বাড়তে থাকা বাণিজ্য উত্তেজনার মধ্যে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের পুনঃনির্বাচনের পর দেশটির বাণিজ্য নীতিতে নতুন সুরক্ষা ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে। ফেব্রুয়ারির শুরুতেই তার প্রশাসন মেক্সিকো, কানাডা এবং চীনের আমদানির ওপর ২৫% পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে। এই পদক্ষেপের ফলে বিশ্ববাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে এবং প্রধান শেয়ার সূচকগুলোতে ওঠানামা লক্ষ্য করা যাচ্ছে। বিনিয়োগকারীদের দৃষ্টিতে এই শুল্ক নীতিগুলো মূল্যস্ফীতি বাড়াতে পারে এবং সরবরাহ শৃঙ্খল ব্যাহত করতে পারে।
ইউক্রেন এবং মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাত ক্রমেই বিশ্ব স্থিতিশীলতার জন্য বড় ঝুঁকি তৈরি করেছে। ইউক্রেনে যুদ্ধ অব্যাহত থাকায় আঞ্চলিক নিরাপত্তা এবং অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়ছে। অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা তেলের সরবরাহ বিঘ্নিত করতে পারে, যা বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির ওপর প্রভাব ফেলবে। এসব সংঘাত বৈশ্বিক বিনিয়োগের পরিবেশে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে। বড় অর্থনীতির রাজনৈতিক অনিশ্চয়তায় জার্মানি এবং ফ্রান্সের মতো ইউরোপীয় দেশগুলো রাজনৈতিক অস্থিরতার মধ্যে রয়েছে। জার্মানিতে দীর্ঘস্থায়ী রাজনৈতিক দরকষাকষির ফলে নীতিগত অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে, অন্যদিকে ফ্রান্সে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক সংস্কারের বিরুদ্ধে ব্যাপক প্রতিবাদ আন্দোলন চলছে। এই পরিস্থিতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সামগ্রিক অর্থনৈতিক পারফরম্যান্সের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
চীনের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিও ধীর হয়ে আসছে, যা সাম্প্রতিক শিল্প উৎপাদন এবং ভোক্তা ব্যয়ের ডেটা দ্বারা প্রতিফলিত হয়েছে। বিনিয়োেগনির্ভর অর্থনীতি থেকে ভোক্তানির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তরের প্রচেষ্টায় নানা বাধার সম্মুখীন হচ্ছে দেশটি। বৈশ্বিক অর্থনীতিতে চীনের বিশাল প্রভাব থাকায় দেশটির অর্থনৈতিক অবস্থার পরিবর্তন বিশ্বব্যাপী বিনিয়োগকারীদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হয়ে উঠেছে। বিশ্বের দরিদ্রতম দেশগুলো এখনও বড় অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি। যদিও বৈশ্বিক অর্থনীতি কিছুটা পুনরুদ্ধার হয়েছে, কিন্তু অনেক উন্নয়নশীল দেশ উচ্চ ঋণ, সীমিত টিকা সরবরাহ এবং কাঠামোগত অর্থনৈতিক দুর্বলতার কারণে সংকট কাটিয়ে উঠতে পারছে না। বিশ্ব ব্যাংকের মতে, এসব দেশ অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারের সুযোগ থেকে পিছিয়ে পড়ছে, যা বিশ্বব্যাপী বৈষম্য আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে এবং টেকসই উন্নয়নের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করতে পারে।


