Home Blog Page 207

মধুবনী চিত্রকলা এক ঐতিহাসিক রহস্য

মধুবনী চিত্রকলা ভারতীয় সংস্কৃতির এক অমূল্য রত্ন, তার ইতিহাসে লুকিয়ে রয়েছে অদ্ভুত রহস্য। এই চিত্রকলার উৎপত্তি বিহারের মধুবনী জেলার গ্রামাঞ্চল থেকে। ভারতের ‘মিথিলা’ অর্থাৎ বিহার এবং নেপালে উৎসব বা পালা-পার্বনে গৃহ সজ্জার জন্য লোক চিত্রকলা বহুকাল ধরে প্রচলিত আছে। মিথিলার অন্য নাম মধুবন, তাই একে মধুবনী চিত্র বা মিথিলা চিত্র বলা হয়। প্রাচীনকাল থেকেই, মধুবনী চিত্রকলা গ্রাম্য জীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে উঠেছিল। এটি মূলত মেয়েরা তাদের ঘরের দেয়ালে আঁকত। চিত্রকলার বিষয়বস্তু ছিল দেবদেবী, প্রাকৃতিক দৃশ্য, পশু-পাখি এবং দৈনন্দিন জীবন। তবে এই সাদামাটা চিত্রকলার পেছনে মজার ইতিহাস রয়েছে, যা সাধারণত অজানা।

প্রথমদিকে মধুবনী ছবি শুধু হিন্দু দেব-দেবীদের উপাখ্যানের উপর রচনা করা হতো। এর মধ্যে সবচেয়ে বেশী যারা উপস্থিত থাকতেন, তারা হলেন রাম-সীতা, কৃষ্ণ, লক্ষী, শিব, দূর্গা, সরস্বতি। এ ছাড়াও রামায়ন কাহিনী থেকে বেছে নেয়া হতো নানা পার্শ্ব চরিত্রও, যেমন দেব-দেবীর সঙ্গী-সাথীরা বা চন্দ্র-সূর্য, ময়ূর। ছবির প্রকাশভঙ্গী ছিলো যথেষ্ট সহজ সরল।

পরে বিহারে মধুবনী অঞ্চলের শাসক রাজাদের সঙ্গে একটি অদ্ভুত সম্পর্ক গড়ে উঠে এই চিত্রকলার সাথে। জনমুখে কথিত আছে, একসময় মধুবনীতে এক রাজা শাসন করতেন, তিনি তার রাজ্যে এক বিশেষ ধনের চিত্রকলা প্রচলন করতে চেয়েছিলেন। তার এক বিশেষ সিদ্ধান্ত মধুবনী চিত্রকলার ইতিহাসে এক বিশাল পরিবর্তন এনে দেয়। রাজা চেয়েছিলেন এই চিত্রকলার মাধ্যমে তার রাজ্যের অদ্ভুত ঘটনা ও লুকানো প্রতীক তুলে ধরতে। তিনি এক চিত্রকরকে নিযুক্ত করেছিলেন, যার কাজ ছিল শুধুমাত্র রাজ্যের গভীরতা এবং তার রাজ্যের গোপন ইতিহাসকে চিত্রিত করা। সেসময় থেকে এই চিত্রকলায় যুদ্ধ, ষড়যন্ত্র, রাজনীতি, ক্ষোভ এবং রাজাদের ক্ষমতার লুকানো দিকগুলি চিত্রিত হতে শুরু হয়।

এই পরিণতির ফলস্বরূপ, মধুবনী চিত্রকলা কেবলমাত্র একটি সৌন্দর্যের প্রকাশ নয়, বরং তা এক গভীর রাজনৈতিক প্রতীকও হয়ে ওঠে মানুষের কাছে। বলা হয়, মধুবনী চিত্রকলা এমন এক রূপে গড়ে ওঠে যেখানে প্রতিটি আঁকা রেখার মধ্যে যেন লুকিয়ে থাকতো এক ধরনের গল্প, যা কেবলমাত্র বিশেষ মানুষটিই বুঝতে পারতো। এছাড়া মধুবনী চিত্রকলায় ব্যবহৃত উপকরণ এবং শৈলীও ছিল অত্যন্ত অদ্ভুত। প্রাচীনকাল থেকে এই চিত্রকলা শুধুমাত্র সাদা, কালো, নীল এবং হলুদ রঙের সমন্বয়ে তৈরি হয়েছিল। রঙের উপাদান ছিলো চালের গুড়া, তেতুল এবং আরও নানা রকম ফল ও ফলের বিচী, ফুলের রেনু, প্রাকৃতিক নীল, চন্দন কাঠ, বিভিন্ন ফুল ও গাছের পাতা, গাছের ছাল-বাকল, কচি ডাল ও লতা। রং তৈরীর জন্য ফুলও ছেঁড়া হতো না, ঝরে পড়া ফুল ব্যবহার করা হতো। শিল্পীরা নিজ হাতে পরম যত্নে রং তৈরী করতেন।

চিত্রকর্মের প্রতিটি রেখার মধ্য দিয়ে সেই সময়কার সমাজের বিভাজন, কাহিনী এবং জীবনের সুখ-দুঃখের গল্প প্রকাশিত হতো। কিছু কিছু চিত্রে এমনভাবে শক্তি দয়া, ক্ষমতা এবং রাজনীতির লুকানো বার্তা ফুটে ওঠে যে, তা এক সময়কার ‘বিষাদ ইতিহাস’কেও স্মরণ করিয়ে দেয়। মধুবনী চিত্র শুধুমাত্র একটি প্রাচীন শিল্প নয়, বরং এমন এক শৈলী, যা সময়ের সাথে সাথে মানব ইতিহাসের শক্তিশালী প্রতিবিম্ব হয়ে উঠেছে। এ চিত্রকলায় যেমন সংস্কৃতির সৌন্দর‍্য ফুটে ওঠে, তেমনি এর মধ্যে ঐতিহাসিক মিথ, রাজনৈতিক খেলা এবং ব্যক্তিগত প্রতীক মিলে গোপন কিছু রহস্য রয়েছে যা কিনা আজও এক ধরনের ঐতিহাসিক সংকেত হিসেবেই আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকে।



অস্ত্র নজরদারিতে এআই , নয় নীতি বাতিল গুগলের

জনপ্রিয় সার্চ ইঞ্জিন গুগলের মালিকানা প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট অস্ত্র উৎপাদন ও সামরিক নজরদারিতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারে বিদ্যমান নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেছে। মঙ্গলবার (৪ ফেব্রুয়ারি) এক ব্লগ পোস্টে বিষয়টি জানিয়ে গুগলের তরফ থেকে বলা হয়, ২০১৮ সালে এআই নীতি প্রণয়নের পর প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতি ও বিবর্তন হয়েছে। মোবাইল ফোন ও ইন্টারনেটের মতো এআই মানবজীবনের অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে দাঁড়ানোয় নীতিমালা সংশোধন করা হয়েছে।

গুগলের এআই নীতিমালার আগের সংস্করণে উল্লেখ ছিল, ‘এমন অস্ত্র, যার মূল উদ্দেশ্য মানুষের ক্ষতি বা সরাসরি আঘাত করা’ এবং ‘এমন প্রযুক্তি, যা আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত নিয়ম লঙ্ঘন করে নজরদারির জন্য তথ্য সংগ্রহ বা ব্যবহার করে’ তা অনুসরণ করবে না তারা। এই ঘোষণার পর সমালোচনার ঝড় বইছে সিলিকন ভ্যালিতে। বিশ্লেষকদের মতে, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মতো শক্তিশালী টুল ব্যবহার করে বেসামরিক নাগরিকদের ভয়ংকর ক্ষতিসাধন করা সহজ হয়ে উঠবে।

এর আগে ২০১৮ সালে সামরিক খাতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহারের বিশেষ প্রকল্প ‘প্রজেক্ট মারভেন’ ঘোষণার পর কর্মীদের তীব্র প্রতিবাদের মুখে প্রকল্প প্রত্যাহার করতে বাধ্য হয় গুগল। এ প্রসঙ্গে সমালোচকদের ভাষ্য, মানবিক নীতিতে তুচ্ছ করে সামরিক ও বাণিজ্যিক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে নীতিমালা হালনাগাদ করেছে অ্যালফাবেট।

১১ বছরের মেয়েটিকে কি ‘বাঁচতেও’ দেব না আমরা : রাফসান গালিব , দৈনিক প্রথম আলোর সম্পাদকীয় সহকারী

‘… আরও অবাক লাগে, অনেকে এ সুযোগে বাল্যবিয়ের যৌক্তিকতাও হাজির করছেন। পরিবার, সমাজ ও বর্তমান সময়ের জটিল বাস্তবতায় তাঁরা সন্তান লালনপালন ও শিশুর বেড়ে ওঠায় নানা সংকটের সমাধান খুঁজছেন শুধু বিয়ের মাধ্যমে। বিয়ে যেন শিশুর পুতুল খেলা!ষষ্ঠ শ্রেণিতে পড়া ১১ বছরের একটি মেয়ে, বাচ্চা মেয়েই তো। এখনকার বাচ্চারা অনেক কিছুই বুঝে, কিন্তু পরিবার-সমাজ বা দুনিয়ার বাস্তবতা এবং প্রেম বা নারী-পুরুষের সম্পর্ক নিয়ে কতটুকুই বা বোঝাপড়া থাকার কথা তার?

আর কৈশোর বা বয়ঃসন্ধির এই সময় যেকোনো বাচ্চার জন্য জটিল। এই বয়সেই তো বাচ্চারা ভুল করে। হাসতে খেলতে বা অ্যাডভেঞ্চারাস হয়ে এমন কাণ্ড ঘটিয়ে ফেলে, তার বিপদ সম্পর্কে বুঝে উঠতে পারে না। মেয়েটির ক্ষেত্রেও সেটি ঘটেছে বলতেই হয়।অন্যদিকে মায়ের দুরারোগ্য ব্যাধি, পরিবারের ওপর ঝড় বয়ে যাচ্ছে। এমন বাচ্চার প্রতি খেয়াল রাখার সুযোগই-বা কোথায়! তখন তো এমন অঘটন ঘটা একেবারেই অস্বাভাবিক না। মেয়েটি নিরাপদে ফিরে এসেছে, এটিই তো বড় আনন্দের বিষয় হওয়ার কথা। কিন্তু না, অনেক মানুষ তাকে নিয়ে বসিয়ে ফেলেছে সোশ্যাল ট্রায়াল। করছে ট্রল, বানাচ্ছে মিম। শুধু তাই নয়, নোংরা ও কুশ্রী ভাষায় তাকে আক্রমণও করা হচ্ছে।

সংবাদমাধ্যম থেকে এখন পর্যন্ত জানা যাচ্ছে, ওই কথিত প্রেমিক একজন তরুণ মানে প্রাপ্তবয়স্ক। তাহলে তো আইন ও সমাজের চোখে সেই এখানে একমাত্র দোষী বা অপরাধী হতে পারে। কারণ, এই বয়সে কোনো বাচ্চা নিজের কনসেন্ট বা সম্মতিতে এমন কাণ্ড করতে পারে না। পরিবারও সে সম্মতি দেবে না, কখনো দেয় না। ফলে কারও ইন্ধন, ফুসলানো, ফাঁদে ফেলা বা প্রতারণার বিষয়টিই এখানে বরং প্রাধান্য পায়। অথচ মেয়েটির তুলনায় বরং সেই তরুণের অপরাধ নিয়েই বরং বেশি আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।

এটিও বলতে হয়, মেয়েটিকে উদ্ধার করার সময় আমাদের কিছু সংবাদমাধ্যমকে ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ, তার বক্তব্য নেওয়ার বিষয়ে যেভাবে উদ্‌গ্রীব দেখা গেল, তা নিয়েও সমালোচনা উঠেছে। শিশু বা অল্পবয়সীদের বিষয়ে সাংবাদিকতা কেমন হওয়া উচিত সে বিষয়েও উঠেছে প্রশ্ন। … মেয়েটি নিশ্চয়ই তার ভুল বুঝতে পারছে বা পারবে। তবে বড় ধরনের মানসিক বিপর‍্যস্ততার মধ্য দিয়েই তাকে যেতে হয়েছে এবং যেতে হবে। আসুন আমরা তাকে বাঁচতে দিই। সামনে গোটা জীবনটা, গোটা পৃথিবীটাই তো পড়ে আছে তার জন্য। নতুন করে সে তার নিজের পৃথিবী গুছিয়ে নিক।…’

বৈশ্বিক তাপমাত্রা বৃদ্ধির হার ২° সেলসিয়াসের নিচে রাখা অসম্ভব : শীর্ষ পরিবেশ বিজ্ঞানী জেমস হ্যানসেন

জলবায়ু বিজ্ঞানী অধ্যাপক জেমস হ্যানসেন বলেছেন যে, বৈশ্বিক উষ্ণায়নের গতি মারাত্মকভাবে অবমূল্যায়ন করা হয়েছে এবং আন্তর্জাতিকভাবে নির্ধারিত ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস লক্ষ্য এখন “মৃত”। হ্যানসেন, যিনি বর্তমানে কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে কর্মরত, ১৯৮৮ সালে জাতিসংঘের কংগ্রেসনাল কমিটিতে সাক্ষ্য দিয়ে জনসাধারণকে জলবায়ু সংকট সম্পর্কে প্রথমবারের মতো সতর্ক করেন।
হ্যানসেন এবং তার সহকর্মীদের নতুন বিশ্লেষণ অনুযায়ী, সূর্যালোক প্রতিরোধী জাহাজ দূষণ কমানোর ফলে তাপমাত্রা বেড়েছে এবং জীবাশ্ম জ্বালানির নির্গমনের প্রতি জলবায়ুর সংবেদনশীলতা প্রত্যাশার চেয়ে বেশি।

তিনি বলেন, “আইপিসিসি (Intergovernmental Panel on Climate Change) একটি পরিস্থিতি নির্ধারণ করেছিল যেখানে ৫০% সম্ভাবনা ছিল যে উষ্ণতা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখা যাবে। সেই পরিস্থিতি এখন অসম্ভব। ২ ডিগ্রি লক্ষ্য মৃত, কারণ বৈশ্বিক জ্বালানি ব্যবহার বাড়ছে এবং তা বাড়তেই থাকবে।” নতুন বিশ্লেষণ অনুসারে, ২০৪৫ সালের মধ্যে বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াস ছুঁয়ে ফেলবে, যদি না সৌর জিওইঞ্জিনিয়ারিং প্রযুক্তি ব্যবহার করা হয়। নতুন গবেষণাটি Environment: Science and Policy for Sustainable Development সাময়িকীতে প্রকাশিত হয়েছে।

২০১৫ সালে প্যারিস চুক্তির মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী দেশগুলো প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে, তারা গড় বৈশ্বিক উষ্ণতা ২ ডিগ্রি সেলসিয়াসের নিচে রাখবে এবং ১.৫ ডিগ্রি সেলসিয়াসে সীমিত রাখার চেষ্টা করবে। কিন্তু বর্তমানে গড় উষ্ণতা ইতোমধ্যে ১.৩ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেড়েছে, যা প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষতি ঘটাচ্ছে। ২ ডিগ্রি পৌঁছালে পরিস্থিতি আরও খারাপ হবে। এই গবেষণার ফলাফল মূলধারার জলবায়ুবিজ্ঞানীদের অনুমানের সাথে মেলে না, তবে স্বাধীন বিশেষজ্ঞরা বলছেন যে এগুলো উড়িয়ে দেওয়া যায় না। যদি এই অনুমান সঠিক হয়, তবে আরও খারাপ আবহাওয়ার ঘটনা দ্রুত ঘটবে এবং গুরুত্বপূর্ণ জলবায়ু পরিবর্তন সীমা অতিক্রমের ঝুঁকি বাড়বে, যেমন আটলান্টিক মহাসাগরের গুরুত্বপূর্ণ স্রোতপ্রবাহের পতন।


সাহায্য পেতে চাইলে দিতে হবে বিরল ধাতু ইউক্রেনকে ট্রাম্পের শর্ত

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইউক্রেনের সঙ্গে একটি চুক্তি করতে চান, যাতে কিয়েভইলেক্ট্রনিক্স শিল্পে ব্যবহৃত গুরুত্বপূর্ণ বিরল মৃত্তিকা ধাতু (rare earth metal) সরবরাহের নিশ্চয়তা দেবে এবং এর বিনিময়ে মার্কিন সহায়তা প্রদান করা হবে। ৩ জানুয়ারি হোয়াইট হাউজে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ট্রাম্প বলেন, “আমরা ইউক্রেনকে বলছি, তাদের কাছে বিরল ধাতু অত্যন্ত মূল্যবান। আমরা ইউক্রেনের সঙ্গে এমন একটি চুক্তি করতে চাই, যেখানে তারা আমাদের দেওয়া সহায়তা তাদের বিরল ধাতু এবং অন্যান্য সম্পদ দিয়ে নিরাপদ করবে।”

ট্রাম্প আরও বলেন, ইউক্রেন এতে রাজি এবং তিনি প্রায় “৩০০ বিলিয়ন ডলার মার্কিন সহায়তার” বিনিময়ে ইউক্রেনের কাছে থেকে “সমান প্রতিদান” চান। জার্মান চ্যান্সেলর ওলাফ শলৎস ট্রাম্পের এই দাবির সমালোচনা করে সেটিকে “খুব স্বার্থপর এবং আত্মকেন্দ্রিক” বলে উল্লেখ করেছেন। ব্রাসেলসে ইউরোপীয় ইউনিয়ন নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাতের পর তিনি বলেন, যুদ্ধের পর ইউক্রেনের পুনর্গঠনে এই সম্পদগুলো বেশি কার‍্যকর হবে। বিরল ধাতুর বিনিময়ে মার্কিন অস্ত্র সহায়তা চুক্তি হতে পারে ইউক্রেনের জন্য একমাত্র উপায়, যা যুদ্ধের সময় মার্কিন সমর্থন বজায় রাখবে।

নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত না করে নির্বাচনে যাওয়া ভুল হবে : মুশতাক খান

জাতীয় নাগরিক কমিটি আয়োজিত ‘নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্তের রাজনৈতিক-অর্থনৈতিক কর্মসূচি’ শীর্ষক বক্তৃতায় যুক্তরাজ্যের সোয়াস বিশ্ববদ্যালয়ের অধ্যাপক মুশতাক খান বলেছেন জাতির সামনে এখন সুযোগ এসেছে। যে ঐক্য তৈরি হয়েছে, তা ধরে রেখেই সংস্কারের মাধ্যমে নতুন বন্দোবস্ত তৈরি করতে হবে। তিনি বলেন, হাসিনা সরকারের পতনের পর দেশের পুরোনো রাজনৈতিক বন্দোবস্ত বা ক্ষমতার বিন্যাস ভাঙার কাজ শুরু হয়েছে। কিন্তু এই কাজ ধীরগতিতে এগোচ্ছে। মুশতাক খান সতর্কবার্তা দেন-যে অলিগার্কি বা গোষ্ঠীশাসন শেখ হাসিনার শাসনামলে গড়ে উঠেছিল, তার বদলে আবার কোনো গোষ্ঠীশাসন যে গড়ে উঠবে না, তার নিশ্চয়তা নেই। নতুন গোষ্ঠীশাসন যেন গড়ে না ওঠে, সে জন্য পাল্টা ক্ষমতার ভিত তৈরি করতে হবে।

মুশতাক খানের মতে-পুরোনো বন্দোবস্ত ভাঙতে কেবল আইন করলে হবে না, সে জন্য ক্ষমতার বিন্যাস ভাঙতে হবে। যে গোষ্ঠীশাসন গড়ে উঠেছিল, তা ভেঙে প্রতিযোগিতামূলক ধনতন্ত্র গড়ে তুলতে হবে। পুঁজিবাদের মধ্যে স্বৈরতন্ত্র গড়ে ওঠার সম্ভাবনা থাকে; সে জন্য এ বিষয়ে রাজনৈতিক সচেতনতা ও সতর্কতা জরুরি। তিনি বলেন, ‘আমরা প্রতিযোগিতামূলক ধনতন্ত্র চাই। যে ধনতন্ত্রের চালিকাশক্তি হবে মাঝারি শিল্প খাত, অর্থাৎ মাঝারি শিল্প খাতে বিপুল পরিমাণ ঋণ দিতে হবে, যাতে তারা কর্মসংস্থান তৈরি করতে পারে। এ কথা বলার অপেক্ষা রাখে না যে, পুরোনো গোষ্ঠীশাসন বজায় রেখে আমরা প্রতিযোগিতামূলক ধনতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে পারব না।’

মুশতাক খান এই মুহূর্তে করণীয় হিসেবে চারটি কাজ চিহ্নিত করেন। সেগুলো হলো নির্বাচনের আগে অবশ্যই ক্ষমতা কাঠামোর পরিবর্তন; পুরোনো ক্ষমতাকাঠামো ভাঙতে যাঁরা টাকা পাচার করেছেন, তাঁদের সম্পদ বিক্রি করে সেই অর্থ পুনরুদ্ধার ও বিদেশ থেকে টাকা ফেরত আনার ব্যবস্থা করা; বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে যেসব চুক্তি হয়েছে, সেগুলো নিয়ে পুনরালোচনা এবং ভারত প্রশ্নে নিজেদের অবস্থান পুনর্নির্ধারণ। নতুন রাজনৈতিক বন্দোবস্ত নির্মাণ প্রসঙ্গে মুশতাক খানের অন্যতম পরামর্শ হলো উঠতি ও নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে আসা তরুণদের উদ্যোক্তা হিসেবে গড়ে তোলা এবং এর মধ্য দিয়ে ব্যাপক হারে কর্মসংস্থান নিশ্চিত করতে হবে।


ট্রাম্প কি সম্প্রসারণবাদী নীতির পথে হাঁটছেন ?

→ অন্য দেশের ভূখণ্ডের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ট্রাম্পের বক্তব্যে অনেকে বিস্মিত
→ ভূখণ্ড সম্প্রসারণে ট্রাম্পের উচ্চাকাঙ্ক্ষার প্রতি জনসমর্থন খুবই কম
→ গাজার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বক্তব্য দর-কষাকষির অংশ মনে করেন অনেকে
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক বক্তব্য বিশ্ববাসীকে হতবাক করে দিয়েছে। হঠাৎ করেই তিনি বলে বসলেন, তিনি চান, যুক্তরাষ্ট্র গাজা উপত্যকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিক এবং এর পুনর্গঠন করুক। আপাত তাঁর এই বক্তব্য আকস্মিক মনে হলেও আসলে মোটেই তা নয়। ট্রাম্প প্রশাসনের সম্প্রসারণবাদী আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন হচ্ছে তাঁর এই বক্তব্য।

… তিনি ও তাঁর প্রশাসনের কথাবার্তায় মনে হচ্ছে, তাঁর ‘আমেরিকা প্রথম’ নীতি ‘আরও আমেরিকা’ নীতিতে রূপান্তরিত হয়েছে।প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন নতুন ভূখণ্ড যুক্ত করার কথা বলছেন। আবার তিনি বিদেশি কোনো রাষ্ট্রের বিষয়ে হস্তক্ষেপ বা চিরস্থায়ী যুদ্ধে জড়াবেন না বলছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্পের কথাবার্তা বিশেষ করে কানাডা-মেক্সিকোর মতো ঘনিষ্ঠ মিত্রদের সঙ্গে দেওয়া নেওয়ার ভাষায় যেভাবে কথা বলছেন, তাতে একটা জিনিস পরিষ্কার তিনি ব্যবসায়িক সুবিধা আদায়কে বড় করে দেখছেন। গত সোমবার ‘মার্কিন সার্বভৌম সম্পদ তহবিল’ গঠনের প্রস্তাব থেকে এই বিষয়টি আরও পরিষ্কার হয়ে উঠেছে।

… আটলান্টিক কাউন্সিলের মিডলইস্ট প্রোগ্রামের জ্যেষ্ঠ পরিচালক উইল ওয়েসলার বলেন, ট্রাম্প গাজায় যুক্তরাষ্ট্রের স্বার্থকে খুব গুরুত্ব নাও দিতে পারেন। তিনি তাই করতে পারেন, সচরাচর তিনি যা করেন। তিনি এটিকে দর-কষাকষির চূড়ান্ত কৌশল হিসেবে নিতে পারেন। … মার্কিন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের প্রচারে ট্রাম্প বিদেশে যুদ্ধ বন্ধের বিষয়ে জোরালো বক্তব্য দিয়েছিলেন এবং বিদেশের কোনো কিছুতে না জড়িয়ে নিজেদের সীমান্তকে সুরক্ষার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন। তিনি বলেছিলেন, রাশিয়ার সঙ্গে ইউক্রেনের যুদ্ধের বড় কারণ ইউরোপ, যুক্তরাষ্ট্র নয়।

… রয়টার্স/ইপসসের জরিপ মতে, ট্রাম্পের নির্বাচনী বক্তব্যে সম্প্রসারণবাদের কথা ছিল না। ট্রাম্প ও তাঁর রিপাবিলকান মিত্রদের জন্য এটি রাজনৈতিক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। কারণ, ভোটাররা তাঁদের এই নীতির সঙ্গে নেই।



জরিপ ৫৯% খবর পড়েন মোবাইলে অনলাইনে

গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের জন্য বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো`র (বিবিএস) করা এক জরিপে জানা গেছে খবর জানতে প্রচলিত গণমাধ্যমের চেয়ে মোবাইল বেশি ব্যবহার করেন মানুষ। ছাপা পত্রিকা কম পড়লেও ৫৯% মানুষ মোবাইল ফোনে অনলাইন সংস্করণে খবর পড়েন। জরিপে অংশ নেওয়া ৭৩% মানুষ জানিয়েছেন, তাঁরা ছাপা পত্রিকা পড়েন না। ৬৫% মানুষ জানিয়েছেন, তারা টেলিভিশন দেখেন।সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোর মধ্যে খবরের জন্য ৩১ শতাংশ উত্তরদাতার আস্থা রয়েছে ফেসবুকে। এরপর ইউটিউবে ১৬.৫%।

বৃহস্পতিবার গণমাধ্যম সংস্কার কমিশনের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জরিপের তথ্য উল্লেখ করে আরও বলা হয়, জাতীয় দুরে‍্যাগ বা সংকটে তথ্য খোজার জন্য এখনো মানুষ চোখ রাখেন টেলিভিশনের পর্দায়। এ বছর ১ থেকে ৭ জানুয়ারি দেশের ৬৪ জেলায় ৪৫ হাজার খানা (হাউসহোল্ড) থেকে ১০ বছরের বেশি বয়সীদের কাছ থেকে উত্তর সংগ্রহ করা হয়েছে। জরিপে বলা হয়, সামগ্রিকভাবে গণমাধ্যমের ওপর মানুষ আস্থা হারাননি। তবে রাজনৈতিক, সরকারি ও প্রভাবশালীদের হস্তক্ষেপ বস্তুনিষ্ঠ খবর প্রকাশের ক্ষেত্রে বড় অন্তরায় হিসেবে দেখছেন তারা।

অর্থনীতির শুভযাত্রা শুরু হয়েছে : বাংলাদেশ ব্যাংক গভর্নর

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর মঙ্গলবার প্রথম আলোকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে বলেন, চলতি হিসাবের পাশাপাশি আর্থিক হিসাব উদ্বৃত্ত হয়েছে। মূল্যস্ফীতিও কমে এসেছে। ফলে অর্থনীতির শুভযাত্রা শুরু হয়েছে। সামনে আরও ভালো কিছু অপেক্ষা করছে। আগামী জুনের মধ্যে মূল্যস্ফীতি ৭শতাংশের মধ্যে নেমে আসবে বলেও প্রত্যাশা করেন তিনি। ক্ষমতাচ্যুত শেখ হাসিনার সরকারের শেষ সময়ে অর্থনীতির সব কটি সূচকই ছিল নড়বড়ে। ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানের পর প্রবাসী আয় বাড়তে থাকে, পণ্য রপ্তানি সাময়িকভাবে হোঁচট খেলেও পরে ঘুরে দাঁড়ায়। অন্যদিকে আমদানিতে কিছুটা ধীরগতি রয়েছে। এর ফলে আন্তর্জাতিক লেনদেনের ভারসাম্যের দুটি গুরুত্বপূর্ণ সূচক ইতিবাচক ধারায় ফিরেছে। সেগুলো হচ্ছে চলতি হিসাব ও আর্থিক হিসাব।

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাস জুলাই-নভেম্বরে চলতি হিসাবে যেখানে ঘাটতি ছিল ১৯ কোটি মার্কিন ডলার, সেখানে ডিসেম্বরের শেষে উদ্বৃত্ত হয়েছে ৩ কোটি ৩০ লাখ ডলার। অন্যদিকে অর্থবছরের প্রথম পাঁচ মাসে আর্থিক হিসাবে ঘাটতি ছিল ৫৬ কোটি ডলার। ডিসেম্বরের শেষে সেটি ১৩৮ কোটি ডলার উদ্বৃত্ত হয়েছে। সাধারণভাবে চলতি হিসাবের মাধ্যমে দেশের নিয়মিত বৈদেশিক লেনদেন পরিস্থিতি বোঝানো হয়। দেশে আন্তর্জাতিক সম্পদের মালিকানা হ্রাস-বৃদ্ধির বিষয়টি পরিমাপ করা হয় আর্থিক হিসাবের মাধ্যমে। সাধারণত এই হিসাবে ঘাটতি তৈরি হলে দেশে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ তথা মজুত ও বৈদেশিক মুদ্রা বিনিময় হারের ওপর চাপ বৃদ্ধি পায়।

ইউএসএআইডি বন্ধে আন্তর্জাতিক দরিদ্র জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাব কমে যাবে

ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রের প্রধান বৈদেশিক সহায়তা সংস্থা ইউএসএআইডিকে পররাষ্ট্র দপ্তরের সঙ্গে একীভূত করার পরিকল্পনা করছে। সোমবার সংস্থাটির ওয়াশিংটন সদর দপ্তরে কর্মীদের প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও নিজেকে ইউএসএআইডির ভারপ্রাপ্ত প্রধান ঘোষণা করে জানিয়েছেন, সংস্থার কার‍্যক্রম চালু থাকবে, তবে তা মার্কিন পররাষ্ট্রনীতির সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। তবে ডেমোক্র্যাটিক আইনপ্রণেতারা এই পদক্ষেপকে ‘অবৈধ ও অসাংবিধানিক’ আখ্যা দিয়ে সতর্ক করেছেন যে, এর ফলে আন্তর্জাতিক দরিদ্র জনগোষ্ঠী ক্ষতিগ্রস্ত হবে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বৈশ্বিক প্রভাব কমে যাবে।

প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প ও ধনকুবের ইলন মাস্ক ইউএসএআইডির সমালোচনায় সরব। ট্রাম্প সংস্থাটিকে ‘র‍্যাডিকাল বামদের পরিচালিত দুর্নীতিগ্রস্ত প্রতিষ্ঠান’ বলে দাবি করেছেন, যদিও তিনি কোনো নির্দিষ্ট তথ্য দেননি। মাস্ক, যিনি ট্রাম্পের ‘ডিপার্টমেন্ট অব গভর্নমেন্ট এফিসিয়েন্সি’ নামক ব্যয় সংকোচন টিমের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, ইউএসএআইডি বন্ধ করে দেওয়ার পক্ষে সোচ্চার। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে (সাবেক টুইটার) তিনি সংস্থাটিকে ‘অপরাধমূলক সংগঠন’ ও ‘বামপন্থী ষড়যন্ত্রের অংশ’ বলে মন্তব্য করেছেন।এই একীভূতকরণের বাস্তবায়ন কবে এবং কীভাবে হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে ট্রাম্প প্রশাসনের এই সিদ্ধান্ত যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সহায়তা নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তন আনতে পারে, যা আন্তর্জাতিক পরিসরে দেশটির কূটনৈতিক ও মানবিক ভূমিকার ওপর প্রভাব ফেলবে।

ইউএসএআইডি হল বিশ্বের সবচেয়ে বড় একক দাতা সংস্থা। বিশ্বব্যাপী এই সংস্থার প্রায় ১০,০০০ কর্মী রয়েছেন। ২০২৩ সালে ওয়াশিংটন ১৮০টিরও বেশি দেশে মোট ৭২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিদেশি সহায়তা (৬৪ বিলিয়ন অর্থনৈতিক ও ৮.৩ বিলিয়ন সামরিক সহায়তা) দিয়েছে। আর এর অর্ধেকের বেশি সহায়তা দিয়েছে ইউএসএআইডি-এর মাধ্যমে। ২০২৪ সালে জাতিসংঘের হিসাব অনুযায়ী মোট মানবিক সহায়তার ৪২ শতাংশ দিয়েছে দেশটি। তবে যুক্তরাষ্ট্রের নতুন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প মনে করেন, এই সংস্থার কার্যক্রমের মাধ্যমে মার্কিন সরকারের অর্থের অপচয় হচ্ছে। ফলে ক্ষমতাগ্রহণের পরপরই তিনি তার ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতির অংশ হিসেবে ইউএসএআইডি সহ বিদেশে সব ধরনের মার্কিন সহায়তা স্থগিতের নির্দেশ দিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের সবচেয়ে বড় বিদেশি সহায়তা প্রদানকারী দেশ। যদিও এর মোট ব্যয়ের এক শতাংশেরও কম সহায়তার জন্য বরাদ্দ দেওয়া হয় এবং কিছু দেশ তাদের বাজেটের তুলনায় বেশি সহায়তাই দিয়ে থাকে।