Home Blog Page 206

ড. ইউনূস ‘জঙ্গী নেতা’ ও গণঅভ্যুত্থান ‘চক্রান্ত’ , আওয়ামী লীগ , ভারতীয় মিডিয়ার অপপ্রচার : প্রেস সচিব

প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম বলেছেন, চব্বিশের গণঅভ্যুত্থান ও প্রফেসর ইউনূসকে নেতিবাচকভাবে বিশ্বে তুলে ধরতে বিপুল অর্থের বিনিময়ে বড় ষড়যন্ত্র চালাচ্ছে ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ, এতে জড়িত রয়েছে ভারতের মিডিয়া। ৮ জানুয়ারি শনিবার দুপুরে রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে একটি বইয়ের প্রকাশনা উৎসবে শফিকুল আলম এ কথাগুলো বলেন। তিনি বলেন-আওয়ামী লীগ এবং পতিত স্বৈরাচার, চোরতন্ত্রের জননী ও গুমের জননী চাচ্ছেন বাংলাদেশের ন্যারেটিভকে (বয়ান) চ্যালেঞ্জ করতে। তাঁরা বলছেন তিন হাজার পুলিশ মারা গেছে, তাঁদের ওয়েবসাইটে অধ্যাপক ইউনূসকে জঙ্গিদের নেতা হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে।

‘এটা খুবই পরিকল্পিত অপপ্রচার। এর সঙ্গে ভারতীয় মিডিয়াও জড়িত। হাসিনার অলিগার্কেরা মিলিয়ন ডলার খরচ করছে।’-বলেন শফিকুল আলম। তিনি আরও বলেন-তারা সারা পৃথিবীকে বোঝাতে চাচ্ছে, বাংলাদেশে যা হয়েছে তা আসলে গণ-অভ্যুত্থান নয়। এটা বড় রকমের চক্রান্ত। শফিকুল আলম বলেন, শেখ হাসিনা ও তাঁর লোকেরা বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার করেছে। সাড়ে তিন হাজার মানুষকে গুম করা হয়েছে। জুলাই-আগস্টে দুই হাজার মানুষকে খুন করা হয়েছে। যে নিপীড়নকারী, সে নিজেকে নিপীড়নের শিকার বলে জাহির করছে।

অধ্যাপক ইউনূস সবাইকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের কাজ হচ্ছে গবেষণার মাধ্যমে ১৫ বছরের ভয়াবহতাকে তুলে ধরা, যাতে বাংলাদেশে পতিত স্বৈরাচার এবং তার সাঙ্গপাঙ্গরা ফিরে আসতে না পারে। ‘যাঁরা ভাবছেন বিপ্লব জুলাই-আগস্টের ২১ দিন, এটা ভুল। তার আগেও ১৫ বছর ধরে লড়াই হয়েছে। আরও ১৫ বছর সংগ্রাম করতে হবে। আমরা একটু থেমে যাব, ওরা আবার মাথাচাড়া দেওয়ার চেষ্টা করবে। এটা যাতে না হয়।’-বলেন শফিকুল আলম।



আমেরিকার ফসল আলু বাংলায় যেভাবে এলো

বাংলাদেশে সবজির র্যাংকিং করা হলে সেখানে আলুর অবস্থান শীর্ষে থাকবে এতে কোনো সন্দেহ নেই। অন্যান্য সবজি থেকে দামে সস্তা হওয়ায় নিম্নবিত্তদের পাতের শেষ ভরসার অন্যতম এই আলুই। আলু চারশ বছর আগেও বাংলাদেশ বা এর আশেপাশে কেউ চোখে দেখেনি। এর নামও জানতো না অনেকে। বিশ্ব জ্ঞানকোষ বাংলাপিডিয়ার মতে, সপ্তদশ শতকের প্রথম দিকে পর্তুগিজ নাবিকরা ভারতবর্ষে প্রথম আলু নিয়ে আসে বলে ধারণা করা হয়। পর্তুগিজরা দীর্ঘ সমুদ্র যাত্রায় আলু বোঝাই করে নিয়ে আসতো। কারণ আলু সহজে পচে না। সেদ্ধ করেই খাওয়া যায়। পেট ভরা থাকে অনেকক্ষণ। এই ইউরোপীয় বণিকদের মাধ্যমে আলুর বিষয়ে ভারতের মানুষ প্রথম জানতে পারে। কিন্তু আলুকে ভারতবর্ষের সর্বত্র ছড়াতে কাজ করেছিল ইংরেজরা।

সপ্তদশ শতকের শেষ দিকে অর্থাৎ ব্রিটিশ আমলে ভারতবর্ষ তথা বাংলার প্রথম গভর্নর জেনারেল ছিলেন ওয়ারেন হেস্টিংস। তিনি ১৭৭২ থেকে ১৭৮৫ সাল পর‍্যন্ত টানা ১৩ বছর দায়িত্বে থাকাকালে নিজ উদ্যোগে আলুর চাষ করেছিলেন। তিনি মূলত চেয়েছিলেন ভারতে কম দামে আলু চাষ করে ইউরোপে বিক্রি করতে। তার হাত ধরে ভারতের পশ্চিম উপকূলের শহর মুম্বাই বা তৎকালীন বোম্বেসহ অনেক প্রদেশে আলুর চাষ বিস্তার লাভ করে। যা ব্যাপক জনপ্রিয়তা পায়। পরে অষ্টাদশ শতকের শেষের দিকে উত্তর ভারত ও বাংলায় ব্রিটিশরা আলুর প্রচলন করেন।

আলু অল্প জমিতে বেশি ফলন হয় এতে কৃষকরা লাভবান হন। আবার দামে কম হওয়ায় ভোক্তারাও কিনতে পারেন। এছাড়া আলু খেতে সুস্বাদু এবং পুষ্টিগুণও ভাতের চাইতে বেশি। তাই আলু সারা দেশের মানুষ গ্রহণ করেছে। আলু ইউরোপীয়দের নজরে আসে ষোড়শ শতকে। ১৫৩২ সালে স্পেনের নাবিকেরা দক্ষিণ আমেরিকায় আধিপত্য বিস্তার করতে শুরু করে। স্প্যানিশ আক্রমণে ইনকা সভ্যতা ধ্বংস হয়ে যায়। স্প্যানিশরা পেরুতে এসেছিল মূলত স্বর্ণের খোঁজে। আন্দিজ পর্বত এলাকায় স্থানীয়দের আলুর আবাদ তাদের চোখে পড়ে।



আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের বিরুদ্ধে ট্রাম্পের নিষেধাজ্ঞা

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতকে (আইসিসি) নিষেধাজ্ঞার আওতায় আনতে একটি নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেছেন। তিনি আদালতের বিরুদ্ধে ‘যুক্তরাষ্ট্র এবং আমাদের ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের বিরুদ্ধে অবৈধ ও ভিত্তিহীন পদক্ষেপ গ্রহণের’ অভিযোগ এনেছেন। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশ অনুসারে, আইসিসি যদি কোনো তদন্ত শুরু করে যেখানে যুক্তরাষ্ট্র বা এর মিত্র দেশগুলোর নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু করা হবে সেই তদন্তে সহযোগিতা করা ব্যক্তি ও তাদের পরিবারের ওপর আর্থিক ও ভিসা নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হবে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ওয়াশিংটন সফরকালেই ট্রাম্প এই নির্বাহী আদেশে স্বাক্ষর করেন।

গত বছরের নভেম্বর মাসে, আইসিসি গাজায় যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। তবে ইসরায়েল এই পরোয়ানা প্রত্যাখ্যান করেছে। একই সঙ্গে, আদালত হামাসের এক কমান্ডারের বিরুদ্ধেও পরোয়ানা জারি করে। ট্রাম্পের নির্বাহী আদেশে বলা হয়েছে, ‘যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল উভয়ই সমৃদ্ধ গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র এবং তাদের সামরিক বাহিনী যুদ্ধ আইনের কঠোর অনুসারী।’ ক্ষমতার শেষ সপ্তাহগুলোতে, প্রেসিডেন্ট বাইডেনও নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে আইসিসির গ্রেপ্তারি পরোয়ানার নিন্দা জানান। তিনি বলেন, এই সিদ্ধান্ত ‘উদ্ভট’ এবং ইসরায়েল ও হামাসকে এক পাল্লায় ফেলা যায় না।

ট্রাম্পের প্রথম দফার শাসনামলে, তিনি আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর যুদ্ধাপরাধ তদন্তের কারণে আইসিসির কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন। গত মাসে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ আইসিসির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে ভোট দেয়, তবে সেই বিল সিনেটে আটকে যায়। আইসিসি ট্রাম্পের এ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে আদালতের স্টাফদের পাশে থাকা এবং বিচারকাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে। সদস্য দেশগুলোকে এই নিষেধাজ্ঞা রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আইসিসি বলেছে, “ট্রাম্পের পদক্ষেপ এই আদালতের স্বাধীন ও পক্ষপাতহীন বিচারকাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করারই চেষ্টা।”

যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞা আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের (আইসিসি) স্বাধীনতাকে হুমকির মুখে ফেলছে এবং এতে বিশ্বব্যাপী বিচার ব্যবস্থা ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে সতর্ক করেছে ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ)। যুগোস্লাভিয়ার পতন ও রুয়ান্ডা গণহত্যার প্রেক্ষাপটে, নিপীড়ন-নির‍্যাতন ও যুদ্ধাপরাধের অভিযোগ খতিয়ে দেখতে ২০০২ সালে আইসিসির যাত্রা শুরু হয়। এর আগে ইউক্রেইনে যুদ্ধাপরাধ-এর অভিযোগে আইসিসি রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের বিরুদ্ধেও গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করে। আফগানিস্তানে নারী ও মেয়েদের ওপর নিপীড়ন চালানোর জন্য তালেবান নেতারা এবং মিয়ানমারের রোহিঙ্গা মুসলিমদের বিরুদ্ধে অপরাধ করার জন্য দেশটির সামরিক নেতারাও আইসিসি-এর পরোয়ানার মুখে রয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল আইসিসির সদস্য নয়। তবে যুক্তরাজ্য ও বহু ইউরোপীয় দেশসহ ১২০টির বেশি দেশ আন্তর্জাতিক এই আদালতের সদস্য। আইসিসি শেষ অবলম্বনের আদালত হিসেবে কাজ করে এবং তখনই হস্তক্ষেপ করে, যখন কোনো রাষ্ট্র অপরাধীদের বিচার করতে ব্যর্থ হয় বা করতে অস্বীকৃতি জানায়।



ইতিহাসের উষ্ণতম জানুয়ারি দেখল বিশ্ব , বাড়ছে তাপমাত্রা

ইতিহাসের উষ্ণতম জানুয়ারি মাসের খেতাব পেয়েছে চলতি বছরের জানুয়ারি। ইউরোপের পরিবেশ মনিটর কোপারনিকাস জলবায়ু পরিবর্তন পরিষেবা বৃহস্পতিবার প্যারিসে দিয়েছে এই তথ্য। সংস্থাটি বলছে, গতবারের তুলনায় এ বছরের জানুয়ারিতে তাপমাত্রা বেড়েছে শূন্য দশমিক ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস। শিল্প বিপ্লবের আগে, অর্থাৎ ১৮৫০ সালের আগের সময়ের তুলনায় এ বছরের জানুয়ারিতে গড় বৈশ্বিক তাপমাত্রা ১ দশমিক ৭৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি ছিল।

যদিও বিজ্ঞানীরা আশা করেছিলেন, শীতল ‘লা নিনা’ অবস্থার কারণে গত বছরের রেকর্ড সৃষ্টিকারী বৈশ্বিক তাপমাত্রা এ বছরে এসে কিছুটা কমবে। কিন্তু তাপমাত্রা না কমে উল্টো রেকর্ড মাত্রায় অথবা রেকর্ড মাত্রার কাছাকাছি অবস্থান করছে। পরপর তিন বছরের শুরুর দিকে তাপমাত্রা বেশি থাকার পেছনে আরও কী কারণ আছে, তা খোঁজার চেষ্টা চলছে। ইউরোপিয়ান সেন্টার ফর মিডিয়াম রেঞ্জ ওয়েদার ফোরকাস্টিং (ইসিএমআরডব্লুএফ) এবং কোপার্নিকাস ক্লাইমেট চেঞ্জ সার্ভিস (সি-থ্রিএস)-এর পর‍্যবেক্ষণ অনুযায়ী, ২০২৪ সালে বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে ভয়াবহ দাবানল দেখা গিয়েছিল, বিশেষ করে অস্ট্রেলিয়া, দক্ষিণ আমেরিকা এবং উত্তর আমেরিকার কিছু অঞ্চলে। এই ধরনের দাবানল এবং অন্যান্য উৎস থেকে নিঃসৃত গ্রিনহাউস গ্যাস পরিবেশে ব্যাপক প্রভাব ফেলছে, যা জলবায়ু পরিবর্তনকে আরও তীব্র করছে।

নির্মলতার সাথে বন্ধুত্ব করি পৃথিবীকে বাসযোগ্য রাখি

সবুজ জীবনযাপন বলতে এমন একটি জীবনধারা বোঝায়, যেখানে আমরা আমাদের দৈনন্দিন কার্যক্রমে পরিবেশের প্রতি যত্নশীল থাকি, নিরাপদ জীবনাধারন করি, পরিবেশের যত্ন নিই এবং প্রাকৃতিক সম্পদের সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করি। আমাদের প্রাত্যহিক জীবনে সবুজ জীবনযাপনের বিকল্প নেই। নিম্নে কিছু উদাহরণ তুলে ধরা হলো।
যেমন-
পরিবেশ সুরক্ষা –

সবুজ জীবনযাপনের মাধ্যমে আমরা বায়ু, পানি এবং মাটির দূষণ কমাতে পারি। উদাহরণস্বরূপ, পুনর্ব্যবহার প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বর্জ্য কমানো যায়, যা ল্যান্ডফিলের পরিমাণ হ্রাস করে এবং মাটির দূষণ প্রতিরোধ করে।

স্বাস্থ্যকর জীবনধারা –
জৈব খাদ্য গ্রহণ, নিয়মিত ব্যায়াম এবং প্রাকৃতিক পণ্য ব্যবহারের মাধ্যমে আমাদের শারীরিক ও মানসিক স্বাস্থ্যের উন্নতি হয়। রাসায়নিক মুক্ত পণ্য ব্যবহারে ত্বকের সমস্যা ও অন্যান্য স্বাস্থ্যঝুঁকি কমে। ।

অর্থনৈতিক সাশ্রয় –
জ্বালানি সাশ্রয়ী যন্ত্রপাতি ব্যবহার এবং বিদ্যুৎ ও পানির অপচয় রোধের মাধ্যমে মাসিক বিল কমানো যায়। এছাড়া, স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত পণ্য ক্রয় পরিবহন খরচ কমায়।

প্রাকৃতিক সম্পদের সংরক্ষণ –
পুনর্ব্যবহার, পুনঃব্যবহার এবং কম ব্যবহার নীতির মাধ্যমে আমরা প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় রোধ করতে পারি, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য সম্পদ সংরক্ষণে সহায়তা করে।

সবুজ জীবনযাপনের জন্য করণীয়গুলো আমরা অনেক শুনেছি, কিন্তু সচেতন হয়েছি কি! অল্প একটু সতর্কতাই কিন্তু আমাদের গ্রীন লিভিং এ সাহায্য করতে পারে।

যেমন-
জ্বালানি সাশ্রয় –

শক্তি সাশ্রয়ী বাল্ব ও যন্ত্রপাতি ব্যবহার করুন। অপ্রয়োজনীয় আলো ও যন্ত্রপাতি বন্ধ রাখুন। সৌর শক্তি বা বায়ু শক্তির মতো পুনর্নবীকরণযোগ্য জ্বালানি উৎস ব্যবহার নিয়ে বিবেচনা করুন।

পানি সংরক্ষণ –
পানির অপচয় রোধ করুন, পৃথিবীতে এখনও বিশাল সংখক মানুষ নিরাপদ পানির অভাবে ভুগে। স্নান ও বাসন ধোয়ার সময় পানির ব্যবহার নিয়ন্ত্রণ করুন। বৃষ্টির পানি সংগ্রহ করে বাগান বা অন্যান্য কাজে ব্যবহার করুন। নিকটস্থ পানির উৎস গুলোর যত্ন নিন।

খাদ্যাভ্যাস –
সম্ভব হলে জৈব ও স্থানীয়ভাবে উৎপাদিত খাদ্য গ্রহণ করুন। ফাস্ট ফুড এর পরিবর্তে সবজি ও ফলমূলের প্রতি গুরুত্ব দিন। খাবারের অপচয় রোধে পরিকল্পনা করে রান্না করুন।

বর্জ্য ব্যবস্থাপনা –
পুনর্ব্যবহারযোগ্য পণ্য ব্যবহার করুন। প্লাস্টিকের পরিবর্তে কাপড় বা কাগজের ব্যাগ ব্যবহার করুন। কম্পোস্টিং এর মাধ্যমে জৈব বর্জ্য পুনর্ব্যবহার করুন। আশপাশের গাছপালার প্রতি যত্নশীল হোন। নিজের গাছ লাগানোর সুযোগ না থাকলে বাসার ছোট ছোট স্পেস গুলো সুস্থ প্রশ্বাসের জন্য সহায়ক, এমন প্ল্যান্টের টব দিয়ে সাজান। সবুজ জীবনযাপন গ্রহণের পথে কিছু চ্যালেঞ্জ থাকতে পারে, যেমন প্রাথমিক খরচ বৃদ্ধি বা অভ্যাস পরিবর্তনের অসুবিধা। তবে সচেতনতা বৃদ্ধি, শিক্ষামূলক কার্যক্রমের মাধ্যমে এই বাধাগুলো অতিক্রম করা সম্ভব।

সবুজ জীবনযাপন কেবলমাত্র একটি জীবনধারা নয়, এটি আমাদের পরিবেশ, স্বাস্থ্য এবং অর্থনীতির জন্য একটি নির্মল ভবিষ্যৎ গড়ার পথে গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ। আমাদের প্রত্যেকের উচিত দৈনন্দিন জীবনে সুন্দর অভ্যাসগুলি গ্রহণ করে পৃথিবীকে একটি নিরাপদ বাসযোগ্য স্থান হিসেবে গড়ে তোলা।

সুকান্ত লিখেছিলেন –
এ বিশ্বকে এ-শিশুর বাসযাগ্যে করে যাবো আমি নবজাতকের কাছে এ আমার দৃঢ় অঙ্গীকার।
আমরাও আগামী প্রজন্মের জন্য বাসযোগ্য পৃথিবী তৈরি করতে অঙ্গীকারবদ্ধ হই।


কেন ডিপসিকের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছে অনেক দেশ ?

আল জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী – যুক্তরাষ্ট্র, অস্ট্রেলিয়া, তাইওয়ান, দক্ষিণ কোরিয়া, ইতালিসহ আরও বেশ কিছু দেশ সরকারি কর্মচারীদের মোবাইল ডিভাইসে ডিপসিক অ্যাপ্লিকেশন নিষিদ্ধ করার কথা ভাবছে। মূলত ‘নিরাপত্তা উদ্বেগ’-এর কথা বলে এই নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হচ্ছে। ডিপসিককে নিষেধাজ্ঞা দেওয়া সবকটি দেশই যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র। এআই যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে বড় প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের অগ্রগতি থামাতে এসব নিষেধাজ্ঞা দেওয়া হতে পারে বলেও অভিযোগ রয়েছে।

গত মাসে ডিপসিকের উত্থানের পর এআই যুদ্ধে ওপেনএআইয়ের মতো মার্কিন প্রতিষ্ঠানগুলোর নেতৃত্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়া শুরু হয়। বিশেষ করে ডিপসিক অনেক কম খরচে তাদের মডেল তৈরির দাবি করলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর শেয়ারমূল্যে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ দরপতন হয়। কিন্তু আলোচনায় আসার সঙ্গে সঙ্গেই এই চীনা এআই নিয়ে সমালোচনাও শুরু হয়েছে পশ্চিমা মহলে।বৃহস্পতিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল জানায়, সব সরকারি ডিভাইসে ডিপসিককে ব্লক করতে একটি বিল পেশ করার পরিকল্পনা করছে মার্কিন আইন প্রণেতারা।

এই দেশগুলো চীনা অ্যাপ্লিকেশনটির সম্ভাব্য নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছে। এছাড়া ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য কীভাবে সংরক্ষণ ও ব্যবহার করা হবে, সে বিষয়ে যথেষ্ট তথ্য না পাওয়াকেও কারণ হিসেবে দেখিয়েছে। ডিপসিকের ওয়েবসাইটেই বলে দেওয়া হয়েছে-তারা ব্যবহারকারীদের ব্যক্তিগত তথ্য, চ্যাট ইতিহাস এবং ডিভাইস ও নেটওয়ার্ক সম্পর্কিত প্রযুক্তিগত তথ্য সেবা প্রদানকারী ও বিজ্ঞাপন অংশীদারদের সঙ্গে ভাগাভাগি করে। উল্লেখ্য, চ্যাটজিপিটির গোপনীয়তা নীতিমালায়ও প্রায় একইরকম।





সংকটের অন্তরালে লুকিয়ে থাকা বাস্তবতা , বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য চ্যালেঞ্জ

বাংলাদেশের জনস্বাস্থ্য ব্যবস্থার অনেকটা উন্নতি হলেও এখনো নানা চ্যালেঞ্জ রয়ে গেছে। প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা থেকে শুরু করে সমস্ত ক্ষেত্রেই রয়েছে নতুন নতুন সমস্যা। কিন্তু আসল চ্যালেঞ্জ কি শুধুই সংক্রামক রোগ, নাকি এর পেছনে অন্য কোনো জটিল বাস্তবতা লুকিয়ে আছে? নিত্য চলমান রাজনৈতিক কূটনৈতিক অস্থিতিশীল পরিস্থিতির মধ্যে কতোটা উঠে আসছে জনস্বাস্থ্যের আলোচনা! জনস্বাস্থ্য উন্নয়নের জন্য কোটি কোটি টাকা বিনিয়োগ করা হলেও হাসপাতালগুলোতে এখনও শয্যার সংকট, ওষুধের অভাব, আর চিকিৎসকদের অনুপস্থিতির অভিযোগ। স্বাস্থ্য খাতের বাজেট বরাদ্দ বাড়লেও এর কত শতাংশ আসলেই রোগীদের কল্যাণে ব্যয় হয়, সেটিও রহস্যের বিষয়! বিশেষজ্ঞদের মতে, জনস্বাস্থ্যের বড় চ্যালেঞ্জ শুধুমাত্র রোগ নয়, বরং এটি একটি গভীর প্রশাসনিক সংকটও।

বিশ্বের দূষিত শহরের তালিকায় শীর্ষে ছিল ভারতের দিল্লি, এরপর রয়েছে ঢাকা। বিশ্বের সবচেয়ে দূষিত বায়ুর তালিকায় প্রায়ই ঢাকার নাম শীর্ষে থাকে। এই দূষণের ফলে প্রতিদিন শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের রোগ ও হার্ট অ্যাটাকের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, “ঢাকার বায়ু এতটাই দূষিত যে, এটি প্রতিদিন ১০-১৫টি সিগারেট খাওয়ার সমান ক্ষতি হচ্ছে মানুষের !” তবুও, পরিবেশ সংরক্ষণের জন্য যথাযথ পদক্ষেপ নিতে এখনো গড়িমসি চলছে। এছাড়াও ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্ট আন্দোলন নিয়ে গণঅভ্যুত্থান সংক্রান্ত করা খসড়া তালিকা বলছে, এখন পর‍্যন্ত ১১ হাজার ৫৫১ জন আহত হওয়ার বিষয়ে নিশ্চিত হয়েছে তারা। আন্দোলনের আহতদের চিকিৎসা নিয়েও চলছে নানা অভিযোগ। আহতরা সুচিকিৎসার দাবিতে আন্দোলন করলেও অবস্থার কতটা অগ্রগতি হচ্ছে সেটা দেখার বিষয়।

গত বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে মারা গেছেন ৫৭৩ জন এবং হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১ লাখ ১ হাজার ১৩০ জন। বাংলাদেশে ডেঙ্গু এখন আর মৌসুমি রোগ নয়, বরং সারা বছরজুড়ে আতঙ্কের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বর্ষা মৌসুম এলেই ডেঙ্গুর প্রকোপ বাড়ে, হাসপাতালে রোগীর চাপ বেড়ে যায়, এবং মৃত্যুর সংখ্যাও উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পায়। তবে, ডেঙ্গু প্রতিরোধ কি শুধুমাত্র ব্যক্তিগত সচেতনতার উপর নির্ভর করবে, নাকি এর পেছনে প্রশাসনিক ব্যর্থতাও লুকিয়ে আছে? সিটি কর্পোরেশন গুলো কতোটা সচেতন? কম খরচে ডেঙ্গু পরীক্ষার জন্য বেসরকারি হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করা হচ্ছে কিনা? এ প্রশ্ন গুলোর দিকে নজর দিতে হবে।

বাংলাদেশে বর্তমানে খাদ্য নিরাপত্তার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো ভেজাল ও রাসায়নিক মিশ্রিত খাবার। ফরমালিনযুক্ত মাছ, কার্বাইড মেশানো ফলমূল, এবং নিষিদ্ধ কেমিক্যালযুক্ত খাদ্যদ্রব্য নীরবে মানুষের ক্ষতি করছে। গবেষণায় দেখা গেছে, ঢাকা শহরের ৭০% রাস্তার খাবারে ক্ষতিকর ব্যাকটেরিয়া ও রাসায়নিক উপাদান থাকে। দেশের গ্রামাঞ্চলের ৬০-৭০% মানুষ রোগ হলে চিকিৎসকের কাছে না গিয়ে সরাসরি ফার্মেসি থেকে ওষুধ কেনে। এতে করে ভুল চিকিৎসা এবং অ্যান্টিবায়োটিক রেজিস্ট্যান্সের সমস্যা মারাত্মকভাবে বাড়ছে।




সেলফ – হেল্প এর দর্শন

সেলফ-হেল্প শুধুমাত্র একটি আধুনিক ধারণা নয়, বরং এটি প্রাচীন দর্শনের গভীর শিকড়ের সাথেও সম্পর্কিত। সেলফ-হেল্পে প্রাসঙ্গিকতা মুলত যদি কেউ নিজের উন্নতি করতে চায়, তাহলে তার নিজস্ব মনোভাব ও প্রতিক্রিয়া নিয়ন্ত্রণ করতে শিখতে হবে। সকলেরই প্রতিকূল পরিস্থিতিকে অজুহাত না বানিয়ে, সেটিকে শেখার একটি সুযোগ হিসেবে গ্রহণ করা উচিত। আত্মনিয়ন্ত্রণ একটি ব্যাপক মানসিকতা, একটি কাঠামো, যা মানুষকে জীবনের জটিলতাগুলোর মধ্যে দিয়ে নির্দিষ্ট মাত্রার স্বচ্ছন্দে চলতে সহায়তা করে। এটি যেন একটি অভ্যন্তরীণ দিকনির্দেশক কম্পাস, যা এমন সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে যেটি মূল মূল্যবোধ এবং দীর্ঘমেয়াদী লক্ষ্যগুলোর সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

স্টোইক দর্শন (Stoicism) বলে নিয়ন্ত্রনে যা আছে, সেটির উপর মনোযোগ দিন। আমরা বাহ্যিক পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি না, তবে আমরা কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাব, সেটি নিয়ন্ত্রণ করতে পারি। নিজেকে বদলাতে চাইলে কষ্ট ও সংগ্রামকে ভয় না পেয়ে বরং তা গ্রহণ করা শিখতে হবে। সেলফ-হেল্প মানে নিজের জন্য সহজ পথ খোঁজা নয়, বরং নিজের সীমাবদ্ধতাকে অতিক্রম করার সাহস অর্জন করা। কনফুসিয়াস বলেছিলেন, সমাজ বা বাহ্যিক অর্জন নয়, নৈতিকতা, শৃঙ্খলা ও আত্ম-উন্নয়নই আসল লক্ষ্য।

বৌদ্ধ দর্শনে আত্ম-উন্নয়ন মানে নিজের অহংকে বিসর্জন দেওয়া। আমাদের দুর্ভোগের মূল কারণ হচ্ছে আমাদের আসক্তি ও প্রত্যাশা। সুখী ও পরিপূর্ণ জীবন পেতে হলে আমাদের নিজেকে নিয়ন্ত্রণ করা ও অহংকে ছাড়তে শেখা দরকার। সেলফ-হেল্প কোনো একদিনের কাজ নয়, এটি একটি ধারাবাহিক দার্শনিক প্রক্রিয়া। স্টোয়িক নিয়ন্ত্রণ, এক্সিস্টেনশিয়াল অর্থ খোঁজা, নীরে আত্ম-অতিক্রম, বৌদ্ধের মনের শান্তি, ও কনফুসিয়াসের নৈতিকতা-এই সবকিছু মিলে সত্যিকারের আত্মোন্নয়ন সম্ভব। সর্বশেষে আত্মোন্নয়ন মানে শুধু সফল হওয়া নয়, বরং একজন উন্নত মানুষ হওয়া, নিজের ক্ষমতাকে বিকশিত করা, এবং নিজের জীবনকে অর্থপূর্ণ করে তোলা।



ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা সফল হবে না , তবে এর প্রভাব থাকবে

যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা দখল এবং লোকজনকে সরিয়ে মালিকানা নেওয়ার পরিকল্পনা বাস্তবায়িত হবে না। এ পরিকল্পনা বাস্তবায়নে আরব দেশগুলোর সহযোগিতা প্রয়োজন; কিন্তু আরব দেশগুলো এ প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের পশ্চিমা মিত্ররাও এ পরিকল্পনার বিরোধী। বিবিসি বলেছে – গাজা নিয়ে ট্রাম্পের পরিকল্পনা সফল না হলেও তাঁর মন্তব্যের প্রভাব থাকবে। তাঁর এ মন্তব্যে স্বল্পমেয়াদি প্রভাব পড়বে ইসরায়েল ও হামাসের নাজুক যুদ্ধবিরতি চুক্তির ওপর। আরবের একটি জ্যেষ্ঠ সূত্র বলছে, এটা হবে ‘মৃত্যুঘণ্টা’।

গাজার ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থা নিয়ে পরিকল্পনা না থাকাটা ইতিমধ্যে এ চুক্তির একটি বড় ঘাটতি। এখন ট্রাম্প একটি প্রস্তাব সামনে এনেছেন। এটি বাস্তবায়িত না হলেও ফিলিস্তিনিদের মনে অনেক বড় চাপ সৃষ্টি করবে। অন্যদিকে ইহুদি উগ্রপন্থীদের পরিকল্পনা এবং স্বপ্নকে আরও জোর দেবে। ট্রাম্পের এ পরিকল্পনায় নেতানিয়াহু ও তার সরকারের লোকজন খুশি। তারা চায় গাজা যুদ্ধ আবার শুরু হোক, যার দীর্ঘমেয়াদি উদ্দেশ্য হলো ফিলিস্তিনিদের সরিয়ে ইহুদিদের বসতি স্থাপন করা।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম জেরুসালেম পোস্টের প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে-দেশটির প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাতজ ৬ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার ইসরায়েলি প্রতিরক্ষাবাহিনীকে (আইডিএফ) ফিলিস্তিনিদের ‘স্বেচ্ছায়’ গাজা ছাড়তে বাধ্য করার জন্য একটি পরিকল্পনা তৈরির নির্দেশ দিয়েছেন। ইসরায়েল কাতজ বলেন, ‘এই পরিকল্পনার আওতায় স্থল সীমান্ত দিয়ে বের হওয়ার বিকল্পসহ সমুদ্র ও আকাশপথে বিশেষ ব্যবস্থায় গাজাবাসীদের বের হওয়ার সুযোগ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।’ এ সময় তিনি গত মঙ্গলবার ওয়াশিংটনে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে বৈঠকের পর মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যে পরিকল্পনা উপস্থাপন করেন, গাজাবাসীদের পুনর্বাসন বিষয়ে সেটিকে স্বাগত জানান।

তিনি আরও বলেন, ‘গাজার বাসিন্দাদের গ্রহণ করা আইনগতভাবে বিভিন্ন দেশের দায়িত্ব। স্পেন, আয়ারল্যান্ড, নরওয়ে এবং অন্যান্য দেশ-যারা গাজায় ইসরায়েলের কার্যক্রম নিয়ে মিথ্যা অভিযোগ ও রক্তচোষা অপবাদ দিয়েছে, তারা আইনগতভাবে বাধ্য যে তারা গাজার যে কোনো বাসিন্দাকে তাদের ভূখণ্ডে প্রবেশের অনুমতি দেবে।’



সামাজিক সম্পর্ক ও যোগাযোগতত্ত্ব , প্রভাব এবং প্রতিফলন

মানুষ সামাজিক প্রাণী হিসেবে একে অপরের সঙ্গে সম্পর্ক গড়ে তোলে। তথ্য ও অনুভূতি বিনিময় করে এবং সমাজের উন্নয়নে অবদান রাখে। সামাজিক সম্পর্ক ও যোগাযোগের তত্ত্ব আমাদের এই সম্পর্কের গঠন, প্রকৃতি এবং প্রভাব সম্পর্কে গভীর ধারণা প্রদান করে। সামাজিক সম্পর্ক বলতে এমন সম্পর্ককে বোঝায় যা দুটি বা ততোধিক ব্যক্তির মধ্যে গড়ে উঠছে, যেখানে আস্থা, সম্মান, সহযোগিতা, ভালোবাসা বা দ্বন্দ্বও থাকতে পারে। সামাজিক সম্পর্কের তত্ত্ব বিভিন্ন দৃষ্টিকোণ থেকে সম্পর্কের গঠন ও প্রভাব বিশ্লেষণ করে।

এসব মিলিয়ে উল্লেখযোগ্য কিছু তত্ত্ব হলো: সামাজিক সম্ভাব্যতা তত্ত্ব (Social Exchange Theory), এই তত্ত্ব অনুযায়ী, সামাজিক সম্পর্কগুলো একটি নির্দিষ্ট বিনিময়ের ভিত্তিতে চলে, যেখানে প্রতিটি ব্যক্তি লাভ এবং ক্ষতির হিসাব করে তাদের সম্পর্ক বজায় রাখে। আবার সংবেদনশীল (Social Penetration Theory) তত্ত্ব বলে, সামাজিক সম্পর্ক শুরুতে পৃষ্ঠতলের স্তরে থাকে এবং ধীরে ধীরে তা আরও গভীরে প্রবাহিত হয়। মানুষ একে অপরকে জানার জন্য সময় নেয়, সম্পর্ক আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। যেমন ধরুন শীতকালে ঠাণ্ডা জলে আস্তে আস্তে হাত-পা ডুবিয়ে দেখে পরে সাহস করে ডুব দেওয়া!

আবার সামাজিক পরিচিতির (Social Identity Theory) তত্ত্ব অনুযায়ী, মানুষের সামাজিক সম্পর্ক তাদের নিজস্ব পরিচয় এবং শ্রেণীর ওপর নির্ভর করে। সম্পর্ক গড়ে ওঠে গোষ্ঠীভিত্তিক ভাবনা ও অনুভূতির মাধ্যমে। সামাজিক যোগাযোগের তত্ত্ব হলো মূলত তথ্য ও অনুভূতির আদান-প্রদান প্রক্রিয়া। সামাজিক যোগাযোগের তত্ত্ব এই প্রক্রিয়ার বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করে। এ অনুযায়ী ট্রান্সঅ্যাকশনাল মডেল বলছে, যোগাযোগ হলো একটি দ্বিমুখী প্রক্রিয়া, যেখানে প্রেরক ও গ্রাহক উভয়ই তথ্য প্রেরণ ও গ্রহণ করে। তারই আরেক বোন কনটেক্সট মডেল বলছে, যোগাযোগের প্রক্রিয়া আসলে পরিবেশ, পরিস্থিতি এবং সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপটের ওপর নির্ভর করে।

সহজ ভাষায় আসলে সামাজিক সম্পর্ক ও যোগাযোগের তত্ত্ব আমাদের সম্পর্কের গঠন ও প্রভাব সম্পর্কে গভীর ধারণা প্রদান করে। এর মাধ্যমে আমরা বুঝতে পারি কীভাবে আমাদের সম্পর্ক গুলো গড়ে ওঠে, কীভাবে যোগাযোগের প্রক্রিয়া কাজ করে এবং কীভাবে সম্পর্ক আমাদের ব্যক্তিগত ও সামাজিক জীবনে প্রভাব ফেলে। উদাহরণস্বরূপ, বর্তমানে সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমে ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া, যেমন লাইক, কমেন্ট এবং শেয়ার, আমাদের অপরের মধ্যে একেকজনের ভাবনা চিন্তা সম্পর্কে বৃদ্ধি করতে পারে এবং নতুন সম্পর্কও তৈরি করতে পারে। সামাজিক সম্পর্ক ও যোগাযোগের তত্ত্ব আমাদের সম্পর্কের গঠন, প্রকৃতি এবং প্রভাব সম্পর্কে গভীর ধারণা প্রদান করে। এই তত্ত্বের মাধ্যমে আমরা সম্পর্কের বিভিন্ন দিক বিশ্লেষণ করতে পারি এবং সামাজিক সম্পর্কের উন্নয়নে কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে পারি।