সিরিয়ায় সরকার পতনের সুযোগে ইসরায়েলের বিমানবাহিনী ইতিহাসে অন্যতম বড় হামলা চালানোর পাশাপাশি ইসরায়েলের সেনারা দেশটির ভূখণ্ডে ঢুকে পড়ছে। সর্বশেষ ৪৮ ঘণ্টায় দেশটির রাজধানী দামেস্ক ছাড়াও সিরিয়ার ১৪টি প্রদেশের ১৩টিতে হামলা চালায় ইসরায়েল।ইসরায়েলের হামলায় সিরিয়ার গুরুত্বপূর্ণ সব সামরিক স্থাপনা ধ্বংস হয়েছে। সিরিয়ার যুদ্ধবিমান, যুদ্ধজাহাজ ও হেলিকপ্টার থেকে শুরু করে বিমানবিধ্বংসী অস্ত্র, অস্ত্র উৎপাদন কারখানা, অস্ত্রাগারসহ ট্যাংক, সাঁজোয়া যান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন সব ধরনের অস্ত্র ধ্বংস করে দেয়া হয়েছে।
বিশ্লেষকরা বলছেন, সিরিয়ার অস্থিতিশীলতার সুযোগ নিচ্ছে ইসরায়েল। এটা অবশ্যই সিরিয়ার সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের চুপ থাকা এবং ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনের কারণে তারা এই সুযোগ নিচ্ছে। নিজেদের নিরাপত্তার দোহাই দিয়ে আরব ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইসরায়েল যেভাবে কথিত নিরাপদ অঞ্চল গড়ে তুলছে, তাতে আরব রাষ্ট্রগুলো অস্বস্তিকর পরিস্থিতির মধ্যে পড়েছে। ইসরায়েলের সেনারা ইতিমধ্যে কাতানা শহরে পৌঁছে গেছেন। নিরস্ত্রীকরণ ওই অঞ্চল থেকে শহরটি বেশ কয়েক কিলোমিটার দূরে। সেখান থেকে কিছু দূর এগোলেই দামেস্ক বিমানবন্দর।
১৯৭৩ সালের আরব ইসরায়েল যুদ্ধের সময় গোলান মালভূমি দখল করে ইসরায়েল। যুদ্ধ শেষে সিরিয়ার ভেতরে গোলান মালভূমি লাগোয়া সিরিয়ার একটি ভূখণ্ডকে নিরস্ত্রীকরণ এলাকা হিসেবে ঘোষণা করা হয়। ইসরায়েলের সেনারা এই এলাকায় ঢুকে সামরিক চৌকিগুলোরও নিয়ন্ত্রণ নিয়েছেন। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী বলেছে, ইসরায়েলের সেনারা ওই অঞ্চলে থেকে যাবেন। এর আশপাশের আরও কিছু এলাকাতেও থাকবেন তারা।
এরই মধ্যে সিরিয়ার দক্ষিণাঞ্চলে একটি ‘নিয়ন্ত্রিত অঞ্চল’ গঠনের কথা জানিয়েছেন ইসরায়েলের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাজ। নিয়ন্ত্রিত ওই অঞ্চলে ইসরায়েলি বাহিনীর স্থায়ী উপস্থিতি থাকবে না, তবে সেটি নিয়ন্ত্রিত হবে। একজন বিশেষজ্ঞ বলেন, ইসরায়েলের সেনারা যদি আরও অগ্রসর হন অথবা নিয়ন্ত্রিত এলাকায় তাঁরা যদি স্থায়ীভাবে থেকে যান, তাহলে নতুন করে পরিস্থিতি অস্থিতিশীল হয়ে উঠবে। কট্টরপন্থী গোষ্ঠীগুলো ইসরায়েলের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের যৌক্তিকতা তুলে ধরতে পারবে। এতে সংঘাত নতুন মোড় নিতে পারে।
রয়টার্স রিপোর্ট


