নির্বাচন পদ্ধতি নিয়ে সুনির্দিষ্ট সুপারিশ করেনি সংস্কার কমিশন

বাংলাদেশে আগামীতে কোন পদ্ধতিতে নির্বাচন হবে, সে বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কোনো সুপারিশ বা প্রস্তাব দেয়নি নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন। নির্বাচনের পদ্ধতি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে মতৈক্য না হওয়ায় প্রতিবেদনে বিষয়টি রাজনীতিবিদদের ওপরেই ছেড়ে দেওয়া হয়েছে। গতকাল প্রকাশিত পূর্ণাঙ্গ প্রতিবেদনের ৮৯ পৃষ্ঠায় ‘জাতীয় সংসদ নির্বাচন’ অনুচ্ছেদে বিদ্যমান এবং সংখ্যানুপাতিক নির্বাচন পদ্ধতির সুফল ও কুফল সম্পর্কে বিস্তারিত তুলে ধরে বলা হয়।

‘বাংলাদেশে বর্তমানে আসনভিত্তিক ‘ফাস্ট পাস্ট দ্য পোস্ট’ (এফপিটিপি) বা আসনভিত্তিক পদ্ধতিতে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়ে থাকে।এটি একটি জনপ্রিয় এবং অপেক্ষাকৃত সহজ পদ্ধতি। তবে এফপিটিপি বা আসনভিত্তিক পদ্ধতির অনেকগুলো গুরুতর সীমাবদ্ধতা রয়েছে, যার অন্যতম হলো এ পদ্ধতিতে অনেক সময় রাজনৈতিক দল তাদের প্রাপ্ত ভোটের সংখ্যানুপাতে আসন পায় না। অর্থাৎ রাজনৈতিক দলের প্রাপ্ত ভোটের হার কাছাকাছি হলেও তাদের প্রাপ্ত আসনের সংখ্যায় প্রায়ই ব্যাপক তারতম্য ঘটে। ফলে এ ব্যবস্থায় প্রাপ্ত আসনের সংখ্যায় দলের জনসমর্থনের যথার্থ প্রতিফলন ঘটে না। সংসদে রাজনৈতিক দলের যথার্থ প্রতিনিধিত্ব প্রতিষ্ঠিত হয় না।

এটি সুস্পষ্ট যে বিদ্যমান আসনভিত্তিক এফপিটিপি পদ্ধতির কারণে সামান্য ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েও সংসদে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করা সম্ভব হয়। আর এ সংখ্যাগরিষ্ঠতা কাজে লাগিয়ে সরকারগুলো ক্ষমতা চিরস্থায়ী করার লক্ষ্যে অতীতে একাধিকবার সংবিধান সংশোধন করেছে, যা দেশে ‘টিরানি অব দ্য মেজরিটি’ বা সংখ্যাগরিষ্ঠের স্বৈরাচার সৃষ্টি করেছে। অন্যদিকে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতিতে সংসদের আসন সংখ্যা ভাগ হয় বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভোটপ্রাপ্তির অনুপাতের হারে। এ ব্যবস্থায় ভোটাররা ভোট প্রদান করেন রাজনৈতিক দলকে, কোনো নির্দিষ্ট প্রার্থীকে নয় এবং রাজনৈতিক দলের প্রাপ্ত আসন সংখ্যা নির্ভর করে দলের প্রাপ্ত ভোটের হারের ওপর। দেশে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতি চালু থাকলে ১৯৯১-২০০৮ চারটি জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের কারও পক্ষেই এককভাবে সরকার গঠন করা সম্ভব হতো না। উভয় দলকেই অন্য কোনো দলের বা দলগুলোর সঙ্গে হাত মিলিয়ে সরকার গঠন করতে হতো।

তবে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির একটি বড় দুর্বলতা হলো সরকারের সম্ভাব্য অস্থিতিশীলতা। সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির আরও অনেক দুর্বলতা রয়েছে, যা অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময়ের সময়ে উঠে এসেছে। অংশীজনের মধ্যে সংখ্যানুপাতিক পদ্ধতির দাবি উঠলেও এ বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে চরম মতবিরোধ রয়েছে।’



LEAVE A REPLY

Please enter your comment!
Please enter your name here

জাতিসংঘের প্রতিবেদন – বিশ্বে প্রতি ১০ মিনিটে একজন নারী নিকটজনের হাতে খুন

বিশ্বজুড়ে নারীহত্যা বা ফেমিসাইডের ভয়াবহতা ২০২৪ সালে নতুন করে চরম উদ্বেগের জন্ম দিয়েছে। জাতিসংঘের মাদক ও অপরাধ বিষয়ক সংস্থা (ইউএনওডিসি) এবং নারী বিষয়ক সংস্থা...

বিএনপির নির্বাচনী কৌশল নির্ধারণ। ...

নির্বাচনে অংশ নিতে পূর্ণ উদ্যমে প্রচারণা কৌশল সাজাচ্ছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। দলীয় সূত্র বলছে, তরুণ ভোটারদের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে এবারের প্রচারণা পরিচালনা করবে...

বিশ্ব অর্থনৈতিক ক্ষমতার পরিবর্তনের প্রেক্ষিতে কৌশল পুনর্বিবেচনা করুন খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান

খ্যাতনামা অর্থনীতিবিদ অধ্যাপক রেহমান সোবহান বলেছেন, দ্রুত পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে- যেখানে অর্থনৈতিক ও কৌশলগত শক্তি ক্রমশ গ্লোবাল সাউথের দিকে সরে যাচ্ছে-বাংলাদেশকে তার অবস্থান নতুন...

বাংলাদেশের রাজনীতিতে উত্তপ্ত মুহূর্ত

- মাইকেল কুগেলম্যানদৈনিক প্রথম আলো থেকে নেয়া বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) মানবতাবিরোধী অপরাধের দায়ে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে। গত বছর আন্দোলনকারীদের ওপর...

পার্ল হারবার আক্রমণ কীভাবে জাপানকে অনিবার্য ধ্বংসের মুখে দাঁড় করিয়েছিল?

দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের প্রেক্ষাপটে ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলে জাপানের সাম্রাজ্যবাদ এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং জটিল ঐতিহাসিক অধ্যায়। ত্রিশের দশক থেকে শুরু করে ১৯৪৫ সালের আত্মসমর্পণের আগ পর্যন্ত...

খেলুন

নিউজ লেটার

বড়রা হাসুন