পুলিশ সদস্যদের দুর্নীতি ও অবৈধ অর্থ উপার্জনের ৯টি খাত চিহ্নিত করেছে পুলিশ সংস্কার কমিশন। প্রতিবেদনে বলা হয়, রাষ্ট্রের অন্যান্য অংশের মতো পুলিশও দুর্নীতিতে ব্যাপকভাবে আক্রান্ত। নিয়োগ ও বদল-বাণিজ্য, চাঁদাবাজিসহ এসব দুর্নীতি ধীরে ধীরে বন্ধ করতে বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন ও সর্বদলীয় কমিটি গঠনের সুপারিশ করেছে কমিশন। প্রতিটি থানা/উপজেলায় একটি সর্বদলীয় কমিটি স্থানীয় পর্যায়ে ওভারসাইট বডি হিসেবে কাজ করতে পারে। ঘুষ গ্রহণ ও আর্থিক দুর্নীতি পুলিশের সবচেয়ে প্রচলিত ও দৃশ্যমান দুর্নীতির ধরন। সাধারণত থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) গ্রহণ থেকে শুরু করে মামলা দায়ের, গ্রেপ্তার-বাণিজ্য, অভিযোগপত্র দায়ের, নিম্ন আদালতে বিচারিক মামলায় হাজিরাসহ মামলা নিষ্পত্তির বিভিন্ন পর্যায়ে পুলিশকে ঘুষ দিতে হয়।
দ্বিতীয় খাত হলো অভিযুক্ত আসামি বা আটক ব্যক্তিকে রিমান্ডে এনে নির্যাতনের ভয়ভীতি দেখিয়ে অর্থ আদায়। পুলিশের নিয়োগ ও বদলি নিয়ে রমরমা বাণিজ্য চলে। কনস্টেবল নিয়োগে ১০ লাখ টাকা বা ততোধিক ঘুষ নেওয়ার কথা শোনা যায়। ক্ষমতার অপব্যবহারের মাধ্যমে ভুয়া বা গায়েবি মামলায় গ্রেপ্তার বা ফাঁসানোর ভয়ভীতি দেখিয়ে অবৈধভাবে অর্থ আদায় হয়। ট্রাফিক পুলিশের দুর্নীতি।
সড়ক-মহাসড়কে পরিবহন খাতে পুলিশের চাঁদাবাজির টাকা ছাপানো স্লিপ বা কাগজ দিয়ে তোলা হয়। ফুটপাত ব্যবসা বা ইনফরমাল সেক্টরের দুর্নীতি। বিশেষত ঢাকা-চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন এলাকায় ফুটপাত দখল করে অবৈধ অস্থায়ী দোকানপাট বসিয়ে পুলিশ দৈনিক দোকানপ্রতি ভাড়া আদায় করে।
পুলিশ সদস্যদের একাংশ অপরাধীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ রক্ষা বা আঁতাত করে তাদের কার্যক্রমে সাহায্য করে থাকে। বিনিময়ে পুলিশ তাদের কাছ থেকে বড় অঙ্কের অর্থ নেয়। সাম্প্রতিক সময়ে দেখা যাচ্ছে, কাউকে লক্ষ্যবস্তু বানিয়ে আটক করা হয় এবং তাঁকে মুক্তিপণ নিয়ে ছেড়ে দেওয়া হয়। ক্রসফায়ার ও রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে বলপূর্বক গুমের ঘটনা বৃদ্ধির সঙ্গে এ ধরনের অর্থ আদায় জনসমক্ষে পরিচিত হয়ে ওঠে। প্রতিবেদনের সুপারিশে বলা হয়, পুলিশের দুর্নীতি হঠাৎ উঠে যাবে না। একে ধীরে ধীরে সমূল উৎপাটন করতে হবে। এ জন্য দরকার প্রবল নাগরিক আকাঙ্ক্ষা ও রাজনৈতিক সদিচ্ছা।


