… আদিবাসী পরিচয়ের খুব ঘনিষ্ঠ ইনডিজেনাস পিপলস এবং এর সর্বজনীন সংজ্ঞায়ন হয় না ।
“জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি) মাধ্যমিক স্তরের নবম-দশম শ্রেণির বাংলা ভাষার ব্যাকরণ ও নির্মিতি বইয়ের মলাটের পেছনে গণঅভ্যুত্থানের একটি গ্রাফিতি ব্যবহার করেছিল। ঐ গ্রাফিতিতে পাঁচটি সতেজ পাতাসহ গাছের ছবি আছে। একেকটি পাতা একেকটি সামাজিক, ধর্মীয়, জাতিগত পরিচয় বহন করছে : মুসলিম, বৌদ্ধ, খ্রিষ্টান, হিন্দু ও আদিবাসী। নিচে লেখা আছে ‘পাতা ছেঁড়া নিষেধ’। গণঅভ্যুত্থানের মূল আওয়াজ ‘ইনক্লুশন’ এতে স্পষ্ট।
… গণঅভ্যুত্থানের গ্রাফিতির মধ্য দিয়ে সমাজের সর্বস্তরের সর্বজনের মুক্তির যে আকাঙ্ক্ষা উচ্চারিত হয়েছে, গায়ের জোরে তা বদলে ফেলা কর্তৃত্ববাদকেই পুনঃস্থাপনের প্রবণতাকে উস্কে দেয়। আদিবাসী জীবন জনপদ বিভিন্নভাবে বিমর্ষ, প্রান্তিক ও অধিকারহীন। পাশাপাশি রাষ্ট্র ও সমাজের জাতিভিমানী ও কর্তৃত্ববাদী প্রবণতা আদিবাসী পরিসরকে আরও সংকুচিত ও রক্তাক্ত করে তোলে।
… ‘আদিবাসী’ ও ‘আদিবাসিন্দা’ শব্দ দুটি উচ্চারণের কারণে বহুজনের কাছে সমার্থক মনে হলেও এগুলো সম্পূর্ণ পৃথক অর্থ বহন করে। বাঙালি জাতি অবশ্যই বাংলা ভূখণ্ডের আদিবাসিন্দা। বহু আদিবাসী জাতিও এই ভূখণ্ডের বহু অঞ্চলের আদিবাসিন্দা। কিন্তু বাঙালিরা আদিবাসী নন। ঠিক যেমনভাবে বহু আদিবাসী বহু অঞ্চলের আদিবাসিন্দা নন। প্রান্তিক জাতিসত্তাগুলো নিজেদের একক সামাজিক বর্গ পরিচয় হিসেবে এই প্রত্যয়টি বহু আগে থেকেই ব্যবহার করছে।
আদিবাসী পরিচয়ের খুব ঘনিষ্ঠ ইনডিজেনাস পিপলস এবং এর সর্বজনীন সংজ্ঞায়ন হয় না। জাতিরাষ্ট্র গঠনের আগে থেকে যেসব সমাজ প্রথাগত আইনে পরিচালিত হয় এবং নিজস্ব ভাষা, দর্শন, মূল্যবোধ, সংস্কৃতি আত্মপরিচয়ের মাধ্যম হিসেবে মানে, তারাই ‘আদিবাসী’ প্রত্যয়টি ব্যবহার করে। আত্মপরিচয়ের এই মর্যাদা রাষ্ট্র থেকে জাতিসংঘ সর্বত্র স্বীকৃত।”


