Home Blog Page 213

জরিপে অংশগ্রহণকারীদের জিজ্ঞেস করা হয় , “আগামী দুই বছরে আপনার দেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কোনগুলো” ।

পাঁচ ঝুঁকিতে বাংলাদেশ , শীর্ষে মুল্যস্ফীতি

ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরাম এর বৈশ্বিক ঝুঁকি প্রতিবেদন ২০২৫ , বাংলাদেশের জন্য ৫টি বড় ঝুঁকি চিহ্নিত করেছে , সবচেয়ে বড় ঝুঁকি মূল্যস্ফীতি । উচ্চ মূল্যস্ফীতির সঙ্গে ঝুঁকির আরও চারটি চিহ্নিত খাত হলো চরমভাবাপন্ন আবহাওয়া (বন্যা , তাপপ্রবাহ) , দুষণ (বায়ু , পানি , মাটি) , বেকারত্ব ও অর্থনৈতিক সুযোগের অভাব এবং অর্থনৈতিক নিম্নমুখিতা (মন্দা , স্থবিরতা) । ধারণাভিত্তিক এ জরিপে অংশগ্রহণকারীদের জিজ্ঞেস করা হয় , ‘আগামী দুই বছরে আপনার দেশের জন্য সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ কোনগুলো ।’ ৩৪টি ঝুঁকির তালিকা থেকে তাঁরা পাঁচটি প্রধান ঝুঁকি চিহ্নিত করেন ।

বৈশ্বিক পরিসরে চলতি বছরের জন্য ১০ টি প্রধান ঝুঁকির ক্ষেত্র চিহ্নিত করা হয়েছে চরমভাবাপন্ন আবহওয়া , ভূঅর্থনৈতিক বিবাদ , অপতথ্য ও ভুল তথ্য , সামাজিক মেরুকরণ , বৈশ্বিক ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ পরিবর্তন , অর্থনৈতিক সুযোগের অভাব বা বেকারত্ব , মানবাধিকার বা নাগরিক স্বাধীনতার অবক্ষয় ও অসমতা । সাম্প্রতিক বছরগুলোর অন্যান্য উদ্বেগকে ছাপিয়ে বিশ্বের জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকি হয়ে দাঁড়াতে পারে রাষ্ট্রভিত্তিক সশস্ত্র সংঘাত । অথচ দুই বছর আগেও এটিকে বড় ঝুঁকি হিসেবে দেখা হতো না ।


এটি খুব অল্পসংখ্যক অতিধনী লোকের হাতে ক্ষমতার বিপজ্জনক কেন্দ্রীকরণ ।

যুক্তরাষ্ট্রে বিপজ্জনক গোষ্ঠীশাসন প্রতিষ্ঠিত হচ্ছে : বাইডেন

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন গতকাল ১৫ জানুয়ারি জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া বিদায়ী ভাষণে বলেছেন – ‘বিপুল সম্পদ , ক্ষমতা প্রতিপত্তি নিয়ে একটি গোষ্ঠীর শাসন প্রতিষ্ঠিত হতে যাচ্ছে । এটি দেশের অভ্যন্তরীণ গণতন্ত্রের জন্য হুমকি । আমাদের মৌলিক অধিকার ও স্বাধীনতা রক্ষার জন্য সবাইকে এগিয়ে যেতে হবে ।’ তিনি ‘কতিপয় অতিধনী অলিগার্কের হাতে ক্ষমতার বিপজ্জনক কেন্দ্রিকরণ’ এর দিকে এবং ‘তাদের ক্ষমতার অপব্যবহার যদি না থামানো হয় তাহলে তার বিপজ্জনক পরিণতির দিকে’ দৃষ্টি আকর্ষণ করেন ।

সামরিক শিল্প কমপেক্স সম্পর্কে প্রয়াত প্রেসিডেন্ট ডোয়াইট আইজেনহাওয়ারের হুঁশিয়ারির কথা স্মরণ করে বাইডেন যোগ করেন, ‘আমি সমানভাবে প্রযুক্তি শিল্প কমপেক্সের সম্ভাব্য উত্থান সম্পর্কে উদ্বিগ্ন, যেটা আমাদের দেশের জন্য প্রকৃত হুমকি হতে পারে ।’ বাইডেনের হুঁশিয়ারি আসলো এমন সময়ে যখন ধনকুবের ইলন মাস্ক, মেটার মার্ক জাকারবার্গ আর অ্যামাজনের জেফ বেজোস এর মত বিশ্বের সবচেয়ে ধনী কিছু ব্যক্তি এবং প্রযুক্তি শিল্পের কর্ণধার ট্রাম্পের পক্ষে চলে গেছে, বিশেষ করে নভেম্বর নির্বাচনে তাঁর বিজয়ের পর।

ভাষণে বাইডেন আরো বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তন রোধে আমরা যে পদক্ষেপ নিয়েছি, ক্ষমতাশালীরা তাদের অনিয়ন্ত্রিত প্রভাব খাঁটিয়ে সেগুলো নষ্ট করে দিতে চায়।’ যুক্তরাষ্ট্রের নবনির্বাচিত প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জলবায়ু পরিবর্তন ইস্যুকে এর আগে তামাশা বলে মন্তব্য করেছিলেন। তিনি বলেন, মার্কিনীরা ভুল তথ্য ও অপতথ্যের নিচে চাপা পড়েছে। এতে ক্ষমতার অপব্যবহারের সুযোগ তৈরি হবে। গণমাধ্যমের স্বাধীনতা খর্ব হচ্ছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।


টিকটক কিনে নিচ্ছেন ইলন মাস্ক ?

প্রকাশ্যে চীন বিরোধী অবস্থান নেওয়া ট্রাম্পের সঙ্গে সখ্যতা থাকলেও বেইজিংয়ের সবচেয়ে আস্থাভাজন মার্কিন ব্যবসায়ী মাস্কই ।

১৪ জানুয়ারি ব্রিটিশ পত্রিকা দ্য টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়, মাস্কের কাছে টিকটক বিক্রি করতে গোপন বৈঠক করছে বেইজিং। টিকটকের চীনভিত্তিক মালিকানা প্রতিষ্ঠান বাইটড্যান্সকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে অসন্তোষ প্রকাশ করছেন মার্কিন আইনপ্রণেতারা। ইসরায়েলি গণহত্যা নিয়ে কনটেন্ট সেন্সর না করায় টিকটককে ‘ইহুদী বিদ্বেষী’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন অনেক মার্কিন রাজনীতিবিদ টিকটকের মাধ্যমে চীন সরকার মার্কিন জনগণের ওপর গুপ্তচরবৃত্তি করতে পারে, আদালতে এই আশঙ্কা ব্যক্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্রের কেন্দ্রীয় প্রশাসন।

গত বছর মার্কিন কংগ্রেস একটি বিল পাস করে যা আইনে পরিণত করেন বাইডেন। সেই আইন অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের মালিকানা ও ব্যবস্থাপনা কোনো মার্কিন ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের অধীনে থাকতে হবে। অথবা ১৯ জানুয়ারি থেকে দেশটিতে টিকটকের অস্তিত্ব থাকবে না। টিকটকের পক্ষ থেকে আপিল করা হলেও পরে এই আইন বহাল রাখার রায় দেয় মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট। সিএনএনসহ বেশ কিছু মার্কিন সংবাদমাধ্যম জানাচ্ছে, প্রেসিডেন্ট ইলেক্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও চীনা কমিউনিস্ট পার্টি, উভয়ের সঙ্গেই সুসম্পর্ক থাকায় ইলন মাস্কের হাতেই টিকটকের মালিকানা যাওয়ার সম্ভাবনা সবচেয়ে বেশি।

সিএনএন জানায়, বৈদ্যুতিক গাড়িনির্মাতা প্রতিষ্ঠান টেসলার মাধ্যমে চীনে বড় বিনিয়োগ রয়েছে মাস্কের। এর আগে বহুবার চীনের প্রশংসাও করেছেন মাস্ক। প্রকাশ্যে চীন বিরোধী অবস্থান নেওয়া ট্রাম্পের সঙ্গে সখ্যতা থাকলেও বেইজিংয়ের সবচেয়ে আস্থাভাজন মার্কিন ব্যবসায়ী মাস্কই যুক্তরাষ্ট্রে টিকটকের প্রায় ১৭ কোটি ব্যবহারকারী রয়েছে। লস অ্যাঞ্জেলস ডজার্সের সাবেক মালিক ফ্র্যাঙ্ক ম্যাককোটের নেতৃত্বে মার্কিন ধনকুবেরদের একটি দল গত সপ্তাহে টিকটককে কিনে নিতে একটি আনুষ্ঠানিক প্রস্তাবও পাঠিয়েছে। কিন্তু সেই প্রস্তাব নাকচ করেছে বাইটড্যান্স।

গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতি বদলে ফেলা ও আদিবাসী বিতর্ক : পাভেল পার্থ , লেখক ও গবেষক।

… আদিবাসী পরিচয়ের খুব ঘনিষ্ঠ ইনডিজেনাস পিপলস এবং এর সর্বজনীন সংজ্ঞায়ন হয় না ।

“জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) মাধ্যমিক স্তরের নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি বইয়ের মলাটের পেছনে গণঅভ্যুত্থানের একটি গ্রাফিতি ব্যবহার করেছিল। ঐ গ্রাফিতিতে পাঁচটি সতেজ পাতাসহ গাছের ছবি আছে। একেকটি পাতা একেকটি সামাজিক, ধর্মীয়, জাতিগত পরিচয় বহন করছে : মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, হিন্দু ও আদিবাসী। নিচে লেখা আছে ‘পাতা ছেঁড়া নিষেধ’। গণঅভ্যুত্থানের মূল আওয়াজ ‘ইনক্লুশন’ এতে স্পষ্ট।

… গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতির মধ্য দিয়ে সমাজের সর্বস্তরের সর্বজনের মুক্তির যে আকাঙ্ক্ষা উচ্চারিত হয়েছে, গায়ের জোরে তা বদলে ফেলা কর্তৃত্ববাদকেই পুনঃস্থাপনের প্রবণতাকে উস্কে দেয়। আদিবাসী জীবন জনপদ বিভিন্নভাবে বিমর্ষ, প্রান্তিক ও অধিকারহীন। পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজের জাতিভিমানী ও কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা আদিবাসী পরিসরকে আরও সংকুচিত ও রক্তাক্ত করে তোলে।

… ‘আদিবাসী’ ও ‘আদিবাসিন্দা’ শব্দ দুটি উচ্চারণের কারণে বহুজনের কাছে সমার্থক মনে হলেও এগুলো সম্পূর্ণ পৃথক অর্থ বহন করে। বাঙালি জাতি অবশ্যই বাংলা ভূখণ্ডের আদিবাসিন্দা। বহু আদিবাসী জাতিও এই ভূখণ্ডের বহু অঞ্চলের আদিবাসিন্দা। কিন্তু বাঙালিরা আদিবাসী নন। ঠিক যেমনভাবে বহু আদিবাসী বহু অঞ্চলের আদিবাসিন্দা নন। প্রান্তিক জাতিসত্তাগুলো নিজেদের একক সামাজিক বর্গ পরিচয় হিসেবে এই প্রত্যয়টি বহু আগে থেকেই ব্যবহার করছে।

আদিবাসী পরিচয়ের খুব ঘনিষ্ঠ ইনডিজেনাস পিপলস এবং এর সর্বজনীন সংজ্ঞায়ন হয় না। জাতিরাষ্ট্র গঠনের আগে থেকে যেসব সমাজ প্রথাগত আইনে পরিচালিত হয় এবং নিজস্ব ভাষা, দর্শন, মূল্যবোধ, সংস্কৃতি আত্মপরিচয়ের মাধ্যম হিসেবে মানে, তারাই ‘আদিবাসী’ প্রত্যয়টি ব্যবহার করে। আত্মপরিচয়ের এই মর্যাদা রাষ্ট্র থেকে জাতিসংঘ সর্বত্র স্বীকৃত।”

সংবিধানে বড় পরিবর্তনের সুপারিশ

সংবিধান সংস্কার কমিশনের প্রস্তাব – কিছু পয়েন্ট

  • সংবিধানে ‘প্রজাতন্ত্র’ এবং ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’ শব্দের পরিবর্তে ‘নাগরিকতন্ত্র’ এবং ‘জনগণতন্ত্রী বাংলাদেশ’ শব্দ ব্যবহৃত হবে।
  • বাংলাদেশের জনগণ জাতি হিসেবে বাঙালি। এই বিধান বিলুপ্ত করে বাংলাদেশের নাগরিকগণ “বাংলাদেশি” বলে পরিচিত হবেন। হিসেবে প্রতিস্থাপন করার সুপারিশ।
  • বর্তমান সংবিধানে রাষ্ট্র পরিচালনার ৪ মুলনীতি ‘জাতীয়তাবাদ, সমাজতন্ত্র, গণতন্ত্র ও ধর্মনিরপেক্ষতা’ পরিবর্তন করে ‘সাম্য, মানবিক মর্যাদা, সামাজিক সুবিচার, বহুত্ববাদ ও গণতন্ত্র’ করার প্রস্তাব।
  • ৪ বছর মেয়াদি দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভার সুপারিশ। নিম্ন কক্ষে সরাসরি ভোটে ৪০০ সদস্য, এর মধ্যে ১০০ নারী। উচ্চ কক্ষে ১০০ সদস্য জাতীয় সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দলগুলোর প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে নির্ধারিত হবেন। ৫টি আসন রাষ্ট্রপতি মনোনীত করবেন অরাজনৈতিক ব্যক্তিদের মধ্যে থেকে।
  • ৭০ অনুচ্ছেদ পরিবর্তন – অর্থবিল ছাড়া নিম্নকক্ষের সদস্যদের মনোনয়নকারী দলের বিপক্ষে ভোট দেওয়ার পূর্ণ ক্ষমতা থাকবে।
  • এছাড়া আইনসভার স্থায়ী কমিটিগুলোর সভাপতি ও দুজন ডেপুটি স্পিকারের মধ্যে একজন বিরোধীদলীয় সদস্যদের মধ্য থেকে মনোনীত হবেন।
  • একজন সংসদ সদস্য একই সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী, সংসদ নেতা এবং রাজনৈতিক দলের প্রধানের যেকোনো একটির বেশি পদে অধিষ্ঠিত হতে পারবেন না।
  • রাষ্ট্রের তিনটি অঙ্গের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে হবে জাতীয় সাংবিধানিক কাউন্সিল। রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রী, স্পিকার, প্রধান বিচারপতি, বিরোধীদলীয় নেতাসহ বিভিন্ন পর্যায়ের ব্যক্তিদের নিয়ে হবে এই কাউন্সিল। নির্বাচন কমিশন, সরকারি কর্ম কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন, জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের প্রধানসহ অন্যান্য কমিশনার, অ্যাটর্নি জেনারেল ও অতিরিক্ত অ্যাটর্নি জেনারেল, প্রতিরক্ষা বাহিনীগুলোর প্রধানসহ কিছু পদে নিয়োগের জন্য কাউন্সিল রাষ্ট্রপতির কাছে নাম পাঠাবে।
  • রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হবেন আইনসভার উভয় কক্ষের সদস্য, ‘জেলা সমন্বয় কাউন্সিল’ ও ‘সিটি করপোরেশন সমন্বয় কাউন্সিল’ মিলে গঠিত ইলেক্টোরাল কলেজের ভোটে।
  • প্রধানমন্ত্রী হিসেবে কেউ সর্বোচ্চ দুইবারের বেশি দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না।
  • নির্বাচন করার জন্য সংবিধানে ৯০ দিন মেয়াদি অন্তর্বর্তী সরকারের বিধান যুক্ত করার সুপারিশ।
  • সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগে স্বাধীন বিচার বিভাগীয় নিয়োগ কমিশনের সুপারিশ। স্থানীয় আদালতের বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তাদের নিয়োগ, পদায়ন, পদোন্নতি, ছুটি, শৃঙ্খলাসহ সংশ্লিষ্ট সব বিষয় সুপ্রিম কোর্টের কাছে ন্যস্ত, বিচারক সচিবালয় প্রতিষ্ঠার সুপারিশ।
  • সংবিধানে মৌলিক অধিকারের আওতা সম্প্রসারণ, সাংবিধানিকভাবে তার সুরক্ষা এবং তা আদালতের মাধ্যমে বলবতযোগ্য করার সুপারিশ।
  • স্থানীয় পর্যায়ে সব উন্নয়নকাজের ওপর স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের সম্পূর্ণ আর্থিক নিয়ন্ত্রণ এবং বাস্তবায়নের কর্তৃত্ব থাকবে। যেসব সরকারি কর্মকর্তা ও কর্মচারী স্থানীয় সরকারের কাজে সরাসরি নিয়োজিত, তারা স্থানীয় সরকারের জনপ্রতিনিধিদের অধীন হবেন।


১১২ টি মামলার বিপরীতে এই ব্যাংক হিসাবগুলো জব্দ করা হয়েছে ।

৩৬৬ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ১৫ হাজার কোটি টাকার ব্যাংক হিসাব জব্দ ।

অর্থ পাচারের অভিযোগে ৫ আগস্টের পর থেকে ডিসেম্বরের মধ্যে ৩৬৬ জন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাবের প্রায় ১৫ হাজার কোটি টাকা জব্দ করা হয়েছে । ১১২টি মামলার বিপরীতে ব্যাংক হিসাবগুলো জব্দ করা হয়েছে । জব্দ করা ব্যাংক হিসাবগুলোর মধ্যে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা , তার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও মেয়ে সায়মা ওয়াজেদ পুতুল, হাসিনার বোন শেখ রেহানা এবং রেহানার ছেলে রাদওয়ান মুজিব সিদ্দিকের হিসাবও রয়েছে ।

এছাড়াও , এস আলম গ্রুপের চেয়ারম্যান ও তার পরিবারের সদস্য ; সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী ও তার পরিবারের সদস্য ; বেক্সিমকো গ্রুপের ভাইস চেয়ারম্যান সালমান এফ রহমান , তার ছেলে শায়ান ফজলুর রহমান ও তার স্ত্রী ; বসুন্ধরা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা আহমেদ আকবর সোবহান ও তার পরিবারের সদস্যদের ব্যাংক হিসাবও জব্দ করা হয়েছে । এই তালিকায় আরও আছে সামিট গ্রুপ , ওরিয়ন গ্রুপ , সিকদার গ্রুপ , নাসা গ্রুপ , নাবিল গ্রুপ এবং কয়েকটি বেসরকারি ব্যাংকের মালিক , প্রতিষ্ঠাতা ও এমডিদের ব্যাংক হিসাব ।

প্রক্রিয়াটির সঙ্গে যুক্ত বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের (বিএফআইইউ) কর্মকর্তারা জানান , যদি কোনো জব্দ করা হিসাবে সন্দেহজনক লেনদেন বা অর্থ পাচারের প্রমাণ না পাওয়া যায় , তাহলে তা আবার খুলে দেওয়া হবে । বিএফআইইউ এখন বেশ কিছু ব্যবসায়িক গ্রুপের অর্থ পাচার , ঋণ জালিয়াতি এবং সরকারি ও আমানতকারীদের তহবিল আত্মসাতসহ বিভিন্ন অনিয়ম তদন্ত করছে ।

বাংলাদেশে ১৫ বছরের বেশি বয়সী ধূমপায়ীর সংখ্যা ৩৯% এর মতো ।

ধূমপায়ীরা দেশে সবচেয়ে বেশি ট্যাক্স দেন !

সিগারেট ও তামাক খাত থেকে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) সবচেয়ে বেশি রাজস্ব পায় । প্রতিটি শলাকার দামের ৬০-৮০%ই তাদের শুল্ক কর হিসেবে দিতে হয় । ২০২৩-২৪ অর্থবছরে সিগারেট খাত থেকে সব মিলিয়ে ৩৭ হাজার ৯১৫ কোটি টাকার শুল্ক কর আদায় হয়েছে । ৩১টি কোম্পানি সিগারেট বিক্রির বিপরীতে সরকারকে এই শুল্ক কর দিয়েছে । মূলত ধূমপায়ীদের পকেট থেকেই এই টাকা গেছে ।

২০২২-২৩ অর্থবছরে কোম্পানিগুলোর সিগারেট বিক্রির বিপরীতে ৩২ হাজার ৮১৬ কোটি টাকার শুল্ক কর আদায় করেছিল ভ্যাট বিভাগ । ওয়ার্ল্ড পপুলেশন রিভিউয়ের ২০২৩ সালের তথ্য অনুযায়ী , বাংলাদেশে ১৫ বছরের বেশি বয়সী ধূমপায়ীর সংখ্যা ৩৯ শতাংশের মতো ।

চলতি অর্থবছরের জুলাই – ডিসেম্বর সময়ে অর্থ ব্যয় হয়েছে ৫০ হাজার ২ কোটি টাকা

ছয় মাসে এডিপির মাত্র ১৮% বাস্তবায়ন

চলতি অর্থবছরের জুলাই থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়ন হয়েছে ১৭.৯৭% ; যা আগের অর্থবছরের একই সময়ে ২২.৪৮% ছিল । পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের বাস্তবায়ন পরিবীক্ষণ ও মূল্যায়ন বিভাগের প্রকাশিত এডিপি বাস্তবায়নের পরিসংখ্যান বলছে , প্রথম ছয় মাসে এডিপি বাস্তবায়নের এই হার গত পাঁচ বছরের মধ্যে সবচেয়ে কম ।

চলতি অর্থবছরের জুলাই-ডিসেম্বর সময়ে অর্থ ব্যয় হয়েছে ৫০ হাজার ২ কোটি টাকা ; যা গত অর্থবছরের একই সময়ে ৬১ হাজার ৭৩৯ কোটি টাকা ছিল । চলতি অর্থবছরের শুরু থেকে আন্দোলন , পরে অগাস্টে ক্ষমতার পালাবদলে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতির পাশাপাশি প্রশাসনে রদবদলের ধাক্কায় সরকারি উন্নয়ন কর্মসূচি বাস্তবায়নে ধীরগতি চলছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা ।

টিউলিপ সিদ্দিক তার পরিবারের বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে সম্ভাব্য সুনামের ঝুঁকি সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন ছিলেন না , যা ‘ দুঃখজনক ‘ ।

আইনসিদ্ধ উপায় ব্যতীত আমার কোনো সম্পদ এসেছে , এমনটি বলার কোনো প্রমাণ নেই : পদত্যাগ পত্রে টিউলিপ ।

খালা বাংলাদেশের ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের দেওয়া একাধিক সম্পত্তিতে বসবাসসহ বেশ কিছু অভিযোগে সমালোচনার মুখে ছিলেন টিউলিপ সিদ্দিক । গতকাল যুক্তরাজ্যের সিটি মিনিস্টারের পদ থেকে পদত্যাগ করে প্রধানমন্ত্রী স্যার কিয়ার স্টারমারকে পাঠানো পদত্যাগপত্রে লিখেছেন ” … আপনি জেনেছেন , আমার অনুরোধের পরিপ্রেক্ষিতে পুরো বিষয়ের বিস্তারিত পর্যালোচনা করে (মন্ত্রিত্বের মানদণ্ডবিষয়ক আপনার স্বাধীন উপদেষ্টা) স্যার লাউরি নিশ্চিত করেছেন যে আমি মন্ত্রিত্বের বিধি (মিনিস্ট্রিয়াল কোড) লঙ্ঘন করিনি ।

তিনি উল্লেখ করেছেন , এমনটি বলার কোনো প্রমাণ নেই যে আমার যে সম্পদ রয়েছে বা যেখানে আমি বসবাস করেছি , সে বিষয়ে আমি অনুচিত কিছু করেছি । তা ছাড়া আইনসিদ্ধ উপায় ব্যতীত আমার কোনো সম্পদ এসেছে , এমনটি বলার কোনো প্রমাণও নেই । … তা সত্ত্বেও এটা স্পষ্ট যে অর্থ মন্ত্রণালয়ে ইকোনমিক সেক্রেটারি হিসেবে আমার দায়িত্ব চালিয়ে যাওয়াটা সরকারের কর্মকাণ্ড থেকে মনোযোগ ভিন্ন দিকে প্রবাহিত করতে পারে। …সুতরাং আমি আমার মন্ত্রিত্বের পদ থেকে পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছি । টিউলিপ সিদ্দিকের বিরুদ্ধে স্যার কিয়ার স্টারমারের মন্ত্রীসভার আচরণবিধি অনুযায়ী মূল্যায়ন করেন স্যার লরি ম্যাগনাস ।

লরি ম্যাগনাস জানান , সরকারের দুর্নীতি প্রতিরোধ মন্ত্রী মন্ত্রীসভার নীতিমালা লঙ্ঘন করেছেন এমন কোনো প্রমাণ তিনি পাননি , তবে তাকে পুরোপুরি নির্দোষ ঘোষণা করাও সম্ভব নয় । তিনি বলেন , টিউলিপ সিদ্দিক তার পরিবারের বাংলাদেশের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্কের কারণে সম্ভাব্য সুনামের ঝুঁকি সম্পর্কে যথেষ্ট সচেতন ছিলেন না , যা ‘দুঃখজনক’ । ‘আমি এই ত্রুটিকে মন্ত্রীসভার নীতিমালা ভঙ্গ হিসেবে বিবেচনার পরামর্শ দিচ্ছি না , তবে আপনি এই পরিস্থিতিতে তার দায়িত্ব পালনের বিষয়টি পুনর্বিবেচনা করতে চাইতে পারেন ,’ ম্যাগনাস উল্লেখ করেন ।

এই প্রতিবেদনের ছয় মাস আগেও ভোটারদের কাছে ‘নৈতিক সরকার’ এর প্রতিশ্রুতি দেওয়া স্যার কিয়ার স্টারমারকে শেষমেশ কঠিন পথেই হাটতে বাধ্য হতে হয় । নিজের ঘনিষ্ঠ সহকর্মী ও ব্যক্তিগত বন্ধুর সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করা ছাড়া কোনো বিকল্প ছিল না তার কাছে।

সাম্য , মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার ; এই তিনটিকে সংবিধানের মূলনীতি করার সুপারিশ করবে কমিশন ।

সংবিধান সংস্কার কমিশনের খসড়া , সংসদ হবে দুই কক্ষের , সংবিধানের মূলনীতি পরিবর্তনের প্রস্তাব ।

জাতীয় সংসদ দ্বিকক্ষবিশিষ্ট করার সুপারিশ করতে যাচ্ছে সংবিধান সংস্কার কমিশন । খসড়া প্রস্তাব অনুযায়ী , সংসদের নিম্নকক্ষে আসন থাকবে ৪০০ , নির্বাচন হবে বর্তমান পদ্ধতিতে । এর মধ্যে ১০০ আসন নারীদের জন্য সংরক্ষিত থাকবে । তারা নির্বাচিত হবেন সরাসরি ভোটে । আর উচ্চকক্ষে আসন থাকবে ১০৫টি । নির্বাচন হবে আনুপাতিক পদ্ধতিতে । সংসদের দুই কক্ষ মিলিয়ে মোট আসন হবে ৫০৫টি । সমাজের পিছিয়ে পড়া বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতে রাষ্ট্রপতির হাতে উচ্চকক্ষের ৫টি আসনে মনোনয়ন দেওয়ার প্রস্তাব করা হচ্ছে ।

বাকি ১০০ টি আসনে নির্বাচন আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতিতে হবে । দলগুলো নির্বাচনে সারা দেশে যত ভোট পাবে তার অনুপাতে উচ্চকক্ষে আসন পাবে । দলগুলো উচ্চকক্ষে প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রে যাতে বিভিন্ন অংশের প্রতিনিধিত্ব রাখে , সেটাও উল্লেখ থাকবে । সংবিধান সংস্কার কমিশন সূত্র জানায় , তাদের যেসব সুপারিশ থাকবে , তার অন্যতম লক্ষ্য হবে গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করা এবং সাংবিধানিক একনায়কতন্ত্র ঠেকানো । এ জন্য ক্ষমতার বিকেন্দ্রীকরণের ওপর জোর দেওয়া হবে , যাতে এক ব্যক্তির হাতে ক্ষমতা কেন্দ্রীভূত হওয়ার সুযোগ না থাকে ।

এ লক্ষ্যে দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদ করা ; একজন ব্যক্তি সর্বোচ্চ কয়টি মেয়াদে প্রধানমন্ত্রী হতে পারবেন , তা নির্দিষ্ট করে দেওয়া ; প্রধানমন্ত্রী একই সঙ্গে দলীয় প্রধান ও সংসদ নেতা যাতে না হন , এমন বিধান ; নির্বাহী বিভাগের জবাবদিহি নিশ্চিত করা ; নির্বাচনকালীন অন্তর্বর্তী সরকারের বিধান ; প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য আনা ; নির্বাহী বিভাগ , আইন সভা ও বিচার বিভাগের মধ্যে ক্ষমতার ভারসাম্য ; বিচার বিভাগের স্বাধীনতা নিশ্চিত করা এসব বিষয়ে গুরুত্ব দিচ্ছে কমিশন ।

এ ছাড়া সংবিধানের মূলনীতিতে পরিবর্তন আনার সুপারিশও করা হচ্ছে । ‘সাম্য , মানবিক মর্যাদা ও সামাজিক সুবিচার’ – এই তিনটিকে সংবিধানের মূলনীতি করার সুপারিশ করবে কমিশন । এই তিনটির পাশাপাশি আরও দুটি মূলনীতিও যোগ করা হতে পারে ।
আগামীকাল বুধবার অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে প্রতিবেদন জমা দেবে ।