Home Blog Page 205

নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করেনি সংস্কার কমিশন

বাংলাদেশে আগামীতে কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সুপারিশ বা প্রস্তাব দেয়নি নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন। নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতৈক্য না হওয়ায় প্রতিবেদনে বিষয়টি রাজনীতিবিদদের ওপরেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের ৮৯ পৃষ্ঠায় ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ অনুচ্ছেদে বিদ্যমান এবং সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতির সুফল ও কুফল সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে বলা হয়।

‘বাংলাদেশে বর্তমানে আসনভিত্তিক ‘ফাস্ট পাস্ট দ্য পোস্ট’ (এফপিটিপি) বা আসনভিত্তিক পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।এটি একটি জনপ্রিয় এবং অপেক্ষাকৃত সহজ পদ্ধতি। তবে এফপিটিপি বা আসনভিত্তিক পদ্ধতির অনেকগুলো গুরুতর সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যার অন্যতম হলো এ পদ্ধতিতে অনেক সময় রাজনৈতিক দল তাদের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে আসন পায় না। অর্থাৎ রাজনৈতিক দলের প্রাপ্ত ভোটের হার কাছাকাছি হলেও তাদের প্রাপ্ত আসনের সংখ্যায় প্রায়ই ব্যাপক তারতম্য ঘটে। ফলে এ ব্যবস্থায় প্রাপ্ত আসনের সংখ্যায় দলের জনসমর্থনের যথার্থ প্রতিফলন ঘটে না। সংসদে রাজনৈতিক দলের যথার্থ প্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় না।

এটি সুস্পষ্ট যে বিদ্যমান আসনভিত্তিক এফপিটিপি পদ্ধতির কারণে সামান্য ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েও সংসদে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা সম্ভব হয়। আর এ সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে সরকারগুলো ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার লক্ষ্যে অতীতে একাধিকবার সংবিধান সংশোধন করেছে, যা দেশে ‘টিরানি অব দ্য মেজরিটি’ বা সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বৈরাচার সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে সংসদের আসন সংখ্যা ভাগ হয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভোটপ্রাপ্তির অনুপাতের হারে। এ ব্যবস্থায় ভোটাররা ভোট প্রদান করেন রাজনৈতিক দলকে, কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীকে নয় এবং রাজনৈতিক দলের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা নির্ভর করে দলের প্রাপ্ত ভোটের হারের ওপর। দেশে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি চালু থাকলে ১৯৯১-২০০৮ চারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কারও পক্ষেই এককভাবে সরকার গঠন করা সম্ভব হতো না। উভয় দলকেই অন্য কোনো দলের বা দলগুলোর সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকার গঠন করতে হতো।

তবে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির একটি বড় দুর্বলতা হলো সরকারের সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতা। সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির আরও অনেক দুর্বলতা রয়েছে, যা অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময়ে উঠে এসেছে। অংশীজনের মধ্যে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির দাবি উঠলেও এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চরম মতবিরোধ রয়েছে।’



নেতানিয়াহুর নতুন তত্ত্ব ‘ ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার জন্য যথেষ্ট জায়গা সৌদি আরবে আছে ‘

এবার সৌদি আরবের ভূখণ্ডে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরামর্শ দিয়েছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।ফিলিস্তিনিদের প্রস্তাবিত গাজা, পশ্চিম তীর ও পূর্ব জেরুজালেম নিয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার দাবিকে ঔদ্ধত্যের সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করেছেন তিনি। ৬ জানুয়ারি বৃহস্পতিবার ইসরায়েলের ডানপন্থী সংবাদমাধ্যম চ্যানেল ফোরটিনকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ‘সৌদি কর্তৃপক্ষ সৌদি আরবে একটি ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে পারে। সেখানে তাদের অনেক ভূমি আছে।’

ইসরায়েলের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার ক্ষেত্রে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার শর্ত দিয়েছে সৌদি আরব। সে প্রসঙ্গে জানতে চাওয়া হলে নেতানিয়াহু বলেন, ইসরায়েল রাষ্ট্রকে বিপন্ন করবে, এমন কোনো চুক্তি তিনি করবেন না। নেতানিয়াহু বলেন, ‘বিশেষ করে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র তো নয়ই। ৭ অক্টোবরের পরও? আপনি কি জানেন সেটা কী? একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র ছিল, এটিকে গাজা বলা হতো। হামাসের নেতৃত্বে গাজা ছিল একটি ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র এবং দেখুন, আমরা কী পেয়েছি, হলোকাস্টের পর সবচেয়ে বড় গণহত্যা।’

নেতানিয়াহুর যুক্তরাষ্ট্র সফরকালে গতকাল সাক্ষাৎকারটি নিয়েছে চ্যানেল ফোরটিন। তাঁর এই সফরের সময় সংবাদ সম্মেলনে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের গাজা ভূখন্ড নিয়ন্ত্রণে নিতে চাওয়ার ঘোষণা দেন। ইসরায়েলের নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক কয়েকজন কর্মকর্তা এ সপ্তাহের শুরুর দিকে ‘দ্য জেরুজালেম পোস্ট’-কে জানিয়েছিলেন, নেতানিয়াহু সৌদি আরবের সঙ্গে সম্পর্ক স্বাভাবিক করার দিকে এগুনোর জন্য গাজায় চলমান যুদ্ধ বন্ধে রাজি হতে পারেন এবং পশ্চিম তীর সংযুক্তি (অ্যানেক্সেশন) পিছিয়ে দিতে পারেন।


প্রশাসনকে জনবান্ধব করার প্রধান বাধা । রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ ও দুর্নীতি , জরিপে মত

জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন অনলাইনে ১ লাখ ৫ পাঁচ হাজার নাগরিকের মতামত নিয়ে জরিপ করেছে। নির্ধারিত প্রশ্নের বাইরে উন্মুক্তভাবে মতামত দেওয়ারও সুযোগ ছিলো জরিপে। ৮ ফেব্রুয়ারি প্রকাশিত কমিশনের পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনে জরিপের ফলাফল দেয়া হয়েছে। সেখান থেকে কিছু উল্লেখযোগ্য তথ্য –

  • ৮০% উত্তরদাতা মনে করেন, দেশের জনপ্রশাসন ব্যবস্থা জনবান্ধব নয়। ৬৬.৪% মানুষ মনে করেন, সরকারি কর্মচারীরা নাগরিকদের সাথে শাসকের মতো আচরণ করেন।
  • ৫৬% মানুষ মনে করেন, জনপ্রশাসনকে জনবান্ধব করার পথে প্রধান প্রতিবন্ধকতা হচ্ছে রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ। আর ৪২% মানুষের মতে, দুর্নীতিই হচ্ছে প্রধান বাধা।
  • ৫২% উত্তরদাতার মতে, জবাবদিহি নিশ্চিত করা হবে জনপ্রশাসন সংস্কারের প্রধান কাজ। ৩৬% মতে দুর্নীতি দূর করতে পারা হচ্ছে আসল কাজ।
  • প্রায় ৯৬% মানুষের অভিজ্ঞতা হচ্ছে জনপ্রশাসনে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতার অভাব রয়েছে।
  • জরিপে অংশগ্রহণকারী ৫২% উত্তরদাতা জানিয়েছেন, ঘুষ ছাড়া কোনো সেবা পাওয়া যায় না। ৪৬% মতে, তারা সেবা চাইতে গিয়ে হেনস্তার শিকার হয়েছেন।
  • প্রায় ৭৬% উত্তরদাতা মনে করেন, বিদ্যমান উপজেলা পদ্ধতি শক্তিশালী করে ভালো সেবা পাওয়া যেতে পারে। ৬৮% উত্তরদাতার মতে, বিদ্যমান জেলা পরিষদ ব্যবস্থা মোটেই কার্যকর নয়। ৪৭% উত্তরদাতা মনে করেন, বিদ্যমান ইউনয়িন পরিষদ ও পৌরসভাকে শক্তিশালী করে জনপ্রশাসনের সাথে সম্পৃক্ত করা যেতে পারে।
  • ৫৭% উত্তরদাতা মনে করেন, এমন কঠোর আইন প্রণয়ন করা উচিত যাতে সরকারি কর্মচারীরা রাজনৈতিক চাপে প্রভাবিত না হন। মাত্র ৪% নাগরিক মনে করেন, বেতন ও সুযোগ-সুবিধা বাড়ালে ঘুষ-দুর্নীতি কমে যেতে পারে।

গাজাবাসীদের সরানো হবেই কেবল ‘ভালো’ ফিলিস্তিনিরাই ফিরতে পারবে : নেতানিয়াহু

ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের গাজা থেকে ফিলিস্তিনিদের পুনর্বাসনের পরিকল্পনাকে ‘বিগত কয়েক বছরের মধ্যে আসা প্রথম নতুন ধারণা’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি বলেছেন, এটি গাজার পরিস্থিতি আমূল বদলে দিতে পারে। পাশাপাশি তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, গাজাবাসীদের সরিয়ে দেওয়া হবেই এবং কেবল সন্ত্রাসবাদকে ঘৃণা করে এমন ‘ভালো’ ফিলিস্তিনিদের ফিরতে দেওয়া হবে। মার্কিন সম্প্রচারমাধ্যম ফক্স নিউজের মার্ক লেভিনকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু বলেন, ‘এটি (ট্রাম্পের প্রস্তাব) গাজায় সবকিছু বদলে দেওয়ার সম্ভাবনা রাখে।’

ট্রাম্পের পরিকল্পনার ব্যাখ্যা দিতে গিয়ে নেতানিয়াহু জোর দিয়ে বলেন, ‘এটি জোরপূর্বক উচ্ছেদ নয়। এটি জাতিগত নির্মূল নয়। গাজার পরিস্থিতি সম্পর্কে যেসব দেশ ও তথাকথিত মানবাধিকার কর্মীরা বলে যে, এটি একটি খোলা-কারাগার, তারা কেন চায় যে, তাদের সেখানেই আটকে রাখা হোক?’ নেতানিয়াহু ব্যাখ্যা করে বলেন, ‘তাদের একটি সাময়িক পুনর্বাসনের সুযোগ দিন। যাতে আমরা অঞ্চলটিকে আক্ষরিক অর্থেই পুনর্গঠনের পাশাপাশি উগ্রপন্থামুক্ত করতে পারি। আপনি ফিরতে চান? আপনাকে সন্ত্রাসবাদ পরিত্যাগ করতে হবে, তাহলেই আপনি ফিরতে পারবেন।’

তবে নেতানিয়াহু স্বীকার করেন যে, এই পরিকল্পনার মূল চ্যালেঞ্জ হলো গাজার বাসিন্দাদের কোথায় স্থানান্তর করা হবে। কিন্তু তিনি এটিকে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি হিসেবেই উপস্থাপন করেন। তাঁর ভাষায়, ‘এটি একটি নতুন ও সঠিক পন্থা…এটি খুবই ভালো, নতুন দৃষ্টিভঙ্গি।’ সাক্ষাৎকারে নেতানিয়াহু আরও বলেন, যুদ্ধের শুরুতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন ইসরায়েলের প্রতি যে সমর্থন দেখিয়েছিল, তার জন্য তিনি কৃতজ্ঞ। কিন্তু ‘যখন বাইডেনের ওপর চাপ বাড়তে থাকে যাতে তিনি ইসরায়েল সম্পর্কে তাঁর অবস্থান পরিবর্তন করেন, তখন হোয়াইট হাউস জানিয়ে দেয় যে, যদি ইসরায়েল রাফাহে প্রবেশ করে, আমরা অস্ত্র সরবরাহ বন্ধ করে দেব।’

নেতানিয়াহু দাবি করেন, তাঁর মন্ত্রিসভার কিছু সদস্য যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতার কারণে গাজায় চলমান যুদ্ধ শেষ করতে চেয়েছিলেন।কিন্তু তিনি এটিকে একটি আত্মঘাতী সিদ্ধান্ত বলে মনে করেন। তাঁর সতর্কবাণী, ‘যদি আমরা একটি করদরাজ্য (ভ্যাসাল স্টেট) হয়ে যাই, তবে আমরা টিকতে পারব না।’


খনিজের বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্র থেকে নিরাপত্তা চান জেলেনস্কি

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইউক্রেনের খনিজ সম্পদ পাওয়ার আগ্রহ দেখিয়েছেন। তাঁর সেই আগ্রহের সূত্র ধরে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি জানিয়েছেন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রকে খনিজ সম্পদ দিতে রাজি। তবে বিনিময়ে ওয়াশিংটনকে ইউক্রেনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের নির্দেশনায় রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধেও রাজি। ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি গত শুক্রবার রয়টার্সকে একটি সাক্ষাৎকার দেন। সে সময় তিনি ইউক্রেনের একটি গোপন মানচিত্রের ওপর দৃষ্টিপাত করেন। মানচিত্রটিতে ইউক্রেনের বিরল মৃত্তিকা ও অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ খনিজের বিশাল মজুত চিহ্নিত করা হয়েছে বিশ্লেষকেরা বলছেন, জেলেনস্কির এই প্রচেষ্টা মূলত ডোনাল্ড ট্রাম্পের ব্যবসায়িক মনোভাবকে আকর্ষণ করার লক্ষ্যে।

গত বছরের মাঝামাঝি ইউক্রেন কর্তৃপক্ষ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ খনিজ ক্ষেত্রগুলোতে মিত্রদের বিনিয়োগের জন্য উন্মুক্ত করার ধারণা উপস্থাপন করেছিল। সাক্ষাৎকারে জেলেনস্কি জানান, ইউক্রেনের খনিজ সম্পদগুলোর ২০ শতাংশের কম বর্তমানে রাশিয়ার দখলে। বিরল মৃত্তিকা খনিজগুলো উচ্চ শক্তির চৌম্বক, বৈদ্যুতিক মোটর এবং দৈনন্দিন ব্যবহার্য ইলেকট্রনিকসের উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ। জেলেনস্কি বলেন, মস্কো এই খনিজগুলো তার মিত্র উত্তর কোরিয়া এবং ইরানকে দিতে পারে।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট দাবি করেন, তাঁর দেশে ইউরোপের মধ্যে সবচেয়ে টাইটানিয়াম মজুত রয়েছে। এই টাইটানিয়াম বিমান ও মহাকাশ শিল্পে অপরিহার্য। এ ছাড়া পারমাণবিক শক্তি ও অস্ত্র উৎপাদনে ব্যবহৃত ইউরেনিয়ামেরও বিশাল মজুত আছে। রাশিয়ার দখলে থাকা অঞ্চল ছাড়াও ইউক্রেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে বিপুল টাইটানিয়ামের মজুত আছে বলেও জানান জেলেনস্কি। ইউক্রেন দ্রুত পররাষ্ট্রনীতি পুনর্নির্ধারণ করেছে। যাতে দেশটি মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশ্বজুড়ে ব্যবসায়িক দৃষ্টিভঙ্গির সঙ্গে সংগতি বজায় রাখতে পারে। তবে জেলেনস্কি জোর দিয়ে বলেন, কিয়েভ ‘তার সম্পদ অন্যকে দিয়ে দেবে’ এমন কোনো প্রস্তাবনা দেয়নি, বরং একটি পারস্পরিক সুবিধাজনক অংশীদারত্বের প্রস্তাব দিচ্ছে, যাতে এই সম্পদগুলোকে যৌথভাবে ব্যবহার করা যায়।

জেলেনস্কি বলেন, ‘আমেরিকানরা সবচেয়ে বেশি সাহায্য করেছে এবং তাই আমেরিকানদের সবচেয়ে বেশি উপার্জন করা উচিত এই খাত থেকে। তাদের এই অগ্রাধিকার থাকতে হবে এবং তা থাকবে। আমি এই বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের সঙ্গে আলোচনা করতে চাই।’ জেলেনস্কি বলেন, কিয়েভ এবং হোয়াইট হাউস ইউক্রেনের বিশাল ভূগর্ভস্থ গ্যাস স্টোরেজ সাইটগুলো ব্যবহার করে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস বা এলএনজি সংরক্ষণের বিষয়ে আলোচনা করছে। তিনি বলেন, ‘আমি জানি যে, ট্রাম্প প্রশাসন এতে খুব আগ্রহী… আমরা প্রস্তুত এবং ইচ্ছুক ইউক্রেনের জন্য চুক্তি করতে। অবশ্যই, আমরা ইউরোপের জন্য একটি হাব হতে পারব।’



বিজ্ঞানের সীমানা নিয়ে প্রশ্ন জাগে না ? আমরাও কি বাস্তবতাকে পুরোপুরি বুঝি ?

মানব সভ্যতার বিকাশের সাথে সাথে বিজ্ঞান আমাদের জ্ঞানের সীমানা প্রসারিত করেছে। মহাকাশ অনুসন্ধান থেকে শুরু করে কোয়ান্টাম মেকানিক্সের জটিলতা, কগনিটিভ সায়েন্সের অগ্রগতি, এবং বহির্মাত্রার তত্ত্ব-বিজ্ঞান আমাদের বাস্তবতার পরিধি বোঝার সুযোগ করে দিয়েছে। কিন্তু একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন থেকে যায়, আমরা কি বিজ্ঞানের মাধ্যমে চূড়ান্ত সত্যের নাগাল পেতে পারবো? নাকি বাস্তবতা এমন এক স্তরে অবস্থান করছে যা আমাদের উপলব্ধির বাইরে! চলুন আজ সম্ভাব্য দিগন্ত নিয়ে নিজেদের কিছু প্রশ্ন করি।কোয়ান্টাম মেকানিক্স – বাস্তবতার রহস্যময়তা কোয়ান্টাম মেকানিক্স আমাদের দেখিয়েছে যে প্রকৃতি সবসময় আমাদের প্রত্যাশিত নিয়ম মেনে চলে না। ইলেকট্রন দাবী করে, সে একইসাথে দুটি স্থানে থাকতে পারে (সুপারপজিশন), এবং একটি কণা দূরবর্তী অন্য একটি কণার সাথে তাৎক্ষণিকভাবে সংযুক্ত থাকতে পারে (এনট্যাংলমেন্ট)। কিন্তু এই ঘটনাগুলো আমাদের প্রচলিত বাস্তবতার ধারণার সাথে সাংঘর্ষিক। এর মানে কি এই যে, আমরা যা দেখি বা বোঝার চেষ্টা করি, তা কেবলই আমাদের উপলব্ধির সীমিত অংশ?

কগনিটিভ সায়েন্স – মস্তিষ্ক কি সত্যিই বুঝতে সক্ষম? মানব মস্তিষ্ক একটি আশ্চর্যজনক অর্গান হলেও, এটি সীমাবদ্ধ। কগনিটিভ সায়েন্স নাকি বলে, যে আমাদের সকল অনুভূতি ও ধারণাগুলো আসলে আমাদের নিউরাল প্রসেসের ফসল, যা সর্বদা সঠিক নয়। আমরা তো সর্বদা বাস্তবতাকে প্রকৃত রূপে দেখতে বা বুঝতে পারি না; বরং আমরা একে আমাদের মস্তিষ্কের গঠিত মডেল হিসেবে অনুভব করি। তাহলে প্রশ্ন হলো, বিজ্ঞানের মাধ্যমে আমরা যদি কোনো সত্যকে বুঝতেও পারি, সেটি কি আদৌ নির্ভুল, নাকি কেবলই এক প্রায় বাস্তবতা?

অজানা মাত্রা ও বাস্তবতার অতীত-বর্তমান বহুমাত্রিক মহাবিশ্ব (Multiverse) তত্ত্ব এবং স্ট্রিং থিওরি আমাদের বলে যে, আমরা যে বাস্তবতাকে জানি তা একটি বৃহত্তর কসমিক কাঠামোর ক্ষুদ্র অংশমাত্র। স্টিফেন হকিং-এর মতে, মহাবিশ্বের অস্তিত্ব অনেক বেশি জটিল এবং এতে আমাদের উপলব্ধির বাইরে আরও অসংখ্য মাত্রা থাকতে পারে। কিন্তু এই মাত্রাগুলো যদি আমাদের অস্তিত্বের অংশ হয়েও আমাদের কাছে অধরা থাকে, তাহলে আমরা কিভাবে বিজ্ঞানের মাধ্যমে তা বোঝার আশা করবো!

বিজ্ঞানের ভবিষ্যৎ – সীমাবদ্ধতা না সম্ভাবনা? বিজ্ঞান দাবী করেন তিনি আমাদের বাস্তবতার গভীরে নিয়ে যাচ্ছেন। কিন্তু এটি কি সত্যিই সর্বশক্তিমান? হতে পারে, ভবিষ্যতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আরও উন্নত প্রযুক্তির সাহায্যে আমরা নতুন অনেক জ্ঞান অর্জন করবো। কিন্তু বিজ্ঞান যদি কেবল আমাদের উপলব্ধির মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, তাহলে চূড়ান্ত সত্য আমাদের কাছে কখন ধরা দেবে!

বর্তমান সময়ের পরিপেক্ষিতে বিজ্ঞান নিঃসন্দেহে আমাদের কাছে থাকা সবচেয়ে শক্তিশালী হাতিয়ার, কিন্তু এটি সর্বজ্ঞ নয়। কোয়ান্টাম মেকানিক্স আমাদের দেখিয়েছে যে বাস্তবতা অনেকাংশে রহস্যময়, কগনিটিভসায়েন্স প্রশ্নবিদ্ধ করে বুঝিয়েছে যে আমরা সবকিছু বুঝতে সক্ষম নই। আর অতিরিক্ত মাত্রার সম্ভাবনা আমাদের উপলব্ধির বাইরে নতুন কোনো জগতেরই ইঙ্গিত দেয়। সুতরাং, আমরা কি সত্যকে পুরোপুরি উপলব্ধি করতে পারবো? নাকি বিজ্ঞানের সীমাবদ্ধতা আমাদের চূড়ান্ত সত্যের দ্বারপ্রান্তে নিয়েও থামিয়ে দেবে? এই প্রশ্নের উত্তরও হয়তো আগামী দিনের বিজ্ঞানের হাতেই। কিন্তু সেই আগামীদিনের বিজ্ঞানও একপ্রান্তে নিয়ে ঠিকই প্রশ্নবিদ্ধ করে রাখবে কিনা সেটাই কেবল জানা নেই!


নিউক্লিয়ার ফিউশন গবেষণায় পশ্চিমাদের ফেলে এগিয়ে যেতে পারে চীন ?

সিএনএন এর খবরে বলা হয়েছে – চীনের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের পাথুরে এলাকায় এক্স-আকৃতির বিশাল একটি ভবন স্যাটেলাইট ছবিতে ধরা পড়েছে। বিশ্লেষকদের মতে, এটি একটি আধুনিক নিউক্লিয়ার ফিউশন গবেষণা কেন্দ্র, যা চীনকে শক্তির ভবিষ্যৎ গবেষণায় এগিয়ে নিতে পারে। প্রাপ্ত নথি অনুসারে, এটি একটি ‘লেজার ফিউশন’ গবেষণা কেন্দ্র। লেজার ফিউশন প্রযুক্তির মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা চরম তাপমাত্রা ও চাপে পদার্থের আচরণ পরীক্ষা করতে পারেন, যা তারকা বা পারমাণবিক বিস্ফোরণের সময় ঘটে। বিশেষজ্ঞদের মতে, কেন্দ্রীয় টাওয়ারের চেম্বারে থাকা হাইড্রোজেন আইসোটোপের ওপর তাক করে চারটি বিশাল বাহু থেকে শক্তিশালী লেজার রশ্মি ছোঁড়া হবে। এর ফলে নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রতিক্রিয়া তৈরি হবে, যা বিশাল পরিমাণ শক্তি উৎপন্ন করতে পারে।

বিশ্বজুড়ে নিউক্লিয়ার ফিউশন শক্তিকে ভবিষ্যতের টেকসই ও অফুরন্ত জ্বালানির উৎস হিসেবে দেখা হচ্ছে। এটি পরিবেশবান্ধব ও কার্যকর, কারণ এতে প্রচলিত নিউক্লিয়ার ফিশনের মতো দীর্ঘমেয়াদি তেজস্ক্রিয় বর্জ্য তৈরি হয় না। এখনও পর‍্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র এক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে। ২০২২ সালে ক্যালিফোর্নিয়ার ন্যাশনাল ইগনিশন ফ্যাসিলিটি (এনআইএফ) সফলভাবে প্রথম নিউক্লিয়ার ফিউশন প্রতিক্রিয়া ঘটায়, যা বিজ্ঞানীদের জন্য বড় সাফল্য। তবে চীনের মিয়ানইয়াং গবেষণা কেন্দ্র যুক্তরাষ্ট্রের এনআইএফের তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বড় হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। বিশ্লেষকরা বলছেন, বড় আকারের লেজার আরও বেশি শক্তি উৎপাদনে সহায়তা করতে পারে।

ফিউশন এনার্জি ইনসাইটসের প্রধান নির্বাহী মেলানি উইন্ডরিজ বলেন, ‘চীন খুব দ্রুত সিদ্ধান্ত নিচ্ছে এবং কাজ এগিয়ে নিচ্ছে, যা তাদের অগ্রগতির ইঙ্গিত দেয়।’ বিশ্লেষক অ্যান্ড্রু হল্যান্ড বলেন, চীন যে গতিতে কাজ করছে, তাতে যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্ররা যদি বিনিয়োগ না বাড়ায়, তবে ফিউশন গবেষণায় চীনই এগিয়ে যাবে। বিশ্ব শক্তির ভারসাম্য বদলে দেওয়ার সক্ষমতা রয়েছে এই প্রযুক্তির। ফলে, গবেষণা কেন্দ্রটি শুধু শক্তি উৎপাদনের ভবিষ্যৎই নয়, ভূরাজনৈতিক প্রতিযোগিতারও গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠতে পারে।পারমাণবিক শক্তি উৎপাদন হতে পারে দুই ধরনের বিক্রিয়ার মাধ্যমে। একটিকে বলে নিউক্লিয়ার ফিশন, অন্যটি নিউক্লিয়ার ফিউশন।

পরমাণু বিদ্যুৎ কেন্দ্রে বা পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটাতে ইউরেনিয়াম পরমাণুকে একটি নিউট্রন দিয়ে আঘাত করে একে ভেঙ্গে ফেলা বা ‘ফিশন’ ঘটানো হয়। সমস্যা হল, এর জ্বালানি সহজলভ্য নয় এবং এ প্রক্রিয়ায় বিপুল পরিমাণ তেজস্ক্রিয় বর্জ্য তৈরি হয়।নিউক্লিয়ার ফিউশনের সূচনা হয় ফিশন বিক্রিয়ার উল্টো প্রক্রিয়ায়। এক্ষেত্রে দুটি বা তার বেশি নিউক্লিয়াস যুক্ত হয়ে এক বা একাধিক ভিন্ন মৌলের পরমাণু তৈরি করে, সঙ্গে পাওয়া যায় বিপুল শক্তি।

সূর্যের মত নক্ষত্রে নিউক্লিয়ার ফিউশন বিক্রিয়ার মাধ্যমেই শক্তি তৈরি হয়। বিজ্ঞানীরা বহু বছর ধরে পৃথিবীতে নিয়ন্ত্রিত মাত্রায় সেই বিক্রিয়া ঘটানোর কৌশল উদ্ভাবনের চেষ্টা চালিয়ে আসছেন। সত্যি সত্যি যদি পৃথিবীতে নিয়ন্ত্রিত পরিবেশে নিউক্লিয়ার ফিউশন ঘটানো যায়, তার মধ্য দিয়ে দৃশ্যত অসীম পরিমাণ শক্তি উৎপাদন করা যাবে পরিবেশবান্ধব উপায়ে। এ প্রক্রিয়ায় কার্বন নির্গমন বা তেজস্ক্রিয় নিঃসরণের ঝুঁকিও তেমন বাড়বে না। বিবিসি-র মতে, এই শতকের দ্বিতীয় ভাগেই নিউক্লিয়ার ফিউশন একটি নির্ভরযোগ্য জ্বালানি উৎস হয়ে উঠতে পারে।



শেখ হাসিনাকে ফ্রি হ্যান্ড কথা বলার সুযোগ দিয়েছে ভারত : রিজভী

শেখ হাসিনাকে ‘ফ্রি হ্যান্ড’ কথা বলার সুযোগ দিয়ে ভারত বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বের ওপরে সরাসরি হস্তক্ষেপ করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী। ৮ ফেব্রুয়ারি একটি গ্রন্থের প্রকাশনা অনুষ্ঠানে তিনি বলেন-‘ভারত তাকে (শেখ হাসিনা) আশ্রয় দিয়েছে সেটা দিতে পারে। কিন্তু তাকে ফ্রি হ্যান্ড দেওয়া যে, সে বলবে বাংলাদেশের বিরুদ্ধে। পাশের দেশে থেকে ওনি উসকানি দিচ্ছেন, একটা অরাজকতা তৈরির প্রচেষ্টা চালাচ্ছেন এবং তাকে সাপোর্ট করছে ভারতের পলিসিমেকাররা। এটা অদ্ভুত ব্যাপার।’

রিজভী বলেন-‘আমার অবাক লাগে যে, ভারতের মতো একটি গণতান্ত্রিক দেশে এমন নির্লজ্জের মতো ওখানকার মিডিয়া, কিছু সাংবাদিক সেই এক ধরনের বয়ান তৈরি করছে। শেখ হাসিনা যেমনটি করেছেন, সেই ফ্যাসিস্টদের পক্ষ অবলম্বন করে এ বয়ান তৈরি করছে। তাতে মনে হচ্ছে যে, অনেক দিনের গুপ্তধন তারা যেটা সঞ্চয় করেছে সেই গুপ্তধন যেন হাতছাড়া হয়ে গেছে।’ তিনি আরো বলেন-‘আজকে গণতন্ত্রের পথরেখা অনুযায়ী গণতন্ত্রের চর্চা-অনুশীলন, গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রের যে বিকাশের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে এটা কোনোভাবেই সহ্য করতে পারছে না শুধু শেখ হাসিনাই নয়, ভারতের পলিসি মেকাররাও। এটা কেন? একটি গণতান্ত্রিক দেশের কাছ থেকে তো এটা আমরা আশা করতে পারি না।’

বিশ্বব্যাপী অধূমপায়ী ব্যক্তিদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সার বাড়ছে

ফুসফুসের ক্যান্সারে আক্রান্তদের মধ্যে অধূমপায়ীদের অনুপাত বাড়ছে। এর পেছনে বায়ুদূষণ একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ কারণ’বলে জানিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ক্যান্সার এজেন্সি। ইন্টারন্যাশনাল এজেন্সি ফর রিসার্চ অন ক্যান্সার (আইএআরসি) জানিয়েছে, অধূমপায়ী ব্যক্তিদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সার এখন বৈশ্বিকভাবে ক্যান্সারে মৃত্যুর পঞ্চম প্রধান কারণ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে। কখনোই ধূমপান না করা ব্যক্তিদের মধ্যে ফুসফুসের ক্যান্সার প্রায় সম্পূর্ণভাবেই অ্যাডেনোকারসিনোমা হিসেবে দেখা দিচ্ছে। এটি বিশ্বব্যাপী পুরুষ ও নারী উভয়ের মধ্যে রোগটির চারটি প্রধান উপপ্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে বেশি প্রচলিত হয়ে উঠেছে বলে জানিয়েছে আইএআরসি।

‘ল্যানসেট রেসপিরেটরি মেডিসিন’ সাময়িকীতে প্রকাশিত আইএআরসি-এর এক গবেষণা অনুযায়ী, ২০২২ সালে প্রায় ২ লাখ অ্যাডেনোকারসিনোমার ঘটনা বায়ুদূষণের সংস্পর্শের সঙ্গে সম্পর্কিত ছিল । গবেষণায় দেখা গেছে, বায়ুদূষণের কারণে অ্যাডেনোকারসিনোমার সবচেয়ে বেশি প্রভাব পড়েছে পূর্ব এশিয়ায়, বিশেষ করে চীনে। দ্য গার্ডিয়ানকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে গবেষণার প্রধান লেখক ও আইএআরসি-এর ক্যান্সার নজরদারি শাখার প্রধান ড. ফ্রেডি ব্রে বলেন-‘যেখানে ধূমপানকে ফুসফুসের ক্যান্সারের প্রধান কারণ হিসেবে বিবেচনা করা হয়নি, সেইসব জনগোষ্ঠীর মধ্যে বায়ুদূষণের মতো সম্ভাব্য কারণ চিহ্নিত করতে আরও গবেষণা প্রয়োজন। বিশ্বব্যাপী বায়ুদূষণের কারণে অ্যাডেনোকারসিনোমার হার বাড়বে কি না, তা নির্ভর করবে ভবিষ্যতে তামাক ব্যবহার ও বায়ুদূষণ নিয়ন্ত্রণে নেওয়া কৌশলগুলোর সাফল্যের ওপর।’

এখনো বিশ্বব্যাপী ক্যান্সারের মধ্যে সর্বাধিক শনাক্ত রোগ এবং মৃত্যুর প্রধান কারণ ফুসফুসের ক্যান্সার। ২০২২ সালে এ রোগে আক্রান্ত হয়েছেন প্রায় ২৫ লাখ মানুষ। তবে সাম্প্রতিক দশকগুলোতে ক্যানসারের ধরন অনুযায়ী আক্রান্ত হওয়ার হার উল্লেখযোগ্যভাবে বদলেছে।


আত্মঘাতী মব জাস্টিস নয় , আইনের পথ অনুসরণ করার আহ্বান

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরসহ দেশের বিভিন্ন জেলায় তিন দিন ধরে বিভিন্ন স্থাপনা ও বাড়িঘরে হামলা, ভাঙচুর, অগ্নিসংযোগের ঘটনায় মানুষের মধ্যে উদ্বেগ, উৎকণ্ঠা ও ভীতির সঞ্চার হয়েছে। দেশে এমন একটা পরিস্থিতির তৈরি হয়েছে অন্তর্বর্তী সরকারের ছয় মাসের মাথায়, যখন দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়ে আসছিল। নিষিদ্ধঘোষিত সংগঠন ছাত্রলীগের ফেসবুক পেজে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনার ভাষণ প্রচারের ঘোষণাকে কেন্দ্র করে ছাত্র-জনতার মধ্যে ক্ষোভ সৃষ্টি হয়।

ধানমন্ডি ৩২নং, সুধা সদনসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে আওয়ামী লীগের কার্যালয়, দলটির কেন্দ্রীয় নেতা, সাবেক মন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের বাড়ি ও বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা, ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগ করা হয়। এসব ঘটনা ঘটেছে ৩৫টির বেশি জেলায়। তিন দিন ধরে সংঘটিত এসব ঘটনা বন্ধে সরকার, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী কোনো ব্যবস্থা নেয়নি বা নিতে পারেনি। এ নিয়ে নানা স্তরের মানুষের মধ্যে নানা রকম প্রশ্নও তৈরি হয়েছে। যদিও এ ধরনের ঘটনা থেকে মানুষকে নিবৃত্ত করতে অন্তর্বর্তী সরকারের পক্ষ থেকে বারবার আহ্বান জানানো হয়েছে। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসকে দুই দিনে তিনটি বিবৃতি দিতে হয়েছে।

বিবৃতিতে শেখ হাসিনার পরিবারের সম্পত্তি ধ্বংস থেকে বিরত থাকা এবং ফ্যাসিবাদী আওয়ামী লীগের রাজনীতির সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তি হওয়ায় কিংবা অন্য কোনো অজুহাতে দেশের কোনো নাগরিকের ওপর আক্রমণ না করারও আহ্বান জানান তিনি। অন্তর্বর্তী সরকারের উপদেষ্টা মাহফুজ আলমও জনগণকে শান্ত হওয়ার জন্য এবং সরকারকে কাজ করতে দিতে আহ্বান জানিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্ট্যাটাস দিয়েছেন। তবে ঘটনা পুরোপুরি থামানো যায়নি। দেশের প্রধান রাজনৈতিক শক্তি বিএনপিও বিবৃতিতে বলেছে, সরকার উদ্ভূত পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সক্ষমতা প্রকাশ করতে না পারলে রাষ্ট্র ও সরকারের স্থিতিশীলতা হুমকির মুখে পড়বে। জনগণ এভাবে নিজের হাতে আইন তুলে নিলে দেশে-বিদেশে সরকারের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণ হতে পারে।

আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংগঠন হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) এক বিবৃতিতে বলেছে, ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকারের বিরুদ্ধে ক্ষোভন্যায্য হলেও আইনের লঙ্ঘন ন্যায্য নয়। ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)র বিবৃতিতে-শেখ হাসিনা ও তাঁর সহযোগীদের নির্লজ্জ ও ষড়যন্ত্রমূলক প্রচারণার প্রতিক্রিয়ায় প্রতিশোধপ্রবণ ও আত্মঘাতী মব জাস্টিস নয়, দেশীয় ও আন্তর্জাতিক আইনের পথ অনুসরণ করার আহ্বান জানানো হয়েছে।

ধানমন্ডি ৩২ নম্বরের বাড়ি গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় ও সরকারের নির্লিপ্ততায় ক্ষোভ প্রকাশ, নিন্দা ও প্রতিবাদ করে দেশের বিশিষ্ট ২৬ নাগরিকের দেয়া বিবৃতিতে বলা হয়-‘কোনো ধরনের গণউত্তেজক সহিংসতা বা মব ভায়োলেন্স কেবলমাত্র ফ্যাসিবাদের কর্মী-সমর্থক এবং তাদের আন্তর্জাতিক পৃষ্ঠপোষকদের নাশকতা সৃষ্টির প্রচেষ্টাকেই উৎসাহিত করবে। বিগত পতিত সরকার ও তার সহযোগীরা আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি ঘটাতে নানা নাশকতার পরিকল্পনা যেমন করেছে, তেমনি দেশে এখন আইনের শাসন নেই বলেও দেশ-বিদেশে যে প্রচার চালিয়ে যাচ্ছে, তার হাতও এতে শক্তিশালী হবে।’ তারা আরো বলেন, ‘যেকোনো দেশের ঐতিহাসিক নিদর্শন, স্থান কিংবা কোনো স্থাপনা সুরক্ষা দেওয়ার দায়িত্ব সেই দেশের রাষ্ট্রীয় কর্তৃপক্ষের। মূল্যায়ন যে যেভাবেই করুক, তার ওপরে তার সুরক্ষার প্রশ্নটি নির্ভর করে না।’