Home Blog Page 173

‘মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু’ স্লোগানটি কীভাবে এল

জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে তরুণেরা নিজেরা যেমন স্লোগান তৈরি করেছেন, তেমনি ব্যবহার করেছেন পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের মুক্তিকামী মানুষের সংগ্রাম থেকে জন্ম নেওয়া স্লোগানও। তার একটি ‘মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু’। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরও শীর্ষ ছাত্রনেতাদের অনেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ স্লোগান ব্যবহার করেছেন। এ স্লোগানের পটভূমি কিউবার স্বাধীনতার সংগ্রাম। কিউবার সংবাদমাধ্যম হাভানা টাইমসে প্রকাশিত একটি লেখা থেকে জানা যায় স্লোগানটির জন্ম ১৮৬৮ সালে স্পেনের উপনিবেশ থেকে কিউবার স্বাধীনতার সংগ্রামের শুরুর দিকে। তখন স্লোগানটি ছিল ‘স্বাধীনতা অথবা মৃত্যু’।

১৯৫৯ সালে ফিদেল কাস্ত্রোর নেতৃত্বে বিপ্লবে পতন ঘটে কিউবার মার্কিন মদদপুষ্ট বাতিস্তা সরকারের। এরপর কিউবায় ঘটতে থাকে একের পর অন্তর্ঘাতমূলক ঘটনা। ১৯৬০ সালের মার্চে কিউবার রাজধানী হাভানার সমুদ্রবন্দরে একটি ফরাসি জাহাজে বোমা হামলায় মারা যান ১০০ জন। ওই বছরের ৬ মার্চ নিহত ব্যক্তিদের শেষকৃত্যে সহযোদ্ধাদের লাশের কফিনের সামনে দাঁড়িয়ে ফিদেলের নেতৃত্বে বিপ্লবীরা প্রতিবিপ্লব ঠেকাতে শপথ নেন ‘স্বদেশভূমি অথবা মৃত্যু’ স্লোগান দিয়ে। ফিদেল সেদিনের বক্তব্যে বলেন, ‘আমাদের বিপ্লব শক্তিশালী, আমাদের বিপ্লব অজেয়। কারণ, আমাদের জনগণ বিপ্লব রক্ষায় জীবন দিতে দ্বিধা করবে না।… আমরা বিশ্বাস করি, যেকোনো আগ্রাসন ও ষড়যন্ত্র আমরা রুখে দিতে পারব। কারণ, আমাদের সামনে একটাই পথ, “মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু”।’

ফিদেলের সেই শপথের পর ১৯৬৪ সালের ডিসেম্বরে জাতিসংঘের অধিবেশনে দেয়া বিখ্যাত এক ভাষণে স্লোগানটি ব্যবহার করেন কিউবার বিপ্লবের অন্যতম সংগঠক আর্নেস্তো চে গুয়েভারা। পৃথিবীর নিপীড়িত মানুষের পক্ষে অবস্থান তুলে ধরে জাতিসংঘে চে-র বক্তৃতা ও শেষে ‘মাতৃভূমি অথবা মৃত্যু’ স্লোগান সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। এমন একটা সময়ে চে গুয়েভারা স্লোগানটি ফিরিয়ে আনেন, যখন লাতিন আমেরিকা থেকে শুরু করে আফ্রিকা, এশিয়াসহ পৃথিবীর নানা প্রান্তে উপনিবেশবিরোধী সংগ্রাম জোরদার হচ্ছিল। তৃতীয় বিশ্বের জাতিরাষ্ট্রগুলো ইউরোপীয় উপনিবেশ থেকে একে একে স্বাধীন হচ্ছিল। ফিদেল কাস্ত্রো ও চে গুয়েভারা যে স্লোগান দিয়েছিলেন, তা এখন ব্যবহার করা হচ্ছে বাংলাদেশে।

ধর্ষণ , নিপীড়ন , নারীবিদ্বেষ বন্ধে আবারো সরব বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষাঙ্গন

মাগুরার শিশু ধর্ষণের ঘটনাসহ দেশে অব্যাহত ধর্ষণ ও যৌন নিপীড়নের প্রতিবাদ এবং দ্রুততম সময়ের মধ্যে এসব ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের শাস্তির দাবিতে ঢাকাসহ তিনটি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শনিবার মধ্যরাতে বিক্ষোভ করেছেন।এছাড়া একই দাবিতে গতকাল দেশের বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভমিছিল ও প্রতিবাদ সমাবেশ করেন।গতকাল রোববার সকাল থেকে মধ্যরাত অবধি রাজধানী ঢাকাসহ দেশের নানা প্রান্তে সভা-সমাবেশ, মানববন্ধন ও মিছিল করতে দেখা গেছে। কোথাও কোথাও সড়ক-মহাসড়ক আটকে বিক্ষোভ করেন শিক্ষার্থীরাসহ সাধারণ মানুষ। তাদের স্লোগানে অভিন্ন দাবি-ধর্ষক-নিপীড়ককে দ্রুততম সময়ের মধ্যে বিচারের আওতায় এনে সর্বোচ্চ শাস্তি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করতে হবে।

নারীর প্রতি বিদ্বেষ, ধর্ষণ, নির্যাতন বন্ধে ক্ষোভ-বিক্ষোভে প্রতিবাদমুখর হয়ে উঠেছে গোটা দেশ। বিচারহীনতা ও নিরাপত্তাহীনতার অবসান চেয়ে দল-মত-সংগঠন নির্বিশেষে প্রতিবাদী কর্মসূচি নিয়ে রাস্তায় নেমেছে মানুষ।বিশ্লেষকরা বলছেন, গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী অন্তর্বতী সরকার গঠনের পর নানা দাবি-দাওয়া নিয়ে বিভিন্ন সংগঠন বিক্ষোভ করে আসছে। তবে দু’দিন ধরে ধর্ষণ ও নারী নির্যাতন প্রতিরোেধ প্রশ্নে মানুষ যেভাবে মাঠে নেমেছেন, এমন স্বতঃস্ফূর্ত প্রতিবাদ গত সাত মাসে দেখা যায়নি। এমনকি নিকট অতীতেও এই ইস্যুতে সর্বস্তরের মানুষের মধ্য থেকে উঠে আসা এত বড় বিক্ষোভ কমই দেখা গেছে।

কাজে ব্রেক নেওয়ার স্মার্ট টেকনিক

আধুনিক কর্মসংস্কৃতিতে অনেকেই মনে করেন দীর্ঘ সময় ধরে কাজ করলে উৎপাদনশীলতা বাড়ে। তবে গবেষণা বলে, নিয়মিত বিরতি নেওয়া বরং কাজের দক্ষতা, সৃজনশীলতা এবং মানসিক সুস্থতা উন্নত করে।দীর্ঘ সময় বিরতি ছাড়া কাজ করলে মানসিক ক্লান্তি, একাগ্রতার অভাব এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে।মস্তিষ্কেরও বিশ্রামের প্রয়োজন হয়, যেমনটি শরীরের হয়। কয়েক মিনিটের বিরতিও মনকে সতেজ করে তুলতে পারে, যা একাগ্রতা ও সমস্যা সমাধানের দক্ষতা বাড়ায়।বিখ্যাত “পোমোডোরো টেকনিক” (২৫ মিনিট কাজ, ৫ মিনিট বিরতি) প্রমাণ করেছে যে, ছোট বিরতিগুলো কাজের দক্ষতা বাড়াতে সাহায্য করে। অফিসের চেয়ারে দীর্ঘ সময় বসে থাকার বদলে কয়েক মিনিট হাঁটা, হালকা স্ট্রেচিং করা বা গভীর শ্বাস নেওয়া মানসিক প্রশান্তি এনে দিতে পারে। সহকর্মীদের সঙ্গে ছোটখাটো আলোচনা কর্মপরিবেশকেও উন্নত করে।

দীর্ঘ বিরতি, যেমন লাঞ্চ ব্রেক, সম্পূর্ণভাবে কাজ থেকে মনোযোগ সরিয়ে নেয়, যা কর্মীদের পুনরায় উজ্জীবিত করে। গবেষণা বলছে, অনেক সৃজনশীল ধারণা আসে তখনই যখন মন চাপমুক্ত থাকে। তাই কাজের মাঝে বিশ্রাম নেওয়া মানসিক চাপ কমাতে ও নতুন চিন্তাধারার বিকাশ ঘটাতে সাহায্য করে।তবে অনেকেই মনে করেন, বিরতি নিলে তারা অপ্রোডাক্টিভ বলে মনে হতে পারেন। অথচ বাস্তবতা হলো কৌশলগত বিরতি নেওয়া অলসতার চিহ্ন নয় বরং এটি দীর্ঘমেয়াদে কর্মদক্ষতা বজায় রাখার কৌশল। তাই কর্মক্ষেত্রে এমন একটি সংস্কৃতি গড়ে তোলা উচিত যেখানে বিশ্রামকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।

মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ৩৭০ এক দশক পরও অমীমাংসিত রহস্য

৮ মার্চ ২০১৪ সালে, মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুর থেকে বেইজিংগামী মালয়েশিয়া এয়ারলাইন্স ফ্লাইট ৩৭০ তার নির্ধারিত পথ থেকে সরে গিয়ে পশ্চিম দিকে মালয় উপদ্বীপের ওপর দিয়ে উড়ে যায়।১৫টি দেশের ২৩৯ জন যাত্রী ও ক্রু নিয়ে বোয়িং ৭৭৭বিমানটি রাডার সংযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর দক্ষিণ দিকে ঘণ্টার পর ঘণ্টা উড়ে যায় বলে ধারণা করা হয়। কিছু কর্মকর্তা মনে করেন, জ্বালানি শেষ হয়ে যাওয়ার পর এটি দক্ষিণ ভারত মহাসাগরে বিধ্বস্ত হতে পারে। তবে দীর্ঘ সময় ধরে পরিচালিত ব্যাপক অনুসন্ধান কার্যক্রমের পরও কোনো উত্তর মেলেনিড়কোনো ভুক্তভোগীর সন্ধান মেলেনি, এমনকি বিমানটিও খুঁজে পাওয়া যায়নি।

বিমানটি কেন পথভ্রষ্ট হয়েছিল এবং এটি বর্তমানে কোথায় আছে, সেই প্রশ্ন এখনো বিমান চলাচলের ইতিহাসের অন্যতম বড় রহস্য। মালয়েশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী অ্যান্থনি লোকে ফেব্রুয়ারিতে জানান, নতুন করে এর অনুসন্ধান চালানোর জন্য জাহাজ প্রস্তুত করা হচ্ছে।প্রথম পর্যায়ের অনুসন্ধান ৫২ দিন ধরে চলে, যা মূলত আকাশপথে পরিচালিত হয়। এতে ৩৩৪টি অনুসন্ধান ফ্লাইট পরিচালনা করা হয় এবং ১৭ লক্ষ বর্গমাইল এলাকা তল্লাশি করা হয়।২০১৭ সালের জানুয়ারিতে, অস্ট্রেলিয়া, মালয়েশিয়া ও চীন যৌথভাবে ১৫০ মিলিয়ন ডলার ব্যয়ে ভারত মহাসাগরের তলদেশের ৪৬,০০০ বর্গমাইল এলাকা অনুসন্ধানের পর অভিযান আনুষ্ঠানিকভাবে বন্ধ ঘোষণা করে।

পরবর্তী বছর মালয়েশিয়ার সরকার নিখোঁজ যাত্রীদের পরিবারের চাপে, ওশান ইনফিনিটি নামের একটি কোম্পানির সঙ্গে নতুন করে অনুসন্ধান শুরু করে। কয়েক মাস অনুসন্ধানের পরও কোনো তথ্য না পাওয়ায় ওশান ইনফিনিটি অভিযান বন্ধ করে দেয়।যদিও বিধ্বস্ত বিমানের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়নি, তবু প্রায় ২০টি টুকরো বিভিন্ন স্থানে পাওয়া গেছে, যেগুলো ফ্লাইট ৩৭০-এর বলে ধারণা করা হয়। এগুলো আফ্রিকার মূল ভূখণ্ড ও ভারত মহাসাগরের বিভিন্ন দ্বীপড়মাদাগাস্কার, মরিশাস, রিইউনিয়ন ও রদ্রিগেসড়এর উপকূলে পাওয়া যায়।২০১৫ সালের গ্রীষ্মে, রিইউনিয়ন দ্বীপে একটি বড় ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়, যা বোয়িং ৭৭৭ বিমানের ফ্ল্যাপের অংশ ছিল। এটি ফ্লাইট ৩৭০-এর বলে মনে করা হয়।

২০১৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে মোজাম্বিক উপকূলে একটি নির্জন বালিয়াড়িতে ফাইবারগ্লাস কম্পোজিট ও অ্যালুমিনিয়ামের তৈরি একটি ত্রিভুজাকৃতির ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়, যার গায়ে লেখা ছিল “No Step”।সেপ্টেম্বর ২০১৬ সালে অস্ট্রেলিয়া সরকার নিশ্চিত করে যে, তানজানিয়ার এক দ্বীপে পাওয়া একটি ডানা ফ্লাইট ৩৭০-এরই অংশ ছিল। অস্ট্রেলিয়ান ট্রান্সপোর্ট সেফটি ব্যুরো এর শনাক্তকরণ নম্বর মিলিয়ে এ তথ্য নিশ্চিত করে।বিমানটির নিখোঁজ হওয়া নিয়ে নানা ধরনের তত্ত্ব রয়েছে। কিছু কল্পনাপ্রসূত আবার কিছু বিতর্কিত। তথ্যের অভাবের কারণে তদন্তকারীরা ও সাধারণ জনগণ নানা দিক থেকে এই রহস্যের ব্যাখ্যা খুঁজতে চেয়েছেন।

কিছু বিশেষজ্ঞ মনে করেন বিমানটি জ্বালানি শেষ হয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। আরেকটি তত্ত্ব বলছে, পাইলটরা জরুরি অবতরণের চেষ্টা করেছিলেন। কেউ কেউ ধারণা করেন, পাইলটরা নিয়ন্ত্রণ হারিয়েছিলেন। আবার কেউ কেউ মনে করেন, এটি ছিনতাই করা হয়েছিল।সরকারি প্রতিবেদনে কী বলা হয়েছিল?চার বছরের বেশি সময় ধরে তদন্ত ও অনুসন্ধানের পর, ২০১৮ সালে ৪৯৫ পৃষ্ঠার একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়, যেখানে বিমানটির ভাগ্য সম্পর্কে কোনো নিশ্চিত উত্তর দেওয়া সম্ভব হয়নি। এতে ভুক্তভোগীদের পরিবার প্রচণ্ডভাবে হতাশ হয়, কারণ তারা অন্তত কিছুটা হলেও নিশ্চিত হতে চেয়েছিল।

নিরাপত্তা তদন্ত দলের প্রধান কক সু চোন জানান, প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ীড়যেমন বিমানের পথ পরিবর্তন এবং ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করাড়এসব “অবৈধ হস্তক্ষেপের” (unlawful interference) ইঙ্গিত দেয়, যা ছিনতাইয়ের সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে তোলে। তবে কে বা কেন এ কাজটি করেছে, তার কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।প্রতিবেদনে পাইলট জাহারি আহমদ শাহ ও সহকারী পাইলট ফারিক আবদুল হামিদসহ সব যাত্রীদের আর্থিক অবস্থা, স্বাস্থ্য, রেডিও যোগাযোগের কণ্ঠস্বর এবং সেদিন তাদের হাঁটার ভঙ্গিও বিশ্লেষণ করা হয়। কোনো অস্বাভাবিকতা পাওয়া যায়নি।বিমানটি নিখোঁজ হওয়ার এক দশকের বেশি সময় পার হয়ে গেলেও এখনো কোনো নিশ্চিত উত্তর পাওয়া যায়নি, কোনো ধ্বংসাবশেষও পাওয়া যায়নি। তবে নতুন করে অনুসন্ধান শুরু হতে যাচ্ছে।

মালয়েশিয়ার পরিবহনমন্ত্রী লোকে ২৫ ফেব্রুয়ারি কুয়ালালামপুরে জানান, “আমরা অনুসন্ধান পুনরায় শুরু করার জন্য মৌলিক অনুমোদন দিয়েছি,” ওশান ইনফিনিটি তাদের আগের অনুসন্ধান এলাকায় ফাঁক থেকে যাওয়া স্থানগুলো পরীক্ষা করবে। “আমরা এখনই কিছু অনুমান করতে চাই না,” তিনি বলেন।ফেব্রুয়ারি ২৬ তারিখে এক ইমেইলে ওশান ইনফিনিটি জানিয়েছে যে, তাদের কাছে নতুন করে শেয়ার করার মতো কোনো তথ্য নেই।বর্তমানে ওশান ইনফিনিটি পরিচালিত “আরমাডা ৭৮০৬” নামক একটি জাহাজ অস্ট্রেলিয়ার পশ্চিম উপকূলের ভারত মহাসাগরে আবারও অনুসন্ধানে নিয়োজিত রয়েছে।

ইউক্রেনে পরাজয় লুকাতে দোষারোপের খেলা পশ্চিমাদের : লেওনিদ রাগোজিন , সাংবাদিক

“… ট্রাম্প যেন ইউক্রেনের সঙ্গে সম্পর্ক ছিন্ন করার ছুতা খুঁজছিলেন।… সবকিছু দেখে মনে হতে পারে, এসব যেন ট্রাম্পের খামখেয়ালি ইচ্ছার বহিঃপ্রকাশ। তবে বাস্তবতা আরও গভীর। পশ্চিমা দেশগুলোর জনগণকে ভাওতা দেওয়ার জন্য এটি একধরনের রাজনৈতিক নাটক। এত দিন তাদের বলা হচ্ছিল যে রাশিয়া দুর্বল এবং সহজেই পরাজিত হতে পারে। এখন সেই গল্প পাল্টাতে হচ্ছে। যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের কাছে এ যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার মতো যথেষ্ট সম্পদ ও ইচ্ছা আর নেই। সাবেক ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন একে ‘প্রক্সি যুদ্ধ’ বলেছেন। এখন আসলে ক্ষতি সামলানোর চেষ্টা চলছে। একই সঙ্গে দায় চাপানোর খেলাও চলছে, যাতে পশ্চিমা জনগণ আসন্ন পরাজয়ের জন্য প্রস্তুত থাকে।

… বর্তমান পরিস্থিতিতে ইউক্রেন আগের চেয়ে ভালো কোনো সমাধান পাবে, এমন আশা নেই। ২০২২ সালের বসন্তে ইস্তাম্বুল আলোচনায় যুক্তরাজ্য ও যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ইউক্রেন যে চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেছিল, সেটাও এখন আর সম্ভব নয়। ২০১৫-১৬ সালের মিনস্ক চুক্তিও কার্যকর হওয়ার সুযোগ হারিয়েছে। তখন অন্তত ইউক্রেন দনবাস অঞ্চলের বিচ্ছিন্নতাবাদী এলাকা নিয়ন্ত্রণের আশা করতে পারত। কিন্তু রাশিয়া এখন সেই অঞ্চল আনুষ্ঠানিকভাবে নিজেদের অন্তর্ভুক্ত করেছে। … এখন দোষারোপের খেলা শুরু হয়েছে। তবে এই খেলা শুধু ট্রাম্পই খেলছেন না, ইউরোপীয় নেতারাও ইউক্রেনের প্রতি দৃঢ় সমর্থনের কথা বলছেন। কিন্তু সেটার শর্ত সব সময় একড়যুক্তরাষ্ট্রকে সঙ্গে থাকতে হবে।

… ইউরোপীয় সহায়তা মূলত যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভর করছে। আর মার্কিন সমর্থন আসার সম্ভাবনা নেই। তাই ইউরোপীয় নেতারা সহজেই দোষ ট্রাম্পের ওপর চাপিয়ে ইউক্রেনের বিপর্যয়ের দায় এড়াতে পারবেন। এদিকে জেলেনস্কি চেষ্টা করছেন ইউক্রেনের জনগণকে এটা দেখানোর যে তিনি শেষ পর্যন্ত লড়ে গেছেন। তিনি পশ্চিমা সমর্থন পাওয়ার জন্য অপমান সহ্য করেছেন। কিন্তু দেশের স্বার্থ রক্ষায় সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছেন।… তিনি বলতে পারবেন যে ইউক্রেনকে পশ্চিমারা ফেলে দিয়েছে। তাই রাশিয়ার সঙ্গে চুক্তি করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই। … যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপ ও ইউক্রেনড়সবখানেই এখন একটি অদ্ভুত খেলা চলছে। সবাই আসন্ন পরিণতি সম্পর্কে সচেতন। কিন্তু কেউ প্রকাশ্যে তা স্বীকার করতে রাজি নয়। এই রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে বাস্তবতার চেয়ে সাজানো প্রচারণাকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়।

২০১৪ সাল থেকে রাশিয়ার বিরুদ্ধে পশ্চিমাদের কৌশলও এই প্রচারণানির্ভর রাজনীতির প্রতিচ্ছবি। তথ্যযুদ্ধে তারা মস্কোকে পরাজিত করেছে। হয়তো সত্যকেও কিছুটা বদলে দিয়েছে। নানা মিডিয়া প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে তারা জনমত নিজেদের পক্ষে নিয়েছে। কিন্তু বাস্তবতা বলছে, যুদ্ধক্ষেত্রে পশ্চিমারা হেরে যাচ্ছে। “



কেন বলিউড ছাড়ছেন অনুরাগ কাশ্যপ ?

অনুরাগ কাশ্যপ আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছেন তিনি বলিউড ছেড়ে দিয়েছেন, যা শুধুমাত্র বক্স অফিস সংখ্যা দ্বারা পরিচালিত এবং তাঁর সাম্প্রতিক “দ্য হিন্দুর” সাথে আলোচনায় সৃজনশীল স্বাধীনতার জন্য সামান্য জায়গা রাখে। অভিনেতা-পরিচালক গত বছর দ্য হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়ার সাথে কথোপকথনে “বিষাক্ত” শিল্প নিয়ে তাঁর হতাশার কথা বলেছিলেন। “দ্য হিন্দুকে” দেওয়া সাক্ষাৎকারে, অনুরাগ কাশ্যপ বলেন, “আমি ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রির লোকজন থেকে দূরে থাকতে চাই। শিল্পটি খুব বিষাক্ত হয়ে গেছে।প্রত্যেকেই অবাস্তব লক্ষ্য তাড়া করছে, পরবর্তী ৫০০ কোটি বা ৮০০ কোটি টাকার সিনেমা তৈরি করার চেষ্টা করছে। সৃজনশীল পরিবেশ চলে গেছে।”

একটি সূত্র দ্য হিন্দুকে জানিয়েছে অনুরাগ কাশ্যপ সম্ভবত বেঙ্গালুরুতে স্থানান্তরিত হয়েছেন এবং তিনি আরও পূর্ণাঙ্গ সৃজনশীল অভিজ্ঞতার জন্য দক্ষিণী ছবিগুলিতে কাজ করতে আগ্রহী। এর আগে অনুরাগ কাশ্যপ অভিযোগ করেছিলেন তিনি তাঁর নিজের শিল্প দ্বারা “বিরক্ত” এবং “হতাশ” ছিলেন। তিনি দ্য হলিউড রিপোর্টার ইন্ডিয়াকে বলেছিলেন, “আমি দক্ষিণী চলচ্চিত্র নির্মাতাদের ঈর্ষা করি।এখানে সিনেমা শুরু হওয়ার আগেই, এটি ‘আমরা কীভাবে এটি বিক্রি করব?’ এই গুজব শুরু হয়ে যায়। নির্মাণের আনন্দ শুষে নেওয়া হয়। এই কারণেই আমি বাইরে যেতে চাই। আক্ষরিক অর্থে, আগামী বছর, আমি মুম্বাই ছেড়ে চলে যাচ্ছি।”

অনুরাগ কাশ্যপকে ডাকাত ছবিতে দেখা যাবে, যেখানে তিনি একজন পুলিশ অফিসারের ভূমিকায় অভিনয় করেন। হিন্দি এবং তেলুগুতে শুট করা দ্বিভাষিক এই ছবিতে আদিভি শেষ এবং মৃণাল ঠাকুর প্রধান ভূমিকায় অভিনয় করেছেন। ছবির মুক্তির তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। তিনি বর্তমানে ফুটেজ প্রচার করছেন, একটি মালায়ালাম থ্রিলার যা সাইজু শ্রীধরন পরিচালিত। মঞ্জু ওয়ারিয়ার, বিশাখ নায়ার এবং গায়ত্রী অশোককে অন্তর্ভুক্ত করে এই ছবিটি গত বছর আগস্টে মুক্তি পেয়েছিল। এর হিন্দি সংস্করণ ৭ মার্চ, ২০২৫-এ প্রিমিয়ার হবে। অনুরাগ কাশ্যপ এই ছবির একজন উপস্থাপকও।


ভলকার টুর্কের মন্তব্য নিয়ে যা বলল সেনাবাহিনী

গত জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানে দমন-পীড়নে অংশ না নিতে সেনাবাহিনীকে ‘সতর্ক’ করা হয়েছিল বলে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার টুর্কের মন্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে বিবৃতি দিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)। বিবৃতির উল্লেখযোগ্য অংশ-‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার থেকে এ বিষয়ক কোনো ইঙ্গিত কিংবা বার্তা সম্পর্কে অবগত নয়। যদি এ সংক্রান্ত কোনো উদ্বেগ প্রকাশ করা হয়ে থাকে, তবে তা তৎকালীন বাংলাদেশ সরকারকে জানানো হয়ে থাকতে পারে, সেনাবাহিনীকে নয়।

বাংলাদেশ সেনাবাহিনী জাতীয় নিরাপত্তা নির্দেশিকা অনুযায়ী কাজ করে এবং সর্বদা আইনের শাসন ও মানবাধিকার নীতির প্রতি শ্রদ্ধাশীল। তবে, ভলকার টুর্কের মন্তব্য কিছু মহলের মাধ্যমে ভুলভাবে উপস্থাপিত হচ্ছে, যা সেনাবাহিনীর ভূমিকা সম্পর্কে ভ্রান্ত ধারণা সৃষ্টি এবং এর পেশাদারত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে পারে।” বিবৃতিতে বলা হয়, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনী সর্বদা জনগণের পাশে থাকতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। অতীতের ঘটনাপ্রবাহ, বিশেষত ১৯৯১ সালের গণতান্ত্রিক রূপান্তর প্রমাণ করে যে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী কখনো জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কাজ করেনি। ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের আন্দোলনের সময়ও সেনাবাহিনী জনগণের পাশে দাঁড়িয়েছে এবং কোনো পক্ষপাত বা বাহ্যিক প্রভাব ছাড়াই জননিরাপত্তা নিশ্চিত করেছে।’

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘প্রসঙ্গত, বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে, পেশাদারত্ব ও নিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এখানে উল্লেখ্য যে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অর্জিত আয়ের একটি ক্ষুদ্র অংশ শান্তিরক্ষীরা পেয়ে থাকেন এবং এর সিংহভাগ জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে, যার পরিমাণ গত ২৩ বছরে প্রায় ২৭হাজার কোটি টাকা।’

তরুণদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি কমে গত ১০ বছরে

সান দিয়েগো স্টেট ইউনিভার্সিটির মনোবিজ্ঞানী জিন টোয়েনজ এবং ডার্টমাউথ ইউনিভার্সিটির অর্থনীতিবিদ ডেভিড জি ব্ল্যাঞ্চফ্লাওয়ারের যৌথ গবেষণায় দেখা গেছে-ইংরেজি ভাষাভাষী ছয়টি দেশে তরুণ প্রাপ্তবয়স্করা আগের প্রজন্মের চেয়ে অনেক কম সুখি। জাতিসংঘের পৃষ্ঠপোষকতায় মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র-ভিত্তিক ন্যাশনাল ব্যুরো অফ ইকোনমিক রিসার্চ (এনবিইআর) প্রকাশিত এই গবেষণায় উঠে এসেছে-গত দশ বছরে তরুণদের জীবন নিয়ে সন্তুষ্টি এবং সুখ কমে গেছে। অস্ট্রেলিয়া, কানাডা, আয়ারল্যান্ড, নিউজিল্যান্ড, যুক্তরাজ্য এবং আমেরিকার ১১টি জরিপের তথ্য নিয়ে এই গবেষণাটি করা হয়েছে।

গবেষণায় দেখা গেছে ১২ থেকে ২৫ বছর বয়সীদের মধ্যে হতাশা ও মানসিক কষ্ট অনেক বেড়েছে। কিন্তু বয়স্কদের সুখ এখনো বাড়ছে।কোভিড পরবর্তী দুনিয়ায়, বিশেষ করে ডিজিটাল প্রযুক্তির ব্যবহার ও অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার কারণে তরুণরা অনেক সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছে। গবেষণায় দেখা যাচ্ছে, তরুণদের মধ্যে সুখ কমে যাওয়ার প্রধান কারণ হলো ইন্টারনেট ও সোশ্যাল মিডিয়ার অতিরিক্ত ব্যবহার। গবেষকরা বলছেন, আগের প্রজন্মের চেয়ে এই প্রজন্মের প্রধান পার্থক্য এখানেই। তাদের মতে, স্মার্টফোন আর সোশ্যাল মিডিয়ার কারণে তরুণরা বাস্তব জীবন থেকে দূরে সরে যাচ্ছে, যা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর খারাপ প্রভাব ফেলছে। অন্যান্য দেশের গবেষণাতেও একই ফলাফল দেখা গেছে।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ‘প্রসঙ্গত, বিশ্বের দ্বিতীয় সর্বোচ্চ শান্তিরক্ষী প্রেরণকারী দেশ হিসেবে, পেশাদারত্ব ও নিষ্ঠার জন্য বাংলাদেশ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত। এখানে উল্লেখ্য যে, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে অর্জিত আয়ের একটি ক্ষুদ্র অংশ শান্তিরক্ষীরা পেয়ে থাকেন এবং এর সিংহভাগ জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখে, যার পরিমাণ গত ২৩ বছরে প্রায় ২৭হাজার কোটি টাকা।’

তবে শুধু ইন্টারনেট ও স্মার্টফোন নয়-অর্থনৈতিক সমস্যা, একাকিত্ব এবং আয় বৈষম্যও তরুণদের সুখ কমে যাওয়ার কারণ। ২০২৪ সালের বিশ্ব সুখ প্রতিবেদনে দেখা গেছে, কোভিড-১৯ এর পর ৩০ বছরের কম বয়সীদের সুখ অনেক কমে গেছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রে সুখ বেশি পরিমাণ কমেছে। গবেষকরা বলছেন, তরুণরা কেন দিনদিন অসুখি হচ্ছে তা জানতে আরও গবেষণা দরকার, যাতে সরকার পদক্ষেপ নিতে পারে। কিন্তু ডেভিড জি ব্ল্যাঞ্চফ্লাওয়ার মনে করেন, এই প্রবণতা পাল্টানো কঠিন। তিনি পরামর্শ দিয়েছেন, ফোন থেকে দূরে থেকে মানুষের সঙ্গে সরাসরি কথা বলা উচিত।



ইসরায়েল বিরোধিতাকে ইহুদি বিদ্বেষ ট্যাগ , কলম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের তহবিল বাতিল ট্রাম্প প্রশাসনের

কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ৪০০ মিলিয়ন ডলারের কেন্দ্রীয় অনুদান ও চুক্তি বাতিল করেছে ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসন। তারা বলছে, ইহুদিবিদ্বেষী হয়রানি থেকে শিক্ষার্থীদের নিরাপত্তা দিতে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ ব্যর্থ হওয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। ২০২৩ সালে গাজায় ইসরায়েলের আগ্রাসনের প্রতিবাদে যুক্তরাষ্ট্রের যে বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উত্তাল হয়ে ওঠে, তার একটি কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি। এই বিশ্ববিদ্যালয় বলতে গেলে গাজায় ফিলিস্তিনিদের ওপর ইসরায়েলের নির্বিচার হামলার প্রতিবাদের কেন্দ্রবিন্দু ছিল।
গত বছরের এপ্রিলে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটির ফিলিস্তিনপন্থী শিক্ষার্থীরা বিক্ষোভের একপর্যায়ে ক্যাম্পাসে তাঁবু খাটিয়ে অবস্থান নেন। তাদের টানা ইসরায়েলবিরোধী কর্মসূচিতে আকৃষ্ট হয় যুক্তরাষ্ট্রের অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়। দেশটির গণ্ডি ছাড়িয়ে সেই প্রতিবাদ ছড়িয়ে পড়ে যুক্তরাজ্য ও অস্ট্রেলিয়ার ক্যাম্পাসেও।

যুক্তরাষ্ট্রের ক্যাম্পাসে ছড়িয়ে পড়া ফিলিস্তিনপন্থী বিক্ষোভ ইহুদিবিরোধী হিসেবে বিবেচনা করা হবে কি না, এ নিয়ে রাজনৈতিক ও অ্যাকাডেমিক মহলে বিতর্ক চলছে আজও। রিপাবলিকানরা শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভকে ইহুদিবিদ্বেষী হিসেবেই দেখে। যদিও বিক্ষোভে অংশ নেওয়া শিক্ষার্থীদের মধ্যে ইহুদিরাও ছিলেন। গত মঙ্গলবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজের সোশাল মিডিয়া ট্রুথ সোশালে ফিলিস্তিনপন্থীদের হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন- “ক্যাম্পাসে বিক্ষোভ করা শিক্ষার্থীদের তাদের নিজ নিজ দেশে স্থায়ীভাবে ফেরত পাঠানো হবে। অপরাধ বুঝে তাদের গ্রেপ্তার করা হবে।”

ট্রাম্প প্রশাসন ও যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল শিবির মনে করে, দেশটির বিশ্ববিদ্যালয়গুলো উদারপন্থী প্রভাবিত। তাদের মতে, এখনই সময় এই প্রভাব খর্ব করার। এর অংশ হিসেবে দ্বিতীয় মেয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতায় বসার পর ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের বিরোধিতা করা বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর ওপর খড়গহস্ত হয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। ট্রাম্প প্রশাসন এই সিদ্ধান্ত এমন সময় নিল, যখন ইসরায়েল ও গাজায় তাদের আগ্রাসনের সমালোচনাকারী শিক্ষার্থীদের বিরুদ্ধে সম্প্রতি একটি নতুন শৃঙ্খলা কমিটি গঠন করে নিজস্ব তদন্ত শুরু করেছে কলাম্বিয়া ইউনিভার্সিটি। নিউ ইয়র্কের বিশ্ববিদ্যালয়টির এই পদক্ষেপকে মতপ্রকাশের স্বাধীনতার ওপর আঘাত হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।

ঢাকায় পরিবহন থেকে চাঁদাবাজি প্রতিদিন ২ কোটি ২১ লাখ টাকা , নিয়ন্ত্রণে এখন বিএনপি সংশ্লিষ্টরা

ঢাকা শহরের ৫৩টি পরিবহন টার্মিনাল ও স্ট্যান্ড থেকে প্রতিদিন ২ কোটি ২১ লাখ টাকা চাঁদাবাজি করা হয়। প্রতি মাসে এটি ৬৬ কোটি ৩০ লাখ টাকা, আবার কখনো তা বেড়ে ৮০ কোটি টাকা পর্যন্ত পৌঁছায় বলে একটি সরকারি তদন্তে উঠে এসেছে। সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর সূত্র থেকে জানা গেছে, শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর একটি গোয়েন্দা সংস্থার তদন্তে আরও দেখা গেছে যে-স্থানীয় প্রভাবশালী এবং রাজনৈতিক দলের নেতারা, বিশেষ করে বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা এই চাঁদাবাজির সঙ্গে জড়িত। গত ১১ ফেব্রুয়ারি সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরে প্রতিবেদনটি জমা দেওয়া হয়।

প্রতিবেদনে বলা হয়, আওয়ামী লীগের শাসনামলে দলটির নেতা-কর্মীরা চাঁদাবাজির একটি ব্যবস্থা কায়েম করেছিলেন। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর এই ব্যবস্থার দখল নেয় স্থানীয়ভাবে প্রভাবশালী ব্যক্তিরা, বিশেষ করে বিএনপি এবং এর অঙ্গ সংগঠনের নেতারা। গোয়েন্দা সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে-অতীতে আওয়ামী লীগের লোকজন চাঁদাবাজির জন্য টোকেন, রশিদ এবং স্টিকার ব্যবহার করত। কিন্তু নতুন চাঁদাবাজরা ধরা পড়ার ঝুঁকি এড়াতে অভিনব পদ্ধতি চালু করেছে। নৈশপ্রহরী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী ও লাইনম্যানদের বেতন পরিশোধের অজুহাতে এখন চাঁদাবাজি হচ্ছে এবং নগদ অর্থ এবং বিকাশ ব্যবহার করে লেনদেন হচ্ছে। বর্তমানে রাজধানী এবং এর আশেপাশের এলাকায় বাস, ট্রাক, মাইক্রোবাস, পিকআপ, হিউম্যান হলার (লেগুনা) এবং অটোরিকশাসহ ৯৫ ধরনের টার্মিনাল এবং স্ট্যান্ড রয়েছে। এর মধ্যে ৬৬টি টার্মিনাল এবং স্ট্যান্ডই রয়েছে রাজধানীতে।

৫৬টি টার্মিনালে তদন্ত চালানো হলে ৫৩টিতেই চাঁদাবাজির প্রমাণ পাওয়া যায়। ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পর পরিবহন খাতের নিয়ন্ত্রণ হাতছাড়া হয়ে যায়, বিএনপি-সমর্থিত নেতারা বিভিন্ন মালিক সমিতির পাশাপাশি টার্মিনালের কিছু গুরুত্বপূর্ণ পদ দখল করে নেন। গত বছরের মার্চ মাসে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের এক গবেষণায় দেখা গেছে যে, সারা দেশে প্রতি বছর বাসগুলোকে কমপক্ষে ১ হাজার ৫৯ কোটি টাকা অবৈধ টোল এবং ঘুষ হিসেবে দিতে হয়। টিআইবির প্রতিবেদনে উঠে এসেছে-বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) কর্মকর্তা-কর্মচারী, পুলিশ কর্মকর্তা, পরিবহন সমিতি, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভার কর্মী এবং রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা ঘুষ এবং চাঁদাবাজির অর্থের ভাগ পেয়ে থাকেন।