Home Blog Page 218

চিকিৎসার জন্য বিদেশগামীর সংখ্যায় বাংলাদেশ বিশ্বে দশম

কারা ভারতে চিকিৎসা নিতে যান তার তালিকার শুরুতে আছেন ব্যবসায়ীরা, দ্বিতীয় স্থানে বেসরকারি চাকরিজীবীরা। তৃতীয় স্থানে আছেন দিনমজুরেরা।

চিকিৎসার জন্য যেসব দেশের মানুষ বিদেশে বেশি যায় সেই তালিকার দশম স্থানে বাংলাদেশ। যেসব দেশ থেকে বেশি রোগী অন্য দেশে যায় এমন ১০টি দেশের মধ্যে শীর্ষ আছে ইন্দোনেশিয়া। অন্য দেশগুলো হচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র, চীন, ইতালি, জার্মানি, লেসেতো, দুবাই ও লিবিয়া। বিদেশমুখী বাংলাদেশী রোগীর ৫১% যায় ভারতে। থাইল্যান্ডে যায় ২০%, সিঙ্গাপুরে যায় ২০%। যুক্তরাজ্যে ৩%, জাপান ও মালয়েশিয়ায় ২% করে, চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতে ১% করে রোগী যায়। বাংলাদেশ থেকে বিদেশগামী রোগীদের ৫৩% যান মূলত রোগনির্ণয় বা চেকআপের জন্য। যত রোগী চিকিৎসার জন্য বিদেশ যান তার ৫% চিকিৎসক।

ভারতে মূলত ১১টি এলাকায় বাংলাদেশি রোগী চিকিৎসা নিতে যায়। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি যায় পশ্চিমবঙ্গে, তথা কলকাতায়। এরপর সবচেয়ে বেশি যায় দিল্লি ও তার আশপাশে। এরপর বেশি রোগীর পছন্দ হায়দরাবাদ। অন্য গুরুত্বপূর্ণ জায়গা হচ্ছে মুম্বাই, চেন্নাই ও বেঙ্গালুরু। কিছু রোগী আসাম, গুজরাট, লক্ষ্ণৌ ও রাঁচিতে যান। কারা ভারতে চিকিৎসা নিতে যান তার তালিকার শুরুতে আছেন ব্যবসায়ীরা, দ্বিতীয় স্থানে বেসরকারি চাকরিজীবীরা। তৃতীয় স্থানে আছেন দিনমজুরেরা। এরপর ক্রমানুসারে আছে যথাক্রমে সরকারি চাকরিজীবী, শিক্ষক ও গৃহিণী। তার পরেই চিকিৎসকেরা।

দিনমজুরদের বিদেশে চিকিৎসা নেওয়ার কারণ, দেশের সীমান্তবর্তী এলাকার মানুষের ঢাকায় চিকিৎসা করানোর চেয়ে ভারতে যাওয়া সাশ্রয়ী।ভারতে সবচেয়ে বেশি মানুষ যায় হৃদযন্ত্র সংশ্লিষ্ট অস্ত্রোপচারের উদ্দেশ্যে। পরের কারণটি হচ্ছে, চোখের ছানিজনিত অস্ত্রোপচার। তৃতীয় ও চতুর্থ বড় কারণ যথাক্রমে কিডনি রোগ ও ক্যানসার বর্তমানে দুই দেশের সম্পর্কের অবনতি ও ভিসা জটিলতার কারণে রোগীদের ভারতে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছে। এই পরিপ্রেক্ষিতে করণীয় নির্ধারণে এই বৈঠক ডাকা হয়েছে বলে আয়োজকদের পক্ষ থেকে বলা হয়।

শনিবার ঢাকায় বাংলাদেশ প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ এসোসিয়েশন আয়োজিত ‘চিকিৎসাসেবায় বিদেশমুখিতা : আমাদের উত্তরণের উপায়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব তথ্য উপস্থাপিত হয়। বক্তারা বলেন ব্যাঙের ছাতার মতো গজিয়ে ওঠা ছোট ছোট ক্লিনিক, হাসপাতাল ও ডায়াগনস্টিক সেন্টারে দক্ষ চিকিৎসক ও জনবল নেই। এখানে নানা দুর্ঘটনা ঘটে, আর দুর্নাম হয় পুরো স্বাস্থ্য খাতের। দেশে অনেক ক্ষেত্রে রোগ পরীক্ষা ঠিক হয় না, টাকা অনেক বেশি নেওয়া হয় এবং সেবাদানকারীদের ব্যবহার ভালো না।

২০২৫’র মধ্যেই নির্বাচন চায় প্রধান দুই দল

দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করাসহ অর্থনীতিতে গতি আনা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও প্রশাসনে স্থিতিশীলতা আনতে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যর্থ হয়েছে।

প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস সম্প্রতি জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে নির্বাচনের সময় নিয়ে একটা ধারণা দিলেও তাতে সন্তুষ্ট হয়নি দলগুলো। বিএনপি এবং অন্যান্য দল বলছে, নির্বাচন নিয়ে স্পষ্ট বক্তব্য না দেওয়ায় সরকারের সঙ্গে তাদের দূরত্বও তৈরি হচ্ছে। বিএনপি মনে করে, প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষ করে নির্বাচনের জন্য চার-পাঁচ মাস সময় প্রয়োজন। ফলে নির্বাচনের জন্য ২০২৬ সালের জুন পর্যন্ত অপেক্ষা করতে চায় না দলটি। ২০২৫ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন হলে তাতে আপত্তি থাকবে না বিএনপির।

জামায়াতে ইসলামীও এখন ২০২৫ সালের মধ্যে নির্বাচনের কথা বলছে। দলটি আগে সার্বিকভাবে সংস্কার শেষ করে নির্বাচনের কথা বলেছিল। সেই অবস্থানে পরিবর্তন দেখা যাচ্ছে। বিএনপি বলছে, সরকার ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করেছে। সব কমিশনের সব প্রস্তাব বাস্তবায়ন এক-দুই বছরে সম্ভব নয়। বিএনপির একজন জ্যেষ্ঠ নেতা বলেছেন, নির্বাচনব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, জনপ্রশাসন ও বিচার বিভাগ শুধু এই চারটি ক্ষেত্রে প্রয়োজনীয় সংস্কার চায় বিএনপি। এর বাইরে অন্যান্য সব সংস্কার প্রস্তাব নির্বাচিত সরকার এসে বাস্তবায়ন করবে।

বিএনপির একাধিক সূত্র জানিয়েছে দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ করাসহ অর্থনীতিতে গতি আনা, আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে ও প্রশাসনে স্থিতিশীলতা আনতে অন্তর্বর্তী সরকার ব্যর্থ হয়েছে। সরকার পরিস্থিতি সামাল দিতে পারছে না। আর এতে মানুষের মধ্যে সরকার সম্পর্কে নেতিবাচক ধারণা তৈরি হচ্ছে। নির্বাচন যত দেরি হবে, সংকট ততই বাড়বে, নানা ষড়যন্ত্র হতে পারে এটি বিবেচনায় রাখছে বিএনপি। আওয়ামী লীগের দিক থেকে নানা সংকট তৈরির চেষ্টা থাকতে পারে বলে তারা মনে করেন।

সরকারের ঘনিষ্ঠ একাধিক সূত্র জানিয়েছে, এ মাসের শেষ থেকে জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহের মধ্যে ছয়টি সংস্কার কমিশন তাদের প্রস্তাব জমা দেবে।এরপরই সরকার রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রস্তাবগুলো নিয়ে এবং নির্বাচনের বিষয়ে আলোচনা করবে।

গাজায় ফিলিস্তিনিদের প্রয়োজনীয় পানি থেকে বঞ্চিত করছে ইসরায়েল

ইসরায়েল থেকে গাজায় পানীয় পানি সরবরাহকারী পাইপলাইনগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরপর ইসরায়েল বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, যা গাজায় পানির পাম্প এবং রিজার্ভ চালু রাখতে প্রয়োজন। ফলে পানিশোধন প্ল্যান্ট, পানি কূপ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্টগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ে।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গাজায় ‘গণহত্যার কর্মকাণ্ড’ চালানোর অভিযোগ তুলেছে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (HRW)সংগঠনটির ভাষ্যমতে, ইসরায়েল ইচ্ছাকৃতভাবে ফিলিস্তিনিদের পানি থেকে বঞ্চিত করেছে। HRW ১৭৯ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনে জানিয়েছে, অক্টোবর ২০২৩ থেকে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ গাজায় পানির সংযোগ বিচ্ছিন্ন করেছে, বিদ্যুৎ সরবরাহ কেটেছে, এবং মেরামত কাজে বাধা দিয়েছে। পানি ও পয়ঃনিষ্কাশন ব্যবস্থার ক্ষতির কারণে গাজায় সম্ভবত হাজার হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে।

তবে, ইসরায়েলি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ওরেন মারমোরস্টেইন এক্স এ জানিয়েছেন, ‘গাজায় নিয়মিত পানি ও মানবিক সাহায্য পাঠানো হয়েছে।’ তিনি বলেন, পানি সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রয়েছে, এবং ট্যাংকারের মাধ্যমে পানি পাঠানো হয়েছে। তিনি প্রতিবেদনটিকে ‘পুরোপুরি মিথ্যা’ বলে আখ্যা দিয়েছেন। হিউম্যান রাইটস ওয়াচের ইসরায়েল ও ফিলিস্তিন বিষয়ক ভারপ্রাপ্ত পরিচালক বিল ভ্যান এসভেল্ড আল জাজিরাকে বলেন, ‘তদন্তের অংশ হিসেবে ১১৫ জনের বেশি মানুষের সাক্ষাৎকার নিয়েছে এবং স্যাটেলাইট ইমেজ ব্যবহার করেছে সংগঠনটি। তদন্তে চারটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় খুঁজে পেয়েছি।’

ইসরায়েল থেকে গাজায় পানীয় পানি সরবরাহকারী পাইপলাইনগুলো বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এরপর ইসরায়েল বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ করে দেয়, যা গাজায় পানির পাম্প এবং রিজার্ভচালু রাখতে প্রয়োজন। ফলে পানিশোধন প্ল্যান্ট, পানি কূপ এবং বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্টগুলো অকার্যকর হয়ে পড়ে। ভ্যান এসভেল্ড আরও বলেন, তাদের মধ্যে কিছু স্থাপনায় সৌর প্যানেল ছিল, যা বিদ্যুৎ বন্ধ থাকলে বিকল্প শক্তি হিসেবে কাজ করত। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী এরপর গাজার ছয়টি বর্জ্য ব্যবস্থাপনা প্ল্যান্টের মধ্যে চারটির সৌর প্যানেল সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়।

শেষ পর্যন্ত তারা যেকোনও ধরনের মেরামত প্রচেষ্টা বাধাগ্রস্ত করেছে প্রযুক্তিগত কর্মীদের হত্যা এবং মানবিক সহায়তা সংস্থাগুলিকে পানি সম্পর্কিত সরঞ্জাম আনতে বাধা দিয়ে। তিনি আরও বলেন, এর মানে হলো আপনি এমন পরিস্থিতি ইচ্ছাকৃতভাবে তৈরি করছেন যা আপনি জানেন যে একটি জনগোষ্ঠীর বৃহৎ অংশকে হত্যা করবে।

প্রতিবেদনে উঠে এসেছে যে গাজার ফিলিস্তিনিরা প্রতিদিন মাত্র ২ থেকে ৯ লিটার পানির অ্যাক্সেস পাচ্ছে, যা জীবনের জন্য প্রয়োজনীয় ১৫ লিটারের ন্যূনতম সীমার নিচে। এর ফলে রোগ ছড়িয়ে পড়ছে এবং মৃত্যুহার বৃদ্ধি পাচ্ছে। এই নীতি ১৯৪৮ সালের গণহত্যা কনভেনশনে উল্লিখিত গণহত্যার কর্মকাণ্ডের মধ্যে পড়ে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়েছে, গাজার ফিলিস্তিনি জনগণের ওপর ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ইচ্ছাকৃতভাবে এমন জীবনযাত্রার শর্ত আরোপ করেছে যা তাদের শারীরিক ধ্বংস সাধনে পরিকল্পিত।

২১ আগস্ট গ্রেনেড মামলার নতুন তদন্ত হওয়া উচিত – হাইকোর্টের পর্যবেক্ষণ

২০০৪ সালের ২১ আগস্ট গ্রেনেড হামলা সংক্রান্ত দুটি মামলার তদন্ত নতুন করে হওয়া উচিত বলে হাইকোর্টের দেওয়া পূর্ণাঙ্গ রায়ে বলা হয়েছে। ন্যায়বিচার নিশ্চিতে যথাযথ ও বিশেষজ্ঞ সংস্থার মাধ্যমে মামলা দুটি তদন্তে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে রায়ের অনুলিপি পাঠাতেও নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ২০০৪ সালে আওয়ামী লীগের সমাবেশে গ্রেনেড হামলার দুই মামলায় বিচারিক আদালতের দেওয়া সাজা বাতিল করে গত ১ ডিসেম্বর রায় দেন হাইকোর্ট। বিচারিক আদালতের রায় বাতিল হওয়ার পর মামলাটি পুনর্তদন্ত এবং সুষ্ঠু বিচার নিয়ে বিভিন্ন মহলে প্রশ্ন ওঠে। তখন আইনজ্ঞরা জানান, হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে মামলার ভবিষ্যৎ নিয়ে বিস্তারিত বলা যাবে।

বৃহস্পতিবার রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি সুপ্রিম কোর্টের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হয়। রায়ের পর্যবেক্ষণে বলা হয়েছে, হুজি নেতা মুফতি আব্দুল হান্নানের জবানবন্দির ভিত্তিতে যে সম্পূরক অভিযোগপত্রে বিচার শুরু হয়েছিল, সেটিই ‘অবৈধ’। এ ক্ষেত্রে আইন অনুসরণ করা হয়নি। এ ছাড়া প্রথম অভিযোগপত্রটিও মুফতি হান্নানের স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ভিত্তিতে করায় সেটিও গ্রহণযোগ্য নয়। এর চেয়ে বড় কথা, তদন্ত কর্মকর্তা ও ম্যাজিস্ট্রেট ছাড়া ২৫ সাক্ষীর কেউই বলেননি, কে গ্রেনেড ছুড়েছে বা কেউ ছুড়তে দেখেছেন কিনা। ফলে প্রকৃত খুনি কে, সেটির প্রমাণ নেই। শুধু স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দির ওপর ভিত্তি করে অন্য আসামিকে সাজা দেওয়া যায় না।

ছাত্র – তরুণদের নতুন দল কোন আদর্শকে সামনে রেখে এগুবে ?

ক্ষমতা পরিচালনার মানসিকতা নিয়েই আমাদের যাত্রা শুরু হবে, যাতে করে অন্ততপক্ষে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় যেন আমরা থাকতে পারি, সে টার্গেট আমাদের আছে।”

জাতীয় নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেছেন, ‘আমরা একটা মধ্যমপন্থি রাজনীতির কথা বলছি।এটাই আমাদের আদর্শ হবে। আমরা বাম ডান এমন যে বিভাজন আছে সেগুলোতে ঢুকতে চাই না। আমরা বাংলাদেশ প্রশ্নে এক থাকতে চাই। ইসলাম ফোবিয়ার রাজনীতি অথবা উগ্র ইসলামপন্থি বা উগ্র হিন্দুত্ববাদী রাজনীতির মধ্যেও আমরা নেই।’

‘আমরা জনগণের কাছে গিয়ে যে ধারণা পেয়েছি এবং বিভিন্ন জরিপেও দেখবেন একটা নতুন দলের আকঙ্ক্ষা আছে জনগণের মধ্যে। বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ এবং বিএনপি দীর্ঘসময় ধরে ক্ষমতায় ছিল। তাদেরকে মানুষ দেখেছে। কিন্তু এর বাইরে গিয়ে জনগণের একটা বিশাল অংশ আছে, যারা নতুন একটি রাজনৈতিক শক্তির আবির্ভাব দেখতে চায়। সে জায়গা থেকে আমরা মনে করি আমাদের দল গঠিত হলে সেটা জনসমর্থন পাবে। ধীরে ধীরে আমরা একটা বড় দল হতে পারবো,’ বলেন মি. হোসেন।

নির্বাচনে অংশ নিয়ে দলের লক্ষ্য কী থাকবে এমন প্রশ্নে আখতার হোসেন বলছেন, এখনই ক্ষমতায় যাওয়ার স্বপ্ন তারা দেখছেন না। ‘একটা রাজনৈতিক দলের প্রধান টার্গেট থাকে সরকার গঠন করার। আমরা মনে করি, বাংলাদেশে তরুণদের প্রতি মানুষের যে আস্থার জায়গা আছে সেটাকে যদি সঠিকভাবে কাজে লাগানো যায় তাহলে বাংলাদেশে যে নতুন রাজনৈতিক দলটি গঠিত হবে, তারা এবার হোক বা পরেরবার হোক, রাষ্ট্র ক্ষমতায় আসবে।’

‘ক্ষমতা পরিচালনার মানসিকতা নিয়েই আমাদের যাত্রা শুরু হবে, যাতে করে অন্ততপক্ষে প্রধান বিরোধী দলের ভূমিকায় যেন আমরা থাকতে পারি, সে টার্গেট আমাদের আছে।’ আখতার হোসেন বলেন, শীর্ষ নেতা কে বা কারা হবেন সেটা এখনও তারা ঠিক করেননি। ‘প্রধান নেতা কে হবেন সেটা আমরা নির্ধারণ করিনি। আমরা চাচ্ছি যে আগে আমাদের মধ্যে বোঝাপড়াটা ঠিক হোক। আমাদের আদর্শের জায়গাটি কী হবে, নেতৃত্ব দেয়ার গুণাবলী কার মধ্যে কেমন, কারা সাংগঠনিকভাবে ভালো এবং জনগণের কাছে গ্রহণযোগ্য সেগুলো বিবেচনা করেই আলোচনার ভিত্তিতে নেতৃত্ব ঠিক হবে,’ বলছিলেন মি. হোসেন।

অন্যদিকে সংগঠনটির মুখপাত্র সামান্তা শারমিন বলছেন, বাংলাদেশে একক শীর্ষ নেতার যে ধারণা সেখান থেকেই বেরিয়ে আসতে চান তারা।’ এক নেতার এক দল সেরকম কোনো কাঠামোতে আমরা যাবো না এটা নিশ্চিত। আমাদের দলে যৌথ নেতৃত্বের ধারণা নিয়ে আমরা কাজ করছি।’

ভারতের রাজনীতিতে অতি দক্ষিণপন্থী শক্তির উত্থানের জন্য বাংলাদেশ – বিরোধিতা গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটেজি : অর্ক ভাদুড়ি , ভারতীয় সাংবাদিক ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক

বাংলাদেশি মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু ভোটে কনসলিডেশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হতে পারে। এছাড়াও সম্ভবত ভারত এখনও শেখ হাসিনা বাদে বাংলাদেশের অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তিকে বিশ্বাস করতে পারছে না।

ভারতীয় মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় বাংলাদেশের দানবায়নের একটি প্রচেষ্টা চলছে। প্রচার করা হচ্ছে, বাংলাদেশ একটি তালিবানি রাষ্ট্রে পরিণত হয়েছে।হিন্দুদের ধরে ধরে হত্যা করা হচ্ছে। জয় বাংলা স্লোগান নিষিদ্ধ করা হয়েছে। বিজয় দিবস উদযাপিত হচ্ছে না। চঞ্চল চৌধুরীর মতো অভিনেতাকে গৃহবন্দি করা হয়েছে। শাঁখা সিঁদুর পরে পথে বেরুতে পারছেন না হিন্দু মহিলারা। এই সংগঠিত প্রচারগুলির মাধ্যমে স্বাভাবিকভাবেই পশ্চিমবঙ্গের সমাজে বাংলাদেশ সম্পর্কে প্রবল বিদ্বেষ এবং ঘৃণা তৈরি হয়েছে। মেইনস্ট্রিম অতি দক্ষিণপন্থী মিডিয়ায় চট্টগ্রাম দখলের কথা বলা হচ্ছে। ‘বাংলাদেশ থাকবে না’ বলা হচ্ছে। এগুলি জনগণকে প্রভাবিত করছে।

একইসঙ্গে আমি এ কথাও বলব, বাংলাদেশেও এমন বেশকিছু ঘটনা ঘটেছে, যেগুলি দুটি দেশের সম্পর্কের জন্য ক্ষতিকারক। ভারতের পতাকা পদদলিত করার মতো ঘটনা ঘটেছে। প্রাক্তন সেনাকর্তারা চারদিনে কলকাতা দখল করার কথা বলছেন। এগুলি দুদেশের জনগণের সঙ্গে জনগণের সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করছে। ভারতের যেমন অতি অবশ্যই বাংলাদেশের সঙ্গে সমতার ভিত্তিতে সম্পর্ক স্থাপন করতে হবে, বাংলাদেশের সার্বভৌমত্ব স্বীকার করতে হবে। ঠিক তেমনই অন্তর্বতীকালীন সরকারের গুরুত্বপূর্ণ কোনো পদাধিকারী যদি ভারতের কিছু অঞ্চল ‘অ্যানেক্স’ করার কথা বলেন, সেটিও অতীব দুর্ভাগ্যজনক। একজন সরকারি ব্যক্তি এমন কথা বললে তার আন্তর্জাতিক প্রভাব ভালো হয় না।

বাংলাদেশের অন্তর্বতীকালীন সরকারের সঙ্গেও ভারতের সুসম্পর্ক গড়ে উঠবে বলে আমি আশাবাদী। ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি স্পষ্ট করে দিয়েছেন যে ভারত চায় বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করতে। এটি আশাপ্রদ। … দুর্ভাগ্যজনকভাবে ভারতীয় মেইনস্ট্রিম মিডিয়ার বিরাট অংশ এখন অতি দক্ষিণপন্থী শক্তির মাউথপিসে পরিণত হয়েছে। তারা সবসময়ই একটি ‘other’ নির্মাণ করতে চায়। কখনও সেটি চীন, কখনও পাকিস্তান, কখনও বাংলাদেশ। আবার কখনও দেশের ভেতরেই কোনো শক্তি। এই ‘অপর’ এর দানবায়ন করাই থাকে প্রধান লক্ষ্য।

এর সঙ্গে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে পশ্চিমবঙ্গে বিজেপির পক্ষে জনমত গড়ে তোলার বিষয়টিও আছে। তবে সবচেয়ে দুঃখজনক হলো তথাকথিত ‘লিবারাল’ ভারতীয় মিডিয়া উগ্র জাতীয়তাবাদের সঙ্গে প্রতিযোগিতায় টিকে থাকতে একই বয়ান উৎপাদন করছে। ফেক নিউজের ছড়াছড়ি চলছে।সংখ্যাগুরুর সমর্থন নিশ্চিত করার জন্য এটি একটি কার্যকর পদ্ধতি বলে ভাবছেন মিডিয়ার মাথারা। বাংলাদেশে যা ঘটছে, তাকে অনেকখানি বাড়িয়ে বলা হচ্ছে। কিন্তু কিছু যে ঘটছে, তাও সত্য।

… ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে অতি দক্ষিণপন্থী শক্তির উত্থানের জন্য বাংলাদেশ বিরোধিতা একটি গুরুত্বপূর্ণ স্ট্র্যাটেজি। বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে। বাংলাদেশি মুসলিমদের প্রতি বিদ্বেষ পশ্চিমবঙ্গে হিন্দু ভোটে কনসলিডেশনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ফ্যাক্টর হতে পারে। এছাড়াও সম্ভবত ভারত এখনও শেখ হাসিনা বাদে বাংলাদেশের অন্য কোনো রাজনৈতিক শক্তিকে বিশ্বাস করতে পারছে না। ফলে এক ধরনের অনিশ্চয়তার বোধ আছে।

… ফেইক নিউজ ডিবাংক করার মাধ্যমে আমরা দুদেশের মানুষের কাছেই সত্য তুলে ধরতে পারি এছাড়া মানুষের সঙ্গে মানুষের সম্পর্ক শক্তিশালী করা গুরুত্বপূর্ণ। বিদ্বেষের বিরুদ্ধে সচেতন প্রচেষ্টা জরুরি। আমরা যেমন ভারতে বাংলাদেশের পতাকার অবমাননার বিরুদ্ধে কথা বলছি, তেমন ভাবেও যদি বাংলাদেশেও ভারতীয় পতাকার অবমাননার প্রতিবাদ হয়, সেটি সদর্থক হবে। বাংলাদেশের পতাকাও যেমন কেবল শেখ হাসিনার নয়, ভারতীয় পতাকাও কেবল নরেন্দ্র মোদির নয়, সিএএ এনআরসি বিরোধী শাহিনবাগের আন্দোলনকারীদের হাতেও এই পতাকা ছিল, কৃষক আন্দোলনকারীদের হাতেও ছিল এই পতাকা। …বাংলা আউটলুকের সঙ্গে সাক্ষাৎকার সংক্ষেপ

জাতীয় নাগরিক কমিটি রাজনৈতিক দল গঠনে কাউন্সিলরদের ‘সহায়তা’ চাওয়া নিয়ে বিতর্ক

‘সারা দেশে পাঁচ হাজার কাউন্সিলরের মধ্যে এমন হাজারখানেক আছেন, যাঁরা আওয়ামী লীগের নন, স্বতন্ত্র। আমাদের আহ্বানটা তাঁদের প্রতি, যারা সরাসরি শিক্ষার্থীদের পক্ষে আন্দোলনে ছিলেন।

নতুন রাজনৈতিক দল গঠনে সারা দেশের সব সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার অপসারিত কাউন্সিলরদের ‘সর্বোচ্চ সহযোগিতা’ চেয়েছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। একটি অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়কের দেওয়া এমন বক্তব্য সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে নানা আলোচনা-সমালোচনা ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে। বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতা কর্মীরা এ বিষয়টিকে ‘আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন’ হিসেবে উল্লেখ করে সমালোচনায় মুখর হয়েছেন।

অবশ্য জাতীয় নাগরিক কমিটি বলছে, আওয়ামী লীগের সহযোগী না হওয়া সত্ত্বেও সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার কাউন্সিলরদের মধ্যে যাদের সরানো হয়েছে, তাদের অনেকেই জুলাই আন্দোলনে শিক্ষার্থীদের সঙ্গে ছিলেন। আর নাগরিক কমিটি যা বলেছে, সেটা কারও পুনর্বাসন নয়। এটা একটা সাধারণ আহ্বান ছিল। কিন্তু বিষয়টি নিয়ে মিস কমিউনিকেশন হচ্ছে। ছাত্র গণহত্যা ও বৈষম্যবিরোধী সিটি ও পৌর কাউন্সিলরদের জনস্বার্থে পুনর্বহালের দাবিতে ও বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে সহযোগিতা করার লক্ষ্যে’ গত বুধবার ঢাকায় জাতীয় প্রেসক্লাবে একটি সমাবেশ হয়। এই সমাবেশের আয়োজক বাংলাদেশ সিটি ও পৌর কাউন্সিলর অ্যাসোসিয়েশন।

সমাবেশে সংহতি জানিয়ে বক্তব্য দেন জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী। তিনি বলেন, ‘জাতীয় নাগরিক কমিটির উদ্যোগে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতৃত্বে যে নতুন রাজনৈতিক দল আসছে, সেই দলে আমরা আপনাদের সর্বোচ্চ সহযোগিতা কামনা করছি। আমরা আশা করি, সেই রাজনৈতিক দলে আপনাদের এই ত্যাগ তিতিক্ষা আমরা মূল্যায়ন করব। জনতা এবং মানুষের মধ্যে যে ভ্রাতৃপ্রতিম সম্পর্ক, সেখানে আমরা আপনাদের পাশে পাব আশা করি। এই কমিটমেন্টের (অঙ্গীকার) মধ্যে যেতে পারলে বাংলাদেশে একটি শক্তিশালী দল আমরা উপহার দিতে পারব।’

সমালোচনার বিষয়ে জাতীয় নাগরিক কমিটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী প্রথম আলোকে বলেন, ‘সারা দেশে পাঁচ হাজার কাউন্সিলরের মধ্যে এমন হাজারখানেক আছেন, যাঁরা আওয়ামী লীগের নন, স্বতন্ত্র। আমাদের আহ্বানটা তাঁদের প্রতি, যাঁরা সরাসরি শিক্ষার্থীদের পক্ষে আন্দোলনে ছিলেন। আমরা প্রস্তাব দিয়েছি, যে মানুষগুলো জনগণের সঙ্গে সম্পৃক্ত, কিন্তু আওয়ামী লীগ নন, যারা স্বতন্ত্র, তাদের কাজে লাগানো যেতে পারে। এর অর্থ এই নয় যে আওয়ামী লীগকে পুনর্বাসন করা হবে।’

অপসারিত কাউন্সিলরদের অনুষ্ঠানে জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতাদের দেওয়া বক্তব্যের সমালোচনা করছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারাও। সংগঠনের সদস্যসচিব আরিফ সোহেল ফেসবুকে লিখেছেন, কাউন্সিলরদের সভায় শুধু বিএনপি জামায়াত সংশ্লিষ্ট কাউন্সিলররা (তাদের অনেকে নির্বাচনে অংশ নেওয়ায় বহিষ্কৃত) ছিলেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে। কিন্তু তাতে করে এই সভা ত্রুটিমুক্ত হয়ে যায় না। আওয়ামী আমলে আয়োজিত কোনো নির্বাচনকে বৈধতা জান থাকতে দেওয়া হবে না।’ সাংগঠনিক আলাপ আলোচনা ও সিদ্ধান্ত ছাড়া ব্যক্তিগত উদ্যোগে রাজনীতি করা বন্ধ করতে নেতাদের প্রতি আহ্বানও জানান আরিফ।

বর্ষসেরা দেশ বাংলাদেশ – রানারআপ সিরিয়া ।

বর্ষসেরা দেশ বাংলাদেশ – ইকোনমিস্ট

দ্য ইকোনমিস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে – সবচেয়ে ধনী, সুখী বা নৈতিকভাবে শ্রেষ্ঠ স্থান অধিকারী কি না, সেই হিসাবে নয়; সেরা দেশ বেছে নেওয়া হয় আগের ১২ মাসে সবচেয়ে বেশি উন্নতি করেছে কি না, সেই বিচারে। দ্য ইকোনমিস্টের সংবাদদাতাদের মধ্যে ‘উত্তপ্ত বিতর্কে’ ২০২৪ সালের বর্ষসেরা দেশ নির্বাচিত হয় বাংলাদেশ এবং রানারআপ সিরিয়া।

প্রতিবেদনে বাংলাদেশ সম্পর্কে বলা হয়েছে, আমাদের এবারের বিজয়ী বাংলাদেশ, যারা এক স্বৈরশাসককে উৎখাত করেছে। আগস্টে ছাত্রদের নেতৃত্বে রাজপথে আন্দোলনের মাধ্যমে হাসিনাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়, যিনি ১৭ কোটি জনসংখ্যার দেশটি ১৫ বছর শাসন করেছেন। দেশের স্বাধীনতার হিরোর এক কন্যা হিসেবে তিনি এক সময় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির নেতৃত্ব দিয়েছিলেন। কিন্তু পরবর্তীতে তিনি দমন শুরু করেন, নির্বাচনে কারচুপি করেন, বিরোধীদের কারাগারে পাঠান এবং নিরাপত্তা বাহিনীকে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেন। তার শাসনামলে বিশাল অংকের অর্থ আত্মসাৎ করা হয়।

বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদলের সময় প্রতিশোধমূলক সহিংসতার ইতিহাস রয়েছে। প্রধান বিরোধী দল বিএনপি দুর্নীতিগ্রস্ত। ইসলামি চরমপন্থাও একটি হুমকি। তবে এখন পর্যন্ত তাদের পরিবর্তন আশাব্যঞ্জক। শান্তিতে নোবেল পুরস্কার জয়ী মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বে সেখানে রয়েছে একটি অস্থায়ী সরকার, যা ছাত্র, সেনাবাহিনী, ব্যবসায়ী ও নাগরিক সমাজের সমর্থন পেয়েছে। এই সরকার শৃঙ্খলা পুনঃপ্রতিষ্ঠা করেছে এবং অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করেছে। ২০২৫ সালে এই সরকারকে ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক ঠিক করতে হবে এবং কবে নাগাদ নির্বাচন আয়োজন করা হবে তা নির্ধারণ করতে হবে। এর আগে নিশ্চিত করতে হবে যে দেশটির আদালত নিরপেক্ষভাবে চলছে এবং বিরোধী দলগুলোকে সংগঠিত হওয়ার সময় দেওয়া হয়েছে। এর কোনোটিই সহজ হবে না।’ তবে, একজন স্বৈরশাসককে ক্ষমতাচ্যুত করা এবং আরও উদার সরকার গঠনের পথে অগ্রসর হওয়ার জন্য আমাদের এ বছরের সেরা দেশ বাংলাদেশ।

সংস্কার যত গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরিই হোক না কেন , নির্বাচন আয়োজনেও বেশি দেরি করা যাবে না ।

অতীতের সেই ধারায় ফিরে যেতে চাই না, যেখানে নির্বাচনে বিজয়ী দল যা ইচ্ছা তাই করার সুযোগ পাবে : মাহফুজ আনাম, সম্পাদক ও প্রকাশক, দ্য ডেইলি স্টার।

অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনের ট্রেন ট্র্যাকে তুলে দিয়েছেন এবং ট্রেনটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর অথবা ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছেন।যে দেশে গত ১৫ বছরে সুষ্ঠু নির্বাচন হয়নি -২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ সালে হয়েছে কারচুপির নির্বাচন সে দেশে নির্বাচন আয়োজনের সম্ভাব্য সময়ের ঘোষণায় ছয় মাসের পার্থক্য থাকাটা বড় কোনো উদ্বেগের বিষয় হওয়ার কথা না।অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস নির্বাচনের ট্রেন ট্র্যাকে তুলে দিয়েছেন এবং ট্রেনটি ২০২৫ সালের ডিসেম্বর অথবা ২০২৬ সালের জুনের মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছাতে পারে বলে জানিয়েছেন।

তবে, দেশের অর্থনীতি, বিনিয়োগে স্থবিরতা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি এবং জনগণের নির্বাচিত সরকার ও সংসদ দেখার আগ্রহসহ সামগ্রিক পরিস্থিতি বিবেচনায় আমরা মনে করি, ড. ইউনূস ও তার অন্তর্বর্তী সরকারের উচিত প্রস্তাবিত দুটি সময়ের মধ্যে প্রথমটি বেছে নেওয়া। এর কারণ হচ্ছে – অন্তর্বর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য হলো সংস্কার ও নির্বাচন সম্পন্ন করা। সংস্কার জরুরি। কারণ, আমরা অতীতের সেই ধারায় ফিরে যেতে চাই না, যেখানে নির্বাচনের পর বিজয়ী দল যা ইচ্ছা তাই করার সুযোগ পাবে, বিশেষ করে যদি দলটি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা পায়।

… তবে, সংস্কার যত গুরুত্বপূর্ণ ও জরুরিই হোক না কেন, নির্বাচন আয়োজনেও বেশি দেরি করা যাবে না। সংবিধান মেনে অন্তর্বর্তী সরকারের অস্থায়ী অবস্থা থেকে উত্তরণ করে একটি স্থিতিশীল নির্বাচিত সরকারের দিকে এগিয়ে যেতে হবে, যা নতুন সরকারকে বিশ্বের যেকোনো দেশের গণতান্ত্রিক সরকারের মতো বৈধতা, মর্যাদা ও স্বীকৃতি দেবে।

মোদির স্ট্যাটাসের জবাবে জেএন দীক্ষিতের লেখা তুলে ধরল বাংলাদেশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়

তার হেলিকপ্টার উড়েছিল ঠিক, কিন্তু আত্মসমর্পণের সময়ের আগে ঢাকায় পৌঁছতে পারেনি। তবে, এক্ষেত্রে ব্যাপক সন্দেহ ছিল যে, তার হেলিকপ্টারকে নিরুদ্দেশে পাঠানো হয়েছিল, যাতে তিনি ঢাকায় পৌঁছতে না পারেন।

১৬ ডিসেম্বর বাংলাদেশের বিজয় দিবস নিয়ে পোস্টে বাংলাদেশের নামই বলেননি ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। মোদির এমন বক্তব্যের জবাবে তার দেশেরই সাবেক পররাষ্ট্রসচিব ও জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা জে এন দীক্ষিতের লেখার উদ্ধৃতি দিয়েছে বুধবার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফেইসবুক পেজে। তবে সেখানে মোদির বক্তব্যের বিষয়ে সরাসরি কিছু বলা হয়নি। কূটনীতিক জেএন দীক্ষিত স্বাধীনতার পর বাংলাদেশে ভারতের প্রথম হাই কমিশনার হিসাবে দায়িত্ব পালন করেন। ১৯৭৪ সাল পর্যন্ত ওই দায়িত্বে থেকে নতুন দেশের পুনর্গঠন ও রাজনৈতিক উত্থান পতনের সাক্ষী হন তিনি।

‘ইতিহাসের তথ্য’ শীর্ষক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পোস্টে জেএন দীক্ষিতের ‘লিবারেশন অ্যান্ড বিয়ন্ড: ইন্দো বাংলাদেশ রিলেশনস’ বই থেকে উদ্ধৃত করা হয়’আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ভারতীয় সামরিক বাহিনীর উচ্চ পর্যায়ের সেনাপতিদের একটি প্রধান রাজনৈতিক ভুল ছিল যৌথ কমান্ডে বাংলাদেশের সেনাপতি জেনারেল এমএজি ওসমানীকে উপস্থিত এবং তাকে একজন স্বাক্ষরকারী করতে না পারা।”ইতিহাসের তথ্য’ শীর্ষক পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ফেসবুক পোস্টে জেএন দীক্ষিতের ‘লিবারেশন অ্যান্ড বিয়ন্ড: ইন্দো বাংলাদেশ রিলেশনস’ বই থেকে উদ্ধৃত করা হয়

তার অনুপস্থিতির আনুষ্ঠানিক অজুহাত ছিল যে, তার হেলিকপ্টার উড়েছিল ঠিক, কিন্তু আত্মসমর্পণের সময়ের আগে ঢাকায় পৌঁছতে পারেনি। তবে, এক্ষেত্রে ব্যাপক সন্দেহ ছিল যে, তার হেলিকপ্টারকে নিরুদ্দেশে পাঠানো হয়েছিল, যাতে তিনি ঢাকায় পৌঁছতে না পারেন এবং যেন আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানের মনোযোগ কেবল ভারতীয় সেনাপতিদের ওপর থাকে।’

‘এটা ছিল একটা দুর্ভাগ্যজনক স্খলন, যা ভারত চাইলেই পরিহার করতে পারত। বাংলাদেশি রাজনৈতিক পরিমণ্ডলে এই ঘটনা বহু ক্ষোভের সৃষ্টি করেছিল। আত্মসমর্পণ অনুষ্ঠানে ওসমানীর উপস্থিতি অনেক ভুল বোঝাবুঝি এড়ানোর ক্ষেত্রে সহায়তা করতে পারত, যা বাংলাদেশের স্বাধীনতার প্রথম দিনগুলোতে ভারত বাংলাদেশ সম্পর্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করেছিল।’ তার লেখার উদ্ধৃতি শেষ করে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় লিখেছে ‘আমরা ১৯৭১ সালের গৌরবময় বিজয়ের উদযাপন করি; আমরা উদযাপন করি সত্যের।’