Home Blog Page 219

কি কারণে তাবলিগে বিরোধ , রক্তপাত !

ইসলাম প্রচারের কাজ করা তাবলিগ জামাতের বিরোধ ৯ বছরে নিরসন না হয়ে রক্তাক্ত হয়েছে। দু’পক্ষের ভাষ্যে বিরোধের কারণও ভিন্ন। মাওলানা জুবায়েরপন্থি হিসেবে পরিচিতরা বলছেন, ভারতের নিজামুদ্দিন মারকাজের আমির মাওলানা সাদ কান্ধলভির ইসলাম পরিপন্থি বক্তব্যের কারণেই বিরোধ। আবার মাওলানা সাদের অনুসারীরা বলছেন, ঐতিহ্য ভেঙে আমিরের পরিবর্তে শূরায়ে নেজামের (পরামর্শ সভা) মাধ্যমে তাবলিগ পরিচালনা নিয়েই মূল বিরোধ।

ভারতের দিল্লির নিজামুদ্দিনে ১৯২৫ সালে তাবলিগ জামাতের প্রতিষ্ঠাতা মাওলানা মুহম্মদ ইলিয়াস কান্ধলভি। তিনি ছিলেন জামাতের আমির। তাঁর মৃত্যুর পর ছেলে ইউসুফ কান্ধলভি আমির হন। সাদ কান্ধলভি তাঁর নাতি। মাওলানা সাদ ২০১৬ সালে অভিমতে জানান, ইসলাম শিক্ষার বিনিময়ে টাকা নেওয়া জায়েজ নয়। এ বক্তব্যকে ইসলামবিরোধী বলছেন দেওবন্দ দারুল উলুমকে অনুসরণ করা বাংলাদেশের কওমি মাদ্রাসাগুলো। সাদপন্থিদের ভাষ্য, কওমি মাদ্রাসাগুলোর নিয়ন্ত্রণ হেফাজতে ইসলামের নেতাদের হাতে। তারা ইসলামী শিক্ষা দিয়ে, ওয়াজ করে টাকা নেন। এ কারণেই সাদ কান্ধলভির বক্তব্যকে মানতে পারছেন না তারা।

বাংলাদেশে তাবলিগ জামাত নিয়ন্ত্রিত হয় কাকরাইল মসজিদ থেকে। দেওবন্দের মতো এর খতিব মাওলানা জুবায়ের আহমদও সাদ কান্ধলভির বক্তব্যের বিরোধী। হেফাজত নেতারা মাওলানা জুবায়েরের মতের সমর্থক। তারা বলছেন, সাদ কান্ধলভিকে তওবা করতে হবে। এ বিরোধিতায় তিনি ২০১৮ সাল থেকে ইজতেমায় আসতে পারছেন না।

শিক্ষার্থী হত্যা নিয়ে শঙ্কা : পরিকল্পিত ‘গুপ্তহত্যা’ নাকি আইন শৃঙ্খলার অবনতি

ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরাজিত শক্তি অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের টার্গেট করে গুপ্ত হত্যার মিশনে নেমেছে ?

১২ ডিসেম্বর ভোরে গাজীপুরের কালিয়াকৈরে ইস্ট ওয়েস্ট ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী তাজবির হোসেন শিহানকে কুপিয়ে হত্যা করা হয়।একই দিনে নারায়ণগঞ্জে ছিনতাইকারীর ছুরিকাঘাতে আহত হয়ে পরে হাসপাতালে মারা যান আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থী মোহাম্মদ সীমান্ত। এরা দুজনই জুলাই গণঅভ্যুত্থানে যুক্ত ছিলেন। তাদের সহপাঠী ও আন্দোলনের সাথে যুক্ত বিভিন্ন সংগঠন থেকে অভিযোগ করা হচ্ছে টার্গেটেড কিলিং এর। আসলেই কি তাই ?

১৮ ডিসেম্বর নারায়ণগঞ্জের এসপি সংবাদ সম্মেলনে জানান, সীমান্ত হত্যার ঘটনায় গ্রেফতারকৃত ছিনতাইকারী অনিকের কাছ থেকে নিহতের মোবাইল ফোন ও হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত সুইচ গিয়ার ছুরি উদ্ধার করা হয়েছে। ১৭ ডিসেম্বর গাজীপুর পুলিশ সংবাদ সম্মেলনে জানায়, শিহানকে কুপিয়ে হত্যার ঘটনায় জড়িত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। এই অপরাধী চক্র সিএনজিচালিত অটোরিকশায় করে চন্দ্রা, মৌচাক, কোনাবাড়ী, চৌরাস্তা, টঙ্গী এলাকায় ছিনতাই করে। তাদের কাছ থেকে নিহত শিহানের মুঠোফোন, স্টুডেন্ট আইডি কার্ড, ব্যাংকের কার্ডসহ চারটি মুঠোফোন ও টাকা উদ্ধার করা হয়েছে।

নিহত হন ছাত্রদলের কর্মী জসিম। নিহতের স্বজন, স্থানীয় ও পুলিশের মতে নগরের ময়লার ডিপোর উচ্ছিষ্ট সংগ্রহ করে ব্যবসা সংক্রান্ত দখল ও বিরোধের জের ধরে এ হত্যাকাণ্ডের ঘটনা। এসব ঘটনা নিয়ে গতকাল জাতীয় নাগরিক কমিটি বিবৃতিতে বলেছে ‘এসব হত্যার ঘটনায় আইন- শৃঙ্খলা পরিস্থিতির যথেষ্ট অবনতি পরিলক্ষিত হচ্ছে। নতুন বাংলাদেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে নাগরিকদের সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিতে কার্যকর উদ্যোগ নেওয়ার দাবি জানাই।’

জাতীয় নাগরিক কমিটি আরও বলছে, ‘সাম্প্রতিক ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে ফ্যাসিবাদের উচ্ছিষ্টভোগীদের দ্বারা ছাত্র হত্যার নির্দেশ প্রদান এবং গণ হত্যাকারী ছাত্রলীগ কর্তৃক অভ্যুত্থানের শক্তি তরুণদের রক্ত চেয়ে বিবৃতি উক্ত ঘটনাগুলোর সঙ্গে তাদের সংশ্লিষ্টতাকে ইঙ্গিত করে।’ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বলেছে ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানের পরাজিত শক্তি অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের টার্গেট করে গুপ্ত হত্যার মিশনে নেমেছে। আরও কয়েকজন শিক্ষার্থী নিষিদ্ধ ছাত্রলীগ ও আওয়ামী সন্ত্রাসীদের কাছ থেকে প্রাণনাশের হুমকি পেয়েছেন।”

মনে হচ্ছে একটি অদৃশ্য শক্তি উপদেষ্টাদের কাজে হস্তক্ষেপ করছে : জি এম কাদের

দেশকে শুধু দুই ভাগ করা হয়নি, এক ভাগকে অন্য ভাগের ওপর লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে, দেশে একটি সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে।

১৭ ডিসেম্বর জাপা বনানী কার্যালয়ে আলোচনা সভায় জাতীয় পার্টির (জাপা) চেয়ারম্যান জি এম কাদের বলেছেন- ‘যাঁরা উপদেষ্টা আছেন, তাঁদের সম্বন্ধে আমি জানি। তারা অত্যন্ত যোগ্যতাসম্পন্ন মানুষ। আমি বিশ্বাস করি, তারা দেশের স্বার্থেই কাজ করছেন। কিন্তু মনে হচ্ছে, একটি অদৃশ্য শক্তি আছে, যারা উপদেষ্টাদের কাজে হস্তক্ষেপ করছে। দেশের অর্ধেক মানুষের বিরুদ্ধে অর্ধেক মানুষকে মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে।’

জাপা চেয়ারম্যান বলেন – দেশকে শুধু দুই ভাগ করা হয়নি, এক ভাগকে অন্য ভাগের ওপর লেলিয়ে দেওয়া হয়েছে, দেশে একটি সংঘাতময় পরিস্থিতি সৃষ্টি করা হয়েছে। এ ক্ষেত্রে পুলিশ ও বিচার বিভাগ যেন বাধ্য হয়ে তাদের (অদৃশ্য শক্তি) সহায়তা করছে। এমন বাস্তবতায় কখনোই দেশে স্থিতিশীলতা আসতে পারে না। যেকোনো সময় অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হতে পারে। বিপুল জনসংখ্যা অধ্যুষিত এমন একটি দেশে অস্থিতিশীল পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে মানবিক বিপর্যয় সৃষ্টির আশঙ্কা আছে।

জি এম কাদের আরও বলেন, ‘মিথ্যা মামলা বাদী প্রত্যাহার করেছে; কিন্তু একটি দলের আইনজীবীরা চাপ সৃষ্টি করেছে, গোলাম মোহাম্মদ কাদেরের নাম দিতে হবে। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী থেকে শুরু করে বিচার বিভাগের সবাই জানে এগুলো মিথ্যা মামলা।কিন্তু তারা মেনে নিচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘শহীদদের আত্মত্যাগকে মিথ্যা মামলা বানিয়ে লাখ লাখ মানুষকে হয়রানি করা হচ্ছে। ব্যক্তিগত শত্রুতা উদ্ধারে, সামাজিক ও রাজনৈতিক ফায়দা হাসিলের জন্য প্রতিশোধ হিসেবে ব্যবহার করা হচ্ছে।’

সাইবার সুরক্ষা আইনের খসড়া আরো সময় নিয়ে পর্যালোচনার ভিত্তিতে করা উচিত : মো. সাইমুম রেজা তালুকদার , আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর , ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগে খণ্ডকালীন শিক্ষক

আসলে টেক প্লাটফর্মগুলো এতটাই শক্তিশালী যে … তারা এক ধরনের সুপ্রা ন্যাশনাল অথরিটি হয়ে উঠেছে , যা বিভিন্ন দেশের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করছে। … দিন শেষে এটি একটি উদ্বেগের বিষয়।

আমরা এরই মধ্যে দেখেছি যে সাইবার সুরক্ষা নামক একটি নতুন আইনের খসড়া করা হয়ে গেছে। আমরা সিভিল সোসাইটির পক্ষ থেকে বলে এসেছি যে, একটি নতুন ড্রাফট করা হোক যেটা সিকিউরিটি দৃষ্টিকোণ থেকে যেন না হয়। আইনের নতুন খসড়ায় যদি আমরা জনগণের অধিকারকে প্রাধান্য না দিয়ে সিকিউরিটি দৃষ্টিকোণ থেকে যদি আবার নতুন খসড়া করে সাইবার সিকিউরিটি অ্যাক্ট (CSA) বাতিল করে দিই, তাহলে এটি আবার একটি নতুন জটিলতা সৃষ্টি করবে। আমি মনে করি, এখানে ধৈর্যের পরিচয় দেয়া জরুরি। কারণ আইন ড্রাফট করা কিন্তু সহজ কোনো বিষয় নয়। এটি একটি কারেক্টিভ প্রসেস।

স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে পর্যাপ্ত পরামর্শ করে এবং তাদের মতামতগুলোকে প্রাধান্য দিয়ে তারপর আইনটি তৈরি করা বাঞ্ছনীয়। আমার মনে হয়, এখানে তাড়াহুড়া না করাই ভালো হবে। … টেক প্লাটফর্মগুলো এতটাই শক্তিশালী যে তারা প্রতি বছর কোনো কোনো দেশের মোট জিডিপির তুলনায় বেশি রাজস্ব আয় করে। তারা এক ধরনের সুপ্রা-ন্যাশনাল অথরিটি হয়ে উঠেছে, যা বিভিন্ন দেশের সার্বভৌমত্বকে চ্যালেঞ্জ করছে। দুঃখজনকভাবে এ প্লাটফর্মগুলো অনেক ক্ষেত্রেই সংশ্লিষ্ট দেশের আইনগত এখতিয়ার বা লিগ্যাল জুরিসডিকশনের আওতায় পড়ে না। এ কোম্পা-নিগুলো সাধারণত সে দেশগুলোর মালিকানাধীন, যারা আন্তর্জাতিক সুপার পাওয়ার হিসেবে স্বীকৃত। দিন শেষে এটি একটি উদ্বেগের বিষয়।

মিসইনফরমেশন, ফেক নিউজ কিংবা হেট স্পিচের মতো বিষয়গুলোর মাধ্যমে মানুষ যত বেশি যুক্ত হবে, এ প্লাটফর্মগুলোর রাজস্বও তত বাড়বে। আর সেই রাজস্বের সিংহভাগ চলে যাচ্ছে প্রভাবশালী দেশগুলোর কাছে। ফলে এখানে তাদের একটি অর্থনৈতিক স্বার্থ তৈরি হয়েছে। এক্ষেত্রে আমরা কী করতে পারি? এককভাবে বাংলাদেশ হয়তো এ ধরনের চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে পারবে না। ভারত, শ্রীলংকা বা পাকিস্তানও একলা মোকাবেলা করতে পারবে না।

তবে আমরা যদি অঞ্চলভিত্তিক এমন একটি নীতিমালা প্রণয়ন করতে পারি, যেখানে উল্লেখ থাকবে যে যদি সংশ্লিষ্ট কোম্পানিগুলো দক্ষিণ এশিয়ার অঞ্চলে ভুয়া তথ্য, মিথ্যা প্রচার বা ঘৃণামূলক বক্তব্য বন্ধ করতে ব্যর্থ হয়, তবে তাদের বিরুদ্ধে জরিমানা আরোপ করা হবে বা কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করা হবে। এ অঞ্চলে প্লাটফর্মগুলোর গ্রাহক সংখ্যা বিলিয়নের ওপর। যদি এ দেশগুলো সম্মিলিতভাবে এমন একটি নীতিমালা প্রণয়ন করতে পারে, তাহলে ব্যবসায়িক স্বার্থে হলেও এ প্লাটফর্মগুলো আমাদের দাবি মানতে বাধ্য হবে।

বাংলাদেশ থেকে অভিবাসন খরচ বিশ্বে সবচেয়ে বেশি : শরিফুল হাসান , সহযোগী পরিচালক , ব্র্যাক মাইগ্রেশন প্রোগ্রাম

আমাদের বিদেশ যাওয়ার প্রসেসটা এখনও দালালনির্ভর। যার কারণে যাওয়ার খরচ সবচেয়ে বেশি এবং আয় সবচেয়ে কম।

বাংলাদেশ থেকে বিদেশে যেতে যে অভিবাসন খরচ, সেটি বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি। সরকার প্রত্যেকটা দেশের জন্য নির্ধারিত খরচ বেঁধে দিয়েছে। কিন্তু কাগজে-কলমেই সেটা আছে। যারা বিদেশে লোক পাঠায় তারা অনেক সময়েই অনেকগুণ বেশি টাকা নেন। এর কারণ, বিদেশে যেমন মধ্যস্বত্বভোগী আছে, দেশেও তেমনই নানা স্তরে দালালদের দৌরাত্ম্য রয়েছে। ফলে আট থেকে ১০ লাখ টাকাও লাগে বিদেশে যেতে।

এছাড়া পদে পদে আছে ভোগান্তি, হয়রানি। পাসপোর্ট তৈরি থেকেই এর শুরু। এরপর রিক্রুটিং এজেন্সির দালাল ও প্রতারক এজেন্সি, চাকরির বিষয়ে অসত্য তথ্য, উচ্চমূল্যে ভিসা কেনাবেচা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা, সরকারি ছাড়পত্র-সব ক্ষেত্রে সীমাহীন যন্ত্রণা। দেশের আকাশ পার হলে শুরু হয় বিরূপ প্রকৃতি, অমানুষিক পরিশ্রম, অস্বাস্থ্যকর পরিবেশে জীবনযাপন, মালিকদের প্রতারণা, নির্যাতনসহ আরও কত কী। আমাদের বিদেশ যাওয়ার প্রসেসটা এখনও দালালনির্ভর। যার কারণে যাওয়ার খরচ সবচেয়ে বেশি এবং আয় সবচেয়ে কম। অভিবাসন খরচ কমানোর একটা বড় উপায় হলো-অভিবাসন প্রক্রিয়া ঠিক করা এবং দক্ষ শ্রমিক তৈরি করা।

শরিফুল হাসানের মতে, মধ্যপ্রাচ্যের আইনে ভিসা কেনাবেচা শাস্তিযোগ্য অপরাধ। বাংলাদেশিরা যখন যেই বাজারে একটু বেশি যাওয়া আসা করে, ওই বাজারেই ভিসা কেনাবেচার ব্যবসা শুরু হয়। ভিসা বাণিজ্যের প্রভাব ওইসব শ্রমবাজারে পড়েছে। এ কারণে অভিবাসন খরচ একদম হুড়মুড় করে বেড়ে যায়। মধ্যপ্রাচ্যে অভিবাসন খরচ বেশি হওয়ার অন্যতম একটি কারণ হচ্ছে এই ভিসা বাণিজ্য।

চলতি বছর নতুন শ্রমবাজার খোলেনি বাংলাদেশিদের জন্য

শুধু সৌদি আরবে বাড়লেও , বিদেশে কর্মী পাঠানো কমছে

এ বছর বিদেশে কর্মী পাঠানো কমেছে ২৪%। গত বছর চাকরি নিয়ে ১৩ লাখ ৭ হাজার ৮৯০ জন বিদেশ গিয়েছেন। আর গত ১৪ ডিসেম্বর পর্যন্ত এ সংখ্যা ৯ লাখ ৫২ হাজার ৬৫৮। তাদের মধ্যে সৌদি আরব গেছেন ৫ লাখ ৭৯ হাজার ৪২৩ জন, যা মোট জনশক্তি রপ্তানির ৬০%। গত দুই মাসে বিদেশে কর্মসংস্থানের ৮০%র বেশি হয়েছে সৌদিতে। গালফ নিউজ বলছে, সৌদি আরব ২০৩৪ এ ফিফা বিশ্বকাপ এবং ২০৩০ এ রিয়াদ এক্সপোসহ বেশ কয়েকটি হাই প্রোফাইল ইভেন্টের জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে। পাশাপাশি বিমান চলাচল, রেলওয়েসহ বিশাল সব অবকাঠামো প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের জন্য বৈচিত্র্যময় শ্রমশক্তির প্রয়োজন হচ্ছে।

সৌদি আরবের প্রয়োজনীয় শ্রম শক্তির অনেকটাই জোগান দিচ্ছে বাংলাদেশ। গত মাসে ৮৩ হাজার বাংলাদেশি কর্মী নিয়োগ দিয়েছে মধ্যপ্রাচ্যের দেশটি। সংখ্যাটি বিশ্বের যে কোনো দেশের অন্য দেশ থেকে মাসিক নিয়োগের সর্বোচ্চ রেকর্ড। এবছর নতুন শ্রমবাজার খোলেনি বাংলাদেশিদের। মালয়েশিয়া, মালদ্বীপের মতো পুরোনো শ্রমবাজার বন্ধ হয়েছে। আগস্ট থেকে অঘোষিতভাবে বন্ধ সংযুক্ত আরব আমিরাতের শ্রমবাজার। গত বছর অক্টোবরে বাংলাদেশ থেকে কর্মী নিয়োগ বন্ধ করে ওমান। যুক্তরাজ্য, ইতালি, জাপান, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো উন্নত দেশেও কর্মসংস্থান সংকুচত হয়েছে বাংলাদেশিদের জন্য। জনশক্তি রপ্তানি অর্ধেকে নেমেছে ব্রুনাইয়ে। মরিশাসে বন্ধ ঘোষণা ছাড়াই। ২০১৭ থেকে বন্ধ বাহরাইনে নিয়োগ।

দক্ষ কর্মী না থাকায় বাংলাদেশিদের কর্মসংস্থান সৌদি আরব এবং মধ্যপ্রাচ্যের দেশনির্ভর। এসব দেশে ভিসা কেনাবেচা, প্রতারণা, নির্ধারিত অভিবাসন ব্যয়ের কয়েক গুণ টাকা আদায়সহ নানা অনিয়ম হয়। দক্ষ কর্মী তৈরি ছাড়া কর্মসংস্থান বাড়বে না। এ বছরের জানুয়ারি থেকে জুলাই পর্যন্ত আউট পাস নিয়ে দেশে ফেরত এসেছেন ৪০ হাজার ৩০৫ কর্মী। বৈধ কাগজপত্র থাকা সত্ত্বেও কাজ না পাওয়া, চিকিৎসাবঞ্চিত ও প্রতারণার শিকার হয়ে বিভিন্ন দেশে কর্মী হিসেবে যাওয়ার ছয় মাসের মধ্যে দেশে ফিরেছেন ১ হাজার ৯২৬ জন। মালয়েশিয়ার অভিবাসন বিভাগের তথ্যমতে, কাজ না থাকায় দেশে ফিরতে নিবন্ধন করেছেন ৩১ হাজারেরও বেশি বাংলাদেশী।

২০২৪ সালে বাংলাদেশী টাকা এশিয়ার অন্যতম দুর্বল মুদ্রা

ডলারের বিপরীতে বাংলাদেশী মুদ্রা টাকার বড় অবমূল্যায়ন টানা তৃতীয় বছরেও অব্যাহত রয়েছে। চলতি বছরের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত অবমূল্যায়ন ঘটেছে ৯%রও বেশি। তবে এ হিসাব কেন্দ্রীয় ব্যাংক ঘোষিত দরের ক্ষেত্রে। কার্ব মার্কেট বা খোলা মুদ্রাবাজার দর আমলে নিলে চলতি বছর টাকার বিপরীতে ডলারের বিনিময় হার বেড়েছে সাড়ে ১৪%। সে হিসাবে ২০২৪ সালে এশিয়ার উল্লেখযোগ্য মুদ্রাগুলোর মধ্যে টাকার অবস্থানই সবচেয়ে দুর্বল। বাংলাদেশ ব্যাংক অনুমোদিত দর অনুযায়ী, চলতি ২০২৪ সালের শুরুতে প্রতি ডলারের সর্বোচ্চ বিনিময় হার ছিল ১১০ টাকা। আর ১৭ ডিসেম্বর ডলারের সর্বোচ্চ দর ১২০ টাকা ঘোষণা করা হয়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এক দশক আগে ডলারের দর বেঁধে রাখার যে নীতি বাংলাদেশ ব্যাংক নিয়েছিল, গত তিন বছর সেটিরই খেসারত দিতে হচ্ছে। ২০১২ সাল-পরবর্তী সময় থেকেই দেশে ডলারের দর বেঁধে রাখা হয়েছিল। ওই সময় দরকার ছিল ডলারের দর বাজারের সঙ্গে সংগতি রেখে ধীরে ধীরে টাকার অবমূল্যায়ন ঘটানো। কিন্তু ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকার টাকাকে শক্তিশালী দেখাতে চেয়েছে। এ কারণে টাকাকে অতিমূল্যায়িত করে রাখা হয়েছিল। ২০২২ সাল পরবর্তী সময়ে এসে বাঁধ দিয়ে রেখেও টাকার অবমূল্যায়ন ঠেকানো যায়নি।

সংস্কারের জন্য কত মাস প্রয়োজন , সেটি জানার অধিকার জনগণের আছে : তারেক রহমান

রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য অন্তর্বর্তী সরকারের আর কত মাস প্রয়োজন, তা জনগণের জানার অধিকার আছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, আগামী দিনের কর্মপরিকল্পনার রোডম্যাপ ঘোষণার কথা শুনলেই উপদেষ্টাদের চেহারায় যদি অস্বস্তির ছাপ ফুটে ওঠে, সেটি অবশ্যই গণ আকাঙ্ক্ষা বিরোধী হবে। তারেক রহমান প্রশ্ন রাখেন, অন্তর্বর্তী সরকার আসলে কী করতে চাইছে? রোববার মহান বিজয় দিবস উপলক্ষে রাজধানীতে বিএনপি আয়োজিত আলোচনা সভায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তারেক রহমান।

তারেক রহমান বলেন, সরকার জনগণের সামনে তাদের কর্মপরিকল্পনার রোডম্যাপ ঘোষণা করবে, এটি একদিকে জনগণের কাছে সরকারের স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করবে, অপর দিকে প্রশাস-নিক কার্যক্রমেও গতিশীলতা বাড়াবে। বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল বলেন, ‘অবশ্যই অতি দ্রুত একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সংস্কারের পথকে সুগম করতে হবে। এটাই এই মুহূর্তে সবচেয়ে বড় প্রয়োজন। কিন্তু কষ্ট লাগে যখন পদ-গুণে বুদ্ধিমান আর পতাকা-গুণে শক্তিমানেরা সংস্কারের শিক্ষা দিতে আসে।’

পোশাক রপ্তানির ক্রয়াদেশ বেড়েছে , তবে দুশ্চিন্তা আইনশৃঙ্খলা নিয়ে

একজন উদ্যোক্তা বলেন, একের পর এক আন্দোলনে বিদেশি ক্রেতারা উদ্বিগ্ন ও বিরক্ত।

যুদ্ধ আর উচ্চ মূল্যস্ফীতির ধাক্কা কাটিয়ে আবার তৈরি পোশাকের ব্যবসা ফিরছে। পাশাপাশি চীন থেকেও ক্রয়াদেশ স্থানান্তরিত হতে শুরু করেছে। সব মিলিয়ে আগামী বসন্ত ও গ্রীষ্ম মৌসুমের ভালো ক্রয়াদেশ পেয়েছে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক কারখানাগুলো। এমনকি তারপরের শরৎ ও শীত মৌসুমের ক্রয়াদেশ নিয়ে আশাবাদী পোশাকশিল্পের উদ্যোক্তারা। তৈরি পোশাকশিল্পের কয়েকজন উদ্যোক্তা জানান, রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বেশ কিছু কারখানা বন্ধ হয়ে গেছে। সেই কারখানার ক্রয়াদেশ দেশের মধ্যে অন্য কারখানাগুলো পেয়েছে। তবে বর্তমানে সবকিছু ছাপিয়ে শিল্পাঞ্চলের আইনশৃঙ্খলা ও কারখানার নিরাপত্তা বড় দুশ্চিন্তার হয়ে দাঁড়িয়েছে।

চলতি মাসে ১৫ শতাংশ বার্ষিক মজুরি বৃদ্ধি বা ইনক্রিমেন্ট, নিম্নতম মজুরি ২৫ হাজার টাকা নির্ধারণসহ কয়েকটি দাবিতে আশুলিয়ায় শ্রম অসন্তোষের ঘটনা ঘটছে। এতে সেখানকার বেশ কিছু কারখানায় দিনের পর দিন উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। একজন উদ্যোক্তা বলেন, একের পর এক আন্দোলনে বিদেশি ক্রেতারা উদ্বিগ্ন ও বিরক্ত। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও কারখানার নিরাপত্তার বিষয়টি নিশ্চিত করা না গেলে ক্রেতারা আস্থা পাবেন না।

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) তথ্য অনুযায়ী, চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই থেকে নভেম্বর পর্যন্ত পাঁচ মাসে তৈরি পোশাকের রপ্তানি বেড়েছে ১২ শতাংশ। এদিকে ডোনাল্ড ট্রাম্পের জয়ে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে তৈরি পোশাকের ব্যবসার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নির্বাচনী প্রচারণায় চীনা পণ্যে আমদানি শুল্ক বাড়ানোর কথা বলেছেন ট্রাম্প। সেটি হলে চীন থেকে তৈরি পোশাকের ক্রয়াদেশ স্থানান্তরিত হবে।

৭১’ এ বাংলাদেশ থেকে শরণার্থীরা যে গতিতে ভারতে গিয়েছে , ফিরেছে তার চেয়ে দ্রুতগতিতে : আনিকা মাহজাবিন

বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরই ভারত সরকার ঘোষণা দেয় – ২৫ মার্চের পর যারা ভারতে প্রবেশ করেছে, তাদের খুব দ্রুত নিজ দেশে ফিরতে হবে। এজন্য সময় বেঁধে দেয়া হয় ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত। শরণার্থীরাও এতে সাড়া দিয়ে দ্রুত স্বদেশে ফিরতে শুরু করে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাবে, ভারত সরকারের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরে আসে ৯০ লাখেরও অধিক শরণার্থী। এ অনুযায়ী বিজয়ের তিন মাসের মধ্যেই বাংলাদেশী শরণার্থীদের ৯০ শতাংশেরও বেশি ভারতের মাটি ত্যাগ করেছিল।

১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর শরণার্থীরা সীমান্তে আসার পর পরই তাদের নিবন্ধন করা হতো। যেখানে ভারতে প্রবেশের আগে তাদের একটি নথি ধরিয়ে দেয়া হতো। এর সঙ্গে দেশটির অভ্যন্তরে যাত্রার জন্য দেয়া হতো রেশনের খাদ্য এবং কলেরা ও গুটিবসন্ত প্রতিরোধী ইনজেকশন। যারা সীমান্তে নিবন্ধন করেননি তারা ভারতে বসবাস করেছেন বন্ধু, আত্মীয় বা কোনো স্থানীয় পরিবারের সঙ্গে।ভারত সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের শুরুতে দেশটির শরণার্থী শিবিরে অবস্থানরত বাংলাদেশীর সংখ্যা ছিল ৬৮ লাখ। আর স্থানীয় পরিবারগুলোর সঙ্গে ছিল আরো ৩১ লাখ।

জানুয়ারির শেষ নাগাদ প্রায় ৬০ লাখ শরণার্থী দেশে ফিরেছে বলে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএনএইচসিআর) একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, ‘এ সময় ক্যাম্প থেকে বাংলাদেশে ফেরার দৃশ্যটি দেখে মনে হচ্ছে অবিরাম মানুষের স্রোত বয়ে চলছে। একটাই উদ্দেশ্য, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জন্মভূমিতে ফেরা। কেউ হেঁটে রওনা হয়েছে, কেউ সাইকেলে বা রিকশায় চড়ে। প্রতিদিন স্পেশাল ট্রেন ছেড়ে যাচ্ছে। প্লাটফর্মে অগণিত মানুষের অপেক্ষা। শুধু জানুয়ারিতেই প্রতিদিন গড়ে ২ লাখ ২১ হাজার মানুষ বাংলাদেশের সীমান্ত অতিক্রম করেছে।’

প্রত্যাবর্তনের সময় শরণার্থীদের ভ্রমণের জন্য খাবার, চিকিৎসা সহায়তা এবং দুই সপ্তাহের মৌলিক রেশন দেয়া হয়। ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ দেশে ফেরা শরণার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৯০ লাখেরও বেশিতে। ভারত সরকারের হিসাবে, ১৯৭২ সালের ২৫ মার্চ দেশটিতে অবস্থানরত শরণার্থীর সংখ্যা ছিল ৬০ হাজার। তাদের ভারতে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার কোনো ধরনের সুযোগ নেই বলে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়া হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশ থেকে যে গতিতে শরণার্থীরা ভারতে গিয়েছে, ফিরেছে তার চেয়ে দ্রুতগতিতে।