Home Blog Page 204

অনবরত রিল বা শর্টস দেখার কারণে মস্তিষ্কে কী ঘটছে

ফেসবুকে একটি রিলের দৈর্ঘ্য হতে পারে সর্বোচ্চ তিন মিনিট। ইনস্টাগ্রামে ৯০ সেকেন্ড। ইউটিউবের একেকটি শর্টস অবশ্য এক মিনিটের বেশি নয়। এই স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিওগুলোই আমাদের একরকম নেশায় ফেলে দেয়। একবার দেখা শুরু করলে আমরা দেখতেই থাকি। কিন্তু অনবরত রিল বা শর্টস দেখার কারণে আপনার মস্তিষ্কে কী ঘটছে, সেটা কি জানেন? এই অভ্যাস মস্তিষ্কে, মানসিক স্বাস্থ্যে ও আচরণে কী কী প্রভাব ফেলে তা জানতে চীনের তিয়ানজিন নরমাল ইউনিভার্সিটির বিশেষজ্ঞরা ১১২ কলেজশিক্ষার্থীর ওপর একটি গবেষণা করেছিলেন। এর উল্লেখযোগ্য কয়েকটি দিক হলো শর্টসে আসক্ত ব্যক্তিদের মস্তিষ্কে কিছু পরিবর্তন দেখা যায়। বিশেষ করে মস্তিষ্কের যে অংশগুলো আবেগ নিয়ন্ত্রণ ও সিদ্ধান্ত নিতে সাহায্য করে, সেই অংশে। তার মানে এই নয় যে শর্টস বা রিল আমাদের মস্তিষ্ককে ক্ষতিগ্রস্ত করে; বরং এই অভ্যাস মস্তিষ্কের কার‍্যকারিতাকে প্রভাবিত করে।

যেসব রিল বা শর্টসে দৃশ্য দ্রুত পরিবর্তন হয় বা যা আমাদের আবেগকে নাড়া দেয়, সেগুলো মস্তিষ্ককে একরকম ‘পুরস্কৃত’ করে। একে বলা যেতে পারে মস্তিষ্কের ‘রিওয়ার্ড সিস্টেম’। মস্তিষ্ক যদি এ ধরনের উদ্দীপনায় অভ্যস্ত হয়ে পড়ে, তাহলে সে এ রকম ‘পুরস্কার’ আরও চাইতে শুরু করে। ফলে ভিডিও দেখার আসক্তি বাড়ে।

আমাদের মস্তিষ্কের ‘প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্স’ অংশটি পরিকল্পনা ও আত্মনিয়ন্ত্রণের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। ছোট ছোট ভিডিও বেশি দেখলে এই অংশের কার্যক্ষমতা কমতে পারে, ফলে ভিডিও দেখা নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে যায়। এর ফলে পরিকল্পনা করা কঠিন বলে মনে হয়।
মস্তিষ্ক ধীরে ধীরে ছোট ভিডিও ও খণ্ডিত তথ্যের সঙ্গে মানিয়ে নিতে অভ্যস্ত হয়ে যেতে পারে। এর ফলে দীর্ঘ ও জটিল বিষয়ে মনোযোগ ধরে রাখা কঠিন হতে পারে এবং ধীরগতির তথ্য প্রক্রিয়াকরণেও সমস্যা দেখা দিতে পারে।

অনেকে নেতিবাচক আবেগ, যেমন দুঃখ বা ঈর্ষা থেকে বাঁচতে শর্টস বা রিল দেখে, যা স্বল্প মেয়াদে কাজ করলেও দীর্ঘ মেয়াদে নেতিবাচক আবেগ আরও বাড়িয়ে দেয়। সব মিলিয়ে গবেষণা বলছে, স্বল্পদৈর্ঘ্যের ভিডিওর কিছু ইতিবাচক দিক থাকতে পারে, তবে অতিরিক্ত দেখলে অভ্যাসগত পরিবর্তন আসা স্বাভাবিক। আবার এ ধরনের অভ্যাস সবার ওপর একই রকম প্রভাব ফেলবে, তা-ও নয়। ব্যক্তিগত বৈশিষ্ট্য ও ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী ফল আলাদা হতে পারে।

শনিবারের মধ্যে হামাস সব জিম্মিদের মুক্তি না দিলে গাজায় ` নরক ` ভেঙ্গে পড়বে : ট্রাম্প

ফিলিস্তিনের গাজায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধবিরতি চুক্তি অবসানের হুমকি দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। গতকাল সোমবার হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপে তিনি বলেন, ‘যদি শনিবার ১২টার মধ্যে সব জিম্মিকে ফেরত দেওয়া না হয়, আমার মনে হয়, এটাই উপযুক্ত সময়। আমি বলব, এটা (যুদ্ধবিরতি) বাতিল করো। ইসরায়েলকে ওখানে নরকের যন্ত্রণা বইয়ে দিতে বলব। চুক্তির শর্ত ভেসে যাক। ইসরায়েল ওই পরিস্থিতি পার হয়ে আসতে পারবে।’ ট্রাম্প দাবি করেন, এক সঙ্গেই সব জিম্মিকে মুক্তি দিতে হবে। দফায় দফায় তিন-চারজন করে জিম্মি মুক্তির বিষয়টির সঙ্গে একমত নন তিনি।

ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘন করার অভিযোগ এনে হামাসের পক্ষ থেকে শর্ত অনুযায়ী জিম্মি মুক্তি স্থগিত করার কথা জানানোর পর ট্রাম্প এমন হুমকি দিলেন। এএফপির খবরে জানা যায়, হামাসের সামরিক শাখা কাসাম ব্রিগেডের মুখপাত্র আবু উবাইদা সোমবার এক বিবৃতিতে বলেন-ইসরায়েলের কারণে যুদ্ধবিরতির পর বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের উত্তর গাজায় ফিরতে দেরি হয়েছে। তাঁদের গুলির লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। গাজায় পর্যাপ্ত ত্রাণ পৌঁছাতে দেয়নি ইসরায়েল।

পরে আরেক বিবৃতিতে হামাস জানায়, ‘১৫ ফেব্রুয়ারি নির্ধারিত বন্দিবিনিময়ের পাঁচ দিন আগে ইচ্ছাকৃতভাবে এই ঘোষণা (স্থগিতের) দিয়েছে হামাস। এর উদ্দেশ্য ছিল চুক্তির শর্ত পূরণের জন্য যাতে (ইসরায়েলি) দখলদারির বিরুদ্ধে চাপ তৈরির জন্য মধ্যস্থতাকারীরা পর্যাপ্ত সময় পান। দখলদারেরা চুক্তির শর্ত মেনে চললে পরিকল্পনা অনুযায়ী পরবর্তী ধাপে বন্দিবিনিময়ের কাজ এগিয়ে নিতে দরজা খোলা থাকবে।’ ইসরায়েল জানিয়েছে, তাদের সেনাবাহিনী যেকোনো সম্ভাব্য দৃশ্যপটের জন্য প্রস্তুত রয়েছে।

সোমবার ফক্স নিউজের ব্রেট বাইয়েরের সঙ্গে এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন-যদি জর্ডান ও মিশর গাজা থেকে পুনর্বাসিত ফিলিস্তিনি শরণার্থীদের গ্রহণ না করে, তাহলে তিনি এই দেশগুলোর জন্য মার্কিন সহায়তা বন্ধ করে দিতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর এই দেশগুলোতে বিপুল পরিমাণে সহায়তা দিয়ে থাকে তাই এই চুক্তিতে তাদের রাজি হওয়া উচিত। ফিলিস্তিনিদের গাজায় ফিরে আসার অধিকার থাকবে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে ট্রাম্প বলেন-‘না, তাদের তা থাকবে না কারণ তারা আরও ভালো আবাসন পাবে। আমি তাদের জন্য একটি স্থায়ী জায়গা তৈরি করার কথা বলছি। গাজা পুনরায় বসবাসযোগ্য হতে কয়েক বছর লাগবে।’

এদিকে সিএনএন জানিয়েছে, রোববার সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেছেন-‘আমি মনে করি, ফিলিস্তিনিদের বা অন্য মানুষকে গাজায় বসবাসের অনুমতি দেওয়া একটি বড় ভুল। আমরা চাই না, হামাস আবার সেখানে ফিরে যাক। আমি মনে করি, গাজা একটি ‘বড় আবাসন এলাকা’।যুক্তরাষ্ট্রের উচিত এটি দখলে নেওয়া। আমরা ধীরে ধীরে অত্যন্ত ধীরস্থিরভাবে, কোনো ধরনের তাড়াহুড়া ছাড়াই এটি সংস্কার করব। আমরা শিগগিরই মধ্যপ্রাচ্যে স্থিতিশীলতা ফিরিয়ে আনব।’ ডোনাল্ড ট্রাম্প যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক একজন বড় আবাসন ব্যবসায়ী। তিনি গাজাকে ‘বিধ্বস্ত স্থান’ হিসেবে বর্ণনা করে এটি ‘সমতল’ ও ‘ঠিক’ করা হবে বলে মন্তব্য করেন। ট্রাম্প আবারও পরামর্শ দেন, মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশ বাস্তুচ্যুত ফিলিস্তিনিদের ‘সুন্দর জায়গায়’ বাড়িঘর করে দেবে।


চীনের তরুণ – তরুণীরা বিয়ের প্রতি আগ্রহী হচ্ছেন না

চীনে গত বছর বিয়ের নিবন্ধন এক-পঞ্চমাংশ কমে গেছে। ক্রমহ্রাসমান জনসংখ্যার সমস্যা নিরসনে তরুণ-তরুণীদের বিয়ের প্রতি আগ্রহী করতে এবং সন্তান নেওয়ার বিষয়ে উৎসাহ দিতে চীন সরকারের নানামুখী পদক্ষেপ কার্যত কাজে আসছে না বলে মত বিশ্লেষকদের।দীর্ঘদিন ধরেই চীনে তরুণ প্রজন্মের বিয়েবিমুখ হওয়ার বড় কারণ হিসেবে সন্তান লালনপালনের চ্যালেঞ্জ ও শিক্ষায় অতি উচ্চ ব্যয়কে কারণ হিসেবে ধরা হচ্ছে। এর মধ্যে কয়েক বছর ধরে অর্থনৈতিক ধীর প্রবৃদ্ধি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে সদ্য পাস করে বের হওয়া ব্যক্তিদের জন্য কাজ খুঁজে পাওয়া কঠিন করে তুলেছে। যাঁরা এরই মধ্যে চাকরি পেয়েছেন, তাঁরাও দীর্ঘ মেয়াদে সম্পর্কে জড়াতে অনিরাপদ বোধ করছেন

জনসংখ্যার নিরিখে চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় দেশ। সংখ্যাটি প্রায় ১৪০ কোটি। তবে দেশটিতে বয়স্কদের সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে। আগামী দশকগুলোয় দেশটিতে প্রায় ৩০ কোটি মানুষ অবসর জীবনে চলে যাবেন। চীনের তরুণ-তরুণীদের মনে বিয়ে, ভালোবাসা, পরিবার, সন্তানের জন্ম নিয়ে ইতিবাচক মনোভাবের বিস্তার ঘটাতে গত বছর কর্তৃপক্ষ দেশটির কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘লাভ এডুকেশন’ বা ভালোবাসা-সংক্রান্ত শিক্ষা দেওয়ার নির্দেশ দেয়। গত নভেম্বরে চীনের মন্ত্রিসভা দেশটির স্থানীয় সরকারগুলোকে জনসংখ্যাসংকট মোকাবিলায় সম্পদের বিনিয়োগ এবং ‘সঠিক বয়সে’ বিয়ে করা ও সন্তান নেওয়ার প্রতি আগ্রহ বাড়ানোর নির্দেশ দেয়।

ড. ইউনূস : ন্যায় বিচার , সংশোধন ও বিরোধ মীমাংসাতেই দেশের ভবিষ্যৎ ।

(জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য, ১০ ফেব্রুয়ারি)”বিচার তাৎক্ষণিকভাবে করতে গেলে অবিচার হয়ে যায়।… আমরা অবিচারে নামবো না। আমরা যারা অপরাধী তাদের পুলিশের হাতে, আইনের হাতে সোপর্দ করবো। যারা অপরাধী নয়, পুলিশের হাতে দেওয়ার মতো নয় তাদের মানুষ করব।তাদের বলব, “ভাই, এদেশ আমরা একসাথে গড়ি, যে দেশ আমরা একসাথে গড়ার স্বপ্ন দেখছি, তোমরাও সে স্বপ্ন দেখ। এদেশ আমার একার না, তোমারও এদেশ। তুমি এদেশের সন্তান। আমিও এদেশের সন্তান। তুমি আমাকে বহু কষ্ট দিয়েছে। আমি তোমারে কষ্ট দেব না।”(জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে শহীদ পরিবার ও আহত ব্যক্তিদের রাষ্ট্রীয়ভাবে আর্থিক সহায়তা প্রদান কার্যক্রমের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্য, ১০ ফেব্রুয়ারি)

আমরা একযোগে যত তাড়াতাড়ি পারি এটাকে একটা সুন্দর দেশ বানাবো…যারা অপরাধী তাদের অবশ্যই বিচার করতে হবে। যারা অপরাধী নয়, তাদের সৎ পথে নিয়ে আসতে হবে।”… তারা (স্বৈরাচার) চলে যায়নি। তোমাদের গ্রামেও আছে। তাদের বোঝাও যে তাদের স্বভাব পরিবর্তন করতে হবে।…তবে মারপিট করে এটা সম্ভব না। … কাউকে দেশ থেকে বের করে দিয়ে বিচার হয় না। যারা সহজে মেনে নেবে না তাদের বোঝানোর চেষ্টা করতে হবে। কিন্তু যারা গণ্ডগোলের পরিকল্পনা করবে তাদের আইনের আওতায় আনবো।

…তাদের বোঝাতে হবে যে তাদের পথ ভুল এবং তারা যা করেছে তার জন্য ক্ষমা চাওয়া উচিত। এভাবেই আমাদের দেশ এগিয়ে যাবে। স্থায়ী সংঘাত আমাদের কেবল পিছিয়ে দেবে। আমাদের দেশের ভবিষ্যৎ নির্ভর করছে সংঘাত কাটিয়ে ওঠার সক্ষমতার ওপর। আমাদের সবাইকে একসঙ্গে এ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজে বের করতে হবে। “‘সম্প্রতি অনেক ঘটনা ঘটল। এটা একবার নয়, সামনে আরও বহু রকমের ঘটনা ঘটবে। কারণ ওরাতো ছাড়ছে না…যাদের তাড়িয়ে দিয়েছ, তারা বলছে সহজে মেনে নেব না। আমরা তাদের মানাব, মানতে হবে।… নতুন বাংলাদেশে যারা গন্ডগোলের সৃষ্টি করতে পারে, … তাদের নিজেদের দলে ভিড়িয়ে নেব, তা না হলে আইনে সোপর্দ করব।’

ইলন মাস্ক যেভাবে বিশ্বের ১ নম্বর সমস্যা হয়ে উঠলেন

সোমদীপ সেন
রস্কিল্ড ইউনিভার্সিটিতে আন্তর্জাতিক উন্নয়ন অধ্যয়নের
সহযোগী অধ্যাপক
“ইলন মাস্ক এখন শুধু প্রযুক্তি ব্যবসায়ী নন, তিনি যুক্তরাষ্ট্রের রাজনীতিতেও একটি বিতর্কিত চরিত্র হয়ে উঠেছেন।…তবে মাস্কের রাজনৈতিক উচ্চাভিলাষ শুধু যুক্তরাষ্ট্রেই সীমাবদ্ধ নেই। তিনি কট্টর ডানপন্থী ট্রাম্প ও তাঁর মাগা (মেক আমেরিকা গ্রেট অ্যাগেইন) আন্দোলনকে ক্ষমতায় আনতে সহায়তা করেছেন। তিনি এখন বিশ্বের অন্যান্য দেশেও একই ধরনের রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তারের চেষ্টা করছেন। তিনি চরম ডানপন্থী মতাদর্শ উসকে দিচ্ছেন এবং যুক্তরাজ্যে তাঁর অনুগত উগ্রপন্থী নেতাদের ক্ষমতায় বসানোর চেষ্টা করছেন।

গত এক বছরে মাস্ক যুক্তরাজ্যের কট্টর ডানপন্থী ব্যক্তিদের (যেমন টমি রবিনসন ও নাইজেল ফারাজ) বারবার সমর্থন দিয়েছেন। জানুয়ারির শুরুতে তিনি আবারও ‘ফ্রি টমি রবিনসন!’ লিখে টুইট করেন এবং রবিনসনের বিতর্কিত তথ্যচিত্র ‘সাইলেন্সড্’-এর লিংক শেয়ার করেন। ওই তথ্যচিত্রে রবিনসন ভুলভাবে দাবি করেন, সিরীয় শরণার্থী কিশোর জামাল হিজাজি ইংরেজ স্কুলছাত্রীদের আক্রমণ করেছিল এবং এক সহপাঠীকে ছুরিকাঘাতের হুমকি দিয়েছিল। … তিনি এ ঘটনাকে ব্যবহার করে প্রচার করতে চান, পশ্চিমা দেশে ব্যাপক অভিবাসন নারীদের জন্য হুমকি। এ ধারণা ব্রিটেনে জনপ্রিয় হয়ে উঠছে। আর মাস্ক সেটাকেই কাজে লাগিয়ে রাজনৈতিক প্রভাব বিস্তার করতে চাইছেন।

ট্রাম্পের প্রথম দফার শাসনামলে, তিনি আফগানিস্তানে মার্কিন বাহিনীর যুদ্ধাপরাধ তদন্তের কারণে আইসিসির কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়েছিলেন। পরবর্তী সময়ে, প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন সেই নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করেন। গত মাসে মার্কিন প্রতিনিধি পরিষদ আইসিসির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের পক্ষে ভোট দেয়, তবে সেই বিল সিনেটে আটকে যায়। আইসিসি ট্রাম্পের এ পদক্ষেপের নিন্দা জানিয়ে আদালতের স্টাফদের পাশে থাকা এবং বিচারকাজ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে। সদস্য দেশগুলোকে এই নিষেধাজ্ঞা রুখে দাঁড়ানোর আহ্বান জানিয়ে আইসিসি বলেছে, “ট্রাম্পের পদক্ষেপ এই আদালতের স্বাধীন ও পক্ষপাতহীন বিচারকাজকে ক্ষতিগ্রস্ত করারই চেষ্টা।”

গত গ্রীষ্মে এক রুয়ান্ডান বংশোদ্ভূত ব্যক্তি তিনজন ব্রিটিশ কিশোরীকে হত্যার পর যুক্তরাজ্যে সহিংস অভিবাসনবিরোধী বিক্ষোভ ও দাঙ্গা ছড়িয়ে পড়ে। তবে আসল উত্তেজনা তৈরি হয় মিথ্যা প্রচারের কারণে, যেখানে কট্টর ডানপন্থীরা, বিশেষ করে টমি রবিনসন, ভুল তথ্য ছড়িয়ে দাবি করেন, হত্যাকারী আল সাকাতি নামের ১৭ বছর বয়সী একজন আশ্রয়প্রার্থী। এ ছাড়া ব্রিটেনে এক দশক ধরে আলোচিত ‘গ্রুমিং গ্যাং স্ক্যান্ডাল’কেও (এমন একটি প্রচারণা যেখানে বলা হয়েছে, পাকিস্তানি বংশোদ্ভূত পুরুষেরা শ্বেতাঙ্গ কিশোরীদের নিপীড়ন করেছে) মাস্ক ও কট্টর ডানপন্থীরা বর্ণবাদী ও অভিবাসনবিরোধী প্রচারণার জন্য ব্যবহার করছেন।

… মাস্ক তাঁর বিশ্বব্যাপী কট্টর ডানপন্থা উসকে দেওয়ার প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে জার্মানিতেও হস্তক্ষেপ করেছেন। তিনি দেশটির কট্টর ডানপন্থী দল অলটারনেটিভ ফর জার্মানির (এএফডি) প্রকাশ্য সমর্থক হয়েছেন।…তিনি বলেন, অভিবাসন সীমিত করার মাধ্যমে দলটি দেশকে নিরাপদ রাখতে ও জার্মান সংস্কৃতি রক্ষা করতে পারবে। ট্রাম্প কট্টর ডানপন্থীদের উত্থানে ভূমিকা রাখছেন। তিনি ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনির সঙ্গে ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন, যেখানে মাস্কও পরোক্ষভাবে ভূমিকা রেখেছেন। এ ছাড়া মাস্ক প্রকাশ্যে আর্জেন্টিনার প্রেসিডেন্ট হাভিয়ের মিলেয়ির প্রশংসা করেছেন। মিলেয়ির কঠোর অর্থনৈতিক নীতিগুলো তার ‘ডজ’ নীতির অনুপ্রেরণা হিসেবে কাজ করেছে।

… মাস্কের ডানপন্থী প্রভাব এতটাই বেড়েছে যে তিনি কোনো মন্তব্য না করলেও কিছু দেশে তা প্রভাব ফেলছে। পোল্যান্ডে এক জরিপে দেখা গেছে, প্রায় ৪৫ শতাংশ ভোটার মাস্ক-সমর্থিত প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন। এটি ঠিক, মাস্কের বৈশ্বিক ডানপন্থী বিপ্লবের প্রচেষ্টা এখনো প্রাথমিক অবস্থায় রয়েছে। তাঁর কিছু পদক্ষেপ সফল হতে পারে। আবার কিছু ক্ষেত্রে তিনি হয়তো যে রকম প্রভাব চাচ্ছেন, তা না-ও হতে পারে। তবে এটি চিন্তার বিষয় যে বিভিন্ন দেশের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে হস্তক্ষেপ করার ক্ষেত্রে মাস্ক অনেক দূর এগিয়ে গেছেন।”



দিল্লিতে কেজরিওয়ালের হারের কারণ নিয়ে যা বললেন আন্না হাজারে

‘জীবনে ত্যাগ থাকলে ভোটারের আস্থা ও বিশ্বাস জন্মায়। কেজরিওয়াল এসব কথার গুরুত্ব দেননি। তিনি ধনদৌলতে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলেন’ — প্রবীণ গান্ধীবাদী ও দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনের নেতা আন্না হাজারে, যাঁর ছত্রচ্ছায়ায় অরবিন্দ কেজরিওয়ালের পরিচিতি লাভ।

দিল্লি বিধানসভার ৭০ আসনের মধ্যে ৪৭টি জিতে বিজেপি ২৭ বছর পর দিল্লিতে ক্ষমতাসীন হচ্ছে। আম আদমি পার্টি পেতে চলেছে ২৩টি আসন। কংগ্রেস এবারেও শূন্য। দিল্লিতে গত দুটি নির্বাচনে আপ জিতেছিল। যাঁর ছত্রচ্ছায়ায় অরবিন্দ কেজরিওয়ালের পরিচিতি লাভ, সেই প্রবীণ গান্ধীবাদী আন্না হাজারে শনিবার বলেছেন, ‘চিন্তাভাবনায় শুদ্ধতার বদলে অরবিন্দ কেজরিওয়াল ধনদৌলতের মধ্যে আচ্ছন্ন হয়ে পড়েছিলেন। আমার কথা তাঁর মনে থাকেনি।’ আন্না হাজারের দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলনই কেজরিওয়ালকে পরিচিতি দিয়েছিল। দিল্লিতে ২০১১-১২ সালের সেই আন্দোলন কাঁপিয়ে দিয়েছিল তৎকালীন কংগ্রেস নেতৃত্বাধীন ইউপিএ সরকারকে। আন্না চাননি আন্দোলনের পর রাজনৈতিক দল গড়তে। ভিন্নমত ছিল কেজরিওয়ালের। আন্দোলনে শামিল অন্যদের নিয়ে গড়ে তুলেছিলেন আম আদমি পার্টি। তাঁর যুক্তি ছিল, সিস্টেম বা ব্যবস্থার মধ্যে থেকে ব্যবস্থার বদল ঘটাতে হবে। তা করতে গিয়ে তিনি নিজেই ব্যবস্থার অঙ্গ হয়ে গেলেন। বিজেপির কাছে হার স্বীকারে বাধ্য হলেন।

আমি গাজা কিনতে ও এর মালিকানা নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ : ট্রাম্প , গাজাবাসীকে নয় ইসরায়েলের সৌদি জনগণকে আলাস্কায় নিয়ে যান : সৌদি কর্মকর্তা

বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গতকাল রোববার এয়ার ফোর্স ওয়ানে সাংবাদিকদের আবারো বলেছেন-“আমি গাজা কিনতে ও এর মালিকানা নিতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। যতদূর সম্ভব আমরাই পুনর্গঠন করবো, কিছু অংশ মধ্যপ্রাচ্যের অন্যান্য দেশকেও দিতে পারি, আমাদের আশীর্বাদে অন্যরাও এটা করতে পারে। কিন্তু আমরা এটির মালিকানা, দখল নিতে এবং হামাস যেন ফিরতে না পারে তা নিশ্চিত করতে বদ্ধ পরিকর।” তিনি আরো বলেন, “সেখানে ফিরে যাওয়ার কিছু নেই। জায়গাটি এখন ধ্বংসস্তূপ। যেটুকু বাকি আছে তাও ভেঙে ফেলা হবে। সবই ধ্বংস হয়ে গেছে।”

গাজা কেনা ও এর মালিকানা নিতে চাওয়া ট্রাম্পের সর্বশেষ এ মন্তব্যের নিন্দা জানিয়ে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য এজজাত আল রাশক এক বিবৃতিতে বলেছেন-“গাজা কেনাবেচার সম্পত্তি নয়, এটা আমাদের অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূমির অবিচ্ছেদ্য অংশ।ফিলিস্তিনিরা তাদেরকে সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়া পরিকল্পনা ভণ্ডুল করে দেবে।” এদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সৌদি আরবের ভেতরে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পরামর্শকে উপহাস করেছেন দেশটির শুরা কাউন্সিলের সদস্য ইউসুফ বিন ত্রাদ আল-সাদুন। এর পরিবর্তে ইসরায়েলের জনগণকে প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের আলাস্কা অঙ্গরাজ্যে এবং ‘দখল’ করার পর গ্রিনল্যান্ডে সরিয়ে নেওয়া উচিত বলে প্রস্তাব করেছেন তিনি।

গত শুক্রবার সৌদি আরবের সংবাদমাধ্যম ওকাজে লেখা এক প্রবন্ধে আল-সাদুন এই প্রস্তাব করেন। তিনি মনে করেন, মধ্যপ্রাচ্য নিয়ে ট্রাম্পের বিভিন্ন বেপরোয়া সিদ্ধান্তে বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ উপেক্ষা করা হয়েছে এবং সংলাপের প্রয়োজনীয়তা বাতিল করে দেওয়া হচ্ছে। গতকাল রোববার এক বিবৃতিতে সৌদি সরকার বলেছে -‘সৌদি আরব এটা নিশ্চিত করছে যে, নিজেদের ভূমিতে ফিলিস্তিনি মানুষের অধিকার রয়েছে। আর তাঁরা এখানে কোনো অনুপ্রবেশকারী বা অভিবাসী নয় যে নিষ্ঠুর ইসরায়েলি দখলদারেরা ইচ্ছা হলেই তাঁদের তাড়িয়ে দিতে পারবে।’ অন্যদিকে, সরকারি কয়েকটি সূত্রের বরাত দিয়ে ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম হারেতজ জানিয়েছে – নেতানিয়াহু যুদ্ধবিরতির দ্বিতীয় ধাপে যেতে চান না। গাজায় আবারো যুদ্ধ শুরুর প্রস্তুতি নিচ্ছেন তিনি।


সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ রাখার পক্ষে জামায়াত , বিএনপি চায় সংস্কার

বাংলাদেশের সংবিধানের অন্যতম বিতর্কিত অংশ ৭০ অনুচ্ছেদ। এই অনুচ্ছেদের কারণে সংসদ সদস্যরা (এমপি) দলের সিদ্ধান্তের বাইরে ভোট দিতে পারেন না। বিএনপিসহ কিছু দল চায় ৭০ অনুচ্ছেদের সংস্কার বা সংশোধন, যাতে অর্থ বিল ও আস্থা ভোট ছাড়া বাকি সব বিষয়ে এমপিরা চাইলে দলের বিপক্ষে কথা বলতে পারেন। তবে এখনই ৭০ অনুচ্ছেদে হাত দেওয়ার পক্ষে নয় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী।সংবিধান সংস্কার কমিশনের কাছে ৩৪টি রাজনৈতিক দল ও জোটের দেওয়া লিখিত প্রস্তাব পর্যালোচনায় এ তথ্য পাওয়া গেছে। বেশির ভাগ দলই সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ বাতিল বা সংস্কার চেয়েছে। তবে একমাত্র ব্যতিক্রম জামায়াতে ইসলামী।

জামাত তাদের প্রস্তাবে অনুচ্ছেদ ৬৭ ও ৭০ নিয়ে বলেছে, ‘এটি সংসদীয় সরকারব্যবস্থা স্থিতিশীল করতে যুক্ত করা হয়েছিল। আমরা এটি আরও দুই মেয়াদ পর্যন্ত রাখতে চাই।…যদি রাজনৈতিক দলগুলোর সংস্কার হয়, তাহলে এমপিদের বিক্রি হওয়ার সম্ভাবনা কমে যাবে, তখন অনুচ্ছেদ ৭০ পুনর্বিবেচনা করা যাবে।’ কমিশনকে দেওয়া বিএনপির প্রস্তাবে বলা হয়েছে, সংসদকে অধিকতর কার্যকর করার লক্ষ্যে ফ্লোর ক্রসিং-সংক্রান্ত বিধিনিষেধ শিথিল করা যেতে পারে। তবে আস্থা ভোট, অর্থ বিল, সংবিধান সংশোধনী এবং রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা জড়িত প্রশ্নে দলের বিপক্ষে এমপিরা ভোট দিতে পারবেন না বলেও দলটির প্রস্তাবে বলা হয়।

এমপিরা অর্থ বিল ছাড়া সবক্ষেত্রে দলের বিপক্ষে ভোট দিতে পারবেন-এমন সুপারিশ করা হয় কমিশনের প্রস্তাবে। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. সাব্বির আহমেদ আজকের পত্রিকাকে বলেন-‘৭০ অনুচ্ছেদ বাংলাদেশের ক্ষমতার কাছাকাছি থাকা কোনো দলই বাদ দেবে না। এটা বাদ দিলে দলের ওপর নেতার নিয়ন্ত্রণ চলে যাবে। দলের এমপিরা নেতৃত্বের নির্দেশ মানবে না। বাংলাদেশের রাজনীতিতে কেনাবেচার যে সংস্কৃতি, এটাকে (৭০ অনুচ্ছেদ) পুরোপুরি তুলে দেওয়া সম্ভব হবে না। এটাকে হয়তো কিছুটা সংস্কার করার সুযোগ রয়েছে।’

যুক্তরাজ্যের হাউস অব কমন্সে সংরক্ষিত মহিলা আসন নেই উল্লেখ করে বাংলাদেশেও বিধানটি বাদ দেওয়ার সুপারিশ করেছে জামায়াত। তবে উচ্চকক্ষে নারীদের জন্য ২০টি আসন সংরক্ষণের সুপারিশ করে দলটি। জামায়াত ছাড়া অন্যান্য ইসলামি দলও এটি না রাখার অনুরোধ করেছে। প্রায় সব দলই দ্বিকক্ষবিশিষ্ট সংসদের সুপারিশ সংবিধান সংস্কার কমিশনের কাছে করেছে। বেশিরভাগ দল সংশোধনের দাবি জানালেও সংবিধান পুনর্লিখনের দাবি জানিয়েছে জাতীয় নাগরিক কমিটি ও আমার বাংলাদেশ (এবি) পার্টি।


ঢাকার সংস্কৃতির বিবর্তন ঐতিহ্য থেকে আধুনিকতায়

বায়োস্কোপ থেকে নেটফ্লিক্স ! সংস্কৃতি ও বিনোদনের বিবর্তনে ঢাকা ।

বিশ্বায়ন বহুমাত্রিক প্রক্রিয়া, যা বিশ্বব্যাপী দেশ, সমাজ ও সংস্কৃতির মধ্যে গভীর সংযোগ সৃষ্টি করে, অর্থনীতি, রাজনীতি এবং সংস্কৃতিসহ অসংখ্য ক্ষেত্রে বিপুল পরিবর্তন আনে। যার ফলে মানব সমাজের কাঠামো ও জীবনধারা অনেক দ্রুত বিবর্তিত হয়।সাংস্কৃতিক বিবর্তন (Cultural Evolution) এই পরিবর্তনের একটি স্বাভাবিক এবং গুরুত্বপূর্ণ দিক, যেখানে জাতিগত সংস্কৃতির ভেতরে হরহামেশাই নতুন নতুন সাংস্কৃতিক উপাদান যুক্ত হচ্ছে এবং পুরোনো সংস্কৃতি নতুনভাবে রূপান্তরিত হচ্ছে। ফলে বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে মিথস্ক্রিয়া বৃদ্ধি পাচ্ছে, যা সমাজের আচার-অনুষ্ঠান, ভাষা, জীবনধারা এবং মূল্যবোধের উপর গভীর প্রভাব ফেলছে।

ঢাকা, বাংলাদেশের প্রাণকেন্দ্র, এই শহর বর্তমান সাংস্কৃতিক বিবর্তনের অন্যতম উদাহরণ। বিগত কয়েক দশকে বিশ্বায়নের প্রভাবে ঢাকার সংস্কৃতি, জীবনধারা, খাদ্যাভ্যাস ও বিনোদন দৃশ্যমানভাবে পরিবর্তিত হয়েছে। ঢাকার সাংস্কৃতিক পরিবর্তনের ধাপের দিকে তাকাতে চাইলে আমাদের অনেক পেছনে ফিরে তাকাতে হবে। ১৯৭০-৮০ এর দশকের ঐতিহ্যগত সংস্কৃতির প্রভাবে নজর দিলে সে সময় ঢাকার সংস্কৃতি ছিল বেশ ঐতিহ্যবাহী। বায়োস্কোপ, যাত্রা, পালাগান এবং রেডিও অনুষ্ঠান ছিল বিনোদনের মূল মাধ্যম। ঐতিহ্যবাহী পোশাকের মধ্যে পাঞ্জাবি, শাড়ি এবং লুঙ্গির ব্যবহার ছিল ব্যাপক।

১৯৯০-২০০০ এর সময়ে এসে উপনিবেশিক আধিপত্য, প্রযুক্তি ও উপসাগরীয় দেশগুলোর প্রভাবে বাংলাদেশের প্রবাসীদের সংখ্যা বেড়ে যায়, বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যে। তাদের পাঠানো রেমিটেন্স অর্থনীতিতে যেমন প্রভাব ফেলে, তেমনই সংস্কৃতিতেও পরিবর্তন আনে। টেলিভিশন জনপ্রিয় হতে শুরু করে, এবং ভারতীয় ও পাশ্চাত্য সাংস্কৃতিক প্রভাব ঢাকার জীবনে প্রবেশ করে। পোশাকে ও বিনোদনে পশ্চিমা ধারার সংমিশ্রণ ঘটে।
২০০০-২০১০ এর মধ্যেকার সময় থেকে এই প্রান্তে ডিজিটাল যুগের আগমন পুরোপুরি বাস্তবায়িত হতে থাকে। এই সময় মোবাইল ফোন, ইন্টারনেট ও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ঢাকার সংস্কৃতিতে একরকম বৈপ্লবিক পরিবর্তন নিয়ে আসে। ইউটিউব, ফেসবুক এবং টেলিভিশন অনুষ্ঠানগুলোর বৈচিত্র্য তরুণ সমাজকে বৈশ্বিক সংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত করে। ফাস্ট ফুড ও বহুজাতিক কোম্পানির আগমনে খাদ্যাভ্যাসও বদলাতে থাকে। ঢাকায় ম্যাকডোনাল্ডস, কে এফ সি, পিজা হাটের মতো আন্তর্জাতিক ব্র্যান্ড জনপ্রিয় হয়ে ওঠে মানুষের কাছে।

বর্তমানে ঢাকা একটি বৈচিত্র্যময় সাংস্কৃতিক শহরে পরিণত হয়েছে। পশ্চিমা ও দেশীয় সংস্কৃতির মিশ্রণে তৈরি হয়েছে নতুন এক সংস্কৃতি। হিপহপ, কোরিয়ান পপ (ক-ঢ়ড়ঢ়), হলিউড ও বলিউডের প্রভাব তরুণদের মধ্যে ব্যাপক। পাশাপাশি লোকজ সংগীত ও ঐতিহ্যবাহী খাবারও পুনরায় জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। নতুন প্রজন্ম বাংলাদেশি সংস্কৃতির পাশাপাশি গ্লোবাল ট্রেন্ড অনুসরণ করছে। অনলাইন প্ল্যাটফর্ম, স্ট্রিমিং সার্ভিস এবং ডিজিটাল মিডিয়া সাংস্কৃতিক বিনিময়ের অন্যতম মাধ্যম হয়ে উঠেছে সকলের কাছে। পাশাপাশি ফাস্ট ফুড, আন্তর্জাতিক ফ্যাশন ব্র্যান্ড ও ডিজাইনের অনুরক্ত হয়ে উঠছে নতুন প্রজন্ম। এই সাংস্কৃতিক বিবর্তন নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মুক্ত করলেও বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও বয়ে এনেছে।




পুলিশে দুর্নীতির ৯ খাত

পুলিশ সদস্যদের দুর্নীতি ও অবৈধ অর্থ উপার্জনের ৯টি খাত চিহ্নিত করেছে পুলিশ সংস্কার কমিশন। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রের অন্যান্য অংশের মতো পুলিশও দুর্নীতিতে ব্যাপকভাবে আক্রান্ত। নিয়োগ ও বদল-বাণিজ্য, চাঁদাবাজিসহ এসব দুর্নীতি ধীরে ধীরে বন্ধ করতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন ও সর্বদলীয় কমিটি গঠনের সুপারিশ করেছে কমিশন। প্রতিটি থানা/উপজেলায় একটি সর্বদলীয় কমিটি স্থানীয় পর্যায়ে ওভারসাইট বডি হিসেবে কাজ করতে পারে। ঘুষ গ্রহণ ও আর্থিক দুর্নীতি পুলিশের সবচেয়ে প্রচলিত ও দৃশ্যমান দুর্নীতির ধরন। সাধারণত থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণ থেকে শুরু করে মামলা দায়ের, গ্রেপ্তার-বাণিজ্য, অভিযোগপত্র দায়ের, নিম্ন আদালতে বিচারিক মামলায় হাজিরাসহ মামলা নিষ্পত্তির বিভিন্ন পর্যায়ে পুলিশকে ঘুষ দিতে হয়।

দ্বিতীয় খাত হলো অভিযুক্ত আসামি বা আটক ব্যক্তিকে রিমান্ডে এনে নির্যাতনের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়। পুলিশের নিয়োগ ও বদলি নিয়ে রমরমা বাণিজ্য চলে। কনস্টেবল নিয়োগে ১০ লাখ টাকা বা ততোধিক ঘুষ নেওয়ার কথা শোনা যায়। ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ভুয়া বা গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তার বা ফাঁসানোর ভয়ভীতি দেখিয়ে অবৈধভাবে অর্থ আদায় হয়। ট্রাফিক পুলিশের দুর্নীতি।
সড়ক-মহাসড়কে পরিবহন খাতে পুলিশের চাঁদাবাজির টাকা ছাপানো স্লিপ বা কাগজ দিয়ে তোলা হয়। ফুটপাত ব্যবসা বা ইনফরমাল সেক্টরের দুর্নীতি। বিশেষত ঢাকা-চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় ফুটপাত দখল করে অবৈধ অস্থায়ী দোকানপাট বসিয়ে পুলিশ দৈনিক দোকানপ্রতি ভাড়া আদায় করে।

পুলিশ সদস্যদের একাংশ অপরাধীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা বা আঁতাত করে তাদের কার্যক্রমে সাহায্য করে থাকে। বিনিময়ে পুলিশ তাদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ নেয়। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, কাউকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আটক করা হয় এবং তাঁকে মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। ক্রসফায়ার ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বলপূর্বক গুমের ঘটনা বৃদ্ধির সঙ্গে এ ধরনের অর্থ আদায় জনসমক্ষে পরিচিত হয়ে ওঠে। প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়, পুলিশের দুর্নীতি হঠাৎ উঠে যাবে না। একে ধীরে ধীরে সমূল উৎপাটন করতে হবে। এ জন্য দরকার প্রবল নাগরিক আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা।