Home Blog Page 210

অন্তবর্তী সরকারের উচিৎ দ্রুত নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা : সিপিডি

২৯ জানুয়ারি ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগ (সিপিডি) বলেছে, গত ছয় মাসে অর্থনীতিতে তেমন চাঞ্চল্য ফেরেনি। অন্তর্বর্তী সরকার কর্মসংস্থান বাড়াতে পারেনি। অন্তর্বর্তী সরকারের মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত, যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি করা। সংস্থাটির নির্বাহী পরিচালক ফাহমিদা খাতুন বলেন, ‘দেশে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও প্রাতিষ্ঠানিক স্থিতিশীলতা না থাকলে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আসে না। অন্তর্বর্তী সরকার আগামী ডিসেম্বর থেকে পরের বছর জুনের মধ্যে নির্বাচন দেওয়ার কথা বলেছে। আমরা চাই সরকার ঘোষিত রোডম্যাপের মধ্যেই নির্বাচন হোক। যত দ্রুত সম্ভব গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় যেতে হবে।’

তিনি আরও বলেন, রাজস্ব আদায়ের পাশাপাশি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি বা এডিপি বাস্তবায়ন, মূল্যস্ফীতি, কর্মসংস্থান, বেসরকারি বিনিয়োগে দৃশ্যমান কোনও উন্নতি নেই। অন্তর্বর্তী সরকার বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে, তবে সফলতা এখনও দেখা যায়নি।

সেবা খাতের তুলনায় পিছিয়ে যাচ্ছে উৎপাদন খাত : অর্থনৈতিক শুমারির তথ্য

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (বিবিএস) ২০২৪ সালের অর্থনৈতিক শুমারির প্রাথমিক ফলাফলে উঠে এসেছে দেশে অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডে সম্পৃক্ত প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা গত এক দশকে ৫০ শতাংশের বেশি বেড়েছে। অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান বৃদ্ধির পেছনে বড় অবদান রেখেছে সেবা খাত। তবে এ ক্ষেত্রে পিছিয়ে রয়েছে উৎপাদন তথা শিল্প খাত। ১০ বছর পর পর হওয়া অর্থনৈতিক শুমারিতে কৃষি খাতকে ধরা হয় না। শুমারিতে অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে শিল্প উৎপাদন ও সেবা এই দুই খাতে ভাগ করা হয়েছে।

দেখা গেছে, ২০১৩ সালে অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে উৎপাদন খাতের হিস্যা ছিল ১১.৫৪%। গত ১১ বছরের ব্যবধানে উৎপাদন খাতের এ অবদান কমে দাঁড়িয়েছে ৮.৭৭%। বিবিএসের হিসাবে বর্তমানে দেশে ১০ লাখ ৪১ হাজারের বেশি শিল্পপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। শিল্প প্রতিষ্ঠান বাড়ার গতিতে বড় ধরনের পতন হয়েছে। ২০১৩ থেকে ২০২৪ সাল পর‍্যন্ত সময়ে শিল্প প্রতিষ্ঠান বেড়েছে ১৫.৩৮%। এর আগে ২০০৩ থেকে ২০১৩ সাল পর‍্যন্ত বাড়ে ১০০%। এদিকে উৎপাদন খাতে প্রবৃদ্ধি কমলেও বেড়েছে সেবা খাতে। বর্তমানে অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠানের ৯১%-এর বেশি হচ্ছে সেবা খাতের, যা ২০১৩ সালে ছিল ৮৮.৪৬%। মুদিদোকান থেকে শুরু করে অনলাইনের বেচাকেনা-সবই সেবা খাতের অন্তর্ভুক্ত। তবে সাধারণত শিল্প খাতে কর্মসংস্থানের সুযোগ বেশি হয়। অর্থনীতির আকার বাড়াতেও এই খাতের ভূমিকা বেশি।

অর্থনৈতিক শুমারিতে থানাভিত্তিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের চিত্রও উঠে এসেছে, যা মূলত ইনফরমাল বা অপ্রাতিষ্ঠানিক খাত হিসেবে পরিচিত। বাসাবাড়িতে কুটির শিল্পের মতো বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ও ফুটপাতের অস্থায়ী দোকান প্রভৃতি এ খাতে ধরা হয়েছে। শুমারিতে দেখা যায়, গত ১১ বছরে এ খাতের উদ্যোক্তা প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা বেড়েছে ৭৮%। বিবিএসের হিসাবে বর্তমানে দেশে ৫০ লাখের বেশি ইনফরমাল ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান রয়েছে। এ ছাড়া দেশে ই-কমার্সসহ অনলাইন প্রতিষ্ঠানের সংখ্যা এখন ১ লাখ ১৬ হাজার ৯৭৮। শুমারির তথ্যমতে, গত ১০ বছরে কর্মসংস্থান হয়েছে মাত্র ৬২ লাখ মানুষের। অথচ ২০১৩ সালে বেড়েছিল দ্বিগুণ। অর্থনৈতিক শুমারি প্রকল্পের পরিচালক এস এম শাকিল আখতার আজকের পত্রিকাকে বলেন, গত ১০ বছর বড় শিল্পকারখানা গড়ে ওঠেনি বললেই চলে। নানা কারণে ম্যানুফ্যাকচারিং সেক্টর বৃদ্ধি না পেলেও ক্ষুদ্র প্রতিষ্ঠান বেড়েছে। এতেই বোঝা যায়, অর্থনৈতিক অগ্রগতি হয়নি।

প্রতিবেদন প্রকাশ অনুষ্ঠানে পরিকল্পনা উপদেষ্টা ওয়াহিদউদ্দিন মাহমুদ বলেন, দেশে অনেক উদ্যোক্তা তৈরি হয়েছে। শুমারিতে এসেছে উদ্যোক্তাদের বেশির ভাগই মূলধন সমস্যায় রয়েছেন। আবার যাদের মূলধন নেই, তারা সহজে ঋণও পান না। অথচ, বিভিন্ন ব্যাংক থেকে ভুইফোড় প্রতিষ্ঠানের নামে নেওয়া এত টাকা কোথায় গেছে, কেউ জানেন না। ব্যাংক খালি হয়ে গেছে। দেশে আর্থিক খাতে বৈষম্য কোন পর্যায়ে পৌঁছেছে তার নিদারুণ উদাহরণ এটি।

বাংলাদেশ নিয়ে ‘বোকার স্বর্গ যাত্রায়’ ভারত

প্রবল গণআন্দোলনে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশত্যাগে বাধ্য হওয়ার পরই আমি প্রথমবারের মতো ভারতের বৈশ্বিক হিন্দু জাতীয়তাবাদী অনলাইন ট্রল বাহিনীর মুখোমুখি হই । তাদের কৌশল ও পদ্ধতি তখনই আমার চোখ খুলে দেয়। … ভারত উদ্বেগ জানাতে থাকে , হাসিনার প্রস্থানের পর বাংলাদেশের হিন্দু সংখ্যালঘুরা সহিংসতার শিকার হচ্ছে । শুরু হয় অনলাইনে অপপ্রচার । ভারতীয় গণমাধ্যমের সদস্যরা দাবি করছে ইউনূস সরকার নাকি বাংলাদেশে ইসলামী চরমপন্থীদের শক্তিশালী করেছে এবং পাকিস্তানের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ হচ্ছে ।

ভারত ও প্রবাসী ডানপন্থী হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীগুলো ভারত সরকারের মনোভাব প্রতিফলিত এবং প্রভাবিত করার পাশাপাশি বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে হেয় করার এবং বিদেশী রাষ্ট্রের নীতি কৌশলকে প্রভাবিত করার লক্ষ্যে আগ্রাসী এবং বিভ্রান্তিকর প্রচারণা শুরু করেছে । ‘ইন্টারনেট হিন্দু’ নামে পরিচিত এই ‘কীবোর্ড যোদ্ধারা’ প্রধানত মোদী সরকারের বিজেপি এবং তার জাতীয়তাবাদী মতাদর্শ ‘হিন্দুত্ববাদের’ অনুসারী । এটি এমন এক মতাদর্শ যা মনে করে ভারত ও হিন্দুধর্ম সমার্থক এবং সাংবিধানিকভাবে স্বীকৃত ধর্মনিরপেক্ষ দেশটিকে একটি হিন্দু রাষ্ট্রে পরিণত করা উচিত।

হাসিনার সমর্থকরা তাদের পুরনো দাবি পুনরায় চালিয়ে যাচ্ছে । বলছে , একমাত্র তিনিই ইসলামপন্থীদের কবল থেকে দেশকে রক্ষা করেছেন । যদিও বাস্তবতা হলো , অধিক রক্ষণশীল ইসলামী দলগুলো কখনও ভোটারদের ব্যাপক সমর্থন পায়নি । এই প্রচারণার লক্ষ্য হলো হাসিনা ও তার মিত্রদের বিরুদ্ধে ওঠা দুর্নীতি এবং ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থেকে মনোযোগ সরিয়ে দেওয়া। তারা বয়ান দিচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র , পাকিস্তান এবং অন্যান্য দেশের রহস্যময় ‘ডিপ স্টেটের’ চালকরাই হাসিনাকে সরিয়েছে ।

বাংলাদেশে কথিত হিন্দু ‘গণহত্যা’ সম্পর্কে মিথ্যা তথ্য প্রচারের ফলে সহিংসতার প্রকৃত ঘটনা চিহ্নিত করা এবং দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনা আরও কঠিন হয়ে পড়েছে । ভারতের চলমান চাপ বাংলাদেশে একটি তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করেছে । এমন পরিস্থিতিতে কট্টর ভারতবিরোধীদের প্রচারণার চাপে মধ্যপন্থী কণ্ঠস্বর হারিয়ে যাচ্ছে । এই ফাঁকে এগিয়ে এসেছে পাকিস্তান ও চীন । তারা বাংলাদেশের নতুন সরকারকে আলিঙ্গন করার জন্য কূটনৈতিক , সামরিক এবং বাণিজ্যিক যোগাযোগ জোরদার করেছে। মোদি সরকারের উচিত হিন্দুত্ববাদী ট্রল বাহিনীর উপর লাগাম টানা, কারণ এই বিপজ্জনক প্রচারণা দুই প্রতিবেশীর মধ্যে সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা বৃদ্ধি করছে ।

এদিকে ভারতীয় সরকার , গণমাধ্যম , নীতিনির্ধারনী প্রতিষ্ঠান এবং ডানপন্থী হিন্দুত্ববাদী গোষ্ঠীর গৃহিত পদক্ষেপের ফলে বাংলাদেশের ভেতরও ভারতবিরোধী মনোভাব বৃদ্ধি পাচ্ছে । বিশেষত যারা গণতন্ত্রপন্থী আন্দোলনে অংশ নিয়েছিল , তাদের মধ্যে ভারতবিরোধী মনোভাবকে উস্কে দিয়েছে।বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান ভারতের অভ্যন্তরীণ রাজনৈতিক স্বার্থ চরিতার্থ করার ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।তবে তা ভারতের কূটনৈতিক লক্ষ্য অর্জনে কীভাবে সহায়ক হবে তা বলা মুশকিল ।

আমার বিশ্বাস ভারত এবং বাংলাদেশের সামনে এই পরিস্থিতি এড়ানোর সুযোগ রয়েছে । শুরুটা উপর থেকে হতে হবে । উভয় সরকার তাদের সমর্থকদের বার্তা দেবে যে দুই প্রতিবেশী দেশ নতুনভাবে শুরু করে একে অপরকে উপকৃত করতে পারে । জন ড্যানিলোভিচ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তরের অবসরপ্রাপ্ত কর্মকর্তা , ঢাকায় মার্কিন দূতাবাসে ডেপুটি চিফ অফ মিশন ছিলেন বেনার নিউজ. ২২.০১.২০২৫



গাজায় ৩৮ হাজার শিশু অনাথ , শিক্ষাবঞ্চিত ৭ লাখ

গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা জাহের আল ওয়াহিদি জানিয়েছেন ইসরাইলী হামলায় প্রায় ৩২ হাজার ১৫১ শিশু তাদের বাবা হারিয়েছে, ৪ হাজার ৪১৭ শিশু মা হারিয়েছে, আর ১ হাজার ৯১৮ শিশু বাবা-মা দুজনকেই হারিয়েছে। তারা এখন তীব্র শূন্যতা আর একাকিত্বের মধ্যে জীবন কাটাচ্ছে। গাজার শিক্ষা ব্যবস্থা এখন ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে। জাতিসংঘের রিলিফ এজেন্সি জানাচ্ছে প্রায় ৬ লাখ ৬০ হাজার শিশু এখন স্কুলে যেতে পারছে না, আর ১৪ হাজার ৫০০ শিশুর জীবনযুদ্ধ চিরতরে থেমে গেছে। গাজার শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, গাজার ৯৫% স্কুলে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। এর ফলে প্রায় ৮৫% শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান পুরোপুরি অকার্যকর হয়ে পড়েছে।

তবে সবচেয়ে বড় ক্ষতিটা হলো মানসিক ইউনিসেফ জানিয়েছে, গাজার প্রায় ১১ লাখ শিশু এখন দুঃস্বপ্ন, ভয় এবং আতঙ্কের মধ্যে বেঁচে রয়েছে। প্রায় ৯৬% শিশু মনে করে, তাদের মৃত্যু অনিবার্য। মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই শিশুদের যন্ত্রণা আগামী প্রজন্ম পর্যন্ত অনুভূত হবে। যুদ্ধের ক্ষতি শুধু শারীরিক নয়, এটি শিশুদের মনের গভীর কোণে এমন দাগ রেখে যাচ্ছে, যা কখনো মুছে ফেলা সম্ভব নয়। মানবাধিকার কর্মীরা বলছেন, আমাদের অবি-লম্বে এগিয়ে আসতে হবে তাদের ক্ষতিপূরণের জন্য, তাদের চোখে একটি নতুন আশা এবং ভবিষ্যতের আলোর রেখা তৈরি করার জন্য।

ইসলাম থেকে অনুপ্রেরণা নেবে , কিন্তু ইসলামি রাষ্ট্র কায়েমের কথা বলবে না এ ধরনের একটি সেন্টার রাইট পলিটিক্যাল পার্টি বাংলাদেশে প্রয়োজন – ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক

বর্তমানে জামায়াত এবং তার ছাত্রসংগঠনের ভূমিকা প্রশংসনীয়। যারা খোঁজখবর রাখেন, তাদের সবার কাছে এটা অত্যন্ত পরিষ্কার, পর্দার আড়ালে থেকে কীভাবে তারা বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনকে সহযোগিতা করেছে। এর ফলে আমরা দেখেছি, (৫ আগস্ট) সেনাপ্রধানের নেতৃত্বে প্রথম যে বৈঠক হয়, সেখানে জামায়াতের আমিরকে যথেষ্ট গুরুত্ব দেওয়া হয়েছিল। এখনো জাতীয় ইস্যুগুলোতে জামায়াতের সঙ্গে আলাপ আলোচনা করা হচ্ছে। দক্ষিণ এশিয়ায় জামায়াতের মতো সুশৃঙ্খল দল আর নেই।

মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে জামায়াতের সাংগঠনিক সম্পর্ক না থাকলেও আদর্শিক বন্ধন আছে। দুটি সংগঠনের মধ্যে যথেষ্ট বোঝাপড়া হয়েছে। তারা একে অন্যকে সহোদর হিসেবে মনে করে। এ রকম আরও কিছু আন্দোলন গড়ে উঠেছে তুরস্কে আক পার্টি (জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি), তিউনিসিয়ায় এন্নাহদা এবং মরক্কোতে জাস্টিস অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট পার্টি। এগুলোর সঙ্গেও জামায়াতের একটা সুসম্পর্ক আছে।

আমি চাচ্ছিলাম, একটা সেন্টার রাইট পলিটিক্যাল পার্টি উইথ ইসলামিক রেফারেন্স (ইসলামি যোগসূত্রসহ মধ্য ডানপন্থী দল)। এটা বাংলাদেশে কার্যকর হবে। জামায়াতে ইসলামী তো ইসলামি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য কাজ করছে। কিন্তু নতুন এই রাজনৈতিক দল ইসলাম থেকে অনুপ্রেরণা নেবে, কিন্তু ইসলামি রাষ্ট্র কায়েমের কথা বলবে না এ ধরনের একটি সেন্টার রাইট পলিটিক্যাল পার্টি বাংলাদেশে প্রয়োজন। এ ধরনের দল খুবই প্রয়োজন, যেটা ইনক্লুসিভ (অন্তর্ভুক্তিমূলক) হবে, সবাইকে নিয়ে চলবে। আপাতত তেমন কোনো দল দেখছি না। তবে ভবিষ্যতে এ রকম কোনো দলের উত্থান হলেও হতে পারে।

একটা সময় আমাদের এখানকার রাজনীতির মান অনেক উন্নত ছিল। কিন্তু সেখান থেকে আমাদের অনেক অবনমন হয়েছে। প্রতিপক্ষকে শারীরিকভাবে নির্মূল করার রাজনীতি চালু করা হয়েছিল। আমাদের এখান থেকে বের হয়ে পূর্বের ঐতিহ্যে ফিরতে হবে। ছাত্ররা যদি কোনো উদ্যোগ নেয়, সেটা নিশ্চিতভাবেই আমাদের জন্য ভালো কিছু হবে। কিন্তু রাজনীতিতে গুণগত পরিবর্তন ছাড়া আমরা অগ্রসর হতে পারব না। ৫ আগস্টের (গণঅভ্যুত্থানের) পরও আমরা যদি পুরোনো রাজনীতিতে ফিরে যাই, সেটা হবে সবচেয়ে দুঃখজনক। পুরোনো রাজনীতির মধ্যে দেশ ও জাতির কোনো কল্যাণ নেই।

আইডিয়ালি (আদর্শিকভাবে) বাংলাদেশ ও ভারতের সম্পর্ক এমন হতে পারত, যে রকম সম্পর্ক যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যের মধ্যে রয়েছে। কিন্তু বাংলাদেশ-ভারতের সম্পর্ক তেমনটা নয়। এ ক্ষেত্রে একটি বিষয় হলো, আমাদের যা কিছু পাওনা ভারতের কাছে, বাংলাদেশ তা আদায় করতে পারেনি। দ্বিতীয়ত, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারকে একতরফা সমর্থন দিয়ে ভারত আমাদের গণতন্ত্র ধ্বংসে ভূমিকা রেখেছে। এ ক্ষেত্রে বাংলাদেশের ছোটখাটো দায় থাকতে পারে, কিন্তু বহুলাংশে ভারতই দায়ী। আমরা চাই না এখানে ভারতবিরোধী মনোভাব তীব্র হোক আর সেটা কাজে লাগিয়ে কেউ ক্ষমতায় চলে যাক। কিন্তু এ ব্যাপারে ভারতকেই মুখ্য ভূমিকা পালন করতে হবে।

বাংলাদেশ একটি মডারেট মুসলিম দেশ। এখানে কোনো দিন উগ্রবাদ মাথাচাড়া দেবে না। হতে পারে, কিছু লোক ওই ধরনের আদর্শে বিশ্বাসী হবে; বাংলা ভাই এ রকম একজন ছিল, আরও দু-চারজন ছিল। কিন্তু একটা উল্লেখযোগ্যসংখ্যক মানুষ কোনো সময়ই উগ্রবাদকে স্থান দেবে না, এটা ভারতের বোঝা উচিত।
ব্যারিস্টার আবদুর রাজ্জাক, সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী। জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং পরে এবি পার্টির প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন। উভয় দল থেকেই পদত্যাগ করেন। প্রথম আলোর সাথে সাক্ষাৎকার থেকে সংকলিত।


গাজা যুদ্ধ শুরুর পর ১৫ হাজার নতুন সদস্য রিক্রুট করেছে হামাস

মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য সম্পর্কে অবহিত মার্কিন কংগ্রেসের দুজন সদস্য রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছেন। তারা বলেছেন, ইরান সমর্থিত হামাসের এসব যোদ্ধা ইসরায়েলের জন্য স্থায়ী হুমকি হিসেবে রয়ে যাচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ সরকারি এ অনুমান বিষয়ে এর আগে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়নি। সূত্র বলছে, মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যমতে ১০ থেকে ১৫ হাজারের মতো হামাস যোদ্ধা নিহত হয়েছেন। বাইডেন প্রশাসনের শেষ সপ্তাহে এই তথ্য হালনাগাদ করা হয়েছে। গোয়েন্দা তথ্য বলছে, হামাসের নিয়োগ করা এসব নতুন যোদ্ধার বেশির ভাগই তরুণ। প্রশিক্ষণবিহীন এসব সদস্যদের শুধু নিরাপত্তার কাজে ব্যবহার করা হচ্ছে।

যুদ্ধবিরতির পরের দিনগুলোতে হামাস গাজায় নিজেদের গভীরভাবে প্রতিষ্ঠিত করেছে বলে প্রমাণিত হয়েছে। যদিও ইসরায়েল এই অস্ত্রগোষ্ঠীকে ধ্বংস করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। হামাস নিয়ন্ত্রিত এই অঞ্চলের প্রশাসন দ্রুত নিরাপত্তাব্যবস্থা পুনঃপ্রবর্তন করেছে এবং সেখানে কিছু অংশে মৌলিক সেবা শুরু হয়েছে। ইসরায়েলি হামলায় এসব এলাকার সব মৌলিক সেবা ধ্বংস হয়ে গিয়েছিল।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি রপ্তানি বাড়ানোর চেষ্টা করছেন ।

লুইজিয়ানাভিত্তিক ‘আর্জেন্ট এলএনজির’ সঙ্গে একটি নন বাইন্ডিং চুক্তি সই করেছে বাংলাদেশ সরকার। এই চুক্তির আওতায় মার্কিন কোম্পানিটি বাংলাদেশে বছরে ৫ মিলিয়ন মেট্রিক টন এলএনজি বিক্রি করবে। আর্জেন্ট এলএনজির বিজ্ঞপ্তির বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা রয়টার্সের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, লুইজিয়ানার দক্ষিণাঞ্চলের বন্দর ‘পোর্ট ফোর চনে’ নির্মাণাধীন এলএনজি প্রকল্প সম্পন্ন হলে চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত কোম্পানি পেট্রোবাংলার কাছে এলএনজি বিক্রি শুরু করতে পারে কোম্পানিটি।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দায়িত্ব নেওয়ার পর এটিই প্রথম মার্কিন এলএনজি সরবরাহ চুক্তি। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের এলএনজি রফতানি বাড়ানোর চেষ্টা করছেন। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী বলেন ‘এই চুক্তি শুধু বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান শিল্পে নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহই নিশ্চিত করবে না, এটি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আমাদের কৌশলগত অংশীদারত্বকেও শক্তিশালী করবে’।

অনেক বিএনপি নেতা বিশ্বাস করেন , একটি রাজনৈতিক দল বিএনপি ও ছাত্রদের মধ্যে বিরোধ সৃষ্টি করার চেষ্টা করছে।

নির্বাচন প্রসঙ্গে বিএনপির সঙ্গে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের টানাপড়েনের মাঝে অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম বলেছেন, ‘সম্প্রতি আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য মোহাম্মদ আলী আরাফাত সে কিন্তু স্ট্যাটাস দিয়েছে যে এটা অবৈধ ও অনির্বাচিত সরকার, একটা নিরপেক্ষ সরকার লাগবে, এর আন্ডারে সুষ্ঠু নির্বাচন হওয়া সম্ভব না। সো একই টোনে আমরা যখন কথা বলতে দেখছি, এটা কিন্তু একটা সন্দেহের তৈরি করে।’ শুক্রবার বিবিসি বাংলাকে তিনি বলেন, রাজনৈতিক দলে যোগ দিলে সরকার থেকে বের হয়ে যাবেন।’ বিএনপির বা অন্যান্য রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কারের আলাপগুলোতে মনোযোগী হওয়া উচিৎ, বিচার কার্যক্রমে সহযোগিতা করা উচিৎ, সেসময় তারা বলছে এ সরকারের চেয়ে নিরপেক্ষ একটা সরকার প্রয়োজন।’

বুধবার বিবিসি বাংলার সাথে সাক্ষাৎকারে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের বক্তব্য নিয়ে আলোচনার সূত্রপাত হয়। বিশেষত বর্তমান সরকার নিরপেক্ষ থাকতে না পারলে নির্বাচন করতে নিরপেক্ষ সরকারের প্রয়োজন হবে” এবং শিক্ষার্থীরা ছাত্ররা রাজনৈতিক দল গঠন করলে সরকার থেকে ‘বেরিয়ে আসা উচিত’ এমন বক্তব্যের প্রতিক্রিয়া আসে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের তরফ থেকে। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক হাসনাত আবদুল্লাহ ফেসবুক পোস্টে বলেছেন ‘যারা আগে আন্দোলনের ডাক দিয়ে মাঠ থেকে সরে যেত, তারাই এখন আঁতাতের রাজনীতি ও ভারতনির্ভর কূটনীতির মাধ্যমে আওয়ামী লীগের পুনর্বাসন চায়।’

এসব বক্তব্যের জবাবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ‘ইদানীং কথা বলার সুযোগ পেয়ে কেউ কেউ বলছে, বিএনপি নাকি ১/১১ আনার পায়তারা করছে। তাদের বলছি, ১/১১ এর ভয়াবহ পরিণতি বিএনপির চেয়ে কেউ বেশি ভোগ করেনি।’ তিনি বলেন, ‘বিএনপিকে আওয়ামী শিবিরের দিকে ঠেলে দেয়া হচ্ছে। আমাদের ভারতের দালাল বা আওয়ামী লীগ বানানোর চেষ্টা করবেন না। চক্রান্ত না করে দেশে শান্তি ফেরানোর চেষ্টা করুন।’

বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী শুক্রবার উল্লেখ করেছেন, ‘সব পক্ষের সমর্থনে অন্তর্বর্তী সরকার গঠন হলেও যখন শুনি আগে সংস্কার পরে নির্বাচন, এ যেন মনে হয় শেখ হাসিনার কথারই প্রতিধ্বনি। কারণ, শেখ হাসিনা বলতেন আগে উন্নয়ন পরে গণতন্ত্র।’ নানা বাদানুবাদ থাকলেও নাহিদ ইসলাম এবং মির্জা আব্বাস, দুজনই দেশ গঠনে সংঘাত বা বিভেদ সৃষ্টি না করার কথা বলেছেন। বিএনপি নেতারা মনে করেন, মির্জা ফখরুলের বক্তব্যের যে প্রতিক্রিয়া দেখিয়েছেন ছাত্রনেতারা তা ছিল আক্রমণাত্মক। পরিকল্পিতভাবে এই বিষয়টিকে বড় বানানোর জন্য এগুলো করা হচ্ছে।

আন্তর্জাতিক মঞ্চে এবার ড. ইউনুস বললেন – জুলাই আন্দোলনে কোন পরিকল্পনা ছিল না , নেতৃত্ব ছিল না

সুইজারল্যান্ডের দাভোসে চলমান বিশ্ব অর্থনৈতিক ফোরামের বার্ষিক সম্মেলনের ফাঁকে ফোরামের নির্বাহী চেয়ারম্যান ও প্রতিষ্ঠাতা ক্লাউস শোয়াবের সঙ্গে এক আলোচনায় অংশ নিয়েছেন ড. ইউনূস। এসময় তিনি কীভাবে বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান উপদেষ্টার দায়িত্ব পেয়েছেন, তার বর্ণনা করেছেন। বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের শেষ দিকের সময়ের বর্ণনা দিয়ে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘এখানে ইন্টারেস্টিং বিষয় হচ্ছে, কোনও পরিকল্পনা ছিল না। কেউ কোনও প্ল্যান করছিল না, কোনও নেতৃত্ব ছিল না। যেকোনও আন্দোলনে একজন নেতৃত্ব থাকে, কিন্তু এখানে তেমন কিছু ছিল না। কোনও দিক-নির্দেশনা ছিল না।’

এর আগে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদল চলাকালীন একটি অনুষ্ঠানে ড. ইউনূস ছাত্র আন্দোলনকে ‘মেটিকুলাসলি ডিজাইনড’ বলেছিলেন এবং মাহফুজ আলমকে আন্দোলনের ‘মাস্টারমাইন্ড’ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলেন। গতকাল তিনি বলেন, ‘একজন ছাত্র গুলি খেয়ে তার বন্ধুদের কোলে পড়ে গেছে এমন দৃশ্য পুরো দেশবাসী দেখেছে, তারপর থেকে প্রেক্ষাপট পাল্টে গেলো। এরপর শুধু তরুণরা না, বাসায় থাকা সাধারণ মানুষ রাস্তায় নেমে এলো। তাতে এটি জনগণের আন্দোলনে পরিণত হলো। হাজার হাজার মানুষ প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের দিকে পদযাত্রা শুরু করলো। সবাই সিদ্ধান্ত নিলো যে তাকে আর ক্ষমতায় রাখা যাবে না। ৫ আগস্ট তিনি উড়াল দিলেন।’

‘আপনারা গণঅভ্যুত্থান, বিপ্লবের কথা শোনেন। এই ঘটনা সবগুলো থেকে আলাদা। খুবই স্বকীয়তা ছিল এই ঘটনায় এবং তা এসেছে তরুণদের কাছ থেকে’, বলেন প্রধান উপদেষ্টা। ড. ইউনূস বর্ণনা করেন, ‘বাংলাদেশে গত জুলাইয়ে ছাত্র আন্দোলন চলছিল। আন্দোলনের ইস্যু খুবই সাধারণ ছিল। কর্মসংস্থান চাওয়া হচ্ছিল, সবার জন্য সমান সুযোগের দাবি করা হচ্ছিল, চাকরিতে কারও জন্য বিশেষ ব্যবস্থা রাখার বিরুদ্ধে ছিল এই আন্দোলন। সরকার এবং ছাত্রদের মুখোমুখি অবস্থায় একটি কঠিন পরিস্থিতির তৈরি হলো। সরকার ছাত্রদের ওপর গুলি চালানো শুরু করলো। এই ঘটনা পুরো প্রেক্ষাপট পাল্টে দিলো।

ছাত্ররা এটিকে একটি চ্যালেঞ্জ হিসেবে নিয়ে এর বিরুদ্ধে দাঁড়িয়ে গেলো, অস্ত্রের সামনে নিজেদের বিলিয়ে দিলো। কোনও অবস্থাতেই পথ ছেড়ে গেলো না। তখন থেকেই তা হয়ে গেলো অপ্রতিরোধ্য। তরুণরা সকাল সকাল বাড়ি থেকে বের হয়ে আন্দোলনে গেলো নিজেদের কাছ থেকে নিজেরাই বিদায় নিয়ে, হয়তো তারা ফিরে নাও আসতে পারে। এরকম একটা পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল। তারা যুদ্ধক্ষেত্রে যাচ্ছিল।

যখন গুলিবর্ষণ চলছিল, ছাত্ররা পিছু হটছিল না। যারা গুলি খেয়েছে, তারা পড়ে গেছে রাস্তায়। পেছন থেকে আরেক দল এসে দাঁড়িয়ে গেছে। এরকম বেশ কিছুদিন ধরে হয়েছে। তারপর এক পর্যায়ে ছাত্ররা ডাক দিলো যে, এই সরকারকে বিদায় নিতে হবে। সবদিক থেকে জনগণ এবং ছাত্রদের একটা স্রোেত চলে আসলো ঢাকায়।’ তিনি আরো বলেন, ‘ছাত্ররা হঠাৎ ঢাকার দেওয়ালে আঁকাআঁকি শুরু করলো। পুরো ঢাকার দেওয়াল ভরে গেলো। তাদের চাওয়া-পাওয়া, স্বপ্ন, আকাঙ্ক্ষা সব কিছু দেয়াল চিত্রে তুলে ধরলো।’

আমেরিকায় পণ্য উৎপাদন করুন , নইলে শুল্ক দিন : ট্রাম্প

২৩ জানুয়ারি সুইজারল্যান্ডের দাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামে দেওয়া ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বিশ্বের ব্যবসায়ীদের উদ্দেশ্যে বলেছেন ‘আমেরিকায় পণ্য তৈরি করলে আমরা পৃথিবীর সবচেয়ে কম কর হার দিচ্ছি। কিন্তু যদি পণ্য আমেরিকায় তৈরি না করেন, তাহলে আপনাদের শুল্ক দিতে হবে।’ তিনি জানান কানাডা, মেক্সিকো ও চীনের মতো প্রধান বাণিজ্য অংশীদারদের ওপর ফেব্রুয়ারি থেকে উচ্চ শুল্ক আরোপ করতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

ট্রাম্প আরও বলেন, ‘তেলের নিম্ন দাম ইউক্রেনের যুদ্ধ শেষ করতে পারে। আমি সৌদি আরব ও ওপেককে তেলের দাম কমানোর অনুরোধ করব।তেলের দাম কমে গেলে, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ তৎক্ষণাৎ বন্ধ হয়ে যাবে। এখন দাম এতটাই বেশি যে এই যুদ্ধ চলতেই থাকবে।’ দায়িত্ব গ্রহণের পর এটি ছিল ট্রাম্পের প্রথম আন্তর্জাতিক ভাষণ। ইতোমধ্যে তিনি প্যারিস জলবায়ু চুক্তি ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার সদস্যপদ থেকে যুক্তরাষ্ট্রকে প্রত্যাহার করেছেন।