Home Blog Page 208

মানুষের প্রত্যাশা যদি পূরণ না হয় , পরিবর্তন যদি না দেখে , মানুষের সেই ক্ষোভ কিন্তু যাবে না : উপদেষ্টা মো. নাহিদ ইসলাম , প্রথম আলো’র সাথে সাক্ষাৎকারে

“… আমরা যাঁরা গণঅভ্যুত্থানের প্রতিনিধিত্ব করছি, আমরাও মনে করি যে আওয়ামী লীগের রাজনৈতিক বা নৈতিক অধিকার নেই এই দেশে এই (আওয়ামী লীগ) নামে বা এই আদর্শ নিয়ে আর রাজনীতি করার। এটার লিগ্যাল ফ্রেমওয়ার্কটা (আইনি কাঠামো) কী হবে, এ বিষয়ে সরকার এখনো সিদ্ধান্ত নেয়নি। কিন্তু বিচারপ্রক্রিয়া এগোলে আদালত থেকে সুপারিশ আসতে পারে, নির্বাচন কমিশন থেকে সুপারিশ আসতে পারে এবং রাজনৈতিক দলগুলোরও মতামত থাকবে। এসব বিবেচনায় হয়তো আমরা আওয়ামী লীগের ব্যাপারে একটা চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেব। তার আগে বিচার কার্যক্রমটা প্রধান। বিচারের মধ্য দিয়েই আমরা বুঝতে পারব আওয়ামী লীগের দল হিসেবে অংশগ্রহণ (গণহত্যায়) কতটুকু, দলটির নেতা-কর্মীদের কত অংশ জড়িত এবং কীভাবে অপরাধটা সংঘটিত করেছিলেন।

… আমাদের সমাজের একটা বাস্তবতা আছে। তখন জাতি নারীদের অংশগ্রহণকে সেলিব্রেট (স্বাগত) করেছে। কিন্তু রাজনীতিতে নারীদের অংশগ্রহণের বিষয়টি মানুষ এখনো ওইভাবে সেলিব্রেট করে না। আপনি দেখবেন, আমাদের যাঁরা নারী আন্দোলনকারী বা সমন্বয়ক আছেন, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম থেকে শুরু করে বিভিন্ন ক্ষেত্রে তাঁরা কিন্তু নানা ধরনের ‘বুলিংয়ের’ শিকার হচ্ছেন। আমাদের রাজনীতিতে পেশি শক্তির ব্যবহার, মারামারি-হানাহানির সংস্কৃতি আছে, যেটা এখনো যায়নি। সেই জায়গা থেকে পরিবারগুলোর শঙ্কা থাকে। সমাজ তাঁদের নানাভাবে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে। সেই জায়গা থেকে নারীদের বড় অংশ ঘরে ফিরে গেছে।

তারপরও আমি মনে করি তাদের মধ্যে এখনো সেই বিপ্লবী চেতনাটা আছে। তাঁরা আমাদের সঙ্গে নানাভাবে অংশগ্রহণ করতে চায়, যুক্ত থাকতে চায়। আমরাও বিভিন্নভাবে উদ্যোগ নেওয়ার চেষ্টা করছি। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস নিজেই একটা কর্মসূচি করেছেন জুলাই কন্যাদের নিয়ে, যে নারী শিক্ষার্থীরা বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয় ও জেলায় আন্দোলনে ছিলেন। … নারীদের রাজনীতি বা নেতৃত্বে আরও বেশি অংশগ্রহণের জন্য আসলে সামাজিক-সাংস্কৃতিক পরিবর্তনটা দরকার।

… গণমাধ্যমের ওপর সরকারের জায়গা থেকে কোনো ধরনের চাপ নেই। কিন্তু বিভিন্ন ধরনের সামাজিক চাপ তৈরি হয়েছে। এ বিষয়ে সরকার কিন্তু গণমাধ্যমকে সহযোগিতা করেছে।… তবে আমাদের রাজনৈতিকভাবে অনুসন্ধান করা উচিত, কেন জনগণের একটা অংশ গণমাধ্যমের ওপর ক্ষুব্ধ, গত ১৫ বছরে গণমাধ্যমের কী ভূমিকা ছিল। …কোন পরিস্থিতিতে বা কেন তারা সংবাদ প্রচার করতে পারেনি, কোন ধরনের চাপে তারা ছিল, গণমাধ্যমগুলোর জায়গা থেকেও আসলে এই বক্তব্যগুলো আসা প্রয়োজন।

… মানুষ চেয়েছিল অর্থনৈতিক পরিস্থিতিটা সামাল দেওয়া যাবে… কিন্তু এই সরকার তো আগের সরকারের ধ্বংসাবশেষের ওপর তৈরি হয়েছে। আমরা আমলাতন্ত্র, পুলিশকে যে জায়গায় পেয়েছি… সরকারকে সেই জায়গা থেকে উঠে দাঁড়াতে হয়েছে। উঠে দাঁড়ানোর ক্ষেত্রে নানা ধরনের প্রতিবন্ধকতা, ষড়যন্ত্র…। আগে শত্রু মনে হতো একটা, এখন মনে হচ্ছে চতুর্মুখী। নানা ধরনের শত্রু আছে। যেভাবে চাঁদাবাজি বেড়েছে… মানুষের তো এটাও প্রত্যাশা ছিল যে গণ-অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণের মধ্য দিয়ে রাজনৈতিক সংস্কৃতির পরিবর্তন হবে। যে দলগুলো অভ্যুত্থানে অংশগ্রহণ করেছে, তাদের কর্মীরাই তো চাঁদাবাজিতে। সেই রাজনৈতিক সদিচ্ছা তো তাদের পক্ষ থেকেও লাগবে। রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে শুধু গ্রেপ্তার করে বা আইনশৃঙ্খলা দিয়ে তো এটার পরিবর্তন হবে না।

… আমরা যদি সংস্কার ছাড়া নির্বাচন করে কোনো দলের হাতে ক্ষমতা দিয়ে দিই, তাদের জন্যই সরকার চালানো কঠিন হবে। মানুষের প্রত্যাশা যদি পূরণ না হয়, পরিবর্তন যদি না দেখে, মানুষের সেই ক্ষোভ কিন্তু যাবে না। … (জনপ্রত্যাশা পূরণের ক্ষেত্রে সরকারকে) আমি ৫০ শতাংশের কিছু কম দেব। সরকারের সীমাবদ্ধতা ও চ্যালেঞ্জ আছে। কিন্তু সরকারের সদিচ্ছাটা সম্পূর্ণভাবে আছে। যদি রাজনৈতিক দল, অভ্যুত্থানের শক্তি এবং সাধারণ মানুষের জায়গা থেকে আরও সহযোগিতা পাওয়া যায়, আমরা আশা করি সরকার আরও কার্যকর হতে পারবে। … নানা আন্দোলন কিন্তু সেভাবে আগের মতো দমন করা হচ্ছে না। আমরা সেটা করতেও চাই না। আলোচনার মাধ্যমে সমাধান করার চেষ্টা হচ্ছে। “




ট্রাম্পের বিস্ফোরক ঘোষণা ‘ যুক্তরাষ্ট্র গাজা উপত্যকার দখল নেবে ‘

যুক্তরাষ্ট্র সফররত ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে মঙ্গলবার ৪ জানুয়ারি এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হতবাক করা এক ঘোষণায় বলেছেন – ‘যুক্তরাষ্ট্র গাজা উপত্যকার দখল নেবে এবং আমরা এটিকে নিয়ে কাজও করব। আমরা এটির মালিক হব এবং সেখান থেকে সব বিপজ্জনক অবিস্ফোরিত বোমা ও অন্যান্য অস্ত্রশস্ত্র ধ্বংস করার দায়দায়িত্ব নেব।’ ট্রাম্প আরও বলেন, ‘যদি প্রয়োজন হয়, আমরা এটা করব। আমরা ভূখণ্ডটির দখল নিতে যাচ্ছি। আমরা এটির উন্নয়ন করতে চলেছি। এখানে হাজার হাজার কাজের সুযোগ তৈরি হবে এবং এটা এমন কিছু হবে, যার জন্য পুরো মধ্যপ্রাচ্য অনেক গর্বিত হবে।’

গাজায় কারা বসবাস করবেন, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, এটা বিশ্বের সব মানুষের বাড়ি হবে। নেতানিয়াহু বলেন, ট্রাম্প প্রচলিত চিন্তাভাবনার বাইরে নতুন পরিকল্পনা নিয়ে ভাবছেন ও প্রচলিত ভাবনা কাটানোর ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। ট্রাম্পকে গতকাল প্রশ্ন করা হয়েছিল কীভাবে ও কোন কর্তৃত্ব বলে যুক্তরাষ্ট্র গাজার দখল নেবে, ট্রাম্প সরাসরি এ প্রশ্নের জবাব দেননি। ট্রাম্প বলেন, ‘আমি একটি দীর্ঘমেয়াদি মালিকানা দেখতে পাচ্ছি এবং আমি দেখতে পাচ্ছি, এটা মধ্যপ্রাচ্যের এ অংশে দারুণ স্থিতিশীলতা বয়ে আনবে। আমি বেশ কয়েক মাস ধরে খুব নিবিড়ভাবে এ নিয়ে গবেষণা করেছি।’ তিনি গাজা সফরে যাওয়ার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন। তবে কবে নাগাদ যাবেন, সে বিষয়ে কিছু বলেননি।

এর আগে ট্রাম্প আবারও জর্ডান, মিসর ও অন্যান্য আরব দেশকে গাজার বাসিন্দাদের দায়িত্ব নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘গাজার বাসিন্দাদের সামনে উপত্যকাটি ছেড়ে চলে যাওয়া ছাড়া আর কোনো পথ খোলা নেই। গাজাকে পুনরায় নির্মাণ করতে হবে।’ গাজা নিয়ে ট্রাম্পের এ ঘোষণার পর পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক কিছু বিশেষজ্ঞ বলেন, ট্রাম্প মাঝেমধ্যে ভবিষ্যৎ আলোচনা কোন পথে এগোবে, তা ঠিক করে দিতে চরম অবস্থান গ্রহণ করেন। নিজের প্রথম মেয়াদেও ট্রাম্প মাঝেমধ্যে এমন কিছু ঘোষণা দিয়েছিলেন, যেগুলো বৈদেশিক নীতির বাড়াবাড়ি বলে মনে হয়েছিল। ওই সব ঘোষণার অনেকটি ট্রাম্প কখনো বাস্তবায়ন করেননি।

যুক্তরাষ্ট্র গাজার নিয়ন্ত্রণ নিলে তা ওয়াশিংটন ও আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের অধিকাংশের বহু দশকের গৃহীত নীতির পরিপন্থী হবে। এ নীতিতে বলা আছে, গাজা একদিন ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের অংশ হবে এবং অধিকৃত পশ্চিম তীর এর অন্তর্ভুক্ত থাকবে। গাজার বাসিন্দাদের যদি জোর করে উচ্ছেদ করা হয়, সেটি আন্তর্জাতিক আইনের লঙ্ঘন হবে এবং শুধু এ অঞ্চলের দেশগুলোই নয়; বরং ওয়াশিংটনের পশ্চিমা মিত্ররাও এর জোর বিরোধিতা করবে। হামাসের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা সামি আবু জুহরি বলেন, ‘আমরা মনে করি, তারা এ অঞ্চলে বিশৃঙ্খলা ও উত্তেজনা সৃষ্টির আয়োজন করছে। কারণ, গাজার বাসিন্দারা এ ধরনের পরিকল্পনা সফল হতে দেবেন না।’



সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বিশাল খরচ দেখানো হলেও গরিব মানুষের জন্য বরাদ্দ সামান্যই

অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত অর্থনৈতিক কৌশল পুননির্ধারণ টাস্কফোর্সের সম্প্রতি প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে – ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের দেওয়া চলতি অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক সুরক্ষায় বরাদ্দ রাখা অর্থের ৫৩ শতাংশই সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়। অবসরভোগী সরকারি কর্মচারীর পেনশন, কৃষি খাতে ভর্তুকি ও সঞ্চয়পত্রের সুদ পরিশোধসহ ২১টি খাতকে গরিব মানুষের সুরক্ষার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয় বলে মনে করছে টাস্কফোর্স।

সামাজিক সুরক্ষার নামে কিছু খাতে বরাদ্দের আরও কিছু উদাহরণ দেওয়া হয়েছে, যেমন – জয়িতা ফাউন্ডেশনের ভবন নির্মাণ, ভূমিকম্পসহ অন্যান্য প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলায় যন্ত্রপাতি কেনা, জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের কল্যাণে অনুদান, ইলিশ মাছ সম্পদ উন্নয়নে প্রযুক্তি কর্মসূচি, বাংলাদেশ কর্মচারী কল্যাণ বোর্ড, গ্রামীণ যোগাযোগ অবকাঠামো উন্নয়ন, বিনা মূল্যে বই ছাপা ও বিতরণের খরচ। সামাজিক সুরক্ষা বাজেটের নামে বরাদ্দ রাখা হলেও এসব টাকা শেষ পর্যন্ত দরিদ্র ও আর্থিকভাবে ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী পায় না। ফলে তাদের দারিদ্র্য অবস্থারও উন্নতি হয় না।

প্রতিবেদনে বলা হয়, দেশের দরিদ্র ও ঝুঁকিপূর্ণ প্রায় ৫৪ শতাংশ পরিবার সামাজিক সুরক্ষা আওতার বাইরে। অন্যদিকে সামাজিক সুরক্ষার সুবিধা পায়, এমন ৬২ শতাংশ পরিবার গরিব নয় এবং তারা কোনো ঝুঁকির মধ্যেও নেই। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, এসব ত্রুটি দূর করা গেলে আরও অন্তত ১১ লাখ মানুষকে অতিদরিদ্র ও ২৫ লাখ মানুষকে দারিদ্র্য থেকে বের করে আনা সম্ভব হতো। টাস্কফোর্স মনে করে, সামাজিক সুরক্ষা হিসেবে সুবিধাভোগীদের যত টাকা ভাতা দেওয়া হয়, তা ন্যূনতম জীবনধারণের জন্য পর্যাপ্ত নয়। এই ভাতা বাড়ানোর সুপারিশ করা হয়। বর্তমানে প্রতি মাসে ৬০০ টাকা করে বয়স্কভাতা, ৫৫০ টাকা করে বিধবা ভাতা ও ৮৫০ টাকা করে প্রতিবন্ধী ভাতা দেওয়া হয়।

অর্থ মন্ত্রণালয়ের বাজেট দলিল অনুসারে, চলতি অর্থবছরের বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে মোট ১ লাখ ৩৬ হাজার ২৬ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। মোট ১৪০টি খাতে এসব অর্থ ব্যয় করা হবে। টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জাতীয় সামাজিক নিরাপত্তা কৌশলপত্রের (এনএসএসএস) সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়, এমন ২১টি খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে মোট ৭২ হাজার ৬৯৫ কোটি টাকা।টাস্কফোর্সের প্রতিবেদনে বলা হয়, চলতি অর্থবছরে সামাজিক নিরাপত্তা খাতে বাজেটের ১৭ শতাংশ বরাদ্দ রাখা হয়েছে। এর মধ্যে পেনশনের মতো অসামঞ্জস্যপূর্ণ ২১টি কর্মসূচি বাদ দিলে সেই বরাদ্দ কমে দাঁড়ায় মাত্র ৭ শতাংশে।


সংবিধানে ধর্মনিরপেক্ষতা ও রাষ্ট্রধর্ম : যা বললেন আলী রীয়াজ

‘… শেখ হাসিনা তাঁর বাবা মুজিবের মতোই স্বৈরাচারী শাসনকে চার রাষ্ট্রীয় মূলনীতির মোড়কে বৈধতা দিয়েছেন। গণ-অভ্যুত্থান এই মতাদর্শকে প্রত্যাখ্যান করেছে। আমাদের সুপারিশ কেবল জনগণের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন। … আমাদের সুপারিশে ধর্মনিরপেক্ষতার (সেক্যুলারিজম অর্থে) পরিবর্তে আরও বিস্তৃত নীতি হিসেবে বহুত্ববাদকে গ্রহণ করা হয়েছে। সাম্প্রতিক দশকগুলোতে ধর্মনিরপেক্ষতার ধারণা সংশোধিত বা পরিত্যক্ত হয়েছে। ধর্মনিরপেক্ষতার তত্ত্ব ও এর বিভিন্ন রূপকে বিভিন্ন কারণে চ্যালেঞ্জ করা হয়েছে। বিশেষ করে, এটি অপশ্চিমা সমাজগুলোর বৈচিত্র্য ধারণে কতটা কার্যকর সে প্রশ্ন তুলেছেন গবেষকেরা।

… তবে এসব তাত্ত্বিক বিতর্কের বাইরেও বাংলাদেশে ধর্মনিরপেক্ষতাকে জাতিকে বিভক্ত করার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে। বিশেষ করে, গত এক দশকে এক স্বৈরাচারী সরকার এটিকে অস্ত্র হিসেবে প্রয়োগ করেছে। … আমাদের কমিশনের সুপারিশ হলো, বহুত্ববাদ গ্রহণ করা। বহুত্ববাদ এমন এক নীতি যা শুধু ধর্মীয় বৈচিত্র্য-হিন্দু, বৌদ্ধ, আহমদিয়া, বাহাই সম্প্রদায়ের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করবে না, বরং দলিত ও তৃতীয় লিঙ্গের মানুষের মতো প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকেও সামাজিক ও রাজনৈতিক জীবনে সমানভাবে অংশগ্রহণের সুযোগ দেবে। লক্ষণীয় যে, রাষ্ট্রের মৌলিক নীতি হিসেবে ধর্মনিরপেক্ষতা থাকা সত্ত্বেও সংখ্যালঘু নির্যাতন দীর্ঘকাল ধরে অব্যাহত ছিল। … আমরা যখন সমাজের বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে পরামর্শ করেছি তখন বিপুলসংখ্যক মানুষ ইসলামকে রাষ্ট্রধর্ম হিসেবে বহাল রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন।

… আমরা আমাদের পর্যালোচনা প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে ১২১টি দেশের সংবিধান পর্যালোচনা করেছি, যার মধ্যে বাংলাদেশের সংবিধানও অন্তর্ভুক্ত ছিল। এই পর্যালোচনা থেকে আমরা দেখেছি যে, ১৯টি দেশে রাষ্ট্রধর্ম আছে এবং ৭৫টি দেশের সংবিধানে ‘পরমেশ্বরের প্রতি বিশ্বাস’-এর কথা উল্লেখ আছে। অনেক পশ্চিমা দেশেও একটি রাষ্ট্রধর্ম বা একক ধর্মের সরকারি স্বীকৃতি রয়েছে। … রাষ্ট্র অনুমোদিত ধর্ম থাকলেও রাষ্ট্র এবং ধর্মের ভূমিকা আলাদা হতে পারে। ইসরায়েলের বার এলান ইউনিভার্সিটির ধর্ম ও রাষ্ট্র (আরএসএস) সংক্রান্ত গবেষণার তথ্য-উপাত্তের ভিত্তিতে জনাথন ফক্স বলেছিলেন যে, এ ধরনের পরিস্থিতি নাটকীয়ভাবে ভিন্ন হতে পারে। তিনি যুক্তরাজ্য এবং ইরানকে উদাহরণ হিসেবে দিয়েছেন। উভয় দেশেই রাষ্ট্রধর্ম বা সরকারি গির্জা আছে, তবে এই দুই রাষ্ট্রের কার্যক্রমে ধর্মের ভূমিকা একেবারে বিপরীত।

সংশোধিত সংবিধান অনুযায়ী বাংলাদেশের রাষ্ট্র ও ধর্মের সম্পর্ক গত কয়েক দশকের মতোই থাকবে। যতক্ষণ না ধর্ম আইনগত ব্যবস্থার উৎস হিসেবে কাজ করছে অথবা রাজনৈতিক-আইনি প্রতিষ্ঠানগুলোকে চ্যালেঞ্জ করছে, ততক্ষণ উদ্বেগের কোনো কারণ নেই। অনেক সময় রাষ্ট্রধর্মগুলো প্রতীকীভাবে বেশি দেখা যায়, এর বাস্তবিক প্রভাব থাকে কম। …’



ভারতকে নিয়ে বাংলাদেশসহ প্রতিবেশীদের এত সন্দেহ কেন : ভারতের দ্য প্রিন্টের প্রতিবেদন

সম্প্রতি ভারতের রাজস্থানে জয়পুর লিটারেরি ফেস্টিভ্যালে ‘বাংলাদেশ এই দিকে ওই দিকে’ শীর্ষক এক প্যানেল ডিসকাশনে বাংলাদেশের বর্তমান রাজনৈতিক ও সামাজিক পরিস্থিতি এবং ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা করেন সাবেক রাষ্ট্রদূত পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী, লেখিকা ও গবেষক শ্রীরাধা দত্ত এবং লেখক সুদীপ চক্রবর্তী। আলোচনায় হরিয়ানার ওপি জিন্দাল গ্লোবাল ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক শ্রীরাধা দত্ত বলেন, ‘ভারত ইস্যুতে বাংলাদেশের সন্দেহের মূল কারণ হলো, আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার সঙ্গে নয়াদিল্লির ঘনিষ্ঠতা।’ তবে শ্রীরাধা দত্ত বলেন, ‘বাংলাদেশ ও ভারত একসঙ্গে কাজ করতে বাধ্য। তাই যত দ্রুত তা শুরু করা যায়, ততই মঙ্গল।’

শ্রীরাধা দত্ত আলোচনায় বাংলাদেশি নারীদের প্রশংসা করেন। পাশাপাশি ধর্মীয় বিষয়ে তাদের আগ্রহের বিষয়টিও উল্লেখ করে তিনি। শ্রীরাধা বলেন, ‘নারীরা বাংলাদেশে মধ্যপন্থী শক্তি এবং সরকার ও বেসরকারি কর্মক্ষেত্রে তাদের বিশাল উপস্থিতি এ ক্ষেত্রে ধর্তব্য।’ বাংলাদেশের বৃহৎ তৈরি পোশাক শিল্পের উদাহরণ দিয়ে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশের নারীরা চরমপন্থী শক্তির বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলবে। ইতিহাস থেকে দেখা গেছে, ইসলামী দলগুলোও নারীদের চাহিদা ও স্বাস্থ্যসেবার প্রতি মনোযোগ দিয়েছে।’ সুদীপ চক্রবর্তী বলেন, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তিনি বাংলাদেশে রক্ষণশীলতার বৃদ্ধি পেয়েছে বলে লক্ষ্য করেছেন। তবে তিনি এটিও স্বীকার করেন যে কেবল বাংলাদেশ নয়, ভারতসহ বিশ্বব্যাপী রক্ষণশীলতা বেড়েছে।

তিনি বলেন, ‘রক্ষণশীলতা বাড়ছে। সুতরাং, আমাদের শুরুতেই এটিকে সেই দৃষ্টিকোণ থেকে দেখতে হবে, তারপর সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে হবে যে, বাংলাদেশে রক্ষণশীলতা নিয়ে আমাদের সামাজিক, রাজনৈতিক বা কূটনৈতিকভাবে উদ্বিগ্ন হওয়া উচিত কি না।’ হাসিনা সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন প্রসঙ্গে সুদীপ বলেন, ‘এই আন্দোলনে জামায়াতের ভূমিকা এবং বাংলাদেশের রাজনৈতিক বিপর‍্যয়ের কারণে ক্ষুব্ধ শিক্ষার্থীদের ভূমিকা এই দুইয়ের মধ্যে পার্থক্য করা দরকার।’ তিনি তাঁর বক্তব্য ব্যাখ্যা করতে গিয়ে হাসিনা সরকারের অধীনে অনুষ্ঠিত সর্বশেষ নির্বাচনে ব্যাপক কারচুপি এবং প্রশাসনে দুর্নীতির বিষয়টি উল্লেখ করেন।

সুদীপ চক্রবর্তী জোর দিয়ে বলেন, ভারত যেন বাংলাদেশকে শুধু ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের প্রেক্ষাপট থেকে না দেখে। কারণ, বাংলাদেশ এরই মধ্যে সেই অধ্যায় পেরিয়ে এসেছে। বাংলাদেশে নিযুক্ত ভারতের সাবেক হাইকমিশনার পিনাক রঞ্জন চক্রবর্তী বলেন বাংলাদেশসহ দক্ষিণ এশিয়ার অধিকাংশ দেশেই ভারতবিরোধী মনোভাবের মূল কারণ হলো, দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বড় দেশ হিসেবে ভারতের ঐতিহাসিক আধিপত্য। কারণ, এই বিষয়টি ভারতের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর মধ্যে একটি অসম সম্পর্ক সৃষ্টি করে এবং সব ছোট দেশই এ ধরনের আধিপত্যকে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখে। তবে এই সমস্যার সমাধান হলো ‘বিচক্ষণ কূটনীতি।’



নারী শিক্ষায় নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা , আফগানিস্তান ছাড়তে বাধ্য হলেন তালেবান মন্ত্রী

আফগানিস্তানে নারীদের পড়াশোনায় তালেবান সরকারের আরোপ করা নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করে দেশটির উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ আব্বাস স্তানিকজাই দেশ ছাড়তে বাধ্য হয়েছেন ।

তালেবান উপপররাষ্ট্রমন্ত্রী মোহাম্মদ আব্বাস স্তানিকজাই গত ২০ জানুয়ারি একটি ‘গ্র্যাজুয়েশন’ অনুষ্ঠানে বক্তৃতায় কন্যাশিশুদের মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে পড়াশোনা এবং নারীদের উচ্চশিক্ষায় তালেবান সরকারের দেওয়া নিষেধাজ্ঞার সমালোচনা করেন। বক্তৃতায় তিনি তালেবানের সর্বোচ্চ নেতা হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদারও সমালোচনা করেন। জানা গেছে, এই বক্তৃতা ও নিজের সমালোচনার কথা শুনে স্তানিকজাইকে গ্রেপ্তার করতে এবং তাঁর ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারি করেছিলেন হাইবাতুল্লাহ আখুন্দজাদা। এই পরিস্থিতিতে স্তানিকজাই আফগানিস্তান ত্যাগ করে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) দুবাই শহরে আশ্রয় নিয়েছেন।

স্থানীয় একটি সংবাদমাধ্যমকে দুবাইয়ের উদ্দেশে আফগানিস্তান ছাড়ার কথা নিশ্চিত করেছেন তিনি। তবে শারীরিক সমস্যার কারণেই দেশ ছেড়েছেন বলে দাবি করেছেন। এ বিষয়ে তালেবানের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা মন্তব্য করতে রাজি হননি। আলোচিত ওই বক্তৃতায় স্তানিকজাই বলেছিলেন, ‘এটার (নারী শিক্ষায় নিষেধাজ্ঞার) জন্য কোনো অজুহাত দেওয়া যায় না, বর্তমানেও না এবং ভবিষ্যতেও না। আমরা দুই কোটি মানুষের প্রতি অন্যায় করছি।’ তিনি আরও বলেছিলেন, ‘হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর জামানায় নারী-পুরুষ উভয়ের জন্য জ্ঞানের দরজা খোলা ছিল। (তখন) সেখানে এত অসাধারণ সব নারী ছিলেন যে আমি যদি তাঁদের অবদান সম্পর্কে বিস্তারিত বলতে যাই, তাহলে অনেক সময় লাগবে।’

গত ৪ মাসে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় ২৩ জন হত্যার দাবি সঠিক নয় : প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং

গত সাড়ে ৪ মাসে দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় ২৩ জন হত্যার শিকার হয়েছেন বলে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ৩০ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে যে দাবি করেছে, তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছে : প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং ।

গত সাড়ে ৪ মাসে দেশে সাম্প্রদায়িক সহিংসতায় ২৩ জন হত্যার শিকার হয়েছেন বলে বাংলাদেশ হিন্দু-বৌদ্ধ-খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদ ৩০ জানুয়ারি সংবাদ সম্মেলনে যে দাবি করেছে, তা সঠিক নয় বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং। গতকাল অন্তর্বর্তী সরকারের প্রেস উইং থেকে পাঠানো বার্তায় বলা হয়েছে – ‘হিন্দু বৌদ্ধ খ্রিষ্টান ঐক্য পরিষদের এই দাবিকে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নেয় এবং উল্লিখিত ২৩টি হত্যাকাণ্ডের তালিকা সংগ্রহ করে। ওই তালিকা পুলিশের কাছে পাঠিয়ে প্রতিটি ঘটনার প্রকৃত কারণ ও গৃহীত আইনি ব্যবস্থা সম্পর্কে জানতে চাওয়া হয়।

পুলিশ সদর দপ্তর থেকে প্রতিটি ঘটনা সম্পর্কে বিস্তারিত জানায়। উল্লিখিত ২৩টি ঘটনার ২২টির প্রাথমিক কারণ সম্পর্কে পুলিশ অবগত হয়েছে এবং যথাযথ আইনি ব্যবস্থা গৃহীত হয়েছে। যে ২২টি ঘটনার বিস্তারিত ইতোমধ্যে জানা গেছে তার মধ্যে একটি ঘটনার সঙ্গেও সাম্প্রদায়িক সহিংসতার কোনো সম্পর্ক নেই। হত্যাকাণ্ডের মধ্যে সর্বোচ্চ সাতটির সঙ্গে চুরি ও দস্যুতার সম্পর্ক রয়েছে, চারটিতে ব্যক্তিগত ও পারিবারিক কলহের ঘটনা জড়িত, তিনটি ক্ষেত্রে জেনারেল ক্রাইম যেমন ধর্ষণ, অতিরিক্ত মদ পানে মৃত্যু এবং বিদ্রুপ মন্তব্য করা নিয়ে দুই পক্ষের মারামরি থেকে মৃত্যু, দুইটি দুর্ঘটনা জনিত মৃত্যু, দুইটি ব্যবসায়িক শত্রুতার জেরে মৃত্যু, একটিতে স্থানীয়দের সংঘাতে মৃত্যু, একটি জমিজমার বিরোধ সংক্রান্ত ঘটনায় মৃত্যু, একটি আত্মহত্যার ঘটনা। একটি মৃত্যুর প্রকৃত কারণ এখনো না জানা গেলেও এটা নিশ্চিত হওয়া গেছে যে, সেখানে কোনো সাম্প্রদায়িক সংঘাতের বিষয় নেই।

ড্রামের খোলা ভোজ্যতেল স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর

নিরাপদ খাদ্য প্রাপ্তি জনগণের অধিকার। আইন অনুযায়ী, ভোজ্যতেল ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধকরণ ব্যতীত বাজারজাতকরণ নিষিদ্ধ। কিন্তু ড্রামের সয়াবিনসহ বেশির ভাগ খোলা ভোজ্যতেলে ভিটামিন ‘এ’ নেই বা পরিমিত মাত্রায় থাকে না। প্লাস্টিকের ড্রাম বারবার ব্যবহারের ফলে ভোজ্যতেল বিষাক্ত হতে পারে। এছাড়া ড্রামের খোলা ভোজ্যতেলে ভেজাল মেশানোর সুযোগ থাকে। আইসিডিডিআর, বি’র এক গবেষণায় দেখা গেছে, দেশে ভোজ্যতেলের ৬৫ শতাংশই ড্রামে বাজারজাত করা হয়। এর মধ্যে ৫৯ শতাংশই ভিটামিন ‘এ’ সমৃদ্ধ নয় এবং ৩৪ শতাংশে সঠিক মাত্রায় ভিটামিন ‘এ’ নেই। এসব ড্রামে কোনও ধরনের লেবেল এবং উৎস শনাক্তকরণ তথ্য যুক্ত না করায় ফলে কেউ অপরাধ করলে তাদের চিহ্নিত ও আইনের আওতায় আনাও সম্ভব হয় না।

২০২৩ সালের ১ আগস্ট থেকে প্যাকেটজাত সয়াবিন তেল ছাড়া খোলা সয়াবিন বিক্রির ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিল সরকার। কিন্তু তদারকির অভাবে সে সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন হয়নি। তুলনামূলক কম দামে ও অল্প পরিমাণ কিনতে পারায় নিম্ন আয়ের মানুষের অনেকেই খোলা সয়াবিন তেলের ওপর নির্ভরশীল। বিক্রেতারা বেশি মুনাফার আশায় বিক্রি করছেন, স্বাস্থ্য সচেতনতার অভাবে ক্রেতারা খোলা তেল কিনে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন।

ভারতে করমুক্ত আয়ের সীমা বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি

মধ্যবিত্ত শ্রেণিকে করসুবিধা দিয়ে ভারতের অর্থমন্ত্রী নির্মলা সীতারমন সে দেশের কেন্দ্রীয় সরকারের ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট ঘোষণা করেছেন। এতে তিনি করমুক্ত ব্যক্তি আয়ের সীমা বাড়িয়ে ১২ লাখ রুপিতে তুলেছেন। অর্থাৎ ভারতীয় নাগরিকেরা বছরে ১২ লাখ রুপি পর‍্যন্ত আয় করলে তাঁদের কোনো আয়কর দিতে হবে না।
বাংলাদেশের চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের জাতীয় বাজেটে করমুক্ত আয়ের সীমা ধরা হয়েছে সাড়ে তিন লাখ টাকা। এর মানে প্রতিবেশী ভারতের জনগণ করমুক্ত আয়ের সীমায় বাংলাদেশের চেয়ে প্রায় পাঁচ গুণ বেশি সুবিধা পাচ্ছেন। তাঁদের করমুক্ত আয় ১২ লাখ রুপি, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ১৬ লাখ টাকার মতো।
মধ্যবিত্ত শ্রেণির ওপর করের বোঝা কমানোর লক্ষ্যে ভারত সরকার এই নতুন কর কাঠামো চালু করেছে। এতে তাদের হাতে বেশি অর্থ থাকবে, যা পারিবারিক ব্যয়, সঞ্চয় ও বিনিয়োগ বাড়াতে সহায়তা করবে।

জিম্মি হস্তান্তরের দৃশ্যগুলো দেখিয়ে ইসরাইলকে বার্তা দিয়েছে হামাস

গাজায় ইসরাইলি জিম্মিদের মুক্তির সময় কয়েক দফায় ব্যাপক শোডাউন করেছে ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের যোদ্ধারা।গোষ্ঠীটির শীর্ষস্থানীয় কর্মকর্তা তাহের আল-নুনু আল-জাজিরাকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে দাবি করেছেন, ইসরাইলি জিম্মিদের হস্তান্তরের দৃশ্য হামাসের শক্তি এবং নিয়ন্ত্রণের প্রমাণ। তিনি জানান, জিম্মিদের মুক্তি দিতে এই শোডাউন ইসরাইলকে বার্তা দিচ্ছে যে হামাস যুদ্ধ চালিয়ে যেতে সক্ষম এবং গাজার শাসন পরিচালনা করতে হামাস প্রতিজ্ঞাবদ্ধ।

ইসরাইলি কারাগার থেকে মুক্তি পাওয়া ফিলিস্তিনিদের নিয়ে উল্লাস করেছে সাধারণ মানুষ, তারা এটিকে বিজয় বলে চিহ্নিত করেছে। আল-নুনু বলেন, এই ধরনের উদযাপন হামাসের নেতৃবৃন্দের প্রতি সমর্থন প্রদর্শন করছে, এবং এটি ইসরাইলকে সতর্ক করবে, যাতে তারা যুদ্ধের দ্বিতীয় পর‍্যায়ের জন্য প্রস্তুতি নিতে না পারে। একই সাক্ষাৎকারে আল-নুনু দাবি করেছেন, হামাস গাজা উপত্যকায় শাসন পরিচালনা করতে চলেছে, এবং তিনি অভিযোগ করেছেন ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ও তার ফাতাই পার্টি হামাসের সাথে কোন ধরনের ক্ষমতা ভাগাভাগির চুক্তি করতে অস্বীকার করেছে, যেখানে উভয় দল একযোগে গাজার পরবর্তী শাসন পরিচালনা করার জন্য একটি কমিটি গঠন করতে পারে।