রোববার সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ কমিশনের প্রথম আনুষ্ঠানিক সংবাদ সম্মেলনে জানিয়েছেন-সংবিধান সংশোধন বা পুনর্লিখন হবে কি না, তার সিদ্ধান্ত রাজনৈতিক দলগুলো থেকে লিখিত প্রস্তাবনা এবং অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করে নেওয়া হবে। তিনি বলেন, ‘সব রাজনৈতিক দল, অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা হবে। তাদের বক্তব্য শুনব। লিখিত বক্তব্য চাই। তারপর সে অনুযায়ী আমরা সিদ্ধান্ত নেব যে সংবিধান সংশোধন, সংযোজন, বিয়োজন, পরিমার্জন, পুনর্বিন্যাস ও পুনর্লিখন কোনটা করা হবে।’
কমিশনের প্রস্তাব বর্তমান সরকার বাস্তবায়ন করবে নাকি পরবর্তী নির্বাচিত সরকার করবে, এমন প্রশ্নের জবাবে সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মাহফুজ আলম বলেন, ‘আন্দোলন চলাকালে এক দফা ঘোষণার সঙ্গে আগের সব রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বাতিল হয়ে গেছে।’ তিনি বলেন, ‘আমি সরকার বা সংবিধান সংস্কার কমিশনের সদস্য হিসেবে এখানে বলতে চাইছি না প্রস্তাবগুলো কীভাবে বাস্তবায়িত হবে। তবে ছাত্র প্রতিনিধি হিসেবে বলতে পারি, বাস্তবায়ন অবশ্যই বর্তমান সরকার করবে।’
সংবাদ সম্মেলনে অধ্যাপক আলী রীয়াজ সাংবিধানিক সংস্কারের সাতটি উদ্দেশ্য উল্লেখ করেন। এগুলো হলো-
- দীর্ঘ সংগ্রামের ধারাবাহিকতায় ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের প্রতিশ্রুত উদ্দেশ্য সাম্য, মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার এবং ২০২৪ সালে ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের আলোকে বৈষম্যহীন জনতান্ত্রিক রাষ্ট্রব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা।
- ২০২৪ সালের ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে প্রকাশিত অংশগ্রহণমূলক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জনআকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটানো।
- রাজনীতি ও রাষ্ট্র পরিচালনায় সর্বস্তরের জনগণের কার্যকর অংশগ্রহণ নিশ্চিতের ব্যবস্থা।
- ভবিষ্যতে যেকোনো ধরনের ফ্যাসিবাদী শাসন ব্যবস্থার উত্থান রোধ।
- রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গ নির্বাহী বিভাগ, আইনসভা ও বিচার বিভাগের পৃথকীকরণ ও ক্ষমতার ভারসাম্য আনা।
- রাষ্ট্রক্ষমতা ও প্রতিষ্ঠানের বিকেন্দ্রীকরণ ও পর্যাপ্ত ক্ষমতায়ন এবং রাষ্ট্রীয়, সাংবিধানিক এবং আইন দ্বারা সৃষ্ট প্রতিষ্ঠানের কার্যকর স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন নিশ্চিতকরণে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা।


