চলতি ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম চার মাসে সরকারের মোট রাজস্বের অর্ধেকের বেশি খরচ হয়েছে শুধু সুদ পরিশোধে, যার পরিমাণ ৫৮ হাজার ৪৯৪ কোটি টাকা। সুদ পরিশোধের মধ্যে ৮৮.৫% বা ৫১ হাজার ৭৯১ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয় আভ্যন্তরীণ ঋণের বিপরীতে। বাকি ছয় হাজার ৭০২ কোটি টাকা যায় বিদেশি ঋণের সুদ পরিশোধে। অর্থনীতিবিদ মুস্তাফা কে মুজেরি দ্য ডেইলি স্টারকে বলেন, ‘সরকার যথাযথ গবেষণা ছাড়াই মেগা প্রকল্পের জন্য প্রচুর ঋণ নেওয়ায় সুদ পরিশোধের হার বেড়েছে। প্রায়ই রাজনৈতিক বিবেচনায় ঋণ নেওয়া হয়েছে। ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। ফলে ঋণ পরিশোধে এসব প্রকল্প থেকে পর্যাপ্ত আয় হচ্ছে না। শেষ পর্যন্ত বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
২০০৯-১০ অর্থবছর থেকে ২০১৯-২০ অর্থবছর পর্যন্ত মোট রাজস্ব বাজেটের ২০ শতাংশের কম সুদ পরিশোধে খরচ হতো। করোনা মহামারির পর সরকার বিদেশ থেকে ভালো পরিমাণে বাজেট সহায়তা পায়। ফলে ঋণের বোঝা বেড়ে গেছে। অন্যদিকে সরকারি খরচ বেড়েছে অনেক। এর সঙ্গে তাল মিলিয়ে রাজস্ব আদায় হয়নি। ফলে দেশে কর-জিডিপি অনুপাত কম থেকে গেছে। দেশের কর-জিডিপি অনুপাত প্রায় ৮%। ভারতে ১২% ও নেপালে ১৭%। বাংলাদেশের কর-জিডিপি অনুপাত এশিয়া-প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলের গড় ১৯% ও উন্নয়নশীল দেশগুলোর গড় ২৫%-এর চেয়ে অনেক কম।
তা সত্ত্বেও বিগত সরকারগুলো রাজনৈতিক কারণে বাজেটের আকার বাড়ানোর চেষ্টা করেছে। এর ফলে ব্যাংক ও অন্যান্য স্থানীয় উৎস থেকে বড় আকারের ঋণ নেওয়ার প্রয়োজন দেখা দেয়। ব্যাংকিং খাতে সুদহার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সরকারের সুদ পরিশোধের বোঝা অনেক বেড়েছে। রাজস্ব-জিডিপির অনুপাত কম থাকায় সরকার ঋণভিত্তিক বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাড়িয়েছে। এখন এডিপি প্রায় পুরোটাই ঋণনির্ভর। অর্থনীতিবিদরা দীর্ঘদিন ধরে অপচয় কমানো, প্রকল্প বাস্তবায়নসহ সরকারি খরচে দুর্নীতি কমানো ও প্রত্যক্ষ কর বাড়িয়ে দেশের রাজস্ব আয় বৃদ্ধির সুপারিশ করে আসছেন।


