বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরই ভারত সরকার ঘোষণা দেয় – ২৫ মার্চের পর যারা ভারতে প্রবেশ করেছে, তাদের খুব দ্রুত নিজ দেশে ফিরতে হবে। এজন্য সময় বেঁধে দেয়া হয় ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ পর্যন্ত। শরণার্থীরাও এতে সাড়া দিয়ে দ্রুত স্বদেশে ফিরতে শুরু করে। জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর হিসাবে, ভারত সরকারের বেঁধে দেয়া সময়ের মধ্যেই বাংলাদেশে ফিরে আসে ৯০ লাখেরও অধিক শরণার্থী। এ অনুযায়ী বিজয়ের তিন মাসের মধ্যেই বাংলাদেশী শরণার্থীদের ৯০ শতাংশেরও বেশি ভারতের মাটি ত্যাগ করেছিল।
১৯৭১ সালের ২৫ মার্চের পর শরণার্থীরা সীমান্তে আসার পর পরই তাদের নিবন্ধন করা হতো। যেখানে ভারতে প্রবেশের আগে তাদের একটি নথি ধরিয়ে দেয়া হতো। এর সঙ্গে দেশটির অভ্যন্তরে যাত্রার জন্য দেয়া হতো রেশনের খাদ্য এবং কলেরা ও গুটিবসন্ত প্রতিরোধী ইনজেকশন। যারা সীমান্তে নিবন্ধন করেননি তারা ভারতে বসবাস করেছেন বন্ধু, আত্মীয় বা কোনো স্থানীয় পরিবারের সঙ্গে।ভারত সরকারের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ১৯৭১ সালের ডিসেম্বরের শুরুতে দেশটির শরণার্থী শিবিরে অবস্থানরত বাংলাদেশীর সংখ্যা ছিল ৬৮ লাখ। আর স্থানীয় পরিবারগুলোর সঙ্গে ছিল আরো ৩১ লাখ।
জানুয়ারির শেষ নাগাদ প্রায় ৬০ লাখ শরণার্থী দেশে ফিরেছে বলে জাতিসংঘ মানবাধিকার কাউন্সিলের (ইউএনএইচসিআর) একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। এতে বলা হয়, ‘এ সময় ক্যাম্প থেকে বাংলাদেশে ফেরার দৃশ্যটি দেখে মনে হচ্ছে অবিরাম মানুষের স্রোত বয়ে চলছে। একটাই উদ্দেশ্য, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব জন্মভূমিতে ফেরা। কেউ হেঁটে রওনা হয়েছে, কেউ সাইকেলে বা রিকশায় চড়ে। প্রতিদিন স্পেশাল ট্রেন ছেড়ে যাচ্ছে। প্লাটফর্মে অগণিত মানুষের অপেক্ষা। শুধু জানুয়ারিতেই প্রতিদিন গড়ে ২ লাখ ২১ হাজার মানুষ বাংলাদেশের সীমান্ত অতিক্রম করেছে।’
প্রত্যাবর্তনের সময় শরণার্থীদের ভ্রমণের জন্য খাবার, চিকিৎসা সহায়তা এবং দুই সপ্তাহের মৌলিক রেশন দেয়া হয়। ১৯৭২ সালের ফেব্রুয়ারির শেষ নাগাদ দেশে ফেরা শরণার্থীর সংখ্যা দাঁড়ায় ৯০ লাখেরও বেশিতে। ভারত সরকারের হিসাবে, ১৯৭২ সালের ২৫ মার্চ দেশটিতে অবস্থানরত শরণার্থীর সংখ্যা ছিল ৬০ হাজার। তাদের ভারতে স্থায়ীভাবে থেকে যাওয়ার কোনো ধরনের সুযোগ নেই বলে দেশটির সরকারের পক্ষ থেকে স্পষ্ট জানিয়ে দেয়া হয়েছিল। মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে বাংলাদেশ থেকে যে গতিতে শরণার্থীরা ভারতে গিয়েছে, ফিরেছে তার চেয়ে দ্রুতগতিতে।


