Home Blog Page 209

ট্রাম্পের নির্দেশে সোমালিয়ায় আইএস ঘাঁটিতে মার্কিন বিমান হামলা

সোমালিয়ায় বিমান হামলার নির্দেশ দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তার নির্দেশ মেনে ইতোমধ্যে হামলা চালানোও হয়েছে। গতকাল শনিবার ট্রাম্প সামাজিক মাধ্যম এক্সে এ বিষয়ে একটি পোস্ট দেন। পোস্টে তিনি ব্যাখ্যা দেন, সোমালিয়ায় অবস্থান করছেন জঙ্গি সংগঠন ইসলামিক স্টেটের (আইএস) একজন জ্যেষ্ঠ পরিকল্পনাকারী ও অন্যান্য সদস্য। তাদেরকে নির্মূলের উদ্দেশ্যে এই হামলার নির্দেশ দিয়েছেন বলে দাবি করেন ট্রাম্প। ট্রাম্প তার পোস্টে আরও লিখেন, ‘আইএস ও অন্য যারা আমেরিকানদের ওপর হামলা করতে চাইছে, তাদের জন্য স্পষ্ট বার্তা-আমরা আপনাদের খুঁজে বের করব এবং হত্যা করব।’

যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ জানান, গোলিস পর্বতে এই হামলা চালানো হয়। প্রাথমিক নিরীক্ষায় জানা গেছে, অসংখ্য জঙ্গি সদস্য নিহত হয়েছেন। তবে কোনো বেসামরিক ব্যক্তি এই হামলায় হতাহত হননি। সোমালিয়ার প্রেসিডেন্টের কার‍্যালয় থেকে জানানো হয়েছে, প্রেসিডেন্ট হাসান শেখ মোহামুদকে এই বিমানহামলার বিষয়ে আগাম বার্তা দেওয়া হয়েছিল। তিনি ‘জঙ্গিদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ে নিরলস সমর্থন জোগানোর’ জন্য ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হৃদয়ে অন্তঃস্থল থেকে কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন। সোমালিয়ায় বেশ কয়েক বছর ধরেই হামলা চালিয়ে যাচ্ছে যুক্তরাষ্ট্র। ডেমোক্র্যাটিক ও রিপাবলিকান, উভয় প্রশাসনই এসব হামলা চালিয়েছে।

কীভাবে ঘুমালে ভালো ঘুম হয় ?

কেউ রাতে চিৎ হয়ে শোয়, কেউ পাশ ফিরে, কেউ বা উপুড় হয়ে। কিন্তু কোন ভাবে শুলে আসলে ঘুম ভালো হয়? ভালো হওয়া মানে ঘুম ভাঙার পর নিজেকে সতেজ মনে হওয়া, শরীরে কোনও অস্বস্তি না বোধ করা। গবেষণায় দেখা গিয়েছে যে, মানুষ ৫০ ভাগেরও বেশি সময় কোনও এক পাশ ফিরে, ৩৮ ভাগ সময়ের মতো চিৎ হয়ে এবং ৭ শতাংশ সময় বুকের ওপর ভর দিয়ে অর্থাৎ উপুড় হয়ে ঘুমান। যার বয়স যত বেশি, তিনি তত কাত হয়ে ঘুমান। সবকিছু বিবেচনায় পাশ ফিরে ঘুমালে বেশি সুবিধা পাওয়া যায় বলেই মনে হয়। তবে সঠিক ভঙ্গি না হলে ঘাড় ও পিঠে ব্যথা হতে পারে। চিৎ হয়ে ঘুমালে নাক ডাকা বাড়ে। তবে প্রত্যেকটি মানুষ আলাদা বিধায় এটি এখনও কারো ভালো ঘুম হওয়ার সবচেয়ে ভালো উপায় হতে পারে। যদি কারও ঘুমের অবস্থানের কারণে এখন ভালো ঘুম না হয়, তাহলে তার শোয়ার ধরনে পরিবর্তনের চেষ্টা করা উচিত।


এবার শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে চাপে সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট

গত নভেম্বরে সার্বিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর নোভি সাদে একটি রেলস্টেশনের ছাদ ধসে ১৫ জন নিহত হন, এর জেরে শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে শুরু হয় বিক্ষোভ। একপর্যায়ে তা দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয় এবং পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে।

দুর্নীতি বন্ধে সার্বিয়ার দ্বিতীয় বৃহত্তম শহর নোভি সাদে গত শনিবারও সড়ক ও সেতু অবরোধ করে বড় ধরনের বিক্ষোভ করেছেন হাজারো শিক্ষার্থী। তিন মাস আগে রেলস্টেশনের ছাঁদ ধসে মারাত্মক দুর্ঘটনার পর এ বিক্ষোভ শুরু হয়। শনিবার ছিল তারই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ সমাবেশ। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীদের নেতৃত্বে এ বিক্ষোভ ইতিমধ্যে প্রেসিডেন্ট আলেকসান্দার ভুসিচের সরকারের ওপর চাপ সৃষ্টি করেছে। এর ফলে দেশটির প্রধানমন্ত্রী মিলোস ভুচেভিচসহ উচ্চপদস্থ বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা পদত্যাগ করেছেন। বিক্ষোভকারী শিক্ষার্থীরা ছাঁদধসের জন্য সরকারের দুর্নীতি ও অদক্ষতাকে দায়ী করে সংশ্লিষ্ট ব্যাক্তিদের জবাবদিহির দাবি জানিয়েছেন।

গত নভেম্বরে সার্বিয়ার উত্তরাঞ্চলীয় শহর নোভি সাদে একটি রেলস্টেশনের ছাদ ধসে ১৫ জন নিহত হন, এর জেরে শুরু হয় বিক্ষোভ।একপর্যায়ে তা দুর্নীতিবিরোধী বিক্ষোভে রূপ নেয় এবং পুরো দেশে ছড়িয়ে পড়ে। শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভে শহরের বাসিন্দাদের সঙ্গে ট্রাক্টর নিয়ে কৃষকেরাও যুক্ত হন। সার্বিয়ার প্রেসিডেন্ট এ বিক্ষোভের পেছনে বিদেশি শক্তির মদদের কথা বলছেন।

মহাসাগর আগের চেয়ে দ্রুত উষ্ণ হচ্ছে

মহাসাগরগুলোর উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়বে পৃথিবী। যার মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী মাত্রার ঝড় ও ঘূর্ণিঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও উপকূলীয় বন্যা, সামুদ্রিক জীবন ও প্রবাল প্রাচীরের ক্ষতি করবে এমন মাত্রার তাপপ্রবাহ

১৯৮০ এর দশকের শেষের দিক থেকে মহাসাগরের উষ্ণতার হার চারগুণেরও বেশি হয়েছে বলে উঠে এসেছে যুক্তরাজ্যের রিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীদের একটি নতুন গবেষণায়। গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘এনভায়রনমেন্টাল রিসার্চ লেটার্স’ এ। এতে গবেষকরা ব্যাখ্যা করেছেন, ২০২৩ ও ২০২৪ সালের প্রথম দিকে মহাসাগরের তাপমাত্রা কেন ইতিহাসের সবচেয়ে উষ্ণতম হয়েছিল। ১৯৮০ এর দশকের শেষের দিকে মহাসাগরের তাপমাত্রা প্রতি দশকে ০.০৬ ডিগ্রি সেলসিয়াস হারে বাড়ছিল। কিন্তু এখন প্রতি দশকে ০.২৭ ডিগ্রি সেলসিয়াস হারে উষ্ণ হচ্ছে, যা চার গুণ হয়েছে।

গবেষকরা বলছেন, মহাসাগরের এই উষ্ণতা বেড়ে যাওয়ার মূল কারণ হচ্ছে পৃথিবীর শক্তির ভারসাম্যহীনতা। কার্বন ডাই অক্সাইড ও অন্যান্য গ্রিনহাউস গ্যাসের ঘনত্ব বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পৃথিবী বেশি শক্তি শোষণ করছে। এতে বিভিন্ন সাগর ও মহাসাগর উষ্ণ হচ্ছে।২০১০ সাল থেকে দ্বিগুণ হয়েছে পৃথিবীর এই শক্তির ভারসাম্যহীনতা, যা দ্রুত পৃথিবীর মহাসাগরকে উষ্ণতার দিকে নিয়ে যাচ্ছে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালের শুরুর দিকে গোটা বিশ্বে মহাসাগরের তাপমাত্রা টানা ৪৫০ দিন রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে। রেকর্ড উষ্ণতার জন্য ৪৪ শতাংশ দায়ী হচ্ছে সমুদ্রের তাপমাত্রা ক্রমাগত বৃদ্ধি।

আগামী ২০ বছরে মহাসাগরের উষ্ণতা গত ৪০ বছরের চেয়ে বেশি হতে পারে বলে গবেষণায় সতর্ক করেছেন গবেষকরা। মহাসাগরগুলো পৃথিবীর জলবায়ু নিয়ন্ত্রণ করার ফলে ভয়াবহ প্রাকৃতিক দুর্যোগের মুখে পড়বে পৃথিবী। যার মধ্যে রয়েছে শক্তিশালী মাত্রার ঝড় ও ঘূর্ণিঝড়, সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতা বৃদ্ধি ও উপকূলীয় বন্যা, সামুদ্রিক জীবন ও প্রবাল প্রাচীরের ক্ষতি করবে এমন মাত্রার তাপপ্রবাহ।বিজ্ঞানীরা বলছেন, মহাসাগরের উষ্ণতা কমিয়ে আনার সেরা উপায় হচ্ছে জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং এটিকে সৌর ও বায়ু শক্তির মতো পরিবেশবান্ধব বিভিন্ন শক্তির উৎসে রূপান্তর করা। এজন্য এখনই পদক্ষেপ নেওয়া জরুরি।

জুলাই ঘোষণাপত্রে রাজনৈতিক দলগুলোর অবদানের স্বীকৃতি ও নির্বাচনের কথা যুক্ত করার প্রস্তাব দেবে বিএনপি

স্বৈরাচার শেখ হাসিনার শাসনের বিরুদ্ধে বিগত ১৬ বছরের আন্দোলন ও নির্যাতিত হওয়ার ঘটনাপ্রবাহ এবং শেষ পর্যন্ত গণ-অভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দলগুলোর অবদানকে প্রাধান্য দিয়েছে বিএনপি তাদের প্রস্তাবে।

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ‘ঘোষণাপত্রের’ প্রয়োজনীয়তা ও এর আইনগত দিক নিয়ে বিএনপির প্রশ্ন থাকলেও আন্দোলনের পক্ষের শক্তির ঐক্য ধরে রাখার বিষয় বিবেচনায় নিয়ে তাঁরা ঘোষণাপত্রের জন্য প্রস্তাব দিচ্ছেন।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, ছাত্রদের খসড়ায় কেবল ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ৩৬ দিনের আন্দোলন ও গণ-অভ্যুত্থান প্রাধান্য পেয়েছে। এতে রাজনৈতিক দলগুলোর অবদানের কথা সেভাবে আসেনি বলে বিএনপি ও এর মিত্র দলগুলোর নেতাদের অনেকে মনে করেন। স্বৈরাচার শেখ হাসিনার শাসনের বিরুদ্ধে বিগত ১৬ বছরের আন্দোলন ও নির‍্যাতিত হওয়ার ঘটনাপ্রবাহ এবং শেষ পর‍্যন্ত গণঅভ্যুত্থানে রাজনৈতিক দলগুলোর অবদানকে প্রাধান্য দিয়েছে বিএনপি তাদের প্রস্তাবে।

শুধু ‘২৪ এর গণঅভ্যুত্থানের মধ্যেই থাকেনি বিএনপি। স্বাধীন বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক সব আন্দোলন ও ঐতিহাসিক বিভিন্ন পরিবর্তনও জায়গা পেয়েছে বিএনপির প্রস্তাবে। একাত্তরের মুক্তিযুদ্ধ প্রসঙ্গও তাদের প্রস্তাবে রাখা হয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। শেষ দফায় তারা নির্বাচনের কথা এনেছে। বলা হয়েছে, জনগণের আকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী বৈষম্যহীন সমাজের অভিপ্রায় থেকে ন্যূনতম সময়ের মধ্যে একটি নির্বাচিত সরকার প্রতিষ্ঠা করা প্রয়োজন। বিএনপির একাধিক নেতা প্রথম আলোকে বলেন, এ গণঅভ্যুত্থানকে তারা বিপ্লব হিসেবে দেখতে চান না। এ ছাড়া বর্তমান সংবিধানের ভিত্তিতেই অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত হয়েছে।অন্যদিকে ঘোষণাপত্রের আইনি ভিত্তি কী হবে, এ নিয়েও প্রশ্ন রয়েছে। তারা মনে করেন, আইনি দিক নিয়ে অনেক আলোচনার প্রয়োজন হবে।

আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ করতে হলে পার্লামেন্টে বসে সিদ্ধান্ত নিতে হবে : মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর

আমরা যেটা বলেছি , একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করতে হলে পার্লামেন্টে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে জনগণের হাত দিয়ে সম্মিলিতভাবে তা করা উচিত : মির্জা ফখরুল

… (গণঅভ্যুত্থানের পর) সেই সময়ে জাতীয় সরকার হলে তাহলে আরেকটি নির্বাচন হতো না। তাহলে হয়তো আরেকটি পাল্টা ক্যু (অভ্যুত্থান) হয়ে যেত। কারণ বাংলাদেশের মানুষ এখনই একটি বিষয় নিয়ে একমত হতে পারেন না। তখন জাতীয় সরকার হলে তো প্রতিদিনই একেকটি বিষয় নিয়ে বিতর্ক তৈরি হতো। আমরা যেটা চাইছি, একটি নির্বাচিত জাতীয় সরকার। … আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা হবে কিনা, এই সিদ্ধান্ত জনগণকে নিতে হবে। গোটা রাষ্ট্র মিলে এই সিদ্ধান্তটি নিতে হবে। পার্লামেন্টে বসে সিদ্ধান্ত নিলে সেটা সবচেয়ে ভালো হয় । … আমরা যেটা বলেছি, একটি রাজনৈতিক দলকে নিষিদ্ধ করতে হলে পার্লামেন্টে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে জনগণের হাত দিয়ে সম্মিলিতভাবে তা করা উচিত।

… ‘বিল্পব’ হলে তার একটি বিপ্লবী বাহিনী থাকবে। কর্মসূচি থাকবে। এখানে তার কিছুই নেই। এখানে যেটা হয়েছে মানুষ স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশ নিয়েছে। একটা গণবিস্ফোরণ হয়েছে। গণঅভ্যুত্থানের মধ্য দিয়ে ফ্যাসিস্ট শক্তি ক্ষমতাচ্যুত হয়েছে। … ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ নিয়ে আমাদের কোনো বিরোধ নেই। আমরা বিরোধিতা করেছিলাম সেকেন্ড রিপাবলিকের বিষয়ে। ‘জুলাই ঘোষণাপত্র’ নিয়ে আমরা কাজ করছি। … একাত্তর ও চব্বিশকে দুঃখজনকভাবে মুখোমুখি দাঁড় করানো হয়েছে। একাত্তরে যারা বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধকে মেনে নিতে পারেনি, তাদের মধ্যে এই চেষ্টাটা থাকতে পারে । …আমি মনে করি, ১৯৭১ ও ২০২৪ এক নয়।

… বাংলাদেশের মানুষ ধর্মভীরু, ধর্মান্ধ নয়। আমরা স্পষ্টভাষায় বলতে চাই, বাংলাদেশে কোনো ধরনের ধর্মান্ধতাকে আমরা প্রশ্রয় দেব না। এসব (নারী ফুটবল অভিনেত্রীদের কর্মসূচিতে বাধা) যারা করছেন, তারা বাংলাদেশের পক্ষের শক্তি নয়। … দখল, চাঁদাবাজির ঘটনা যাতে না ঘটে আমাদের পার্টির পক্ষ থেকে সেসব বিষয়ে কঠোরভাবে বলা আছে। পাশাপশি কিছু আছে অতিরঞ্জন। … আমরা কোনো অবস্থাতেই এ ধরনের লোকদের (ঋণখেলাপিদের দলীয় মনোনয়ন) বিবেচনায় রাখব না। এটা আমাদের দলীয় সিদ্ধান্ত। …

নারীদের বিকাশ হতে না দেয়ার রাজনীতি বহুবছর ধরে চলে আসছে : আশফাক নিপুণ

দেশের নানা ইস্যুতে সরব চলচ্চিত্র নির্মাতা আশফাক নিপুন মনে করেন নারীদের বাধা দিয়ে যে রাজনীতিটা করা হচ্ছে সেটি সুপ্রতিষ্ঠিত হতে দেয়া যাবে না । এটার জন্য কাজ করতে হবে : সামাজিক ভাবে বা রাষ্ট্রীয়ভাবে ।

‘নারী অভিনেতাদের দিয়ে শোরুম উদ্বোধন করতে না দেয়া এবং নারী ফুটবল দলকে খেলতে না দেয়া এটি পুরোপুরি রাজনৈতিক একটি বিষয়। যদি কেউ মনে করেন এটি বিচ্ছিন্ন ঘটনা তাহলে ভুল। এটি রাজনীতি। নারীদের বিকাশ হতে না দেয়া রাজনীতি বহুবছর ধরে চলে আসছে। বিবিসি বাংলাকে এই কথাগুলো বলছিলেন নির্মাতা আশফাক নিপুন। দেশের নানা ইস্যুতে সরব নির্মাতা আশফাক নিপুন মনে করেন, এ ভাবে বাধা দেওয়ার বিষয়টি বহু বছর ধরে চলে আসলেও ২০২৫ সালে এসে বিষয়টি একেবারে অচল। নারীদের বাধা দিয়ে যে রাজনীতিটা করা হচ্ছে সেটি সুপ্রতিষ্ঠিত হতে দেয়া যাবে না।

“এটার জন্য আমাদের কাজ করতে হবে। সেটা সামাজিক ভাবে হোক বা রাষ্ট্রীয়ভাবে হোক, যোগ করেন নিপুন। তিনি বলেন, যে কোনো মব বা তৌহিদী জনতার ব্যানারে যা কিছুই ঘটুক সেটা প্রতিহত করা দরকার। আমি এটির তীব্র প্রতিবাদ জানাই।”


ডলারের আধিপত্য খর্বের চেষ্টা করলে ব্যবস্থা , ব্রিকসকে ফের হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের

‘তারা যেন নতুন ব্রিকস মুদ্রা সৃষ্টি না করে কিংবা এমন কোনো মুদ্রাকে পৃষ্ঠপোষকতা না দেয় যেটা শক্তিশালী মার্কিন ডলারের জায়গা নিতে পারে’ বললেন ট্রাম্প।

আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে ডলারের যে আধিপত্য তা খর্ব করে ব্রিকস জোট যদি অন্য কোনো মুদ্রাকে সামনে আনতে চায়, তাহলে তাদের রপ্তানিতে ১০০% শুল্ক আরোপ করা হবে বলে ফের হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ব্রাজিল, রাশিয়া, ভারত, চীন ও দক্ষিণ আফ্রিকা মিলে গড়া জোট ব্রিকসের সদস্যভুক্ত দেশের সংখ্যা এখন ১০, সর্বশেষ ইন্দোনেশিয়া এতে যুক্ত হয়েছে। ৩১ জানুয়ারি ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া পোস্টে তিনি বলেন আপাতদৃষ্টিতে বৈরি এই দেশগুলোর কাছ থেকে আমাদের প্রতিশ্রুতি আদায় করতে হবে যেন তারা নতুন ব্রিকস মুদ্রা সৃষ্টি না করে কিংবা এমন কোনো মুদ্রাকে পৃষ্ঠপোষকতা না দেয় যেটা শক্তিশালী মার্কিন ডলারের জায়গা নিতে পারে। তা না হলে তাদের ১০০ শতাংশ শুল্কের মুখোমুখি হতে হবে, এবং চমৎকার মার্কিন অর্থনীতিতে পণ্য বিক্রির আশা ছেড়ে দিতে পারে।

ব্রিকস জোটের সদস্যরা দীর্ঘদিন ধরেই বাণিজ্যে ডলারের আধিপত্য কমিয়ে আনার চেষ্টা করে যাচ্ছে। ইউক্রেইন আক্রমণের পর রাশিয়ার ওপর পশ্চিমাদের নিষেধাজ্ঞায় এই তৎপরতা আরও জোরদার হয়। তারা এখন পর‍ন্ত কোনো কমন মুদ্রা না বেছে নিলেও সদস্যদের মধ্যে নিজ নিজ মুদ্রায় বাণিজ্য বাড়ানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। তবে এত কিছুর পরও মার্কিন ডলার এখন পর‍ন্ত বিশ্বের সবচেয়ে প্রভাবশালী রিজার্ভ মুদ্রা। বিশ্বজুড়ে এর প্রভাব এখনো প্রতিদ্বন্দ্বীদের তুলনায় অনেক অনেক বেশি বলে গত বছর আটলান্টিক কাউন্সিলের জিওইকোনমিক্সের এক গবেষণায় বেরিয়ে এসেছে।


গাজার ভেতরে তল্লাশি চৌকিতে বেসরকারি মার্কিন নিরাপত্তা সংস্থা

গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র ঠিকাদারদের নিয়োগের ঘটনায় আমেরিকানরা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে , এমন আশঙ্কা অনেকের ।

ইউজি সলিউশনসের ফাঁস হওয়া এক ইমেইলে জানা যায় নিরাপত্তা ঠিকাদারদের প্রধান কাজ হলো ‘তল্লাশি চৌকি ব্যবস্থাপনা ও যানবাহন তল্লাশি চালানো’। তারা গাজায় এমফোর রাইফেল ও গ্লক পিস্তলসহ সশস্ত্র অবস্থায় থাকবে। এই অস্ত্র ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী বহন করে। এসব ঠিকাদাররা কখন গুলি চালাতে পারবে সেই নির্দেশনাও দেওয়া আছে। ইউজি তার কর্মীদের কাজের বিনিময়ে দিনে ১১০০ থেকে ১০ হাজার ডলার করে দেয়। যুক্তরাষ্ট্রের সশস্ত্র ঠিকাদারদের নিয়োগের ঘটনায় আমেরিকানরা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়তে পারে, এমন আশঙ্কা অনেকের। ২০০৭ সালে ব্ল্যাকওয়াটার কোম্পানির (এখন বন্ধ) ঠিকাদাররা বাগদাদের আল নিসুর স্কয়ারে ১৪ জন নিরস্ত্র বেসামরিক ব্যক্তিকে গুলি চালিয়ে হত্যা করেছিল। এতে কূটনৈতিক সংকট ও ইরাকিদের মধ্যে ক্ষোভ তৈরি করে।

যুক্তরাজ্যের দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে গাজায় তল্লাশি চৌকি পরিচালনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের ইউজি সলিউশনস নামের একটি নিরাপত্তা কোম্পানি ১০০ জনের একটি বিশেষ প্রশিক্ষিত দল পাঠিয়েছে। এক ফিলিস্তিনি কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের ঠিকাদাররা নেতজারিম করিডোরের তল্লাশি চৌকিতে উপস্থিত থাকবে। এই করিডোরটি গাজার উত্তর ও দক্ষিণ অংশকে ভাগ করেছে এবং সালাহ আল-দিন সড়কটি গাজার পূর্ব ও পশ্চিম অংশকে আলাদা করেছে।


পশ্চিমবঙ্গে কেন বাংলাদেশ বিরোধিতা বাড়ছে : শুভজিৎ বাগচী

… ভারতের সমাজে ‘গোলপোস্ট’ অর্থাৎ মৌলিক চরিত্রের পরিবর্তন হয়ে গেছে। খাতা-কলমে ভারত ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্র হলেও আসলে আর তা নয়। ভারতে এখন একটাই ন্যারেটিভ এবং সেটা হিন্দুত্ববাদী। শুধু বিজেপি নয়, কংগ্রেস, তৃণমূল কংগ্রেস থেকে মূলস্রোতের রাজনৈতিক দল, যেমন সিপিআইএম (কমিউনিস্ট পার্টি অব ইন্ডিয়া মার্ক্সবাদী) বা হয়তো নকশালপন্থীরাও কোনো না কোনোভাবে হিন্দুত্বের দ্বারা প্রভাবিত। … কেউ কখনো বলে না বিশেষত বুদ্ধিজীবীরা যে আমাদের একটা দল গঠন করে বাংলাদেশে গিয়ে দেখা দরকার, অত্যাচার কি শুধু হিন্দুদের ওপরে হয়েছে, নাকি মুসলমানদের ওপরেও হয়েছে? বা কীভাবে একটা দল ১৬ বছর নির্বাচন না করে ক্ষমতায় থেকে চরম নৈরাজ্যের জন্ম দিল? … তাদের একজনও প্রকাশ্যে ব্যাখ্যা করেন না কেন পরিস্থিতি এ জায়গায় পৌঁছাল, দ্বন্দ্ব এমন চরম আকার নিল।

… ভারতে যে ‘ইসলামোফোবিয়া’ মুসলমান সমাজকে ভোগ করতে হয়, এখন বন্ধু সরকার চলে যাওয়ার পরে তার কিয়ংদংশ বাংলাদেশকে করতে হচ্ছে এবং হবে। কোনো রাজনৈতিক দলই সরাসরি এর বিরোধিতা করবে না, কারণ ভারতে রাজনীতির ‘গোলপোস্ট’ পরিবর্তন হয়ে গেছে সবাই হিন্দু ভোট হারানোর ভয়ে ভীত। এই ‘ইসলামোফোবিয়া’ বিশেষ করে পশ্চিমবঙ্গে আগামী দিনে বাড়বে; কারণ, ২০২৬ সালের গোড়ায় এই রাজ্যে বিধানসভা ভোট আছে। বিজেপির কাছে পশ্চিমবঙ্গে এমন কোনো ইস্যু নেই, যা দিয়ে তারা তৃণমূলকে ঘায়েল করতে পারে। একমাত্র ইস্যু বাংলাদেশ ও সংখ্যালঘু নির্যাতন।

… তবে উল্লেখযোগ্যভাবে ভারত সরকারের ঘোষিত নীতি হলো বাংলাদেশে নির্বাচিত সরকারের সঙ্গে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সম্পর্কে একটা স্থিতাবস্থা বজায় রাখা ।… ভারত বোঝে, এটা ২০০১-০৬ সাল নয়, যখন বিএনপি-জামায়াতের সরকারের সঙ্গে কংগ্রেস-বিজেপির সম্পর্কের চরম অবনতি হয়েছিল। এই ২০ বছরে চীনের উত্থানের পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে যে পরিমাণে ব্যবসা বেড়েছে, সেটাও প্রায় অবিশ্বাস্য। সেটাও মাথায় রেখে দুই দেশই সম্পর্ক স্বাভাবিক করার চেষ্টা করবে। এ কারণে, বাংলাদেশে যে সরকারই আসুক, ভারতের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক স্তরে তার সম্পর্ক অতীতের মতো খারাপ হবে না।

কিন্তু দল হিসেবে বিজেপির এ রকম কোনো দায় নেই। উপরন্তু, পশ্চিমবঙ্গের প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো বিজেপির লাইন নিয়েছে। বিশিষ্টজনেরা নিয়েছেন চুপ থাকার লাইন। … এ অবস্থায় পশ্চিমবঙ্গ ও বাংলাদেশের মধ্যে সম্পর্ক খারাপ হবে। তবে আবার ধীরে ধীরে ভারত সরকারের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি হলে পশ্চিমবঙ্গও তখন আবার কেন্দ্রীয় সরকারের লাইন নেবে। আপাতত আশায় থাকতে হবে যে পশ্চিমবঙ্গে ও বাংলাদেশে নির্বাচনের পরে সম্পর্কে একটা ইতিবাচক উৎসাহ অনুভূত হবে।