শনিবার জাতীয় প্রেসক্লাবে শহীদ বুদ্ধিজীবী দিবস উপলক্ষে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগর দক্ষিণ কমিটি আয়োজিত এক আলোচনা সভার সভাপতি মহানগর দক্ষিণের আমির নুরুল ইসলাম বুলবুল বলেছেন- ‘বিজয়ের এক দিন আগে বেছে বেছে সাংবাদিক, শিল্পী, গবেষক, শিক্ষক বুদ্ধিজীবীদের হত্যা করল কারা? এটি স্পষ্ট, আধিপত্যবাদীরাই এ হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত।’
প্রধান অতিথি জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন- এই হত্যাকাণ্ড কারা ঘটিয়েছে, সেটি জাতির সামনে এখনো প্রকাশিত করা হয়নি। যারা দেশকে বন্দুকের নলে লিজ দিতে চেয়েছিল এবং বিদেশি আগ্রাসনের এই হত্যাকাণ্ডের পেছনে দায় রয়েছে।
তিনি বলেন ‘যে পাকিস্তানিরা পরাজিত, তারা নিজের জীবন যেখানে রক্ষা করতে পারছে না, তাদের আত্মসমর্পণের অলরেডি সিদ্ধান্ত হয়ে গেছে। তারা একটা দেশ, একটা জাতির জন্য আর কী ক্ষতি করতে পারে, এটা একটা বিশ্লেষণের বিষয়। যাদের সাহায্যে আমরা মুক্তিযুদ্ধে স্বাধীনতা অর্জন করেছি বলে আধিপত্যবাদী শক্তির সেবাদাসেরা জাতির কাছে গর্বিত হতে চায়।’ জামায়াত সেক্রেটারি আরো বলেন, ‘জহির রায়হানের ডকুমেন্টারি ও তার নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার রহস্য উন্মোচন করা গেলে বুদ্ধিজীবী হত্যাকাণ্ডের রহস্য জানা যেত।’
মুক্তিযুদ্ধে বাংলাদেশকে সাহায্য করার পেছনে ভারতের দুটি কারণ ছিল বলে দাবি করে গোলাম বলেন- ‘পাকিস্তানি বাহিনীকে পরাজিত করে ওই ‘৬৫-এর পরাজয়ের গ্লানির প্রতিশোধ নিতে হবে। সেই জন্য তারা সৈন্য দিয়ে অস্ত্র দিয়ে…কিন্তু ভেতরে তাদের ওই অসৎ উদ্দেশ্য ছিল। দৃশ্যত মনে হয়েছিল দেশটাকে তারা স্বাধীন করেছে।’ পরওয়ার বলেন, ‘মুক্তিযুদ্ধকে কাজে লাগিয়ে এই দেশটা যদি আমি পাকিস্তানিদের কাছ থেকে আলাদা করে দিতে পারি, তাহলে আমার দেশের রাজনীতি, অর্থনীতি, শিল্প, কলকারখানা, সংস্কৃতি সবকিছু চাপিয়ে দিয়ে আমরা একটা করদ রাজ্য, ব্যবসা-বাণিজ্য কেন্দ্রে দেশটাকে ব্যবহার করতে পারব। সে জন্য তারা এখানে সাহায্য করেছে।’


