Home Blog Page 201

আধুনিক জীবনের জন্য সরলতার সমাধান

আজকালকার তাগিদে থাকা জীবনে, যেখানে আমাদের উপর চাপ ও দুশ্চিন্তার পাহাড় জমে থাকে, সেখানে মিনিমালিজম, অথবা সরলীকরণ হতে পারে বিশাল মানসিক শান্তি। আমরা প্রায়ই অতিরিক্ত বস্তু, দায়িত্ব, চিন্তা এবং সম্পর্কের মধ্যে জড়িয়ে পড়ি, যেট মানসিক শান্তি নষ্ট করে। তবে যদি আমরা এসব কিছু সরিয়ে শুধু গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোর দিকে মনোযোগ দিই, তবে জীবন অনেক বেশি সহজ হতে পারে। ধরা যাক, আপনার ঘর বা অফিসে অগোছালো জিনিসপত্র রয়েছে-যেমন, পুরানো কাগজ, অব্যবহৃত জিনিস। এগুলো মনে অস্থিরতা সৃষ্টি করে, এবং কাজের প্রতি মনোযোগ দিতে সমস্যা হয়। তবে যদি আপনি শুধু প্রয়োজনীয় জিনিস রাখেন, যেমন একটি আরামদায়ক বিছানা, সুশৃঙ্খল ডেস্ক, এবং আপনার পছন্দের বই, তখন সহজে মনও পরিষ্কার হয়ে যাবে। এমনটা যদি প্রতিদিনের অভ্যাস হয়, তবে আপনার কাজও আরও সহজ হয়ে উঠবে।

কর্মক্ষেত্রে আপনি হয়তো কাজের চাপের মধ্যে আছেন, এখানে মিনিমালিজম এমনভাবে কাজ করতে পারে যে, আপনি নির্দিষ্ট এবং গুরুত্বপূর্ণ কাজগুলিতে মনোযোগ দেবেন। ধরুন, প্রতিদিন ছোট ছোট কাজের তালিকা তৈরি করা আপনাকে অপ্রয়োজনীয় চাপ থেকে মুক্ত রাখবে। কোনো কাজের মধ্যে সময় নষ্ট না করে, কেবল প্রয়োজনীয় দায়িত্বগুলো মেনে চললে আপনি আরও সফল এবং কম চাপ অনুভব করবেন। মিনিমালিজম শুধু জিনিসপত্র বা কাজের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, এটি সম্পর্কেও প্রভাব ফেলে। আজকাল, সম্পর্কের মধ্যে অনেক সময় কৃত্রিমতার সৃষ্টি হয়। আমরা অতিরিক্ত চাহিদা, দৃষ্টিভঙ্গি বা অভিযোগে নিজেদের জড়িয়ে ফেলি, যা সম্পর্কের মাঝে অস্থিরতা তৈরি করে। তবে, যদি আমরা সম্পর্কগুলোর মধ্যে শুধুমাত্র ভালোবাসা, সময় এবং সমর্থনকে গুরুত্ব দিই, তাহলে আমাদের পারিবারিক জীবন সহজ এবং সুখময় হয়ে উঠবে।

মিনিমালিজম মানে শুধুমাত্র বস্তু সরানোও নয়, এটি চিন্তা এবং মানসিক চাপ থেকেও মুক্তি পাওয়া। এভাবে, মিনিমালিজম আমাদের জীবনকে সহজ এবং শান্তিপূর্ণ করতে সাহায্য করে। এটি আমাদের প্রতিদিনের ব্যস্ততা ও চাপ থেকে মুক্তি দেয় এবং আমাদের বাস্তবিক জীবনকে আরও সন্তুষ্টিপূর্ণ করে তোলে।



আপনার জীবনেও কি সংখ্যার প্রভাব আছে ?

Numerology বা সংখ্যাতত্ত্ব হলো একটি ছদ্মবিজ্ঞান, যেখানে সংখ্যা ও জ্যোতিষীয় ব্যাখ্যার মাধ্যমে মানুষের জীবন ও ব্যক্তিত্ব বিশ্লেষণ করা হয়। এটি বহু প্রাচীন সভ্যতার অংশ, যেখানে সংখ্যা বিশেষ অর্থ বহন করে বলে বিশ্বাস করা হতো। সংখ্যাতত্ত্বের শিকড় বহু প্রাচীন কালে প্রোথিত। গ্রিক দার্শনিক পিথাগোরাস বিশ্বাস করতেন, সংখ্যাগুলো বিশ্বজগতের মূল কাঠামো নির্ধারণ করে। ভারতে বৈদিক জ্যোতিষশাস্ত্র সংখ্যার ব্যবহার দেখা যায়। চীনে ৮ সংখ্যাকে সৌভাগ্যের প্রতীক ধরা হয়, এবং মধ্যযুগে ইউরোপে ক্যাবালিস্টিক সংখ্যাতত্ত্বের প্রসার ঘটে।

প্রাচীন সভ্যতাগুলো বিভিন্ন সংখ্যাকে বিভিন্ন অর্থে ব্যবহার করত। যেমন- এককে ভাবা হতো নেতৃত্ব, স্বাধীনতা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। দুইকে ভারসাম্য, কূটনীতি ও সহযোগিতার প্রতীক। তিনকে সৃজনশীলতা, আনন্দ ও সামাজিকতার প্রতীক। সাত আধ্যাত্মিকতা, অন্তর্দৃষ্টি ও জ্ঞানার্জনের প্রতীক। নয় পূর্ণতা, মানবিকতা ও বিশ্বসেবার প্রতীক। সংখ্যাতত্ত্ব কোনো স্বীকৃত বিজ্ঞান নয়। মানুষের মস্তিষ্ক প্যাটার্ন খোঁজার স্বভাবের কারণে এটিকে বিশ্বাসযোগ্য মনে হয়। বিজ্ঞান অনুসারে, সংখ্যার কোনো বাস্তবিক প্রভাব নেই এবং এটি কাকতালীয় মাত্র। আধুনিক গবেষণা দেখিয়েছে যে সংখ্যাতত্ত্বের ভবিষ্যদ্বাণীগুলো সাধারণত অস্পষ্ট ও ব্যাখ্যার জন্য উন্মুক্ত থাকে, যা সহজেই ব্যক্তিগত জীবনের সঙ্গে মেলানো যায়।

এরকম কিছু উদাহরণ হচ্ছে-
লাইফ পাথ নাম্বার – জন্ম তারিখের সংখ্যা যোগ করে ব্যক্তিত্ব নির্ধারণ করা হয়।
এঞ্জেল নাম্বার – যেমন ১১:১১ বা ৭৭৭ সংখ্যা সৌভাগ্যের
প্রতীক বলে গণ্য হয়।
ক্যারিয়ার ও প্রেম – অনেকে বিশ্বাস করেন সংখ্যার মাধ্যমে পেশা ও সম্পর্কেরও ভবিষ্যৎ নির্ধারণ সম্ভব!
ব্যবসা ও ব্র্যান্ডিং – অনেক কোম্পানি তাদের ব্র্যান্ড নাম
ও লোগো ডিজাইনে সংখ্যার ব্যবহার করে, যেমন ৮ সংখ্যাটিকে আর্থিক সফলতার প্রতীক হিসেবে গণ্য করা হয়।

সংখ্যাতত্ত্ব নিয়ে অনেক বিতর্ক আছে। এর কার্যকারিতা বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়। এটি মূলত ব্যক্তিগত বিশ্বাস ও অভিজ্ঞতার ওপর নির্ভরশীল। অনেক সমালোচক এটিকে প্লেসিবো ইফেক্টের উদাহরণ হিসেবে বিবেচনা করেন, যেখানে বিশ্বাসের কারণে মানুষ ইতিবাচক ফলাফল অনুভব করে।

মালয়েশিয়া পাবলিক প্রটেস্টের আইন শিথিল করতে যাচ্ছে

মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম পার্লামেন্টে ঘোষণা করেছেন যে, পিসফুল অ্যাসেম্বলি অ্যাক্টের যে ধারা অনুযায়ী সংগঠকদের আগে স্থানীয় মালিকদের কাছ থেকে অনুমতি নিতে হতো, তা এখন থেকে উঠিয়ে দেওয়া হবে। নতুন নিয়ম অনুসারে, সমাবেশ আয়োজনের জন্য শুধুমাত্র পুলিশকে ৫ দিন আগে নোটিফিকেশন দিতে হবে। প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই পরিবর্তনটি নিরাপত্তা, জনসমাগম নিয়ন্ত্রণ এবং ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করার জন্য করা হচ্ছে।

পুলিশ সাধারণত এই নিয়মটিকে ব্যবহার করে প্রতিবাদ এবং সমাবেশ আটকানোর চেষ্টা করত। স্থানীয় মালিকরা যদি সমাবেশের অনুমতি না দিতেন, তবে পুলিশ সেই সমাবেশকে অবৈধ ঘোষণা করত। তবে নতুন নিয়মে, অনুমতি নেওয়ার কোনো বাধ্যবাধকতা নেই, যা বিরোধী রাজনৈতিক দল এবং এনজিওগুলোর জন্য একটি বড় জয় হিসেবে দেখা হচ্ছে। তবে, অস্ত্রসহ সমাবেশ এবং শিশুদের নিয়ে সমাবেশ এখনও নিষিদ্ধ থাকবে, এবং নিরাপত্তাজনিত কারণে কিছু স্থান ব্যবহার করার অনুমতি দেওয়া হবে না।

এছাড়া, প্রধানমন্ত্রী আরও জানিয়েছেন যে, তার সরকারের অধীনে ২০২২ সাল থেকে প্রতিবাদের আবেদনগুলো প্রায়ই অনুমোদিত হয়েছে, তবে গত মাসে কুয়ালালামপুরে একটি ছাত্র নেতৃত্বাধীন গ্রুপ দুর্নীতির বিরুদ্ধে সমাবেশ করার জন্য পুলিশের সঙ্গে তীব্র বাকযুদ্ধের মধ্যে পড়ে। যদিও প্রতিবাদটি শেষ পর্যন্ত আয়োজিত হয়েছিল, তবে পুলিশের পক্ষ থেকে প্রতিবাদকারীদের বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু হয়েছিল, যা আনোয়ার নিশ্চিত করেছেন যে, তা এখন বন্ধ করা হবে।

এই আইনের পরিবর্তনটি দীর্ঘদিন ধরে মালয়েশিয়ায় প্রতিবাদকারীদের এবং রাজনৈতিক দলের জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ ছিল। ২০১২ সালে, একটি বড় সমাবেশে পুলিশের জলক্যানন এবং কাঁদানে গ্যাস ব্যবহারের ঘটনাও ঘটেছিল, যখন জনগণ স্বচ্ছ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবি জানিয়েছিল। বর্তমানে, ফাহমি রেজা, একজন কার্টুনিস্ট এবং সমাজকর্মী, নতুন আইনের পরিবর্তনকে ছাত্রদের এবং জনগণের জয় হিসেবে উদযাপন করেছেন, যাদের সংগ্রাম ছিল সমাবেশের স্বাধীনতা এবং প্রতিবাদ চালিয়ে যাওয়ার।

মোবাইলে প্রতিদিন সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা লেনদেন

দেশে মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে প্রতিদিন গড়ে সাড়ে ৫ হাজার কোটি টাকা লেনদেন হচ্ছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ ব্যাংক। যা অতীতের সব রেকর্ড ভেঙে দিয়েছৈ। বুধবার বাংলাদেশ ব্যাংক প্রকাশিত হালনাগাদ তথ্যে জানানো হয়, গত ডিসেম্বরে মোবাইলে ১ লাখ ৬৪ হাজার ৭৪০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে। প্রতিদিনের গড় হিসাবে যা ৫ হাজার ৪৯১ কোটি টাকা। একক মাস বা এক দিনের হিসাবে এই লেনদেন সবচেয়ে বেশি; দেশে মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) চালুর পর এত বেশি লেনদেন আর কোনও মাসেই হয়নি।

কেবল টাকা পাঠানোতেই নয়, দেশের অর্থনীতিতেও গতি সঞ্চার করেছে মোবাইল ব্যাংকিং। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানির বিল অর্থাৎ সেবামূল্য পরিশোধ, বেতন-ভাতা প্রদান, বিদেশ থেকে টাকা পাঠানো অর্থাৎ প্রবাসী-আয় বা রেমিট্যান্স পাঠানোর ক্ষেত্রে মোবাইল ব্যাংকিং সেবা এখন অন্যতম পছন্দের মাধ্যম। এই সেবার কারণে বেড়েছে নতুন কর্মসংস্থান। বাংলাদেশে মোবাইলের মাধ্যমে আর্থিক সেবার যাত্রা শুরু হয় ২০১১ সালের ৩১ মার্চ। বেসরকারি খাতের ডাচ্-বাংলা ব্যাংক প্রথম এ সেবা চালু করে। পরে এটির নাম বদলে হয় রকেট। এরপর ব্র্যাক ব্যাংকের সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে এমএফএস সেবা চালু করে বিকাশ।পরবর্তী সময়ে আরও অনেক ব্যাংক এ সেবায় এসেছে। বর্তমানে বিকাশ, রকেটের পাশাপাশি মাই ক্যাশ, এম ক্যাশ, উপায়, শিওর ক্যাশসহ ১৫টি ব্যাংক এ সেবা দিচ্ছে। এর বাইরে ডাক বিভাগের নগদও দিচ্ছে এই সেবা।

নগর জীবনের পরিবেশগত স্থায়িত্ব রক্ষায় , পুনঃব্যবহার এবং পুনঃচক্রের গুরুত্ব

নগর জীবন নানা দিক থেকে দ্রুত বদলাচ্ছে। বাড়ছে জনসংখ্যা, শিল্পায়ন এবং আধুনিকতার চাহিদা, কিন্তু এর সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে পরিবেশগত সংকট। বর্জ্য, দূষণ এবং প্রাকৃতিক সম্পদের অযথা ব্যবহার নগরবাসীর জন্য একটি বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। এই পরিস্থিতিতে, পুনঃব্যবহার এবং রিসাইক্লিং পরিবেশগত স্থায়িত্ব অর্জনের জন্য অপরিহার্য পদক্ষেপ হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে।পুনঃব্যবহার হলো একবার ব্যবহৃত বস্তু নতুন করে ব্যবহার করা। যেমন পুরনো কাপড় দিয়ে নতুন পণ্য তৈরি করা বা পুরনো বোতল ব্যবহার করা। আর রিসাইক্লিং, ব্যবহৃত বস্তু থেকে নতুন কিছু তৈরি করার প্রক্রিয়া, যেমন কাচ, কাগজ, প্লাস্টিক বা ধাতু পুনঃচক্রণ করে নতুন পণ্য উৎপাদন। এই পদ্ধতিগুলো পরিবেশকে রক্ষা করতে এবং খরচ কমাতে বিশেষভাবে কার্যকর।

ঢাকা শহরে বর্জ্য ব্যবস্থাপনা এখন একটি ভয়াবহ সমস্যা। এখানে প্রতিদিন প্রায় ৭,০০০ টন বর্জ্য উৎপন্ন হয়। এগুলো সঠিকভাবে রিসাইক্লিং বা পুনঃব্যবহার করা হয় না। এটিও পরিবেশে বিপর্যয় সৃষ্টি করার জন্য দায়ী। অথচ, পৃথিবীর জার্মানি, ব্রাজিল, কানাডা সহ অনেক দেশ শিল্প প্রতিষ্টানে রিসাইক্লিং পণ্য তৈরি করে। যেমন সিঙ্গাপুর, পুনঃচক্রণ ব্যবস্থায় সফলতা অর্জন করেছে এবং তাদের বর্জ্যের ৬৫%-এরও বেশি রিসাইক্লিং হচ্ছে। পুনঃব্যবহার এবং রিসাইক্লিংর মাধ্যমে বর্জ্য কমানো সম্ভব। ঢাকার মতো নগরে, যেখানে বর্জ্যের পরিমাণ বিপুল, পুনঃচক্রণের মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণে আনা যেতে পারে।

এই উদ্যোগগুলোর মাধ্যমে প্রাকৃতিক সম্পদের অপচয় রোধ করা যায়। কাগজ, প্লাস্টিক বা কাচ রিসাইক্লিং হলে গাছ কাটা, খনিজ ও অন্যান্য প্রাকৃতিক সম্পদের ব্যবহার কমে যাবে। পুনঃচক্রণ প্রকল্পের মাধ্যমে নতুন কর্মসংস্থানেরও সৃষ্টি হতে পারে, এটি অর্থনীতির জন্যও গুরুত্বপূর্ণ। এই প্রকল্পগুলো কর্মমুখী এবং সাশ্রয়ী। নগরে দূষণ কমাতে ও পরিবেশগত স্থায়িত্ব অর্জন করতে পুনঃব্যবহার এবং রিসাইক্লিংয়ের গুরুত্ব অনেক। বর্জ্য কমানো, প্রাকৃতিক সম্পদের সাশ্রয়, এবং নগরের অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলার জন্য এই পদক্ষেপগুলো অপরিহার্য। আমাদের সচেতনতা, প্রচেষ্টা এবং উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা একটি সুন্দর এবং স্থায়ী পরিবেশ নিশ্চিত করতে পারি, যেটি উন্নত জীবনযাত্রার পথ সুগম করবে।


দ্য ন্যাশনালকে প্রধান উপদেষ্টা ড. ইউনূস : ডিসেম্বরে নির্বাচন , সংস্কারে লাগবে তিন মাস

আগামী ডিসেম্বরে জাতীয় নির্বাচনের আশা করছেন বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্ট সামিটে অংশগ্রহণের জন্য দুবাই সফরে থাকা প্রধান উপদেষ্টা বৃহস্পতিবার সংযুক্ত আরব আমিরাতভিত্তিক সংবাদমাধ্যম দ্য ন্যাশনালকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে এ কথা বলেছেন। দেশে বিভিন্ন খাতে সংস্কারের জন্য ১৫টি কমিশন গঠন এবং সেগুলোর প্রতিবেদন এখন আসতে শুরু করেছে বলে উল্লেখ করেন প্রধান উপদেষ্টা। এসব কমিশনের সুপারিশ নিয়ে ঐকমত্য তৈরিতে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন গঠনের কথাও তুলে ধরেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা এসব সুপারিশ নিয়ে এখন রাজনৈতিক দলগুলো ও সুশীল সমাজের কাছে জানতে চাইব যে আপনারা এখন কোনটা বাস্তবায়ন করতে চান আর কোনটা আপনারা ভবিষ্যতে বাস্তবায়ন করতে চান এবং কোনটা একেবারেই বাস্তবায়ন করতে চান না।’

এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলো ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিরা যে মতামত দেবেন, তার ভিত্তিতে সামনে এগিয়ে যাবেন বলে জানান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস। তিনি বলেন, এর ভিত্তিতে ডিসেম্বর নাগাদ নির্বাচন অনুষ্ঠানের আশা করছেন। এরপর আরও কিছু সংস্কারের জন্য সময় নেওয়া হলে সেটা আগামী বছরের তিন মাস হতে পারে। ‘এটা আমাদের সরকারের সময়সীমা। এরপর ১৬ বছরের মধ্যে একটি যথাযথ নির্বাচন-একটি বিশ্বাসযোগ্য, দৃশ্যমান ও স্বচ্ছ নির্বাচন অনুষ্ঠান করে আমরা সন্তুষ্ট হব। জনগণ এটা উদ্যাপন করবে এবং আমাদের দায়িত্ব শেষ হবে।’

এর আগে দুবাইয়ে ওয়ার্ল্ড গভর্নমেন্ট সামিটের এক অধিবেশনে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, তাঁর ওপর অর্পিত দায়িত্ব যখন সম্পন্ন হবে, তখন সরে গিয়ে তিনি খুশি হবেন। অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস সেখানে বলেন, ‘এখন আমাদের একটি ঐকমত্য গঠনের কমিশন হয়েছে, যারা সব পক্ষের মতৈক্যের সুপারিশগুলো বের করে আনবে। সেসব সুপারিশ নিয়ে একটি সনদ হবে। এই সনদ সামনে রেখে চলতি বছরের ডিসেম্বরে একটি নির্বাচন হবে। যখন আমার দায়িত্ব শেষ হবে, আমি নির্বাচিত সরকারের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তর করব।’ দ্য ন্যাশনালকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা সরকারের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের শান্তি এড়ানোর সুযোগ দেবেন না। সাবেক প্রধানমন্ত্রী এবং তাঁর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তাদের খুঁজে বের করে দেশে ফিরিয়ে আনা হবে, যাতে তাঁরা আইনের মুখোমুখি হন।

অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আমরা ভারতকে নোটিশ পাঠিয়েছি যে শেখ হাসিনাকে প্রত্যর্পণ করতে হবে-মানবাধিকারবিষয়ক জাতিসংঘের হাইকমিশনারের প্রতিবেদনসহ আমাদের কাছে বহু তথ্যপ্রমাণ আছে। তারা যা কিছু করেছে, সেগুলোর সাক্ষ্য এটা।’ প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা ইতিমধ্যে আইনি প্রক্রিয়া শুরু করেছি। তাই আমরা আশা করছি, আইনি প্রক্রিয়া অব্যাহত থাকবে এবং আমরা তাঁকে বিচারের আওতায় আনব। এটা করতে হবে, না হলে মানুষ আমাদের ক্ষমা করবে না।’


ভালোবাসা দিবসে বাণিজ্য , যুক্তরাষ্ট্রে ৩ লাখ ৩৫ হাজার কোটি টাকার উপহার বিক্রি হবে

ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে এবার ২ হাজার ৭৫০ কোটি মার্কিন ডলারের উপহারসামগ্রী বেচাকেনা হবে, বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩ লাখ ৩৫ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। প্রিয়জনকে ফুল, গয়না, চকলেটসহ বিভিন্ন ধরনের উপহারসামগ্রী দিতে এই বিপুল পরিমাণ অর্থ খরচ করবেন যুক্তরাষ্ট্রে বসবাসকারীরা। ওই দেশের ৫৬ শতাংশ ভোক্তা ভালোবাসা দিবস উদ্‌ যাপনের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। এই দিবসে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিটি পরিবারের গড়ে ১৮৮ ডলার ৮১ সেন্ট খরচ হবে।

যুক্তরাষ্ট্রের ন্যাশনাল রিটেইল ফেডারেশন (এনআরএফ) ভালোবাসা দিবসের অর্থনীতির এ বছরের বাজার নিয়ে এই প্রাক্কলন করেছে। ইউএস চেম্বার অব কমার্সের ওয়েবসাইটেও এই তথ্য প্রকাশ করা হয়েছে। ভালোবাসা দিবসে শুধু প্রিয়জনকে নয়, কুকুর-বিড়ালের মতো প্রিয় প্রাণীকেও উপহার দেন যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরা। যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাপিটাল ওয়ান শপিংয়ের প্রতিবেদন অনুসারে, গত বছর ভালোবাসা দিবসে যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিকেরা পোষা প্রাণীকে উপহার দিতে ১৫০ কোটি ডলার খরচ করেছেন, যা বাংলাদেশি মুদ্রায় প্রায় সাড়ে ১৮ হাজার কোটি টাকা। ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে রেস্তোরাঁর ব্যবসাও বেশ জমজমাট থাকে। প্রিয়জনকে নিয়ে রেস্তোরাঁয় খাবার খেতে যান অনেকে।

‘ ভয়কে ‘ কেন ভয় পাচ্ছেন ! The Little Albert Experiment

The Little Albert Experiment হচ্ছে প্রতিক্রিয়া ও ভয় শেখার মনোবিজ্ঞান!’ গবেষণাটি পরিচালনা করেন বিখ্যাত আমেরিকান মনোবিজ্ঞানী জন বি. ওয়াটসন এবং তাঁর সহকারী রোজালি রেনার। ওয়াটসন ছিলেন বিহেভিয়রিজম তত্ত্বের অন্যতম প্রবক্তা, যিনি বিশ্বাস করতেন যে মানুষের আচরণ মূলত পরিবেশ দ্বারাই নিয়ন্ত্রিত হয়। এই গবেষণার মূল লক্ষ্য ছিল ভয় শেখানো আসলেই সম্ভব কি না তা নির্ধারণ করা। ওয়াটসনের ধারণা ছিল যে আবেগ ও প্রতিক্রিয়া শেখানো যেতে পারে এবং এগুলো শারীরিক বা পরিবেশগত উদ্দীপনারই ফসল।

পরীক্ষাটি করা হয় কয়েকটি ধাপে। প্রথম পরীক্ষা ছিলো শিশুর সাথে নির্দোষ বস্তু ও প্রাণীর পরিচয় করিয়ে দেওয়া। নয় মাস বয়সী শিশু যাকে “লিটল আলবার্ট নামে ডাকা হতো, তার সামনে একে একে বিভিন্ন বস্তু ও প্রাণী রাখা হয়। যেমন, সাদা ইঁদুর, খরগোশ, বানর, সাদা পশমি কাপড়, আগুন ও মুখোশ। শুরুতে শিশুটি এসবের প্রতি কোনো ভয় প্রকাশ করেনি, বরং কৌতূহল দেখিয়েছে। এবার ভয় সৃষ্টির প্রক্রিয়া! প্রথমে আলবার্ট যখন সাদা ইঁদুরের সঙ্গে খেলা করছিল, তখন বিজ্ঞানীরা একটি লোহার রডে হাতুড়ি দিয়ে জোরে জোরে শব্দ করলেন। শিশুটি চমকে উঠল ও কান্না শুরু করল। এই পদ্ধতিটি বারবার পুনরাবৃত্তি করা হয়, প্রতিবারই ইঁদুরের সঙ্গে সেই জোরালো শব্দ সৃষ্টি করা হয়।

ধীরে ধীরে শিশুটি শুধুমাত্র ইঁদুর দেখলেই ভয় পেতে শুরু করল, এমনকি শব্দ ছাড়াই! এর প্রভাবে দেখা যায়, শিশুটি পরবর্তীতে শুধু সাদা ইঁদুর নয়, অন্যান্য সাদা বা পশমি জিনিস দেখলেও ভয় পায়! সাদা খরগোশ, সাদা কুকুর, পশমি কোট, এমনকি সান্তা ক্লজের দাড়ি দেখেও ভয় ও কান্নার প্রতিক্রিয়া দেখায়। গবেষণার ফলাফল ছিলো ভয় যে শেখানো সম্ভব এবং এটি পরিবেশ দ্বারাই তৈরি হতে পারে, এর প্রমাণ। গবেষণাটি মনোবিজ্ঞানে বিহেভিয়রিজম তত্ত্বকে জনপ্রিয় করে তোলে ও আধুনিক ফোবিয়া নিরাময় থেরাপি (Exposure Therapy) ও আচরণগত থেরাপির ভিত্তি তৈরি করে।

এই পরীক্ষা নিয়ে সমালোচনা ও বিতর্কও অনেক। এতে করে যে আলবার্ট শিশুটির মানসিক স্বাস্থ্য ক্ষতিগ্রস্ত হয়, পরীক্ষার পর তার ভয় দূর করার কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়নি। আজকের মানদণ্ডে এটি নৈতিকভাবে ভুল বিবেচিত হতো। তাছাড়া তার পর থেকে লিটল আলবার্টের প্রকৃত পরিচয় ও পরবর্তী জীবন নিয়ে আর কিছুই জানা যায়নি। The Little Albert Experiment প্রমাণ করেছে আমাদের আবেগ, ভয় ও প্রতিক্রিয়া শেখানো সম্ভব। এই গবেষণা শুধু মনোবিজ্ঞান নয়, চিকিৎসা, শিক্ষা এবং বিজ্ঞাপনের মতো ক্ষেত্রেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। যদিও লিটল আলবার্টের পরীক্ষা নৈতিকতার কারণে সমালোচিত, তবু এটি আমাদের বুঝতে সাহায্য করেছে যে, আমরা জন্মগতভাবে নয়, বরং শেখার মাধ্যমেই জীবনের সব রকম আচরণ গঠন করি।


মানবাধিকার ও সংখ্যালঘু সুরক্ষা নিয়ে নীরব : ট্রাম্প – মোদি

রয়টার্স জানিয়েছে – ১৩ ফেব্রুয়ারি ওয়াশিংটনে ট্রাম্প-মোদি দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে অস্ত্র বিক্রি থেকে বাণিজ্যসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হলেও সংখ্যালঘু অধিকার ও মানবাধিকার নিয়ে তাঁরা প্রকাশ্যে কোনও মন্তব্য করেননি। হোয়াইট হাউজে বৈঠকের সময় এবং পরবর্তী যৌথ সংবাদ সম্মেলনে দুই নেতা মানবাধিকার বিষয়ে কোনও মন্তব্য করেননি। এমনকি তাদের অনলাইন বিবৃতিতেও এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। মার্কিন পররাষ্ট্র দফতরের মানবাধিকার ও ধর্মীয় স্বাধীনতা বিষয়ক প্রতিবেদনে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে ভারত সরকার এসব প্রতিবেদনের সমালোচনা করে এগুলোকে ‘গভীরভাবে পক্ষপাতদুষ্ট’ বলে আখ্যা দিয়েছে।

অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল ও হিউম্যান রাইটস ওয়াচ মোদি সরকারের সংখ্যালঘুদের প্রতি আচরণের সমালোচনা করেছে। বিশেষজ্ঞদের মতে, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ভারতের মানবাধিকার রেকর্ড নিয়ে ওয়াশিংটনে তেমন উদ্বেগ দেখা যায়নি। এর মূল কারণ ভারত তার বাণিজ্য বাড়িয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করেছে এবং চীনের মোকাবিলায় একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হয়ে উঠেছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদেও এই প্রবণতা অব্যাহত থাকবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। উইলসন সেন্টারের সাউথ এশিয়া ইনস্টিটিউটের পরিচালক মাইকেল কুগেলম্যান বলেন, ‘ভারতে মানবাধিকার ইস্যুতে ট্রাম্পের কোনও অবস্থান নেওয়ার সম্ভাবনা কম। কারণ, তার পররাষ্ট্রনীতি মূলত স্বার্থভিত্তিক, যেখানে মানবাধিকার বা মূল্যবোধের জন্য তেমন জায়গা নেই।’

কুগেলম্যান বলেন, মানবাধিকার বিষয়ে তাদের দৃষ্টিভঙ্গির সাদৃশ্য তাদের মধ্যে সম্পর্ককে আরও মজবুত করেছে। ট্রাম্প প্রশাসন জাতিসংঘের মানবাধিকার পরিষদ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের অংশগ্রহণ প্রত্যাহার করেছে এবং তার গাজা পরিকল্পনাকে জাতিসংঘ বিশেষজ্ঞরা ‘জাতিগত নির্মূলের প্রস্তাব’ বলে অভিহিত করেছেন। তিনি যুক্তরাষ্ট্রের বহুবৈচিত্র্য, ন্যায়বিচার ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কর্মসূচি বাতিল করেছেন, যা মূলত প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে সহযোগিতা করতে চালু হয়েছিল।


আমাদের তারকা স্থপতি মেরিনা তাবাসসুম এবার সারপেন্টাইন গ্যালারির ডিজাইন করছেন

মেরিনা তাবাসসুম আন্তর্জাতিক পর্যায়ে সম্মানিত একজন বাংলাদেশী তারকা স্থপতি। তিনি ‘মেরিনা তাবাসসুম আর্কিটেক্টস’ এর প্রতিষ্ঠাতা। তাঁর অন্যতম উল্লেখযোগ্য কাজ হচ্ছে ঢাকার দক্ষিণখানে নির্মিত বায়তুর রউফ মসজিদ, যা ২০১৬ সালে আগা খান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার পুরস্কারে ভূষিত হয়েছিল। তাবাসসুমের স্টাইল প্রকৃতি ও স্থাপত্তের দন্দ্ব নিরসনে এক নতুন রাস্তা দেখায়।

মেরিনা তাবাসসুমের জন্ম ঢাকায়। বাবা ছিলেন একজন ক্যান্সার চিকিৎসক, এবং তার পরিবার ১৯৪৭ সালে ভারত থেকে ঢাকায় পাড়ি জমায়। হলি ক্রস উচ্চ বালিকা বিদ্যালয় এবং কলেজ থেকে শিক্ষাজীবন শুরু করেন। ১৯৯৪ সালে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট) থেকে স্থাপত্যে স্নাতক ডিগ্রি অর্জন করেন।

তাবাসসুম তার পেশাজীবন শুরু করেন ১৯৯৫ সালে স্থপতি কাশেফ মাহবুব চৌধুরীর সাথে ‘আরবানা’ নামক একটি স্থাপত্য ফার্ম প্রতিষ্ঠা করে। দশ বছর ধরে ফার্মটি বাংলাদেশের বিভিন্ন স্থাপত্য প্রকল্পে কাজ করে। ২০০৫ সালে তিনি নিজস্ব ফার্ম ‘মেরিনা তাবাসসুম আর্কিটেক্টস’ প্রতিষ্ঠা করেন এবং একই বছরের পর থেকে ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ে সমসাময়িক দক্ষিণ এশিয়ার স্থাপত্য বিষয়ে অধ্যাপনা শুরু করেন।

একইসাথে ২০১৫ সাল থেকে বেঙ্গল ইনস্টিটিউটে স্থাপত্য, ভূদৃশ্য এবং বসতিগুলির জন্য একাডেমিক প্রোগ্রামের পরিচালক হিসেবে কাজ করছেন। তার সৃষ্ট কাজগুলো মূলত প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে সুসমন্বিত এবং আঞ্চলিক প্রেক্ষাপটে আধুনিক স্থাপত্যের উদাহরণ হিসেবে বিবেচিত হয়।

বায়তুর রউফ মসজিদ তাবাসসুমের অন্যতম প্রধান কাজ, যা তার স্থাপত্য চিন্তার এক অনন্য উদাহরণ। এই মসজিদটির নকশা এমনভাবে করা হয়েছে, এটি বাংলাদেশের ঐতিহ্যবাহী স্থাপত্যের সঙ্গে আধুনিক প্রযুক্তির সমন্বয় ঘটাতে সক্ষম।

মেরিনা তাবাসসুমকে ২০২০ সালে কোভিড-১৯ পরবর্তী সময়ের তৃতীয় বড় চিন্তাবিদ হিসেবে গণ্য করা হয়েছিল। একাধিক আন্তর্জাতিক সাময়িকী তার কাজের প্রশংসা করেছে, বিশেষত তার ভবনগুলো যা প্রাকৃতিক পরিবেশের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নির্মিত। তিনি একাধারে শিক্ষক, স্থপতি এবং চিন্তাবিদ হিসেবে কাজ করে যাচ্ছেন এবং তার নকশা পৃথিবীজুড়ে স্বীকৃত।

তাবাসসুমের উল্লেখযোগ্য অন্যান্য কাজের মধ্যে রয়েছে স্বাধীনতা জাদুঘর, খুদি বাড়ি, পানিগ্রাম ইকো রিসোর্ট ও স্পা, এবং ফরিদাবাদের অবকাশ বাড়ি। তার কাজগুলি কেবল স্থাপত্যের দৃষ্টিতে নয়, বরং বাংলাদেশের সাংস্কৃতিক এবং ঐতিহ্যবাহী পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত গভীর ধারনা প্রকাশ করে।

পুরস্কারের দিক থেকে, তাবাসসুম বিভিন্ন আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছেন, তার মধ্যে অন্যতম হলো আগা খান অ্যাওয়ার্ড ফর আর্কিটেকচার, স্বাধীনতা স্তম্ভের নকশার জন্য প্রথম স্থান পুরস্কার, এবং আর্নল্ড ডাব্লিউ. ব্রুনার স্মৃতি পুরস্কার (২০২১)। এছাড়াও, তিনি টাইম ম্যাগাজিনের ২০২৪ সালের বিশ্বের ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় স্থান পেয়েছেন, যা বিশ্বজুড়ে প্রভাবের একটি স্বীকৃতি।
মেরিনা তাবাসসুম সারপেন্টাইন গ্যালারির ২৫ তম বার্ষিকী উপলক্ষে এবছরের প্যাভিলিয়ন ডিজাইন করছেন। ক্যাপসুল ইন টাইম নামে পরিচিত এই প্যাভিলিয়নটি একটি হালকা কাঠের কাঠামো। ডিজাইনটি স্থাপত্যের অস্থায়ীত্ব এবং সময় ও স্মৃতির সম্পর্ককে তুলে ধরে। এ এক বিরল সম্মান। তাবাসসুমের ডিজাইনে চারটি আর্চযুক্ত কাঠের মডিউল থাকবে, যা স্বচ্ছ প্যানেল দিয়ে পূর্ণ, এবং একটি কেন্দ্রীয় গাছের চারপাশে খোলা উঠোন তৈরি করবে।

এটি নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে জীবনের অস্থায়ীত্ব থেকে অনুপ্রাণিত এবং বাংলাদেশের বাঙালি ডেল্টার জীবনধারা থেকে প্রভাবিত। প্যাভিলিয়নটি জাহা হাদিদ-এর “স্থাপত্যের সীমা ঠেলে দেওয়ার” দর্শনের অনুপ্রেরণায় ডিজাইন করা হয়েছে।