Home Blog Page 203

প্যারাসাইকোলজি মনের গোপন শক্তি ও অতীন্দ্রিয় রহস্যের সন্ধানে !

প্যারাসাইকোলজি এক বিশেষ শাখার অধ্যয়ন, যেখানে অতিপ্রাকৃত ঘটনা ও মানব চেতনার আড়ালে থাকা অপ্রচলিত দিক সমূহ নিয়ে গবেষণা করা হয়। এখানে আক্ষরিক পরিচয়ে বলতে গেলে টেলিপ্যাথি, টেলিকিনেসিস, প্রাকজ্ঞা (প্রিকগনিশন), এবং অতীন্দ্রিয় উপলব্ধি (ESP) নিয়ে আলোচনা করা হয়ে থাকে। প্যারাসাইকোলজির ধারণা বহু প্রাচীন। প্রাচীন ভারত, চীন ও গ্রিসে অতীন্দ্রিয় শক্তির কথা বলা হয়েছে। হিন্দুধর্ম ও বৌদ্ধধর্মে সাধকদের অলৌকিক ক্ষমতার অনেক বিচিত্র উল্লেখ পাওয়া যায়। অনেককাল আগে প্লেটো এবং সক্রেতিসও চেতনার সীমাবদ্ধতা নিয়ে আলোচনা করেছিলেন।

আধুনিক প্যারাসাইকোলজির সূচনা ঘটে ১৮৮২ সালে লন্ডনের সোসাইটি ফর সাইকিক্যাল রিসার্চ (SPR) প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে। ১৯৩০-এর দশকে ড. জে. বি. রাইন ডিউক ইউনিভার্সিটিতে অতীন্দ্রিয় উপলব্ধি (ESP) ও টেলিকিনেসিস নিয়ে গবেষণা করেন। উল্লেখ আছে ১৯৭০ সালে স্ট্যানফোর্ড রিসার্চ ইনস্টিটিউটে মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা CIA “স্টারগেট প্রোজেক্ট” পরিচালনা করেছিলেন, যেখানে মানসিক শক্তি দিয়ে গুপ্তচরবৃত্তির গবেষণা করা হতো। প্যারাসাইকোলজির অনেক শাখা ও উদাহরণ রয়েছে। এর মধ্যে কিছু, যেমন-
টেলিপ্যাথি বাংলায় যার অর্থ চিন্তা বিনিময়ের – অতিপ্রাকৃত পদ্ধতি।

অ্যাপোলো ১৪ মিশনের সময়, ১৯৭১ সালে, মার্কিন নভোচারী এডগার মিচেল চাঁদ থেকে এক গোপন টেলিপ্যাথি পরীক্ষা পরিচালনা করেন। তিনি চাঁদ থেকে পৃথিবীতে মানসিকভাবে সংকেত পাঠানোর চেষ্টা করেন, যা ছিল প্যারাসাইকোলজির এক গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা। জানা গেছে মিচেল পূর্বপরিকল্পিতভাবে চারজন স্বেচ্ছাসেবকের (রিসিভার) একটি দলকে যুক্ত করেছিলেন, যারা পৃথিবীতে থেকে সংকেত গ্রহণের চেষ্টা করছিলেন। পরীক্ষার জন্য তিনি ২৫টি এলোমেলো সংখ্যার তালিকা তৈরি করেন, যেগুলো পাঁচটি প্রতীকের একেকটি গ্রুপ দ্বারা প্রতিনিধিত্ব করছিল (যেমন: তারা, ঢেউ, বৃত্ত ইত্যাদি)।

চাঁদ থেকে প্রতিবার তিনি এলোমেলোভাবে প্রতীক নির্বাচন করে তা পৃথিবীতে থাকা স্বেচ্ছাসেবকদের কাছে পাঠানোর চেষ্টা করেন শুধুমাত্র চিন্তার মাধ্যমে, কোনো যান্ত্রিক যোগাযোগ ছাড়াই! পৃথিবীর গ্রহণকারীরা তাদের অনুভূত সংকেতগুলো নোট করেছিলেন এবং যেগুলো পরে মিচেলের পাঠানো সংকেতগুলোর সাথে তুলনা করা হয়। ফলাফল ও প্রতিক্রিয়ার কথা বলতে গেলে পরীক্ষাটি আনুষ্ঠানিকভাবে নাসার অনুমোদিত ছিল না, এটি সম্পূর্ণ মিচেলের ব্যক্তিগত উদ্যোগ ছিল। পরীক্ষার ফলাফল কিছুটা মিশ্র ছিল, তবে মজার ব্যাপার ছিলো, তাদের দাবী, পরিসংখ্যানগতভাবে সাধারণ অনুমানের চেয়ে কিছুটা ভালো ফলাফল তারা পেয়েছিলেন। বিজ্ঞানীরা একে প্রমাণ হিসাবে গ্রহণ না করলেও প্যারাসাইকোলজিতে আগ্রহীদের কাছে এটি একটি গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হয়।

এডগার মিচেল এই পরীক্ষার পর এতই অনুপ্রাণিত হয়েছিলেন যে, প্যারাসাইকোলজি ও চেতনার শক্তি ও অতীন্দ্রিয় উপলব্ধির ওপর বিশদ গবেষণা চালানোর জন্য “ইনস্টিটিউট অব নোএটিক সায়েন্সেস” প্রতিষ্ঠা করেন। এরকম আর অসংখ্য উদাহরণ রয়েছে , ১৯৭০-এর দশকে নিনা কুলাগিনা নামের এক রাশিয়ান নারী দাবি করেন যে তিনি শুধুমাত্র টেলিকিনেসিসের (মনোযোগ দিয়ে) সাহায্যে যে কোনো বস্তু সরাতে পারেন। ভারতে ড. ইয়ান স্টিভেনসন ৩,০০০-এর বেশি পুনর্জন্মের ঘটনা নিয়ে গবেষণা করেছেন, যেখানে শিশুরা তাদের পূর্বজন্মের স্মৃতি বর্ণনা করেছে !

এগুলোর মধ্যে আরেকটি ইন্টারেস্টিং বিষয় হচ্ছে প্রাকজ্ঞা (প্রিকগনিশন), বা ভবিষ্যতের ঘটনা পূর্বানুমান করার ক্ষমতা। মার্কিন মনস্তাত্ত্বিক ড. ডিন র‍্যাডিন ESP নিয়ে গবেষণা করেন এবং দাবি করেন যে কিছু মানুষ ভবিষ্যৎ সম্পর্কে অস্পষ্ট সংকেত পেতে পারে। গবেষণায় অংশগ্রহণকারীদের এমন ছবি দেখানো হয়, যেগুলো ছিলো হয় ভয়ঙ্কর নতুবা প্রশান্তিদায়ক। ছবি দেখানোর আগেই তাঁদের শারীরিক প্রতিক্রিয়া (হৃদস্পন্দন, ত্বকের পরিবাহিতা) মাপা হয়। গবেষণায় দেখা যায় যে, অংশগ্রহণকারীরা ছবি দেখার আগেই কিছুটা প্রতিক্রিয়া দেখান, বিশেষ করে যদি ছবি ভয়ঙ্কর হয়।

অংশগ্রহণকারীদের এলোমেলো শব্দ বা ছবি অনুমান করতে বলা হয়, যা পরবর্তী সময়ে কম্পিউটার র‍্যান্ডমলি নির্বাচন করবে। ফলাফলে দেখা গেছে, কিছু মানুষ অনুমানের ক্ষেত্রে গড়ের চেয়েও ভালো পারফরম্যান্স করে, যা ESP-এর প্রকট সম্ভাবনাকেই ইঙ্গিত দেয়। পরে ড. ডিন র যাডিন তাঁর গবেষণাগুলোকে “Entangled Minds” এবং “The Conscious Universe” বইয়ে লিপিবদ্ধ করেছেন প্যারাসাইকোলজি নিয়ে বৈজ্ঞানিক বিতর্ক অনেক। বিজ্ঞানীরা প্যারাসাইকোলজিকে ছদ্মবিজ্ঞান মনে করেন, কারণ একে নির্ভরযোগ্য পরীক্ষার মাধ্যমে প্রমাণ করা কঠিন। তারা বিশ্বাস করেন এই সংক্রান্ত গবেষণা বা পরীক্ষাগুলোর ফলাফল যথেষ্ট পুনরাবৃত্তিযোগ্য নয় এবং এসব প্লেসিবো বা এলোমেলো সম্ভাবনার কারণে ঘটতে পারে।

তবে কোয়ান্টাম মেকানিক্স এবং চেতনার সম্পর্ক নিয়ে গবেষণা করা কিছু বিজ্ঞানীদের মতে, মস্তিষ্কের কিছু কার্যপ্রক্রিয়া এখনো বিজ্ঞানের পরিধির বাইরে রয়ে গেছে, ভবিষ্যৎ বিজ্ঞান নিজেই হয়তো এর বিশেষ কোনো ব্যাখ্যা দেবে। যদিও প্যারাসাইকোলজি বিতর্কিত, তবে এটি মানব মনের অজানা শক্তি সম্পর্কে জানার জন্য গুরুত্বপূর্ণ এক গবেষণার ক্ষেত্র বলে দাবী রয়েছে।



যুদ্ধে হারিয়ে যাওয়ার এক বছর পর শিশুকে খুঁজে পেলেন ফিলিস্তিনি বাবা

ইসরাইলি সেনাবাহিনীর হামলা থেকে বাঁচতে গাজার একটি স্কুলে আশ্রয় নিয়েছিল তারিক আবু জাবালের পরিবার। কিন্তু সেখানেও বোমা হামলা চালায় দখলদার ইসরাইলি বাহিনী। এতে নিহত হন তার স্ত্রী আর হারিয়ে যায় ছেলে মোহাম্মদ। দীর্ঘ এক বছর পর গাজায় যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর ছেলে মোহাম্মদকে ফিরে পান জাবাল। জাবাল জানান, তিনি যখন ওই স্কুলে তার পরিবারের খোঁজ নিতে যান, তখন জানতে পারেন তার স্ত্রী নিহত হয়েছেন। আর তিনি মোহাম্মদকে কোথাও খুঁজে পানননি।

এক বছর পর, আবু জাবাল একটি টিভি সাক্ষাৎকারে মোহাম্মদকে দেখে চিনতে পারেন। সেখানে তিনি তার ছেলেকে এক ব্যক্তির কোলে দেখেন। পরে তিনি জানতে পারেন, ওই ব্যক্তিই তার ছেলের প্রাণ বাঁচিয়েছেন। মোহাম্মদকে খুঁজে পাওয়া ওই ব্যক্তি রাসিম নাভান আল-জাজিরাকে বলেন, ‘আমরা যে স্কুলে আশ্রয় নিয়েছিলাম সেখানে বোমা হামলা চালায় ইসরাইলি সেনাবহিনী। এতে বহু মানুষ হতাহত হন। তাই আমি স্ত্রী-সন্তান নিয়ে স্কুলটি ছেড়ে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেই। আমি যখন স্কুল থেকে বেরিয়ে যাচ্ছিলাম তখন একটি বাচ্চার কান্নার আওয়াজ পাই এবং সেখানে ছুটে যাই। বাচ্চাটি একটি ক্লাসরুমে মৃতদেহের চারপাশে তার মায়ের জন্য কান্না করছিল।’

সেখান থেকে রাসিম তার পরিবার নিয়ে দক্ষিণ গাজায় পালিয়ে যান। এরপর যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর গত ২৯ জানুয়ারি উত্তর গাজায় ফিরে আসে তারা। এরপরই মোহাম্মদের সন্ধান পান তার বাবা তারিক আবু জাবাল। তিনি জানান, মোহাম্মদকে পুনরায় খুঁজে পেয়ে তিনি নতুন করে বাঁচার শক্তি পেয়েছেন।

উদ্ভাবন বনাম নৈতিকতার দ্বন্দ্বে AI নিয়ন্ত্রণ

২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারিতে প্যারিসে আয়োজিত আন্তর্জাতিক এআই সামিটে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নিয়ন্ত্রণ নিয়ে বৈশ্বিক বিতর্ক নতুন মোড় নিয়েছে। এই সামিটে বিশ্বের প্রধান দেশগুলোর মধ্যে এআই নীতি ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে ব্যাপক আলোচনা হয়েছে, যা প্রযুক্তির ভবিষ্যৎ এবং সমাজে এর প্রভাব নিয়ে গভীর প্রশ্ন তুলে ধরেছে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ভাইস প্রেসিডেন্ট, জে.ডি. ভ্যান্স, সামিটে বক্তব্য রাখেন, যেখানে তিনি এআই-এর ওপর কম নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখার পক্ষে কথা বলেন। তাঁর মতে, অতিরিক্ত নিয়ন্ত্রণ প্রযুক্তিগত উদ্ভাবনকে দমন করতে পারে এবং আমেরিকার অর্থনৈতিক অগ্রগতি থামিয়ে দিতে পারে।

“এআই-এর শক্তি আমরা যদি নিয়ন্ত্রণে সীমাবদ্ধ করি, তবে আমাদের উদ্ভাবন পিছিয়ে পড়বে,” মন্তব্য করেন তিনি। ভ্যান্সের মতে, কম বাধার মধ্যে এআই-এর সম্ভাবনা পূর্ণভাবে কাজে লাগানো সম্ভব। তবে এ ধরনের নীতি সমাজে কী ধরনের ক্ষতি করতে পারে, তা নিয়ে উদ্বেগও প্রকাশ করা হচ্ছে। নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং মানবাধিকার বিষয়ক ঝুঁকি থাকতে পারে, যা কোনওভাবেই উপেক্ষা করা যাবে না।

অন্যদিকে, ইউরোপীয় ইউনিয়ন তার নতুন এআই আইনের খসড়া পাশ করেছে, যা এআই-এর ওপর কঠোর নিয়ন্ত্রণ আরোপ করে।ইউরোপীয় ইউনিয়ন বিশ্বাস করে, উদ্ভাবনের জন্য কিছু নিয়ন্ত্রণ থাকা জরুরি, তবে প্রযুক্তির অপব্যবহার প্রতিরোধ এবং মানবিক মূল্যবোধের প্রতি শ্রদ্ধা প্রদর্শন করা আরও গুরুত্বপূর্ণ। EU এই আইনে এআই প্রযুক্তির বিভিন্ন শ্রেণী ভাগ করে, যেখানে উচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ অ্যাপ্লিকেশনগুলোকে সর্বোচ্চ সতর্কতার সাথে পরিচালনা করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। ইউরোপের এই পদক্ষেপটি আন্তর্জাতিকভাবে প্রশংসিত হলেও, এটির বিরোধিতা করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের অনেক নেতৃবৃন্দ।

এআই নিয়ন্ত্রণের এই বৈশ্বিক দ্বন্দ্ব নতুন দিক নির্দেশ করছে, যেখানে উদ্ভাবন এবং নৈতিকতার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য বজায় রাখা গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। উদাহরণস্বরূপ, ইউরোপের এআই আইনের প্রণয়নে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করছেন, এটি মানবিক নৈতিকতার গুরুত্বকে তুলে ধরে, তবে প্রযুক্তিগত অগ্রগতির গতিকে কিছুটা ধীর করে দিতে পারে। আবার, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের মতামত এই প্রশ্নটি উত্থাপন করে যে, উদ্ভাবন দ্রুত এগিয়ে যেতে হবে এবং কিছু বিধিনিষেধ সেখানে প্রতিবন্ধক হতে পারে।



ফলকার টুর্ক : ক্ষমতা টিকিয়ে রাখতে আওয়ামী লীগ সরকার নৃশংস পদক্ষেপ নিয়েছিল

“জনবিরোধিতার মুখে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখতে একটি পরিকল্পিত এবং সুসমন্বিত কৌশল হিসেবে এমন নৃশংস পদক্ষেপ নিয়েছিল সাবেক সরকার। বিক্ষোভ দমন করার কৌশলের অংশ হিসেবে রাজনৈতিক নেতৃত্ব এবং ঊর্ধ্বতন নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের জ্ঞাতসারে, তাঁদের সমন্বয় ও নির্দেশনায় শত শত বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, নির্বিচার গ্রেপ্তার ও আটক এবং নির্যাতন চালানো হয়েছে বলে বিশ্বাস করার যুক্তিসংগত কারণ রয়েছে। আমরা যে সাক্ষ্য এবং প্রমাণ সংগ্রহ করেছি, তা ব্যাপক রাষ্ট্রীয় সহিংসতা এবং নিশানা করে হত্যার এক উদ্বেগজনক চিত্র তুলে ধরে। যা সবচেয়ে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনার মধ্যে পড়ে এবং যা আন্তর্জাতিক অপরাধের শামিল বলেও বিবেচিত হতে পারে।”

ফলকার টুর্ক
জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনার

আজ বুধবার জাতিসংঘের মানবাধিকার কার্যালয় প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে টুর্কের এমন বক্তব্য তুলে ধরা হয়েছে। ওই প্রতিবেদনে বলা হয়েছে-গত বছর ছাত্র নেতৃত্বাধীন বিক্ষোভের সময় আওয়ামী লীগের সহিংস কর্মকাণ্ডের পাশাপাশি বাংলাদেশের সাবেক সরকার এবং নিরাপত্তা ও গোয়েন্দা সংস্থাগুলো পদ্ধতিগতভাবে গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনায় জড়িত ছিল। ক্ষমতায় থাকার জন্য সাবেক সরকার ক্রমাগত সহিংস পথ ব্যবহার করে পদ্ধতিগতভাবে বিক্ষোভ দমনের চেষ্টা করেছিল।

বিভিন্ন নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে প্রাপ্ত মৃত্যুর তথ্যের ভিত্তিতে প্রতিবেদনে বলা হয়, ১ জুলাই থেকে ১৫ আগস্টের মধ্যে ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি মানুষকে হত্যা করা হয়ে থাকতে পারে। হাজার হাজার মানুষ আহত হয়েছেন। তাঁদের বেশির ভাগই বাংলাদেশের নিরাপত্তা বাহিনীর ছোড়া গুলিতে বিদ্ধ হয়েছেন। প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে-ক্ষমতায় টিকে থাকতে আন্দোলনকারীদের ওপর মাত্রাতিরিক্ত বলপ্রয়োগে সরাসরি নির্দেশ দিয়েছিলেন তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান।আন্দোলনের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী ও তাঁর জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টারা সরাসরি ও টেলিফোনে নিরাপত্তা বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের আদেশ দিতেন ও সার্বিক অপারেশন পর্যবেক্ষণ করতেন।

ইগর বেজিনোভিচ : সমাজ ও ইতিহাসের গভীরে একটি নতুন সিনেম্যাটিক দৃষ্টি সাফল্যের চূড়ায় ” ফিউমে ও মরতে ! “

ইগর বেজিনোভিচ, একজন ক্রোয়েশিয়ান চলচ্চিত্র নির্মাতা। যিনি তার চলচ্চিত্রে সমাজ, ইতিহাস এবং সাংস্কৃতিক সংকটের গভীর বিশ্লেষণ করে থাকেন। তার সিনেমাগুলো সাধারণত ডকু-ড্রামা শৈলীতে তৈরি হয়, যেখানে বাস্তব ঘটনাকে সৃজনশীলভাবে উপস্থাপন করা হয়। বেজিনোভিচের চলচ্চিত্রগুলি মানুষের জীবনযাত্রার জটিলতাকে কেন্দ্র করে, যা শুধুমাত্র সিনেমাটিক থ্রিলার হিসেবে নয়, বরং সমাজ ও রাজনীতির প্রেক্ষাপটেও গুরুত্বপূর্ণ আলোচনা তুলে ধরে। তার সিনেমার বিশেষত্ব হল তার নিজস্ব গল্প বলার ধরণ, যা ডকুমেন্টারি শৈলীর সাথে মানবিক আবেগের একটি শক্তিশালী মিশ্রণ।

বেজিনোভিচের প্রথম উল্লেখযোগ্য কাজগুলো হচ্ছে, “Spleen” (২০০৯), যা ক্রোয়েশিয়ান সমাজের মনস্তাত্ত্বিক অবস্থা এবং সাংস্কৃতিক প্রেক্ষাপট নিয়ে নির্মিত একটি ডকু-ড্রামা। এছাড়া, তার “Kratki Izlet” (২০১৭) একটি পরীক্ষামূলক চলচ্চিত্র, যেখানে আধুনিক জীবনযাত্রা এবং তার সামাজিক প্রভাব নিয়ে গভীরভাবে আলোচনা করা হয়। এই চলচ্চিত্রে বেজিনোভিচ সাধারণত চরিত্রের মানসিক যাত্রা এবং ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দিয়েছেন।

তার সাম্প্রতিক সিনেমা ফিউমে ও মরতে! (Fiume O Morte!) ২০২৫ সালের আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসব রটারডাম (আইএফএফআর) এ টাইগার অ্যাওয়ার্ড জিতেছে। এই সিনেমাটি ক্রোয়েশিয়ার রিজেকা শহরের ইতিহাস এবং তার সঙ্গে জড়িত সংঘাতের জটিলতা নিয়ে নির্মিত। “ফিউমে ও মরতে” ইতিহাসের গভীরে গিয়ে শহরের রাজনৈতিক ও সাংস্কৃতিক ইতিহাসের সংকটগুলোর প্রতি আলোকপাত করে। এটি কেবল একটি ঐতিহাসিক ডকু-ড্রামা নয়, বরং সামাজিক ও সাংস্কৃতিক আন্দোলনের ছবি। বেজিনোভিচের এ কাজ তার নির্মাতার পরিচিতিকে আরও মজবুত করেছে, এবং টাইগার অ্যাওয়ার্ড জয়ী হওয়ার মাধ্যমে তিনি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্রে নিজের অবস্থান শক্ত করেছেন।

আসিফ নজরুল : শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে হত্যা মামলার রায় অক্টোবরের মধ্যে

জুলাই হত্যাকাণ্ডে শেখ হাসিনাসহ আওয়ামী লীগের শীর্ষ নেতাদের নামে দায়ের হওয়া ৩ থেকে ৪টি মামলার বিচারের রায় আগামী অক্টোবরের মধ্যে হতে পারে বলে জানিয়েছেন আইন উপদেষ্টা অধ্যাপক আসিফ নজরুল। এসব মামলায় সাবেক কিছু পুলিশ কর্মকর্তা ও আমলার নামও রয়েছে। ১১ ফেব্রুয়ারি সচিবালয়ে সংবাদ সম্মেলনে আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘এখন পর‍্যন্ত আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিন শ’র বেশি অভিযোগ দায়ের করা করা হয়েছে। প্রসিকিউশন টিম যাচাই-বাছাই করে ১৬টি মামলা দায়ের করেছে আনুষ্ঠানিকভাবে। এই ১৬টি মামলার মধ্যে চারটি মামলার তদন্ত কাজ এই মাসের মধ্যেই শেষ হবে বলে আমরা আশা করি।’

তিনি আরো বলেন, ‘আনুষ্ঠানিক বিচার কাজ শুরুর পর আইন অনুযায়ী তিন সপ্তাহ সময় এটা ডিফেন্স টিমকে দিতে হয়। ঈদের পর এপ্রিল মাস থেকে সাক্ষ্য গ্রহণ প্রক্রিয়া শুরু হবে’। অধ্যাপক নজরুল বলেন, ‘মামলার রায় পরবর্তী চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে প্রদান করা যাবে বলে আমরা আশা করি। অর্থাৎ এই হিসাবে অক্টোবরের মধ্যে আমরা তিন-চারটা মামলার রায় পেতে যাচ্ছি বলে আমরা আশা করি’।
তিনি জানান, পুরো বিচার শেষ হতে ট্রাইব্যুনালের এক থেকে দেড় বছর সময় লাগবে।

ইউটিউবের ২০ বছর টিভিকে ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে

২০০৫ সালে স্টিভ চেন, শ্যাড হার্লি ও জাওয়েদ করিম এই তিনজন মিলে প্রতিষ্ঠা করেন অনলাইনে ভিডিও দেখার জনপ্রিয় প্ল্যাটফর্ম ইউটিউব। ২০০৫ সালের ২৩ এপ্রিল ইউটিউবে প্রথম ভিডিওটি আপলোড করেন অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা বাংলাদেশি বংশো দ্ভুত জাওয়েদ করিম। শুরুতে পাইরেসির স্বর্গ হিসেবে বিবেচিত হলেও পরবর্তী ২০ বছরে অচিন্তনীয় সাফল্য অর্জন করে সাইটটি। গত বছর বিশ্বজুড়ে ইউটিউবে ভিডিও দেখেন প্রায় ২৫০ কোটি মানুষ (স্ট্যাটিসটা)। তাদের মিউজিক ও প্রিমিয়াম সাবস্ক্রিপশন প্যাকেজের পেইড গ্রাহকের সংখ্যা ১০ কোটি। গুগল জানিয়েছে, শুধু টিভি সেটেই প্রতিদিন ১০০ কোটি ঘণ্টা ইউটিউব দেখা হয়।

ইউটিউবের সাফল্যের পেছনে মূল সূত্র হলো প্রথাগত টিভি চ্যানেলের সঙ্গে লড়ার ক্ষেত্রে অভিনব কৌশল গ্রহণ। বড় স্টুডিও বা খরুচে ভিডিও নির্মাণ না করে ইউটিউব সব সময় চেয়েছে গ্রাহক-দর্শকরা নিজেরাই ভিডিও তৈরি করে তাদের প্ল্যাটফর্মে আপলোড করুক। এ মুহূর্তে ইউটিউবে কনসার্টের ক্লিপ, রাজনৈতিক প্রচারণার বিজ্ঞাপন, শিক্ষামূলক ভিডিও সহ অনেক বিষয়ের ওপর ভিডিও রয়েছে। গুগলের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ইউটিউবে বিশ্বজুড়ে প্রতি মিনিটে ৫০০ ঘণ্টারও বেশি দৈর্ঘ্যের ভিডিও আপলোড করা হয়।

২০০৬ সালে গুগল ১৬৫ কোটি ডলারে ইউটিউব কিনে নেয়। বিশ্লেষকরা একে তাৎপর্যপূর্ণ মুহূর্ত হিসেবে বিবেচনা করেন। তাদের মতে, গুগলের সার্চ ও বিজ্ঞাপন বিষয়ে দক্ষতার সঙ্গে ভিডিও-শেয়ারিং প্ল্যাটফর্মটি যোগ হওয়ার বিষয়টি খুবই গুরুত্বপূর্ণ ছিল। অনলাইন বিজ্ঞাপনের জ্ঞান কাজে লাগিয়ে গুগল কন্টেন্ট ক্রিয়েটরদের সঙ্গে লভ্যাংশ ভাগ করে নেওয়ার মডেল তৈরি করে, যার হাত ধরেই তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে ইউটিউব। এক সময় ইউটিউবের সবচেয়ে বড় দুই সমস্যা ছিল পাইরেটেড কনটেন্ট ও প্রাপ্ত বয়স্কদের জন্য তৈরি করা কনটেন্ট এর অবাধ প্রবাহ। তবে বর্তমানে এই সমস্যাগুলো নেই বললেই চলে। এ ধরনের কোনো ভিডিও আপলোড হলেও দ্রুত তা সরিয়ে নেওয়া হয়। এমন কী, দৃষ্টিকটু বা অবমাননাকর কনটেন্টও ইউটিউব থেকে দ্রুত সরিয়ে ফেলা হয়।

বিশ্লেষকদের মতে, আগামী দুই বছরের মধ্যেই মার্কিন কেবল টিভির গ্রাহকের সংখ্যাকে ছাড়িয়ে যাবে ইউটিউবের পেইড গ্রাহকের সংখ্যা। এই প্ল্যাটফর্মটি এখন নেটফ্লিক্স, ডিজনি প্লাস ও অ্যামাজন প্রাইমের মতো স্ট্রিমিং সাইটের পাশাপাশি টিকটক ও ইনস্টাগ্রামের রিলস এর সঙ্গেও প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছে। টিকটকের পাল্টা জবাব হিসেবে ‘শর্টস’ চালু করেছে ইউটিউব। অল্প সময়ের মধ্যেই তুমুল জনপ্রিয়তা পেয়েছে এই সেবা। বর্তমানে প্রতিদিন সাত হাজার কোটি ভিউস আসে শর্টস থেকে।

বড় কিছু ব্যবসায়ী ব্যাংকের কত টাকা নিয়েছেন নিজেরাও জানেন না গভর্নর

সোমবার মুদ্রানীতি ঘোষণা উপলক্ষে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আহসান এইচ মনসুর বলেছেন, ‘এস আলমসহ বড় কয়েকজন ব্যবসায়ী ব্যাংক থেকে কে কত টাকা নিয়েছেন, তা তাঁরা নিজেরাও জানেন না। আমরাও এখনো পুরোটা জানতে পারিনি। তবে ব্যাংকগুলোর সম্পদের মান যাচাই শুরু হয়েছে। পাশাপাশি ফরেনসিক নিরীক্ষা করা হচ্ছে। এতে বেরিয়ে আসবে কে কত টাকা নিয়েছেন, সুবিধাভোগী কারা ছিল।’

সংবাদ সম্মেলনে গভর্নরের কাছে প্রশ্ন ছিল, এস আলমসহ ১০টি শিল্প গ্রুপ ও শেখ পরিবার নিয়ে যৌথ তদন্ত হচ্ছে, তারা আসলে কত টাকা নিয়েছে? জবাবে গভর্নর বলেন, ‘প্রাথমিক হিসাবে এস আলম একা ১ লাখ ২৫ হাজার কোটি টাকা নিয়েছে। তাকে জিজ্ঞাসা করলেও বলতে পারবে না, কত টাকা নিয়েছে। জাভেদ (সাবেক ভূমিমন্ত্রী সাইফুজ্জামান চৌধুরী) বিদেশে সাড়ে ৩০০ বাড়ি কিনেছেন। এত বাড়ির ঠিকানা তিনি দিতে পারবেন না।’ তিনি বলেন-এক থেকে দেড় বছরের মধ্যে সংস্কার করা হবে, এর ফল পেতে সময় লাগবে। সব প্রক্রিয়া শেষে পুরো ব্যাংক খাতকে শক্তিশালী ভিত্তি দিতে তিন-চার বছর সময় লাগবে।

মুদ্রানীতির কারণে বিনিয়োগ কমে কর্মসংস্থান বাধাগ্রস্ত হচ্ছে কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে গভর্নর বলেন, ‘আমি আগে থেকেই বলে আসছি, ২০২৪ ও ২০২৫ সাল প্রবৃদ্ধি অর্জনের বছর নয়। এই দুই বছর অর্থনীতি মেরামত করার বছর। রাজনৈতিক অস্থিরতা রয়েছে, এমন পরিস্থিতিতে এমনিতেও বিনিয়োগ হবে না। সবকিছু মুদ্রানীতি দিয়ে হবে না। আমাদের প্রধান লক্ষ্য মূল্যস্ফীতি কমিয়ে আনা।’

‘ কুইপু (Quipu) ‘ চিহ্নিত হল মহাবিশ্বের বৃহত্তম কাঠামো

জ্যোতির্বিদরা এমন একটি কাঠামো চিহ্নিত করেছেন যা পরিচিত মহাবিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বড় হতে পারে-এটি গ্যালাক্সির ক্লাস্টার এবং সুপারক্লাস্টারের একটি বিশাল নেটওয়ার্ক, যার ভর প্রায় ২০০ কোয়াড্রিলিয়ন সৌর ভরের সমান। এই কাঠামোর নাম রাখা হয়েছে কুইপু (Quipu), যা প্রাচীন ইনকা সভ্যতার গিঁটযুক্ত দড়ি ব্যবহারের মাধ্যমে সংখ্যা গণনার পদ্ধতি থেকে অনুপ্রাণিত। এই কাঠামোটি একটি কুইপু দড়ির মতোই জটিল। যেখানে একটি কেন্দ্রীয় ফিলামেন্ট থেকে একাধিক শাখা বিস্তৃত হয়েছে। এর দৈর্ঘ্য প্রায় ১.৩ বিলিয়ন আলোকবর্ষ-যা মিল্কিওয়ের দৈর্ঘ্যের ১৩,০০০ গুণ বেশি! বলা হচ্ছে এটি মহাবিশ্বের সবচেয়ে দীর্ঘ কাঠামো হতে পারে, যেটি পূর্ববর্তী রেকর্ডধারী লানিয়াকেয়া সুপারক্লাস্টারকেও ছাড়িয়ে গেছে!

যে গবেষক দলটি এই আবিষ্কার করেছেন, তারা জানান যে কুইপু একটি অত্যন্ত বিশিষ্ট কাঠামো। বিশেষ কোনো শনাক্তকরণ প্রযুক্তি ছাড়াই এটি নির্দিষ্ট রেডশিফট সীমার মধ্যে থাকা গ্যালাক্সি ক্লাস্টারের স্কাই ম্যাপে সহজেই দেখা যায়। এই গবেষণা মহাবিশ্বের পদার্থ বণ্টন চিত্রায়নের একটি অংশ, যেখানে বিভিন্ন আলোর তরঙ্গদৈর্ঘ্যে করা হচ্ছে। দূরবর্তী মহাজাগতিক কাঠামোগুলো রেডশিফট নামক একটি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে লাল রঙের দিকে সরে যায়। রেডশিফট ০.৩ পর্যন্ত অবজেক্টগুলো ভালোভাবে ম্যাপ করা হয়েছে, তবে এই গবেষণাটি ০.৩ থেকে ০.৬ রেডশিফটের মধ্যে থাকা কাঠামোগুলোকে লক্ষ্য করেছে, যেটি আরও দূরবর্তী।

গবেষকদের ডাটাসেটে পাওয়া বৃহত্তম কাঠামো কুইপু হলেও আরও চারটি বিশাল কাঠামোও চিহ্নিত করা গেছে। কুইপু এবং তিনটি নতুন কাঠামো, সার্পেনস-কোরোনা বোরিয়ালিস সুপারস্ট্রাকচার, হারকিউলিস সুপারক্লাস্টার, স্কাল্পটার-পেগাসাস সুপারস্ট্রাকচার (যা দুটি নক্ষত্রমণ্ডলকে সংযুক্ত করে) আগে বৃহত্তম সুপারক্লাস্টার হিসেবে বিবেচিত শ্যাপলি সুপারক্লাস্টারকেও ছাড়িয়ে গেছে। এই কাঠামোগুলোর অবস্থান পৃথিবী থেকে ৪২৫-৮১৫ মিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে। গবেষণা ইঙ্গিত করছে, মহাবিশ্বের আরও গভীরে আরও বড় কাঠামোও থাকতে পারে। হারকিউলিস কোরোনা-বোরিয়ালিস গ্রেট ওয়াল প্রায় ১০ বিলিয়ন আলোকবর্ষ দূরে মহাবিশ্বের বৃহত্তম পরিচিত কাঠামো হিসেবে বিবেচিত হলেও এর অস্তিত্ব নিয়ে অনেক বিতর্ক রয়েছে।

লক্ষ্য করা গেছে এই সুপারস্ট্রাকচারগুলো মহাবিশ্বের বিস্তৃতি ও আলোর পথকে প্রভাবিত করে। এগুলো মহাজাগতিক মাইক্রোওয়েভ ব্যাকগ্রাউন্ড (CMB) বিকৃত করতে পারে, যেগুলো বিগ ব্যাংয়ের পর অবশিষ্ট তাপ বিকিরণ হিসেবে মহাবিশ্বে সমভাবে ছড়িয়ে আছে।
এছাড়া, গ্যালাক্সির গতির প্রবাহের কারণে মহাবিশ্বের প্রসারণের পরিমাপেও প্রভাব পড়ে, যাকে হাবল ধ্রুবক (Hubble Constant) বলা হয়। এই বিশাল কাঠামোগুলোর মহাকর্ষীয় আকর্ষণ গ্র্যাভিটেশনাল লেন্সিং তৈরি করে, যেটি দূরবর্তী নক্ষত্রপুঞ্জের আলো বাঁকিয়ে দেয় ও আকাশের দৃশ্য বিকৃত করে। গবেষণা বলছে, ভবিষ্যতে মহাবিশ্বের প্রসারণের ফলে এই সুপারস্ট্রাকচারগুলো একাধিক ছোট ইউনিটে বিভক্ত হবে এবং ধীরে ধীরে ভেঙে যাবে। তবে বর্তমানে, এগুলো মহাবিশ্বের জন্য বিশেষ গবেষণার দাবি রাখে এমন গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য।



অন্তর্বর্তী সরকারের ৬ মাস , গতি ফিরছে না অর্থনীতিতে

সেন্টার ফর পলিসি ডায়ালগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘অর্থনীতি এখনও ছয় মাস আগের ঝুঁকি থেকে পুরোপুরি বেরিয়ে আসতে পারেনি। তবে কয়েকটি সূচকে উন্নতি এবং আরও কয়েকটি সূচক নিয়ন্ত্রণে থাকায় কিছুটা স্বস্তি মিলেছে।’ গত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমেছে। তবে তার প্রভাব পড়েছে সামান্য। এখনো খাদ্যসহ নিত্যপণ্যের দাম অনেক বেশি। গত কয়েক বছর ধরে বেসরকারি বিনিয়োগ জিডিপির ২৩-২৪ শতাংশে স্থির হয়ে আছে। এছাড়াও বর্তমানে বেসরকারি খাতে ঋণের চিত্রও আশার আলো দেখাচ্ছে না। আগস্টে রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিনিয়োগ খাতে অনিশ্চয়তার কারণে টানা পঞ্চম মাসের মতো বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে ঋণের প্রবাহ কমেছে।

মোস্তাফিজুর রহমানের মতে স্থবিরতার এই ধারা চলমান। ‘দেখে মনে হচ্ছে অর্থনীতি দুষ্টচক্রে পড়েছে।’ তিনি বলেন, ‘সরকারের সংকোচনমূলক মুদ্রানীতির কারণে সুদের হার বাড়ছে যেটা বেসরকারি বিনিয়োগকে বাধাগ্রস্ত করছে।’ প্রায় ১০০ পণ্য ও সেবার ওপর মূল্য সংযোজন কর (ভ্যাট) বাড়ানোর সরকারি সিদ্ধান্ত মূল্যস্ফীতি বাড়িয়ে দিয়েছে এবং সাধারণ মানুষের ক্রয়ক্ষমতা আরও কমিয়েছে। অন্যদিকে ব্যাংকে খেলাপি ঋণের পাহাড় আরও উঁচু হচ্ছে বলেও জানান এই অর্থনীতিবিদ। ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকিন আহমেদ বলেন, ‘অর্থনৈতিক সংকট মোকাবিলায় অন্তর্বর্তী সরকার আমদানি বিধিনিষেধ শিথিল করাসহ বেশ কিছু উদ্যোগ নিয়েছে, যার মধ্যে ব্যাংকিং খাত, কর ও প্রশাসনের মতো গুরুত্বপূর্ণ কিছু ক্ষেত্রে সংস্কারের বিষয় রয়েছে।

গত ছয় মাসে দেশের জনগণ ও বেসরকারি খাতের দৃঢ়তায় অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াতে শুরু করেছে বলেও মনে করেন তিনি। তিনি বলেন, ‘এইসব প্রচেষ্টার পরও, চলমান চ্যালেঞ্জগুলো অগ্রগতিকে বাধাগ্রস্ত করছে। বিনিয়োগে ধীরগতি ও শিল্পখাতে স্থবিরতার কারণে চলতি অর্থবছরের প্রথম প্রান্তিকে জিডিপি প্রবৃদ্ধি কমে ১ দশমিক ৮১ শতাংশে নেমে এসেছে যা গত চার বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন।’ লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় ৫৮ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব ঘাটতি, দুর্বল ঋণ প্রবৃদ্ধি অর্থনীতিকে আরও চাপে রেখেছে। তার মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, সরবরাহ ব্যবস্থা ব্যাহত, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োেগ (এফডিআই) কমে আসা ও অনাদায়ী ঋণ বেড়ে যাওয়ায় আর্থিক খাতে অনিশ্চয়তা বেড়েছে।

সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিংয়ের (সানেম) নির্বাহী পরিচালক সেলিম রায়হান বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকার উচ্চ মূল্যস্ফীতি ও বিনিয়োগে স্থবিরতাসহ বেশ কিছু সংকট উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। সেখান থেকে বের হতে পারেনি। আমরা আশা করেছিলাম অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াবে। কয়েকটি সুচকে -রপ্তানি আয়, রেমিট্যান্স ও রিজার্ভ পতন ঠেকানো ছাড়া তেমন কোন অগ্রগতি আমরা তা দেখিনি।’ তিনি যোগ করেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে সরকারের ব্যর্থতার কারণে অর্থনীতিতে আস্থার ঘাটতি দেখা দিয়েছে। আস্থার এই সংকট বিনিয়োগকারী ও ভোক্তা উভয়েরই বলে জানান তিনি।