Home Blog Page 211

জিয়াবাদ , মুজিববাদ আমরা কোন বাদ বাংলাদেশে চাই না – নাসিরুদ্দিন পাটওয়ারী

২২ জানুয়ারি ঢাকায় জাতীয় নাগরিক কমিটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক বক্তৃতামালা অনুষ্ঠানে সংগঠনটির আহ্বায়ক নাসীরুদ্দীন পাটওয়ারী বলেছেন ‘আদর্শিক বিভাজন থেকে আমরা সরে আসতে চাই। জিয়াবাদ বলুন, মুজিববাদ বলুন আমরা কোনো বাদ বাংলাদেশে চাই না। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের প্রধান জায়গায় থাকবে জনগণ। জনগণের মূল্যায়নে সংবিধান তৈরি হবে, জনগণকে ফোকাস করে। সেই জনগণের পক্ষে আমরা লড়াই করতে চাই।’

তিনি অভিযোগ করে বলেন একাত্তরের পর জনগণকে অন্ধকারে রেখে একটি সংবিধান তৈরি করা হয়েছিল, সেই সংবিধানের মধ্য দিয়ে বিভাজনের রাজনীতি তৈরি করা হয়েছিল। বিভাজনের রাজনীতি যে সংকট তৈরি করেছে, সেই সংকটের একটা পর্যায়ে এসে চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান হলো।

ট্রাম্পের নতুন প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বাংলাদেশ নিয়ে আলোচনা হয়েছে : জয়শঙ্কর

ট্রাম্পের প্রেসিডেন্ট হিসেবে অভিষেকের অনুষ্ঠানে অংশ নিতে যুক্তরাষ্ট্রে যাওয়া ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াশিংটন ডিসিতে দেশটির নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এবং জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়ালজের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ২২ জানুয়ারি ওয়াশিংটন ডিসিতে ভারতীয় দূতাবাসে অনুষ্ঠিত এক সংবাদ সম্মেলনে জয়শঙ্করকে এক সাংবাদিক প্রশ্ন করেন, যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা মাইক ওয়ালজ ও পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর সঙ্গে বৈঠকে বাংলাদেশের সংখ্যালঘুদের প্রতি আচরণ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়েছে কি না?

জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, ‘হ্যাঁ, বাংলাদেশ নিয়ে আমাদের সংক্ষিপ্ত আলোচনা হয়েছে। আমি মনে করি না যে, এ বিষয়ে বিস্তারিত বলাটা সমীচীন হবে।’ ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের ভবিষ্যৎ সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্নের জবাবে জয়শঙ্কর বলেন, দুই দেশের সম্পর্ক সামনে এগিয়ে নিতে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রশাসনের সুস্পষ্ট আগ্রহ রয়েছে। এটা খুবই স্পষ্ট যে, নতুন প্রশাসন ট্রাম্পের অভিষেক অনুষ্ঠানে ভারতের উপস্থিতি চেয়েছিল। তারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের ওপর অগ্রাধিকার দিচ্ছে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও ভারতের মধ্যে অংশীদারত্ব জোরদার করার অভিন্ন প্রতিশ্রুতির বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন দুই দেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। এ ছাড়া যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, অস্ট্রেলিয়া ও জাপানকে নিয়ে গঠিত চার দেশীয় জোট কোয়াডের পররাষ্ট্রমন্ত্রী পর্যায়ের বৈঠকেও উপস্থিত ছিলেন জয়শঙ্কর।


হাসিনা পরবর্তী বাংলাদেশের ঘনিষ্ঠ পাকিস্তান , সম্পর্কে রসদ ভারত বিরোধিতা

… ক্ষমতাচ্যুত হয়ে হাসিনা প্রতিবেশী ভারতে যাওয়ার পর থেকেই বাংলাদেশ-পাকিস্তান সম্পর্ক দৃশ্যত ঘনিষ্ঠ হচ্ছে। উভয় দেশের রাজনীতিতে ভারতবিরোধী মনোভাব কাজ করছে, যা ইসলামাবাদ ও ঢাকার ঐতিহাসিক বৈরিতার চেয়েও শক্তিশালী বলে মনে হচ্ছে। … বাংলাদেশে নিযুক্ত পাকিস্তানের সাবেক রাষ্ট্রদূত আশরাফ কোরেশি আল জাজিরাকে বলেন, ‘নয়াদিল্লির তরফ থেকে শেখ হাসিনার স্বৈরাচারী সরকারকে দীর্ঘদিন ধরে সমর্থন করার কারণে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্কে যে উত্তেজনা তৈরি হয়েছে, সম্ভবত এই বিষয়টি ঢাকা প্রশাসনকে নতুন করে কৌশল নির্ধারণে উদ্বুদ্ধ করেছে।’

… তবে কিংস কলেজ লন্ডনের সিনিয়র লেকচারার ওয়াল্টার ল্যাডউইগ বাংলাদেশ ও পাকিস্তানের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক ও সামরিক চালাচালিকে ‘অতিরঞ্জিত’ করে দেখা হচ্ছে বলে সতর্ক করেন। তিনি বলেন, ‘গত ১৫ বছরে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক যেখানে ছিল, তার প্রেক্ষিতে এটি গুরুত্বপূর্ণ ঘটনা। তবে আমি মনে করি না, এটি নিয়ে বিশ্লেষণে বাড়াবাড়ি করা উচিত নয়। দুই দেশের মধ্যে ঐতিহাসিক টানাপোড়েন এবং ভিন্নমত রয়ে গেছে।’

আশরাফ কোরেশি বলেছেন, এই অঞ্চলের ভৌগোলিক বাস্তবতার কারণে বাংলাদেশের পক্ষে সরাসরি ভারতবিরোধী অবস্থান নেওয়া কঠিন। তিনি বলেন, ‘দেশটির দীর্ঘ সীমান্ত ভারতীয় ভূখণ্ডের সঙ্গে যুক্ত; পানির (নদীর) উৎসও ভারতে। সর্বোচ্চ যা হতে পারে, তা হলো শেখ হাসিনার সময়ের তুলনায় কিছুটা স্বাধীন নীতিগত অবস্থান নেওয়া। কিন্তু বাংলাদেশ ভারতবিরোধী অবস্থান নেবে না।’

আশরাফ কোরেশির বক্তব্যের সঙ্গে ল্যাডউইগও একমত। তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের বিভিন্ন রাজনৈতিক পক্ষ ভৌগোলিক ও অর্থনৈতিক বাস্তবতা মেনে নিয়েছে। এটি অবশ্যই লক্ষ্য করার মতো একটি প্রবণতা। তবে এটি তখনই গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে, যখন এর সঙ্গে ব্যাপক নীতিগত পরিবর্তন যুক্ত হবে। এর আগে আমরা আঞ্চলিক ভূরাজনীতিতে বড় কোনো পরিবর্তনের কথা ভাবতে পারি না।’

ল্যাডউইগ মনে করেন, বাণিজ্যের ক্ষেত্রে বড় পরিবর্তন আসতে পারে। দুই দেশের বাণিজ্য এখনো ভারসাম্যহীন, প্রায় ৯০ শতাংশই পাকিস্তানের ভাগে। পাকিস্তান বাংলাদেশে রপ্তানি করেছে ৬৬১ মিলিয়ন ডলারের পণ্য, আর উল্টোদিকে বাংলাদেশ থেকে পাকিস্তানে রপ্তানি হয়েছে মাত্র ৫৭ মিলিয়ন ডলার। তিনি বলেন, ‘পাকিস্তানের এখন যত বেশি অর্থনৈতিক অংশীদার পাওয়া সম্ভব, ততই দরকার। এটাই ইসলামাবাদকে সম্পর্ক উন্নয়নের দিকে উৎসাহী করছে।’

এবার ফিলিস্তিনের পশ্চিম তীরে হামলা , হাসপাতাল অবরোধ ইসরায়েলের

গাজায় যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়নের পর এবার অধিকৃত পশ্চিম তীরে মনোযোগ দিয়েছে ইসরায়েল। বুধবার পশ্চিম তীরের শহর জেনিনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১০ জন ফিলিস্তিনি নিহত ও ৪০ জন আহত হয়েছেন। শহরের একটি সরকারি হাসপাতাল ও নিকটবর্তী শরণার্থী শিবির অবরোধ করে রেখেছে ইসরায়েলি সেনারা। এছাড়া, পশ্চিম তীরজুড়ে বেড়েছে সেটেলারদের সহিংসতাও।

পশ্চিম তীরে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) সাম্প্রতিক অভিযান ও অবরোধকে দেশটির ‘নিরাপত্তা কৌশলের পরিবর্তন’ বলে আখ্যা দিয়েছেন প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ। শুধু জেনিন না, পশ্চিম তীরের অন্যান্য ফিলিস্তিনি শহরের প্রবেশপথও বন্ধ করে রেখেছে আইডিএফ। এর আগে মঙ্গলবার ইসরায়েলের কট্টরপন্থী অর্থমন্ত্রী বেজালেল স্মরিচ ঘোষণা দেন, ‘গাজা ও লেবাননের পরে আজ ঈশ্বরের ইচ্ছায় আমরা পশ্চিম তীরে নিরাপত্তা নীতির পরিবর্তন শুরু করেছি এবং এই অঞ্চলে সন্ত্রাস নির্মূল অভিযান শুরু করেছি।’

ইসরায়েলের ওপেন ইউনিভার্সিটির সামরিক-বেসামরিক সম্পর্ক বিশ্লেষক ইয়াগিল লেভি গার্ডিয়ানকে বলেন, ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষকে দুর্বল করতে এবং পশ্চিম তীরকে আরও অস্থিতিশীল করে সেখানে অবৈধ ইসরায়েলি বসতির সংখ্যা বাড়াতে এসব সামরিক অভিযান চালানো হচ্ছে। তিনি বলেন, পশ্চিম তীরে অভিযান চালানোর নিশ্চয়তা পাওয়াতেই গাজার যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে রাজি হয়েছিলেন স্মরিচ। তিনি রাজি না হলে বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নেতৃত্বাধীন সরকারের পতনের সম্ভাবনা ছিল বলেও দাবি লেভির।




ভয়ংকর এক শ্রেণিযুদ্ধ শুরু করেছে ট্রাম্প ও মাস্ক

যুক্তরাষ্ট্রে বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ব্যক্তি ইলন মাস্ক এখন সরকারের ব্যয় কমানোর নামে মধ্যবিত্ত ও শ্রমজীবী মানুষের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে যাচ্ছেন। এক অর্থে তিনি তাঁদের বিরুদ্ধে ফেডারেল হামলার নেতৃত্ব দেবেন। তাঁর লক্ষ্য হলো জনপরিষেবা খাতে সরকারের ব্যয় কমানো এবং লুণ্ঠনকারী পুঁজিবাদের হাত থেকে সাধারণ মানুষকে রক্ষা করার জন্য যেসব সরকারি নিরাপত্তাব্যবস্থা আছে, সেগুলো বাতিল করা। আসলে ধনিক শ্রেণির কর কমানোর মতলবেই ট্রাম্প ও মাস্ক ফেডারেল বাজেট কাটছাট করতে চান। এই ‘দুর্ভাগা’ শ্রেণির নাকি বিশেষ সহায়তার প্রয়োজন!

… মাস্ক যে লক্ষ্য ঠিক করেছেন, তা বাস্তবায়ন করা প্রায় অসম্ভব। তিনি দায়িত্ব নেওয়ার সময় বলেছিলেন, তিনি ফেডারেল ব্যয়ের ৬.৭৫ ট্রিলিয়ন ডলার থেকে ২ ট্রিলিয়ন ডলার ছেটে ফেলবেন, যা কিনা পুরো ঐচ্ছিক বাজেটের (ঐচ্ছিক বাজেট হলো যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল সরকারের সেই বাজেটের অংশ, যা কংগ্রেস প্রতিবছর নতুন করে অনুমোদন দেয় এবং পরিবর্তন করতে পারে। এই বাজেট থেকে বিভিন্ন সরকারি সংস্থা ও প্রকল্পের জন্য অর্থ বরাদ্দ করা হয়) চেয়েও বেশি।

ইলন মাস্কের মূল উদ্দেশ্য পরিষ্কার, তা হলো একটি কঠোর ব্যয় সংকোচন। আর এটি করা হলে বেশির ভাগ আমেরিকান মারাত্মক ক্ষতির মুখে পড়বেন। মাস্ক ও রামাস্বামীর ব্যাপক ব্যয় সংকোচন ও নিয়ন্ত্রণ শিথিল করার যে পরিকল্পনা, তা বর্তমানে ইউরোপ ও আমেরিকায় জনতুষ্টিবাদী ‘নিষ্ঠুর রাজনীতির’ অংশ। এই নীতিতে শাসকের কাছে জনতার দুর্ভোগ কোনো বিষয় নয়। সেখানে সরকারের সমর্থকেরা ততক্ষণ খুশি থাকবে, যতক্ষণ তাদের শত্রুরা বিশেষ করে অভিবাসী আরও বেশি কষ্ট পেতে থাকবে।

মাস্ক নিজেও এই ঘৃণার রাজনীতির একজন নেতা। তিনি দেখিয়েছেন, ভোটাররা আসলে কেমন আছেন, তা তার কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়, বরং তারা অন্য গোষ্ঠীর তুলনায় কতটা ভালো আছেন, সেটাই মুখ্য। বিশ্বজুড়ে এখন যে শ্রেণিসংগ্রাম শুরু হয়েছে, তার মূল কারণ হলো দুটি বিশ্বযুদ্ধের পর দুনিয়ায় যে সাম্যবাদী ও গণতান্ত্রিক ধারা তৈরি হয়েছিল, তা ধীরে ধীরে বিলীন হয়ে গেছে। আমরা ১৯৪৫-১৯৭৫ কালপর্বকে স্বাভাবিক গণতন্ত্রের যুগ বলে ভাবি। যুদ্ধের কারণে শাসকশ্রেণির ক্ষমতা দুর্বল হয়েছিল বলেই তখন সে ধরনের রাজনৈতিক অবস্থা তৈরি হয়েছিল। এখন দেশগুলো আবার সামন্তবাদী শাসনের দিকে ফিরে যাচ্ছে।

বিশ শতকে এমন শাসনব্যবস্থাকে ফ্যাসিবাদ বলা হতো। সেখানে ক্ষমতা ছিল ‘রাজা-সম্রাটদের’ হাতে। ট্রাম্প ও মাস্ক ঠিক ফ্যাসিবাদী কি না, তা নিয়ে বিতর্ক হতে পারে; কিন্তু এ কথা সত্য, তারা আসলে সেই পুরোনো স্বৈরাচারী ধারা ফিরিয়ে আনছেন। যেসব দেশে এখনো সম্পূর্ণ স্বৈরতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত হয়নি, তাদের বোঝা উচিত, গণতন্ত্র আপনা আপনি আসে না। জনগণের সক্রিয় অংশগ্রহণ, প্রতিবাদ ও স্বাধীন গণমাধ্যমই গণতন্ত্রকে বাঁচিয়ে রাখতে পারে। জর্জ মোনবিয়ট – দ্য গার্ডিয়ান-এর নিয়মিত লেখক

ভারতীয় গণমাধ্যমে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারীদের নিয়ে প্রচারণার পেছনে রাজনীতি ?

ভারতের সংবাদপত্রের পাতায় বা টেলিভিশনের পর্দায় চোখ রাখলেই সম্প্রতি নজরে আসছে নানা রাজ্যে বাংলাদেশি অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়ার খবর। এধরণের খবর আগে এত বেশি মাত্রায় সংবাদমাধ্যমে চোখে পড়ত না, যদিও ভারত-বাংলাদেশ সীমান্ত দিয়ে অনুপ্রবেশ নতুন কিছু নয়।বাংলাদেশ থেকে অবৈধ ভাবে ভারতে আসা মানুষের সংখ্যা কী সম্প্রতি বেড়ে গেছে? বিএসএফের তথ্য বলছে, গত বছর অগাস্ট থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত অনুপ্রবেশকারী গ্রেফতারের ঘটনা সামান্য বাড়লেও তা আগের দু’বছরের ওই একই সময়কালের তুলনায় উল্লেখযোগ্য বৃদ্ধি নয়।

তবে কেন সংবাদমাধ্যমে অনুপ্রবেশকারী ধরা পড়ার খবর বেশি করে ছাপা হচ্ছে? পুণের এমআইটি এডিটি বিশ্ববিদ্যালয়ের গণমাধ্যম বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সম্বিত পাল বিবিসি বাংলাকে বলেন- ‘ভারতীয় গণমাধ্যমের নজর এতদিন পশ্চিম সীমান্তেই পড়েছিল। এখন পাকিস্তান নিয়ে উত্তেজনা স্তিমিত হয়ে গেছে। হাসিনা সরকারের পতনের পর বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ নিয়ে জাতীয় স্তরে খবর হচ্ছে বেশি করে। অথচ পশ্চিমবঙ্গের সাংবাদিকেরা অবৈধ অনুপ্রবেশ, চোরাচালান, কাটাতারহীন সীমান্তের খবর বহু বছর ধরে করে আসছে।’

‘বাংলা গণমাধ্যমে টুকরো খবর হিসেবে যেত এ ধরনের সংবাদ। কিন্তু জাতীয় স্তরের মিডিয়া এই নিয়ে উৎসাহ দেখায়নি। এখন পরিস্থিতি বদলেছে। তার জন্য অবশ্য ভারতের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিও দায়ী,’ বলছিলেন মি. পাল। তিনি বলেন, ‘দিল্লির নির্বাচনেও বাংলাদেশি অনুপ্রবেশ বড় ইস্যু হচ্ছে। বলিউড অভিনেতা সাইফ আলি খানের উপর আক্রমণের ঘটনাতেও মূল অভিযুক্তকে বাংলাদেশি হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এই খবরের একটি অন্য প্রভাব রয়েছে।’ ফলে গণমাধ্যমগুলো এখন এ ধরনের খবর গুরুত্বের সাথে নিচ্ছে বলে তিনি মনে করেন।

আওয়ামী লীগের রাজনীতিতে ফেরা নিয়ে প্রেস সচিবের স্ট্যাটাস

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ২২ জানুয়ারি ব্যক্তিগত ফেসবুক একাউন্টে একটি পোস্টে লিখেছেন। “গণহত্যা সমর্থনকারী আওয়ামী লীগের সমর্থকরা ভ্রান্তিতে আছেন যে, দেশ নির্বাচনের দিকে গেলে তারা রাজনৈতিক প্রক্রিয়ায় ফিরতে পারবেন। কিন্তু মানবতাবিরোধী অপরাধের দায় স্বীকার না করলে এবং খুন ও গুমের সাথে জড়িত ব্যক্তিদের বহিষ্কার করে পরিশুদ্ধ না হওয়া পর্যন্ত এটি সম্ভব না। পাশাপাশি ২০০৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে সংঘটিত হত্যাকাণ্ড এবং মানবাধিকার লঙ্ঘনের সাথে জড়িত আওয়ামী লীগের সদস্য এবং এর সহযোগীদের বিচারও হবে।

সাম্প্রতিক মাসগুলোতে বিভিন্ন বিদেশি কূটনীতিক এবং কর্মকর্তাদের সাথে সাক্ষাৎ হয়েছে। তারা খুব কমই সমঝোতার বিষয়ে আহ্বান জানিয়েছেন।তারাও বুঝতে পেরেছেন যে, অপরাধীরা যদি তাদের অপরাধ স্বীকার না করে, তাহলে কীভাবে সমঝোতার আহ্বান জানানো যায়? বরং, তারা সংস্কার এবং দেশের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঠিক করার বিষয়ে বেশি সমর্থন জানিয়েছেন।

বহু বছর ধরে আওয়ামী লাগের সমর্থকরা ১৯৭৪ সালের দুর্ভিক্ষ, রক্ষীবাহিনীর হত্যাকাণ্ড এবং শেখ মুজিবের একদলীয় শাসনের স্মৃতি মুছে ফেলতে চেষ্টা চালিয়ে গেছে। তবে এবার বর্তমান প্রজন্ম জেগে উঠেছে এবং তারা স্বৈরশাসনের প্রতিটি মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিষয়ে সজাগ হয়েছে। তাদের প্রচেষ্টা প্রতিদিন পুরোনো স্মৃতিকে সতেজ করছে। আওয়ামী লীগের কর্মকাণ্ড এখন যুক্তরাজ্যের রাজনীতিকেও নাড়া দিয়েছে। তাদের অপরাধের বিষয়ে বিশ্ব এখন সচেতন। তবুও আওয়ামী লীগের সমর্থকরা চুপ করে নেই। তবে মনে হচ্ছে, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সামনের দিকে তাকাচ্ছে এবং বাংলাদেশে একটি নতুন সূচনার অপেক্ষায় রয়েছে।”

১৩৫ বছরে ভারত উপমহাদেশ থেকে ৬৫ ট্রিলিয়ন ডলারের সম্পদ নিয়ে গেছে ব্রিটিশ সাম্রাজ্য

১৭৬৫ থেকে ১৯০০ সাল পর্যন্ত ঔপনিবেশিক সময়ে ব্রিটেন ভারত থেকে ৬৪.৮২ ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার অর্থমূল্য সম্পদ শোষণ করেছে। এই অর্থের পরিমাণ এত বেশি যে, ৫০ পাউন্ড মূল্যের নোট দিয়ে লন্ডন শহরকে প্রায় চারবার মোড়ানো সম্ভব। আন্তর্জাতিক অধিকার সংস্থা অক্সফাম ইন্টারন্যাশনালের সর্বশেষ বৈশ্বিক বৈষম্যবিষয়ক প্রতিবেদনে বিষয়টি উঠে এসেছে। প্রতিবেদনটি প্রতিবছর বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক বৈঠকের প্রথম দিনে প্রকাশ করা হয়।

‘টেকার্স, নট মেকার্স’ শিরোনামে প্রকাশিত প্রতিবেদনটিতে বলা হয়েছে, বর্তমান ব্রিটেনের অনেক ধনী পরিবারের সম্পদের মূল দাস প্রথা এবং উপনিবেশবাদে নিহিত। এতে আরও বলা হয়েছে, ‘উপনিবেশবাদ থেকে শুরু হওয়া এই বৈষম্য একটি গভীর অসম পৃথিবী তৈরি করেছে। এটি এমন এক বিভক্ত পৃথিবী তৈরি করেছে যেখানে বর্ণবৈষম্য বিদ্যমান এবং দক্ষিণ গোলার্ধের সম্পদ উত্তর গোলার্ধের ধনীরা নিয়মিত শোষণ করছে।’

অক্সফাম বলছে, ১৭৫০ সালে বিশ্বের মোট শিল্প উৎপাদনের ২৫% ছিল ভারতে। কিন্তু ১৯০০ সালের মধ্যে তা কমে মাত্র ২% এ নেমে আসে। এই পতনের কারণ ছিল ব্রিটেনের কঠোর রক্ষণশীল নীতি, যা এশিয়ার টেক্সটাইল শিল্পের বিরুদ্ধে কাজ করে এবং ভারতের শিল্প বিকাশকে বাধাগ্রস্ত করে। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির সেনাবাহিনীই ছিল ২ লাখ ৬০ হাজার সৈন্যের এক শক্তিশালী বাহিনী। এই সংখ্যা ব্রিটিশ সেনাবাহিনীর যুদ্ধকালীন সদস্যসংখ্যার দ্বিগুণ।

প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ১৮৭৫ সালে ভারতে সবচেয়ে বেশি আয় করা ব্যক্তিরা মূলত সেনা ও প্রশাসনের ইউরোপীয় কর্মকর্তারা ছিলেন।কিন্তু ১৯৪০ সালে তাদের জায়গা নেন ব্যবসায়ী, ব্যাংকার এবং শিল্পপতিরা। ঔপনিবেশিক দেশগুলোর হাত থেকে স্বাধীনতা হওয়ার পরও বিশ্বের অনেক দেশের গ্লোবাল সাউথ অঞ্চলে ধন-সম্পদ ও রাজনৈতিক ক্ষমতা কেবল ধনী ব্যক্তিদের হাতেই কেন্দ্রীভূত ছিল। অক্সফাম বলেছে, ‘এই দেশগুলোতে যে বৈষম্য আজ দেখা যায়, তা অনেকাংশেই ঔপনিবেশিক যুগের ফল।’

অক্সফাম বলেছে করপোরেট লোভের কারণে যেভাবে বিশ্বকে মাদকের নেশায় আসক্ত করা হয়েছে, তা স্মরণ রাখা জরুরি। ডাচ ও ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানিগুলো আফিমের ব্যবসা ব্যবহার করে তাদের ঔপনিবেশিক শাসনকে দৃঢ় করেছিল। ১৭৫৭ সাল থেকে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি পূর্ব ভারতের আফিম উৎপাদনে একচেটিয়া অধিকার স্থাপন করেছিল। এই আফিম চীনে রপ্তানি করা হতো, যা শেষ পর্যন্ত আফিম যুদ্ধ এবং চীনের তথাকথিত ‘অপমানের শতাব্দী’ শুরু করে।



যুক্তরাষ্ট্রের সীমানা বাড়ানো , পানামা খাল দখল ও মঙ্গলে নভোচারী পাঠানোর ঘোষণা দিলেন ট্রাম্প

অভিষেক বক্তব্যে মেক্সিকো উপসাগরের নাম বদলানো ও পানামা খাল দখলের ডাক দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘খুব শিগগির আমরা মেক্সিকো উপসাগরের নাম বদলে আমেরিকা উপসাগর রাখব।’ পানামা খালের নিয়ন্ত্রণ পানামার কাছে দেওয়ার সিদ্ধান্তকে ‘বোকামি’ বলে অভিহিত করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘এমন বোকার মতো উপহার কখনোই দেওয়া উচিত না। তারা (পানামা) আমাদের সঙ্গে খুব খারাপ ব্যবহার করেছে।’

‘আমরা চীনকে এই খাল দেইনি, পানামাকে দিয়েছিলাম। কিন্তু এখন আমরা এটি আবার ফেরত নেবো।’ যুক্তরাষ্ট্রের সীমানা বাড়ানোর ও মঙ্গল গ্রহে নভোচারী পাঠানোর ঘোষণাও দিয়েছেন। ট্রাম্প বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র আবার নিজেকে একটি বর্ধমান জাতি হিসেবে দেখতে পাবে। আমাদের সম্পদ ও সীমানা বাড়াতে হবে।’ এর আগে ডেনমার্কের কাছ থেকে গ্রিনল্যান্ড অধিগ্রহণ ও কানাডাকে যুক্তরাষ্ট্রের ৫১তম অঙ্গরাজ্য করার ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। ট্রাম্প বলেন, ‘মঙ্গল গ্রহে যুক্তরাষ্ট্রের পতাকা উত্তোলন করব।’

মেয়েদের বিদ্যালয় খুলে দেয়ার আহ্বান তালেবান উপপররাষ্ট্রমন্ত্রীর

আফগানিস্তানের নারী জনসংখ্যার প্রতি ইঙ্গিত করে আব্বাস স্তানিকজাই বলেন, ‘আজকে আমরা চার কোটি মানুষের মধ্যে দুই কোটি মানুষের প্রতি অবিচার করছি।’

আফগানিস্তানে মেয়েদের উচ্চ বিদ্যালয়গুলো খুলে দেওয়ার জন্য ঊর্ধ্বতন নেতাদেরকে আহ্বান জানিয়েছেন তালেবানের ভারপ্রাপ্ত উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী শের মোহাম্মদ আব্বাস স্তানেকজাই। এ নীতির কারণে কড়া সমালোচনার মুখে পড়া তালেবান সরকার কার্যত বাকি বিশ্ব থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে।রোববার এক বক্তব্যে তিনি বলেন, নারী শিক্ষার ওপর বিধিনিষেধ আরোপ ইসলামি শরিয়াহ আইনের সঙ্গে অসংগতিপূর্ণ।

স্থানীয় টোলো সম্প্রচার মাধ্যমে ভারপ্রাপ্ত উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘শিক্ষার দ্বার উন্মুক্ত করে দিতে ইসলামিক আমিরাতের নেতাদের প্রতি আমরা অনুরোধ জানাচ্ছি। হজরত মুহাম্মদ (সা.) এর সময়ে পুরুষ ও নারী উভয়ের জন্য জ্ঞান অর্জনের দ্বার উন্মুক্ত ছিল।’ আফগানিস্তানের নারী জনসংখ্যার প্রতি ইঙ্গিত করে আব্বাস স্তানেকজাই বলেন, ‘আজকে আমরা চার কোটি মানুষের মধ্যে দুই কোটি মানুষের প্রতি অবিচার করছি।’

মেয়েদের বিদ্যালয়ে যাওয়া বন্ধ করে দেওয়ার বিরুদ্ধে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে জনসমক্ষে এটি কোনো তালেবান কর্মকর্তার সবচেয়ে কড়া সমালোচনা। ২০২১ সালে তালেবান ক্ষমতা দখলের পর আফগানিস্তানে নারীদের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা গ্রহণ বন্ধ হয়েছে, অনেক সরকারি চাকরি থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছে।