Home Blog Page 174

ট্রাম্প কেন বাণিজ্য যুদ্ধ শুরু করলেন ?

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প চীন, কানাডা ও মেক্সিকোর বিরুদ্ধে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু করেছেন। এপ্রিল মাসে আরও অনেক দেশের পণ্যেই তিনি শুল্ক আরোপ করবেন। মূলত ট্রাম্প এই ঘোষণা দিয়েছেন বিদ্যমান বাণিজ্য-ঘাটতি মেটাতে। বাণিজ্যযুদ্ধের পেছনের অন্যতম কারণ হচ্ছে, এই দেশগুলোর তাদের বাজার যুক্তরাষ্ট্রের সব পণ্যের জন্য খোলা রাখেনি। কিন্তু তার বিপরীতে এসব দেশের অধিকাংশ পণ্য যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে প্রবেশাধিকার পাচ্ছে। ডোনাল্ড ট্রাম্পের কাছে যা বৈষম্যমূলক মনে হয়েছে। এ ছাড়া মুদ্রার অবমূল্যায়নের মাধ্যমে সুবিধা আদায় করে নেওয়া, বুদ্ধিবৃত্তিক সম্পদ চুরি ও সরকারি ভর্তুকি প্রদানের মাধ্যমে চীন নিজের কোম্পানিগুলোকে কম মূল্যে পণ্য উৎপাদনের সুযোগ করে দেওয়ার মধ্য দিয়ে বাজারে অসম প্রতিযোগিতা তৈরির অভিযোগও আছে মার্কিন প্রশাসনের।

যন্ত্রের ব্যবহারে উৎপাদন বাড়ে, অনেক মানুষ চাকরি হারায়। অনেক মানুষ অর্থনৈতিক সংকটের কবলে পড়ে। তবে সাধারণ মানুষকে বোঝানো সহজ করতে জনতুষ্টিবাদী নেতারা যন্ত্রের বদলে বিদেশিদের ঘাড়ে দোষ চাপান। তাঁরা অভিবাসীদেরও দোষ দেন। অভিবাসীরা চাকরি নিয়ে নিচ্ছে বা তাদের সংস্কৃতি আলাদা-এই তাদের প্রচারণা। ডোনাল্ড ট্রাম্প মূলত এই স্লোগান তুলে জনপ্রিয়তা পান। তাঁর ভাষ্য ছিল, বিশ্বায়নের কারণে চীনে সব কারখানা চলে গেছে, তাই মার্কিন নাগরিকেরা কাজ পাচ্ছেন না। এবার তিনি যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছেন।

দেশে যদি আমদানির অর্থমূল্য রপ্তানির চেয়ে বেশি হয়, তার অর্থ হলো, দেশের সরকার বা নাগরিকেরা আয় বা কর সংগ্রহের তুলনায় বেশি ব্যয় করছেন। অর্থাৎ সেই দেশের জাতীয় সঞ্চয় তাদের জাতীয় বিনিয়োগের চেয়ে কম। দেশে বাণিজ্য-ঘাটতি হলে বহির্বিশ্ব থেকে ঋণ করতে হবে ঘাটতি মেটাতে। যুক্তরাষ্ট্র বর্তমানে ঠিক তাই করছে। দেশটির জাতীয় ঋণ সীমা ছাড়িয়ে গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে ১৯৩৯ সালে প্রথম জাতীয় ঋণসীমা নির্ধারিত হয় ৪৫ বিলিয়ন বা ৪ হাজার ৫০০ কোটি ডলার। এরপর এখন পর্যন্ত ১০৩ বার এই ঋণসীমা বাড়াতে হয়েছে। ২০২৩ সালের অক্টোবরে দেশটির জাতীয় ঋণ অনুমোদিত সীমার ৯৮ শতাংশে উঠে যায়, ২০০১ সালে যা ছিল মাত্র ৩২ শতাংশ। বর্তমানে এই সীমা ৩৩ লাখ কোটি ডলার।

২০১৬ সালে নির্বাচিত হওয়ার পর ডোনাল্ড ট্রাম্প ধনীদের করছাড় দিয়েছিলেন। এরপর কোভিডের সময় মানুষকে প্রণোদনা দিতে মার্কিন সরকারকে বিপুল পরিমাণে ঋণ নিতে হয়েছে। সে কারণে গত কয়েক বছরে মার্কিন সরকারের ঋণ অনেকটা বেড়েছে। এখন ট্রাম্প আবার ধনীদের ছাড় দিলে রাজস্ব আয় কমবে। তার সঙ্গে ইসরায়েল-হামাস ও রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ইসরায়েল ও ইউক্রেনকে বিপুল পরিমাণে সহায়তা দিয়েছে। এই পরিস্থিতি চলতে থাকলে যুক্তরাষ্ট্রের দেউলিয়া হয়ে যাওয়ার উপক্রম হতো। ফলে ট্রাম্প যে যুদ্ধ অর্থায়ন বন্ধের অঙ্গীকার করেছিলেন, মানুষ তাতে সমর্থন দেয়।

ট্রাম্প আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে এক ঢিলে বহু পাখি মারার কথা ভাবছেন। একদিকে যেমন বিভিন্ন দেশকে বিভিন্ন কারণে শায়েস্তা করার পরিকল্পনা, তেমনি ট্রাম্প আমদানি শুল্ক বাড়িয়ে সরকারি বাজেট-ঘাটতি পূরণ করার কথাও ভাবছেন, যাতে আয়কর বাড়াতে না হয়। তিনি মনে করছেন, আমদানি শুল্ক আরোপ করা হলে দেশের শিল্প চাঙা হবে। এমনকি কোনো দেশ যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে উৎপাদনকেন্দ্র তৈরি করলে তারা আমদানি শুল্কসহ অন্যান্য কর ছাড় পাবে। সরকারি বাজেট-ঘাটতি কমানোর জন্য দুটি পথ খোলা আছে, কর বাড়ানো বা সরকারি ব্যয় কমানো। প্রথম পথটি ট্রাম্প অবশ্যই নেবেন না, কারণ, তিনি ভোটারদের করহাসের প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

এরপর রইল দ্বিতীয় পথ। নির্বিচারে ব্যয় কমানো সরকারি সঞ্চয় বাড়ানোর চটজলদি পথ। ট্রাম্প সরকারের আয়তন কমাচ্ছেন। চাকরি হারাচ্ছেন অনেক সরকারি কর্মী। আমদানি শুল্ক ট্রাম্পের কৌশলগত অস্ত্র। তবে এই অস্ত্রের প্রভাব আন্তর্জাতিক ভূরাজনীতিতে সুদূরপ্রসারী হতে পারে।

আফিম যুদ্ধ ব্রিটিশ সাম্রাজ্য , চীন ও ভারতের ইতিহাসের সংঘর্ষ

আধুনিক ইতিহাসে আফিম যুদ্ধ (Opium Wars) একটি গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংঘাত যা উনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের বাণিজ্য নীতির ফলে উদ্ভূত হয়। এটি মূলত ব্রিটেন ও চীনের মধ্যে সংঘটিত হলেও কিন্তু ভারতের ভূমিকাও ছিল অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ব্রিটিশ শাসিত ভারত থেকেই আফিম চীনে রপ্তানি করা হতো, যা এই যুদ্ধের অন্যতম প্রধান কারণ হয়ে দাঁড়ায়। আঠারো ও উনবিংশ শতাব্দীতে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি চীনের সাথে বাণিজ্যের মাধ্যমে ব্যাপক মুনাফা অর্জন করতে চেয়েছিল। কিন্তু চীনের সাথে বাণিজ্যে ব্রিটেনের বড় ধরনের ঘাটতি দেখা দেয়, কারণ চীন কেবল রূপার বিনিময়ে তাদের পণ্য রপ্তানি করত, বিশেষত চা, সিল্ক ও চীনামাটি। এই অর্থনৈতিক ভারসাম্য পরিবর্তনের জন্য ব্রিটিশরা ভারত থেকে উৎপাদিত আফিম চীনে পাচার করতে শুরু করে।

প্রথম আফিম যুদ্ধ সংঘটিত হয় (১৮৩৯-১৮৪২) সালে। চীনা সরকার বিশেষত সম্রাট দাউগুয়াং, আফিমের ক্ষতিকর প্রভাব অনুধাবন করে এর আমদানি নিষিদ্ধ করার উদ্যোগ নেয়। ১৮৩৯ সালে চীনা কর্মকর্তা লিন জেম্মু ক্যান্টন বন্দরে ব্রিটিশদের আফিম ধ্বংস করে দেন এবং ব্রিটিশ বণিকদের উপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। এর ফলে ব্রিটিশরা সামরিক পদক্ষেপ গ্রহণ করে, যা প্রথম আফিম যুদ্ধের সূচনা করে। এই যুদ্ধে ব্রিটিশ নৌবাহিনী আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র ও যুদ্ধজাহাজ ব্যবহার করে চীনা সামরিক শক্তিকে পরাজিত করে। ১৮৪২ সালে নানকিং চুক্তির মাধ্যমে চীন ব্রিটেনের কাছে পরাজিত হয়। চুক্তি অনুসারে, চীনকে হংকং দ্বীপ ব্রিটেনের কাছে হস্তান্তর করতে হয় এবং পাঁচটি বন্দর বাণিজ্যের জন্য উন্মুক্ত করতে হয়।

দ্বিতীয় আফিম যুদ্ধের সময়কাল (১৮৫৬-১৮৬০), প্রথম আফিম যুদ্ধের পর ব্রিটেন ও অন্যান্য পশ্চিমা শক্তির (বিশেষত ফ্রান্স) চীনের ওপর বাণিজ্যিক আধিপত্য আরও বিস্তৃত করার আকাঙ্ক্ষা বাড়তে থাকে। ১৮৫৬ সালে ব্রিটিশরা “এরো ঘটনা” (Arrow Incident) কে অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে নতুন করে যুদ্ধ শুরু করে, যেখানে ফ্রান্সও তাদের পাশে যুক্ত হয়। এই যুদ্ধে চীন আবারো পরাজিত হয় এবং ১৮৬০ সালের বেইজিং চুক্তির মাধ্যমে আরও অপমানজনক শর্ত মেনে নিতে বাধ্য হয়। এর ফলে ব্রিটিশ ও ফরাসি বাহিনী চীনের রাজধানী দখল করে এবং ঐতিহাসিক সামার প্যালেস ধ্বংস করে। চীনের ওপর আরও নতুন বাণিজ্যিক ও কূটনৈতিক বাধ্যবাধকতা চাপানো হয়।

আফিম যুদ্ধের অন্যতম প্রধান চালিকা শক্তি ছিল ভারত। ব্রিটিশরা ভারতের বিহার, উত্তর প্রদেশ ও বাংলায় ব্যাপকভাবে আফিম উৎপাদন করাত এবং চীনে এটি রপ্তানি করত। ভারতীয় কৃষকদের ওপর জোর করে আফিম চাষ চাপিয়ে দেওয়া হয়, যা স্থানীয় কৃষি অর্থনীতির উপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। এই নীর্তির মাধ্যমে ব্রিটিশরা ভারতের কৃষি অর্থনীতিকে বাণিজ্যিক স্বার্থে ব্যবহার করেছিল। আফিম যুদ্ধ শুধু চীনের জন্যই নয়, সমগ্র এশিয়ার উপনিবেশবাদী ইতিহাসের জন্য গুরুত্বপূর্ণ। এই যুদ্ধের ফলে চীনের সার্বভৌমত্ব হ্রাস পায়। ব্রিটিশদের নেতৃত্বে পশ্চিমা শক্তিরা চীনে আধিপত্য বিস্তার করে এবং “অশুভচুক্তি” (Unequal Treaties) চাপিয়ে দেয়।

ভারতীয় অর্থনীতির ক্ষতি হয় অনেক। আফিম চাষের জন্য খাদ্যশস্য উৎপাদন কমে যায়, যা ধীরে ধীরে দুর্ভিক্ষের কারণ হয়ে দাঁড়ায়। চীনে পশ্চিমা প্রভাব বৃদ্ধি পায়, যুদ্ধের ফলে চীনে পশ্চিমা সংস্কৃতি, খ্রিস্টধর্ম এবং নতুন বাণিজ্যিক চুক্তিগুলোর প্রসার ঘটে। সাথে সাথে ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের শক্তি বৃদ্ধি পায়। ব্রিটেন পূর্ব এশিয়ায় তাদের বাণিজ্যিক ও সামরিক প্রভাব আরো দৃঢ় করে। আফিম যুদ্ধ ইতিহাসের একটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ঘটনা যা চীন, ভারত এবং ব্রিটিশ সাম্রাজ্যের মধ্যে জটিল সম্পর্ককে প্রতিফলিত করে। এই যুদ্ধ শুধুমাত্র উপনিবেশবাদী শক্তির অর্থনৈতিক স্বার্থ রক্ষার জন্য সংঘটিত হয়েছিল, যার ফলে ভারত ও চীনের জনগণ ভোগান্তির শিকার হয়। আফিম যুদ্ধ কেবল অতীতের ঘটনা নয়, এটি আধুনিক এশিয়ার রাজনীতি ও আন্তর্জাতিক সম্পর্কের উপর দীর্ঘস্থায়ী প্রভাব ফেলেছে।


পরিবেশ ও জলবায়ু পরিবর্তনে AI এর বিপজ্জনক প্রভাব

বর্তমান যুগে Al প্রযুক্তি বিশ্বব্যাপী বিপ্লব ঘটাচ্ছে। একদিকে এটি জীবনযাত্রা সহজ এবং সুবিধাজনক করতে সহায়ক হলেও, অপরদিকে এর ব্যবহারের নেতিবাচক প্রভাবও অনেকে অনুভব করছেন। বিশেষত জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রকৃতির ওপর Al এর প্রভাব এক জটিল এবং উদ্বেগজনক বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। যখন আমরা Al এর সুবিধা গ্রহণ করছি, তখন এর অপ্রত্যাশিত নেতিবাচক প্রভাবগুলোও উপেক্ষা করা যায় না। এই প্রযুক্তির ভুল ব্যবহারে পরিবেশ এবং জলবায়ু সংকট আরো তীব্র হতে পারে। Al প্রযুক্তি চলমান রাখতে এবং বিভিন্ন মেশিন লার্নিং এবং ডিপ লার্নিং সিস্টেমগুলোর কার্যক্রম পরিচালনা করতে প্রচুর পরিমাণে শক্তি ব্যবহৃত হয়। বর্তমানে ডেটা সেন্টার এবং সার্ভার ফার্মগুলোর জন্য Al এর প্রয়োজনীয় শক্তি প্রায়ই স্বল্পস্থায়ী শক্তির উৎস থেকে আসে।এর ফলে গ্রীনহাউস গ্যাসের নিঃসরণ বাড়ে এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন ত্বরান্বিত হয়।

উদাহরণস্বরূপ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা চালিত প্রযুক্তি যেমন ভাষা মডেল, চিত্র বিশ্লেষণ এবং গেমিং সিস্টেমগুলি একটানা চলতে থাকতে বিপুল পরিমাণে শক্তির প্রয়োজন। সেই শক্তির বেশিরভাগই আসে জীবাশ্ম জ্বালানি থেকে, যা পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। Al প্রযুক্তির ব্যবহার বৃদ্ধির সাথে সাথে ইলেকট্রনিক ডিভাইসের চাহিদাও বৃদ্ধি পাচ্ছে, যার ফলে বড় পরিমাণে ইলেকট্রনিক বর্জ্য তৈরি হচ্ছে। স্মার্টফোন, কম্পিউটার, ট্যাবলেট, রোবটিক যন্ত্রপাতি ইত্যাদি একের পর এক তৈরি ও পরিত্যাগ করা হচ্ছে, যার ফলে পৃথিবীতে ব্যাপক ইলেকট্রনিক বর্জ্য জমে থাকে। এই বর্জ্যগুলো যথাযথভাবে পুনঃব্যবহার না করলে তা পরিবেশের জন্য মারাত্মক ক্ষতিকর। বিষাক্ত রাসায়নিক পদার্থ যেমন, ক্যাডমিয়াম, পারদ, এবং লেড একটি বিষাক্ত পরিবেশ সৃষ্টি করতে পারে, যা জলজ প্রাণী এবং মাটির জীববৈচিত্র্যকে হুমকির মুখে ফেলছে।

Al প্রযুক্তি বিশেষভাবে কৃষি, বনায়ন, মাইনিং এবং নির্মাণ কাজে ব্যবহৃত হচ্ছে, যা প্রকৃতির ক্ষতি করতে পারে। একদিকে এটি মানুষের জন্য অনেক সুবিধা নিয়ে আসলেও অন্যদিকে এর অতিরিক্ত ব্যবহার বা ভুল ব্যবহারে জীববৈচিত্র্য হুমকির মুখে পড়ছে। রোবটিক কৃষিকাজ এবং প্রযুক্তি দ্বারা পরিচালিত খনি শিল্প প্রাকৃতিক পরিবেশের ভারসাম্যকে নষ্ট করতে পারে। বনাঞ্চল এবং মাটির ক্ষয় প্রতিরোধের পরিবর্তে, এইসব প্রযুক্তি জমির ক্ষয়, বন উজাড় এবং জীববৈচিত্র্যের সংকট সৃষ্টি করছে।

Al এর উপর অতিরিক্ত নির্ভরতা প্রকৃতির সাথে মানুষের সম্পর্ককে আরও দুর্বল করে তুলতে পারে। মানুষ যখন কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার উপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ে, তখন প্রকৃতির শক্তির প্রতি আমাদের সংবেদনশীলতা কমে যায়। Al এর মাধ্যমে জীবনযাত্রাকে সহজ করার চেষ্টা করা হলেও, এর দীর্ঘমেয়াদী প্রভাব মানব সমাজের জন্য বিপজ্জনক হতে পারে। বিশেষ করে যদি প্রযুক্তি প্রকৃতির সাথে সঙ্গতিপূর্ণ না হয়, তবে তা পরিবেশ এবং জলবায়ুর ওপর বিপদজনক প্রভাব ফেলতে পারে। প্রযুক্তি যখন প্রকৃতির ভারসাম্যকে অগ্রাহ্য করে চলে, তখন এটি ভবিষ্যতে বড় ধরনের পরিবেশগত বিপর্যয়ের সৃষ্টি করতে পারে।

AI প্রযুক্তি যখন বড় পরিসরে ব্যবহৃত হয়, তখন এটি কার্বন নিঃসরণের পরিমাণ বাড়াতে সাহায্য করে। উদাহরণস্বরূপ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ব্যবহৃত পরিবহন ব্যবস্থা, উড়োজাহাজ এবং রোবটিক সিস্টেমগুলোর জন্য শক্তির বড় চাহিদা রয়েছে, যা জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীল। এভাবে মানবজাতির শিল্প কার্যক্রমের মাধ্যমে পৃথিবীতে প্রচুর পরিমাণে কার্বন নিঃসরণ ঘটছে। এই গ্যাসের নিঃসরণ পরিবেশের ওপর বিরূপ প্রভাব ফেলে, যার ফলে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের সমস্যা আরও তীব্র হয়।

Al প্রযুক্তি যখন পরিবহন, শিল্প, এবং খনিজ শোষণে ব্যবহার করা হয়, তখন তা পরিবেশে বিভিন্ন ধরনের দূষণ সৃষ্টি করতে পারে।বিশেষ করে খনি ও কৃষিক্ষেত্রে প্রযুক্তির ব্যবহার অনেক সময় পরিবেশের প্রতি অবহেলা সৃষ্টি করে। অতিরিক্ত পানি ব্যবহার, মাটি ও পানি দূষণ এবং বনাঞ্চল ধ্বংস করা পরিবেশের জন্য গুরুতর সমস্যা হয়ে দাঁড়ায়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মাধ্যমে উৎপাদিত পণ্যগুলোর কারণে প্লাস্টিক এবং অন্যান্য বিষাক্ত বর্জ্যও প্রকৃতিতে সঞ্চিত হয়, যা প্রকৃতির ভারসাম্য নষ্ট করে। Al এর নেতিবাচক প্রভাব জলসম্পদ ব্যবস্থাপনায়ও দেখা যাচ্ছে। প্রথমত AI প্রযুক্তির মাধ্যমে কৃষি, নির্মাণ এবং শিল্প খাতে পানি ব্যবহারের চাহিদা বাড়ছে, যা অনেক অঞ্চলে পানি সংকট সৃষ্টি করতে পারে। বিশেষত অস্বাভাবিক কৃষি উৎপাদন এবং শিল্প কার্যক্রমে অপ্রত্যাশিত পানি ব্যবহার গৃহস্থালির এবং প্রাকৃতিক জলাধারের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করতে পারে।

দ্বিতীয়ত AI সিস্টেমগুলোর ব্যবহারে জলজ পরিবেশে দূষণ বাড়ছে। যেমন, শিল্প ও খনিজ শোষণ প্রযুক্তির মাধ্যমে পানি দূষণ ঘটে এবং অবশেষে তা নদী, হ্রদ এবং সমুদ্রে চলে যায়, যা জলজ প্রাণী ও মানুষের জন্য ক্ষতিকর হতে পারে। Al এর মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন বা পরিবহন সিস্টেমের জন্য পানি সরবরাহ ব্যবস্থায় পরিবর্তন আনার ফলে, জলবায়ু পরিবর্তন এবং পৃথিবীর পানির ঘাটতি আরও তীব্র হতে পারে। পানির অপ্রতুলতা এবং দূষণ জনিত সমস্যা অনেক অঞ্চলে জলবায়ু পরিবর্তনের আরো জটিল রূপ সৃষ্টি করতে পারে। Al প্রযুক্তি যদি সঠিকভাবে ব্যবহার করা না হয়, তবে এটি জলবায়ু পরিবর্তন এবং প্রকৃতির জন্য বড় ধরনের হুমকি হয়ে উঠতে পারে। এর ব্যয়বহুল শক্তির ব্যবহার, ইলেকট্রনিক বর্জ্য সৃষ্টি, জীববৈচিত্র্যের ক্ষতি, অতিরিক্ত নির্ভরতা, পানি সংকট এবং দূষণ পরিবেশের জন্য বিপজ্জনক।

যদিও AI কিছু ক্ষেত্রে পরিবেশের উন্নতিতে সহায়ক হতে পারে, তবে এর নেতিবাচক প্রভাবগুলো উপেক্ষা করা যায় না। তাই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার সঠিক ব্যবহার নিশ্চিত করতে হবে এবং প্রযুক্তির বিকাশকে প্রকৃতির প্রতি সম্মান জানিয়ে পরিচালনা করতে হবে, যাতে এটি পরিবেশ ও জলবায়ুর জন্য সুরক্ষিত এবং টেকসই হতে পারে।


বাংলাদেশে সরকার বদলালে পরিবর্তন আসতে পারে : ভারতীয় সেনাপ্রধান

শনিবার (৮ মার্চ) দিল্লিতে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের এক অনুষ্ঠানে ভারতীয় সেনাপ্রধান জেনারেল উপেন্দ্র দ্বিবেদী বলেছেন-ঢাকায় সরকার পরিবর্তন হলে ভারত-বাংলাদেশ সম্পর্ক পরিবর্তিত হতে পারে, তাই এ বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়াটা খুব দ্রুত হয়ে যায়। এ বিষয়ে জেনারেল দ্বিবেদী আরও বলেন, ‘আমি খুব স্পষ্ট করেই বলব, (বাংলাদেশ ও ভারতের) বর্তমান সামরিক-সামরিক সম্পর্ক খুবই শক্তিশালী। এবং আমরা নিয়মিতভাবে নোট বিনিময় করি, যাতে যেকোনো ধরনের দ্বিধা-দ্বন্দ্ব বা সন্দেহ এড়ানো যায়।’

পাকিস্তানের সঙ্গে বাংলাদেশের ক্রমবর্ধমান ‘ঘনিষ্ঠ’ সম্পর্কের ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে সেনাপ্রধান দ্বিবেদী বলেন, ‘সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্রস্থলে একটি দেশ রয়েছে, সেই দেশের সঙ্গে আমাদের প্রতিবেশি যেকোনো দেশের সম্পর্কের ব্যাপারে আমি উদ্বিগ্ন। আমার চিন্তিত হওয়া উচিত, কারণ সন্ত্রাসবাদের পথটি সেই দেশ থেকেও ব্যবহার করা হতে পারে। এটিই আমার উদ্বেগের প্রধান বিষয়।’ তিনি প্রতিবেশীর সঙ্গে সৌহার্দ্যপূর্ণ সম্পর্ক ও শান্তি বজায় রাখার পক্ষে মত দেন এবং পাকিস্তানের প্রতি ‘সন্ত্রাসবাদের কেন্দ্রবিন্দু’ থেকে একটি স্থিতিশীল রাষ্ট্রে রূপান্তরের আহ্বান জানান। এ ছাড়া পাকিস্তান ও চীনের সম্পর্ক নিয়ে ভারতীয় সেনাপ্রধান বলেছেন, ‘উভয় দেশের মধ্যে উচ্চ মাত্রার যোগসাজশ রয়েছে এবং এটা আমাদের মেনে নিতে হবে। যা আমার কাছে অর্থবহ, তা হলো দ্বিমুখী হুমকির বাস্তবতা।’ খবর এনডিটিভি ও পিটিআই’র।

কমিক্সের রহস্যময় দার্শনিক : অ্যালান মুর

অ্যালান মুর (Alan Moore) আধুনিক কমিক্স শিল্পের অন্যতম প্রভাবশালী লেখক। ব্রিটিশ এই লেখক শুধু কমিক্সের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নন। তার কাজ সাহিত্য, রাজনীতি, দর্শন ও জাদুবিদ্যার গভীরতম স্তরে বিস্তার লাভ করেছে। তার রচিত গ্রাফিক নভেলগুলো শুধু বিনোদনের উপাদান নয় বরং এগুলো সমাজ-রাজনীতি ও অস্তিত্ববাদ নিয়ে গভীর চিন্তাকে উস্কে দেয়।

অ্যালান মুর ১৯৫৩ সালের ১৮ নভেম্বর ইংল্যান্ডের নর্থহ্যাম্পটনে জন্মগ্রহণ করেন। শৈশব থেকেই বই পড়ার প্রতি আগ্রহী ছিলেন এবং ধীরে ধীরে কমিক্সের জগতে প্রবেশ করেন। ১৯৭৯ সালে তিনি ২০০০ অউ ম্যাগাজিনের মাধ্যমে কমিক্স রচনায় আত্মপ্রকাশ করেন। সেখান থেকে তার প্রতিভার স্বীকৃতি পেতে দেরি হয়নি। ১৯৮০-এর দশকের শুরুতে তিনি Marvel UK, Warrior এবং DC Comics-এর মতো প্রকাশনীর সঙ্গে কাজ করতে শুরু করেন। উল্লেখযোগ্য কাজসমূহের মধ্যে – V for Vendetta (১৯৮২-১৯৮৯) এটি একটি ডিস্টোপিয়ান গল্প যেখানে এক অজ্ঞাতনামা বিপ্লবী “V” ফ্যাসিবাদী সরকারকে উচ্ছেদ করার জন্য সংগ্রাম করে। এই কমিক্স আজও রাজনীতি ও স্বাধীনতার প্রতীক হিসেবে ব্যবহৃত হয়।

ডিসি কমিক্সের Swamp Thing (১৯৮৩-১৯৮৭) হরর সিরিজের দায়িত্ব নেওয়ার পর মুর একে সম্পূর্ণ নতুন রূপ দেন, যেখানে প্রকৃতি, অস্তিত্ববাদ এবং জাদুবিদ্যার ধারণা উঠে আসে। তার বিখ্যাত Watchmen (১৯৮৬-১৯৮৭) গ্রাফিক নভেল কমিক্স ইতিহাসের অন্যতম সেরা কাজ হিসেবে স্বীকৃত। এটি সুপারহিরো ঘরানার একটি পুনর্বিবেচনা যেখানে নৈতিকতা, ক্ষমতা এবং বাস্তব বিশ্বের রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটকে স্থান দেওয়া হয়েছে। Batman: The Killing Joke (১৯৮৮) ব্যাটম্যান এবং জোকারের সম্পর্ককে নতুন মাত্রায় নিয়ে যায়। জোকারের ব্যাকস্টোরি এবং মানসিকতার জটিলতা এই গ্রাফিক নভেলে অসাধারণভাবে ফুটে উঠেছে।

মুরের লেখায় পৌরাণিক কাহিনি, ধর্ম, মনোবিজ্ঞান এবং ইতিহাসের গভীর বিশ্লেষণ রয়েছে। তিনি কেবল কমিক্স লিখেননি, বরং একে শিল্পের একটি গভীর রূপে রূপান্তরিত করেছেন। অ্যালান মুরের মতে, লেখালেখিই এক ধরনের জাদুবিদ্যা। ১৯৯০-এর দশকে তিনি কার্যত এক ‘চর্চিত যাদুকর’-এ পরিণত হন এবং হারমেটিসিজম, কাবালাহ, অকাল্ট দর্শনের গভীরে প্রবেশ করেন। তার লেখা এবং জীবনধারা, উভয় ক্ষেত্রেই এই দর্শনের প্রভাব স্পষ্ট। অ্যালান মুর কেবল একজন কমিক্স লেখক নন, তিনি একটি সাংস্কৃতিক আন্দোলনের পথপ্রদর্শক। তার কাজ সাহিত্যের সীমানা ছাড়িয়ে রাজনৈতিক ও দার্শনিক আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পৌঁছেছে। আজও তার রচনাগুলো নতুন পাঠকদের অনুপ্রাণিত করে এবং ভবিষ্যতের জন্য নতুন নতুন ভাবনার দ্বার উন্মোচিত করে।


হারিয়ে যাওয়া বিশ্বাসের ইতিহাস

মানব সভ্যতার ইতিহাসে ধর্মের গুরুত্ব অপরিসীম। যুগে যুগে বিভিন্ন ধর্ম উদ্ভব হয়েছে, বিকাশ লাভ করেছে এবং কখনো কখনো বিলুপ্তও হয়েছে। আধুনিক বিশ্বে প্রচলিত প্রধান ধর্মগুলো যেমন ইসলাম, খ্রিস্টান ধর্ম, হিন্দু ধর্ম এবং বৌদ্ধ ধর্ম টিকে থাকলেও ইতিহাসের বিভিন্ন পর্বে বহু ধর্ম হারিয়ে গেছে বা বিলুপ্তির পথে রয়েছে। বিলুপ্ত প্রায় ধর্ম বলতে সেই ধর্মগুলোকে বোঝানো হয়, যেগুলোর অনুসারী সংখ্যা খুবই কমে গেছে অথবা একেবারেই বিলুপ্ত হয়ে গেছে। কোনো ধর্ম হারিয়ে যাওয়ার পেছনে রাজনৈতিক, সামাজিক, সাংস্কৃতিক ও অর্থনৈতিক নানা কারণ কাজ করে। কিছু ধর্ম অন্য ধর্মের সাথে মিশে গেছে, আবার কিছু ধর্ম রাজনৈতিক কারণে দমন করা হয়েছে।

মেসোপটেমিয়া (বর্তমান ইরাক, ইরান, সিরিয়া, তুরস্কের কিছু অংশ) ছিল পৃথিবীর অন্যতম প্রাচীন সভ্যতার কেন্দ্র। এখানকার মানুষ বিভিন্ন দেব-দেবীর উপাসনা করত। এনকিল, এনকি, ইনান্না, মারডুক, ও আনু তাদের প্রধান দেবতা ছিলেন। তবে খ্রিস্টান ও ইসলামের বিস্তারের ফলে এই ধর্ম ধীরে ধীরে হারিয়ে যায়। প্রাচীন মিশরের ধর্মীয় বিশ্বাসে ফারাওরা দেবতার সন্তান হিসেবে বিবেচিত হতেন। রা (সূর্যদেব), ওসিরিস, আইসিস, অনুবিস প্রভৃতি দেবতার পূজা করা হতো। খ্রিস্টধর্ম এবং ইসলাম ধর্মের বিস্তারের ফলে ধীরে ধীরে মিশরীয় ধর্ম বিলুপ্ত হয়ে যায়। প্রাচীন গ্রিস ও রোমে দেব-দেবীর পূজা প্রচলিত ছিল। জিউস, পোসেইডন, এথেনা, হার্মিস প্রভৃতি গ্রিক দেবতাদের উপাসনা করা হতো। পরবর্তীতে খ্রিস্টধর্মের প্রসারে এই ধর্ম বিলুপ্ত হয়।

স্ক্যান্ডিনেভিয়ার ভাইকিংরা ওডিন, থর, লোকি প্রভৃতি দেবতাকে পূজা করত। মধ্যযুগে খ্রিস্টধর্মের ব্যাপক প্রচারের ফলে ভাইকিং ধর্ম বিলীন হয়ে যায়। মধ্য ও দক্ষিণ আমেরিকার আজটেক ও মায়া সভ্যতার মানুষ সূর্যদেবসহ অন্যান্য দেবতার পূজা করত। স্প্যানিশ উপনিবেশ স্থাপনের পর এই ধর্ম প্রায় সম্পূর্ণরূপে বিলীন হয়ে যায়। মিত্রায়িজম ছিল রোমান সাম্রাজ্যের একটি জনপ্রিয় ধর্ম, যেখানে সূর্যদেব মিত্রার পূজা করা হতো। খ্রিস্টধর্মের উত্থানের ফলে এই ধর্ম হারিয়ে যায়। পারস্যের মণি নামক ধর্মগুরু এক নতুন ধর্ম প্রচার করেছিলেন, যা মূলত জরাথুস্ট্রবাদ, বৌদ্ধধর্ম এবং খ্রিস্টধর্মের সংমিশ্রণে গঠিত ছিল। ইসলাম ধর্মের বিস্তারের ফলে এটি বিলুপ্ত হয়ে যায়। ধর্ম বিলুপ্ত হওয়ার পেছনে অনেক কারণ থাকে।

ধর্মান্তরকরণে নতুন ধর্মের প্রচারের ফলে পুরনো ধর্মের অনুসারীরা নতুন ধর্ম গ্রহণ করতে শুরু করে। রাজনৈতিক কারণে কোনো ধর্মের অনুসারীদের দমন করা হলে সেই ধর্ম বিলুপ্ত হতে পারে। এক দেশ বা সভ্যতা যখন অন্য দেশের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে, তখন তাদের ধর্ম ও সংস্কৃতি ধীরে ধীরে লুপ্ত হয়ে যায়। অনেক সময় একটি ধর্ম অন্য ধর্মের সাথে মিশে গিয়ে নতুন একটি ধর্মের জন্ম দেয়, ফলে আগের ধর্মটি হারিয়ে যায়। ধর্মের বিলুপ্তি শুধু আধ্যাত্মিক দিক থেকেই নয়, সাংস্কৃতিক ও সামাজিক দিক থেকেও গভীর প্রভাব ফেলে। মেসোপটেমিয়া ও মিশরের প্রাচীন ধর্মের বিলুপ্তি স্থাপত্য, সাহিত্য ও জীবনধারায় পরিবর্তন এনেছে। ইতিহাসে বহু ধর্ম বিলুপ্ত হয়েছে এবং ভবিষ্যতেও হতে পারে। বিলুপ্ত প্রায় ধর্মগুলো আমাদের সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যের অংশ, যা আমাদের অতীত সম্পর্কে গভীর অন্তর্দৃষ্টি প্রদান করে।



কনসপিরেসি থিওরি ও বাস্তবতায় পুতিন

রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন আধুনিক বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী নেতা, যিনি বহু বছর ধরে বিভিন্ন কনসপিরেসি থিওরির কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছেন। কিছু থিওরি তাঁর ব্যক্তিগত জীবন, রাজনৈতিক সিদ্ধান্ত, এবং রাশিয়ার আন্তর্জাতিক নীতির ওপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছে। একটি জনপ্রিয় কনসপিরেসি থিওরি হল, পুতিনের প্রকৃত জন্মস্থান সম্পর্কে সন্দেহের সৃষ্টি। কিছু দাবি রয়েছে যে, পুতিন আসলে রাশিয়ার বাইরে জন্মগ্রহণ করেছেন এবং তাঁর পিতা-মাতা সম্পর্কে ভিন্ন একটি গল্প প্রচলিত। এটি এমন একটি থিওরি, যা তাঁর জাতীয় পরিচয় এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় আসার বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলে। তবে এ বিষয়ে কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি এবং এটি শুধুই একটি কল্পনা বলে অনেক বিশেষজ্ঞ মনে করেন।

আরেকটি প্রচলিত থিওরি হল, পুতিনের “ডাবল” (যিনি তাঁর মত দেখতে) থাকার কথা। এই ধারণা অনুযায়ী, পুতিন যখন কোনো অতি বিপজ্জনক বা উদ্বেগজনক পরিস্থিতিতে থাকেন, তখন তার স্থলে তার সঙ্গীকে পাঠানো হয়। এটি রাশিয়ায় নিরাপত্তার বিষয়টি নিয়ে একটি কনসপিরেসি থিওরি তৈরি করেছে, যেখানে বলা হয় যে পুতিন কখনো পুরোপুরি ঝুঁকি নেন না, বরং তার সঙ্গীকে তার স্থানে পাঠানো হয়। তবে এর কোনো নির্দিষ্ট তথ্য কিংবা প্রমাণের ভিত্তি নেই।

পুতিনের নেতৃত্বে রাশিয়ার সামরিক শক্তি বৃদ্ধি পেয়েছে এবং তিনি একটি শক্তিশালী সামরিক ব্যবস্থা গড়ে তুলেছেন। কিছু কনসপিরেসি থিওরি দাবি করে যে পুতিন বিশ্বযুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হচ্ছেন এবং তিনি বিশ্বকে একটি নতুন যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন। কিছু মানুষ মনে করেন পুতিনের সামরিক সিদ্ধান্তের পেছনে একটি গোপন উদ্দেশ্য রয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী রাজনৈতিক অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করতে পারে। তবে এই সমস্ত থিওরি নির্দিষ্টভাবে প্রমাণিত হয়নি এবং অনেক বিশেষজ্ঞের মতে, এটি একটি অতিরঞ্জিত ধারণা।
একটি আরেকটি থিওরি হল পুতিনের গুপ্তচরবৃত্তি সংক্রান্ত পূর্ব ইতিহাস। পুতিন কেজিবি (KGB)-এর একজন প্রাক্তন সদস্য ছিলেন এবং তাঁর নেতৃত্বে রাশিয়ার সরকারকে যে কঠোর ও রহস্যময়ভাবে পরিচালিত হয়, তা অনেককেই উদ্বেগিত করে। কিছু থিওরি দাবি করে যে, পুতিন নিজে একটি গোপন গুপ্তচর প্রতিষ্ঠান পরিচালনা করছেন এবং বিশ্বব্যাপী গুপ্তচরবৃত্তির কাজের মাধ্যমে তিনি রাশিয়ার স্বার্থ রক্ষা করছেন।

অন্য একটি থিওরি হল পুতিনের “অমরত্ব” সম্পর্কে। এই থিওরিটি দাবি করে যে পুতিন আসলে বয়সে তরুণ আছেন বা গোপনে একটি বিশেষ চিকিৎসার মাধ্যমে তিনি নিজের শরীরকে দীর্ঘ জীবন লাভের উপযোগী করে রেখেছেন। কিছু মানুষের মতে পুতিনের বয়সের পরিবর্তন এবং শারীরিক চেহারায় তার পরিবর্তন গোপন চিকিৎসা প্রক্রিয়ার ফল। তবে এটি নিছক একটি গুজব এবং এর কোনো বৈজ্ঞানিক ভিত্তি নেই। পুতিনের ইউক্রেন অভিযানের পিছনে অনেক কনসপিরেসি থিওরি রয়েছে। কিছু থিওরি দাবি করে যে, ইউক্রেনের দখল বা একটি বিশেষ সামরিক পদক্ষেপের মাধ্যমে পুতিন আসলে একটি বৃহত্তর পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করছেন যা রাশিয়ার বিশ্ব আধিপত্যের দিকে নিয়ে যাবে। কিছু মানুষ মনে করেন, পুতিনের পেছনে একটি গোপন বৈদেশিক নীতি রয়েছে, যা বিশ্বব্যাপী ক্ষমতা পরিবর্তন করতে পারে। পুতিনের বিরুদ্ধে অনেক কনসপিরেসি থিওরি রয়েছে, তবে সেগুলির মধ্যে বেশিরভাগেরই কোনো নির্দিষ্ট প্রমাণ নেই।



ওয়ান – ইলেভেনে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের ভূমিকায় বিরাট ভুল ছিল : সাবেক মার্কিন কূটনীতিক

বাংলাদেশে ২০০৭-০৮ সালে সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে জনগণের প্রত্যাশার চেয়ে জ্যেষ্ঠ সেনা কর্মকর্তাদের ভাবনাকে যুক্তরাষ্ট্র বেশি গুরুত্ব দিয়েছিল। এর পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্ব ছিল নির্বাচনের সময়সীমার ওপর। ওই সময়ে বাংলাদেশ নিয়ে মার্কিন এই নীতি বড় ভুল ছিল বলে মন্তব্য করেছেন ঢাকায় যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক উপরাষ্ট্রদূত জন ড্যানিলোভিচ। সেন্টার ফর গভর্ন্যান্স স্টাডিজ (সিজিএস) আয়োজিত ‘গণ-অভ্যুত্থানের পরবর্তী বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র সম্পর্কের নতুন গতিপথ’ শীর্ষক আলোচনায় আরও অংশ নেন বাংলাদেশে যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক রাষ্ট্রদূত উইলিয়াম বি মাইলাম।

সাবেক কূটনীতিক জন ড্যানিলোভিচের কাছে সঞ্চালক জিল্লুর রহমানের প্রশ্ন ছিল ২০০৭-০৮ সালের সেনাসমর্থিত তত্ত্বাবধায়ক সরকারের আমলে মার্কিন কূটনীতিকদের ভূমিকার বিষয়ে। এ সময় জন ড্যানিলোভিচ জানান, ‘(মার্কিন কূটনীতিক হিসেবে) আমি প্রথম স্বীকার করছি, ২০০৭-০৮ সালে যুক্তরাষ্ট্র বড় ভুল করেছিল। তবে রাষ্ট্রদূত প্যাট্রিসিয়া বিউটেনিস (ঢাকায় তৎকালীন মার্কিন রাষ্ট্রদূত) কিংবা আমার সহকর্মীরা এক-এগারো ঘটাননি। আমি মনে করি না, কোনো গোপন ‘কফি গ্রুপ’ সিদ্ধান্ত নিয়ে তা বাংলাদেশের জনগণকে বাস্তবায়ন করার নির্দেশ দিয়েছিল।

তখন (সেনাসমর্থিত সরকার দায়িত্ব নেওয়ার আগে) অবশ্যই বাংলাদেশ যে পথে এগোচ্ছিল, তা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র বেশ কিছু উদ্বেগ প্রকাশ করেছিল। বাংলাদেশের নাগরিক সমাজ ও সেনাবাহিনীর মতো আমাদেরও লক্ষ্য একই রকম ছিল।’ তিনি বলেন, ‘১৯৯০ সালে গণতন্ত্র নিয়ে যে অঙ্গীকার করা হয়েছিল, তা থেকে বিচ্যুতি ঘটেছিল। ফলে মৌলিক গণতান্ত্রিক সংস্কারের প্রয়োজন ছিল। তাই সংস্কারের এজেন্ডায় আমরা সমর্থন দিয়েছিলাম। আমরা সেনাসমর্থিত সরকারকে সমর্থন দিয়েছিলাম। আমরা সব পক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষা করে চলতাম। কিন্তু পরিস্থিতির কারণে আমাদের বোঝাপড়ার ক্ষেত্রে সীমাবদ্ধতা ছিল। বিপুলসংখ্যক জনগণের কণ্ঠস্বরের যে প্রতিফলন হওয়ার কথা ছিল, সে সময়ে তা হয়নি।’

জন ড্যানিলোভিচ বলেন, ‘আমরা এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরের গোষ্ঠীসহ অনেকেই জেনারেল ও ব্রিগেডিয়ারদের ভাবনাকেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছিলাম। গুরুত্ব দিইনি বাংলাদেশের জনগণ কী চেয়েছিল সে বিষয়ে। আমরা নাগরিক সমাজের সঙ্গে কথা বলতাম। আমরা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলতাম। আমরা তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গেও কথা বলতাম। হয়তো সেনাবাহিনীর কথাই আমরা বেশি শুনেছিলাম। আংশিকভাবে সম্ভবত সে কারণেই গণতন্ত্রের উত্তরণ নিয়ে যে প্রত্যাশা ছিল, তা বাস্তবায়িত হয়নি।’

তিনি বলেন, ‘আমাদের দ্বিতীয় ভুলটি ছিল নির্বাচনের সময়সীমার ওপর বেশি জোর দেওয়া। নির্বাচন অবশ্যই গুরুত্বপূর্ণ। জনগণের দীর্ঘ সময়ের রায় (ম্যান্ডেট) ছাড়া কোনো সরকার পরিচালিত হতে পারে না। আর নির্বাচিত সরকারকে প্রতিশ্রুতি দেওয়া উচিত। ওই সময় মৌলিক কিছু সংস্কারের প্রয়োজন ছিল। তত্ত্বাবধায়ক সরকার সংস্কারের এজেন্ডাও এগিয়ে নিচ্ছিল। কিন্তু একটা সময়ে এসে এটা স্পষ্ট হয়ে গেল যে নির্বাচনের আয়োজন করে দায়িত্ব হস্তান্তরই তাদের প্রধান অগ্রাধিকার।’

তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে সরকারের বোঝাপড়াটা হয়েছিল গোপনে। তাই আমাদের জানা সম্ভব ছিল না সাবেক প্রধানমন্ত্রী (শেখ হাসিনা) কোন শর্তে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সঙ্গে আপসরফা করেছিলেন। আমরা এর কোনো পক্ষ ছিলাম না। তখন আমাদের ধারণা হয়েছিল যে শেখ হাসিনা এবং আওয়ামী লীগ অতীত থেকে শিক্ষা নিয়েছিল এবং প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল যে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেবেন।’

সাবেক এই মার্কিন কূটনীতিক আরও বলেন, ‘ইতিহাস ভুল প্রমাণ করল। আমরা দেখলাম ধীরে ধীরে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার অধোগতি ঘটতে থাকল, যার চূড়ান্ত রূপ দেখলাম ২০২৪ সালের নির্বাচনে।’ জন ড্যানিলোভিচ বলেন-অন্তর্বর্তী সরকার এখন সংস্কারের বিষয়ে যা করছে, তা হলো ইতিহাস থেকে শিক্ষা গ্রহণের প্রতিফলন। এখনকার জটিল পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোকে যুক্ত করে বেসামরিক সরকারের গুরুত্ব তুলে ধরে বর্তমান সরকার সংস্কারের বিষয়ে যেভাবে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়।


কিভাবে পড়বেন Ulysses

জেমস জয়েসের ইউলিসিস (Ulysses) আধুনিক সাহিত্যের অন্যতম জটিল ও বিস্ময়কর উপন্যাস। ১৯২২ সালে প্রকাশিত এই বইটি শুধুমাত্র তার বিমূর্ত ভাষা ও নিরীক্ষামূলক গদ্যের জন্য বিখ্যাত নয় বরং এর ব্যতিক্রমী আখ্যানশৈলীর জন্যও আলোচিত। উপন্যাসটি হোমারের ওডিসি মহাকাব্যের পুনর্নিমাণ, যেখানে ডাবলিন শহরের একদিনের ঘটনাকে কেন্দ্রীয় কাঠামো হিসেবে ব্যবহার করা হয়েছে।ইউলিসিস প্রথমবার প্রকাশিত হয় ১৯২২ সালের ২ ফেব্রুয়ারি জয়েসের জন্মদিনে। বইটি প্রকাশের পরপরই এটি বিতর্কের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয় এবং কিছু দেশে নিষিদ্ধও করা হয়। তবে পরবর্তীকালে এটি আধুনিক সাহিত্যের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ উপন্যাস হিসেবে স্বীকৃতি পায়।

বইটির কাঠামো অত্যন্ত জটিল এবং প্রতিটি অধ্যায় ভিন্ন ভিন্ন শৈলী ও দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা হয়েছে। এটি মূলত তিনটি প্রধান অংশে বিভক্ত। প্রথম তিনটি অধ্যায় টেলিমেকিয়া। স্টিফেন ডেডালাসের দৃষ্টিকোণ থেকে লেখা, যেখানে তার আত্মঅনুসন্ধান ও অস্তিত্বের সংকট উঠে আসে। ওডিসিয়া হচ্ছে পরবর্তী বারোটি অধ্যায়। লিওপোল্ড ব্লুমের দৃষ্টিকোণ, যেখানে তার দৈনন্দিন জীবনের বিভিন্ন দিক ও অভিজ্ঞতা উঠে আসে। শেষ তিনটি অধ্যায় নস্টোস। যেখানে ব্লুম ও স্টিফেন একত্রিত হয় এবং শেষ অধ্যায়ে মলি ব্লুমের বিখ্যাত মনোলগ রয়েছে।

ইউলিসিস পড়া সহজ নয়, তবে কিছু কৌশল অবলম্বন করলে এটি উপভোগ্য হয়ে উঠতে পারে। প্রাথমিক ধারণা তৈরি জয়েসের জীবন, তার সাহিত্যকর্ম এবং বিশেষ করে উলিসিস সম্পর্কে কিছু পড়া ভালো। হোমারের ওডিসি সম্পর্কে সামান্য ধারণা থাকলে উপন্যাসটি বোঝা সহজ হয়। এছাড়াও জয়েসের পূর্ববর্তী উপন্যাস A Portrait of the Artist as a Young Man পড়লে স্টিফেন ডেডালাস চরিত্রটি সম্পর্কে আরও পরিষ্কার ধারণা পাওয়া যায়। জয়েসের ভাষা জটিল, অনেক সময় তিনি চেতনার প্রবাহ (Stream of Consciousness) শৈলীতে লেখেন, যা সাধারণ গল্প বলার ধারা থেকে আলাদা। বইটি পড়তে সময় নিন এবং শব্দার্থ বুঝতে চেষ্টা করুন। অনেক ক্ষেত্রে বাক্যগঠন জটিল এবং দীর্ঘ হওয়ার কারণে পড়ার গতি ধীর হতে পারে। এ কারণে গুরুত্বপূর্ণ অনুচ্ছেদগুলো একাধিকবার পড়া দরকার।

সাহায্যকারী উপকরণ হিসেবে অনেক পাঠক The New Bloomsday Book ev Ulysses Annotated বই ব্যবহার করেন। এগুলোতে প্রতিটি অধ্যায়ের ব্যাখ্যা ও রেফারেন্স দেয়া থাকে। SparkNotes বা অন্যান্য অনলাইন রিসোর্স থেকেও অধ্যায়গুলোর বিশ্লেষণ পাওয়া যায়। উপন্যাসটি ডাবলিন শহরের একদিনের (১৬ জুন, ১৯০৪) ঘটনা নিয়ে গঠিত। প্রধান চরিত্র লিওপোল্ড ব্লুম, তার স্ত্রী মলি ব্লুম এবং তরুণ স্টিফেন ডেডালাসের বিভিন্ন অভিজ্ঞতা ও ভাবনার প্রবাহই এর মূল বিন্যাস।

বইটির গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি অধ্যায় হচ্ছে, Telemachus, স্টিফেন ডেডালাসের সকাল ও তার আত্মদর্শন। Nestor, স্টিফেন তার শিষ্যদের পড়ানোর মাধ্যমে জ্ঞানের প্রতিফলন ঘটায়। Calypso লিওপোল্ড ব্লুমের প্রাত্যহিক জীবন শুরু। Lotus Eaters ব্লুমের অলসতা ও বিলাসী চিন্তাধারা। Hades মৃত্যু ও জীবন নিয়ে গভীর দর্শন। ঈপষড়ঢ়ং রাজনৈতিক আলোচনার মধ্য দিয়ে আয়ারল্যান্ডের সামাজিক পরিস্থিতি। Nausicaa ব্লুমের কামনা ও রোমান্টিক কল্পনার প্রতিচ্ছবি। আর Circe, এটি স্বপ্নের মতো একটি অধ্যায়, যেখানে চরিত্রদের অবচেতনের বহিঃপ্রকাশ দেখা যায়। বইয়ে মলি ব্লুমের বিখ্যাত মনোলগ হচ্ছে Penelope, যা পুরো বইয়ের এক গুরুত্বপূর্ণ উপসংহার।

জয়েস প্রথাগত আখ্যান কাঠামোকে ভেঙে ফেলেছেন, ফলে অনেক সময় সংলাপ ও ভাবনার পার্থক্য বুঝতে সময় লাগতে পারে। এতে ধৈর্য ধরে পড়তে হবে। জয়েসের রচনায় প্রচুর পৌরাণিক, ধর্মীয় ও ঐতিহাসিক রেফারেন্স রয়েছে, যা বোঝার জন্য বাড়তি গবেষণাও দরকার হতে পারে। ইউলিসিস শুধুমাত্র একটি উপন্যাস নয়, এটি একটি সাহিত্যিক অভিযান। এটি পড়তে সময়, ধৈর্য এবং অধ্যবসায়ের প্রয়োজন, তবে সঠিক দৃষ্টিভঙ্গি ও প্রস্তুতি নিয়ে পড়লে পাঠকের জন্য এক অনন্য অভিজ্ঞতা হয়ে উঠতে পারে। যারা সাহিত্যের গভীরে প্রবেশ করতে চান, তাদের জন্য এটি এক অতুলনীয় সৃষ্টি।




বাংলাদেশের ‘ অভ্যন্তরীণ বিষয়ে ‘ ভারতের অবস্থান

গত ৭ মাস ধরে বাংলাদেশের বিষয়ে ‘উদ্বেগের’ কথা বলেছে ভারত, যা এক ব্যতিক্রমী ধারা। এদেশে মরণাপন্ন গণতন্ত্রকে নিয়ে যে প্রতিবেশীর মাথাব্যথাই ছিল না, যে বিষয়কে নয়াদিল্লি বরাবর ঢাকার ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বলে মন্তব্য করেছেড় এখন সেটাই ভারতের গভীর আগ্রহের বিষয়ে পরিণত হয়েছে। গত ৭ মার্চ ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল বলেন, ‘বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচন’ চায় ভারত। তিনি বলেন, ভারত একটি স্থিতিশীল, প্রগতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের সমর্থক। ভারত চায়, তারা অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সব বিষয়ের নিষ্পত্তি করুক।’

কিন্তু, ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে বাংলাদেশের বিষয়ে মন্তব্য করতে দ্বিধাগ্রস্ত ছিলেন জয়সওয়াল সাহেবরা। ৭ জানুয়ারি একপাক্ষিক ও জাল একটি নির্বাচন আয়োজনের প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন হাসিনাড় যা বিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো বর্জন করেছিল। এসময় সারাবিশ্ব অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের দাবি জানালেওড় ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ৫ তারিখেও বলেন, “আমরা ‘অত্যন্ত ধারাবাহিকভাবে’ বলে আসছি বাংলাদেশে নির্বাচন দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয়।” ২০২২ সালের ১৯ ফেব্রুয়ারি, ঢাকায় নিযুক্ত ভারতীয় হাইকমিশনার বিক্রম কুমার দোরাইস্বামী বলেন, “বাংলাদেশ একটি স্বাধীন রাষ্ট্র। নির্বাচনসহ নিজেদের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে তারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নেবে। এখানে ভারত সরকারের হস্তক্ষেপের কোনো প্রয়োজন নেই।” বিশ্বশক্তিগুলো যখন আওয়ামী লীগ সরকারের ওপর অবাধ, সুষ্ঠু ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য চাপ বাড়াচ্ছিলড় তেমন সময়েই দোরাইস্বামী এ মন্তব্য করেন।

গত বছরের ১৬ জুলাই থেকে হাসিনা, তাঁর দল ও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী বাংলাদেশে যে ভয়াবহ দমনপীড়ন ও হত্যা শুরু করেড় তার প্রেক্ষিতে ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্কর বলতে বাধ্য হন যে, বাংলাদেশের পরিস্থিতি ‘ঘনিষ্ঠভাবে’ পর্যবেক্ষণ করতে ভারত।কিন্তু, দিনকয়েক পরেই রণধীর জয়সওয়াল বাংলাদেশের পুলিশের মানবাধিকার লঙ্ঘনকে অস্বীকার করেন, এবং একে বাংলাদেশের ‘অভ্যন্তরীণ বিষয়’ বলেও লঘু করার প্রচেষ্টা চালান। অথচ ওই সময়ে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীগুলোর গুলিতে শত শত মানুষ নিহত হয়েছে।জয়সোয়াল তখন বলেছিলেন-আপনারা জানেন, বাংলাদেশে বিক্ষোভ চলছে। আমরা এটিকে দেশটির অভ্যন্তরীণ বিষয় মনে করি।

৫ আগস্টে হাসিনা দেশ ছেড়ে পালানোর পর, হঠাৎ করেই বাংলাদেশের বিষয় হয়ে দাঁড়ায় ভারতের উদ্বেগের জায়গা। আর তখন থেকেই বাংলাদেশের কোনো বিষয়ই আর অভ্যন্তরীণ বিষয় থাকেনি ভারতের দৃষ্টিতে। বাংলাদেশের সবকিছুতেই যেন মন্তব্য করতেই হয় সাউথ ব্লককে। একমাত্র উহ্য থাকে সীমান্তে বিএসএফের দ্বারা বাংলাদেশিদের হত্যা এবং বাংলাদেশে গণহত্যার দায়ে শত শত অভিযুক্তকে ভারতে আশ্রয় দেওয়ার বিষয় শেখ হাসিনার ১৬ বছরের শাসনামল, কারচুপি ভরা কথিত নির্বাচন ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের অসংখ্য ঘটনাবহুল হলেওড় ভারত দৃঢ়ভাবেই হাসিনাকে সমর্থন দিয়ে গেছে।

২০২৩ সালের আগস্টে হাসিনার সরকার যখন বিরোধী দলগুলোর পক্ষ থেকে নিরপেক্ষ তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অধীনে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের দাবিতে ব্যাপক চাপের সম্মুখীন, তখন ভারতীয় দৈনিক আনন্দবাজারের একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যেখানে বলা হয়, শেখ হাসিনার সরকারকে দুর্বল করা ভারত বা যুক্তরাষ্ট্র-কারোরই স্বার্থের অনুকূল হবে না-ওয়াশিংটনকে এই বার্তা দিয়েছে নয়াদিল্লি। ওই সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর দ্বারা জোরপূর্বক গুমের বিষয়ে চাপ বাড়াচ্ছিল যুক্তরাষ্ট্র। ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে উল্লেখ করা হচ্ছিল, ব্যাপক দুর্নীতি ও মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাও ঘটছে। যাওবের ওপর নিষেধাজ্ঞা প্রদানের পর যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর, বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক নির্বাচন আয়োজনকে বিঘ্নকারী ব্যক্তিদের ওপর ভিসা নিষেধাজ্ঞা দেওয়ার পরিকল্পনার কথাও ঘোষণা করে।

আনন্দবাজার জানায়, বাংলাদেশের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পৃথক ভিসা নীতির বিষয়ে আপত্তি জানায় ভারত। ভারতের অব্যাহত তদ্বিরে ৭ জানুয়ারির পাতানো নির্বাচনের বিষয়ে শেষপর্যন্ত কঠোর অবস্থান থেকে সরে আসে যুক্তরাষ্ট্র।