Home Blog Page 212

অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে দেওয়া প্রতিবেদন প্রত্যাহার করেছেন যুক্তরাজ্যের এমপিরা !

গার্ডিয়ান এর রিপোর্ট বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকারের সমালোচনা করে যুক্তরাজ্যের একদল এমপির দেওয়া প্রতিবেদনটি প্রত্যাহার করা হয়েছে।ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের পক্ষ নিয়ে ওই প্রতিবেদন তৈরি করা হয়েছে বলে অভিযোগ ওঠার পর এই পদক্ষেপ নিয়েছেন তাঁরা।
যুক্তরাজ্যের কমনওয়েলথ বিষয়ক অল পার্টি পার্লামেন্টারি গ্রুপ (এএপিজি) গত নভেম্বরে ওই প্রতিবেদন দেয়। ওই প্রতিবেদনে উল্লেখিত অনেক তথ্য সঠিক নয় বলে অভিযোগ উঠেছে।

যুক্তরাজ্য সরকারের কর্মকর্তারা বলেছেন, হাউস অব কমন্সে একজন এমপি অভিযোগ দেয়ার পর ওই প্রতিবেদন আর বিতরণ করা হচ্ছে না। এক মুখপাত্র বলেন, প্রতিবেদনটি পর্যালোচনার আওতায় একটি অভ্যন্তরীণ নথি হিসেবে রয়েছে। গত নভেম্বরে ‘বাংলাদেশে চলমান পরিস্থিতি’ শীর্ষক এই প্রতিবেদনে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের সরকারের বিরুদ্ধে ‘আইনকে রাজনৈতিক হাতিয়ার’ হিসেবে ব্যবহার এবং ‘উগ্রপন্থী ইসলামিস্টদের’ পৃষ্ঠপোষকতা করার অভিযোগ করা হয়, যেটি মূলত দিল্লিভিত্তিক রাইটস অ্যান্ড রিস্ক অ্যানালাইসিস গ্রুপের তথ্য-প্রমাণের ওপর ভিত্তি করে লেখা।

গাজার ধ্বংসস্তূপ : অবিস্ফোরিত বোমা সরাতে যাবে এক দশক

জাতিসংঘের বরাত দিয়ে আল জাজিরা ও আই নিউজের প্রতিবেদন বলছে, গাজা থেকে চার কোটি ২০ লাখ টনের বেশি ধ্বংসাবশেষ সরাতে হবে। এতে সময় লাগবে ১০ বছর; আর অর্থ লাগবে প্রায় ৭০ কোটি ডলার। এনভায়রনমেন্টাল কোয়ালিটি অথরিটি অব প্যালেস্টাইনের বরাতে আল জাজিরা বলছে, গাজায় অন্তত ৮৫ হাজার টন বোমা ফেলেছে ইসরায়েলি বাহিনী। এর মধ্যে অনেক বোমাই ধ্বংসস্তূপের নিচে অবিস্ফোরিত অবস্থায় চাপা পড়ে আছে।

অবিস্ফোরিত বোমা অপসারণের কাজ করে যুক্তরাজ্যভিত্তিক প্রতিষ্ঠান ‘মাইন অ্যাড ভাইজরি গ্রুপ’ (এমএজি)। প্রতিষ্ঠানটির পরিচালক গ্রেগ ক্রোদার এসব বোমায় হতাহতের ঝুঁকির কথা তুলে ধরে বলেন, “অনেকেই আছেন, যারা যথাযথ পুনর্গঠন প্রক্রিয়ার জন্য অপেক্ষা করবেন না।”
এমন আশঙ্কার ব্যাখ্যায় তিনি ২০০৮ সালের উদাহরণ তুলে ধরেন। বলেন, ওই সময় গাজায় চার সপ্তাহ যুদ্ধ চলে। যুদ্ধ শেষ হওয়ার পরবর্তী দুই বছর অবিস্ফোরিত বোমার মাধ্যমে তিন শতাধিক দুর্ঘটনা ঘটে।

অবিস্ফোরিত বোমার ধারণা দিতে গিয়ে এই বিশেষজ্ঞ বলেন, “বিস্ফোরিত না হওয়ার ঘটনা সাধারণত শহর অঞ্চলেই বেশি ঘটে। গাজায় সেটা ১০ থেকে ৩০ শতাংশ হতে পারে। তবে এটি মূলত নির্ভর করে বোমার ধরনের ওপর।” বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব বোমা নিষ্ক্রিয় কিংবা অপসারণ করা বেশ জটিল। কারণ এতে অনেক ব্যয়বহুল যন্ত্রপাতি এবং দক্ষ লোকবল প্রয়োজন। কোটি কোটি ডলার ব্যয় করতে হবে। এছাড়া ইসরায়েলের কাছ থেকে অনুমোদন নিতে হবে; আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের কাছ থেকে তহবিলও পেতে হবে।

গাজায় যুদ্ধবিরতি ‘এ কেমন শান্তি’ হাসান ফেরদৌস , নিউইয়র্ক

যে প্রস্তাবের ভিত্তিতে এখন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলো, অবিকল সেই চুক্তি গত বছরের মে মাসে প্রেসিডেন্ট বাইডেন ঢাকঢোল পিটিয়ে উপস্থিত করেছিলেন। একই প্রস্তাব জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তিনি পাস করিয়েও নিয়েছিলেন। নেতানিয়াহু তাতে কান দেননি।

৪৬৫ দিনের একতরফা যুদ্ধ শেষে গাজা ভূখণ্ডে যুদ্ধবিরতি হতে যাচ্ছে। গাজায় নেমেছে কবরের নীরবতা। নিউইয়র্ক টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গাজার বাসিন্দা আহমদ আল মাশরাভি বলেছেন, ‘এ কেমন শান্তি? মাথার ওপর নিরাপদ আচ্ছাদন নেই। ঘরে খাবার নেই, সুপেয় পানি নেই, আমার সন্তানেরা ক্ষুধায় কাতরাচ্ছে। চারদিকে কেবলই ধ্বংস আর ধ্বংস। আপনি একে শান্তি বলেন?’ তারপরও গাজার ফিলিস্তিনবাসী ১৫ মাসের নৃশংসতার পর অর্জিত যুদ্ধবিরতিকে স্বাগত জানিয়েছে। তিন ধাপের সেই যুদ্ধবিরতির প্রথম দিন আজ রোববার। তবে কত দিন তা টেকে, সন্দেহ রয়েছে।

মার্কিন চাপের মুখে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু তাঁর মন্ত্রিসভার কট্টরপন্থীদের চাপ অগ্রাহ্য করে যুদ্ধবিরতি অনুমোদন করিয়ে নিয়েছেন। কিন্তু তা শুধু প্রথম ধাপ বা প্রথম ৪২ দিনের জন্য। সামান্য যেকোনো অজুহাতে ইসরায়েল হামাসকে চুক্তিভঙ্গের অভিযোগে যুদ্ধবিরতি বাতিল করতে পারে। আবার শুরু হতে পারে নির্বিচার বোমাবর্ষণ। অভ্যন্তরীণ আপত্তি অগ্রাহ্য করে নেতানিয়াহু যে যুদ্ধবিরতি চুক্তি কার্যকরণে সক্ষম হলেন, তার জন্য বাহবা ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রাপ্য। পরবর্তী মার্কিন প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছিলেন, ২০ জানুয়ারি তার শপথ গ্রহণের আগেই গাজা থেকে জিম্মিদের ফিরিয়ে আনতে হবে, অন্যথা মধ্যপ্রাচ্যে আগুন জ্বলবে।

যে প্রস্তাবের ভিত্তিতে এখন যুদ্ধবিরতি কার্যকর হলো, অবিকল সেই চুক্তি গত বছরের মে মাসে প্রেসিডেন্ট বাইডেন ঢাকঢোল পিটিয়ে উপস্থিত করেছিলেন। একই প্রস্তাব জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে তিনি পাস করিয়েও নিয়েছিলেন। নেতানিয়াহু তাতে কান দেননি। এবার সেই একই প্রস্তাব তিনি মেনে নিয়েছেন দুই কারণে। প্রথমত, তাঁর কৌশলগত লক্ষ্য বহুলাংশে অর্জিত হয়েছে, হামাস ও হিজবুল্লাহ সামরিকভাবে পরাস্ত হয়েছে। অন্য কারণ, ট্রাম্পের দাবি মেনে নিয়েছেন, এমন একটি ভাব করে তিনি শুধু যে মার্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার বন্ধুত্ব আরও পোক্ত করলেন, তা-ই নয়, এ অঞ্চলে তাঁর অনর্জিত কৌশলগত স্বার্থ আদায়ের পথ প্রশস্ত করে রাখলেন। গাজার পর তার লক্ষ্য ইরানের সামরিক স্থাপনা ও সিরিয়ায় ইসরায়েলি সামরিক উপস্থিতি।

কোনো কোনো বিশেষজ্ঞের ধারণা, গাজা যুদ্ধের একটি সম্ভাব্য পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হতে পারে ফিলিস্তিনের পূর্ণ স্বাধীনতা প্রশ্নে ‘টু স্টেট সলিউশন’ (দুই রাষ্ট্র সমাধান) নিয়ে আবার আলাপ-আলোচনার শুরু। কিন্তু বাস্তবতা সেই সম্ভাবনা বাস্তবায়নের ইঙ্গিত দেয় না। ট্রাম্প নিজে এবং তাঁর প্রস্তাবিত মন্ত্রিসভার প্রত্যেকে ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র। মাইক হাকাবি, যাকে তিনি ইসরায়েলে পরবর্তী মার্কিন রাষ্ট্রদূত মনোনীত করেছেন। তিনি বিশ্বাস করেন, পুরো ফিলিস্তিনের ওপরেই ইসরায়েলের পূর্ণ অধিকার রয়েছে।

হামাসের সম্ভাব্য বিকল্প হতে পারে পশ্চিম তীরের ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ। অথচ নেতানিয়াহু নিজে সুপরিকল্পিতভাবে তাদের কাজ করার ক্ষমতা খর্ব করেছেন। পাশাপাশি আন্তর্জাতিক আইন ভেঙে পশ্চিম তীরে অবৈধ ইহুদি বসতি তিনি বাড়িয়েই চলেছেন। আরব দেশগুলো ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র গঠনের জন্য চাপ সৃষ্টি করতে পারত, কিন্তু তাদের কেউই এ ব্যাপারে কোনো আগ্রহ দেখাচ্ছে না। বরং উল্টো, মার্কিন প্রশাসনের উৎসাহ ও উদ্যোগে তারা ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিকীকরণে অধিক আগ্রহী।

সরকারের মনোযোগ নেই অর্থনৈতিক সংস্কারে

জ্বালানি নিয়ে সামনের গরমে কি হবে তা নিয়ে শঙ্কায় আছি। সামনের বাজেটের কাঠামোর ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আমনের সংগ্রহ অভিযানে দুর্নীতি রয়ে গেছে। ফলে খাদ্য নিরাপত্তা এখনও হুমকিতে রয়েছে।

‘অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে প্রাতিষ্ঠানিক ও প্রশাসনিক সেক্টর বেশি মনোযোগ পেলেও অর্থনৈতিক সংস্কারে কোনো মনোযোগ নেই। সরকারের এই মূহুর্তে বিচ্ছিন্ন পদক্ষেপের বাইরে তেমন কোনো অর্থনৈতিক মেনিফেস্টো নেই। অনেকেই বলছেন, অর্থনীতির ক্ষেত্রে এই সরকার আগের সরকারের মতোই কাজ করছে। প্রত্যক্ষ কর না বাড়িয়ে অবিবেচকভাবে ভ্যাট বাড়ানো হয়েছে।’ ১৮ জানুয়ারি রাজধানীর বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে ‘শ্বেতপত্র ও অতঃপর: অর্থনৈতিক ব্যবস্থাপনা, সংস্কার ও জাতীয় বাজেট’ শীর্ষক সিম্পোজিয়ামে এসব কথা বলেছেন শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রধান ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।

তিনি বলেন, ‘জ্বালানি নিয়ে সামনের গরমে কি হবে তা নিয়ে শঙ্কায় আছি। সামনের বাজেটের কাঠামোর ব্যয় নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। আমনের সংগ্রহ অভিযানে দুর্নীতি রয়ে গেছে। ফলে খাদ্য নিরাপত্তা এখনও হুমকিতে রয়েছে। কৃষক তার ফসলের মূল্য পাচ্ছেন না। বাংলাদেশ ব্যাংকের সংস্কার কাজের প্রশংসা করলেও চলমান পদক্ষেপ নিয়ে নানা প্রশ্ন রয়েছে। সামাজিক সুরক্ষা নিয়ে অস্থিরতা চলছে।’ সামস্টিক অর্থনীতির স্থিতিশীলতা বজায় রাখা, কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি, দারিদ্র্য বিমোচন ও সামাজিক সুরক্ষার প্রতি নজর বাড়াতে আহ্বান জানান দেবপ্রিয়। তিনি বলেন, এগুলো নিশ্চিত করতে না পারলে যারা সংস্কারকে গতিশীল করতে চান, তাঁরা ধৈর্যহারা হয়ে যাবেন।

এই সরকার কী ধরনের অর্থনৈতিক উত্তরাধিকার রেখে যাবে, সেই প্রশ্ন তুলে এই অর্থনীতিবিদ বলেন, ‘সুষম অন্তর্ভুক্তিমূলক, টেকসই অর্থনীতি গড়ে তুলতে যে ধরনের প্রশাসনিক কাঠামো বা সংস্কার দরকার, সে রকমের কোনো রূপরেখা আমরা দেখলাম না।’ অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ রেহমান সোবহান বলেন দেশের অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জগুলো, যেগুলো অনেক দিন ধরে চলমান, এখন এতটাই প্রতিষ্ঠিত যে এগুলোর সমাধান করতে হলে দীর্ঘমেয়াদি এবং কাঠামোগত সংস্কার প্রয়োজন।

তিনি বলেন অন্তর্বর্তী সরকারকে যে সমস্যাগুলোর মুখোমুখি হতে হচ্ছে, যেমন কম ট্যাক্স-টু-জিডিপি অনুপাত, রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ, দুর্নীতি, ঋণ ব্যবস্থাপনা ও অপর্যাপ্ত আর্থিক খাত, সেগুলো নতুন কিছু নয়। সিস্টেমিক সমস্যা, দুর্বল শাসনব্যবস্থা এবং রাজনৈতিক পৃষ্ঠপোষকতার কারণে এক ধরনের ক্রনি ক্যাপিটালিজমের সৃষ্টি হয়েছে, যেখানে ব্যবসায়ীরা অতিরিক্ত ঋণ নিয়ে সময়মতো পরিশোধ না করার ফলে অর্থনীতির ক্ষতি হচ্ছে।তার মতে, অন্তর্বর্তী সরকারকে দেশের অর্থনৈতিক সমস্যাগুলোর সমাধানে সম্ভাব্য সমাধান চিহ্নিত করতে হবে, যাতে নির্বাচিত সরকার এগুলোর বাস্তবায়নে রাজনৈতিক ইচ্ছাশক্তি প্রদর্শন করতে পারে।

সিম্পোজিয়ামে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘যারা ঋণখেলাপি এবং দেশের টাকা পাচার করেছে, তারা যেন কোনোভাবেই নমিনেশন না পান, আমরা সে চেষ্টাই করব। আমরা সংস্কারের বিষয়ে দুই বছর আগেই বলেছি। এজন্য ৩১ দফা আমরা দিয়েছি।অর্থনৈতিক সংস্কার ও রাজনৈতিক সংস্কার। আমরা রাজনৈতিক সংস্কারে বেশি গুরুত্ব দিতে চাই। অনেকে এই গণঅভ্যুত্থানকে বিপ্লবের সঙ্গে তুলনা করেন। আমি বলব, এটা গণঅভ্যুত্থান। এজন্য আমরা রাজনৈতিক সংস্কারের কথা বলছি।

বিএনপি মহাসচিব আরও বলেন, ‘টাকা পাচারকারীরা ও বিদ্যুৎ প্রকল্প যারা করেছে তারাই নির্বাচনে অর্থায়ন করবে। সেগুলো থাকবেই। আমাদের চেষ্টা করতে হবে এসব থেকে বেরিয়ে আসার। জনগণকে সঙ্গে নিয়ে আমরা চেষ্টা করব যতটুকু সামনে এগিয়ে যাওয়া যায়।’ সানেম নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হান বলেন, ‘রাজনৈতিক অর্থনীতির সমস্যাগুলো গত পাঁচ দশকের অধিক সময় ধরেই ছিল। দেড় দশকে সমস্যাগুলো অনেক জটিল হয়েছে, অনেক গভীর হয়েছে। নতুন করে অনেক সমস্যার সৃষ্টি হয়েছে।’

সেলিম রায়হান বলেন, শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির প্রতিবেদন জমা হওয়ার দেড় মাস পার হলেও সুপারিশ বাস্তবায়নে সরকার কিছুই করেনি। শ্বেতপত্র নিয়ে বিস্তারিত আলোচনাও হয়নি। সিপিডির ফেলো ড. মুস্তাফিজুর রহমান বলেন, ‘সাতটি মেগা প্রজেক্ট রিভিউ করতে গিয়ে দেখা গেছে, ১৮ হাজার টাকার বাজেট ১৮ লাখে উন্নীত করা হয়েছে। এসব প্রজেক্ট ঋণের টাকায় করা হয়েছে। এসব ঋণের চাপ আমাদের ও আগামী প্রজন্মের ওপর পড়েছে। বিভিন্ন চ্যানেলে এসব টাকা পাচার হয়েছে। সেগুলো কীভাবে ফেরত আনা যায়, তা নিয়ে কাজ করতে হবে।’

আলোচনায় অংশ নিয়ে অধ্যাপক আনু মুহাম্মদ বলেন, সাবেক সরকারকে সমর্থন দেওয়া আমলাতন্ত্রের গঠনমূলক পরিবর্তন ছাড়া ভবিষ্যতে কোনো উন্নয়ন সম্ভব নয়। দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতি খুবই নাজুক অবস্থার মধ্যে রয়েছে মন্তব্য করে এপেক্স ফুটওয়‍্যারের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) সৈয়দ নাসিম মঞ্জুর বলেন, ‘গত ৩৪ বছরের ব্যবসা জীবনে বাংলাদেশের ব্যবসায় এমন টানাপোড়েন কোনোদিন দেখিনি। এ অবস্থা চলতে থাকলে বিনিয়োেগ অন্য দেশে চলে যাবে। আমাদের প্রোডাকটিভিটি বাড়াতে হবে, বিদ্যুৎ গ্যাসের দাম কমানো প্রয়োজন’।

শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘গোপন রাজনীতি’ নিষিদ্ধের দাবি ছাত্রদলের

জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব ছাত্রসংগঠন ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রাম করেছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, শুধু ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য কেউ না কেউ ওই ঐক্যকে বিনষ্ট করছে।

দেশের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে ‘আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতি’ (গোপন ছাত্ররাজনীতি) নিষিদ্ধের দাবি তুলেছে ছাত্রদল। তারা বলছে, বাংলাদেশে আর আন্ডারগ্রাউন্ড রাজনীতির কোনো বাস্তবতা নেই। তারপরও কোনো ছাত্রসংগঠন এ ধরনের কর্মকাণ্ডে লিপ্ত থাকলে মনে করা হবে, তারা একাত্তরের মতো আবারও বড় কোনো ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছে। ১৮ জানুয়ারি ছাত্রদলের ‘মার্চ ফর জাস্টিস’ শীর্ষক কর্মসূচিতে মিছিল পরবর্তী সমাবেশে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে এসব কথা বলেন নেতারা।

ভবিষ্যতে ফ্যাসিবাদের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে দেশের সব ক্যাম্পাসে সহাবস্থান বজায় রেখে ছাত্ররাজনীতি অব্যাহত থাকবে, এই প্রত্যাশা করেন ছাত্রদলের সভাপতি। তিনি বলেন, জুলাই-আগস্টে গণঅভ্যুত্থানে ফ্যাসিবাদবিরোধী সব ছাত্রসংগঠন ঐক্যবদ্ধভাবে সংগ্রাম করেছে। কিন্তু এখন দেখা যাচ্ছে, শুধু ক্ষমতা পাকাপোক্ত করার জন্য কেউ না কেউ ওই ঐক্যকে বিনষ্ট করছে।

বিএনপির কড়া সমালোচনা করলেন চরমোনাই পীর

বিএনপির দ্রুত নির্বাচনের দাবিকে ভালো চোখে দেখছেন না ইসলামী আন্দোলনের আমির , চরমোনাইয়ের পীর মুফতি সৈয়দ মোহাম্মদ রেজাউল করিম ; সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতির বিরোধিতা করার কারণেও বিএনপির সমালোচনা করেছেন তিনি । ১৭ জানুয়ারি রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে ইসলামী আন্দোলনের যুব সংগঠন ‘ইসলামী যুব আন্দোলনের’ কনভেনশনে বিএনপি নেতাদের উদ্দেশ্য করে রেজাউল করিম বলেন , “আপনারা মনে করেন আপনারা অনেক তালগাছ হয়ে গেছেন। আসলে আপনাদের পায়ের নিচে মাটি নাই ।”

“আপনাদের পায়ের নিচে মাটি সরে গেছে । এখন বাংলাদেশে এই চাঁদাবাজদের , এই দখলকারী , খুনীদের বাংলাদেশের মানুষ দেখতে চায় না। পরিবর্তন করতে হবে ।” বিএনপি আওয়ামী লীগকেও নির্বাচনে চায় এমন ইংগিত করে ইসলামী আন্দোলনের আমির বলেন , “এখনো মায়ের কান্না শেষ হয়নি । আর আপনারা তাদের নির্বাচনে আহ্বান করবেন । তাদের নিয়ে এসে ক্ষমতা দখল করবেন । এই ধোঁকাবাজি জনগণ বুঝে গেছে ।ভারতের আচরণে আমরা বন্ধুত্ব পাইনি । আর আপনারা তাদের দোসরদের খুশি করবেন ।”

চরমোনাই পীর বলেন , “এখন পরিবর্তনের সময় । গত ৫৩ বছরে এত সুন্দর ইসলামের পক্ষের পরিবেশ আর তৈরি হয়নি ।” একই সমাবেশে দলটির কেন্দ্রীয় নায়েবে আমির ও মুফতি রেজাউলের ভাই মুফতি সৈয়দ মুহাম্মাদ ফয়জুল করিম নারীদের জন্য সংরক্ষিত আসনের বিরোধিতা করেন । তিনি বলেন , “নারীদের জন্য সংরক্ষিত একশ আসন , এটা আমরা মানি না । আমরা তো কোটার বিরুদ্ধে আন্দোলন করেছিলাম ।তাহলে এখানে মহিলাদের জন্য যদি কোটা রাখা হয় , তাহলে বলতে হবে আন্দোলন সাকসেস হয়নি । নারীদের জন্য কোনো কোটা থাকবে না ।”

মুফতি ফয়জুল করিম বলেন , “৫ অগাস্টের পরে আবারও চাঁদাবাজি দখলবাজি । বাংলাদেশের মানুষ চাঁদাবাজি দুর্নীতি দেখতে চায় না । যারা ৫ বার বাংলাদেশকে দুর্নীতিতে চ্যাম্পিয়ন করেছে , জনগণ তাদের আর ক্ষমতায় দেখতে চায় না । বাংলাদেশের মানুষ ইসলামকে চায় । যারা খাঁটি ইসলাম , মদিনার ইসলামের চর্চা করে ।”

ধর্মনিরপেক্ষতার বদলে বহুত্ববাদ : কে কী বলছেন

১৯৮৮ সালের পর রাষ্ট্রধর্মের বিষয়ে ব্যাপক বিরোধিতা কখনোই দেখা যায়নি ।

বাংলাদেশের সংবিধান সংস্কারে গঠিত কমিশনের সুপারিশগুলোর মধ্যে সংবিধানের মূলনীতি পরিবর্তনের বিষয়টি নিয়ে আলোচনা ডালপালা মেলেছে । মূলনীতিগুলোর মধ্যে বিশেষ করে ধর্মনিরপেক্ষতা বাতিল এবং বহুত্ববাদ অন্তর্ভুক্তির বিষয়টির পাশাপাশি ‘রাষ্ট্রধর্ম’ নিয়ে সামাজিক মাধ্যমে অনেকে কৌতূহল প্রকাশ করেছেন । সংবিধান সংস্কার কমিশন সাম্য , মানবিক মর্যাদা , সামাজিক সুবিচার , বহুত্ববাদ এবং গণতন্ত্রকে মূলনীতি হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করার সুপারিশ করেছে ।

‘বাংলাদেশ একটি বহুত্ববাদী, বহু-জাতি , বহু-ধর্ম , বহু-ভাষা ও বহু-সংস্কৃতির দেশ যেখানে সকল সম্প্রদায়ের সহাবস্থান ও যথাযথ মর্যাদা নিশ্চিত করা হবে ,’ এই বিধান অন্তর্ভুক্তির সুপারিশ করা হয়েছে কমিশনের তরফে । ‘বহুত্ববাদের মাধ্যমে ধর্মনিরপেক্ষতা বা সেক্যুলারিজমের চেয়ে বৃহত্তর মূল্যবোধ অন্তর্ভুক্ত করার কথা বলেছি আমরা । যেখানে দলিতদের জায়গা হবে , থার্ড জেন্ডার , এথনিক মাইনরিটি (জাতিগত সংখ্যালঘু) , রিলিজিয়াস মাইনরিটি (ধর্মীয় সংখ্যালঘু) সবার জায়গা হবে ।’ বিবিসি বাংলাকে বলেন সংস্কার কমিশন প্রধান অধ্যাপক আলী রীয়াজ ।

কেবল ধর্মীয় বা সাম্প্রদায়িক পরিচয়ের নয় বাংলাদেশের সব বর্গের মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করতেই ‘বহুত্ববাদ’ বেছে নেয়া হয়েছে বলে দাবি তার । বাংলাদেশ হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান ঐক্য পরিষদের সভাপতিমণ্ডলীর সদস্য কাজল দেবনাথ বিবিসি বাংলাকে বলেন , ৫৩ বছর ধরে ধর্মনিরপেক্ষতা সংবিধানে আছে কিন্তু এর তেমন কোনো কার্যকারিতা নেই । তবুও , মূলনীতিতে ধর্মনিরপেক্ষতার উপস্থিতি একটি ‘রক্ষাকবচ’ ও ‘শক্তি’ হিসেবে কাজ করে বলে অভিমত তার ।

অন্যদিকে , ধর্মনিরপেক্ষতার তুলনায় বহুত্ববাদকে অনেক বড় ‘ক্যানভাস’ বলে মানছেন তিনি । ‘তবে মুখের কথা বললেই তো হবে না । যেদিন প্রস্তাবনা দিল , সেদিনই আদিবাসী সদস্যদের ওপর হামলার ঘটনা ঘটলো । পরালিজম কী হতে পারে তার প্রমাণ পাওয়া গেলো । এই বহুত্ববাদ একটি আইওয়াশ (ধোঁকা) ,’ বিবিসি বাংলাকে বলেন কাজল দেবনাথ । বহুত্ববাদকে প্রাধান্য দেয়া প্রস্তাবের ক্ষেত্রে রাষ্ট্রধর্মের বিষয়টি নিয়ে সংস্কার কমিশনে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না এমন প্রশ্নে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন , তারা রাষ্ট্রধর্ম নিয়ে আলোচনা করেছেন ।

‘কিন্তু , ১৯৮৮ সালের পর রাষ্ট্রধর্মের বিষয়ে ব্যাপক বিরোধিতা কখনোই দেখা যায়নি । আমরা যেসব রাজনৈতিক দল ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনা করেছি তাদের প্রায় কেউই এ বিষয়ে কোনো আপত্তি জানায়নি ,’ বলছিলেন অধ্যাপক রীয়াজ । ‘হাজার হাজার লোক বলছে এটা রাখতে হবে । অর্থাৎ এর পক্ষে জনমত আছে । আমরা এই ফ্যাক্টগুলো বিবেচনায় নিয়েছি ,’ যোগ করেন তিনি।


রাজনৈতিক দলের ভেতরে গণতন্ত্র চর্চা ও আর্থিক স্বচ্ছতা বাড়ানোর সুপারিশ

নির্বাচন সংস্কার কমিশন বলছে , নির্বাচনী ব্যয় প্রতি ভোটারের জন্য ১০ টাকা নির্ধারণ করা উচিত এবং এই ব্যয় ব্যাংকিং সিস্টেম বা মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে পরিচালনা করতে হবে ।

রাজনৈতিক দলের ভেতরে গণতন্ত্র চর্চা নিশ্চিত করতে এবং আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা ও সততা বাড়াতে আইন পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত দুই সংস্কার কমিশন । এর মধ্যে , নির্বাচন সংস্কার কমিশনের সুপারিশ হলো , দলের কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কমিটির নেতা নির্বাচন করা উচিত সাধারণ সদস্যদের গোপন ব্যালটে ভোটের মাধ্যমে । জাতীয় নির্বাচনের প্রার্থী মনোনয়নের ক্ষেত্রেও একইভাবে তিন সদস্যের প্যানেল গঠন করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে ।

রাজনৈতিক দলগুলোর তহবিলের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করার জন্য নির্বাচন আইনে পরিবর্তনের প্রস্তাব করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশন। রাজনৈতিক দলের সদস্যদের তালিকা ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা এবং বছরে একবার হালনাগাদ করার প্রস্তাবও দেওয়া হয়েছে নির্বাচন সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদনে । দলের সদস্যদের কাছ থেকে সর্বনিম্ন ১০০ টাকা সদস্য ফি এবং সর্বোচ্চ ৫০ লাখ টাকা অনুদান নেওয়া যাবে । ব্যাংকিং চ্যানেলের মাধ্যমে এ অনুদান নিতে হবে এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির ট্যাক্স রিটার্নে তা প্রকাশ করতে হবে ।

রাজনৈতিক দলের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নিবন্ধিত দলগুলোর বার্ষিক আয়-ব্যয়ের প্রতিবেদন অডিটের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে । নির্বাচন সংস্কার কমিশন বলছে , নির্বাচনী ব্যয় প্রতি ভোটারের জন্য ১০ টাকা নির্ধারণ করা উচিত এবং এই ব্যয় ব্যাংকিং সিস্টেম বা মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে পরিচালনা করতে হবে । এতে বলা হয় , ইসিকে যথাযথভাবে এসব ব্যয় পর্যবেক্ষণ করতে হবে এবং প্রার্থী ও দলের নির্বাচনী ব্যয়ের হিসাব অডিট করা হবে । কোনো অসঙ্গতি পাওয়া গেলে জরিমানা আরোপ করা যেতে পারে ।

সংস্কার কমিশনের পরামর্শ , রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীদের অর্থায়ন এবং আয়-ব্যয়ের বিস্তারিত তথ্য জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত । জাতীয় রাজস্ব বোর্ড ও দুদকের সহায়তায় ইসি নির্বাচনী হলফনামায় প্রার্থীদের দেওয়া তথ্য যাচাই করবে এবং প্রয়োজনে যথাযথ ব্যবস্থা নিতে পারবে । সংস্কার কমিশনের প্রধান ইফতেখারুজ্জামান বলেন , ‘দুর্নীতি ও অনিয়মের সঙ্গে সম্পৃক্ত ব্যক্তিকে দলীয় পদ বা নির্বাচনে মনোনয়ন না দেয়ার বিষয়টি রাজনৈতিক দলগুলোর নিজস্ব বিবেচনার জন্য ছেড়েছি । আমরা শুধু দুর্নীতির দায়ে সাজাপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের কথা বলিনি , যারা চাঁদাবাজি দখলবাজির সঙ্গে যুক্ত তাদের কথাও বলেছি ।’


অতিরিক্ত উৎপাদন ও খরচ বৃদ্ধিতে মন্দার মুখে দেশের কাগজ শিল্প

দেশে বর্তমানে পেপারের চাহিদা ৯ লাখ টন হলেও উৎপাদন প্রায় ১৫ লাখ টন ।

অভ্যন্তরীণ চাহিদার তুলনায় প্রায় দ্বিগুণ উৎপাদন , বিক্রিতে মন্দা এবং উৎপাদন খরচ বাড়তে থাকায় এক সময়ের স্বয়ংসম্পূর্ণ কাগজ শিল্প এখন টিকে থাকার লড়াইয়ে নেমেছে । খরচ পোষাতে না পেরে বন্ধ হয়ে যাচ্ছে অনেক পেপার মিল । উদ্যোক্তারা জানান , এক সময়ে আমদানি নির্ভর পেপার শিল্পখাত বেসরকারি খাতের ব্যাপক বিনিয়োগে ২০০৯ সালের পরে স্বনির্ভরতা অর্জন করে । দেশের চাহিদা মিটিয়ে বাংলাদেশে উৎপাদিত পেপার ও পেপারজাত পণ্য প্রায় ৪০টি দেশে রপ্তানিও হয় ।

বাংলাদেশ পেপার মিলস অ্যাসোসিয়েশনের তথ্যমতে , দেশে বর্তমানে পেপারের চাহিদা ৯ লাখ টন হলেও উৎপাদন প্রায় ১৫ লাখ টন । টিকে পেপার প্রডাক্টস লিমিটেড কোম্পানির প্রকল্প পরিচালক মো. রেজাউল হক বলেন , ‘বাজার ও চাহিদা যাচাই না করে একের পর এক বিনিয়োগ ও কম দাম ও নিম্নমানের পণ্য বিক্রির প্রতিযোগিতার মাধ্যমে এই শিল্পে সংকট তৈরি হয় ।’ ‘প্রযুক্তির উৎকর্ষতায় পেপারভিত্তিক ডকুমেন্টেশন , ছাপা বইয়ের চাহিদা কমে যাওয়ায় বড় ধাক্কা খেয়েছে দেশের কাগজ শিল্প ,’ যোগ করেন তিনি ।

অ্যাসোসিয়েশনের দেওয়া তথ্য মতে , বিগত কয়েক বছরে কাগজ খাতের ১২টি বড় মিল এবং মাঝারি ও ছোট আকারের ৪৭টি মিল বন্ধ হয়ে গেছে । কাগজশিল্পের প্রধান কাঁচামাল ওয়েস্ট পেপার , পাল্প , কেমিক্যালস ইত্যাদি ৭০% বিদেশ থেকে আমদানি করা হয় ।


রাষ্ট্রপতি পদে নির্দলীয় ব্যক্তিকে দেখতে চান ৬৮% মানুষ

সংস্কার কমিশন নির্দলীয় ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করার সুপারিশ করেছে । তবে জনগণের সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুপারিশ করেনি ।

নির্দলীয় ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি হিসেবে দেখতে চান দেশের ৬৮% মানুষ। বিপরীতে প্রায় ২৯% মানুষ চান দেশের রাষ্ট্রপতি হবেন একজন দলীয় ব্যক্তি। জনগণের সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার পক্ষে মত দিয়েছেন প্রায় ৮৩% মানুষ। আর সংসদ সদস্যদের ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের পক্ষে মত দিয়েছেন ১৩%। নির্বাচনব্যবস্থার সংস্কার বিষয়ে জাতীয় জনমত জরিপে এসব মতামত উঠে এসেছে। নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন তাদের সংস্কার প্রস্তাব তৈরির লক্ষ্যে বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) মাধ্যমে ওই জরিপ চালায়।

জরিপের ফলাফলে দেখা গেছে, আগামী জাতীয় নির্বাচনের আগে স্থানীয় সরকারের নির্বাচন করা সমর্থন করে ৬৫% মানুষ। ১৫ জানুয়ারি নিজেদের সুপারিশ অন্তর্বতী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের কাছে জমা দিয়েছে নির্বাচনব্যবস্থা সংস্কার কমিশন। সংস্কার কমিশন নির্দলীয় ব্যক্তিকে রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত করার সুপারিশ করেছে। তবে জনগণের সরাসরি ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচনের সুপারিশ করেনি। এ ক্ষেত্রে তারা সংসদের প্রস্তাবিত দুই কক্ষের সদস্য এবং স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোর নির্বাচিত প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে গঠিত বৃহত্তর নির্বাচকমণ্ডলীর ভোটে রাষ্ট্রপতি নির্বাচন করার সুপারিশ করেছে।