Home Blog Page 202

স্থানীয় নির্বাচন ও প্রশাসক নিয়োগ নিয়ে বিএনপি – ছাত্র নেতৃত্ব – জামাত বিরোধ

রাজনৈতিক সূত্রগুলো সমকালকে জানিয়েছে, সংসদ নির্বাচনের আগে নতুন দলের জনভিত্তি তৈরিতে ছাত্র নেতৃত্ব প্রথমে স্থানীয় নির্বাচন চায়। এ জন্য তারা দাবি ও চাপ অব্যাহত রাখবে। বিএনপির কারণে নির্বাচন সম্ভব না হলে, স্থানীয় সরকারের বিভিন্ন স্তরে রাজনৈতিক প্রশাসক বসানো হবে। এ লক্ষ্যেই বিএনপি ও আমলাতন্ত্রের ‘বাধা’ উপেক্ষা করে ছাত্র নেতৃত্বের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম জাতীয় নাগরিক কমিটির (জানাক) সদ্য সাবেক নেতাকে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনে প্রশাসকের দায়িত্ব দিয়েছে সরকার। ঢাকা দক্ষিণে বিএনপির কোনো নেতাকে প্রশাসক পদে বসানোর প্রস্তাবে দলটি সাড়া না দেওয়ায় সেখানে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে সম্প্রতি তিনটি পদোন্নতি পেয়ে অতিরিক্ত সচিব হওয়া শাহজাহান মিয়াকে।

সূত্রের ভাষ্য, নিজস্ব ঘরানার প্রশাসকরা স্বচ্ছ এবং দুর্নীতিমুক্ত সরকারি সেবা ও ভাতা দিতে পারলে তাদের রাজনৈতিক দলের জনভিত্তি তৈরি হবে। বিরোধ এড়াতে বিএনপি, জামায়াত নেতাদেরও সরকারের মাধ্যমে প্রশাসক পদে বসাতে রাজি নাগরিক কমিটি। সংসদের পর স্থানীয় নির্বাচন চায় বিএনপি। দলটির নেতাদের ভাষ্য, সংসদের আগে স্থানীয় নির্বাচনে অগ্রাধিকার, প্রশাসক নিয়োগ- সবই ছাত্রদের দল গঠনে সরকারি পৃষ্ঠপোষকতার লক্ষণ। সরকারি সুবিধার আশায় স্থানীয় জনপ্রতিনিধিরা নতুন রাজনৈতিক দলে ভিড়তে পারেন; অতীতেও তাই হয়েছে।

অন্তর্বর্তী সরকারের অধীনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ থাকবে কিনা- তা যাচাইয়ের কথা বলে জামায়াত আগে স্থানীয় নির্বাচনের দাবিতে সমর্থন দিয়েছে। দলটির নেতাদের ধারণা, নির্দলীয় পদ্ধতির স্থানীয় নির্বাচন ঘিরে তৃণমূলে বিরোধের কারণে বিএনপি দুর্বল হয়ে পড়বে। এর পর সংসদ নির্বাচনে সুবিধা হবে আওয়ামী লীগশূন্য মাঠে জামায়াতের।
সরকারি উদ্যোগে নির্বাচন সংস্কার কমিশনের জরিপের বরাতে ড. বদিউল আলম মজুমদার আগে জানিয়েছিলেন, ৪৬ হাজার উত্তরদাতার ৯০%-ই আগে স্থানীয় নির্বাচনের পক্ষে। সম্প্রতি নির্বাচন কমিশনে সাক্ষাতে জামাত আবারো আনুপাতিক নির্বাচন ব্যবস্থার দাবি জানিয়েছে, যার কড়া বিরোধিতা করেছে বিএনপি। এই পরিস্থিতিতে বিএনপির ঘোর আপত্তি সত্ত্বেও সংসদের আগে স্থানীয় নির্বাচন আয়োজনে এগোবে কী অন্তর্বর্তী সরকার?

গসিপ আপনার জীবনের জন্য জরুরী , সামাজিক সম্পর্কের গভীরতা এবং নৈতিকতার ভার

গসিপ মানুষের সামাজিক সম্পর্কের মান এবং গভীরতা তৈরি করতে একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। জৈবিক নৃবিজ্ঞানী ও বিবর্তনীয় মনোবিজ্ঞানী রবিন ডানবারের মতে, গসিপ কেবল একটি কথাবার্তা নয়, বরং এটি মানুষের সমাজে সম্পর্ক স্থাপন এবং নৈতিকতা বজায় রাখার একটি প্রক্রিয়া। তার গবেষণায়, ডানবার গসিপের ভূমিকা এবং এটি কীভাবে মানুষের সামাজিক কাঠামো এবং আচরণকে প্রভাবিত করে, তা বিস্তারিতভাবে আলোচনা করেছেন।

ডানবারের তত্ত্ব অনুযায়ী, গসিপ মানুষের মধ্যে সম্পর্ক স্থাপনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি শুধুমাত্র একে অপরের ব্যক্তিগত জীবন বা গোপন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা নয়, বরং এটি সম্পর্কের একটি কার‍্যকরী ভিত্তি তৈরি করতে সহায়ক। উদাহরণস্বরূপ, দুই বন্ধু একে অপরের সম্পর্কে গসিপ করলে তারা একে অপরের বিশ্বাস অর্জন করতে পারে এবং সম্পর্কটি আরও শক্তিশালী হয়ে ওঠে। এতে তারা একে অপরকে চিন্তা ও মানসিকতার দিক দিয়ে ভালোভাবে জানে, যা তাদের বন্ধনকে দৃঢ় করে।

গসিপের মাধ্যমে, একজন ব্যক্তি তার আশেপাশের মানুষের আচরণ এবং মানসিকতা সম্পর্কে জানতে পারে। এর ফলে, মানুষ একে অপরকে বুঝতে পারে এবং সম্পর্কের গভীরতা বাড়ায়। ডানবারের মতে, গসিপ কেবল একটি সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যম নয়, এটি মানুষকে একে অপরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন এবং মর্মস্পর্শী সম্পর্কও তৈরি করতে সাহায্য করে। ডানবারের সংখ্যা তত্ত্বে, মানুষের মস্তিষ্ক একটি নির্দিষ্ট সীমা পর্যন্ত সম্পর্ক রাখতে সক্ষম, এবং ১৫০ জনের বেশি মানুষের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা সম্ভব হয় না। গসিপ, এই সীমার মধ্যে সম্পর্ক বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে, কারণ এটি মানুষের মধ্যে তথ্য বিনিময় এবং সম্পর্ক স্থাপনকে সহজ করে।

এটি একটি উদাহরণ হতে পারে যখন একটি বড় অফিস বা সম্প্রদায়ে একাধিক সদস্যরা একে অপরের সম্পর্কে গসিপ করে, তাদের সম্পর্কের গভীরতা এবং বিশ্বাস তৈরি হয়। তবে, ১৫০ জনের বেশি সম্পর্ক স্থাপন করলে, গসিপের মাধ্যমে সম্পর্ক বজায় রাখার প্রক্রিয়া জটিল হয়ে পড়ে এবং সম্পর্কের মান হ্রাস পায়। ডানবারের মতে, গসিপের মাধ্যমে সম্পর্ক বজায় রাখতে হলে, সেই সম্পর্কগুলির সংখ্যা একটি নির্দিষ্ট সীমার মধ্যে থাকা উচিত। গসিপ শুধু সম্পর্কের গভীরতা বৃদ্ধি করে না, বরং এটি সমাজের মধ্যে নৈতিকতা রক্ষা করার একটি গুরুত্বপূর্ণ উপায় হিসেবেও কাজ করে। গসিপের মাধ্যমে সমাজের সদস্যরা একে অপরের আচরণ এবং মঙ্গল সম্পর্কে তথ্য পায়, যা তাদের মধ্যে সঠিক সিদ্ধান্ত নেওয়ার প্রক্রিয়া সহজ করে।

যখন একজন ব্যক্তি অন্যের সম্পর্কে নেতিবাচক গসিপ করে, তা সামাজিক নেটওয়ার্কে ছড়িয়ে পড়ে এবং এর মাধ্যমে অন্যরা সেই ব্যক্তির সম্পর্কে নিজেদের মতামত তৈরি করতে পারে। মানুষের মধ্যে সম্পর্কের নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা তৈরি হয়, যেখানে তারা একে অপরের সাথে কিভাবে আচরণ করবে তা নির্ধারণ করতে পারে। এটি একটি অবচেতন সামাজিক নিয়ম তৈরি করতে সাহায্য করে, যা সমাজের অঙ্গীকার এবং নৈতিকতা বজায় রাখে। গসিপের অনেক ইতিবাচক দিক রয়েছে, তবে এর নেতিবাচক দিকও আছে। ইতিবাচক দিক হিসাবে, গসিপ সম্পর্কের গভীরতা বৃদ্ধি করতে পারে এবং বন্ধুত্বের ভিত শক্তিশালী করতে সহায়ক হয়।

তবে, গসিপ যদি অতিরিক্ত হয় বা মিথ্যা তথ্য প্রচারিত হয়, তবে তা সম্পর্কের ক্ষতি করতে পারে। নেতিবাচক গসিপ, যেমন কারো সম্পর্কে ভুল বা ক্ষতিকর তথ্য ছড়ানো, একটি ব্যক্তির খ্যাতি নষ্ট করতে পারে এবং সম্পর্কের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি করতে পারে। গসিপের মধ্যে সততা এবং সঠিকতা থাকা উচিত, যাতে তা সমাজে ভ্রান্তি বা বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে। গসিপ মুলত মানুষের মস্তিষ্কের জন্য একটি প্রাকৃতিক প্রক্রিয়া, যার মাধ্যমে তারা তাদের সামাজিক পরিবেশকে বিশ্লেষণ করতে পারে এবং নিজস্ব আচরণ নিয়ন্ত্রণ করতে পারে।

রবিন ডানবারের তত্ত্ব অনুযায়ী, গসিপ মানুষের সামাজিক সম্পর্কের একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং অবিচ্ছেদ্য অংশ। এটি শুধুমাত্র সম্পর্কের গভীরতা তৈরি করে না, বরং সমাজে নৈতিকতা বজায় রাখতে সহায়ক ভূমিকা পালন করে। গসিপের মাধ্যমে, মানুষ একে অপরকে ভালোভাবে জানে, সম্পর্কের মান বাড়ায় এবং বিশ্বাস স্থাপন করে। তবে, গসিপের সঠিক ব্যবহার এবং সততা থাকা জরুরি, কারণ এর অতিরিক্ত বা ভুল ব্যবহার সম্পর্কের ক্ষতি করতে পারে। ডানবারের গবেষণা আমাদের শেখায় কিভাবে গসিপকে একটি ইতিবাচক শক্তি হিসেবে ব্যবহার করা যায়, যা মানব সম্পর্কের ভিতকে দৃঢ় করে।

বাংলাদেশের ঘটনাবলিতে যুক্তরাষ্ট্রের `ডিপ স্টেট`- এর ভূমিকা নেই : ট্রাম্প

গতকাল বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের আগে সংবাদ সম্মেলনে এক ভারতীয় সাংবাদিক ইউক্রেনে শান্তি প্রতিষ্ঠার ক্ষেত্রে ভারতের ভূমিকার বিষয়ে মোদির কাছে প্রশ্ন করেন। একই সঙ্গে ট্রাম্পকে প্রশ্ন করেন-‘বাংলাদেশের বিষয়ে আপনার অভিমত কী? কারণ এটা স্পষ্ট যে বাইডেন প্রশাসনের আমলে মার্কিন ডিপ স্টেট বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের সঙ্গে জড়িত ছিল। এমনকি, মুহাম্মদ ইউনূসও জুনিয়র সরোসের সঙ্গে দেখা করেছেন। বাংলাদেশের বিষয়টি নিয়ে আপনার দৃষ্টিভঙ্গি কী?’

জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘সেখানে (বাংলাদেশে) আমাদের “ডিপ স্টেটের” কোনো ভূমিকা ছিল না…এটা এমন একটা বিষয়, যা নিয়ে প্রধানমন্ত্রী (মোদি) দীর্ঘদিন ধরে কাজ করছেন। স্পষ্ট করে বললে কয়েক শ বছর ধরে বিষয়টি নিয়ে কাজ চলছে। আমি বিষয়টি সম্পর্কে পড়ছি। তবে বাংলাদেশের বিষয়ে (বলার ভার) আমি প্রধানমন্ত্রীর (মোদি) ওপর ছেড়ে দেব।’ ট্রাম্পের এই কথার পর মোদি উত্তর দিতে শুরু করেন। তবে তিনি বাংলাদেশ নিয়ে কোনো কথা বলেননি। তিনি ইউক্রেন নিয়ে কথা বলেন।

পরবর্তী সময়ে দুই নেতার বৈঠক নিয়ে কথা বলেন ভারতের পররাষ্ট্রসচিব বিক্রম মিশ্রি। এক সাংবাদিক তাঁর কাছে-‘বাংলাদেশের বিষয়ে আমি প্রধানমন্ত্রীর (মোদি) ওপর ছেড়ে দেব’-ট্রাম্পের এই বক্তব্যের ব্যাখ্যা জানতে চান।
মিশ্রি বিষয়টি নিয়ে সরাসরি কোনো উত্তর না দিয়ে বলেন, ‘বাংলাদেশ নিয়ে আমরা যা বলব…দুই নেতার আলোচনায় বাংলাদেশ প্রসঙ্গ ছিল। প্রধানমন্ত্রী তাঁর মতামত জানিয়েছেন। প্রকৃতপক্ষে বাংলাদেশের সাম্প্রতিক ঘটনাবলি ও ভারত এ পরিস্থিতিকে কীভাবে দেখছে, সে বিষয়ে তিনি তাঁর উদ্বেগ জানিয়েছেন।’

যুক্তরাষ্ট্রে ‘ডিপ স্টেট’ বলতে কেন্দ্রীয় সরকারের সদস্যদের, বিশেষ করে এফবিআই ও সিআইএর কর্মকর্তাদের গোপন নেটওয়ার্ককে বোঝানো হয়ে থাকে। গোপন এই নেটওয়ার্কে অনির্বাচিত সরকারি-বেসরকারি প্রভাবশালী লোকজন থাকেন। রাজনৈতিক সরকারের সমান্তরালে নিজেদের উদ্দেশ্য ও লক্ষ্য বাস্তবায়নে স্বাধীনভাবে এই নেটওয়ার্ক কাজ করার চেষ্টা করে থাকে বলে বলা হয়।

সামাজিক সংকটের নতুন প্রবাহ

বর্তমান সময়ে দেশে একটি বড় সমস্যা হিসেবে উঠে এসেছে মুদ্রাস্ফীতি। বিশেষ করে চাল, তেল, ডাল এবং অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য বৃদ্ধি সাধারণ জনগণের জন্য ব্যাপক চাপ সৃষ্টি করছে। এই মূল্যবৃদ্ধি মানুষের দৈনন্দিন জীবনযাত্রার মান হ্রাস করছে এবং তাদের জন্য অর্থনৈতিক অস্থিরতা তৈরি করছে। ২০২৫ সালের শুরুতেই বাংলাদেশের মুদ্রাস্ফীতি আবারও বৃদ্ধি পেয়েছে।উদাহরণস্বরূপ, চালের মূল্য ১০-১২% বৃদ্ধি পেয়েছে, যা দেশের বড় একটি অংশের জন্য উদ্বেগের কারণ। ভোজ্য তেলের দামও গত কয়েক মাসে ১৫-২০% বেড়েছে, এবং বর্তমানে একটি সাধারণ পরিবার রান্নার জন্য অতিরিক্ত ব্যয় করছে। একইভাবে, ডাল, চিনিসহ অন্যান্য মৌলিক দ্রব্যের দামও বাড়তে শুরু করেছে। এসব বৃদ্ধির কারণে মধ্যম ও নিম্ন আয়ের পরিবারগুলোর জন্য জীবনযাত্রা অনেক কঠিন হয়ে পড়েছে।

বিশেষজ্ঞরা জানান, মুদ্রাস্ফীতির পেছনে মূলত আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম বৃদ্ধি, উৎপাদনে ব্যাঘাত এবং সরবরাহ চেইনের সমস্যাই দায়ী। ২০২৫ সালের শুরুতে ভারত এবং অন্যান্য দেশ থেকে পণ্য আমদানিতে বাধা সৃষ্টি হওয়ায় বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে, যা সরাসরি মূল্যবৃদ্ধি ঘটিয়েছে। এ ছাড়া, বাংলাদেশের কৃষিখাতে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব পড়ছে, যা উৎপাদন কমিয়ে দেয় এবং মূল্য বাড়াতে সাহায্য করে। বাংলাদেশ সরকার এই পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নানান পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, যেমন বাজারের ওপর নজরদারি বৃদ্ধি এবং রিজার্ভ স্টক তৈরি। তবে, মুদ্রাস্ফীতির ফলে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার মান সঙ্কটাপন্ন হচ্ছে, এবং এটি দেশের অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের জন্য একটা চালেঞ্জ।


পুতিন – জেলেনস্কি – ট্রাম্প ফোনালাপ যুদ্ধ বন্ধে আলোচনা , ইউক্রেনের ন্যাটোর সদস্যপদ আশা অবাস্তব : মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নতুন প্রশাসনের প্রতিনিধি হিসেবে প্রথম ন্যাটো সফরে গিয়ে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ বলেছেন-ইউক্রেনের জন্য ন্যাটোর সদস্যপদ অবাস্তব। রাশিয়ার দখল করা সব অঞ্চল ফিরে পাওয়ার আশা ত্যাগ করে ইউক্রেনের উচিত একটি শান্তিচুক্তির জন্য প্রস্তুত হওয়া। বিশ্লেষকেরা বলছেন, হেগসেথের এই মন্তব্য ইউক্রেন সংকটে মার্কিন নীতিতে বড় ধরনের পরিবর্তনের ইঙ্গিত দিচ্ছে। এদিকে, বুধবার রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কির সঙ্গে ফোনে দীর্ঘ আলাপ করেন ট্রাম্প। তিন বছর পূর্ণ হতে চলা রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে এটা ট্রাম্পের বড় পদক্ষেপ।

বুধবার বিকেলে হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন-আমি মনে করি না যে, ইউক্রেনের ন্যাটোতে যোগ দেওয়া বাস্তবসম্মত হবে। ইউক্রেনের হারানো সব ভূখণ্ড ফিরে পাওয়াটাও অসম্ভব। তিনি ইউক্রেইন যুদ্ধ অবসানে আলোচনা শুরু করার জন্য শীর্ষ মার্কিন কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছেন বলে জানান। ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে শুরু হওয়া ইউক্রেইন যুদ্ধের তিন বছর পূর্তি হবে চলতি মাসে। এই তিন বছরের মধ্যে এই যুদ্ধ অবসানে কোনো শান্তি আলোচনা হয়নি। ট্রাম্পের পূর্বসূরী প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেইন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে পুতিনের সঙ্গে সরাসরি কোনো আলোচনা করেননি বরং কিইভকে শত শত কোটি ডলারের সামরিক ও অন্যান্য সহায়তা পাঠিয়েছেন।

রাশিয়া এ পর্যন্ত ইউক্রেইনের মোট আয়তনের প্রায় এক পঞ্চমাংশ দখল করে নিয়েছে এবং কিইভকের কাছে আরও ভূখণ্ড ছেড়ে দেওয়ার দাবি জানাচ্ছে। যে কোনো শান্তি চুক্তির অধীনে ইউক্রেইনকে স্থায়ীভাবে নিরপেক্ষ থাকতে হবে বলে শর্ত দিয়েছে মস্কো।অপরদিকে ইউক্রেইনের দাবি হচ্ছে, রাশিয়া দখল করে নেওয়া অঞ্চলগুলো থেকে সরে যাবে এবং মস্কোকে আবার হামলা চালানো থেকে বিরত রাখতে কিইভকে নেটোর সদস্যপদ বা এর সমপর্যায়ের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা দিতে হবে।


কোল্ড ওয়ার : ঐতিহাসিক বিজ্ঞান , গুপ্তচরবৃত্তি ও প্রোপাগান্ডার যুদ্ধ

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর কোল্ড ওয়ার (স্নায়ুযুদ্ধ) ছিল শুধু একটি সামরিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা নয়, বরং এটি ছিল একটি অব্যাহত লড়াই, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র (USA) এবং সোভিয়েত ইউনিয়ন (USSR) একে অপরের ওপর প্রভাব বিস্তার করতে বিজ্ঞান, গুপ্তচরবৃত্তি ও প্রোপাগান্ডার যুদ্ধে লিপ্ত ছিল। বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে কোল্ড ওয়ারের প্রথম বড় পরিসরের প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছিল স্পেস রেস। ১৯৫৭ সালে সোভিয়েত ইউনিয়ন প্রথম কৃত্রিম উপগ্রহ স্পুটনিক-১ উৎক্ষেপণ করে, যা যুক্তরাষ্ট্রকে উত্তেজিত করে এবং ফলে ১৯৬৯ সালে অ্যাপোলো ১১ মিশনের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র চাঁদে মানুষ পাঠায়। একই সময়ে, পারমাণবিক অস্ত্রের প্রতিযোগিতা শুরু হয়, যেখানে ১৯৪৯ সালে সোভিয়েতরা প্রথম পারমাণবিক বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চমকে দেয় এবং পরে উভয় দেশই হাইড্রোজেন বোমার (H-bomb) প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়ে যায়।

কোল্ড ওয়ার ছিল তথ্য সংগ্রহ এবং গুপ্তচরবৃত্তিরও এক কঠিন প্রতিযোগিতা। ঈওঅ (USA) এবং কএই (USSR) দুটি ছিল শীর্ষ গুপ্তচর সংস্থা। ব্রিটিশ গোয়েন্দা কর্মকর্তা কিম ফিলবি সোভিয়েতদের ডাবল এজেন্ট হয়ে বহু গোপন তথ্য সরবরাহ করেছিলেন।অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ট-২ স্পাই প্লেন ব্যবহার করে সোভিয়েত ইউনিয়নের ওপর নজরদারি চালায়, কিন্তু ১৯৬০ সালে গ্যারি পাওয়ারসের বিমান ভূপাতিত হলে সম্পর্ক আরও তীব্র হয়ে ওঠে। এছাড়া, আলড্রিচ আমেস (CIA) এবং রবার্ট হ্যানসেন (FBI) দীর্ঘদিন সোভিয়েত ইউনিয়নের পক্ষে কাজ করে যুক্তরাষ্ট্রের গোপন তথ্য ফাঁস করেছিলেন।

কোল্ড ওয়ারের ইতিহাসে প্রোপাগান্ডা ছিল এক শক্তিশালী যুদ্ধ। দুই পরাশক্তি নিজেদের মতবাদ প্রচারের জন্য গণমাধ্যম, সিনেমা, রেডিও ইত্যাদি ব্যবহার করেছিল। যুক্তরাষ্ট্র “Radio Free Europe” এবং “Voice of America” চালু করে সোভিয়েত-শাসিত দেশগুলোতে গণতন্ত্রের বিভিন্ন বার্তা প্রচার করত, আর সোভিয়েত ইউনিয়ন “Radio Moscow”-এর মাধ্যমে সমাজতন্ত্রের প্রচার করত। হলিউডে বহু অ্যান্টি-কমিউনিস্ট সিনেমাগুলো, যেমন “Red Dawn” তৈরি হয়েছিল, যেখানে সোভিয়েতদের শত্রু হিসেবে চিত্রিত করা হতো, এবং সোভিয়েত সিনেমাগুলোতে পশ্চিমা বিশ্বকে ত্রাস এবং সাম্রাজ্যবাদী হিসেবে দেখানো হতো।

কোল্ড ওয়ারের সর্ববৃহৎ বড় মাইলফলক ছিল কিউবা মিসাইল সংকট (১৯৬২), যেখানে সোভিয়েতরা কিউবায় পারমাণবিক মিসাইল স্থাপন করেছিল, যা বিশ্বজুড়ে পরমাণু যুদ্ধের হুমকি তৈরি করেছিল। কোরীয় যুদ্ধ (১৯৫০-১৯৫৩) এবং ভিয়েতনাম যুদ্ধ (১৯৫৫-১৯৭৫) কোল্ড ওয়ারের সামরিক মুখোমুখি হয়েছিল, যেখানে যুক্তরাষ্ট্র কমিউনিজমের বিরুদ্ধে দীর্ঘদিন লড়াই করছিল মানুষ।

আজকের বিশ্বে কোল্ড ওয়ারের মতো “স্পেস রেস” এবং প্রযুক্তি প্রতিযোগিতা চীন, ভারত, এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলছে। সাইবার গুপ্তচরবৃত্তির ক্ষেত্রেও রাশিয়া, চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে তীব্র প্রতিযোগিতা চলছে সমান তালে। সোশ্যাল মিডিয়া এবং ফেক নিউজ প্রোপাগান্ডার আধুনিক অস্ত্র হয়ে উঠেছে, যা বিশ্ব রাজনীতির মতো পরিস্থিতিকেও হুমকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে। এছাড়া, পারমাণবিক অস্ত্রের আধিপত্য প্রদর্শনের জন্য রাশিয়া উত্তর কোরিয়া ও ইরানের মতো দেশগুলো সর্বক্ষণ তৎপর রয়েছে, যা কোল্ড ওয়ারের পরবর্তী মোড় হিসেবেই পরিগণিত হচ্ছে।


বাড়তে থাকা বৈশ্বিক অর্থনৈতিক ঝুঁকি এবং অর্থনীতির সাম্প্রতিক পরিস্থিতি

বাড়তে থাকা বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনঃনির্বাচনের পর দেশটির বাণিজ্য নীতিতে নতুন সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শুরুতেই তার প্রশাসন মেক্সিকো, কানাডা এবং চীনের আমদানির ওপর ২৫% পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং প্রধান শেয়ার সূচকগুলোতে ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিতে এই শুল্ক নীতিগুলো মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত করতে পারে।

ইউক্রেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ক্রমেই বিশ্ব স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। ইউক্রেনে যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত করতে পারে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর প্রভাব ফেলবে। এসব সংঘাত বৈশ্বিক বিনিয়োগের পরিবেশে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে। বড় অর্থনীতির রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় জার্মানি এবং ফ্রান্সের মতো ইউরোপীয় দেশগুলো রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। জার্মানিতে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক দরকষাকষির ফলে নীতিগত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে ফ্রান্সে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক সংস্কারের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ আন্দোলন চলছে। এই পরিস্থিতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পারফরম্যান্সের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।

চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ধীর হয়ে আসছে, যা সাম্প্রতিক শিল্প উৎপাদন এবং ভোক্তা ব্যয়ের ডেটা দ্বারা প্রতিফলিত হয়েছে। বিনিয়োেগনির্ভর অর্থনীতি থেকে ভোক্তানির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের প্রচেষ্টায় নানা বাধার সম্মুখীন হচ্ছে দেশটি। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চীনের বিশাল প্রভাব থাকায় দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলো এখনও বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। যদিও বৈশ্বিক অর্থনীতি কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়েছে, কিন্তু অনেক উন্নয়নশীল দেশ উচ্চ ঋণ, সীমিত টিকা সরবরাহ এবং কাঠামোগত অর্থনৈতিক দুর্বলতার কারণে সংকট কাটিয়ে উঠতে পারছে না। বিশ্ব ব্যাংকের মতে, এসব দেশ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সুযোগ থেকে পিছিয়ে পড়ছে, যা বিশ্বব্যাপী বৈষম্য আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং টেকসই উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে।


মানুষ সবচেয়ে ভালো বোধ করে সকালে , খারাপ মধ্যরাতে

দিনের প্রথম প্রহরে বেশিরভাগ মানুষই নিজেদের সেরা অনুভূতি পান, ফলে সকালের সবকিছুই তাদের কাছে আরও ভালো মনে হয় বলে উঠে এসেছে সাম্প্রতিক এক গবেষণায়। ‘ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন’ বা ইউসিএল-এর ‘কোভিড-১৯ সোশাল স্টাডি’র তথ্য ব্যবহার করে গবেষণায় দেখা গেছে, শীতের মাসগুলোর চেয়ে গ্রীষ্মকালে বেশি সুখী বোধ করেন মানুষ। ২০২০ সালের মার্চ থেকে ২০২২ সালের মার্চ পর‍্যন্ত ৪৯ হাজার ২১৮ জন প্রাপ্তবয়স্কের ওপর চালানো এ জরিপের তথ্য ব্যবহার করে গবেষকরা বলছেন, মানুষ সাধারণত ‘সবচেয়ে ভালো বোধ করেন’ যখন ঘুম থেকে ওঠেন। আর ‘সবচেয়ে খারাপ বোধ’ করেন মধ্যরাতে।

গবেষকরা বলেছেন, দিনভর মানসিক স্বাস্থ্য ও সুস্থতার বিভিন্ন পরিবর্তন দেহের সঙ্গে সম্পর্কিত শারীরবৃত্তীয় নানা পরিবর্তনের মাধ্যমেও ব্যাখ্যা করা যেতে পারে। গবেষণাপত্রে গবেষকরা লিখেছেন, “ঘুম থেকে ওঠার পরপরই সর্বোচ্চ স্তরে পৌঁছায় দেহের কর্টিসল হরমোন এবং ঘুমাতে যাওয়ার সময় একেবারে নীচে নেমে আসে এটি। মানুষের মেজাজ, অনুপ্রেরণা ও ভয় নিয়ন্ত্রণ করে কর্টিসল।” গবেষণাটি প্রকাশ পেয়েছে বিজ্ঞানভিত্তিক জার্নাল ‘বিএমজে মেন্টাল হেলথ’ এ।


শখ এবং সৃজনশীলতার মিলনে জীবন হয়ে উঠুক এক চমকপ্রদ যাত্রা !

মানুষের জীবনে শখ এবং সৃজনশীলতা অমূল্য সম্পদ, যা তাকে সাধারণ জীবনযাত্রা থেকে বের করে এনে নতুন একটি দিগন্তের দিকে নিয়ে যায়। প্রতিদিনের রুটিনের মাঝেও শখ এবং সৃজনশীলতার অনুশীলন আমাদের জীবনকে করে তোলে আরো মধুর, প্রশান্তিপূর্ণ এবং গতিশীল। কিন্তু বাস্তবে আমরা কীভাবে শখের প্রতি আগ্রহ এবং সৃজনশীলতার চর্চাকে আমাদের জীবনে বাস্তবের সঙ্গে মিলিয়ে অন্তর্ভুক্ত করতে পারি? শখ শুধু সময় কাটানোর উপায় নয়, এটি আমাদের আধ্যাত্মিক শান্তি এবং মনোবল বৃদ্ধির একটি অসাধারণ মাধ্যম। আমাদের জীবনযাত্রায় যখন চাপ, উদ্বেগ বা তীব্র চাপের মধ্যে থাকি, তখন শখের সাথে সময় কাটানো আমাদের মানসিক শান্তি ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করে। একজন গীতিকার যখন গান লেখেন, বা একজন চিত্রশিল্পী যখন ছবি আঁকেন, তারা শুধু শিল্প নয়, নিজেদের অনুভূতিও তুলে ধরেন। এমনকি যারা বাগান করা, রান্না, বা পত্রিকা সংগ্রহে আগ্রহী, তাদের জন্যও শখ হচ্ছে এক ধরনের প্রশান্তি যা বাস্তব জীবনের দৈনন্দিন যান্ত্রিকতা থেকে বিরতি দেয়।

অপরদিকে সৃজনশীলতা শুধু শিল্পের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; এটি জীবনের প্রতিটি দিকেই প্রভাব ফেলে। আজকাল অনেকেই ঘরেই নানা ধরনের সৃজনশীল কাজ করছেন – অনলাইন ব্লগ লেখার থেকে শুরু করে হ্যান্ডমেড জুয়েলারি তৈরী করা কিংবা ফটোগ্রাফি। এসব কাজ
আমাদের নিজস্ব দক্ষতা ও শখের মাধ্যমে সৃজনশীলতা প্রকাশ করার সুযোগ দেয়, যার ফলে আমরা বুঝতে পারি, প্রতিটি মানুষের মধ্যে এক বিশাল সৃজনশীল শক্তি লুকিয়ে থাকে। বিশ্বব্যাপী ট্রেন্ডগুলোও ইঙ্গিত দেয় যে, শখ ও সৃজনশীলতা বর্তমান যুগের একটি মূল অঙ্গ। উদাহরণস্বরূপ, ইউটিউব বা ইনস্টাগ্রামে যারা ক্রিয়েটিভকনটেন্ট তৈরি করছেন, তারা শুধুমাত্র বিনোদনই দিচ্ছেন না, একই সঙ্গে জীবনের বিভিন্ন দিকের প্রতি মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধি করছেন। সৃজনশীলতা মানুষকে এক নতুনভাবে চিন্তা করতে শেখায় এবং এটি আমাদের পেশাগত জীবনেও দারুণ প্রভাব ফেলে।

বর্তমান সময়ের পরিপেক্ষিতে বাস্তবের সঙ্গে মিলিয়ে শখের চর্চা করতে পারা অনেক কঠিন। আমরা কীভাবে আমাদের শখ এবং সৃজনশীলতাকে বাস্তব জীবনের মধ্যে একত্রিত করতে পারি, এটি একটি প্রশ্ন। প্রথমত, এটি শুরু হয় নিজের ইচ্ছাশক্তি এবং আগ্রহের দিকে মনোযোগ দিয়ে। শখের মাধ্যমে সৃজনশীলতার দিকে এক পা এগিয়ে যাওয়ার প্রথম ধাপ হলো নিজের মনের আকাঙ্ক্ষাকে চিহ্নিত করা। যেমন ধরুন, আপনি যদি লেখালেখি ভালোবাসেন, তাহলে একটি ব্লগ শুরু করতে পারেন। আপনার এই শখের মাধ্যমে অন্যদের জন্য নতুন কিছু সৃষ্টি করার পাশাপাশি আপনি নিজেও মানসিক শান্তি এবং আত্মবিশ্বাস লাভ করবেন।

অন্যদিকে, আপনার শখ যদি রান্না বা ফটোগ্রাফি হয়, তবে তা শুধু পারিবারিক বা বন্ধুদের জন্য হতে পারে না; আপনি সেগুলোকে পরবর্তীতে সামাজিক মাধ্যমে শেয়ার করতে পারেন, বা এমনকি ছোট ব্যবসা শুরু করতে পারেন। বাস্তব জীবনের প্রয়োজনের সাথে শখের এই সংমিশ্রণ আমাদের জীবনকে আরও অর্থপূর্ণ এবং সফল করতে পারে। শখ এবং সৃজনশীলতা যখন আমাদের জীবনের অংশ হয়ে ওঠে, তখন জীবন হয়ে ওঠে আরও গতিশীল, আরও উদ্দীপ্ত। এটি আমাদের মানসিকভাবে বিকশিত হতে সাহায্য করে, আমাদের দৈনন্দিন কাজের মধ্যে আনন্দ যোগ করে, এবং কখনও কখনও এটি একটি নতুন পেশা, অথবা জীবনধারায়ও রূপ নেয়।

সবশেষে, জীবনটা এক সীমাহীন ক্যানভাস, এবং শখ এবং সৃজনশীলতা হচ্ছে সেই রঙ, যা আমাদের সেই ক্যানভাসকে জীবন্ত এবং সুন্দর করে তোলে। তাই, দিনশেষে, শখ ও সৃজনশীলতা স্রেফ সময় কাটানোর উপায় নয়, এটি একটি জীবনযাত্রার ধরন, যা আমাদের সঙ্গী হয় প্রতিদিন, প্রতিক্ষণ।




শশী থারুর : শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্যগুলো জটিলতা তৈরি করেছে

ভারতের কংগ্রেসের সিনিয়র নেতা ও পার্লামেন্ট মেম্বার শশী থারুর বলেছেন, ‘ভারতের উচিত এটা বুঝিয়ে দেওয়া যে তারা কোনো নির্দিষ্ট দল বা গোষ্ঠীর চেয়ে সকল বাংলাদেশির কল্যাণের প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’ তিনি আরও বলেছেন, ‘বাংলাদেশের ঘটনাগুলো সম্পর্কে ভারতকে খুব সতর্ক থাকতে হবে।’ নয়াদিল্লিতে গতকাল ফরেন করেসপন্ডেন্টস ক্লাবে একটি বইয়ের মোড়ক উন্মোচনের পর গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে এসব কথা বলেন তিনি। শশী থারুর বলেন, ‘একটি নির্দিষ্ট দেশ কে শাসন করবে, আপনি তা ঠিক করতে পারেন না। আপনাকে তাদের সঙ্গে কাজ করতে শিখতে হবে এবং এটাই আমাদের করতে হবে।’

বাংলাদেশের বর্তমান পরিস্থিতি সম্পর্কে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি বাংলাদেশে যা ঘটছে তা আমাদের নিবিড়ভাবে সাবধানতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করতে হবে, যেহেতু তাদের অবস্থান আমাদের পাশেই।’ ‘আমি মনে করি না বাংলাদেশের বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে শত্রুভাবাপন্ন বলা যায়। তবে একইসঙ্গে কিছু সতর্কতাও বজায় রাখতে হবে,’ যোগ করেন তিনি। তবে, শেখ হাসিনার সাম্প্রতিক বক্তব্য পরিস্থিতি ‘জটিল’ করে তুলেছে বলেও স্বীকার করেন শশী থারুর।

এই রাজনীতিবিদ বাংলাদেশের ক্ষেত্রে ভারতের পররাষ্ট্রনীতির বিষয়ে দুটি ‘মূল মাপকাঠি’ উল্লেখ করে বলেন, ‘আমি দুটো বিষয়ের ওপর জোর দেবো। আমাদের এমন কিছু প্রকাশ্যে বা গোপনে করা উচিত নয় যা বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপের ইঙ্গিত দেয়।’ ‘দ্বিতীয়ত, আমাদের জনগণের স্বার্থ বাংলাদেশের জনগণের মঙ্গলকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া উচিত,’ বলেন তিনি।