Home Blog Page 214

৩ বছর ধরে কমছে মানুষের প্রকৃত আয় : বিবিএসের তথ্য

২০২৩ সালে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৪৮% । কিন্তু ওই বছর মজুরি বৃদ্ধির হার কোনো মাসেই ৮% ছাড়ায়নি ।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য অনুযায়ী , ২০২২ সালের জানুয়ারির পর থেকে মূল্যস্ফীতি যে হারে বেড়েছে মানুষের মজুরি বৃদ্ধি পেয়েছে তার চেয়ে কম হারে । ফলে , টানা ৩ বছর ধরে দেশের মানুষের প্রকৃত আয় কমছে। তার বিপরীতে নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিসপত্রের দাম বেড়েছে । বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) তথ্য উপাত্ত অনুসারে , ২০২২ সালের জানুয়ারি মাসে মূল্যস্ফীতি ছিল ৫.৮৬% । ২০২২ সালের আগস্টে জ্বালানি তেলের দাম হঠাৎই ৪০% -এর বেশি বাড়ানো হয় । ফলে ওই মাসেই মূল্যস্ফীতি সাড়ে ৯% ছাড়িয়ে যায় । এরপর মূল্যস্ফীতির চাকার গতি আর থামানো যায়নি ।

২০২৩ সালে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ৯.৪৮% । কিন্তু ওই বছর মজুরি বৃদ্ধির হার কোনো মাসেই ৮% ছাড়ায়নি । ৭% এর মধ্যেই তা আটকে ছিল । সর্বশেষ ২০২৪ সালে গড় মূল্যস্ফীতি ছিল ১০.৩৪% । গত জুলাই মাসে খাদ্য মূল্যস্ফীতি ১৪.১০% উঠেছিল , যা ছিল সাড়ে ১৩ বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ । অন্যদিকে ২০২৪ সালের ১২ মাসের মধ্যে প্রথম ৮ মাস মজুরি বৃদ্ধি হার ছিল ৭% এর ঘরে । শেষ ৪ মাস ৮% এর ওপরে ছিল এই হার ।

গ্রাম শহর নির্বিশেষে ১৪৫টি নিজ দক্ষতার পেশার মজুরির ওপর এই হিসাব করে থাকে বিবিএস । বিবিএস বলছে , দেশের প্রায় ৮৬% মানুষ অনানুষ্ঠানিক খাতে কাজ করেন । এমন কর্মজীবী মানুষের সংখ্যা ৬ কোটির মত । গত বৃহস্পতিবার সরকার নতুন করে শতাধিক পণ্য ও সেবার ওপর ভ্যাট ও সম্পূরক শুল্ক বাড়িয়েছে । এতে আরেক দফা জীবনযাত্রার খরচ বাড়বে এমন আশঙ্কায় পড়েছে সীমিত আয়ের মধ্যবিত্ত পরিবার ।

বাংলাদেশে বছরে ৬ লাখ ৪০ হাজার অকালিক শিশু জন্ম নেয় ।

বাংলাদেশে অপরিণত শিশু জন্মহার সবচেয়ে বেশি ।

বাংলাদেশে ১০০ টি নবজাতকের মধ্যে ১৬ টি অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেয় । অপরিণত অবস্থায় জন্মের এই হার বিশ্বে সবচেয়ে বেশি । অপরিণত অবস্থায় জন্ম নেওয়া শিশুদের মৃত্যু বেশি । যারা বেঁচে থাকে , তাদের স্নায়ুবিক রোগে ভোগার ঝুঁকি বেশি । গতকাল ১৩ জানুয়ারি বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের মাসিক কেন্দ্রীয় সেমিনারে এই তথ্য দেওয়া হয় । অনুষ্ঠানে বলা হয় মায়ের অপুষ্টি , বাল্যবিবাহ , নারী নির্যাতন , গর্ভকালীন সঠিক স্বাস্থ্যসেবা না নেওয়া এসবই অপরিণত শিশু জন্মের কারণ ।

বাংলাদেশে বছরে ৬ লাখ ৪০ হাজার অকালিক শিশু জন্ম নেয় । এর মধ্যে বছরে প্রায় ২৫ হাজার শিশু মারা যায় । ১০-১৫% র ভবিষ্যতে স্নায়ুবিক বিকাশজনিত সমস্যা যেমন সেরেব্রাল পালসি , অটিজম , অতিচঞ্চলতা , মৃগীরোগ হওয়ার ঝুঁকি দেখা গেছে । এ জন্য অপরিণতভাবে জন্মগ্রহণকারী শিশুদের জন্মের প্রথম এক বছর সমন্বিত চিকিৎসার অধীনে রাখা প্রয়োজন । অনুষ্ঠানে বলা হয় অপরিণত শিশু জন্ম কমাতে হলে গর্ভধারণের আগেই স্বাস্থ্য পরামর্শ নিতে হবে , পরিবার পরিকল্পনা সেবার আওতায় থাকতে হবে , প্রসব পূর্ব সেবা নিতে হবে , ম্যালেরিয়া বা অন্য কোনো সংক্রামক রোগ থেকে দূরে থাকতে হবে ।

সেনাবাহিনী পর্যায়ে দুই দেশের সম্পর্ক ভালো এবং একদম ঠিক আছে : ভারতের সেনাপ্রধান

যখন পরিবর্তনটা হল (বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদল) , তখন থেকেই আমি বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি । – ভারতীয় সেনাপ্রধান

প্রতিবেশী হিসেবে সুসম্পর্ক বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দিয়ে ভারতের সেনাবাহিনী প্রধান জে. উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেছেন , সম্পর্কে বিদ্বেষ কোনো পক্ষের জন্যই ভালো ফল আনবে না । ১৩ জানুয়ারি ভারতীয় সেনাবাহিনীর বার্ষিক সংবাদ সম্মেলনে সম্প্রতি বাংলাদেশের কয়েকটি সীমান্তে ভারতের কাঁটাতারের বেড়া দেওয়ার চেষ্টা নিয়ে উত্তেজনার প্রেক্ষাপটে একজন সাংবাদিক বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন করেন । জবাবে বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের বক্তব্য মনে করিয়ে দিয়ে জেনারেল দ্বিবেদী বলেন , “তিনি বলেছেন , ‘কৌশলগত কারণে ভারত আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ’ । আমাদের দিক দিয়েও বিষয়টা একই । কৌশলগত কারণে বাংলাদেশ আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ ।”

“আমরা প্রতিবেশী, আমাদের একসঙ্গে থাকতে হবে, পরস্পরকে বুঝতে হবে । কোনো ধরনের বিদ্বেষ আমাদের কারো স্বার্থের জন্যই ভালো হবে না ।” দুই দেশের সেনাবাহিনীর মধ্যে কোনো ‘সমস্যা নেই’ দাবি করে জেনারেল দ্বিবেদী বলেন , “যখন পরিবর্তনটা হল (বাংলাদেশে ক্ষমতার পালাবদল) , তখন থেকেই আমি বাংলাদেশের সেনাপ্রধানের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছি । এমনকি গত ২৪ নভেম্বর ভিডিও কনফারেন্সেও আমাদের কথা হয়েছে ।

“বাহিনীর মধ্যে সহযোগিতার বিষয়ে যদি বলতে হয় , সেটা আগের মতই চলছে । আমাদের অফিসাররা সেখানে এনডিসিতে যোগ দিয়েছেন । ওই পক্ষ থেকেও কোনো সমস্যা নেই । শুধু একটা বিষয় , যৌথ মহড়া যেটা হত , বর্তমান পরিস্থিতির কারণে সেটা সাময়িকভাবে স্থগিত আছে ।যখনই পরিস্থিতির উন্নতি হবে , আমাদের মহড়াও হবে ।” ভারতের সেনাপ্রধান বলেন , “এখন যদি দুই দেশের সম্পর্ক নিয়ে বলতে হয় , সম্পর্কের কথা আমরা তখনই বলতে পারি , যখন একটি নির্বাচিত সরকার থাকবে । সেনাবাহিনী পর্যায়ে দুই দেশের সম্পর্ক ভালো এবং একদম ঠিক আছে ।”

আইএমএফের চাপে নয় , ট্যাক্স – জিডিপি অনুপাত বাড়াতে ভ্যাটবৃদ্ধি : প্রেস উইং

১২ জানুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের সংবাদ সম্মেলনে প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন – ‘দেশের মানুষের ভালোর জন্য এবং প্রবৃদ্ধি বাড়ানোর জন্য ট্যাক্স – জিডিপি অনুপাত বাড়াতে হবে । এর পরিপ্রেক্ষিতেই কিছু পণ্যের ওপর ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে ।’
তিনি বলেন , ‘সত্যিকার অর্থে আমরা চাচ্ছি যে ট্যাক্স এমন একটা জায়গায় যাক যেন আমাদের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি হয় । ট্যাক্স – জিডিপি অনুপাত কমে যাওয়া মানে যে ঋণ করা হচ্ছে , তা পরিশোধ করা সম্ভব নাও হতে পারে ।’

‘আমরা বলছি না যে ট্যাক্স বাড়ালে মানুষের ওপর প্রভাব পড়বে না । তবে আমরা মনে করছি সেটা খুবই মিনিমাম হবে ,’ বলেন তিনি ।আইএমএফের চাপে ভ্যাট বাড়ানো হচ্ছে কিনা , সাংবাদিকের এমন প্রশ্নের জবাবে প্রেস সচিব বলেন , ‘আইএমএফের কথা আমরা কেন নেবো ।
আমাদের এখানে অর্থনীতিবিদেরা আছেন । আমাদের ম্যাক্রো ইকোনমিক স্ট্যাবিলিটি দরকার । স্ট্যাবিলিটি না থাকলে টাকার মান কমে যায় ।’

‘স্ট্যাবিলিটি বাড়ানোর জন্য আমাদের ট্যাক্স – জিডিপি অনুপাত বাড়াতে হবে । গত ৫ মাসে আমাদের রাজস্ব ঘাটতি ৪২ হাজার কোটি টাকা । এ ঘাটতি আমাদের মেটাতে হবে ,’ যোগ করেন তিনি । তিনি আরও বলেন , ‘দেশের ফিন্যান্সিয়াল হেলথ ভালো হলে মূল্যস্ফীতি কমে আসে ।আইএমএফের ঋণটাই মুখ্য নয় । আইএমএফের সঙ্গে সম্পর্ক তৈরি হলে ম্যাক্রো ইকোনমিক স্ট্যাবিলিটির জন্য তারা বেস্ট সাজেশন দেয় । তারা যেখানে ঋণ দেয় , সেখানে বিশ্বব্যাংকসহ বাইরের বিভিন্ন বিনিয়োগ আসা সহজ হয় ।’

আমেরিকা ও জিম্মিদের পরিবারের চাপে যুদ্ধবিরতি চুক্তির বৈঠকে বসছে ইসরায়েল

গতবছরের শুরু থেকে কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় কয়েক দফা আলোচনায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও গাজার অবরুদ্ধ অঞ্চলগুলোতে ফিলিস্তিনিদের ফিরে আসার প্রস্তাব নাকচ করেছেন নেতানিয়াহু ।

গাজায় যুদ্ধবিরতি ও জিম্মি বিনিময়ের সম্ভাব্য চুক্তি নিয়ে হামাসের সঙ্গে আলোচনার টেবিলে বসতে গতকাল ১২ জানুয়ারি কাতারের দোহায় পৌঁছেছেন ইসরায়েলের দুই গোয়েন্দা সংস্থা মোসাদ ও শিনবেটের পরিচালকসহ ইসরায়েলের কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তা । যুক্তরাষ্ট্রের বিদায়ী বাইডেন প্রশাসন তাদের মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই গাজায় যুদ্ধবিরতি শুরুর ব্যাপারে জোর দিচ্ছে । সঙ্গে প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কয়েকবার হুমকি দিয়েছেন , ২০ জানুয়ারি তার শপথ গ্রহণের আগে জিম্মি হস্তান্তর চুক্তি না হলে গুরুতর সমস্যা হবে ।

জিম্মিদের মুক্তির দাবিতে গড়ে তোলা ইসরায়েলি সংগঠন ‘হোস্টেজস অ্যান্ড মিসিং ফ্যামিলিজ ফোরাম’ও অবিলম্বে জিম্মি বিনিময় চুক্তির দাবি জানিয়ে যাচ্ছে । এসব চাপের মুখে ১১ জানুয়ারি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর কার্যালয় থেকে জানানো হয় , হামাসের সঙ্গে জিম্মি বিনিময় ও যুদ্ধবিরতি চুক্তি চূড়ান্ত করতে একটি উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি দল পাঠানো হবে । চুক্তির ব্যাপারে একটি ইসরায়েলি সূত্রের বরাত দিয়ে সিএনএন জানায় , মিশর গাজা সীমান্তে থাকা ফিলাডেলফি করিডর , গাজায় আইডিএফের উপস্থিতির মতো বেশকিছু বিষয়ে এখনো দুইপক্ষের মতবিরোধ রয়েছে ।

দীর্ঘদিন ধরেই বন্দীদের মুক্তির বিনিময়ে গাজায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও উপত্যকা থেকে দখলদার ইসরায়েলি বাহিনীর প্রত্যাহার দাবি করে আসছে হামাস । ৬ জানুয়ারি হামাসের পক্ষ থেকে বলা হয় , চুক্তির অংশ হিসেবে ৩৪ ইসরায়েলি জিম্মিকে মুক্তি দিতে প্রস্তুত তারা । গতবছরের শুরু থেকে কাতার ও মিশরের মধ্যস্থতায় কয়েক দফা আলোচনায় স্থায়ী যুদ্ধবিরতি ও গাজার অবরুদ্ধ অঞ্চলগুলোতে ফিলিস্তিনিদের ফিরে আসার প্রস্তাব নাকচ করেছেন নেতানিয়াহু ।

কিছু মানুষ অল্প ঘুমিয়ে কীভাবে সুস্থ থাকে ?

ঘুমের পরিমাণের চেয়ে ঘুমের গুণগত মান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ

আমরা সবাই শুনেছি রাতে সাত থেকে ৯ ঘণ্টা ঘুমানো কতটা জরুরি । বলা হয় , এ সময়ের চেয়ে কম ঘুমালে স্বল্প বা দীর্ঘ মেয়াদে স্বাস্থ্য ঝুঁকির সম্ভাবনা থাকে । যেমন – স্মৃতিশক্তির সমস্যা , বিপাকে সমস্যা , হতাশা , ডিমনেশিয়া , হৃদরোগ এবং দুর্বল ইমিউন সিস্টেম । তবে সম্প্রতি গবেষকরা দেখছেন , কিছু মানুষ যারা নিয়মিতভাবে কম ঘুমিয়েও তাদের শরীর বা মনের ওপর কোনো নেতিবাচক প্রভাব পড়েনি ।স্বাভাবিকভাবে এ স্বল্প ঘুমানো ব্যক্তিদের ন্যাচারাল শর্ট স্লিপারস বলা হয় । এদের জেনেটিক বৈশিষ্ট্যই এমন । তাদের রাতে মাত্র চার থেকে ছয় ঘণ্টা ঘুমেই পর্যাপ্ত বিশ্রাম পান ।

এ জেনেটিক বৈশিষ্ট্যধারীরা প্রমাণ করেন যে , ঘুমের পরিমাণের চেয়ে ঘুমের গুণগত মান সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ । তবে এসব ব্যক্তিদের জেনেটিক বৈশিষ্ট্য আলাদা করা গেলে গবেষকরা ঘুমের প্রকৃতি সম্পর্কে আরও বৈজ্ঞানিক তথ্য আবিষ্কার করতে পারবেন । আজকের দিনে , যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসে সবচেয়ে বেশি সংখ্যক প্রাপ্তবয়স্ক ব্যক্তি প্রতি রাতে পাঁচ ঘণ্টারও কম ঘুমাচ্ছেন ।

ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (সান ফ্রান্সিসকো) একজন স্নায়ুবিজ্ঞানী লুই পটাচেক ও তার সহকর্মী ইং-হুই ফুয়ের কাজ করতে গিয়ে এমন একটি পরিবারের সঙ্গে পরিচিত হন যাদের খুব ভোরে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস হলেও তারা ঘুমাতে যেতেন দেরিতে । আর মাত্র ছয় ঘণ্টা ঘুমেই তারা সতেজ অনুভব করতেন । তারাই ছিলেন প্রথম পরিবার যাদের মধ্যে ন্যাচারাল শর্ট স্লিপের অস্তিত খুঁজে পান গবেষকরা । তাদের এ জিনগত বৈশিষ্ট্য তারা উত্তরাধিকারসূত্রেই পেয়েছেন বলে জানান তারা । ফু ও পটাচেক তাদের এ কম ঘুমের কারণ হিসেবে তাদের দেহের ডিইসি-২ নামক জিনের মিউটেশনকে দায়ী করেন ।

গবেষকরা ডিইসি-২ মিউটেশনকে ইঁদুরের জিনে প্রবেশ করান এবং দেখতে পান যে , ইঁদুরগুলো তার সঙ্গীদের তুলনায় কম ঘুমাচ্ছে । এসব বিষয় গবেষণা করতে গিয়ে গবেষকরা স্বল্প ঘুমের সঙ্গে সম্পর্কিত এমন ৭টি জিন চিহ্নিত করেন । এখনো স্পষ্ট নয় যে , কম ঘুমের জন্য দায়ী জিনগুলো কীভাবে মানুষের ওপর খারাপ ঘুমের নেতিবাচক প্রভাব থেকে রক্ষা করে অথবা এসব জিনের মিউটেশন কীভাবে ঘুমকে আরও কার‍্যকর করে তোলে । পটাচেক বিরক্ত হন যখন তিনি শুনেন , ‘সবার রাতে আট ঘণ্টা ঘুমাতে হবে ।’ তিনি বলেন , ‘বিষয়টি অনেকটা জনসংখ্যার সবার উচ্চতা ৫ ফুট ১০ হওয়া উচিত বলার মতো ।’

‘ বাংলাদেশ সরকার যুদ্ধ বাঁধাতে চাইছে ’ : অভিযোগ মমতার মন্ত্রীর

বাংলাদেশের বর্তমান সরকার পরিকল্পিতভাবে যুদ্ধ বাঁধানোর চেষ্টা করছে , এমন মারাত্মক অভিযোগ করেছেন ভারতের পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের কৃষিমন্ত্রী শোভন দেব চট্টোপাধ্যায় । কলকাতা পৌর সংস্থার একটি স্মরণসভা অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়ে বর্ষীয়ান তৃণমূলের শ্রমিক নেতা ও মন্ত্রী এই অভিযোগ করেন । শনিবার (১১ জানুয়ারি) এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এশিয়ানেট নিউজ । তিনি বলেন , “ইউনুস সরকার এখন ভালো অবস্থানে নেই । তারা তাদের দেশের মানুষের আস্থা হারাচ্ছে এবং সেই অস্থিরতা থেকে মুখ ঘুরানোর জন্য তারা উগ্রপন্থীদের দিয়ে উস্কানি ছড়ানোর চেষ্টা করছে ।”

শোভন দেব চট্টোপাধ্যায় আরও জানান , “আমাদের সীমায় যদি আমরা কাঁটার বেড়া বসাই , এতে তাদের কি ? আমরা তো তাদের জমিতে গিয়ে কিছু করছি না । কিন্তু সম্প্রতি বাংলাদেশ ভারতকে কাঁটা তারের বেড়া বসাতে বাধা দিচ্ছে , বারবার কাজ আটকে দিচ্ছে ।” তিনি বিস্ফোরক দাবি করে বলেন , “বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনার পেছনে কিছু কিছু দেশের ইন্ধন রয়েছে বলে আমার মনে হয় ।” তার মতে , এই পরিস্থিতিতে ভারত সরকারকে আরও পজিটিভপদক্ষেপ গ্রহণ করা উচিত ।

প্রসঙ্গত , আইন অনুযায়ী সীমান্তের শূন্যরেখা থেকে ১৫০ গজের মধ্যে ফসল চাষ ছাড়া সীমান্তবর্তী কোনো দেশ তাদের সীমানায় বেড়া কিংবা কোনো স্থাপনা নির্মাণ করতে পারবে না। কিন্তু বিএসএফের সদস্যরা আন্তর্জাতিক আইন ভঙ্গ করে সীমান্তে স্থাপনা নির্মাণের চেষ্টা করেন ।

বিশ্বযুদ্ধের পর জাপান – জার্মানির আদলে গাজাকে গড়তে হবে

… এরপর দ্বিতীয় ধাপে শিক্ষাব্যবস্থা ঠিক করতে হবে যাতে ফিলিস্তিনিদের ছোটবেলা থেকেই ইসরায়েলের প্রতি ঘৃণা ও ধ্বংস কামনা শেখানো না হয় । সুতরাং শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার অপরিহার্য ।

বিশ্বের শীর্ষ ধনী ইলন মাস্ক ইসরাইলের নিরাপত্তার জন্য হামাস নির্মূল করার আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি, দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর যুক্তরাষ্ট্র যেভাবে জার্মানি ও জাপানকে পুনর্গঠন করেছিল, যুদ্ধের পর গাজাকে সেভাবে পরিচালনা ও গড়ে তোলার আহ্বান জানিয়েছেন । গত বৃহস্পতিবার জার্মানির অলটারনেটিভ ফর ডয়েচল্যান্ড (এএফডি) পার্টির নেতা অ্যালিস ওয়েইডেলের সঙ্গে ভার্চুয়াল আলাপে এ কথা বলেন মাস্ক ।

এই ভার্চুয়াল কথোপকথনে গাজা ও ইসরায়েলের পরিস্থিতিসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় । মাস্কের মতে , ইসরায়েল রক্ষায় তিনটি ধাপ জরুরি । তিনি বলেন , ‘ইসরায়েল রাষ্ট্রকে ধ্বংস করতে চায় এমন লোকদের নির্মূল করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই এবং এই ধ্বংস কামনাকারীরা মূলত হামাস । এরপর দ্বিতীয় ধাপে শিক্ষাব্যবস্থা ঠিক করতে হবে যাতে ফিলিস্তিনিদের ছোটবেলা থেকেই ইসরায়েলের প্রতি ঘৃণা ও ধ্বংস কামনা শেখানো না হয় । সুতরাং শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার অপরিহার্য ।’

মাস্ক আরও বলেন , ‘তৃতীয় ধাপ হলো ফিলিস্তিনি এলাকাগুলো সমৃদ্ধ করা । এই তৃতীয় ধাপ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং এটি সম্ভবত সবচেয়ে কঠিন । কিন্তু এই ধাপ অবশ্যই গ্রহণ করতে হবে । আপনাকে সমৃদ্ধি আনতে হবে এবং পুনর্গঠনে সহায়তা করতে হবে ।’ মার্কিন এই ধনকুবের বলেন , ‘প্রথম বিশ্বযুদ্ধের পর ভার্সাই চুক্তি জার্মানির জন্য অত্যন্ত অন্যায় ছিল এবং এটি বিশাল ক্ষোভ সৃষ্টি করে । দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধে জার্মানি ও জাপান পরাজিত হওয়ার পর অতীত থেকে শিক্ষা নেয়া হয়েছিল । তখন যুক্তরাষ্ট্র আসলে জাপান ও জার্মানিকে পুনর্গঠনে সহায়তা করেছিল । আর এখন জাপান ও জার্মানি আমাদের মিত্র , দেশগুলোর সঙ্গে আর কোনো যুদ্ধ হয়নি । গাজার ক্ষেত্রেও একই কাজ করা উচিত ।’

যুক্তরাষ্ট্র ও ভারত উভয়েই একটি স্থিতিশীল ও সহনশীল বাংলাদেশ দেখতে চায়

যেকোনো রাজনৈতিক পালাবদলই কঠিন এবং তা সব সময় ভালো হবেই এমনটা বলা যায় না বলে গার্সেটি মন্তব‍্য করেন ।

টাইমস অফ ইন্ডিয়ার রিপোর্ট : ভারত বিদায়ী মার্কিন রাষ্ট্রদূত এরিক গার্সেটি বলেছেন যে , যুক্তরাষ্ট্রের বাইডেন এবং আগত ট্রাম্প প্রশাসন উভয়ই বাংলাদেশের একটি অত্যন্ত গতিশীল পরিস্থিতিতে সংখ্যালঘুদের অধিকার রক্ষার গুরুত্ব ব্যক্ত করেছে । গার্সেটি ১০ জানুয়ারি কলকাতায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বলেন , ‘গত সপ্তাহে আমাদের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টারা দেখা করেছিলেন এবং বাংলাদেশ প্রসঙ্গ সেই কথোপকথনের একটি প্রধান বিষয় ছিল । আমরা কীভাবে বাংলাদেশকে সর্বোত্তমভাবে সাহায্য করতে পারি ? কীভাবে বাংলাদেশ যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নির্বাচন সংঘটিত করতে পারে এবং বাংলাদেশের সকলকে রক্ষা করা যেতে পারে সে বিষয়ে আলোচনা হয় ।’

গার্সেটি বলেন ‘আমরা সকলেই একটি স্থিতিশীল , সমৃদ্ধ , সহনশীল বাংলাদেশ দেখতে চাই । এ বিষয়ে ভারত , আমেরিকা উভয়েরই স্বার্থ জড়িত । সুতরাং , আমি মনে করি যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতকে এ বিষয়ে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করতে হবে ।’ যেকোনো রাজনৈতিক পালাবদলই কঠিন এবং তা সব সময় ভালো হবেই এমনটা বলা যায় না বলে গার্সেটি মন্তব্য করেন । তার মতে , বিষয়টি ইতিবাচক হতে পারে যদি বিশ্বের অন্যান্য সম্প্রদায় তা গ্রহণ করে এবং দেখে যে , যুক্তরাষ্ট্র , ভারত ও বাংলাদেশের মধ্যে অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি মিল রয়েছে ।

গত মাসে বাংলাদেশি আমেরিকান হিন্দু , বৌদ্ধ ও খ্রিস্টানদের সমন্বয়ে গঠিত একটি জোট বাংলাদেশে সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের সুরক্ষার দাবি জানিয়ে ট্রাম্পের হস্তক্ষেপ চেয়েছিলেন । এই জোট বাংলাদেশে ধর্মীয় ও জাতিগত সংখ্যালঘুদের উপর ক্রমাগত নিপীড়নের বিষয়টি তুলে ধরেছে ট্রাম্পের কাছে । ইসলামপন্থীদের সামনে সংখ্যালঘুদের অস্তিত্ব ‘হুমকির’ মুখে পড়েছে বলেও উল্লেখ করেছে তারা। ভারতীয় আমেরিকানরাও সম্ভাব্য অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞাসহ বাংলাদেশি সরকারের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেয়ার জন্য আগত ট্রাম্প প্রশাসন এবং কংগ্রেসের প্রতিনিধিদের সাথে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে ।

বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের কালো আইন , বাতিল ও নতুন ‘দায়মুক্তি’ : কার স্বার্থে ? শুভ কিবরিয়া , সিনিয়র সাংবাদিক, প্রকৌশলী

এটা কি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দুর্নীতিপ্রবণ অলিগার্ক শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা? নাকি, এর অন্তরালে আছে এই সরকারকে অজনপ্রিয় করে বিপথগামী করার কোনো অন্তর্ঘাতমূলক আমলাতান্ত্রিক প্রচেষ্টা?

“… বিদ্যুৎ ও জ্বালানীর দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ৫৪ নং আইন)’ নামে পরিচিত হলেও জনপরিসরে এটি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ‘দায়মুক্তির আইন’ হিসেবে কুখ্যাতি পায়। ২০১০ সালে ২ বছরের জন্য এই আইন প্রণীত হলেও পরে চার দফায় ১৬ বছর এই আইনের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সাল পর্যন্ত করা হয়। এই আইনের পরিকল্পনা বা প্রস্তাবের প্রচার উপশিরোনামে ৬ (২) উপধারায় বলা আছে প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার বা দর প্রস্তাবের বাইরে গিয়ে সীমিত সংখ্যক অথবা একক কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ ও দরকষাকষির মাধ্যমে মন্ত্রীর সম্মতিক্রমে কাজ দেওয়া যাবে।

এই আইনের আদালত ইত্যাদির এখতিয়ার রহিত করণ উপশিরোনামে (৯) ধারায় বলা আছে, এই আইনের অধীনকৃত, বা কৃত বলিয়া বিবেচিত কোন কার্য, গৃহীত কোন ব্যবস্থা, প্রদত্ত কোন আদেশ বা নির্দেশের বৈধতা সম্পর্কে কোন আদালতের নিকট প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর আইনের ৬ (২) ও ৯ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক ও আইনজীবী তাইয়্যেবুল ইসলাম সৌরভ। ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর হাইকোর্ট এই আইনের ৬ (২) ও (৯) উপধারা অবৈধ ঘোষণা করেন।

এরপর ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ২৮ নভেম্বর ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানীর দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ নামে অধ্যাদেশ জারির (অধ্যাদেশ নং ১৫, ২০২৪) মাধ্যমে এই দায়মুক্তি আইন রহিত করে। এই কালো আইন বাতিলের কথা বলে সরকার রহিতকরণ অধ্যাদেশের ২ নং (অধ্যাদেশ নং ১৫, ২০২৪) অনুচ্ছেদের (২) (ক), (খ) ধারায় নতুন দায়মুক্তির বিধান যুক্ত করেছে। সেখানে বলা হয়েছে-অতীতের দায়মুক্তির আইনে করা সব প্রজেক্টকে বৈধ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সেগুলো চলমান থাকবে। তার মানে সরকার দায়মুক্তি আইন রহিত করল বটে, কিন্তু আগের সব পাপকে পুণ্য হিসেবে গণ্য করলো।

কিন্তু ড. ইউনূসের সরকার এই জনস্বার্থ পরিপন্থি অবস্থানে কেন? এটা কি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দুর্নীতিপ্রবণ অলিগার্ক শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা? নাকি, এর অন্তরালে আছে এই সরকারকে অজনপ্রিয় করে বিপথগামী করার কোনো অন্তর্ঘাতমূলক আমলাতান্ত্রিক প্রচেষ্টা? বিদেশি পরামর্শে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতে দেশের সক্ষমতা বিনষ্ট করে বেসরকারিকরণসহ এই খাতকে বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত করে অবাধ লুটপাটের যে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাদি নেওয়া হয়েছে, সাবেক জ্বালানি সচিব হিসেবে কাজ করা জ্বালানি উপদেষ্টা সেই চক্রকে ভাঙতে উৎসাহী না। সে কারণে ১১টি বিষয়ে সংস্কার কমিশন গঠিত হলেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে কোনো কমিশন আজও গঠিত হয়নি।

অথচ এই খাতই ছিল লুটপাট ও টাকা পাচারের অবাধ ক্ষেত্র। সাবেক জ্বালানি সচিবের জ্বালানি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন যে স্বার্থসংঘাতমুক্ত নয়, সেটা এরকম জনবিরোধী সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে।”
ডেইলি স্টার থেকে সংক্ষেপিত