলরেডি সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। তারা একটা দেশ, একটা জাতির জন্য আর কী ক্ষতি করতে পারে, এটা একটা বিশ্লেষণের বিষয়। যাদের সাহায্যে আমরা মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা অর্জন করেছি বলে আধিপত্যবাদী শক্তির সেবাদাসেরা জাতির কাছে গর্বিত হতে চায়।’ জামায়াত সেক্রেটারি আরো বলেন, ‘জহির রায়হানের ডকুমেন্টারি ও তার নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার রহস্য উন্মোচন করা গেলে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের রহস্য জানা যেত।’

মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে সাহায্য করার পেছনে ভারতের দুটি কারণ ছিল বলে দাবি করে গোলাম বলেন- ‘পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে ওই ‘৬৫-এর পরাজয়ের গ্লানির প্রতিশোধ নিতে হবে। সেই জন্য তারা সৈন্য দিয়ে অস্ত্র দিয়ে…কিন্তু ভেতরে তাদের ওই অসৎ উদ্দেশ্য ছিল। দৃশ্যত মনে হয়েছিল দেশটাকে তারা স্বাধীন করেছে।’ পরওয়ার বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধকে কাজে লাগিয়ে এই দেশটা যদি আমি পাকিস্তানিদের কাছ থেকে আলাদা করে দিতে পারি, তাহলে আমার দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, শিল্প, কলকারখানা, সংস্কৃতি সবকিছু চাপিয়ে দিয়ে আমরা একটা করদ রাজ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য কেন্দ্রে দেশটাকে ব্যবহার করতে পারব। সে জন্য তারা এখানে সাহায্য করেছে।’

সিরিয়ার মতো ইসলামপন্থী অভ্যুথান হতে পারে জর্ডানেও : ইসরায়েল

সিরিয়া বিদ্রোহীদের হাতে বাশার আল আসাদের সরকার পতনে জর্ডানেও উগ্রবাদীরা উৎসাহ পেতে পারে, যা দেশটির রাজা আব্দুল্লাহর শাসনকে অস্থিতিশীল করে তুলতে পারে। এমন উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ইসরায়েল। রোববার জেরুজালেম পোস্ট এই তথ্য জানিয়েছে।ইসরায়েলি মন্ত্রিসভায় সম্প্রতি এ বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। আলোচনার কেন্দ্রে ছিল সিরিয়ার সংঘাত জর্ডানে ছড়িয়ে পড়ার বিষয়ে উদ্বেগ, আশঙ্কা। জ্যেষ্ঠ্য ইসরায়েলি কর্মকর্তারা সতর্ক করেন, এ ধরনের ঘটনার ঘটলে তার প্রভাব ইসরায়েলেও পড়বে, কারণ জর্ডানের সঙ্গেই দেশটির সবচেয়ে বড় সীমান্ত।

আরব লিগের কুটনীতিকরাও এই অঞ্চলে গণঅভ্যুত্থানের আগুন ছড়িয়ে পড়া নিয়ে সতর্ক করেছেন। এক আরব কূটনীতিক জানিয়েছেন সিরিয়ার পরিস্থিতির ওপর কড়া নজর রাখছে মিসর, জর্ডান ও আশেপাশের অন্যান্য দেশ। সিরিয়ার বিদ্রোহে অন্যান্য দেশের ইসলামপন্থি আন্দোলন বেগবান হতে পারে। ওই কূটনীতিক বলেন, ‘সিরিয়ার বিরোধী পক্ষের মনোভাব এখন পর্যন্ত মধ্যমপন্থি হলেও তা যেকোনো সময়য় উগ্রতার দিকে যেতে পারে।’ ইসরায়েলি নিরাপত্তা বাহিনী শিন বেটের প্রধান রোনেন বার ও আইডিএফের গোয়েন্দা বিভাগের প্রধান জেনারেল শ্লোমি বাইন্ডার সম্প্রতি জর্ডান সফর করেন।

মূল্যস্ফীতির চাপে দুই বছরে নতুন দরিদ্র ৭৮ লাখ মানুষ

অব্যাহত মূল্যস্ফীতির চাপে গত দুই বছরে মানুষের প্রকৃত আয় কমেছে যা অন্তত ৭৮ লাখ মানুষকে দারিদ্যর দিকে ঠেলে দিয়েছে, যার মধ্যে ৩৮ লাখ লোক অতি দরিদ্র হয়ে পড়েছে। রোববার রাজধানীতে আয়োজিত এক কর্মশালায় প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করে বলা হয়- আওয়ামী লীগ সরকারের ভুল নীতি, দুর্নীতি ও অনিয়মের কারণে মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। তাছাড়া অতিরিক্ত টাকা সরবরাহের কারণেও মূল্যস্ফীতি বেড়েছে। রিসার্চ অ্যান্ড পলিসি ইন্টিগ্রেশন ফর ডেভেলপমেন্টের (র‍্যাপিড) এক গবেষণা প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সেক্রেটারি শফিকুল আলম বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের সময় অর্থনীতির বিভিন্ন তথ্য অতিরঞ্জিত করে দেখানো হয়েছে। মূল্যস্ফীতির প্রকৃত তথ্য না দেখিয়ে কম দেখানো হতো। বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ে সব খাতে সঠিক তথ্য প্রকাশ করা হচ্ছে। তবে এখন প্রকৃত তথ্য দেখাতে গেলে মূল্যস্ফীতি ১৩% হয়ে যাচ্ছে।সমালোচনা হয় যে আমরা ইনফ্লেশন কমাতে পারছি না। আমরা পরিষ্কারভাবে জানাতে চাই, কোনো তথ্যকে অতিরঞ্জিত করব না। যেটা আছে সেটি দেখানো হবে।

শিল্পকলার ‘বিজয়ের উৎসব’ এবার ‘ডিসেম্বরের উৎসব’

আগের বছরগুলোতে ডিসেম্বর মাসজুড়ে শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনের শিরোনাম ছিল ‘বিজয়ের উৎসব’। রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর এবার সেই উৎসবের নাম শিল্পকলা একাডেমি দিয়েছে ‘ডিসেম্বরের উৎসব’। ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে আওয়ামী লীগ সরকারের বিদায়ের পর অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে এসে ‘জয় বাংলা’ জাতীয় স্লোগান থেকে বাদ পড়া, ৭ মার্চ জাতীয় দিবসের তালিকা থেকে বাদ পড়ার ধারাবাহিকতা থেকেই শিল্পকলা একাডেমির এই প্রয়াস বলে মনে করছেন কেউ কেউ।

বিজয় দিবস আয়োজনের নাম পরিবর্তনের পক্ষে শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক সৈয়দ জামিল আহমেদ যুক্তি দেখিয়েছেন, ‘বিজয়ের মাস’ শব্দটি আওয়ামী লীগ তার রাজনীতির পুঁজি হিসাবে ব্যবহার করে আসছিল, তা থেকে এই উৎসবকে মুক্তি দিতে চাইছেন তারা। ‘ডিসেম্বর মাসটাকে উৎসবমুখর বাংলাদেশ দেখতে চাই, জানুয়ারি মাসটাকে উৎসবমুখর বাংলাদেশ দেখতে চাই, ফেব্রুয়ারি মাসেও আমরা উৎসবমুখর বাংলাদেশ দেখতে চাই। সেখানটায় কী বলব তখন? আরেকটা নাম দিতে হবে তখন আমাকে? মার্চ মাসে কি নাম দেব? এপ্রিল মাসে কি নাম দেব? এজন্য আমাদের যতদিন টাকা আছে … প্রতিটা মাসে, সারা বাংলাদেশ উৎসবমুখর বাংলাদেশে পরিণত করতে চাই।’

শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক বলেন, ‘আওয়ামী লীগ এই ‘বিজয়ের মাস ‘টাকে মুক্তিযুদ্ধকে পুঁজি করে তার মতো করে ব্যবহার করেছে। তার আর কোনও পুঁজি ছিল না। এক ছিল শেখ মুজিব, আরেকটা মুক্তিযুদ্ধ। এ দুটোকে পুঁজি করে তার গৎবাঁধা যে ন্যারেটিভ তৈরি করেছিল, একরৈখিক একটা ন্যারেটিভ তৈরি করেছিল। যার অর্থ হচ্ছে-আওয়ামী লীগ একমাত্র দল যারা মুক্তিযুদ্ধ করেছে। যেখানে বামপন্থী সকল দলের কথা উহ্য। তাজউদ্দীন আহমেদ, যিনি মুক্তিযুদ্ধকে সংগঠিত করেছিলেন, তার কথাটা উহ্য হয়ে গিয়েছিল একেবারেই। তার মানে আওয়ামী লীগ সমান সমান শেখ মুজিব সমান সমান মুক্তিযুদ্ধ। এর বাইরে দাঁড়িয়ে চিন্তা করেন আপনারা।’

সৈয়দ জামিল আহমেদ আরো বলেন, ‘আপনারা একটু খোলাচোখে দেখেন, একটু খোলা মনে চিন্তা করেন, আমরা বিজয়ের উৎসব করছি, মাত্র চারুকলায় গিয়ে আসলাম, সেখানে মাসব্যাপী পারফর্ম্যান্স আর্ট, ইনস্টলেশানের কাজ হচ্ছে। সেখানে আমাদের মূল বিষয়টা হচ্ছে উৎসবমুখর বাংলাদেশ, গণমুখী শিল্পকর্ম এবং প্রশ্ন উত্থাপন করা। আমরা চাই, শিল্পীরা প্রশ্ন উত্থাপন করুক। আমরা চাইব, সারাবছরব্যাপী এরকম উৎসব করতে।’

রাজনীতিবিদরা সংস্কার করতে পারলে ৫৩ বছরেও হয়নি কেন : পরিবেশ উপদেষ্টা

‘যদি রাজনীতিবিদরাই সংস্কার করেন, তাহলে গত ৫৩ বছর তারা কী করেছেন’ এমন প্রশ্ন তুলেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান। শুক্রবার, ১৩ ডিসেম্বর রাজধানীর গুলশানে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে সচেতনতা বৃদ্ধি ও ব্যক্তিগত গাড়িচালকদের পুনঃপ্রশিক্ষণ অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন। সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেন, ‘৫৩ বছরে কেন সংস্কার করলেন না? রাজনীতিবিদরাই যদি সংস্কার করতে পারেন, তাহলে আমাদের দায়িত্ব নিতে হতো না। প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে প্রধান উপদেষ্টা নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করবেন।’

ভারতের সঙ্গে বন্ধুত্ব ঠিক রাখতে গিয়ে ঘটে যাওয়া গণঅভ্যুত্থানকে অস্বীকার করার কোনো সুযোগ নেই জানিয়ে সৈয়দা রিজওয়ানা বলেন, ‘রাজনৈতিক কারণে ভারতের সঙ্গে আমাদের সম্পর্কের আকাশে যে কালো মেঘ এসেছে, দুই দেশের বৃহত্তর স্বার্থে তা দূর করতে হবে।’ রিজওয়ানা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ক্ষেত্রে দূরদর্শী দৃষ্টিভঙ্গির পাশাপাশি বাংলাদেশের সাম্প্রতিক গণঅভ্যুত্থানের ঐতিহাসিক তাৎপর‍্য স্বীকার করে ভারসাম্য বজায় রাখার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।