Home Blog Page 186

স্বল্পকালীন স্মৃতির পেছনে লুকানো কারণ

স্বল্পকালীন স্মৃতি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অপরিহার্য অংশ। কেনাকাটার তালিকা মনে রাখা থেকে শুরু করে ফোন নম্বর মনে রাখা পর্যন্ত, এটি আমাদের স্বল্পকালীন পরিস্থিতিতে একাধিক তথ্য একসাথে সামলাতে সাহায্য করে। বিজ্ঞানীরা দীর্ঘদিন ধরে জানেন যে আমাদের স্বল্পকালীন স্মৃতির ধারণক্ষমতা সীমিত, কিন্তু এখন ব্রাউন ইউনিভার্সিটির কার্নি ইনস্টিটিউট ফর ব্রেইন সায়েন্সের গবেষকরা এর পিছনের কারণ আবিষ্কার করেছেন। অধ্যাপক মাইকেল ফ্রাঙ্ক এবং গবেষক অনেরি সোনি মস্তিষ্কের বেসাল গ্যাংলিয়া এবং থ্যালামাসের একটি কম্পিউটার মডেল বিকাশ করেছেন যা দেখায় যে আমাদের স্বল্পকালীন স্মৃতির সীমাবদ্ধতার মূল কারণ হল শেখার প্রক্রিয়া।

ইলাইফ জার্নালে প্রকাশিত তাদের গবেষণায় দেখা গেছে আমরা যদি একবারে অনেক বিষয় মনে রাখার চেষ্টা করি, তাহলে সেই সমস্ত তথ্য ব্যবস্থাপনা করা শেখা কঠিন হয়ে যায়। মস্তিষ্ক বিভ্রান্ত হয়ে পড়ে এবং সংরক্ষিত তথ্যও কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারে না। এই সীমাবদ্ধতার মোকাবেলা করতে মস্তিষ্ক একটি কৌশলগত পদ্ধতি শিখেছে – “চাঙ্কিং” বা সম্পর্কিত তথ্যগুলিকে একত্রিত করে স্থান সংরক্ষণ করা। ২০১৮ সালে একটি পরীক্ষায় মানুষের মধ্যে এই চাঙ্কিং প্রক্রিয়া আবিষ্কৃত হয়েছিল। সোনি একই পরীক্ষা তাদের কম্পিউটার মডেলে পুনরাবৃত্তি করেন। মডেলকে বিভিন্ন দিকে নির্দেশিত রঙিন ব্লক দেখানো হয় এবং পরে জিজ্ঞাসা করা হয় কোন রঙের ব্লক কোন দিকে ছিল। ক্রমাগত পরীক্ষার পর, মডেল শিখেছিল কীভাবে নীল এবং হালকা নীলের মতো একই ধরনের রঙগুলিকে একত্রিত করে স্থান সংরক্ষণ করতে হয়।

গবেষকরা আরও দেখেছেন যে ডোপামিন নিউরোট্রান্সমিটার, এই শেখার প্রক্রিয়ায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। যখন মডেল সফলভাবে তথ্য চাঙ্ক করেছিল তখন ডোপামিন বিতরণ ব্যবস্থা সক্রিয় হয়েছিল। মডেলকে এই কৌশল ব্যবহার চালিয়ে যেতে উৎসাহিত করে। কিন্তু যখন ডোপামিন বিতরণ ব্যবস্থা পরিবর্তন করা হয়েছিল পার্কিনসন্স রোগ, স্কিজোফ্রেনিয়া এবং ADHD রোগীদের মত, তখন মডেল স্টোরেজ স্পেস দক্ষভাবে ব্যবহার করতে পারেনি। এই আবিষ্কারগুলি ডোপামিন-সম্পর্কিত ব্যাধিগুলির চিকিৎসার ক্ষেত্রে নতুন সম্ভাবনা খুলে দিয়েছে। উদাহরণস্বরূপ, পার্কিনসন্স রোগকে প্রধানত অঙ্গচালনা সংক্রান্ত ব্যাধি হিসেবে দেখা হয়, কিন্তু রোগীদের স্বল্পকালীন স্মৃতিতেও সমস্যা হয়। বর্তমানে তাদের প্রিফ্রন্টাল কর্টেক্সকে লক্ষ্য করে ওষুধ দেওয়া হয়, কিন্তু ফ্রাঙ্ক সাজেস্ট করেন যে বেসাল গ্যাংলিয়া এবং থ্যালামাসকে লক্ষ্য করে ওষুধগুলি আরও কার্যকর হতে পারে।

সোনির পরীক্ষাগুলি এই ধারণাকে শক্তিশালী করে যে স্বল্পকালীন স্মৃতির সীমাবদ্ধতা শুধুমাত্র স্টোরেজ ক্যাপাসিটির বিষয় নয়। তিনি দেখেছেন যে চাঙ্কিং মেকানিজম ছাড়া এবং প্রচুর স্টোরেজ সহ একটি মডেল কার্যকরভাবে তথ্য সংরক্ষণ ও পুনরুদ্ধার করতে পারেনি।অন্যদিকে চাঙ্কিং মেকানিজম সহ মডেলটি সীমিত স্টোরেজ সত্ত্বেও অধিক দক্ষতার সাথে কাজ করেছিল। এই গবেষণা আমাদের মস্তিষ্ক কীভাবে কাজ করে তার গভীর দৃষ্টি প্রদান করে এবং ডোপামিন-সম্পর্কিত ব্যাধিগুলির জন্য আরও কার্যকর চিকিৎসার পথ খুলে দেয়। এটি আমাদেরকে স্মরণ করিয়ে দেয় যে আমাদের মস্তিষ্কের সীমাবদ্ধতাগুলি প্রায়ই সূক্ষ্ম কারণে বিদ্যমান এবং এই সীমাবদ্ধতাগুলির মধ্যেও মস্তিষ্ক কৌশলগত সমাধান খুঁজে বের করার অসাধারণ ক্ষমতা রাখে।




ইউক্রেন যুক্তরাষ্ট্রকে বিরল খনিজ দিতে প্রস্তুত !

ইউক্রেন সম্প্রতি তার খনিজ সম্পদ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সাথে একটি গুরুত্বপূর্ণ চুক্তির শর্তাবলীতে রাজি হয়েছে। কিয়েভের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন যে “বেশ কিছু ভালো সংশোধনী” সহ এই চুক্তিতে সম্মত হওয়া হয়েছে, যা তারা “ইতিবাচক ফল” হিসেবে দেখছেন। সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্র প্রাথমিকভাবে ইউক্রেনের ৫০০ বিলিয়ন ডলারের প্রাকৃতিক সম্পদের ওপর যে অধিকার দাবি করেছিল, সেই দাবি থেকে সরে এসেছে। তবে একই সাথে যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে নিরাপত্তা নিশ্চয়তাও দিচ্ছে না, যা ইউক্রেনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দাবি ছিল।

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আশা প্রকাশ করেছেন যে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ওয়াশিংটনে এসে এই সপ্তাহেই চুক্তিতে স্বাক্ষর করবেন। সম্প্রতি দুই নেতার মধ্যে বিভিন্ন মন্তব্য বিনিময় হয়েছে, যেখানে ট্রাম্প জেলেনস্কিকে “স্বৈরশাসক” বলে অভিহিত করেছিলেন এবং যুদ্ধের জন্য ইউক্রেনকেই অনেকটা দায়ী করেছিলেন। ট্রাম্প বলেছেন, চুক্তির বিনিময়ে ইউক্রেন লড়াই চালিয়ে যাওয়ার অধিকার পাবে। তিনি উল্লেখ করেছেন যে “তারা (ইউক্রেন) খুব সাহসী। তবে যুক্তরাষ্ট্র, এর অর্থ ও সামরিক উপকরণ ছাড়া যুদ্ধ অল্প সময়ের মধ্যেই শেষ হয়ে যেতো।”

যুক্তরাষ্ট্র ইউক্রেনকে প্রায় ৩০০-৩৫০ বিলিয়ন ডলার সাহায্য দিয়েছে বলে ট্রাম্প উল্লেখ করেছেন এবং তিনি মনে করেন আমেরিকার করদাতারা এখন তাদের অর্থ ফেরত পেতে চায়। তবে তিনি আরও বলেছেন, শান্তি চুক্তির পর ইউক্রেনে “কোনও এক ধরনের শান্তিরক্ষা” কার্যক্রম প্রয়োজন হবে। জেলেনস্কি এর আগে ৫০০ বিলিয়ন ডলারের খনিজ সম্পদের দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেছিলেন, “আমি আমার দেশ বিক্রি করতে পারি না”। তিনি ট্রাম্পকে “বিভ্রান্তির জগতে” বাস করা বলেও মন্তব্য করেছিলেন। যুক্তরাষ্ট্রের সাথে আলোচনায় নেতৃত্ব দেওয়া ইউক্রেনের উপ-প্রধানমন্ত্রী ওলহা স্টেফানিশায়না ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে বলেছেন, “চুক্তি পুরো ছবির একটি অংশ মাত্র।” ইউক্রেনের সূত্রগুলো বলছে, চুক্তির অনেক বিষয়েই আরও আলোচনার প্রয়োজন রয়েছে।

বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ কাঁচামালের ৫% ইউক্রেনের হাতে রয়েছে বলে মনে করা হয়। দেশটিতে ১৯ মিলিয়ন টন গ্রাফাইটের প্রমাণিত মজুদ আছে, যা ইলেকট্রিক যানবাহনের ব্যাটারি তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। ইউরোপে যত লিথিয়াম মজুদ আছে তার এক-তৃতীয়াংশই ইউক্রেনে।রাশিয়ার পূর্ণাঙ্গ আগ্রাসনের আগে বিশ্বে যত টাইটানিয়াম উৎপাদন হতো তার ৭% আসতো ইউক্রেন থেকে। এছাড়াও দেশটিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ বিরল খনিজের মজুদ আছে, যা আধুনিক বিশ্বের গুরুত্বপূর্ণ অনেক পণ্য উৎপাদনে ব্যবহৃত হয়।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ইউক্রেনের রাশিয়া অধিকৃত এলাকার খনিজ সম্পদে যুক্তরাষ্ট্রের সুযোগের বিষয়ে তার আপত্তি নেই। ইউক্রেনের অর্থমন্ত্রী ইউলিয়া স্পিরিদেঙ্কো হিসাব মতে, অন্তত ৩৫০ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ রাশিয়া অধিকৃত এলাকায় রয়েছে। ইউক্রেন ও তার ইউরোপীয় সহযোগীদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে যে যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়া তাদের বাদ দিয়েই শান্তি চুক্তিতে এগিয়ে যেতে পারে, বিশেষ করে সৌদি আরবে সম্প্রতি দুই দেশের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকের পর এই উদ্বেগ আরও বেড়েছে।


কঠিন ডায়েট ছাড়াও কমবে ওজন

ব্যস্ত জীবনে ব্যায়ামের সময় বের করা কঠিন, তবে ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব কিছু সহজ অভ্যাসের মাধ্যমে।

ক্যালরির হিসাব রাখুন
ওজন কমাতে ক্যালরি গ্রহণের চেয়ে বেশি ক্যালরি বার্ন করা জরুরি। অনেকেই মনে করেন, শিঙাড়া খেলে কম ক্যালরি হবে, কিন্তু এটি অনেক বেশি ক্যালরি যোগ করে। তাই সচেতনভাবে কম ক্যালরির খাবার বেছে নিন।

অল্প পরিমাণে বারবার খান
‘থ্রি মিল, থ্রি স্ন্যাকস’ নিয়ম মেনে চলুন। সকালের নাশতায় আমিষজাতীয় খাবার, দুপুরে ব্যালান্সড মিল, বিকেলে বাদাম ও রাতে ফ্যাটবিহীন দুধ রাখতে পারেন।

সময় নিয়ে ও ছোট প্লেটে খান
ধীরে খেলে মস্তিষ্ক তাড়াতাড়ি পেট ভরার সংকেত দেয়, ফলে কম খাওয়া হয়। ছোট প্লেটে খেলে খাবার বেশি মনে হয়, যা অতিরিক্ত খাওয়ার প্রবণতা কমায়।

প্রোটিন ও আঁশযুক্ত খাবার খান
প্রতিদিনের খাবারে প্রোটিন রাখলে ক্ষুধা কমে ও দীর্ঘক্ষণ পরিপূর্ণ অনুভূতি থাকে। আঁশযুক্ত খাবার যেমন ওটস, শাকসবজি হজম ধীর করে, ফলে কম খাওয়া হয়।

পর্যাপ্ত পানি পান ও ভালো ঘুম করুন
খাবারের আগে পানি খেলে কম খাওয়া হয়। রাতে ৭-৮ ঘণ্টা ঘুম মানসিক চাপ কমিয়ে ক্ষুধা নিয়ন্ত্রণে রাখে।

সক্রিয় থাকুন
লিফটের বদলে সিঁড়ি ব্যবহার করুন, সকালে ২০ মিনিট হাঁটুন, সাইকেল চালান। এসব ছোট পরিবর্তন ওজন কমাতে দারুণ কাজে দেবে।

শিক্ষা সংস্কারের চ্যালেঞ্জ

অন্তর্বতীকালীন সরকার শিক্ষা ব্যবস্থায় একটি বড় পরিবর্তন এনেছে। ২০২৫ সালে ২০১২ সালে প্রবর্তিত শিক্ষাক্রমে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। নতুন শিক্ষাক্রমের সমালোচনা থাকায়, এবং পর্যাপ্ত প্রস্তুতির অভাবে, ২০২৫ সালের পাঠ্যবই আগের পাঠ্যসূচি অনুসারে মুদ্রিত হয়েছে। মূল পরিবর্তনসমূহ শ্রেণি ৯ থেকে পুনরায় তিনটি পৃথক বিভাগ (বিজ্ঞান, মানবিক, ও ব্যবসায় শিক্ষা) চালু করা হয়েছে। মাধ্যমিক পর্যায়ের পাবলিক পরীক্ষা সংক্ষিপ্ত করা হয়েছে, কিছু পরীক্ষা বাতিল করা হয়েছে। ২০২১ সালে প্রবর্তিত নতুন শিক্ষাক্রম পুরোপুরি পরিত্যাগ করা হয়েছে। তবে শিক্ষা বিশেষজ্ঞদের মতে, আগের সব কিছুতে ফিরে যাওয়া বিচক্ষণ সিদ্ধান্ত নয়।

উদাহরণস্বরূপ, শ্রেণি ৯ থেকেই শিক্ষার্থীদের বিষয় নির্বাচন করতে বাধ্য করা উচিত কি না তা পুনর্বিবেচনা প্রয়োজন। উন্নত দেশগুলো সাধারণত শিক্ষার্থীদের একটু পরিণত বয়সে বিষয় নির্বাচন করতে দেয়। ২০২৬ সাল থেকে পরিবর্তন আসতে পারে
২০২৫ সালকে একটি সমন্বয় পর্যায় হিসেবে ধরা হচ্ছে যেখানে মূলত শিক্ষকদের প্রস্তুতি ও শিক্ষার্থীদের শেখার মূল্যায়নের ওপর জোর দেওয়া হবে। উন্নত শিক্ষা ব্যবস্থার অভিজ্ঞতা থেকে বোঝা যায়, শিক্ষাক্রমের মূল বিষয়বস্তু যতটা গুরুত্বপূর্ণ, তার চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলো সহায়ক কাঠামোড়যেমন, শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, শ্রেণিকক্ষে শিক্ষাক্রমের কার্যকর প্রয়োগ, এবং শিক্ষার্থীদের প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের নিশ্চয়তা।

মূল শিক্ষা সংশোধনী বিষয়ক প্রশ্নসমূহ
১) প্রাথমিক শিক্ষায় পাঠ্যবিষয়ের ভারসাম্য: বাংলা ও গণিতের ওপর অধিক গুরুত্ব দেওয়া উচিত কি? অন্যান্য বিষয়গুলোকে কি সম্পূরক পাঠ হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা যায়?
২) ক্লাস রুটিনের স্থিতিস্থাপকতা: প্রতিটি ক্লাস ৩৫
মিনিটের নির্দিষ্ট সময়সীমায় বাধ্য থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম যান্ত্রিক হয়ে পড়ছে। শিক্ষার্থীদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে কি ক্লাসের সময়সীমায় নমনীয়তা আনা সম্ভব?
ইংরেজি শিক্ষার সময় নির্ধারণ: শ্রেণি ১-৩ এ বাংলা ও
গণিতকে অগ্রাধিকার দিয়ে ইংরেজি পাঠ শ্রেণি ৪ থেকে শুরু করা কি ভালো সিদ্ধান্ত হবে?
ক্রীড়া ও সহশিক্ষা কার্যক্রম: প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শারীরিক
অনুশীলন, খেলা ও সহশিক্ষা কার্যক্রম বাধ্যতামূলক করা প্রয়োজন কি না?

পাঠ্যবই ব্যবস্থাপনা: উন্নতমানের কাগজে মুদ্রিত , বহুবর্ষী , পাঠ্যবই ব্যবস্থার মাধ্যমে বই ধার দেওয়ার পদ্ধতি চালু করা কি উচিত? এটি কাগজের অপচয় কমাতে ও বই বিতরণ সহজ করতে সাহায্য করবে। রাজনৈতিক প্রভাব মুক্ত শিক্ষাক্রম পাঠ্যবইয়ে রাজনৈতিক ও সাম্প্রতিক সামাজিক বিষয় অন্তর্ভুক্ত করা কি যৌক্তিক? নাকি শিশুদের জন্য নিরপেক্ষ ও মৌলিক শিক্ষাবিষয়ক পাঠ্যবই রাখা উচিত? মূল্যায়ন ও পরীক্ষা পদ্ধতি: শুধু পিইসি বা বৃত্তি পরীক্ষায় ফিরে যাওয়ার বদলে, প্রতিটি শ্রেণির জন্য নিয়মিত মূল্যায়নের ব্যবস্থা করা সম্ভব কি না?

বৃহত্তর সংস্কার প্রশ্ন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (NCTB) কে পেশাদার প্রতিষ্ঠান হিসেবে গড়ে তোলা। শিক্ষাক্রম উন্নয়ন ও পাঠ্যপুস্তক মুদ্রণ প্রক্রিয়া আলাদা করা। শিক্ষক প্রশিক্ষণ ও শিক্ষার্থীদের মূল্যায়নের মধ্যে সমন্বয় আনা।শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কারে একপাক্ষিক সিদ্ধান্ত না নিয়ে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা গ্রহণ করা দরকার। শিক্ষার মানোন্নয়ন নিশ্চিত করতে, শুধু পাঠ্যসূচি পরিবর্তন করাই যথেষ্ট নয়; বরং শিক্ষকদের দক্ষতা বৃদ্ধি, পাঠ্যবই ব্যবস্থাপনা, মূল্যায়ন প্রক্রিয়া উন্নত করা এবং শিক্ষার্থীদের সার্বিক বিকাশ নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য হওয়া উচিত।



সরকারের রাজস্ব ব্যয়ের অর্ধেকের বেশি খরচ সুদ পরিশোধে

চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে সরকারের মোট রাজস্বের অর্ধেকের বেশি খরচ হয়েছে শুধু সুদ পরিশোধে, যার পরিমাণ ৫৮ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা। সুদ পরিশোধের মধ্যে ৮৮.৫% বা ৫১ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয় আভ্যন্তরীণ ঋণের বিপরীতে। বাকি ছয় হাজার ৭০২ কোটি টাকা যায় বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে। অর্থনীতিবিদ মুস্তাফা কে মুজেরি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সরকার যথাযথ গবেষণা ছাড়াই মেগা প্রকল্পের জন্য প্রচুর ঋণ নেওয়ায় সুদ পরিশোধের হার বেড়েছে। প্রায়ই রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ নেওয়া হয়েছে। ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। ফলে ঋণ পরিশোধে এসব প্রকল্প থেকে পর্যাপ্ত আয় হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’

২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত মোট রাজস্ব বাজেটের ২০ শতাংশের কম সুদ পরিশোধে খরচ হতো। করোনা মহামারির পর সরকার বিদেশ থেকে ভালো পরিমাণে বাজেট সহায়তা পায়। ফলে ঋণের বোঝা বেড়ে গেছে। অন্যদিকে সরকারি খরচ বেড়েছে অনেক। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজস্ব আদায় হয়নি। ফলে দেশে কর-জিডিপি অনুপাত কম থেকে গেছে। দেশের কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৮%। ভারতে ১২% ও নেপালে ১৭%। বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গড় ১৯% ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর গড় ২৫%-এর চেয়ে অনেক কম।

তা সত্ত্বেও বিগত সরকারগুলো রাজনৈতিক কারণে বাজেটের আকার বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। এর ফলে ব্যাংক ও অন্যান্য স্থানীয় উৎস থেকে বড় আকারের ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়। ব্যাংকিং খাতে সুদহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারের সুদ পরিশোধের বোঝা অনেক বেড়েছে। রাজস্ব-জিডিপির অনুপাত কম থাকায় সরকার ঋণভিত্তিক বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাড়িয়েছে। এখন এডিপি প্রায় পুরোটাই ঋণনির্ভর। অর্থনীতিবিদরা দীর্ঘদিন ধরে অপচয় কমানো, প্রকল্প বাস্তবায়নসহ সরকারি খরচে দুর্নীতি কমানো ও প্রত্যক্ষ কর বাড়িয়ে দেশের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির সুপারিশ করে আসছেন।

বিশ্বজুড়ে ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সম্প্রদায়গুলোর বদলে যাওয়া

বর্তমান বিশ্বে ধর্মীয় সংগঠন ও সম্প্রদায়গুলি নতুন চ্যালেঞ্জ এবং পরিবর্তনশীল সামাজিক প্রেক্ষাপটের সাথে খাপ খাইয়ে নিচ্ছে। এই পরিবর্তনগুলি সরকার, জনসাধারণ এবং বিভিন্ন ধর্মীয় গোষ্ঠীর মধ্যে সম্পর্কের নতুন রূপ তৈরি করছে। সম্প্রতি ব্রিটিশ মুসলিম নেটওয়ার্ক (বিএমএন) আনুষ্ঠানিকভাবে তাদের যাত্রা শুরু করেছে। একটি “বিচ্ছিন্নতার বর্ধমান অনুভূতির” প্রেক্ষাপটে এই নেটওয়ার্কের উদ্দেশ্য স্বাস্থ্য, শিক্ষা, অভিবাসন, সমতা এবং অর্থনীতি বিষয়ে সরকারের সাথে সংযোগ স্থাপন। উল্লেখযোগ্যভাবে, ২০০৯ সাল থেকে ব্রিটিশ সরকার মুসলিম কাউন্সিল অফ ব্রিটেনের সাথে আনুষ্ঠানিক সম্পর্ক ছিন্ন করে, যা একটি দীর্ঘদিনের শূন্যতা তৈরি করেছিল।

নেটওয়ার্কের সহ-সভাপতি আকিলা আহমেদ স্পষ্ট করেছেন যে তাদের লক্ষ্য মুসলিম কাউন্সিল অফ ব্রিটেনকে প্রতিস্থাপন করা নয়, বরং পরিপূরক হিসাবে কাজ করা। বিএমএন রাজনীতি, গণমাধ্যম, ব্যবসা, বিনোদন ও খেলাধুলার জগৎ থেকে প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব, পাশাপাশি ইমাম, আইনজীবী, চিকিৎসক ও শিক্ষাবিদদের একত্রিত করেছে। এই ধরনের সমন্বিত প্রতিনিধিত্ব মুসলিম সম্প্রদায়ের বিচিত্র প্রয়োজন ও দৃষ্টিভঙ্গি উপস্থাপনের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। জার্মানিতে সাম্প্রতিক নির্বাচনী ফলাফল ইহুদি সংগঠনগুলিকে গভীরভাবে উদ্বিগ্ন করেছে। চরম-ডানপন্থী দল অল্টারনেটিভ ফর জার্মানি (এএফডি) ভোটের ২০ শতাংশ পেয়ে দ্বিতীয় স্থান অর্জন করেছে, যা অনেকের মতে ইউরোপে চরমপন্থার উত্থানের একটি উদ্বেগজনক লক্ষণ।

জার্মানিতে ইহুদিদের কেন্দ্রীয় কাউন্সিলের সভাপতি ডঃ জোসেফ শুস্টার এবং ইউরোপীয় ইহুদি কংগ্রেসের প্রতিক্রিয়া থেকে এটি স্পষ্ট যে এই দলের জেনোফোবিক ভাষা ঐতিহাসিক সংশোধনবাদ এবং অ্যান্টিসেমিটিক বক্তৃতা ইতিহাসের আলোকে বিশেষভাবে উদ্বেগজনক।জার্মানির নাৎসি অতীত বিবেচনা করে, এই ধরনের রাজনৈতিক পরিবর্তন দেশের ইহুদি জনগোষ্ঠীর মধ্যে আশঙ্কা সৃষ্টি করেছে।
যুক্তরাষ্ট্রে একটি উল্লেখযোগ্য আইনি সিদ্ধান্তে, মেরিল্যান্ডের একজন ফেডারেল বিচারক কোয়েকার এবং অন্যান্য ধর্মীয় গোষ্ঠীর উপাসনালয়ে অভিবাসন এজেন্টদের অভিযান চালানো থেকে বাধা দিয়েছেন। এই সিদ্ধান্ত ধর্মীয় স্বাধীনতা রক্ষা এবং অভিবাসী অধিকারের প্রতি সম্মান একসাথে যুক্ত করে।

মামলাটি ১,৪০০ ব্যাপটিস্ট চার্চ, ক্যালিফোর্নিয়ার একটি গুরুদ্বার এবং ছয়টি কোয়েকার মিটিং-এর পক্ষে ডেমোক্রেসি ফরওয়ার্ড দ্বারা দায়ের করা হয়েছিল। এই আইনি লড়াই শুধু অভিবাসীদের রক্ষা করেই থামেনি, বরং ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানগুলির ভূমিকাকেও সম্প্রদায়ের নিরাপদ আশ্রয় হিসেবে পুনঃস্থাপন করেছে। ব্রিটেনে ‘ডাইনিবিদ্যার’ অভিযোগের সংখ্যা উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত বছরে ২,১৮০টি সামাজিক কাজের মূল্যায়ন ডাইনিবিদ্যা সম্পর্কিত ছিল, এবং ২০১৫ সাল থেকে এই সংখ্যা ১৪,০০০ ছাড়িয়েছে। “কিন্ডকি উইচ বয়” চলচ্চিত্রের প্রকাশ এবং ভিক্টোরিয়া ক্লিম্বিয়ের মৃত্যুর ২৫তম বার্ষিকী এই সমস্যার প্রতি নজর আকর্ষণ করেছে।

এই সংখ্যাগুলি প্রকাশ করে যে কিছু ধর্মীয় বিশ্বাস ও অনুশীলন কীভাবে বিশেষ করে শিশুদের জন্য ক্ষতিকারক হতে পারে, যা ক্রমবর্ধমান সামাজিক উদ্বেগের বিষয়। যেসব সম্প্রদায়ে এই অনুশীলন চলছে, সেখানে শিক্ষা ও সচেতনতা প্রয়োজন। গ্লাসগো ক্যাথিড্রালের আন্তঃধর্মীয় অনুষ্ঠানে প্যাগান ও হিউম্যানিস্টদের বক্তব্য দিতে না দেওয়া ধর্মীয় সহনশীলতার প্রশ্ন তুলেছে।স্কটল্যান্ডে ২০,০০০ প্যাগান রয়েছে এবং সব ধর্মীয় গোষ্ঠীর তুলনায় বেশি হিউম্যানিস্ট বিবাহ হয়, যা তাদের সমাজে গুরুত্বপূর্ণ উপস্থিতির ইঙ্গিত দেয়। এই ঘটনা দেখায় যে প্রাতিষ্ঠানিক ধর্মের বাইরে ক্রমবর্ধমান আধ্যাত্মিক ও দার্শনিক ঐতিহ্যের স্বীকৃতি এখনও একটি চ্যালেঞ্জ।

“ক্যাথিড্রাল অফ দ্য পটারিজ” নামে পরিচিত ঐতিহাসিক বেথেসদা মেথডিস্ট চ্যাপেলের পুনরুদ্ধার একটি ইতিবাচক উদাহরণ। একসময় ২,০০০ লোকের জন্য ধর্মীয় কেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত, এই ঐতিহাসিক স্থানটি এখন নিউরোডাইভারজেন্ট তরুণদের জন্য একটি শিক্ষা কেন্দ্র হিসেবে রূপান্তরিত হচ্ছে। এই ধরনের পুনরুদ্ধার প্রকল্প দেখায় যে কীভাবে ধর্মীয় ঐতিহ্য ও আধুনিক প্রয়োজনের মধ্যে সেতুবন্ধন তৈরি করা সম্ভব। ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানের কমতি সত্ত্বেও, এর ভবন ও ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও পুনঃব্যবহারের মাধ্যমে সমাজে অবদান রাখতে পারে।

বিশ্বব্যাপী ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান ও সম্প্রদায়গুলি গভীর পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। একদিকে যেমন নতুন সংযোগ ও সহযোগিতার পথ খোলা হচ্ছে, অন্যদিকে চরমপন্থা এবং অসহিষ্ণুতার উত্থান দেখা যাচ্ছে। ধর্মীয় ঐতিহ্য সংরক্ষণ ও আধুনিক প্রয়োজনের মধ্যে ভারসাম্য বজায় রাখা একটি প্রধান চ্যালেঞ্জ। এই পরিবর্তনশীল পরিস্থিতিতে বিভিন্ন ধর্ম ও বিশ্বাসের মধ্যে সংলাপ, পারস্পরিক সম্মান ও সহযোগিতার গুরুত্ব ক্রমবর্ধমান।

আধুনিক অ্যাবস্ট্রাক্ট আর্ট’র আসল পথিকৃৎ ছিলেন একজন নারী

আধুনিক শিল্পের ইতিহাসে, সুইডিশ শিল্পী হিলমা আফ ক্লিন্ট (১৮৬২-১৯৪৪) এর অগ্রগামী ভূমিকা সাম্প্রতিক দশকগুলিতে এক উল্লেখযোগ্য পুনর্মূল্যায়নের বিষয় হয়ে উঠেছে। দীর্ঘকাল ধরে ভাসিলি কান্দিনস্কি এবং পিট মনড্রিয়ানের মতো পুরুষ সমসাময়িকদের ছায়ায় থাকা আফ ক্লিন্টকে এখন ক্রমবর্ধমানভাবে বিমূর্ত শিল্পের তথাকথিত “পিতাদের” আগেই বিমূর্ত চিত্রকলা সৃষ্টি করার জন্য স্বীকৃতি দেওয়া হচ্ছে। স্টকহোমে জন্মগ্রহণ করা আফ ক্লিন্ট রয়েল একাডেমি অফ ফাইন আর্টস-এ প্রথাগত শিল্প শিক্ষা গ্রহণ করেন, যেখানে তিনি ল্যান্ডস্কেপ ও পোর্ট্রেট পেইন্টিং অধ্যয়ন করেন। প্রকাশ্যে তিনি নিজেকে সমর্থন করার জন্য একজন ঐতিহ্যবাহী চিত্রকার হিসাবে কর্মজীবন বজায় রাখেন। তবে ব্যক্তিগতভাবে আফ ক্লিন্ট একটি বিপ্লবী শিল্প ভাষা বিকাশ করছিলেন যা তাঁর মৃত্যুর দশক পর পর্যন্ত শিল্প জগতের কাছে অজানা থাকবে।

আফ ক্লিন্টের গল্পকে বিশেষভাবে উল্লেখযোগ্য করে তোলে শুধুমাত্র তাঁর বিমূর্ত কাজের সময়কাল নয়। ১৯০৬ সালে শুরু থেকে কান্দিনস্কির প্রথম বিমূর্ত রচনার বছর আগে আধ্যাত্মিক কাঠামোও যা তাঁর শিল্প দৃষ্টিকে পথ দেখিয়েছিল। আফ ক্লিন্টের বিমূর্ততার যাত্রা আধ্যাত্মবাদ এবং থিওসফির সাথে তাঁর গভীর সংশ্লিষ্টতার সাথে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িত ছিল। ১৮৯৬ সালে, তিনি আরও চারজন মহিলা শিল্পীর সাথে যোগ দেন “দ্য ফাইভ” (দে ফেম) নামক একটি আধ্যাত্মিক গোষ্ঠী গঠনে, যারা ংল্কধহপবং পরিচালনা করত এবং “দ্য হাই মাস্টার্স” নামে উচ্চ আত্মাদের সাথে যোগাযোগ করার দাবি করত। এই অধিবেশনগুলিতে, আফ ক্লিন্ট কথিত মধ্যস্থতাকারী অবস্থায় প্রবেশ করতেনত। বার্তা ও দর্শন পেতেন যা তিনি পরে দৃশ্যমান রূপে অনুবাদ করতেন।

১৯০৬ সালে আফ ক্লিন্ট তাঁর সবচেয়ে উচ্চাকাঙ্ক্ষী প্রকল্প “দ্য পেইন্টিংস ফর দ্য টেম্পল”-এ হাত দেন, যা ১৯০৬ থেকে ১৯১৫ সালের মধ্যে সৃষ্ট ১৯৩টি কাজের একটি সিরিজ। এই বৃহদাকার, উজ্জ্বল রঙের চিত্রগুলিতে জ্যামিতিক আকার, সর্পিল, এবং জৈবিক আকৃতি রয়েছে যা আধ্যাত্মিক ধারণা এবং সার্বজনীন সত্যগুলিকে প্রতিনিধিত্ব করার জন্য জটিল প্রতীকী ব্যবস্থায় সাজানো। পরবর্তী বিমূর্ত অগ্রদূতদের থেকে আফ ক্লিন্টের কাজকে যা আলাদা করে তা হল আনুষ্ঠানিক উদ্ভাবনের সাথে আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানের তাঁর অনন্য সংশ্লেষণ। তাঁর চিত্রগুলি কেবল সাজসজ্জামূলক বিমূর্ততা ছিল না, বরং জটিল দার্শনিক ও রহস্যময় ধারণার দৃশ্যমান প্রকাশ। তিনি অদৃশ্য শক্তি এবং আধ্যাত্মিক মাত্রাগুলি প্রকাশ করার জন্য প্রতীকী রঙ ব্যবস্থা এবং জ্যামিতিক শব্দভাণ্ডার বিকাশ করেছিলেন যা তিনি বিশ্বাস করতেন বস্তুগত জগতের বাইরে বিদ্যমান।

তাঁর সমসাময়িকদের বিপরীতে যারা দৃশ্যমান বাস্তবতার সংক্ষেপণ ও সরলীকরণের প্রক্রিয়ার মাধ্যমে ধীরে ধীরে বিমূর্ততার দিকে এগিয়েছিলেন, আফ ক্লিন্ট সরাসরি একটি পূর্ণাঙ্গ বিমূর্ত ভাষায় একটি নাটকীয় লাফ দিয়েছিলেন। তাঁর কাজগুলিতে সাহসী জ্যামিতিক আকার, সর্পিল, অক্ষর এবং প্রতীক রয়েছে যা আজও আশ্চর্যজনকভাবে সমসাময়িক মনে হয় এমন আকর্ষক রঙের সামঞ্জস্যের সাথে জটিল রচনামূলক কাঠামোতে সংগঠিত। হয়তো আফ ক্লিন্টের গল্পের সবচেয়ে অসাধারণ দিক হল তাঁর কাজ সম্পূর্ণরূপে হারিয়ে যাওয়ার কতটা কাছাকাছি ছিল। তাঁর আধ্যাত্মিক গাইডদের কাছ থেকে আসা নির্দেশনা অনুসরণ করে, আফ ক্লিন্ট নির্দেশ দিয়েছিলেন যে তাঁর মৃত্যুর ২০ বছর পরে তাঁর বিমূর্ত চিত্রগুলি প্রকাশ্যে প্রদর্শিত হওয়া উচিত, এই বিশ্বাসে যে বিশ্ব তাদের বোঝার জন্য প্রস্তুত ছিল না।

১৯৪৪ সালে তাঁর মৃত্যুর পর, তিনি ১,৩০০টিরও বেশি চিত্র এবং ২৬,০০০ পৃষ্ঠার নোটবুক রেখে যান। তাঁর ভাতিজা এই বিশাল কাজের সংগ্রহ উত্তরাধিকারসূত্রে পান এবং ১৯৬০-এর দশকে সুইডেনের মডার্না মিউজিয়ামকে একটি উপহার হিসাবে প্রস্তাব করেন, কিন্তু মিউজিয়াম প্রত্যাখ্যান করে। দশকের পর দশক ধরে, তাঁর কাজ সংরক্ষণাগারে থাকে, কেবল পণ্ডিত ও উৎসাহীদের একটি ছোট বৃত্তের কাছে পরিচিত। প্রকৃত টার্নিং পয়েন্ট এসেছিল ১৯৮৬ সালে লস অ্যাঞ্জেলেস কাউন্টি মিউজিয়াম অফ আর্টে “দ্য স্পিরিচুয়াল ইন আর্ট: অ্যাবস্ট্র্যাক্ট পেইন্টিং ১৮৯০-১৯৮৫” প্রদর্শনীর মাধ্যমে, যাতে আফ ক্লিন্টের বেশ কয়েকটি কাজ অন্তর্ভুক্ত ছিল। যাইহোক, ২০১৮-২০১৯ সালে নিউ ইয়র্কের গুগেনহাইম মিউজিয়ামে “হিলমা আফ ক্লিন্ট: পেইন্টিংস ফর দ্য ফিউচার” প্রদর্শনী পর্যন্ত – যা মিউজিয়ামের সর্বাধিক দর্শনপ্রাপ্ত প্রদর্শনী হয়ে ওঠে – আফ ক্লিন্ট অবশেষে ব্যাপক স্বীকৃতি পান।

আজ, আফ ক্লিন্টের বিলম্বিত স্বীকৃতি শিল্প ঐতিহাসিক বর্ণনা এবং মহিলা শিল্পীদের পদ্ধতিগত বহিষ্কার সম্পর্কে গভীর প্রশ্ন তোলে। তাঁর কাজ আধুনিকতা এবং বিমূর্ততার প্রচলিত ধারণাকে চ্যালেঞ্জ করে, বিকল্প বংশাবলির পরামর্শ দেয় যা কেবল আনুষ্ঠানিক উদ্ভাবনের পরিবর্তে আধ্যাত্মিক অনুসন্ধানকে কেন্দ্র করে। আফ ক্লিন্টের অগ্রগামী কাজের প্রকাশ আধ্যাত্মিক অনুশীলন এবং শিল্প উদ্ভাবনের মধ্যে সম্পর্কের পুনর্বিবেচনাও আমন্ত্রণ জানায় যে সংযোগগুলি প্রায়শই মূলধারার শিল্প – ঐতিহাসিক বিবরণে গুরুত্বহীন করা হয় যা যুক্তিসঙ্গত, বস্তুবাদী দৃষ্টিকোণকে অগ্রাধিকার দেয়।

বিভিন্ন শাখার সমসাময়িক শিল্পীরা এখন আফ ক্লিন্টের অদৃশ্যের নির্ভীক অন্বেষণ এবং স্বজ্ঞাত প্রক্রিয়ার প্রতি তাঁর আস্থা থেকে অনুপ্রেরণা নিচ্ছেন। তাঁর কাজ শুধুমাত্র বিমূর্ত শিল্পের একটি বিকল্প সূচনা নয়, বরং শিল্প কী হতে পারে এবং করতে পারে তার একটি ভিন্ন মডেল: কেবল নান্দনিক চিন্তাভাবনা বা সামাজিক মন্তব্যের পরিবর্তে আধ্যাত্মিক অনুসন্ধান এবং মহাজাগতিক বোঝার বাহন। যেহেতু জাদুঘর এবং পণ্ডিতরা তাঁর কাজ অধ্যয়ন ও প্রদর্শন করা অব্যাহত রাখছেন, হিলমা আফ ক্লিন্টের অবস্থান বিমূর্ত শিল্পের সত্যিকারের অগ্রদূত হিসাবে ক্রমশ নিরাপদ হয়ে উঠছে, যা আধুনিকতার উৎপত্তি সম্পর্কে আমাদের বোঝাপড়াকে চিরতরে পরিবর্তন করছে এবং শিল্প সৃষ্টির আধ্যাত্মিক মাত্রা সম্পর্কে নতুন দৃষ্টিকোণ খুলছে।





ট্রাম্প কোটিপতিদের বশ করেছেন , নাকি কোটিপতিরা ট্রাম্পকে : ডোনাল্ড আর্ল কলিন্স , মার্কিন লেখক ও অধ্যাপক

” … অনেকে মনে করতে পারেন, ট্রাম্পের আনুগত্য স্বীকার করে ধনকুবের ও বড় করপোরেশন গুলো যেন এক স্বৈরশাসকের কাছে মাথা নিচু করছে; কিন্তু বাস্তবে বিষয়টি সম্পূর্ণ উল্টো। এর সবচেয়ে বড় প্রমাণ, মার্ক জাকারবার্গ সম্প্রতি শেয়ারহোল্ডারদের সঙ্গে এক বৈঠকে জানিয়েছেন, ২০২৪ সালের শেষ প্রান্তিকে তাঁর কোম্পানির বাজার অংশীদারি বেড়েছে এবং প্রত্যাশার চেয়ে বেশি মুনাফা হয়েছে।তিনি বলেন, ‘এখন আমাদের কাছে এমন একটি মার্কিন প্রশাসন রয়েছে, যারা আমাদের শীর্ষস্থানীয় কোম্পানিগুলো নিয়ে গর্বিত, যারা আমেরিকান প্রযুক্তির জয় চায় এবং বৈশ্বিকভাবে আমাদের মূল্যবোধ ও স্বার্থ রক্ষা করবেআমি আশাবাদী। এতে নতুন অগ্রগতি ও উদ্ভাবনের দুয়ার খুলবে।’

অর্থাৎ, ধনী ব্যবসায়ী ও বড় করপোরেশনগুলোর আসল লক্ষ্য তাঁদের মুনাফা রক্ষা করা। ট্রাম্প যদি সেই স্বার্থ পূরণ করতে পারেন, তাহলে তাঁর সামনে মাথা নিচু করতেও তাঁরা রাজি আছেন। … ধনকুবেররা মূলত ট্রাম্প প্রশাসনে নিজেদের অবস্থান শক্তিশালী করতে চান। তাঁরা হয়তো সরকারি চুক্তি, নীতিগত সুবিধা কিংবা প্রেসিডেন্টের ওপর সরাসরি প্রভাব রাখার জন্যই তাঁকে সমর্থন দিচ্ছেন। ২০ জানুয়ারি প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে ট্রাম্প একের পর এক নির্বাহী আদেশ স্বাক্ষর করেছেন। এসব আদেশ মূলত বড় ব্যবসাগুলোর স্বার্থ রক্ষা করছে। যেমন জাতীয় জ্বালানি জরুরি অবস্থা ঘোষণা এবং সরকারি ব্যয়ের দক্ষতা বৃদ্ধির পরিকল্পনা।

প্রথম আদেশে জীবাশ্ম জ্বালানির উৎপাদন বাড়িয়ে পরিবেশবান্ধব জ্বালানি নীতিকে দুর্বল করা হয়েছে। এতে তেল ও কয়লা কোম্পানিগুলো লাভবান হবে। দ্বিতীয় আদেশে সরকারি ব্যয় কমানোর নামে বিভিন্ন খাতের তহবিল সংকুচিত করে করপোরেট খাতে ব্যবসার সুযোগ বাড়ানো হয়েছে। … আসলে বিলিয়নিয়ার ও বড় করপোরেশনগুলো ট্রাম্পের আনুগত্য স্বীকার করছে না। বরং তারা ট্রাম্পের প্রশাসনকে তাদের স্বার্থরক্ষার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে। ট্রাম্প ক্ষমতায় থাকলে তাঁরা গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান ও সরকারি নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে একদম মুক্ত পথে ব্যবসা চালাতে পারবেন। তাই বলা চলে, এই ধনী অভিজাত শ্রেণিই ট্রাম্পকে চালাচ্ছেন; ট্রাম্প তাঁদের চালাচ্ছেন না।”

ঘুম নাকি সিক্রেট সুপারপাওয়ার : হিপনোসিস

হিপনোসিস শব্দটি গ্রিক শব্দ “Hypnos” (নিদ্রা) থেকে এসেছে, যার অর্থ ঘুম। যদিও হিপনোসিস ঘুম নয় এটি এক ধরনের ট্রান্স অবস্থা. যেখানে ব্যক্তি বাহ্যিক উদ্দীপনার প্রতি কম সংবেদনশীল হয়ে যায় এবং চেতন মন অপেক্ষাকৃত নিস্তেজ থাকে। ১৮৪৩ সালে স্কটিশ সার্জন জেমস ব্রেড প্রথমবারের মতো আধুনিক বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে হিপনোসিসকে ব্যাখ্যা করেন। এরপর সিগমুন্ড ফ্রয়েড এটিকে মনোচিকিৎসার একটি অংশ হিসেবে ব্যবহার শুরু করেন। তবে প্রাচীন মিশর, ভারত ও চীনে হিপনোটিক ট্রান্সের ব্যবহার বহু পূর্ব থেকেই প্রচলিত ছিল। অনেক গবেষক মনে করেন, হিপনোসিসের মাধ্যমে ব্যক্তি তার অবচেতন মনের গভীরে প্রবেশ করতে পারে। যেখানে অতীন্দ্রিয় উপলব্ধির ক্ষমতা সুপ্ত অবস্থায় থাকতে পারে। হিপনোসিসের মাধ্যমে কিছু মানুষ দাবী করেছেন যে তারা টেলিপ্যাথি বা ভবিষ্যৎ দেখার ক্ষমতাও লাভকরেছেন।

১৯৭০-এর দশকে স্ট্যানফোর্ড গবেষণা ইনস্টিটিউটে পরিচালিত এক পরীক্ষায় কিছু ব্যক্তিকে হিপনোসিসের মাধ্যমে টেলিপ্যাথিক যোগাযোগের চেষ্টা করতে বলা হয়েছিল। গবেষকরা লক্ষ্য করেন কিছু অংশগ্রহণকারী তাদের অংশীদারের চিন্তাভাবনা সম্পর্কে কিছুটা সঠিক তথ্য দিতে সক্ষম হয়েছিল। যদিও এই গবেষণার ফলাফল বিতর্কিত। তবুও এটি ঊঝচ নিয়ে গবেষণার একটি গুরুত্বপূর্ণ দিক বলে বিবেচিত হয়। হিপনোসিসের মাধ্যমে কিছু মানুষ অতীত জীবনের স্মৃতি মনে করতে পারে বলে দাবি করা হয়। যদিও এটিও বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত নয়। তবু অনেক মানুষ তাদের হিপনোটিক সেশনের মাধ্যমে এমন সব অভিজ্ঞতা অর্জন করার কথা বলেন।

১৯৫০-এর দিকে হিপনোথেরাপিস্ট মরিস নেটারটন এমন কিছু রোগীদের নিয়ে পরীক্ষা চালান। যারা হিপনোসিসের মাধ্যমে পূর্বজন্মের স্মৃতি মনে করতে পারতেন। তারা এমন কিছু ঐতিহাসিক ঘটনার বিবরণ দেন যা তাদের বর্তমান জীবনে জানা থাকার কথা নয়। তবে এর সত্যতা নিয়ে সন্দেহ থাকায় এটি এখনো গবেষণার বিষয়। অনেক পারাসাইকোলজিস্ট বিশ্বাস করেন হিপনোসিসের মাধ্যমে মানুষ অন্য জগতের সত্তার সাথে যোগাযোগ করতে পারে। কিছু মিডিয়াম বা আত্মার সংযোগকারী ব্যক্তিরা হিপনোসিসের মাধ্যমে তাদের ক্ষমতা আরও শক্তিশালী করেন বলেও দাবি করেন।

১৯৯০ সালে গবেষক মাইকেল নিউটন হিপনোসিসের মাধ্যমে কিছু মানুষকে আত্মিক জগতের অভিজ্ঞতা সম্পর্কে প্রশ্ন করেন। তারা দাবি করেন তারা হিপনোটিক অবস্থায় এমন জায়গায় পৌঁছান যেখানে তারা মৃত্যুর পরবর্তী অবস্থার অভিজ্ঞতা লাভ করতে পারেন। যদিও বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে এটিও নিশ্চিত করা সম্ভব হয়নি। তবে এটি পারাসাইকোলজি গবেষণার একটি আকর্ষণীয় ক্ষেত্র। আধুনিক মনোবিজ্ঞানীরা হিপনোসিসকে মস্তিষ্কের একটি পরিবর্তিত চেতনা অবস্থা হিসেবে দেখেন। নিউরোসায়েন্স গবেষণায় দেখা গেছে হিপনোসিস চলাকালীন মস্তিষ্কের কিছু নির্দিষ্ট অংশ বেশি সক্রিয় থাকে, যা আমাদের মনোযোগ, স্মৃতি এবং সংবেদনশীলতা নিয়ন্ত্রণ করে। এটি অতিপ্রাকৃত কোনো শক্তি নয় বরং মনের স্বাভাবিক একটি অবস্থা।

অনেক ক্ষেত্রেই হিপনোসিসকে মঞ্চে বিনোদনের জন্য ব্যবহৃত হতে দেখা যায়। যেখানে মানুষকে দিয়ে অদ্ভুত আচরণ করানো হয়। এছাড়া কিছু হিপনোথেরাপিস্ট মিথ্যা স্মৃতির সৃষ্টির মাধ্যমে ভুল তথ্য প্রদান করতে পারেন বলে ব্যাপক সমালোচনা রয়েছে। তাই, হিপনোসিসের বৈজ্ঞানিক এবং নৈতিক ব্যবহার নিশ্চিত করাই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। পারাসাইকোলজিতে হিপনোসিস একটি গুরুত্বপূর্ণ গবেষণার ক্ষেত্র। যদিও বৈজ্ঞানিকভাবে হিপনোসিসের অতিপ্রাকৃত দিক এখনো নিশ্চিত নয়। এটি মনস্তাত্ত্বিক গবেষণার একটি আকর্ষণীয় শাখা হিসেবে রয়ে গেছে। ভবিষ্যতে আরো গবেষণা করলে হয়তো হিপনোসিসের প্রকৃত ক্ষমতা সম্পর্কে আরও গভীর বোঝাপড়া সম্ভব হবে।



সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধানের প্রতি কারো কারো বিদ্বেষ কী কারণে আমি খুঁজে পাইনি : সেনাপ্রধান

সেনাবাহিনী ও সেনাপ্রধানের প্রতি কেউ কেউ অকারণে বিদ্বেষ ছড়ানো হচ্ছে মন্তব্য করেছেন সেনাবাহিনীর প্রধান জেনারেল ওয়াকারউজজামান। জনগণের উদ্দেশ্যে তিনি বলেছেন, সেনাবাহিনীকে আক্রমণ না করে উপদেশ দিন, যাতে দেশ ও জাতিকে এগিয়ে নিতে পারে। ২০০৯ সালে তৎকালীন বিডিআর (বর্তমান বিজিবি) সদর দপ্তর পিলখানায় সংঘটিত নির্মম হত্যাকাণ্ডে নিহত সেনা কর্মকর্তাদের স্মরণে আজ মঙ্গলবার সকালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সেনাপ্রধান এসব কথা বলেন। রিটায়ার্ড আর্মড ফোর্সেস অফিসার্স ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (রাওয়া) ক্লাবের আয়োজনে রাজধানীর মহাখালীর রাওয়া ক্লাবের হেলমেট হলে এ অনুষ্ঠান হয়।জেনারেল ওয়াকার বলেন, ‘একটা কমন জিনিস আমি দেখতে পাচ্ছি, সেনাবাহিনী এবং সেনাপ্রধানের প্রতি বিদ্বেষ কারো কারো, কী কারণে আজ পর্যন্ত আমি আমি এটা খুঁজে পাইনি। আমরা হচ্ছি

একমাত্র ফোর্স, যেটা আপনাদের জন্য কাজ করে যাচ্ছি, দাঁড়িয়ে আছি প্ল্যাটফর্মে। অফকোর্স নেভি অ্যান্ড এয়ারফোর্স, নেভি চিফ আবার মন খারাপ করে, ইয়া করছে! নেভি এয়ারফোর্স অল উই অল আমাদেরকে সাহায্য করেন।’ জনগণের উদ্দেশ্যে সেনাপ্রধান বলেন, ‘আমাদেরকে আক্রমণ করেন না, আমাদেরকে অনুপ্রাণিত করেন, আমাদেরকে উপদেশ দেন। কোনো একটা সমস্যা হয়ে গেলে আমি নুরুদ্দিন স্যারের শরণাপন্ন হই এবং উনি আমাকে উপদেশ দেন, সিনিয়র জেনারেলরা আমাকে উপদেশ দেন। আমি সবার কাছে শরণাপন্ন হই। আমাদের প্রতি আক্রমণ করেন না। উপদেশ দেন, আমরা অবশ্যই ভালো উপদেশ গ্রহণ করব। আমরা একসাথে থাকতে চাই এবং দেশ এবং জাতিকে এগিয়ে নিয়ে যে দিতে চাই।’ লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) নূরুদ্দীন খান ১৯৯০ সালের ৩১ আগস্ট থেকে ১৯৯৪ সালের ৩০ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর প্রধান ছিলেন। পরে আওয়ামী লীগে যোগ দেন।

সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার বলেন, ‘এই দেশের শান্তিশৃঙ্খলা রক্ষার দায়িত্ব খালি সেনাবাহিনীর না। দুই লক্ষ পুলিশ আছে, বিজিবি আছে, র‍্যাব আছে, আনসার-ভিডিপি আছে। আমার আছে হচ্ছে ৩০ হাজার সৈন্য। এদেরকে আমি এই যে একটা বিরাট ভয়েড, আমি এই ৩০ হাজার সৈন্য দিয়ে, আমি কীভাবে এটা পূরণ করব? ৩০ হাজার থাকে, আবার ৩০ হাজার চলে যায়, ক্যান্টনমেন্টে আরও ৩০ হাজার আসে, এটা দিয়ে আমরা দিনরাত চেষ্টা করে যাচ্ছি। এখানে যে সমস্ত উচ্ছৃঙ্খল কাজ হয়েছে, সেটা আমাদের নিজস্ব তৈরি। এটা আমাদের নিজস্ব ম্যানুফ্যাকচারড। আমরা এইগুলো তৈরি করেছি। এই বিপরীতমুখী কাজ করলে দেশে কখনো শান্তিশৃঙ্খলা আসবে না। এই জিনিসটা আপনাদের মনে রাখতে হবে।’ তিনি বলেন, ‘তদন্ত কমিশন হচ্ছে আবার আরেকটা আমাদের, সর্বদা আমরা চেষ্টা করব তদন্ত কমিশনকে সহায়তা করতে। যে ধরনের সাহায্য-সহযোগিতা প্রয়োজন হয় আমরা করব।’