Home Blog Page 215

‘ চার মাসে বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণা সমস্ত পৃথিবীতে চলছে ’ প্রবাসীদের সহায়তা চাইলেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা

“ দেশের যে ইমেজ এবং আমাদের ইমেজের সবচেয়ে বড় অ্যাম্বাসেডর হচ্ছেন প্রফেসর ইউনূস । এমনকি তার বিরুদ্ধে পর্যন্ত কথাবার্তা বলা হচ্ছে যে তিনি কিছু করছেন না ইত্যাদি ইত্যাদি ।”

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেয়ার পর থেকে বাংলাদেশে সংখ্যালঘুদের বাড়িঘরে অগ্নিসংযোগ ঘটনা ঘটছে বলে ভারতের সংবাদমাধ্যমে যে সব খবর আসছে তাকে ‘প্রচণ্ডভাবে বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণা’ মন্তব্য করে এটি মোকাবিলায় পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন প্রবাসীদের সহায়তা চেয়েছেন। ১১ জানুয়ারি ঢাকায় সেন্টার ফর এনআরবি আয়োজিত ব্র্যান্ডিং বাংলাদেশ ওয়ার্ল্ড কনফারেন্স এ তৌহিদ হোসেন এই আলাপ করছিলেন।

তৌহিদ হোসেন “আপনারা খেয়াল করছেন যে গত চার মাসে কী প্রচণ্ডভাবে বাংলাদেশ বিরোধী প্রচারণা সমস্ত পৃথিবীতে চলছে এবং সেটায় পুরোভাবে আছে কিন্তু ভারতের মিডিয়া। ভারতের মিডিয়া যে রোল এবং যে এসাইনমেন্টটা নিয়ে আছে সেটা আমরা জানি। তাদের যে রিচ আছে সেটা আমরা জানি এবং তাদের যে বক্তব্য সেগুলো কিন্তু ভারতীয় ডায়াসপোরা পিক আপ করছে, এবং বিভিন্ন দেশে প্রচারণা চালাচ্ছে।”

তিনি বলেন, “মিথ্যা তথ্যের ভিত্তিতে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রচারণা চলছে। তাদের প্রচারণা দেখলে মনে হয়, এখানে যুদ্ধাবস্থা বিরাজ করছে।হিন্দুদেরকে সমানে কচুকাটা করা হচ্ছে এবং তাদের বাড়িঘর সব লুটপাট করে ফেলা হচ্ছে, এই ধরণের একটা ইমেজ তারা কিন্তু সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে এবং সেটা প্রোপাগেট করছে ভারতের ডায়াসপোরা, সমস্ত পৃথিবীতে।”

পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, “দেশের যে ইমেজ এবং আমাদের ইমেজের সবচেয়ে বড় অ্যাম্বাসেডর হচ্ছেন প্রফেসর ইউনূস। এমনকি তার বিরুদ্ধে পর‍্যন্ত কথাবার্তা বলা হচ্ছে যে তিনি কিছু করছেন না ইত্যাদি ইত্যাদি।” তিনি বলেন, “এ বিষয়গুলো কিন্তু এ সরকার মোটেই টলারেট করছে না। যেগুলো ঘটনা ঘটেছে সেগুলোর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে এবং আমরা চেষ্টা করছি যে কোন ঘটনা আসা মাত্র সেটার খোঁজখবর নিয়ে যেন প্রতিকার করা যায়। এই ডিসইনফরমেশন, মিসইনফরমেশন মোকাবিলা করাতে আপনাদের একটা ভূমিকা আছে।”

সংসদের আগে স্থানীয় নির্বাচন চায় না বিএনপি

তৃণমূল পর্যায়ের জনসাধারণ বলছে, জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে নাগরিক সেবা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তারা নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে স্থানীয় সরকার নির্বাচন চায় না বিএনপি। দলটি মনে করে, জনআকাঙ্ক্ষাকে প্রাধান্য দিয়ে সরকারের উচিত জাতীয় নির্বাচনের দিকে অগ্রসর হওয়া। এ ধরনের সরকারের অধীনে স্থানীয় নির্বাচন হওয়ার নজির নেই। কোনো চাপে নতি স্বীকার না করে এবং কোনো পক্ষের স্বার্থকে প্রাধান্য না দিয়ে সরকারের উচিত নির্বাচনমুখী পদক্ষেপ নিয়ে এগিয়ে যাওয়া। ৬ জানুয়ারি চেয়ারপার্সনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত স্থায়ী কমিটির বৈঠকে নেতারা এ অভিমত দেন। স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বৈঠকে আরো বলেন যারা নির্বাচন বিলম্বিত করতে চায়, তাদের এ ধরনের অভিপ্রায় থাকতে পারে।

গত সোমবার রাজধানীতে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের প্রধান অধ্যাপক তোফায়েল আহমেদ বলেছিলেন, জাতীয় পর্যায়ে সংসদ নির্বাচন নিয়ে আলোচনা হলেও ঢাকার বাইরে মানুষের কাছে স্থানীয় সরকার নির্বাচন প্রাধান্য পাচ্ছে। রাজনৈতিক দলগুলোর স্থানীয় পর্যায়ের নেতাদেরও এমন মত আছে। ঢাকার বাইরে মতবিনিময় করতে গিয়ে স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশন এমন আকাঙ্ক্ষার কথা জানতে পেরেছে। কারণ হিসেবে তৃণমূল পর্যায়ের জনসাধারণ বলছে, জনপ্রতিনিধির অনুপস্থিতিতে নাগরিক সেবা ব্যাপকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। তারা নানা ধরনের ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন।

স্থানীয় সরকার সংস্কার কমিশনের প্রধানের বক্তব্যের পর সরকারের পক্ষ থেকেও বিষয়টি নিয়ে আলোচনা হচ্ছে। কারণ সেবা বিঘ্নিত হওয়ায় সরকারের প্রতিও মানুষের ক্ষোভ তৈরি হচ্ছে। এ জন্য সরকারের পক্ষ থেকে স্থানীয় সরকার নির্বাচনগুলো আগে অনুষ্ঠানের বিষয়টি গুরুত্ব দিয়ে দেখা হচ্ছে। তবে স্থানীয় সরকার নির্বাচন আগে করার ব্যাপারে গতকাল পর্যন্ত সরকারের অবস্থান সম্পর্কে সুনির্দিষ্টভাবে কিছু জানা যায়নি।

এছাড়া, বাহাত্তরের সংবিধানকে বাতিল করার জন্য বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের দাবি প্রসঙ্গে বৈঠকে বিএনপি নেতারা বলেন, সংবিধানের বাইরে গেলে দেশে অস্থিরতা তৈরি হবে। বাহাত্তরের সংবিধানের আলোকেই অন্তর্বর্তী সরকার গঠনসহ রাষ্ট্রের সবকিছু পরিচালিত হচ্ছে। যারা এটা বাতিলের কথা বলছে, তাদের ভিন্ন উদ্দেশ্য রয়েছে। রাজনৈতিক দলগুলোকে এ ব্যাপারে সতর্ক থাকতে হবে। সংবিধান কখনও কবর দেওয়া যায় না। পরিবর্ধন, পরিমার্জন বা সংশোধন হতে পারে।

হাসিনার বিরুদ্ধে গুম ও গণহত্যার অভিযোগ নিয়ে প্রশ্ন তুললেন ভারতের সাবেক হাইকমিশনার

‘এটি (র‍্যাব) বেগম খালেদা জিয়ার সময় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং তখন থেকেই তাদের বিরুদ্ধে এই সব অভিযোগ উঠেছে যে তারা মানুষদের নিয়ে যায়, গায়েব করে ফেলে।’

আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল গুম ও গণহত্যার অপরাধে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছে। এই অভিযোগের বিশ্বাসযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন বাংলাদেশে দায়িত্ব পালন করা ভারতের সাবেক হাইকমিশনার বীণা সিক্রি। তিনি বলেছেন, আন্তর্জাতিক সংস্থা ইউএন হিউম্যান রাইটস কমিশন এ বিষয়ে কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ পায়নি। ভারতীয় সংবাদ সংস্থা এএনআই-এ ৭ জানুয়ারি এ খবর প্রকাশিত হয়েছে।

এএনআইকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে বীণা সিক্রি বলেন, ‘এটি শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় গ্রেপ্তারি পরোয়ানা। এটি গুমের অভিযোগ যদি আপনি প্রথম গ্রেপ্তারি পরোয়ানার কথা বলেন তা ছিল তথাকথিত গণহত্যার অভিযোগ। কিন্তু কোনো প্রমাণ বা তথ্য উপস্থাপন করা হয়নি। যখন ইউএন হিউম্যান রাইটস কমিশনকে জুলাই-আগস্টে প্রাণ হারানো মানুষের বিষয়ে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য বলা হয়, তারা বলে যে আমাদের কোনো প্রমাণ দেওয়া হয়নি কোনো এফআইআর কি আছে? এফআইআরে কী লেখা আছে? কী প্রমাণ আছে? কিছুই নেই…!’

বীণা সিক্রি বলেন, ‘প্রত্যর্পণের আবেদন একটি দীর্ঘ আইনি প্রক্রিয়া। যেসব অপরাধ ঘটেছে, সেসব প্রমাণ আপনাকে দিতে হবে। কিন্তু এসব কিছুই করা হয়নি। এখন গুমের অভিযোগের ক্ষেত্রে শুধু আপনি যেনতেন উপায়ে কয়েকজনের নাম দিয়ে বলছেন, গুম হয়েছে। র‍্যাব এসব গুমের জন্য দায়ী এবং অভিযুক্ত। এটি বেগম খালেদা জিয়ার সময় প্রতিষ্ঠিত হয়েছিল এবং তখন থেকেই তাদের বিরুদ্ধে এই সব অভিযোগ উঠেছে যে তারা মানুষদের নিয়ে যায়, গায়েব করে ফেলে। তারপর থেকে এটি একটি রাজনৈতিক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু এখন হঠাৎ এটি নিয়ে মামলা তৈরি করা এবং ১২ জনকে অভিযুক্ত করা। আমি মনে করি না যে, এই মামলাগুলো কোনো গুরুত্ব বহন করে।’

অনেকের কাছে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছায়নি

দেশের ৭০% পরিবার এখন স্মার্টফোন ব্যবহারকারী

বর্তমানে দেশের ৭০% বা দুই-তৃতীয়াংশের বেশি পরিবার অন্তত একটি স্মার্টফোন ব্যবহার করে। বিভিন্ন সুবিধার কারণে দেশে স্মার্টফোনের ব্যবহার দিন দিন বাড়ছে। তবে স্মার্টফোন থাকলেও নানা কারণে অনেকে ইন্টারনেট ব্যবহার করেন না। আবার অনেকের কাছে ইন্টারনেট সেবা পৌঁছায়নি। সব মিলিয়ে দেশের প্রায় অর্ধেক পরিবার এখনো সরাসরি ইন্টারনেট সেবার বাইরে রয়েছে। বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) প্রকাশিত চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জুলাই-সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে আইসিটির প্রয়োগ ও ব্যবহারবিষয়ক জরিপ প্রতিবেদনে এসব তথ্য উঠে এসেছে।

একাত্তরে আপনাদের ভূমিকা কী ছিল ? জামায়াতের উদ্দেশ্যে রিজভীর প্রশ্ন

১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ যাদের ঘোষণা দেওয়ার কথা ছিল, তারা পালিয়ে গেল। যে মানুষ সব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে, ইউনিফর্ম সার্ভিসে থেকে নাবালক দুটি ছেলে ও নিজের সহধর্মিণীর কথা মনে না রেখে, শুধু দেশপ্রেমের টানে বিদ্রোহ করলেন এবং স্বাধীনতা ঘোষণা করলেন।

এটা একটি রাজনৈতিক দল আমি দেখলাম, আমার কাছে বিস্ময় লেগেছে, দেশপ্রেমী তারা আর সেনাবাহিনী। সেনাবাহিনী দেশপ্রেমী নিঃসন্দেহে। কারণ, তাদের পূর্বপুরুষেরা এই বাংলাদেশ নির্মাণে জীবন বাজি রেখে যুদ্ধ করেছেন। তাই স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন মেজর জিয়াউর রহমান, যিনি অন্যতম একজন সেক্টর কমান্ডার। আরও মেজর যাঁরা ছিলেন সেক্টর কমান্ডার সেই সময়, পরে তাঁরা জেনারেল হয়েছেন। পরবর্তী পর্যায়ে আমরা দেখেছি, জনগণ যখন অত্যাচারিত হয়েছে, সেনাবাহিনী জনগণের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এমনটি ২০২৪-এর যে গণ-অভ্যুত্থান, সেখানেও উজ্জ্বল ভূমিকা রেখেছে। রুহুল কবির রিজভী

বৃহস্পতিবার সিলেটে ‘আমরা বিএনপি পরিবার’ আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেন- ‘আমি সেই রাজনৈতিক দলকে বলতে চাই, ইসলামপন্থী সেই রাজনৈতিক দল, একাত্তরে আপনাদের ভূমিকা কী ছিল? আপনারা কোন সেক্টরে যুদ্ধ করেছেন? আপনারা কোন সেক্টর কমান্ডারের আন্ডারে যুদ্ধ করেছেন? বাংলাদেশে কেউ দেশপ্রেমী নেই, শুধু একটি রাজনৈতিক দল দেশপ্রেমী, এ ধরনের বিভ্রান্তি আপনারা তৈরি করলে মানুষ হাসবে। মানুষ হাসি ছাড়া আর কিছু দেবে না।

অনুষ্ঠানে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, ‘আজকে দেশপ্রেমী নিয়ে কথা হয়, শুনলে মুখে হাসি পায়। ১৯৭১ সালের ২৬ মার্চ যাদের ঘোষণা দেওয়ার কথাছিল, তারা পালিয়ে গেল। যে মানুষ সব ভয়ভীতি উপেক্ষা করে, ইউনিফর্ম সার্ভিসে থেকে নাবালক দুটি ছেলে ও নিজের সহধর্মিণীর কথা মনে না রেখে, শুধু দেশপ্রেমের টানে বিদ্রোহ করলেন এবং স্বাধীনতা ঘোষণা করলেন।…অস্ত্র হাতে এম এ জি ওসমানীর নেতৃত্বে এই বাংলাদেশে থেকে তাঁরা যুদ্ধ করেছেন।…কাজেই ইতিহাস সাক্ষী দেবে, দেশপ্রেমের পরীক্ষায় কারা উত্তীর্ণ। আমরা বলতে চাই না। বিএনপি হচ্ছে সেই দল, যারা মানুষের পাশে থাকে।

আসছে – রোজে’র ফার্স্ট সোলো এ্যালবাম

K-Pop ব্যান্ড ব্যাকপিঙ্কের রোজে (ROSÉ) তার প্রথম ফুল লেংথ সলো স্টুডিও অ্যালবাম রোজি (Rosie) এর আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিলেন।ইমোশনাল ইনস্টাগ্রাম পোস্টে তিনি অ্যালবামের কভার শেয়ার করেন এবং জানান যে ব্যাকপিঙ্কের বর্ন পিঙ্ক ওয়ার্ল্ড ট্যুর শেষ করার পর তিনি গত এক বছর বিভিন্ন গীতিকার ও প্রযোজকের সঙ্গে স্টুডিওতে সময় কাটিয়েছেন। রোজে তার উত্তেজনা প্রকাশ করে বলেন আমি এতে আমার রক্ত এবং অশ্রু ঢেলে দিয়েছি, এবং এটি খুবই ব্যক্তিগত একটা প্রোজেক্ট। তিনি আশা করছেন এতে তার ভক্তদের সাথে আরও গভীর সংযোগ স্থাপিত হবে। ঠিক ছুটির মরসুমে ৬ ডিসেম্বর এ্যালবামটি মুক্তি পাবে। অ্যালবামে থাকবে ১২টি গান। তিনি মনে করেন এ্যালবামটি এখন পর্যন্ত করা তার সবচেয়ে স্বাধীন কাজ। সঙ্গীতের কার্যক্রম ছাড়াও, রোজে গত বছর বিভিন্ন কমার্শিয়াল ইভেন্টে ব্যস্ত ছিলেন, যার মধ্যে রয়েছে টিফানির একটি ক্যাপসুল কালেকশন লঞ্চ করা এবং পুমার সাথে প্রচারণায় অংশগ্রহণ করা।ব্যাকপিঙ্কের সদস্য লিসাও সক্রিয় ছিলেন, রোসালিয়ার সঙ্গে নতুন গান মুক্তি দেন এবং নিউ ইয়র্ক গ্লোবাল সিটিজেন ফেস্টিভালে তার সর্বশেষ ট্র্যাক ‘মুনলিট ফ্লোর’ প্রচার করেন। রোজের এই ঘোষণা তার ক্যারিয়ারের একটি নতুন অধ্যায়ের সূচনা – তিনি তার একক যাত্রায় প্রবেশ করছেন।

আওয়ামী লীগের পর বিএনপিকেও মাইনাসের ষড়যন্ত্র চলছে : বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠক

দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে সন্দিহান দলের সব নেতা ।

‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’র মতো আরও অনেক ইস্যু সৃষ্টি করে দেশের সার্বিক পরিস্থিতি ঘোলাটে করার চক্রান্ত চলছে বলে মনে করছে বিএনপি। দেশে এক ধরনের ‘অরাজকতা’ তৈরি করতে একটি মহল চেষ্টা চালাচ্ছে বলেও দলটি মনে করছে। দেশে এই যে পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা, সেটা আওয়ামী লীগকে মাইনাস করার পর বিএনপিকেও মাইনাস করার ষড়যন্ত্র বলে মনে করেন দলটির নেতারা। এর পরিপ্রেক্ষিতে আরও সতর্ক থাকার বিষয়ে বিএনপি নেতাকর্মীকে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে বলে জানা গেছে। বিএনপির স্থায়ী কমিটির বৈঠকে দলটির নেতারা এমন অভিমত ব্যক্ত করেন বলে বৈঠক সূত্র দৈনিক সমকলকে জানিয়েছে। দলটির নেতাদের অভিমত, ছাত্রদের এই প্ল্যাটফর্ম দিক থেকে এর আগে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণের দাবি তোলা হয়েছিল। সেটা হলে দেশে সাংবিধানিক ও রাজনৈতিক সংকট সৃষ্টি হতো। এরই ধারাবাহিকতায় বাহাত্তরের সংবিধান পরিবর্তনের দাবিতে তারা রাজধানীতে ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র’ দেওয়ার উদ্যোগ নিয়েছিল। রাজনৈতিক দলগুলোকে আমলে না নিয়ে ‘কর্তৃত্ববাদ’ প্রতিষ্ঠা করার জন্যই তারা এ কাজে অগ্রসর হয়েছে। আগামীতে তারা সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন ইস্যুও তৈরি করতে পারে বলে শঙ্কা করছেন বিএনপি নেতারা। ছাত্র আন্দোলনের এসব উদ্যোগের দৃশ্যমান কোনো পৃষ্ঠপোষক তারা খুঁজে পাচ্ছেন না। তবে দীর্ঘদিনের মিত্র জামায়াতে ইসলামীর ভূমিকা নিয়ে সন্দিহান দলের নেতারা ।

স্থিতিশীল হয়েছে বিশ্ব অর্থনীতি , কমে এসেছে মূল্যস্ফীতি

২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম ও মার্কিন ডলারের বিনিময় হার বেড়ে যায়। এতে দেশে দেশে মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি পায়। বিশ্ব অর্থনীতি যখন কোভিড-১৯ সংকট কাটিয়ে উঠছিল, তখনই শুরু হয় এ যুদ্ধ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় ব্যাংক ফেডারেল রিজার্ভসহ বিশ্বের প্রায় সব দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক নীতি সুদহার বৃদ্ধির কৌশল অবলম্বন করে। তাতে ধারণা করা হচ্ছিল, ২০২৩ সালের শেষে বা ২০২৪ সালের শুরুতে বিশ্বের বৃহৎ অর্থনীতিগুলোতে মন্দা দেখা দিতে পারে।
শেষমেশ মন্দা হয়নি; বরং ২০২৪ সালে এসে বিশ্ব অর্থনীতি স্থিতিশীল হয়ে উঠেছে। তবে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমেছে। অনেক দেশের প্রবৃদ্ধির হার প্রাক্-কোভিড পর্যায়ে ফেরেনি। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) পূর্বাভাস হচ্ছে, বিদায়ী ২০২৪ সালে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে প্রবৃদ্ধি হতে পারে ৩.২%। ২০২৩ সালে প্রবৃদ্ধি হয়েছিল ৩.৩%। মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধের নতুন নতুন ফ্রন্ট তৈরি হওয়া সত্ত্বেও চলতি বছর তেলের দাম উল্টো ১.৫% মতো কমেছে। মূলত চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি কমে যাওয়া এবং বাজারে তেলের সরবরাহ বৃদ্ধি পাওয়ায় নানা উত্তেজনার মধ্যেও আন্তর্জাতিক বাজারে পণ্যটির দাম কমেছে। বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, ২০২৫ সালে জ্বালানি তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৬০ ডলারে নেমে যেতে পারে। বিশ্বব্যাপী মূল্যস্ফীতির হার কমে আসার পেছনে তেলের মূল্য হ্রাসের প্রভাব আছে। ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের (ডব্লিউইএফ) এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, সরকারি ঋণ বৃদ্ধির কারণে ৫৩% উন্নত দেশ ও ৬৪% উন্নয়নশীল দেশের সামষ্টিক অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনষ্টের কারণে হতে পারে। ক্রমবর্ধমান ঋণের সুদ পরিশোধ করতে অনেক দেশ উন্নয়নের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যয় করতে পারছে না।মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় ঋণসীমা অতিক্রম করে গেছে আরও আগে। এ নিয়ে চলতি বছর বেশ কয়েকবার শাটডাউনের কবলে পড়ার উপক্রম হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের। বাংলাদেশেও সরকারি ঋণ বৃদ্ধির বিষয়টি গত কয়েক বছরে বেশ আলোচিত বিষয়।

উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি হতে গেলে জাতীয় ঐক্যমত , অর্থাৎ রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক বিষয়ে ন্যূনতম ঐক্যমত প্রতিষ্ঠা করার বিকল্প নেই ।

নির্বাচন, সংস্কার ও ঐক্য প্রসঙ্গে : দৈনিক প্রথম আলো সম্পাদকীয় থেকে সংক্ষেপিত

ঐক্যবিহীন সংস্কার কিংবা সংস্কারবিহীন নির্বাচন বাংলাদেশকে এগিয়ে নিতে পারবে না বলে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস যে মন্তব্য করেছেন, সেটি অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ। গণতন্ত্রের জন্য যেমন নির্বাচন প্রয়োজন, তেমনি রাষ্ট্র সংস্কারের জন্য জাতীয় ঐক্যের গুরুত্বও অস্বীকার করা যাবে না। বেশ কিছুদিন ধরে সংস্কার ও নির্বাচন নিয়ে রাজনৈতিক মহলে আলোচনা চললেও এ বিষয়ে পরিষ্কার মতভেদ পরিলক্ষিত হচ্ছে। একদিকে কয়েকটি রাজনৈতিক দল দ্রুত নির্বাচনের তাগিদ দিচ্ছে, অন্যদিকে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা সংস্কারের বিষয়টি সামনে নিয়েএসেছেন। তাঁদের বক্তব্য হলো স্বৈরতান্ত্রিক শাসনব্যবস্থার পুনরাবির্ভাব ঠেকাতে রাষ্ট্রের সংস্কার অপরিহার্য। প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ‘সংস্কার বিষয়ে আমাদের মধ্যে ঐকমত্য প্রয়োজন। এই তিন লক্ষ্যের (নির্বাচন, সংস্কার ও ঐক্য) কোনোটিকে ছাড়া কোনোটি সফল হতে পারবে না।’ আমরা মনে করি, এখানে তিনটি বিষয়কে সমান- ভাবে গুরুত্ব দিতে হবে। উন্নত ও সমৃদ্ধ জাতি হতে গেলে জাতীয় ঐকমত্য, অর্থাৎ রাষ্ট্র পরিচা- লনার মৌলিক বিষয়ে ন্যূনতম ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা করার বিকল্প নেই ।

… আমাদের মনে রাখতে হবে, গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে যে কর্তৃত্ববাদী শাসনের অবসান হয়েছে, তার পুনরাবৃত্তি রোধ করতেই রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থায় সংস্কার অত্যাবশ্যক হয়ে উঠেছে। আমরা কোনোভাবে এটা অগ্রাহ্য করতে পারি না ।আবার অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ প্রলম্বিত হলে যে নানা সমস্যা দেখা দেয়, সেটাও সবাইকে মনে রাখতে হবে।

… সংস্কার ও নির্বাচন পরস্পরবিরোধী নয়; বরং একে অপরের পরিপূরক হিসেবেই দেখতে হবে। সংস্কারের লক্ষ্যে গঠিত কমিশনগুলোর প্রথম ছয়টি কমিশনের প্রতিবেদন জানুয়ারির প্রথম সপ্তাহে সরকারের কাছে জমা দেওয়ার কথা। এরপর সেগুলো নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার জন্য জাতীয় ঐকমত্য কমিশনও গঠন করা হয়েছে। এখন সরকারের দায়িত্ব হলো রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে ন্যূনতম সংস্কারের বিষয়ে ঐকমত্যে আসা ।

রাজনৈতিক দলগুলোরও এখানে বড় দায়িত্ব রয়েছে। গণতন্ত্রের জন্য নির্বাচন যেমন জরুরি, তেমনি গণতন্ত্রের জন্য রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কারও কম জরুরি নয় । জুলাই অভ্যুত্থানে হাজারো প্রাণের আত্মত্যাগে যে জন-আকাঙ্ক্ষা তৈরি হয়েছে, সেখানে এ দেশের মানুষ আর পুরোনো ব্যবস্থায় ফিরে যেতে চায় না।

‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্ৰ’ : কি ও কেন ?

২০২৪ সাল পার হয়ে গেলে এর প্রতীকী তাৎপর্য কমে যাবে। এ বছরের মধ্যেই ঘোষণাপত্র মানুষের সামনে নিয়ে আসা এবং নতুন করে আলোড়ন তৈরি করার জন্যই বছরের শেষ দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছে।

বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির নেতৃস্থানীয়রা গত শনিবার সন্ধ্যার পর হঠাৎ করে ফেসবুকে ৩১ ডিসেম্বরের কর্মসূচি নিয়ে পোস্ট দেওয়ার পর থেকে নানা আলোচনা শুরু হয়। ফেসবুকে অনেকে এমন প্রশ্নও করেন, এই উদ্যোগের (জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র) মধ্য দিয়ে বর্তমান সংবিধান স্থগিত বা বাতিলের উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে কি না। কারও কারও প্রশ্ন ছিল, এই ঘোষণাপত্রের মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করার প্রেক্ষাপট তৈরি করা হচ্ছে কি না। কেউ কেউ উল্লেখ করেন, এই উদ্যোগের মধ্য দিয়ে হয়তো বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার বিপ্লবী সরকারে রূপ নিতে যাচ্ছে। বিষয়টি নিয়ে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন ও জাতীয় নাগরিক কমিটির একাধিক নেতার সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, এসব আশঙ্কা বা ধারণার কোনো বাস্তব ভিত্তি নেই। শহীদ মিনারে বড় জমায়েতের মাধ্যমে তাঁরা এই বার্তা সব পর্যায়ে পৌঁছাতে চান যে অভ্যুত্থানের শক্তি এখনো ঐক্যবদ্ধ। তাঁরা মনে করেন, এর মাধ্যমে তাঁদের জনপ্রিয়তা বাড়বে এবং নতুন রাজনৈতিক দল গঠনে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়বে। নেতারা জানান, জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্র আরও আগে ঘোষণার পরিকল্পনা থাকলেও নানা কারণে তা করা সম্ভব হয়নি। ২০২৪ সাল পার হয়ে গেলে এর প্রতীকী তাৎপর্য কমে যাবে। এ বছরের মধ্যেই ঘোষণাপত্র মানুষের সামনে নিয়ে আসা এবং নতুন করে আলোড়ন তৈরি করার জন্যই বছরের শেষ দিনটি বেছে নেওয়া হয়েছে। ঘোষণাপত্রে কোনো দাবিদাওয়ার বিষয় থাকবে না। এতে মূলত অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট, আকাঙ্ক্ষা ও আগামীর প্রত্যাশিত বাংলাদেশের একটি চিত্র থাকবে। জুলাই অভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে দেশের মানুষ বর্তমান সংবিধানের বিপরীতে অবস্থান নিয়েছে বলে মনে করে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন। তারা বাহাত্তরের সংবিধানকে ‘মুজিববাদী সংবিধান’ হিসেবেও উল্লেখ করেছে। এই ‘মুজিববাদী সংবিধান’ কীভাবে গণমানুষের আকাঙ্ক্ষাকে বিনষ্ট করেছে এবং ঠিক কীভাবে এর রিপ্লেসমেন্ট (প্রতিস্থাপন) করা হবে, সেটি ‘জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্রে’ স্পষ্ট করা হবে বলে জানিয়েছে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন । গতকাল বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সংবাদ সম্মেলনে সারজিস আলম বলেন, জুলাই বিপ্লবের ঘোষণাপত্রটি সামগ্রিকভাবে বাংলাদেশের একটি লিখিত দলিল হিসেবে থাকবে। যে দলিল বিগত ব্যবস্থাগুলোকে বাতিল করে প্রত্যাশিত নতুন ব্যবস্থা বাস্তবায়নের পথ দেখাবে। ভবিষ্যতে ভোটের মাধ্যমে যাঁরা বাংলাদেশের মানুষের দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, তাঁদের ক্ষেত্রেও এটি একটি নির্দেশিকা হিসেবে থাকবে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে হাসনাত আবদুল্লাহ বলেন, ‘বাহাত্তরের সংবিধানের মূলনীতিগুলোর মাধ্যমে ভারতীয় আগ্রাসনের “ইনস্টলমেন্ট” (স্থাপন করা) হয়েছে।’