” মনে প্রশ্ন জেগেছে, ধর্ম অবমাননার ঘটনায় গ্রেপ্তার ও আইনগত প্রক্রিয়া শুরু পরেও কেন উত্তেজনার প্রশমন হয়নি? আশপাশের গ্রাম থেকে কারা লোকজন জড়ো করে এনেছে? স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলে এটা মনে হয়নি যে এত মানুষ এমনি এমনি হঠাৎ একসঙ্গে এই গ্রামে এসে পড়েছেন। প্রশ্ন জেগেছে, যারা ধর্মীয় অনুভূতিতে আঘাত লেগেছে বলে উত্তেজিত হয়ে এই কাণ্ড করেছেন বলে বলা হচ্ছে, তারা লুটপাট করলেন কেন? শুধু ইসলাম কেন, কোনো ধর্মই কি মানুষের বাসস্থানে হামলা করা কিংবা লুটপাট করার কথা বলে? ভারতের বন্ধুদের ধন্যবাদ!
মানুজুর আল মতিন
দৈনিক প্রথম আলো, ১২ ডিসেম্বর ২০২৪
এসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়ার একমাত্র উপায় এই ঘটনাগুলোর সুষ্ঠু তদন্ত। দোষী ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করে বিচারের আওতায় আনা আমরা দোয়রাবাজার থেকে আসার আগপর্যন্ত সেখানে কোনো মামলা হয়নি। পুলিশ বলছে, আক্রান্ত ব্যক্তিরা মামলা করতে আসেননি। কিন্তু এসব ক্ষেত্রে তাঁরা আসতে ভয় পাবেন, সেটাই স্বাভাবিক। তাই এসব ক্ষেত্রে পুলিশের নিজ উদ্যোগে মামলা ও তদন্ত করা জরুরি।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন, সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনায় ৮৮টি মামলা হয়েছে এবং ৭০ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এটি আশাব্যঞ্জক। ভারতের গণমাধ্যমের মিথ্যাচারের জবাব কেবল সত্য দিয়েই দেওয়া সম্ভব।
সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সদস্যরা যেখানে যতটুকু হামলা-নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন, তা যেমন গণমাধ্যমকে তুলে ধরতে হবে, একই সঙ্গে এসব ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে প্রতিটি ঘটনার বিচার নিশ্চিত করতে হবে। সংখ্যালঘুদের ওপর হামলার ঘটনা চেপে যাওয়ার পুরোনো অভ্যাস থেকে বেরিয়ে আসতে হবে। সংখ্যালঘুর ওপর হামলার সুষ্ঠু তদন্ত এবং বিচার না হলে এ ধরনের হামলা বন্ধ হবে না। এটা মনে রাখা প্রয়োজন, ধর্ম-বর্ণনির্বিশেষে এ দেশের প্রতিটি মানুষের অধিকার নিশ্চিত করা জুলাই অভ্যুত্থানে প্রধানতম অঙ্গীকার। বাংলাদেশে যত দিন একজন নাগরিকও অনিরাপদ বোধ করবেন, তত দিন জুলাইয়ের স্বপ্ন দুরাশাই থেকে যাবে। …
সংক্ষেপিত


