Home Blog Page 217

ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলার ৭৫টি থানা ও উপজেলায় কমিটি গঠনের কাজ শেষ করেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি ।

জাতীয় নাগরিক কমিটির ১০০ উপজেলা কমিটিতে ১০ হাজার সদস্য ।

সাংগঠনিক কাঠামো বিস্তৃতির অংশ হিসেবে গত দেড় মাসে দেশের ১০০ থানা ও উপজেলায় ‘প্রতিনিধি কমিটি’ গঠন করেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। সব কমিটি মিলিয়ে জাতীয় নাগরিক কমিটির প্রতিনিধির সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১০,৫০৮। দেশের সব থানায় প্রতিনিধি কমিটি গঠনের মধ্য দিয়ে আগামী দুই মাসের মধ্যে তারুণ্যনির্ভর নতুন রাজনৈতিক দল গঠনের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিতে চায় তারা। ইতিমধ্যে ঢাকার ২৫টি থানা ও উপজেলা এবং ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে প্রতিনিধি কমিটি করেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। ঢাকার বিভিন্ন কমিটিতে প্রতিনিধি রয়েছেন ২,৭২৬ জন।

ঢাকার বাইরের বিভিন্ন জেলার ৭৫টি থানা ও উপজেলায় কমিটি গঠনের কাজ শেষ করেছে জাতীয় নাগরিক কমিটি। ঢাকার বাইরে উপজেলা কমিটির মোট প্রতিনিধির সংখ্যা ৭,৭৮২। জাতীয় নাগরিক কমিটির পাশাপাশি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন দেশের ১৮টি জেলা, ৩টি মহানগর, ১টি বিশ্ববিদ্যালয় ও ১টি পলিটেকনিক ইনস্টিটিউটে আহ্বায়ক কমিটি করেছে।

জেন – জিরা যেভাবে রাজনীতি পাল্টে দিচ্ছে , রস বারকান

আমরা এমন এক দুনিয়ায় বাস করছি, যেখানে চারদিকে সেলিব্রিটিদের রমরমা। বৃহৎ বিনোদনমাধ্যমগুলো এখনো তারকানির্ভর। আমরা এই ঐতিহ্যবাহী গণসেলিব্রিটির যুগ থেকে দূরে সরে যাচ্ছি। শুধু সরে যাচ্ছি না, বরং আমরা এক নতুন ও অনিশ্চিত যুগের দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।এমনকি কয়েক বছর আগেও যারা অন্ধভক্তি পেতেন, এই নতুন জগতে তাদের প্রতি এখন নতুন একধরনের বিদ্বেষ দেখা দিয়েছে। এই নতুন জগতের একটি বড় অংশ সবচেয়ে তরুণ প্রাপ্তবয়স্ক প্রজন্ম, তথাকথিত জেনারেশন জি এবং ৪০ এর নিচের বয়সী মিলেনিয়াল।

গত পাঁচ বছরে মূল ধারার গণমাধ্যম জেনারেশন জি সম্পর্কে বিভিন্ন কথা বলেছে। কথাগুলোর একটার সঙ্গে আরেকটার মিল নেই। তারা হয়তো অতিমাত্রায় উদার, অতিরিক্ত বৈষম্যসচেতন অথবা ইন্টারনেটের প্রভাবে বিষাক্ত হয়ে পড়া চূড়ান্ত ডানপন্থী। এরা বই পড়ে না, কিছু পডকাস্টে আসক্ত। বাস্তবতা আরও জটিল। এই লাখ লাখ কিশোর বা তরুণ কোনো নির্দিষ্ট সময়ে প্রচারিত টিভি শো বা নাটক একত্রে উপভোগ করে না। তারা আর কোনো টক শো থেকে তাদের রাজনৈতিক ধারণাগুলো গ্রহণ করে না। হলিউডও আর সংস্কৃতির কেন্দ্রস্থল হিসেবে নিজের আধিপত্য ধরে রাখতে পারছে না।

ইন্টারনেট জগতে সাধারণ মানুষ ধনী ও বিখ্যাত ব্যক্তিদের নিয়ে বিরক্ত হয়ে পড়েছে। আর রাজনৈতিকভাবে নেতাদের বা যারা তাদের কী করতে হবে, তা বলে বেড়ান, তাদের মানুষ সন্দেহ করে। আগের মতো আর তাদের কথা বিনা বাক্যে গ্রহণ করে না। এবারের মার্কিন নির্বাচনেও এমন দেখা গেছে। টেলর সুইফট ও বিয়ন্সে মারাত্মক জনপ্রিয়। কিন্তু উদ্দীপনামূলক সমর্থনের পরও তারা তরুণ ভোটারদের কমলার পক্ষে উল্লেখযোগ্যভাবে নিয়ে আসতে পারেননি। বামপন্থী ঝোঁকের জেনারেশন জি ভোটাররা বিশেষভাবে ক্ষুব্ধ হয়েছিলেন সেই সব সেলিব্রিটির ওপর, যারা গাজার ঘটনায় ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রকাশ্যে অবস্থান নেননি। অভিজাত ব্যক্তিদের প্রতি এই অবিশ্বাস বাড়ছে।

ইউনাইটেড হেলথকেয়ারের সিইও ব্রায়ান টম্পসনকে হত্যার অভিযোগে অভিযুক্ত মাঞ্জিওনে। তিনি এখন অনলাইনে বিশাল এক ভক্তগোষ্ঠী পেয়েছেন। এক সিইওকে হত্যার এই অভিযোগ সম্পূর্ণ রাজনৈতিক। কিন্তু তা কোনো দলের সঙ্গে যুক্ত নয়। বেন শাপিরো বা ম্যাট ওয়ালশের মতো ডানপন্থী বিশ্লেষক যখন এই হত্যাকাণ্ডের নিন্দা করেন, তখন তাঁদের কমেন্ট সেকশন মার্কিন স্বাস্থ্যসেবা ব্যবসার বিরুদ্ধে ক্ষোভ এবং হত্যার প্রতি সমর্থনে ভরে যায়।

এসব থেকে একটা বার্তা স্পষ্ট, যদি নতুন কোনো আইডল তৈরি হয়, তবে তা আর কোনো গায়ক, নৃত্যশিল্পী বা অভিনেতা হবেন না। অন্তত তরুণ প্রজন্ম এমনটাই মনে করছে। প্রতিষ্ঠানের প্রতি তাদের ক্ষোভ ক্রমেই বাড়ছে। আগামী দশকের বড় লড়াই বাম ও ডানের মধ্যে হবে না। হবে যারা বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোকে প্রকাশ্যে ঘৃণা করেন এবং যারা নতুন ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা করতে চান, তাঁদের মধ্যে।

অনেক ক্ষেত্রে অসচেতনতার কারণে তরুণরা কেবল শিরোনাম দেখে খবরের সত্যতা যাচাই না করেই তা বিশ্বাস করেন ।

তরুণদের মাঝে বাড়ছে ‘ভুয়া সংবাদ’ গ্রহণের প্রবণতা

ফেসবুক, ইনস্টাগ্রাম, ইউটিউব এবং টিকটকে বিনোদন যোগাযোগের পাশাপাশি তরুণরা যেকোনও বিষয়ের দ্রুত আপডেট পায়। এছাড়া অনলাইন ও ছাপা পত্রিকাগুলোও সামাজিক মাধ্যম ব্যবহার করে তাদের সংবাদ পাঠকদের কাছে পৌঁছায়। তবে এই প্ল্যাটফর্মগুলোতে খবরের সত্যতা যাচাইয়ের তেমন সুযোগ থাকে না। ক্লিকবাইট শিরোনাম, বিভ্রান্তিকর পোস্ট এবং ভাইরাল মিমের মাধ্যমে ভুয়া তথ্য ছড়ানো সহজ হয়ে গেছে।

অনেক ক্ষেত্রে অসচেতনতার কারণে তরুণরা কেবল শিরোনাম দেখে খবরের সত্যতা যাচাই না করেই তা বিশ্বাস করেন। এদিকে ফেসবুক অ্যালগরিদম অনুযায়ী, ক্লিকবাইট শিরোনামের যেকোনও সংবাদ তা সত্য কিংবা মিথ্যা যাই হোক, ব্যবহারকারীদের কাছে সেটি বেশি পৌঁছায়। ওই সব নিউজে বেশি লাইক এবং কমেন্টের কারণেও অনেক তরুণ তা বিশ্বাসযোগ্য মনে করেন। সম্প্রতি গণমাধ্যমগুলোর সংবাদভিত্তিক কার্ড শেয়ারের ফলে তা বিশ্বাসযোগ্য সূত্র হিসেবে পরিচিত পেয়েছে। অনেকে উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে এসব কার্ডের নকশা নকল করে ভুয়া তথ্য ছড়ান যা অনেক তরুণ বিশ্বাস করে শেয়ারও করে থাকেন।

তরুণদের কাছে গণমাধ্যমের চেয়ে বিভিন্ন ইনফ্লুয়েন্সারের ভিডিও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। এক্ষেত্রে কোনও কোনও ইনফ্লুয়েন্সারের বিরুদ্ধে উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বক্তব্য বা ঘৃণা ছড়ানোর নজিরও রয়েছে। মিডিয়া বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তরুণদের মাঝে সংবাদ যাচাই করার অভ্যাস গড়ে তুলতে হবে। পাশাপাশি নির্ভরযোগ্য সংবাদমাধ্যম ছাড়া তথ্য গ্রহণ বা শেয়ার না করার বিষয়ে তাদের গুরুত্বারোপ করতে হবে।

বিশেষজ্ঞরা বলেন, বিশ্বজুড়ে ফ্যাক্ট চেকিং প্ল্যাটফর্মের ব্যবহার বাড়লেও তরুণদের মধ্যে এ বিষয়ে সচেতনতা তুলনামূলক কম। সরকারের পক্ষ থেকে ফ্যাক্ট চেকিং সাইট খোলা যেতে পারে। ভুয়া সংবাদ ছড়ানোর দায়ে যদি গ্রেফতারের দৃষ্টান্ত বারবার দেখানো যায় তাহলে ব্যবহারকারীরাও এ বিষয়ে সচেতন হবে। পাশাপাশি স্কুল এবং কলেজ পর্যায়ে মিডিয়া লিটারেসি বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়েও পরামর্শ বিশেষজ্ঞদের।

শিগগিরই কাটছে না সার সংকট

সংগত কারণেই বর্তমানে সার সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। তাই বেশি সুদে ঋণ নিয়ে হোক আর অন্য যে কোনো উপায়ই হোক; চলতি মৌসুমে সরকারকে সার সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হবে।

ডলার সংকটে গত জুন থেকে অন্তত তিন মাস সার আমদানির এলসি খোলা স্থগিত ছিল। ফলে পর্যাপ্ত পরিমাণে মজুত গড়ে তুলতে না পারায় সারাদেশে সার সরবরাহে সংকট দেখা দিয়েছে। আমদানির জন্য মূল্য যথাসময়ে পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় বেশ কয়েকটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান সার সরবরাহ করেনি বলে সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছে কৃষি মন্ত্রণালয়। ফলে শিগগিরই এ অবস্থা থেকে উত্তরণের সম্ভাবনা দেখা যাচ্ছে না।

চিঠিতে বলা হয়, দেশে প্রতিবছর বিভিন্ন ধরনের সারের মোট চাহিদা প্রায় ৬৫ লাখ টন। নিরবচ্ছিন্ন গ্যাস সরবরাহ না থাকায় সার কারখানাগুলোর মাধ্যমে চাহিদার মাত্র ১৫% উৎপাদন করা সম্ভব হয়। অবশিষ্ট সার সরকারি পর্যায়ে বিসিআইসি ও বিএডিসি এবং বেসরকারি আমদানিকারকদের মাধ্যমে বিভিন্ন দেশ থেকে আমদানি করা হয়। সার আমদানিতে সরকারকে ভর্তুকি হিসেবে বিপুল পরিমাণ অর্থও ব্যয় করতে হয়।

চিঠিতে বলা হয়, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে যথাসময়ে মূল্য পরিশোধ করতে না পারায় এলসি খোলা হলেও মরক্কো, সৌদি আরব ও তিউনিসিয়া টিএসপি ও ডিএপি সারের পাঁচটি লটের জাহাজীকরণ বাতিল করে। একইভাবে চীন ও রাশিয়াও নির্ধারিত সময়ে সার সরবরাহ করেনি। এ ঝুঁকি এড়াতে সার রপ্তানিকারকদের যথাসময়ে মূল্য পরিশোধের বিকল্প নেই।

সাবেক কৃষি সচিব আনোয়ার ফারুক সমকালকে বলেন, সংগত কারণেই বর্তমানে সার সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে। তাই বেশি সুদে ঋণ নিয়ে হোক আর অন্য যে কোনো উপায়ই হোক; চলতি মৌসুমে সরকারকে সার সরবরাহ স্বাভাবিক করতে হবে। কারণ জানুয়ারি থেকে ব্যাপক পরিমাণে ইউরিয়া সারের চাহিদা থাকবে।

ফেব্রুয়ারিতে বাজেট সংশোধন করবে সরকার

রেমিট্যান্স বাড়ছে এটা খুবই ভালো খবর। বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য ফিরে এসেছে। কেবল মূল্যস্ফীতিটা এখনও সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসছে না।

রাজস্ব আদায়ের গতি আমলে নিয়ে প্রতিবছর মার্চে বাজেট সংশোধন হলেও এবার কিছুটা আগেভাগে ফেব্রুয়ারি মাসে বাজেট সংশোধন করবে অন্তর্বর্তী সরকার। এক্ষেত্রে রাজস্ব বাজেট কমানো খুব একটা সম্ভব হবে না। ফলে উন্নয়ন বাজেট কমিয়ে বাজেট সংশোধন করতে হবে। এদিকে সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ মূল্যস্ফীতি খুব একটা কমানো যাচ্ছে না। সোমবার (২৩ ডিসেম্বর) জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভা শেষে সংবাদ সম্মেলনে পরিকল্পনা ও শিক্ষা উপদেষ্টা ড. ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ এ তথ্য জানান।

ড. ওয়াহিদউদ্দিন বলেন, সরকারি কর্মচারীদের বহু ধরনের দাবি দাওয়া মেটাতে গিয়ে কিছু কিছু বেতন ভাতা বাড়ানো, মহার্ঘ্য ভাতার বিষয় আছে। কাজেই রাজস্ব খাতের ব্যয় কমিয়ে রাখা কঠিন। তবে উন্নয়ন বাজেটের আকার ছোট হলেই প্রবৃদ্ধির জন্য ক্ষতিকর সেটা কিন্তু নয়।বাজেটের আকার কতদূর হলো তার থেকে বড় কথা হচ্ছে প্রকল্পগুলো মানুষের কাজে আসছে কিনা। তিনি বলেন, রেমিট্যান্স বাড়ছে এটা খুবই ভালো খবর। বৈদেশিক লেনদেনের ভারসাম্য ফিরে এসেছে। কেবল মূল্যস্ফীতিটা এখনও সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসছে না। এটা কমিয়ে এনে সামগ্রিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে হবে। উচ্চ মূল্যস্ফীতির বিবেচনায় কর্মসংস্থানমুখী প্রকল্প অনুমোদনে গুরুত্ব দিচ্ছে সরকার।

বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের তিনটি প্রকল্পের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন এই প্রকল্পগুলো আমাদের অগ্রাধিকারভুক্ত। প্রাকৃতিক গ্যাসের অনুসন্ধান, উত্তোলন এবং যেগুলো আবিষ্কৃত করা হয়েছে, তা প্রক্রিয়াকরণ ও কাজে লাগানো। এই প্রকল্প তিনটি ৭/৮ বছর আগে শুরু হয়েছে। এরমধ্যে একটি কাজ সব সম্পন্ন করে উৎপাদন পর্যায়ে এসে থেমে রয়েছে। বাপেক্সের মতে, এটা থেকে গ্যাস পাওয়া সম্ভব। আমার প্রশ্ন হলো, এই গ্যাসের দিকে না তাকিয়ে কেন এলএনজি বা কয়লা আমদানির দিকে এত বেশি ঝুঁকে গেলাম। নিজেদের যে গ্যাস আছে, সেটা কাজে লাগাতে আরও বেশি অনুসন্ধান করা উচিত ছিল। সব থেকে মনে হয়েছে, গ্যাস খাতকে অনেকদিন ধরে অবহেলিত রাখা হয়েছে।

আমরা লক্ষ্য করেছি , এই ঘটনাকে রাজনৈতিক আলেমরা তাদের স্বার্থসিদ্ধির প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করছেন ।

মামুনুল হক তাবলিগে সংঘাত উস্কে দিয়েছেন, পক্ষপাতিত্ব করেছেন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা : অভিযোগ সাদপন্থিদের

তাবলিগ জামাতের দুপক্ষের মধ্যে দ্বন্দ্ব ও সংঘাত নিরসনের বদলে মাওলানা মামুনুল হক তা উস্কে দিয়েছেন বলে অভিযোগ করেছেন তাবলিগ জামাতের সাদপন্থী আলেম ওলামারা। তারা আরও অভিযোগ করেন, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা একপক্ষীয় আচরণ করছেন। ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে ‘দেশব্যাপী তাবলিগ জামাতের মাওলানা সাদ অনুসারীদের ওপর জুলুম, নির্যাতন, হামলা, মামলা, শীর্ষ মুরব্বিদের ওপর মামলার প্রতিবাদে এবং কারাবন্দী মুফতি মুআজ বিন নূরের নিঃশর্ত মুক্তির দাবিতে’ সংবাদ সম্মেলনে এসব অভিযোগ জানিয়েছেন তাবলিগ জামাতের নিজামুদ্দিন অনুসারী শফিক বিন নাঈম।

সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে শফিক বিন নাঈম বলেন, ‘সাংবাদিকেরা তাবলিগের মুরব্বিকে প্রশ্ন করেছে, তিনি কিছু বললেন না, কিন্তু মামুনুল হক সাহেব উত্তর দিলেন। মামুনুল হক সাহেব তো তাবলিগের কেউ না। উনি আগুনের মধ্যে পানি না ঢেলে কেরোসিন ঢেলেছেন।’ সাদপন্থীদের মিডিয়া সমন্বয়ক মুআজ বিন নূরের মুক্তি দাবি করে তিনি বলেন, ‘তাবলিগ করার কারণে কেউ গ্রেপ্তার হয়েছেন এমন নজির নেই। স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা তো শুধু যুবায়েরপন্থীদের না। উনি সবার অভিভাবক। উনি কীভাবে একটা পক্ষ নেয়? ড. মুহাম্মদ ইউনুস সাহেব সম্মানিত লোক। তিনি দুপক্ষ নিয়ে বসলে এই সংকটের সমাধান হবে আশা করি।’

তিনি ১৮ ডিসেম্বর স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার মন্তব্যেরও নিন্দা করেন যেখানে তিনি মামুনুলকে ‘ভাই’ হিসাবে উল্লেখ করে বলেন, ‘তারা [কর্তৃপক্ষ] সমস্ত বিষয়ে তার পরামর্শ অনুসরণ করবে’। লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, ‘১৮ ডিসেম্বর টঙ্গীর ময়দানে দুঃখজনক ঘটনা ঘটেছে, সেজন্য আমরা মর্মাহত। আমরা লক্ষ্য করেছি, এই ঘটনাকে রাজনৈতিক আলেমরা তাদের স্বার্থসিদ্ধির প্ল্যাটফর্ম হিসেবে ব্যবহার করছেন।’

জুলাই অভ্যুত্থানে মানবাধিকার লঙ্ঘন তদন্তে জাতিসংঘকে সব তথ্য দেয়নি সরকার

ঢাকার পক্ষ থেকে তদন্তের স্বার্থে সব ধরনের নথি যাচাই করার পূর্ণ নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো, চাহিদা অনুযায়ী নথি মেলেনি।

অন্তর্বর্তী সরকারের আহ্বানে দু’দফা বাংলাদেশে আসে জাতিসংঘের তদন্ত দল। জুলাই-আগস্টে ছাত্র জনতার ওপর সরকারি বাহিনীগুলোর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা তদন্ত করে। তবে সরকারের কাছ থেকে পূর্ণাঙ্গ তথ্য না পাওয়ায় নির্দিষ্ট সময়ে তারা প্রতিবেদন দিতে পারেনি বলে জানিয়েছে। জাতিসংঘের উচ্চ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা জানান, বিষয়টি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার বলা হলেও অপরাধ ও অনেক অপরাধীর তথ্য দেয়ার ক্ষেত্রে অপারগতা লক্ষ্য করা গেছে। অবশ্য নতুন করে জানুয়ারির মধ্যভাগে প্রতিবেদন শেষ করার লক্ষ্যে কাজ চলছে। পূর্ণাঙ্গ তথ্য উপাত্ত না পাওয়ায় প্রতিবেদন অসম্পন্ন হবে বলে জানান তিনি।

তথ্যানুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট জাতিসংঘের এক কর্মকর্তা বলেন, ঢাকার পক্ষ থেকে তদন্তের স্বার্থে সব ধরনের নথি যাচাই করার পূর্ণ নিশ্চয়তা দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বাস্তবতা হলো, চাহিদা অনুযায়ী নথি মেলেনি। বাংলাদেশ সরকার তথ্য দিয়েছে ঠিক, তবে তা আংশিক। জুলাই ও আগস্টে ছাত্র জনতার ওপর সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনে বিভিন্ন নিরাপত্তা বাহিনীর বিষয়ে তথ্য চেয়ে তেমন সাড়া পাওয়া যায়নি।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সরকারের উচ্চ পর্যায়ের এক কর্মকর্তা সমকালকে বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার ছাত্র জনতার পাশাপাশি একটি ভিতের ওপর টিকে রয়েছে। জুলাই-আগস্টে বাহিনীগুলো যে ধরনের মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে, তা নিজ দেশের নাগরিকদের প্রতি সম্ভব ছিল না। ফলে সরবরাহ করা তথ্য বাহিনীগুলোর বিরুদ্ধে যাবে, এটাই স্বাভাবিক। সরকার মনে করছে, আন্তর্জাতিক অঙ্গনে এ ধরনের তথ্য গেলে যেমন দেশের ভাবমর্যাদা ক্ষুন্ন হবে, তেমনই বাহিনীগুলো বিশ্বে নানা সমালোচনা ও হয়রানির মুখে পড়বে। অন্তর্বর্তী সরকারের নতুন করে দেশকে গড়ে তোলার কাজ ব্যাহত হবে।

বাংলাদেশের বিভিন্ন নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা বাহিনীর নেতৃত্বের সঙ্গে দেখা করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কাছে একাধিকবার জাতিসংঘ দল অনুরোধ জানালেও সাড়া মেলেনি বলে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে। বাংলাদেশের কাছে ১৬ ধরনের তথ্য চেয়েছিল জাতিসংঘের তদন্ত দল।

বড় রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংস্কার দরকার

এগুলো ধ্রুপদি অর্থে রাজনৈতিক দল হিসেবে কাজ করছে না। কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে থানা কমিটি পর্যন্ত নির্বাচনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় না। দেখা যায়, সবকিছু একটা কেন্দ্রীভূত ক্ষমতার আদেশে ঘটছে।

…রাজনৈতিক দলগুলো পরিপক্ব না হওয়ার কারণে জনগণকেই বারবার ক্ষতির মুখোমুখি হতে হচ্ছে। স্বাধীনতার পর থেকে রাজনৈতিক দলগুলো ক্ষমতা নিরঙ্কুশ রাখতে চায়। ক্ষমতায় গেলে তারা অভাবনীয় কর্তৃত্ববাদী হয়ে ওঠে। সংবিধানও তাদের সেই সুযোগটা দেয়। তারা দুর্নীতি ও লুণ্ঠনের মধ্যেও ঢুকে যায়। এটা করার ফলে যা ঘটে, তাদের এমন কোনো নির্বাচন দিতে সাহস হয় না, যে নির্বাচনে তাদের পরাজয় ঘটে। …এই বিষাক্ত বৃত্ত থেকে বের হতে গেলে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে বড় ধরনের সংস্কার দরকার ছিল, যেটি হয়নি। সেই পরিস্থিতিও তৈরি হয়নি।

… এগুলো ধ্রুপদি অর্থে রাজনৈতিক দল হিসেবে কাজ করছে না। কেন্দ্রীয় কমিটি থেকে থানা কমিটি পর্যন্ত নির্বাচনের মাধ্যমে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয় না। দেখা যায়, সবকিছু একটা কেন্দ্রীভূত ক্ষমতার আদেশে ঘটছে। এক বা দু’দিনের কনফারেন্স হওয়ার পর নেতা বা নেত্রীকে কমিটি ঘোষণার এখতিয়ার দেওয়া হচ্ছে। ফলে রাজনৈতিক দলগুলো করপোরেট অফিসে পরিণত হয়েছে। কর্তৃপক্ষ ঠিক করে দিচ্ছে কোন কমিটি কেমন হবে। এমনকি কমিটির সদস্যপদ কেনাবেচাও হয়। এগুলো কোনো রাজনৈতিক দলের বৈশিষ্ট্য হতে পারে না। … রাজনৈতিক দল যদি একটি গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানে পরিণত হতো কিংবা চেষ্টা অব্যাহত রাখত, তাহলে রাষ্ট্রেরও গণতান্ত্রিক উত্তরণ সহজ হতো।

… তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থা সাময়িক; স্থায়ী ব্যবস্থা নয়। এই অবস্থা থেকে বেরোতে হলে বড় বড় রাজনৈতিক দলের মধ্যে সংস্কার দরকার। সেই সংস্কারে এটা নিশ্চিত করতে হবে দলের কেন্দ্র থেকে প্রান্ত পর্যন্ত প্রতিটি পর্যায়ের কমিটি হবে নির্বাচনের মাধ্যমে। নেতা-নেত্রীর মধ্যে অবসরের বয়সও ঠিক করে দেওয়া দরকার। আর দলগুলোর মধ্যে যেন ধর্ম-মত, নারী-পুরুষ সবকিছুর বৈচিত্র্যের প্রতিনিধিত্ব থাকে, তা নিশ্চিত করতে হবে। আমি বলতে চাইছি, রাজনৈতিক দলগুলোর গণতান্ত্রিকীকরণ ছাড়া দেশের গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া টেকসই হবে না। তত্ত্বাবধায়ক সরকার দিয়েই দীর্ঘমেয়াদে লাভ হবে না। দলের গণতান্ত্রিকীকরণ ছাড়া দেশের তত্ত্বাবধায়কে কাজ হবে না – দৈনিক সমকাল, ২২/১২/২০২৪

৩১% পোশাক শ্রমিক যন্ত্রের কাছে কাজ হারিয়েছে

নারী, কিছুটা বয়স্ক, অদক্ষ শ্রমিকদের কর্মসংস্থানকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে অটোমেশন।

তৈরি পোশাক উৎপাদন প্রক্রিয়ায় আধুনিক প্রযুক্তির ব্যবহার বা অটোমেশনের কারণে আশীর্বাদ হয়ে উৎপাদনশীলতা বেড়েছে। অটোমেশন বিশ্ববাজারে রপ্তানি প্রতিযোগিতায় বাংলাদেশের সক্ষমতা বাড়িয়েছে। তবে কারখানা পর্যায়ে গড়ে ৩০ দশমিক ৫৮ শতাংশ শ্রমিক এ কারণে কাজ হারিয়েছেন, যাদের বড় একটা অংশই ‘হেলপার’ পদে কাজ করতেন। নারী, কিছুটা বয়স্ক, অদক্ষ শ্রমিকদের কর্মসংস্থানকে বড় ধরনের চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে অটোমেশন। বাংলাদেশ লেবার ফাউন্ডেশন এবং আন্তর্জাতিক সুশীল সমাজ সংস্থা সলিডারিডাড পরিচালিত জরিপ প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

গবেষণা প্রতিবেদন প্রকাশ উপলক্ষে গতকাল ঢাকায় আয়োজিত আলোচনায় বিজিএমইএর সাবেক সহসভাপতি মিরান আলী বলেন, শ্রমিকরা আসলে বেকার হয়নি। প্রশিক্ষণ দিয়ে তাদের অন্য বিভাগে কাজে লাগানো হয়েছে। অটোমেশনে কাজ হারানোর ঘটনা যেমন আছে, আবার নতুন কর্মসংস্থানের সুযোগও তৈরি হয়েছে। তিনি বলেন, ‘সস্তা দর, উচ্চ ক্রয়’ এ ধারণা থেকে বেরিয়ে এসেছে বাংলাদেশ। এই প্রক্রিয়ায় অটোমেশন বাড়ছে। বাংলাদেশের সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় শতভাগ অটোমেশন নয়, আংশিক অটোমেশনই নিরাপদ।

আলোচনায় শ্রম সংস্কার কমিশনের চেয়ারম্যান এবং বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব লেবার স্টাডি বিলসের নির্বাহী পরিচালক সৈয়দ সুলতান উদ্দিন আহমেদ বলেন, ভিয়েতনামসহ প্রতিযোগী দেশগুলোর তুলনায় দক্ষতায় পিছিয়ে আছে বাংলাদেশ। এ জন্য একতরফা শ্রমিকদের দায়ী করা হয়। তবে এ দায় সব পক্ষের। উৎপাদনশীলতা বাড়াতে সব পক্ষকেই দায়িত্ব নিতে হবে।

চিকিৎসকদের কমিশন নেওয়া অনৈতিক

রোগীদের বিদেশমুখিতা কমাতে জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত অত্যন্ত জরুরি।

ওষুধ কোম্পানি থেকে ডাক্তারদের কমিশন নেওয়া ‘অনৈতিক ও অবৈধ’ বলে মন্তব্য করেছেন অন্তর্বর্তী সরকারের স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশনের প্রধান ডা. এ কে আজাদ খান। শনিবার চট্টগ্রাম মেডিকেল কলেজে মতবিনিময় সভায় তিনি বলেন, আমি নিজেও একজন ডাক্তার। ডাক্তারদের কমিশন নেওয়া শুধু অনৈতিক নয়, এটি অবৈধও। বিষয়টি আমাদের প্রতিবেদনে সুস্পষ্টভাবে উল্লেখ থাকবে। তিনি আরও বলেন, রোগীদের বিদেশমুখিতা কমাতে জনবান্ধব স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত অত্যন্ত জরুরি। পাশাপাশি বেসরকারি হাসপাতালগুলো যেন পরীক্ষা ও ওষুধের দাম বেশি রাখতে না পারে, সেটি নিয়েও কাজ করছে কমিশন। স্বাস্থ্য খাত সংস্কারের মাধ্যমে রোগীবান্ধব হাসপাতাল গড়ে তুলতে কাজ করব আমরা।আপাতত কমিশন অংশীজনের মতামত ও প্রস্তাব শুনছে। পরবর্তী সময়ে সেবাগ্রহীতাদের মতামত নিয়ে একটি প্রতিবেদন জমা দেওয়া হবে। সভায় চট্টগ্রামের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসকরা রোগীদের বিদেশ যাত্রা ঠেকাতে স্বাস্থ্য শিক্ষার ওপর জোর ও স্বাস্থ্য খাতের বাজেট বাড়ানোর প্রস্তাব করেন। এ ছাড়া মানহীন বেসরকারি ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার এবং প্রান্তিক পর্যায়ের সরকারি বেসরকারি হাসপাতালের নানা সংকটের বিষয়ে মতামত তুলে ধরেন অংশীজন।