Home Blog Page 172

সিগারেট পুরুষদের জীবন থেকে ১৭ মিনিট এবং নারীদের জীবন থেকে ২২ মিনিট কেড়ে নেয়

গবেষণায় তুলে ধরা হয়েছে যে গড়ে, একটি সিগারেট একজন ব্যক্তির জীবন থেকে প্রায় ২০ মিনিট কমিয়ে দেয়। পুরুষরা তাদের ধূমপানের প্রতিটি সিগারেটের সাথে ১৭ মিনিট জীবন হারায় এবং মহিলারা ২২ মিনিট হারায়। ধূমপানের ধ্বংসাত্মক প্রভাব নিয়ে একটি নতুন গবেষণায় এই সিদ্ধান্তে পৌঁছানো হয়েছে। নতুন অনুমানগুলি আগের হিসাবের তুলনায় বেশি, যেখানে বলা ছিল যে প্রতিটি সিগারেট ধূমপায়ীর জীবন ১১ মিনিট কমিয়ে দেয়। ২০২৫ সাল ঘনিয়ে আসার সাথে, ইউনিভার্সিটি কলেজ লন্ডন (ইউসিএল) এর গবেষকরা যারা স্বাস্থ্য ও সামাজিক যত্ন বিভাগের অনুমোদনে এই গবেষণা পরিচালনা করেছেন, তারা বলেছেন যে ধূমপায়ীদের উচিত নববর্ষকে স্বাগত জানাতে এ অস্বাস্থ্যকর অভ্যাস ছেড়ে দেওয়া।

গবেষণায় তুলে ধরা হয়েছে যে গড়ে, একটি সিগারেট একজন ব্যক্তির জীবন থেকে প্রায় ২০ মিনিট কমিয়ে দেয়, যার অর্থ ২০টি সিগারেটের একটি প্যাকেট একজন ব্যক্তির জীবন প্রায় সাত ঘন্টা সংক্ষিপ্ত করে। ইউসিএল-এর একজন প্রধান গবেষণা ফেলো ডঃ সারা জ্যাকসন বলেন “সাধারণত লোকেরা জানে যে ধূমপান ক্ষতিকারক কিন্তু কতটা ক্ষতিকারক তা অনুমান করতে কম দেয়। গড়ে যে ধূমপায়ীরা ধূমপান ছাড়েন না তারা প্রায় এক দশক জীবন হারান। এটি ১০ বছরের মূল্যবান সময়, জীবনের মুহূর্ত এবং প্রিয়জনদের সাথে মাইলফলক,”।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা অনুসারে, তামাক মহামারী বিশ্বের সবচেয়ে বড় জনস্বাস্থ্য হুমকি। এটি প্রতি বছর ৮ মিলিয়নেরও বেশি মানুষকে হত্যা করে, যার মধ্যে অনুমানিত ১.৩ মিলিয়ন অধূমপায়ী রয়েছে যারা সেকেন্ড-হ্যান্ড ধোঁয়ার সংস্পর্শে আসে। বিশ্বব্যাপী ১.৩ বিলিয়ন তামাক ব্যবহারকারীর মধ্যে প্রায় ৮০% নিম্ন ও মধ্যম আয়ের দেশে বাস করে, যেখানে তামাক-সম্পর্কিত অসুস্থতা ও মৃত্যুর বোঝা সবচেয়ে বেশি।

পুতিন যুদ্ধ শেষ করতে চান : ট্রাম্প

শুক্রবার ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের সাথে কথা বলার সময় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প বলেছেন, তিনি ইউক্রেনের তুলনায় রাশিয়ার সাথে কাজ করাকে ‘সহজ’ মনে করেন এবং পুতিন ‘যুদ্ধ শেষ করতে চান’। ট্রাম্প বলেন, ‘সত্যি বলতে ইউক্রেনের সাথে সম্পর্ক রাখা আমার জন্য কঠিন হয়ে পড়ছে। তাদের হাতে কিছু নেই।’ তিনি আরও বলেন, ‘শেষ চুক্তি হওয়ার ক্ষেত্রে, রাশিয়ার সাথে আলোচনা করা হয়ত সহজ হবে।’ পুতিন ইউক্রেনে মার্কিন গোয়েন্দা তথ্য আদান প্রদান এবং সামরিক সহায়তা বন্ধের সুযোগ নিচ্ছেন কি না, এমন প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি আসলে মনে করি, তিনি যা করছেন তা যে কেউ করত।’

ট্রাম্প আবারও জানিয়েছেন, তার পুতিনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রয়েছে। যদিও তার প্রথম মেয়াদে দুই নেতার মধ্যে গোপন চুক্তির সন্দেহ থেকে রাজনৈতিক কেলেঙ্কারি তৈরি হয়েছিল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘রাশিয়া, রাশিয়া, রাশিয়া গুজব সত্ত্বেও, আমি সবসময় পুতিনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক রেখেছি। তিনি যুদ্ধ শেষ করতে চান। এবং আমি মনে করি, তিনি তার চেয়ে বেশি সদয় হবেন।’ ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলা জোরদার করার প্রতিক্রিয়ায় নতুন নিষেধাজ্ঞা ও শুল্ক আরোপের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। তিনি আরও বলেছেন, ‘রাশিয়া এবং ইউক্রেন, এখনই আলোচনার টেবিলে বসুন, দেরি হওয়ার আগে। ধন্যবাদ!!!!

Al এর যুগে দর্শন ও প্রযুক্তির সেতু বন্ধন

নতুন বৈজ্ঞানিক বোধগম্যতা ও প্রকৌশল কৌশল আমাদের বিস্মিত করে এবং একই সঙ্গে কখনো কখনো শঙ্কিতও করে তোলে। OpenAl সম্প্রতি ঘোষণা করেছে যে তারা এই দশকের মধ্যেই “সুপারইন্টেলিজেন্স” – এমন এক কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (Al) তৈরি করবে, যা মানুষের সক্ষমতাকে অতিক্রম করবে। সেই লক্ষ্যে তারা তাদের কম্পিউটিং সম্পদের ২০% এই ধরনের AI সিস্টেমের আচরণকে মানব মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ রাখার জন্য বিনিয়োগ করছে। আমরা প্রায়শই বিজ্ঞান কল্পকাহিনীতে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার বিরুদ্ধে মানবতার লড়াই দেখেছি, যেমন জেমস ক্যামেরনের ১৯৮৪ সালের “দ্য টার্মিনেটর” সিনেমায়। OpenAl এর বর্তমান উদ্যোগ সেই ভীতিকে মোকাবিলা করার প্রচেষ্টারই অংশ। কিন্তু এখানে প্রশ্ন আসে, Al এর বিকাশে দার্শনিকদের কি কোনো ভূমিকা থাকতে পারে? আর এই প্রযুক্তির বিকাশের সাথে প্রাচীন দর্শনের সংযোগ কী?

প্রকৃতপক্ষে Al এর মূল শিকড় দর্শনের মধ্যেই নিহিত। ১৯৫৬ সালে অ্যালেন নিউয়েল ও হার্বার্ট সাইমন “দ্য লজিক থিয়োরিস্ট” নামে একটি কম্পিউটার প্রোগ্রাম তৈরি করেছিলেন, যা গণিত ও যুক্তিবিদ্যার জটিল সমস্যার সমাধান করতে পারত। এই প্রোগ্রামটি আলফ্রেড নর্থ হোয়াইটহেড ও বার্ট্রান্ড রাসেলের বিখ্যাত গ্রন্থ “প্রিন্সিপিয়া ম্যাথেমেটিকা”-র ধারণার ওপর ভিত্তি করে গঠিত হয়েছিল। আরও পেছনে তাকালে দেখা যায়, জার্মান দার্শনিক গটলব ফ্রেগে আধুনিক যুক্তিবিদ্যার বিকাশে এক বিশাল অবদান রেখেছিলেন। ফ্রেগে যুক্তিতে চলকের ব্যবহার করেন, যা শুধু নির্দিষ্ট বাক্য নয়, বরং সার্বিক চিন্তাভাবনার কাঠামো তৈরি করেছিল। এছাড়া ১৯৩০-এর দশকে কুর্ট গডেল, আলফ্রেড টাস্কি এবং অ্যালান টুরিং-এর গবেষণা Al-এর ভিত্তি স্থাপনে বিশাল ভূমিকা রেখেছিল।

বর্তমান AI প্রযুক্তি বিশেষ করে ডিপ লার্নিং, বিশাল পরিমাণ ডেটা প্রক্রিয়াকরণ করে কাজ করে। এই প্রসঙ্গে লুডভিগ ভিটগেনস্টাইনের দর্শন প্রাসঙ্গিক হয়ে ওঠে। তিনি বলেছিলেন, “একটি শব্দের অর্থ তার ব্যবহারের মধ্যে নিহিত”। বর্তমান ভাষাভিত্তিক অও মডেল যেমন ChatGPT ভাষার ব্যবহার বিশ্লেষণ করেই নতুন বাক্য গঠন করে। কিন্তু Al কি আসলেই ভাষা বোঝে? এটি কি চেতনা অর্জন করতে পারে? এগুলো গভীর প্রশ্ন। বিজ্ঞান এখন পর্যন্ত মস্তিষ্ক থেকে চেতনার উৎপত্তি ব্যাখ্যা করতে পারেনি। কিছু দার্শনিক মনে করেন এটি বিজ্ঞানের এক “কঠিন সমস্যা”, যা দর্শনের সহায়তা ছাড়া সমাধান সম্ভব নয়।

একইভাবে প্রশ্ন ওঠে AI কি সৃজনশীল হতে পারে? ব্রিটিশ জ্ঞানতাত্ত্বিক মার্গারেট বোডেন মনে করেন, যদিও AI নতুন ধারণা তৈরি করতে পারে, এটি মানব সৃজনশীলতার মতো সেই ধারণাগুলোর মূল্যায়ন করতে পারে না। তিনি বিশ্বাস করেন যে শুধুমাত্র নিউরাল নেটওয়ার্ক ও প্রতীকী যুক্তিবিদ্যার সংমিশ্রণ (নিউরাল-সিম্বলিক আর্কিটেকচার) সত্যিকারের কৃত্রিম সাধারণ বুদ্ধিমত্তা (AGI) অর্জন করতে পারবে। OpenAl-এর লক্ষ্য Al-এর বিকাশকে মানব মূল্যবোধের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ করা। কিন্তু এটি শুধু প্রকৌশলগত সমস্যা নয়, সামাজিক চ্যালেঞ্জ। এখানে দার্শনিকদের পাশাপাশি আইনজীবী, নীতিনির্ধারক ও সাধারণ নাগরিকদের অংশগ্রহণও জরুরি।

বর্তমানে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর ক্রমবর্ধমান শক্তি ও গণতন্ত্রের উপর তাদের প্রভাব নিয়ে অনেকেই উদ্বিগ্ন। ব্রিটিশ ব্যারিস্টার ও লেখক জেমি সাসকিন্ড যুক্তি দিয়েছেন যে আমাদের “ডিজিটাল রিপাবলিক” নির্মাণ করতে হবে, যেখানে প্রযুক্তি কোম্পানিগুলোর আধিপত্য নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব হবে। Al কীভাবে দর্শনকে প্রভাবিত করবে? আনুষ্ঠানিক যুক্তিবিদ্যার শেকড় অ্যারিস্টটলের দর্শনের মধ্যে রয়েছে। ১৭শ শতকে গটফ্রিড লাইবনিজ পরামর্শ দিয়েছিলেন যে একদিন আমরা “ক্যালকুলাস রেটিওসিনেটর” নামক গণনা মেশিন তৈরি করতে পারব, যা দার্শনিক ও বৈজ্ঞানিক সমস্যার সমাধান দেবে। আজ Al সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নের পথে রয়েছে।

অনেকে আজ “কম্পিউটেশনাল দর্শন” ধারণার পক্ষে কথা বলছেন, যেখানে দর্শনের বিভিন্ন অনুমান Al-এর মাধ্যমে পরীক্ষা করা হয়। উদাহরণস্বরূপ পলিগ্রাফস প্রকল্প সোশ্যাল মিডিয়ায় তথ্য শেয়ারিং-এর প্রভাব বিশ্লেষণ করে এবং এটি আমাদের মতামত গঠনের ওপর কীভাবে প্রভাব ফেলে তা বুঝতে সাহায্য করে। Al-তে সাম্প্রতিক উন্নয়ন দর্শনের জন্য নতুন নতুন প্রশ্ন তৈরি করেছে। একইভাবে দর্শনের পুরনো ধারণাগুলোও আধুনিক Al গবেষণাকে গভীরভাবে প্রভাবিত করেছে। ভবিষ্যতে Al ও দর্শন একে অপরকে আরও গভীরভাবে প্রভাবিত করবে, যা মানব সভ্যতার জন্য এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করবে।

মানহীন মেডিকেল কলেজ বন্ধের সিদ্ধান্তে সরকার

গত ১৫ বছরে দেশে ৫২টি নতুন মেডিকেল কলেজ অনুমোদন দেওয়া হলেও বেশিরভাগ প্রতিষ্ঠানে এখনো স্থায়ী ক্যাম্পাস গড়ে ওঠেনি।প্রয়োজনীয় শিক্ষক ও আধুনিক চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাবে শিক্ষা কার্যক্রম বিঘ্নিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে অন্তত ২৬টি সরকারি-বেসরকারি মেডিকেল কলেজ বন্ধের নীতিগত সিদ্ধান্ত নিয়েছে অন্তর্বর্তী সরকার। অধিকাংশ মেডিকেল কলেজ চালুর ৮-১০ বছর পরও নিজস্ব ক্যাম্পাস তৈরি করতে পারেনি। পাঠদানের জন্য নেই পর্যাপ্ত শিক্ষক ও গবেষণার সুযোগ। অনেক কলেজ জেলা হাসপাতালের ভাড়া করা কক্ষে শিক্ষা কার্যক্রম চালাচ্ছে, যেখানে শ্রেণিকক্ষ ও ব্যবহারিক শিক্ষার পর্যাপ্ত সুবিধা নেই। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এসব ঘাটতি নিয়ে প্রতি বছর যেসব চিকিৎসক বের হচ্ছেন, তাদের বেশিরভাগই অদক্ষ থেকে যাচ্ছেন, যা স্বাস্থ্যখাতের জন্য হুমকি হয়ে উঠতে পারে।

অন্তর্বর্তী সরকারের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মানহীন সরকারি ও বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো বন্ধ করা হবে। এর মধ্যে ছয় থেকে সাতটি সরকারি কলেজ রয়েছে, বাকিগুলো বেসরকারি। ইতোমধ্যে সংশ্লিষ্ট কলেজগুলো সরেজমিনে পরিদর্শন করা হয়েছে এবং প্রতিবেদন তৈরি করা হচ্ছে। তবে চূড়ান্ত বাস্তবায়নের দায়িত্ব নির্বাচিত সরকারের ওপর থাকবে। স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, ২০১৫ সালে মাত্র তিনজন শিক্ষক নিয়ে রাঙামাটি মেডিকেল কলেজ চালু হয়, যেখানে এখনো পর্যাপ্ত অবকাঠামো গড়ে ওঠেনি।নেত্রকোনা মেডিকেল কলেজ চালুর ছয় বছর পরও নিজস্ব ক্যাম্পাসের বন্দোবস্ত হয়নি। নওগাঁ মেডিকেল কলেজ ২৫০ শয্যার জেলা হাসপাতালের একটি তলার অংশে চালানো হচ্ছে, যেখানে প্রয়োজনীয় লেকচার হল নেই।

গত বছর মানসম্পন্ন শিক্ষা কার্যক্রম পরিচালনা করতে না পারায় দুটি বেসরকারি মেডিকেল কলেজের নিবন্ধন বাতিল এবং চারটি কলেজের নিবন্ধন স্থগিত করা হয়েছে। এর মধ্যে কেয়ার মেডিকেল কলেজ ও নাইটিংগেল মেডিকেল কলেজ বন্ধ হয়েছে, আর উত্তরার আইটি মেডিকেল কলেজ, নর্দান ইন্টারন্যাশনাল মেডিকেল কলেজ, নর্দান প্রাইভেট মেডিকেল কলেজ এবং শাহ মখদুম মেডিকেল কলেজের ভর্তি কার্যক্রম স্থগিত রাখা হয়েছে। বর্তমানে দেশে ১ লাখ ৩০ হাজার চিকিৎসক রয়েছেন, যা জনসংখ্যার তুলনায় যথেষ্ট বলে মনে করা হচ্ছে। আগামী ছয় বছরে আরও ৬০ হাজার চিকিৎসক কর্মজীবনে প্রবেশ করবেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, অতিরিক্ত চিকিৎসকের ফলে কর্মসংস্থান সংকুচিত হচ্ছে এবং নতুন চিকিৎসকদের মান বজায় রাখাও কঠিন হয়ে পড়ছে।

স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, মানহীন মেডিকেল কলেজ বন্ধ করার পাশাপাশি আসনসংখ্যাও এক হাজারের বেশি কমিয়ে আনা হবে। পাশাপাশি বিদ্যমান প্রতিষ্ঠানগুলোর অবকাঠামো উন্নয়ন এবং শিক্ষক সংকট দূর করার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন জানান, ১০টি মেডিকেল কলেজের জন্য ১৯টি হাসপাতাল নির্মাণের কাজ চলছে। ঢাকা মেডিকেলের জন্য দুটি হাসপাতাল ও একটি একাডেমিক ভবন নির্মাণের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে, আগামী বছর থেকে মানহীন বেসরকারি মেডিকেল কলেজগুলো বন্ধের কার্যক্রম শুরু হতে পারে। স্বাস্থ্য শিক্ষার মান উন্নয়নে সরকার যেকোনো পদক্ষেপ নিতে প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।


সাধারণ ফলমূল প্লাস্টিক দূষণের বিরুদ্ধে আমাদের রক্ষাকবচ হতে পারে ?

মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ বিশ্বজুড়ে মানব স্বাস্থ্যের জন্য একটি ক্রমবর্ধমান উদ্বেগের কারণ হয়ে উঠেছে। এটি শুধুমাত্র পরিবেশগত বিপর্যয় সৃষ্টি করছে না, মানবদেহের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রমেও নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। সাম্প্রতিক এক গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যান্থোসায়ানিন নামক এক প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট মাইক্রোপ্লাস্টিক-প্ররোচিত প্রজনন তন্ত্রের ক্ষতিকর প্রভাব প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে। এই গবেষণা প্রজনন স্বাস্থ্য রক্ষায় এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করতে পারে।

মাইক্রোপ্লাস্টিক হল প্লাস্টিকের অতিক্ষুদ্র কণা যা হয় ইচ্ছাকৃতভাবে বিভিন্ন ভোক্তা পণ্যে যোগ করা হয়, অথবা বড় প্লাস্টিক ভেঙে যাওয়ার ফলে উৎপন্ন হয়। গবেষণায় দেখা গেছে, মাইক্রোপ্লাস্টিকে ১৬,০০০ এরও বেশি রাসায়নিক পদার্থ থাকতে পারে, যার মধ্যে বিপিএ, ফ্যালেট এবং পিফাস বিশেষভাবে ক্ষতিকর। এই রাসায়নিকগুলো মানবদেহের বিভিন্ন অংশে প্রবেশ করে এবং নিউরোটক্সিক প্রভাব সৃষ্টি করতে পারে। মাইক্রোপ্লাস্টিক প্লাসেন্টাল এবং মস্তিষ্কের বাধা অতিক্রম করতে সক্ষম, যা হৃদরোগ ও ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। পুরুষদের ক্ষেত্রে মাইক্রোপ্লাস্টিক রক্ত-টেস্টিস বাধা অতিক্রম করতে সক্ষম, যা শুক্রাণুর সংখ্যা হ্রাস, টেস্টোস্টেরন কমে যাওয়া এবং স্পার্মাটোজেনেসিসের ব্যাঘাত ঘটাতে পারে। অন্যদিকে নারীদের ক্ষেত্রে, মাইক্রোপ্লাস্টিক ডিম্বাশয়ের টিস্যুতে প্রদাহ সৃষ্টি করে, যার ফলে এস্ট্রোজেনের মাত্রা কমে যায় এবং প্রজনন ক্ষমতা হ্রাস পায়।

অ্যান্থোসায়ানিন একটি প্রাকৃতিক উদ্ভিদ যৌগ যা বাদাম, ফল এবং শাকসবজিতে প্রচুর পরিমাণে পাওয়া যায়। এটি প্রধানত ফল ও ফুলের উজ্জ্বল রং সৃষ্টি করে এবং শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট হিসাবে কাজ করে। সাম্প্রতিক গবেষণায় দেখা গেছে, অ্যান্থোসায়ানিন মাইক্রোপ্লাস্টিক দ্বারা সৃষ্ট প্রজনন বিষাক্ততা প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে। অ্যান্থোসায়ানিন শুক্রাণুর সংখ্যা, গুণমান এবং গতিশীলতা বৃদ্ধি করতে পারে। গবেষণায় দেখা গেছে, ইঁদুর যারা মাইক্রোপ্লাস্টিকের মতো বিষাক্ত পদার্থের সংস্পর্শে এসেছিল এবং পরবর্তীতে অ্যান্থোসায়ানিন দিয়ে চিকিৎসা করা হয়েছিল, তাদের শুক্রাণুর গুণমান উল্লেখযোগ্যভাবে উন্নত হয়েছে। এছাড়াও এটি রক্ত-টেস্টিস বাধার অখণ্ডতা রক্ষা করে, যার ফলে মাইক্রোপ্লাস্টিকের ক্ষতিকর উপাদানগুলো টেস্টিস টিস্যুতে প্রবেশ করতে পারে না।

নারীদের ক্ষেত্রে অ্যান্থোসায়ানিন ডিম্বাশয়ের টিস্যুতে প্রদাহ হ্রাস করে এবং এস্ট্রোজেন ও অন্যান্য হরমোনের মাত্রা স্বাভাবিক করতে সহায়তা করে। গবেষণায় দেখা গেছে, এটি প্লাস্টিক রাসায়নিক যেমন বিসফেনল, ফ্যালেট এবং ক্যাডমিয়ামের ক্ষতিকর প্রভাব থেকে হরমোন রিসেপ্টরগুলোকে রক্ষা করতে পারে। ফলে ডিম্বাশয়ের কার্যকারিতা সংরক্ষণে সহায়ক ভূমিকা পালন করতে পারে এবং প্রজনন স্বাস্থ্য বজায় রাখতে পারে। গবেষকরা বলছেন, মাইক্রোপ্লাস্টিকের ক্ষতিকর প্রভাব কমানোর জন্য প্রাকৃতিক উপাদানগুলোর সন্ধান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অ্যান্থোসায়ানিন এই ক্ষেত্রে এক আশাব্যঞ্জক সমাধান হিসেবে উঠে এসেছে, তবে এর কার্যকারিতা আরও সুস্পষ্টভাবে বোঝার জন্য আরও গবেষণা প্রয়োজন। ভবিষ্যতে মানবদেহে অ্যান্থোসায়ানিনের প্রতিক্রিয়া ও কার্যকারিতা পরীক্ষা করা হলে এটি চিকিৎসা ক্ষেত্রে একটি নতুন দিগন্ত খুলে দিতে পারে।

মাইক্রোপ্লাস্টিক দূষণ বর্তমানে মানব স্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য এক বিশাল চ্যালেঞ্জ। বিশেষ করে এটি প্রজনন স্বাস্থ্যের উপর মারাত্মক প্রভাব ফেলতে পারে। তবে অ্যান্থোসায়ানিনের মতো প্রাকৃতিক অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এই ক্ষতিকর প্রভাব প্রতিরোধে কার্যকর হতে পারে। গবেষণাটি ইঙ্গিত দেয় যে অ্যান্থোসায়ানিন শুক্রাণু ও ডিম্বাশয়ের কার্যকারিতা রক্ষা করতে এবং হরমোনের ভারসাম্য বজায় রাখতে সহায়তা করতে পারে। ভবিষ্যতে আরও গবেষণা এবং ক্লিনিকাল ট্রায়াল এই গবেষণার সম্ভাবনাকে আরও শক্তিশালী করতে পারে।

ভোক্তা তথ্য সংগ্রহ ও বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি ব্যক্তির গোপনীয়তার সীমানা

ডিজিটাল অ্যাডভারটাইজিং অ্যাকাউন্টেবিলিটি প্রোগ্রাম (উঅঅচ) এর একটি সাম্প্রতিক অনুসন্ধানে প্রকাশ পেয়েছে যে ন্যাশনাল ফুটবল লীগ (GbGdGj) এর ৩২টি দলের ওয়েবসাইট এবং মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনগুলি ব্যবহারকারীদের উপযুক্ত সম্মতি ছাড়া বিস্তারিত ভোক্তা তথ্য সংগ্রহ করছে। তৃতীয় পক্ষের বিজ্ঞাপন বিক্রেতাদের মাধ্যমে সংগৃহীত এই তথ্যগুলির মধ্যে অনলাইন আচরণগত তথ্য এবং সঠিক ভৌগলিক অবস্থানের মতো সংবেদনশীল তথ্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। এই তথ্যগুলি মোবাইল ডিভাইসের মাধ্যমে ভোক্তাদের সঠিক অবস্থান এবং গতিবিধি ট্র্যাক করতে ব্যবহৃত হতে পারে, যা গোপনীয়তার জন্য একটি বড় উদ্বেগ সৃষ্টি করে।

শিল্প পর্যবেক্ষকদের মতে, এই অনুশীলনগুলি ডিজিটাল অ্যাডভারটাইজিং অ্যালায়েন্স (DAA) দ্বারা নির্ধারিত মান পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। DAA হল একটি অলাভজনক সংস্থা, যা বিজ্ঞাপন শিল্প ট্রেড গ্রুপগুলির সমন্বয়ে গঠিত এবং ডেটা গোপনীয়তা সম্পর্কিত স্ব-নিয়ন্ত্রণে ফোকাস করে, বিশেষ করে ফেডারেল আইনগুলির অভাবে।BBB ন্যাশনাল প্রোগ্রামসের গ্লোবাল প্রাইভেসি ডিভিশনের ভাইস প্রেসিডেন্ট দিব্যা শ্রীধর, যারা DAAP-এর তত্ত্বাবধান করেন, এ বিষয়ে বলেন, “যেহেতু এটি সংবেদনশীল তথ্য, ভোক্তাদের অবশ্যই স্পষ্ট, অর্থপূর্ণ এবং প্রধানভাবে প্রকাশের সাথে অপ্ট-ইন করার সুযোগ থাকতে হবে। তারা জানতে পারবে কখন তারা সম্মতি দিচ্ছে, কী বিষয়ে সম্মতি দিচ্ছে, এবং তাদের তথ্য কীভাবে আগ্রহভিত্তিক বিজ্ঞাপনের জন্য ব্যবহার হবে।”

একটি উদাহরণ হিসাবে রিপোর্টে উল্লেখ করা হয় যে ক্লিভল্যান্ড ব্রাউনসের মোবাইল অ্যাপ ব্যবহারকারীদের অবস্থান সেবা সক্ষম করতে বলেছিল, যাতে তারা স্টেডিয়ামের বৈশিষ্ট্যগুলি অ্যাক্সেস করতে পারে এবং তাদের অবস্থানের উপর ভিত্তি করে বিজ্ঞপ্তি ও প্রচারণা পেতে পারে। তবে অ্যাপটি ব্যবহারকারীদের সতর্ক করেনি যে তাদের ভৌগলিক তথ্য বিজ্ঞাপনদাতাদের সঙ্গে ভাগ করা হতে পারে। একইভাবে অন্যান্য দলের অ্যাপগুলো ব্যবহারকারীদের ডেটা সংগ্রহ সম্পর্কে অবহিত করলেও স্পষ্টভাবে সম্মতি চায়নি।

এনএফএল ডিজিটাল প্রপার্টিগুলির জনপ্রিয়তা বিবেচনায়, এই সমস্যা যথেষ্ট বড়। ডিজিটাল মার্কেট ইন্টেলিজেন্স ফার্ম সিমিলারওয়েব থেকে প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, সান ফ্রান্সিসকো ৪৯ আর্সের ওয়েবসাইটে জানুয়ারি মাসে প্রায় ১.২ মিলিয়ন দর্শক আগমন ঘটেছিল এবং দলের iOS এবং অ্যান্ড্রয়েড অ্যাপগুলিতে ৩,২০০ দৈনিক সক্রিয় ব্যবহারকারী ছিল।অনুসন্ধান শেষে এনএফএল সম্প্রতি DAAP-এর সঙ্গে এক বছরেরও বেশি সময় ধরে কাজ করছে তাদের বিশ্বব্যাপী গোপনীয়তা নীতি আপডেট করতে এবং সমস্ত সংযুক্ত সম্পত্তিগুলির ডেটা গোপনীয়তা নীতিগুলি মেনে চলার নিশ্চয়তা দিতে। এনএফএল একটি বিবৃতিতে বলেছে, “আমরা আমাদের প্রশংসকদের জন্য একটি নিরবচ্ছিন্ন ব্যবহারকারী অভিজ্ঞতা প্রদানের পাশাপাশি তাদের তথ্য সুরক্ষিত রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”

যতই এনএফএল তাদের গোপনীয়তা নীতি আপডেট করতে কাজ করছে, বিশেষজ্ঞরা বেশ কিছু গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন তুলেছেন। এর মধ্যে রয়েছে, এনএফএল কতদিন ধরে ভোক্তা তথ্য সংগ্রহ করেছে, কতটুকু তথ্য সংগ্রহ করা হয়েছে এবং এটি কতটা তৃতীয় পক্ষের বিক্রেতাদের সঙ্গে ভাগ করা হয়েছে। ডেটা গোপনীয়তার বিশেষজ্ঞ আইনজীবী হাইডি সাস প্রশ্ন তুলেছেন যে বিজ্ঞাপন প্রযুক্তি বিক্রেতারা, যাদের কাছে অপ্ট-আউট করা ব্যবহারকারীদের তথ্য রয়েছে, তাদের পূর্বে সংগৃহীত তথ্য মুছে ফেলবে কিনা। ডেটা গোপনীয়তা এবং নিরাপত্তা আইনজীবী ব্র্যান্ডি এম. বেনেট মন্তব্য করেছেন যে, এনএফএলের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য প্রধান ঝুঁকি হল নিয়ন্ত্রক পরিণতির চেয়ে ব্র্যান্ডের সুনাম ও ধারণার ক্ষতি।

এই ঘটনা ডিজিটাল অর্থনীতির মধ্যে চলমান টেনশনকে তুলে ধরে, যেখানে ভোক্তা ডেটা সংগ্রহের প্রক্রিয়া লক্ষ্যভিত্তিক বিজ্ঞাপন চালু করতে সহায়ক, কিন্তু গোপনীয়তা সুরক্ষা নিয়ে ক্রমবর্ধমান জনসাধারণ ও নিয়ন্ত্রক উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। রাজ্য স্তরের আইনগুলি যখন এই সমস্যাগুলোর সমাধান করতে চাচ্ছে, তখন DAA নীতিগুলির মতো শিল্প স্ব-নিয়ন্ত্রণ প্রোগ্রামগুলি প্রায়শই ডেটা গোপনীয়তা অনুশীলনের জন্য একটি জাতীয় মান হিসেবে কাজ করে। এনএফএল এবং অন্যান্য বড় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলিকে তাদের বিপণন কার্যক্রম এবং ভোক্তা গোপনীয়তা রক্ষার মধ্যে সঠিক ভারসাম্য রক্ষা করতে হবে।

শেখ হাসিনা সেনানিবাসসহ ১৬ প্রতিষ্ঠানের নাম পরিবর্তন হচ্ছে

সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা, তার পরিবার এবং তার সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্টদের নামে থাকা সেনানিবাসসহ বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর আওতাধীন ১৬ সংস্থার নাম পরিবর্তনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।রবিবার এ সংক্রান্ত প্রস্তাবনা প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় থেকে প্রতিরক্ষা উপদেষ্টার দায়িত্বে থাকা প্রধান উপদেষ্টার দপ্তরে পাঠানো হয়েছে।এর আগে গত ১৬ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে পতন হওয়া আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের নামে যেসব প্রতিষ্ঠান ও সংস্থা রয়েছে তা বাতিলে প্রয়োজনীয় কার্যক্রম গ্রহণের সিদ্ধান্ত হয়।

প্রস্তাবনায় টাঙ্গাইলের ভুয়াপুরে বঙ্গবন্ধু সেনানিবাসের নাম পরিবর্তন করে যমুনা সেনানিবাস, কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হামিদ সেনানিবাসের নাম পরিবর্তন করে মিঠামইন সেনানিবাস, বরিশালের লেবুখালীতে শেখ হাসিনা সেনানিবাসের নাম পরিবর্তন করে বরিশাল সেনানিবাস, শরিয়তপুর জাজিরায় শেখ রাসেল সেনানিবাসের নাম পরিবর্তন করে পদ্মা সেনানিবাস করার কথা বলা হয়েছে।ঢাকার বিজয় স্মরণীতে অবস্থিত এডহক বঙ্গবন্ধু সামরিক যাদুঘরকে বাংলাদেশ সামরিক যাদুঘর, ঢাকা সেনানিবাসের বঙ্গবন্ধু যাদুঘরকে স্বাধীনতা যাদুঘর, ইবিআরসি চট্টগ্রাম সেনানিবাসের শেখ কামাল কমপ্লেক্স (ভাস্কর্যসহ) নাম পরিবর্তন করে ইবিআরসি একাডেমিক কমপ্লেক্স করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

আমদানি নয় , দেশীয় পণ্য ৮৪% ভূমিকা রাখছে মূল্যস্ফীতিতে

বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতির মূল কারণ হিসেবে বেশিরভাগ সময় আন্তর্জাতিক বাজারের মূল্যবৃদ্ধি, যুদ্ধবিগ্রহ ও আমদানি নির্ভরতা উল্লেখ করা হলেও, সম্প্রতি উঠে এসেছে যে স্থানীয় বাজারের পণ্যের ভূমিকা এতে সবচেয়ে বড়।

বাংলাদেশ ব্যাংকের পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে মূল্যস্ফীতির পেছনে স্থানীয় পণ্যগুলোর ভূমিকা ছিল ৮৪% এবং আমদানির ভূমিকা ছিল মাত্র ১৬%।

যদিও মূল্যস্ফীতির সাম্প্রতিক কিছুটা হ্রাস পেয়েছে, তবে বাজারে সবজির দাম কমানোর প্রভাবটি মৌসুমি বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। তারা বলেন, সুদহার বাড়িয়ে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়; বরং উৎপাদন এবং সরবরাহ শৃঙ্খল ঠিক করতে হবে।

কৃষি অর্থনীতিবিদরা বলছেন, উৎপাদন মৌসুমে মূল্যস্ফীতি কিছুটা কমে থাকে, তবে সামনে সবজির সরবরাহ কমবে, ফলে মূল্যস্ফীতি বাড়তে পারে।

বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, চাহিদা নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে নয়, বরং সরবরাহ বৃদ্ধির মাধ্যমে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ সম্ভব। তবে সুদহার বৃদ্ধির ফলে ঋণের খরচ বেড়ে গেছে, যা বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান কমিয়ে দিচ্ছে, আর এর প্রভাব সাধারণ জনগণের ওপর পড়ছে।

৯০ দিনের মধ্যে ধর্ষণের বিচার সম্ভব ? কী বলছেন বিশেষজ্ঞরা

দেশব্যাপী একের পর এক ধর্ষণ ও যৌন হয়রানির অভিযোগ প্রকাশ্যে আসার প্রতিবাদে চলমান বিক্ষোভের মধ্যে রোববার (৯ মার্চ) আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, আইন প্রয়োগকারী সংস্থাকে ১৫ দিনের মধ্যে তদন্ত এবং ৯০ দিনের মধ্যে ধর্ষণ মামলার বিচার শেষ করতে হবে।’ বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ১৮০ দিনের মধ্যে ধর্ষণ মামলার বিচার শেষ করতে হয়।এ প্রসঙ্গে সুপ্রিম কোর্টের জ্যেষ্ঠ আইনজীবী আহসানুল করিম দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে (টিবিএস) বলেন, ‘শুধু আইনের পরিবর্তন করে ধর্ষণ কোনোভবেই কমানো সম্ভব নয়। কারণ এর আগে ধর্ষণের শাস্তি যাবজ্জীবনের পরিবর্তে মৃত্যুদণ্ড করা হলেও ধর্ষণের ঘটনা কমেনি, উল্টো বৃদ্ধি পেয়েছে।’

তিনি বলেন, ‘আইন উপদেষ্টা ধর্ষণের ঘটনায় মামলার তদন্ত ১৫ দিনে এবং বিচার ৯০ দিনে সম্পন্ন করার প্রস্তাব দিয়েছেন, সেটি ডাইরেকটিভ, বাধ্যতামূলক নয়। কেউ এটি মানে না। না আদালত, না তদন্ত সংস্থা। এই সময়ের মধ্যে যদি তদন্ত সম্পন্ন না হয় বা বিচারকাজ শেষ না হয়, তাহলে কার ফল কী হবে? মামলা বাতিল হবে। তার মানে এই ধরনের সংশোধন অর্থহীন। শুধু আইন করে হবে না, সেগুলো বাস্তবায়নের দিকে জোর দিতে হবে।’ এই আইনজীবী বলেন, ‘আইনের প্রয়োগ বা বাস্তবায়ন এবং নির্যাতিতা নারীর নিরাপত্তা নিশ্চিত করা-এই বিষয়গুলোতে বড় সমস্যা রয়েছে। সে কারণে ধর্ষণের অভিযোগ বিচারের পর্যায়ে যেতেই অনেক সময় লেগে যায়। আবার নিম্ন আদালতে বিচার হওয়ার পর উচ্চ আদালতে মামলার জটে পড়ে যাচ্ছে।’

মানবাধিকারকর্মী ব্যারিস্টার সারা হোসেন বলেন, ‘আমার মনে হয় তদন্তের সময় কমালে তদন্তকাজে বিঘ্ন ঘটতে পারে। এত অল্প সময়ে মধ্যে তদন্ত করলে, সেটি সঠিকভাবে নাও হতে পারে। তদন্তে ও বিচারকাজের সময়সীমা কমিয়ে আসলে বিচারকে কতটুকু ফলপ্রসু করবে, সেটি নিয়ে সংশয় রয়ে যায়।’তিনি বলেন, ‘তদন্ত ও বিচারের সময়সীমা কমানোর চেয়ে জরুরি হলো ধর্ষণের ঘটনায় যে মামলাগুলো হচ্ছে, সেগুলো সঠিকভাবে ট্র্যাক করা, এসব ঘটনায় ভুক্তভোগীদের ঠিকমতো সুরক্ষা দেওয়া, পুলিশ ও প্রসিকিউশনের মধ্যে যথাযথ সমন্বয় করা ইত্যাদি। এই বিষয়গুলো ঠিকমতো আমলে নিলে, এই ঘটনাগুলো ঠিকমতো মোকাবিলা করতে পারব।’

সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী ও মানবাধিকারকর্মী ব্যারিস্টার জ্যোতির্ময় বড়য়া বলেন, ‘এই সময়ে বিচারকাজ বিলম্বের কারণে নারী নির্যাতনে ঘটনা ব্যাপকহারে বৃদ্ধি পাচ্ছে, এটি বিশ্বাসযোগ্য কথা নয়। আসলে সরকার এরকম ঘটনারোধে কোনো কার্যকর ভূমিকা রাখছে না। সরকার আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় পুরোপুরি ব্যর্থ বলেই এরকম ঘটনা বৃদ্ধি পাচ্ছে।’

Beautiful Losers : লিওনার্ড কোহেনের উন্মাদনা প্রেম ও বিপ্লব

“আমি সেন্ট ক্যাথরিন টেকাকুইথাকে ভালোবাসি। আমি এডিথকে ভালোবাসি। আমি ফারকেও ভালোবাসি। আমি সবাইকে ভালোবাসি, কিন্তু আমি সবচেয়ে বেশি ভালোবাসি নিজেকে ধ্বংস করতে।” একটা ছোট্ট ঘর। ছাঁদ থেকে নেমে আসা আলোয় বসে আছে এক নিঃসঙ্গ মানুষ। তার সামনে পড়ে আছে কিছু জীর্ণ কাগজ, আর মাথার ভেতর একঘেয়ে প্রতিধ্বনিধ্বংস, যৌনতা, ধর্ম, বিদ্রোহ। এডিথ চলে গেছে, ফার অদ্ভুত, আর সেন্ট ক্যাথরিন টেকাকুইথার তার জন্য পাগলাটে আধ্যাত্মিক মোহ। একদিকে কানাডার আদিবাসী ইতিহাস, অন্যদিকে যৌনতা আর অস্তিত্বের সংকটড়সব একসঙ্গে মিশে এক জটিল হ্যালুসিনেশন!

এটাই Beautiful Losers, লিওনার্ড কোহেনের ১৯৬৬ সালে প্রকাশিত উপন্যাস, যা সাহিত্যকে সম্পূর্ণ নতুন মাত্রায় নিয়ে গিয়েছিল। কোহেন শুধু গায়ক বা কবি নন, তিনি একজন সাহিত্যের পাগল বিজ্ঞানী, যিনি শব্দ, ধর্ম, যৌনতা, রাজনীতি আর উন্মাদনা একসঙ্গে মিশিয়ে এক বিস্ফোরণ ঘটিয়েছেন এই বইতে। উপন্যাসের কেন্দ্রে রয়েছে তিনটি চরিত্র একজন নামহীন বর্ণনাকারী, তার প্রয়াত স্ত্রী এডিথ, এবং তাদের বন্ধু ও গুরু ফার। তারা তিনজনই একধরনের মানসিক ও শারীরিক ত্রিভুজে আটকে আছে। গল্প এগিয়ে যায় অতীত, বর্তমান, বাস্তব আর কল্পনার এক বিশৃঙ্খল ভ্রমণের মধ্য দিয়ে।

কিন্তু গল্প এখানে মূল বিষয় নয়, মূল বিষয় হলো অনুভূতি। Beautiful Losers পড়তে গেলে মনে হবে যেন কেউ আপনার মাথার ভেতর ঢুকে গেছে, সমস্ত চিন্তাগুলোকে বিশৃঙ্খল করে দিচ্ছে, আর আপনাকে বাস্তবতা আর কল্পনার মাঝামাঝি এক অদ্ভুত জায়গায় ফেলে দিচ্ছে। কোহেন কখনোই সহজ পথে হাঁটেননি। এই উপন্যাসে তিনি ধর্মীয় ব্যাখ্যাকে এমনভাবে ব্যবহার করেছেন, যা কখনো কখনো বিতর্কিত মনে হতে পারে। তিনি দেখিয়েছেন, কিভাবে সেন্ট ক্যাথরিন টেকাকুইথার প্রতি বর্ণনাকারীর মোহ যৌনতা আর আধ্যাত্মিকতার এক অ ভুত সংমিশ্রণ তৈরি করে।

উপন্যাসে কানাডার আদিবাসীদের ইতিহাস, উপনিবেশবাদ, এবং ব্যক্তিগত বিপর্যয়ের চিত্রও দারুণভাবে এসেছে। কোহেন এখানে শুধু প্রেমের বা ধর্মের গল্প বলেননি, তিনি দেখিয়েছেন কীভাবে প্রেম, ধর্ম, যৌনতা আর রাজনীতি সবকিছু একে অপরের সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত। আবার আপনি যদি আপনি সুন্দর, গোছানো বাক্য খুঁজতে আসেন, তাহলে ভুল জায়গায় এসেছেন। Beautiful Losers এক বিশৃঙ্খল অভিজ্ঞতাড়অবিন্যস্ত চিন্তা, অপ্রত্যাশিত সংলাপ, এলোমেলো বর্ণনা, হ্যালুসিনেশন, কখনো কখনো পরাবাস্তব দৃশ্য। এখানেই কোহেনের জাদু। তিনি ভাষাকে ভেঙে চুরমার করেছেন, আবার তার ভেতরেই একধরনের কবিতা সৃষ্টি করেছেন। এ যেন শব্দের এক তরল বাস্তবতা, যা একবার পড়লে সহজে ভুলে যাওয়া যায় না।

যখন Beautiful Losers প্রকাশিত হয়, তখন কেউ বুঝতে পারেনি যে এটি সাহিত্যিক মহাবিশ্বে কত বড় একটা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে। অনেকে একে অশ্লীল বলেছেন, অনেকে বলেছেন এটি বোধগম্য নয়। কিন্তু সময়ের সঙ্গে সঙ্গে এটি আধুনিক সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাসে পরিণত হয়েছে। এটি নিছক একটি গল্প নয়, এটি একটি অভিজ্ঞতা। যদি সাহিত্যে নতুন কিছু খুঁজে থাকেন, যদি সাহিত্যের নিয়মগুলো ভাঙতে চান, যদি উন্মাদনাকে অনুভব করতে চান, তাহলে Beautiful Losers আপনার জন্য। লিওনার্ড কোহেনের এই উপন্যাস আমাদের মনে করিয়ে দেয় সাহিত্য শুধু গল্প বলার জন্য নয়, সাহিত্য হতে পারে একধরনের বিপ্লব।