এটা কি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দুর্নীতিপ্রবণ অলিগার্ক শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা? নাকি, এর অন্তরালে আছে এই সরকারকে অজনপ্রিয় করে বিপথগামী করার কোনো অন্তর্ঘাতমূলক আমলাতান্ত্রিক প্রচেষ্টা?
“… বিদ্যুৎ ও জ্বালানীর দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) আইন, ২০১০ (২০১০ সনের ৫৪ নং আইন)’ নামে পরিচিত হলেও জনপরিসরে এটি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের ‘দায়মুক্তির আইন’ হিসেবে কুখ্যাতি পায়। ২০১০ সালে ২ বছরের জন্য এই আইন প্রণীত হলেও পরে চার দফায় ১৬ বছর এই আইনের মেয়াদ বাড়িয়ে ২০২৬ সাল পর্যন্ত করা হয়। এই আইনের পরিকল্পনা বা প্রস্তাবের প্রচার উপশিরোনামে ৬ (২) উপধারায় বলা আছে প্রতিযোগিতামূলক টেন্ডার বা দর প্রস্তাবের বাইরে গিয়ে সীমিত সংখ্যক অথবা একক কোনো প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে যোগাযোগ ও দরকষাকষির মাধ্যমে মন্ত্রীর সম্মতিক্রমে কাজ দেওয়া যাবে।
এই আইনের আদালত ইত্যাদির এখতিয়ার রহিত করণ উপশিরোনামে (৯) ধারায় বলা আছে, এই আইনের অধীনকৃত, বা কৃত বলিয়া বিবেচিত কোন কার্য, গৃহীত কোন ব্যবস্থা, প্রদত্ত কোন আদেশ বা নির্দেশের বৈধতা সম্পর্কে কোন আদালতের নিকট প্রশ্ন উত্থাপন করা যাবে না। ফ্যাসিস্ট শেখ হাসিনার পতনের পর আইনের ৬ (২) ও ৯ ধারার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে উচ্চ আদালতে রিট করেন সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ড. শাহদীন মালিক ও আইনজীবী তাইয়্যেবুল ইসলাম সৌরভ। ২০২৪ সালের ১৪ নভেম্বর হাইকোর্ট এই আইনের ৬ (২) ও (৯) উপধারা অবৈধ ঘোষণা করেন।
এরপর ড. ইউনূসের অন্তর্বর্তী সরকার ২৮ নভেম্বর ‘বিদ্যুৎ ও জ্বালানীর দ্রুত সরবরাহ বৃদ্ধি (বিশেষ বিধান) (রহিতকরণ) অধ্যাদেশ, ২০২৪’ নামে অধ্যাদেশ জারির (অধ্যাদেশ নং ১৫, ২০২৪) মাধ্যমে এই দায়মুক্তি আইন রহিত করে। এই কালো আইন বাতিলের কথা বলে সরকার রহিতকরণ অধ্যাদেশের ২ নং (অধ্যাদেশ নং ১৫, ২০২৪) অনুচ্ছেদের (২) (ক), (খ) ধারায় নতুন দায়মুক্তির বিধান যুক্ত করেছে। সেখানে বলা হয়েছে-অতীতের দায়মুক্তির আইনে করা সব প্রজেক্টকে বৈধ হিসেবে গণ্য করা হবে এবং সেগুলো চলমান থাকবে। তার মানে সরকার দায়মুক্তি আইন রহিত করল বটে, কিন্তু আগের সব পাপকে পুণ্য হিসেবে গণ্য করলো।
কিন্তু ড. ইউনূসের সরকার এই জনস্বার্থ পরিপন্থি অবস্থানে কেন? এটা কি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতের দুর্নীতিপ্রবণ অলিগার্ক শ্রেণীর স্বার্থ রক্ষার চেষ্টা? নাকি, এর অন্তরালে আছে এই সরকারকে অজনপ্রিয় করে বিপথগামী করার কোনো অন্তর্ঘাতমূলক আমলাতান্ত্রিক প্রচেষ্টা? বিদেশি পরামর্শে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিখাতে দেশের সক্ষমতা বিনষ্ট করে বেসরকারিকরণসহ এই খাতকে বাণিজ্যিকভাবে পরিচালিত করে অবাধ লুটপাটের যে প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাদি নেওয়া হয়েছে, সাবেক জ্বালানি সচিব হিসেবে কাজ করা জ্বালানি উপদেষ্টা সেই চক্রকে ভাঙতে উৎসাহী না। সে কারণে ১১টি বিষয়ে সংস্কার কমিশন গঠিত হলেও বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে কোনো কমিশন আজও গঠিত হয়নি।
অথচ এই খাতই ছিল লুটপাট ও টাকা পাচারের অবাধ ক্ষেত্র। সাবেক জ্বালানি সচিবের জ্বালানি উপদেষ্টা হিসেবে দায়িত্ব পালন যে স্বার্থসংঘাতমুক্ত নয়, সেটা এরকম জনবিরোধী সিদ্ধান্তই প্রমাণ করে।”
ডেইলি স্টার থেকে সংক্ষেপিত


