ট্রাম্প-কমলা কে জিতলে কোন এলাকার কার কি ?

এই মুহুর্তে গোটা বিশ্ব তাকিয়ে আছে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের দিকে। ২০২৪ সালের মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল ভূ-রাজনীতিতে গভীর প্রভাব ফেলবে, বিশেষ করে চীন, রাশিয়া, মধ্যপ্রাচ্য এবং অন্যান্য অঞ্চলে ক্ষমতার ভারসাম্যের উপর। কামালা হ্যারিস জিতবেন না ডোনাল্ড ট্রাম্প জিতবেন তা নিযে চলছে জল্পনা কল্পনা ও ডেমোক্র্যাটরা জিতলে তাদের প্রশাসনের বর্তমান নীতিগুলিকে অব্যাহত রাখার কথা, আর রিপাব্লিকানরা জিতলে আমেরিকার প্রশাসন ডোনাল্ড ট্রাম্পের “আমেরিকা ফার্স্ট” অবস্থানে ফিরে যাবে ও এতে শুধু আমেরিকাই প্রভাবিত হবে না, প্রভাবিত হবে গোটা বিশ্ব।

চীন
বর্তমান প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন প্রশাসন চীনকে একটি কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী হিসাবে দেখে, যা বাণিজ্য, প্রযুক্তি এবং সামরিক ক্ষমতায় চীনের ক্রমবর্ধমান প্রভাবকে নিয়ন্ত্রণ করার নীতি অব্যাহত রেখেছে। বিশ্বে চীনের প্রভাব মোকাবেলা এবং কমানোর জন্য তার প্রশাসন ন্যাটো, কোয়াড (মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, জাপান, ভারত, অস্ট্রেলিয়া) এবং আসিয়ানের মতো বহুপাক্ষিক সংস্থার মাধ্যমে জোটগুলোকে শক্তিশালী করার চেষ্টা অব্যাহত রেখেছেন। বাইডেন প্রশাসন চীনের মানবাধিকার লঙ্ঘনের তীব্র নিন্দা করেছে, বিশেষত উইঘুর মুসলিমদের সঙ্গে আচরণ এবং হংকংয়ের গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনগুলোর বিরুদ্ধে দমন নীতির জন্য। তাইওয়ানে চীনের রাজনৈতিক আগ্রাসন মোকাবেলা করার জন্য তারা তাইওয়ানে অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে এবং সম্প্রতি সামরিক মহড়া চালিয়েছে। এছাড়াও চীনের প্রযুক্তিগত সংস্থাগুলোর ওপর সীমাবদ্ধতা আরোপ করেছে বাইডেন প্রশাসন, বিশেষত সেমিকন্ডাক্টর এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা খাতে। যদি কামালা হ্যারিস নির্বাচিত হন, তাহলে বর্তমান প্রশাসনের মত তাদেরও মিত্রদের শক্তিশালীকরণ এবং চীনের সাথে অর্থনৈতিক বিচ্ছিন্নতা তৈরির প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে।

অপরদিকে ট্রাম্প জিতলে, যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক আরও উত্তপ্ত হতে পারে, কারণ তার প্রশাসন পূর্বে চীনের বিরুদ্ধে কড়া বাণিজ্য নীতি গ্রহণ করেছিল। ট্রাম্প প্রশাসন চীনের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলির কড়া নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে বাণিজ্য যুদ্ধে আরও আক্রমণাত্মক অবস্থান নিতে পারে। তাছাড়া তার সরকার তাইওয়ানের সমর্থন আরো দৃঢ় করতে পারে, যা চীনের সাথে আমেরিকার সম্পর্কে উত্তেজনা বাড়াবে। ট্রাম্প প্রশাসন চীনের সামরিক ও অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের বিরুদ্ধে আরও সরাসরি প্রতিক্রিয়া এবং চীনের প্রভাব প্রতিহত করার জন্য অন্যান্য দেশগুলির সাথে নতুন কৌশলগত জোট গঠনের চেষ্টাও করতে পারে।

রাশিয়া
যদি কমলা হ্যারিস নির্বাচিত হন, তবে তার প্রশাসন ইউক্রেনকে সামরিক ও আর্থিক সহায়তা দিয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে লড়াই অব্যাহত রাখতে সাহায্য করবে। বর্তমান বাইডেন প্রশাসন তাদের পশ্চিমা মিত্রদের সাথে একজোট হয়ে রাশিয়ার বিরুদ্ধে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং ন্যাটোর মাধ্যমে মস্কোকে কূটনৈতিকভাবে একঘরে করে রেখেছে। কামালা হ্যারিস নির্বাচিত হলে তার প্রশাসনও একই নীতি ধরে রাখার চেষ্টা করবে যার ফলে রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হবে।

অন্যদিকে, যদি ট্রাম্প নির্বাচিত হন, তবে এই পরিস্থিতি বদলে যেতে পারে- তিনি অতীতে বিদেশি সংঘাতে আমেরিকার যুক্ত হওয়ার বিষয়ে সন্দেহ প্রকাশ করে যুক্তরাষ্টের ইউক্রেনকে দেওয়া ব্যাপক সহায়তার সমালোচনাও করেছেন তার প্রশাসন ইউক্রেনের প্রতি তাদের সামরিক সহায়তা কমিয়ে দিতে পারে বা রাশিয়ার সাথে আলোচনায় বসার জন্য জন্য চাপ দিতে পারে, যা রাশিয়া-ইউক্রেইন যুদ্ধের শক্তি ভারসাম্যর উপর প্রভাব ফেলতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্য
মার্কিন নির্বাচনের ফলাফল সবচেয়ে গভীর প্রভাব ফেলবে ইসরাইল-ফিলিস্তিনি সংঘাত এবং ইরানের সাথে সম্পর্কের ক্ষেত্রে। বাইডেন সরকার ইসরাইল-ফিলিস্তিনি যুদ্ধের সমাধানের জন্য কূটনৈতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে, কিন্তু ইসরায়েলকে এখনো যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে রাজি করাতে পারেনি। ইসরায়েলের প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থন অব্যাহত থাকলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েলকে সংযম দেখানোর ব্যাপারে উৎসাহ দিচ্ছে ও যেমন, ইরানের পারমাণবিক স্থাপনা, তেলকূপের উপর হামলা না করার জন্য ও কমলা হ্যারিস নির্বাচিত হলে একই নীতি বজায় থাকার সম্ভাবনাই বেশি এর সেটা মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য রক্ষার ক্ষেত্রে সহায়ক হাতে পারে।

যদি ট্রাম্প নির্বাচিত হন, ইসরায়েলের প্রতি তাদের সমর্থন আরো জোরদার করবে, যেটা ইরানের ওপর চাপ বাড়াবে আর যার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়বে। ট্রাম্প প্রশাসন অতীতে ইসরায়েলকে জোর সমর্থন দিয়েছিল, এবং জেরুজালেমকে ইসরায়েলের রাজধানী হিসাবে স্বীকৃতি দিয়েছিল। সম্প্রতি ট্রাম্প তার নির্বাচনী প্রচারণার সময় ইসরায়েলের ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলার প্রতিও সমর্থন প্রকাশ করেছেন ও তাছাড়া ট্রাম্প প্রশাসন সৌদি আরবের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক বজায় রেখেছিল। পুনরায় নির্বাচিত হলে সেই সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হতে পারে, যার প্রভাব তেল বাজার ও আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্যের ওপর পড়বে।

LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন