Home Blog Page 175

ব্যক্তিতে পাগলামি ব্রিল ; কিন্তু দল – গোষ্ঠী – জাতি ও যুগে , পাগলামিই নিয়ম : ফ্রিডরিখ নিটশে

ব্যক্তিতে পাগলামি ব্রিল ; কিন্তু দল – গোষ্ঠী – জাতি ও যুগে , পাগলামিই নিয়ম : ফ্রিডরিখ নিটশে

আন্তর্জাতিক নারী দিবস কীভাবে এল

কর্মক্ষেত্রে বৈষম্যের প্রতিবাদে এবং ন্যায়সংগত দাবি আদায়ে রাজপথে নেমেছিলেন নারী শ্রমিকেরা। এই শ্রম আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ পথপরিক্রমায় চালু হয় ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’। গত শতকের সত্তরের দশকের মাঝামাঝি দিবসটি জাতিসংঘের স্বীকৃতি পায়। ১৭৯২ সালে ইংরেজ লেখক মেরি ওলস্টোনক্র্যাফ্ট তাঁর ‘আ ভিনডিকেশন অব দ্য রাইটস অব উইমেন’ শীর্ষক বইয়ে নারীদের শিক্ষাগত ও সামাজিক সমতার পক্ষে জোরালো বক্তব্য তুলে ধরেন। নিউইয়র্কে ১৮৫৭ সালের ৮ মার্চ প্রথমবারের মতো ধর্মঘট পালন করেন নারী টেক্সটাইলকর্মীরা। এই কর্মসূচির মাধ্যমে তাঁরা মজুরি বৈষম্য ও বৈরী কর্মপরিবেশের প্রতিবাদ জানান। সমঅধিকারের পাশাপাশি কম কর্মঘণ্টা ও উপযুক্ত মজুরি দাবি করেন তাঁরা।

১৯০৮ সালের ৮ মার্চ নিউইয়র্ক শহরের রাস্তায় নেমে বিক্ষোভ দেখান প্রায় ১৫ হাজার নারী শ্রমিক। তাঁরা শিশুশ্রম ও বৈরী কর্মপরিবেশের প্রতিবাদ জানান। কর্মঘণ্টা কমানো, বেতন বাড়ানো ও ভোটাধিকার দাবি করেন তাঁরা। এই আন্দোলন নারীদের ঐক্যবদ্ধ হওয়ার একটি বড় নজির তৈরি করে। সোশ্যালিস্ট পার্টি অব আমেরিকার উইমেন্স ন্যাশনাল কমিটির প্রধান থেরেসা মালকিয়েল ১৯০৯ সালে একটি জাতীয় নারী দিবসের ধারণা দেন যা দলটি অনুমোদন করে। দলীয় ঘোষণা অনুযায়ী, ১৯০৯ সালের ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক শহরে প্রথমবারের মতো ‘জাতীয় নারী দিবস’ পালিত হয়।

১৯১০ সালে ডেনমার্কের কোপেনহেগেনে ‘সেকেন্ড ইন্টারন্যাশনাল সোশ্যালিস্ট উইমেন্স কনফারেন্স’ হয়। এই সম্মেলনে জার্মানির সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেতা ক্লারা জেটকিন একটি বার্ষিক ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ চালুর ধারণা উপস্থাপন করেন। এই দিবসে নারীরা নিজেদের দাবি জানাবেন। তবে ক্লারা জেটকিন তাঁর প্রস্তাবে দিবসটি বিশ্বজুড়ে পালনের ক্ষেত্রে কোনো সুনির্দিষ্ট দিন-তারিখ উল্লেখ করেননি। কোপেনহেগেন সম্মেলনের সিদ্ধান্তের ধারাবাহিকতায় ১৯১১ সালের ১৯ মার্চ ডেনমার্ক, অস্ট্রিয়া, জার্মানি ও সুইজারল্যান্ডে প্রথমবারের মতো ‘আন্তর্জাতিক নারী দিবস’ পালিত হয়। পরে অবশ্য ৮ মার্চ নির্ধারিত হয়। ১৯১৩ সালে ৮ মার্চ রুশ সাম্রাজ্যে প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়। জার্মানিতে ১৯১৪ সালের ৮ মার্চ প্রথমবারের মতো আন্তর্জাতিক নারী দিবস পালিত হয়।

১৯১৭ সালের ২৩ ফেব্রুয়ারি (গ্রেগরিয়ান ক্যালেন্ডারে ৮ মার্চ) রুশ নারী টেক্সটাইলকর্মীরা ‘রুটি ও শান্তি’র দাবিতে ধর্মঘট-বিক্ষোভ শুরু করেন, যা ফেব্রুয়ারি বিপ্লবের সূত্রপাত ঘটায়। রুশ বিপ্লবে নারীদের ভূমিকার প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিপ্লবের মহানায়ক ভ্লাদিমির লেনিন ১৯২২ সালে ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক কর্মজীবী নারী দিবস ঘোষণা করেন। দিনটিতে সরকারি ছুটি ঘোষণা করেন তিনি। ১৯৪৯ সালে বিপ্লবের পর চীন আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে সরকারি ছুটি ঘোষণা করে। সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে আন্তর্জাতিক নারী দিবসকে স্বীকৃতি দেওয়া দেশের সংখ্যা বাড়তে থাকে। জাতিসংঘ ১৯৭৫ সালকে ‘আন্তর্জাতিক নারী বর্ষ’ ঘোষণা করে। একই বছর বিশ্ব সংস্থাটি প্রথমবারের মতো ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে পালন করে।

দুই বছর পর ১৯৭৭ সালে জাতিসংঘ ৮ মার্চকে আন্তর্জাতিক নারী দিবস হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেয়। এই স্বীকৃতির মধ্য দিয়ে দিবসটি আনুষ্ঠানিকভাবে আন্তর্জাতিক রূপ পায়। ২০১১ সালে আন্তর্জাতিক নারী দিবসের ১০০ বছর পূর্তি হয়েছে। আর ২০২৫ সালে দিবসটির ১১৪ বছর পূর্ণ হচ্ছে।



চলতি বছরেই নির্বাচন চান ৫৮% ভোটার

ইনোভিশন বাংলাদেশ নামে একটি গবেষণা সংস্থার উদ্যোগে পরিচালিত এক জরিপে অংশ নেওয়া ৩১.৬% ভোটার এবছরের জুনের মধ্যে এবং ২৬.৫% ভোটার ডিসেম্বরে নির্বাচন হওয়ার পক্ষে। ডিসেম্বরের পর নির্বাচন আয়োজনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন ১০.৯%। শনিবার ঢাকায় এক সংবাদ সম্মেলনে জরিপের ফলাফল উপস্থাপন করা হয়। ১৯ ফেব্রুয়ারি থেকে ৩ মার্চ পর্ন্ত পরিচালিত এ জরিপে দেশের ৬৪ জেলার ১০ হাজার ৬৯০ জন অংশ নেন। সংবাদ সম্মেলনে বলা হয়, জরিপে অংশ নেওয়া প্রায় ৬২% মানুষ ইতোমধ্যেই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছেন যে তারা কাকে ভোট দেবেন। এর মধ্যে ৬৫.৭% শতাংশ তাদের পছন্দের দলের কথা জানিয়েছেন।

এক্ষেত্রে সবচেয়ে এগিয়ে থাকা দল হলো বিএনপি (৪১.৭%)। এর পরের অবস্থানগুলোতে আছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী (৩১.৬%), আওয়ামী লীগ (১৪%), নতুন রাজনৈতিক দল এনসিপি (৫.১%) এবং অন্যান্য রাজনৈতিক দল (৭.৬%)। জরিপ অনুসারে, ভোটারদের মধ্যে একটি প্রজন্মগত পার্থক্য রয়েছে। জেনারেশন এক্স (Generation X) এবং বুমারদের (Boomers) মধ্যে বিএনপির প্রতি সমর্থন তুলনামূলক বেশি। অন্যদিকে জেনারেশন জেড (Generation Z)-এর মধ্যে বিএনপি ও জামায়াত প্রায় সমান জনপ্রিয়। জরিপ অনুযায়ী, ২৯.৪% ভোটার এখনো সিদ্ধান্ত নেননি যে তারা কাকে ভোট দেবেন। তাদের মধ্যে ৪৯.৩% বলছেন যে তারা প্রার্থী সম্পর্কে জানার পর সিদ্ধান্ত নেবেন। আর ৩৩.৯% ভোটার রাজনৈতিক পরিস্থিতি দেখে সিদ্ধান্ত নিতে চান।

জরিপ অনুসারে ৪৭% ভোটার কাকে ভোট দেবেন সে সিদ্ধান্তে তাদের পরিবারের প্রভাব আছে। বিপরীতে ১৮.২৮% অংশগ্রহণকারী ফেসবুক, ইউটিউব, টিকটকের মতো প্ল্যাটফর্ম থেকে পাওয়া সংবাদকে তাদের সিদ্ধান্তের ওপর গুরুত্বপূর্ণ প্রভাবক হিসেবে চিহ্নিত করেছেন। এক্ষেত্রে টেলিভিশন (১৫.১৮%) ও পত্রপত্রিকা (৪.২৫%) এখনো তথ্যের গুরুত্বপূর্ণ উৎস হিসেবে টিকে আছে। জরিপে অংশ নেওয়া মাত্র ৯.৩% মানুষ মনে করেন যে, নির্বাচনের আগে রাজনৈতিক সংস্কারের প্রয়োজন আছে। আর ৫.৩% অংশগ্রহণকারী সংবিধান পরিবর্তনের পক্ষে মত দিয়েছে।


গৃহস্থালি শ্রমে নারীর দৃশ্য অবদান ও অর্থনৈতিক গুরুত্ব

৪৫ বছর বয়সী ইয়াসমিন আরা প্রতিদিন ভোরে পরিবারের সবার আগে ঘুম থেকে ওঠেন। সকালের নাশতা তৈরি, তিন সন্তানের টিফিন প্যাক করা এবং তাদের স্কুলে পাঠানোর দায়িত্ব তার। তারপর শুরু হয় ঘরের কাজড়পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা, কাপড় কাঁচা, রান্না-বান্না, এবং বয়স্ক শ্বশুর-শাশুড়ির দেখভাল। তার দিন শেষ হয় না, একটানা গৃহস্থালি ও যত্নশীলতার কাজ চলতে থাকে। বিশ্ববিদ্যালয়ে অর্জিত অর্থনীতির জ্ঞান ম্লান হয়ে গেছে, আর তার জায়গা নিয়েছে ঘর সামলানোর অভিজ্ঞতা। তবে রাত পর্যন্ত নিরলস পরিশ্রম করেও ইয়াসমিনের কোনো বেতন নেই, নেই কোনো পদোন্নতি বা আর্থিক নিরাপত্তা। অথচ সমাজ তাকে “বেকার গৃহিণী” বলে আখ্যা দেয়।

ইয়াসমিনের মতো লক্ষ লক্ষ নারী পারিবারিক দায়িত্বের কারণে চাকরির সুযোগ হারাচ্ছেন। সুলভ ও নির্ভরযোগ্য শিশু যত্নের ব্যবস্থা না থাকায় এবং সামাজিক দায়বদ্ধতার কারণে তারা গৃহিণী হতে বাধ্য হন। ইয়াসমিনের প্রতিদিনের শ্রম যদি আর্থিকভাবে মূল্যায়ন করা হয়, তবে তার আয় একজন পেশাদার কর্মীর থেকেও বেশি হতে পারত। একজন গৃহকর্মী মাসে ৫,০০০ থেকে ১০,০০০ টাকা পান।পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা ও কাপড় কাঁচার জন্য ৩,০০০ থেকে ৫,০০০ টাকা দিতে হয়। একজন গৃহশিক্ষক ৫,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা নেন। বৃদ্ধদের সেবাযত্নে নিযুক্ত কর্মী মাসে ১২,০০০ থেকে ২৫,০০০ টাকা পান। ব্যক্তিগত সহকারী হিসেবে খরচ পড়ে ৭,০০০ থেকে ১৫,০০০ টাকা।

এগুলো যোগ করলে দেখা যায়, ইয়াসমিনের শ্রমের আর্থিক মূল্য মাসে ৩২,০০০ থেকে ৭০,০০০ টাকা পর্যন্ত হতে পারে। অথচ তার স্বামীর চাকরির বেতনকে সমাজ মূল্যবান মনে করলেও তার কাজ অদৃশ্য থেকে যায়। আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার (ILO) ২০১৮ সালের এক গবেষণা অনুযায়ী, প্রতিদিন বিশ্বজুড়ে ১৬.৪ বিলিয়ন ঘণ্টা বিনা পারিশ্রমিকে পরিচর্যা কাজ করা হয়। বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (BIDS)-এর ২০২৪ সালের গবেষণায় দেখা গেছে, নারীদের গৃহস্থালি ও পরিচর্যা শ্রমের আর্থিক মূল্য ২০২১ সালে ৫.৩ ট্রিলিয়ন টাকা, যা জিডিপির ১৪.৮ শতাংশ। অন্যদিকে পুরুষদের অনাদায়ী শ্রম জিডিপির মাত্র ২.৮ শতাংশ। নারীরা প্রতিদিন গড়ে ৪.৬ ঘণ্টা গৃহস্থালি কাজে এবং ১.২ ঘণ্টা পরিচর্যা শ্রমে ব্যয় করেন, যেখানে পুরুষেরা যথাক্রমে মাত্র ০.৬ ও ০.২ ঘণ্টা ব্যয় করেন।

যেসব নারী চাকরি করেন, তাদেরও পরিস্থিতি খুব একটা ভালো নয়। চাকরির পাশাপাশি তাদের গৃহস্থালি দায়িত্ব বহাল থাকে। ৩২ বছর বয়সী তিলোত্তমা, যিনি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে কাজ করেন। পাঁচ মাসের সন্তানকে কোলে নিয়ে অফিসে যেতে বাধ্য হন, কারণ শিশু যত্নের সহজলভ্য কোনো ব্যবস্থা নেই। তার স্বামী ব্যস্ত, ফলে পুরো চাপ তাকেই সামলাতে হয়। ২৯ বছর বয়সী শিক্ষক মাইশা মুবারসারা শিশুদের জন্য দিবাযত্ন কেন্দ্র ও গৃহকর্মীর পেছনে তার উপার্জনের প্রায় অর্ধেক ব্যয় করেন, তবুও কাজের চাপ কমে না।মানুষের জন্য ফাউন্ডেশনের নির্বাহী পরিচালক শাহীন আনাম বলেন, “নারীরা পরিবারের স্বাস্থ্যের যত্ন নেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করেন এবং পরিবারের সার্বিক কল্যাণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখেন। তাদের এই শ্রমকে স্বীকৃতি দিলে পারিবারিক ও সামাজিক পর্যায়ে তাদের মর্যাদা বৃদ্ধি পাবে।”

ফাহমিদা খাতুন, সিপিডির নির্বাহী পরিচালক, বলেন, “‘তারা কিছু করে না’ এই দৃষ্টিভঙ্গি নারীদের অবদানকে খাটো করে। আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি পেলে তাদের সামাজিক ও অর্থনৈতিক অবস্থান দৃঢ় হবে।” অ্যাকশনএইড বাংলাদেশের কান্ট্রি ডিরেক্টর ফারাহ কবির বলেন, “গৃহস্থালি শ্রমের স্বীকৃতি শুধু উন্নয়নশীল দেশের সমস্যা নয়, এটি বৈশ্বিক ইস্যু। নীতি সংস্কার, বাজেট বরাদ্দ, এবং সামাজিক দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি।” বর্তমানে জাতীয় হিসাব ব্যবস্থা (SNA) গৃহস্থালি শ্রমকে জিডিপির আওতায় আনে না। তবে ২০২৩ সালে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পরিকল্পনা কমিশনকে অনাদায়ী গৃহস্থালি শ্রমের আর্থিক মূল্যায়ন পদ্ধতি খুঁজে বের করার নির্দেশ দেন।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরোর (BBS) উপপরিচালক আসমা আক্তার বলেন, “গৃহস্থালি শ্রম অর্থনৈতিক লেনদেনের আওতায় না পড়ায় এটি জিডিপিতে অন্তর্ভুক্ত হয় না। তাই বিকল্প পদ্ধতির প্রয়োজন।” অন্যদিকে অর্থনীতিবিদ নাইলা কবির বলেন, “জিডিপি একটি সীমিত মানদণ্ড, যা বিলিয়ন ঘণ্টার অনাদায়ী শ্রমের গুরুত্ব বিবেচনায় আনে না। সমাজের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে এই শ্রম অপরিহার্য।” নারীর গৃহস্থালি ও পরিচর্যা শ্রম অদৃশ্য নয় বরং এটি সমাজ ও অর্থনীতির চালিকাশক্তির অংশ। এটি শুধু ব্যক্তিগত বা পারিবারিক বিষয় নয়, এটি অর্থনৈতিক এবং নীতিগত ইস্যু। সুলভ শিশুযত্ন, কর্মস্থলে নমনীয় নীতি এবং আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি নিশ্চিত করা গেলে নারীরা কর্মসংস্থানে যুক্ত হতে পারবেন, যা অর্থনীতিকেও শক্তিশালী করবে।





পৃথিবীর জনসংখ্যা ১২৮০ জনে নেমে এসেছিল যে যুগে

সায়েন্স জার্নালে প্রকাশিত একটি গবেষণা আফ্রিকা ও ইউরেশিয়ার জীবাশ্ম রেকর্ডের একটি গুরুত্বপূর্ণ শূন্যতা তুলে ধরে। যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি ও চীনের একদল বিজ্ঞানী প্রস্তাব করেছেন, ৮,০০,০০০ থেকে ৯,০০,০০০ বছর আগে আমাদের পূর্বপুরুষদের জনসংখ্যা ভয়াবহ সংকটে পড়ে। গবেষকদের মডেল অনুযায়ী, মাত্র ১,২৮০ জন প্রজননক্ষম ব্যক্তি এই সংকটময় সময়কালে টিকে ছিল, যা প্রায় ১,১৭,০০০ বছর স্থায়ী হয়। এই গবেষণা ইঙ্গিত করে যে, এই সংকটের শুরুতে প্রায় ৯৮.৭% পূর্বপুরুষ হারিয়ে যায়, যা মানব বিবর্তনের গতিপথকে গভীরভাবে প্রভাবিত করে ।

এই জনসংখ্যাগত বিপর্যয় প্রাথমিক থেকে মধ্য প্লেইস্টোসিন যুগে পরিবর্তনের সাথে মিলে যায়, যা জলবায়ু ও পরিবেশগত বিশাল পরিবর্তনের সময়কাল। পরবর্তী প্লেইস্টোসিন যুগে আধুনিক মানুষ আফ্রিকার বাইরে ছড়িয়ে পড়ে। নিঅ্যান্ডারথালের মতো অন্যান্য মানব প্রজাতি বিলুপ্ত হয় এবং প্রথমবারের মতো অস্ট্রেলিয়া ও আমেরিকায় মানুষের পদচিহ্ন পড়ে। এই সময়ে বিশাল হিমবাহ পৃথিবীর ভূমিরূপ পরিবর্তন করে, যা বর্তমানে দৃশ্যমান অনেক ভৌগোলিক গঠন তৈরি করে। এই নতুন গবেষণা মানব অস্তিত্বের সংকট ও বিবর্তন কিভাবে একে অপরকে প্রভাবিত করেছে তা ব্যাখ্যা করে।

ফাস্ট ইনফিনিটিসিমাল টাইম কোঅ্যালেসেন্ট প্রসেস (FitCoal) নামে একটি নতুন জিনগত বিশ্লেষণ পদ্ধতি ব্যবহার করেন। এই পদ্ধতি আধুনিক মানব জিনোমের ৩,১৫৪টি নমুনা বিশ্লেষণ করে প্রাচীন জনসংখ্যাগত পরিবর্তনের চিত্র তুলে ধরে। গবেষণার সহ লেখক এবং ইউনিভার্সিটি অব টেক্সাস হেলথ সায়েন্স সেন্টারের জিনতাত্ত্বিক ইউন-সিন ফু বলেন, “ঋরঃঈড়ধষ এত পুরনো ও কঠিন সংকট শনাক্ত করতে পারে, যা একটি বড় অগ্রগতি।” গবেষকরা ১০টি আফ্রিকান ও ৪০টি নন-আফ্রিকান জনগোষ্ঠীর জিনোম বিশ্লেষণ করেন এবং দেখেন যে, এই সংকটের ফলে মানব জিনগত বৈচিত্র্যের ৬৫.৮৫ শতাংশ হারিয়ে যায়। দীর্ঘ সময় ধরে কম সংখ্যক মানুষের টিকে থাকা মানব প্রজাতির জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছিল, তবে এটি বিবর্তনের জন্যও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখেছিল।

প্যালিওঅ্যানথ্রোপোলজির একটি দীর্ঘদিনের রহস্য ছিল, কেন আফ্রিকা ও ইউরেশিয়ার জীবাশ্ম রেকর্ডে এই সময়ের নিদর্শন খুব কম।গবেষকদের মতে, এই জনসংখ্যাগত সংকট সেই শূন্যতার কারণ হতে পারে। গবেষণার সহ-লেখক এবং সাপিয়েঞ্জা ইউনিভার্সিটির নৃতত্ত্ববিদ জর্জিও মানজি বলেন, “আফ্রিকা ও ইউরেশিয়ার জীবাশ্ম রেকর্ডের শূন্যতা এই সংকটের মাধ্যমে ব্যাখ্যা করা সম্ভব। এটি প্রস্তাবিত সংকটময় সময়ের সাথে পুরোপুরি মিলে যায়।” এই সংকটের পেছনের কারণগুলোর মধ্যে অন্যতম ছিল চরম জলবায়ু পরিবর্তন।এই সময়ে তাপমাত্রা নাটকীয়ভাবে পরিবর্তিত হয়, দীর্ঘস্থায়ী খরা দেখা দেয় এবং খাদ্যের অভাব দেখা দেয়। ম্যামথ, মাস্টোডন ও বিশালাকৃতির অলস প্রজাতির বিলুপ্তি খাদ্যের সরবরাহকে ব্যাপকভাবে প্রভাবিত করে, যা মানুষের টিকে থাকার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায়।

যদিও এই সংকট মানুষের জিনগত বৈচিত্র্য হ্রাস করেছিল, এটি মানব বিবর্তনের একটি গুরুত্বপূর্ণ পর্যায় হয়ে উঠেছিল। গবেষণা অনুযায়ী, এই সংকট একটি প্রজাতিকরণ ঘটনা (speciation event) সৃষ্টি করতে পারে, যেখানে একক পূর্বপুরুষ থেকে দুটি বা তার বেশি নতুন প্রজাতি বিকশিত হয়। বিজ্ঞানীরা মনে করেন, এই সময়ে দুটি পূর্বপুরুষীয় ক্রোমোজোম একত্রিত হয়ে আধুনিক মানুষের ২ নম্বর ক্রোমোজোম গঠন করেছিল। ২ নম্বর ক্রোমোজোম মানুষের দ্বিতীয় বৃহত্তম ক্রোমোজোম, যার মধ্যে ২৪৩ মিলিয়ন ডিএনএ বেস পেয়ার রয়েছে। এই পরিবর্তন আমাদের আধুনিক মানুষকে (হোমো সেপিয়েন্স), নিঅ্যান্ডারথাল এবং ডেনিসোভানদের শেষ সাধারণ পূর্বপুরুষের সাথে সংযুক্ত করে।

এই আবিষ্কার মানব বিবর্তন গবেষণায় নতুন দিগন্ত উন্মোচন করেছে। গবেষকরা এখন প্রশ্ন করছেন, এই সংকটকালে মানুষ কোথায় বাস করেছিল? তারা কীভাবে চরম জলবায়ুর সাথে খাপ খাইয়ে নিয়েছিল? সংকট কি মানব মস্তিষ্কের বিবর্তন ত্বরান্বিত করেছিল?গবেষণার সহ-লেখক এবং ইস্ট চায়না নরমাল ইউনিভার্সিটির বিবর্তন ও কার্যকরী জিনতত্ত্ব বিশেষজ্ঞ ইয়ি-হুয়ান প্যান বলেন, “এই নতুন আবিষ্কার মানব বিবর্তনে নতুন প্রশ্ন উত্থাপন করছে, যেমন এই লোকেরা কোথায় বাস করেছিল, তারা কীভাবে বিপর্যয় কাটিয়ে উঠেছিল এবং এই সংকট কি মানব মস্তিষ্কের বিকাশকে ত্বরান্বিত করেছিল।”

ভবিষ্যতের গবেষণাগুলো সম্ভবত প্রাচীন মানবদের টিকে থাকার কৌশল আরও বিশদভাবে ব্যাখ্যা করবে। কিছু বিজ্ঞানী মনে করেন, এই সময়ে আগুন নিয়ন্ত্রণ করার দক্ষতা অর্জন মানুষকে উষ্ণতা, সুরক্ষা এবং খাদ্য প্রস্তুতির নতুন উপায় তৈরি করতে সহায়তা করেছিল।জলবায়ু ধীরে ধীরে মানুষের জন্য অনুকূল হতে শুরু করলে, প্রায় ৮,১৩,০০০ বছর আগে মানব জনসংখ্যা দ্রুত বৃদ্ধি পেতে থাকে। এই গবেষণা আধুনিক মানুষের বিবর্তন সম্পর্কে গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছে, তবে এটি কেবল শুরু। সাংহাই ইনস্টিটিউট অব নিউট্রিশন অ্যান্ড হেলথের তাত্ত্বিক জনসংখ্যা জিনতত্ত্ববিদ ও গণনামূলক জীববিজ্ঞানী লি হাইপেং বলেন, “এই গবেষণা কেবল সূচনা। ভবিষ্যতে আরও গবেষণার মাধ্যমে আমরা প্লেইস্টোসিনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময় সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জানতে পারবো, যা মানব পূর্বপুরুষ ও বিবর্তনের রহস্য উন্মোচনে সহায়ক হবে।”

প্রাচীন ডিএনএ, জীবাশ্ম রেকর্ড ও পরিবেশগত ডেটার আরও বিশদ গবেষণার মাধ্যমে বিজ্ঞানীরা মানব ইতিহাসের সবচেয়ে কঠিন সময়গুলোর একটি সম্পর্কে আরও গভীরভাবে জানতে পারবেন। যে সংকট একসময় মানব জাতির জন্য হুমকি ছিল, সেটিই হয়তো আমাদের জিনগত ও মানসিক বিকাশকে ত্বরান্বিত করেছে।



টিকটক একবিংশ শতাব্দীর ডিজিটাল বিপ্লব ও এর বৈশ্বিক প্রভাব

টিকটক (TikTok) শুধু একটি বিনোদন প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি বর্তমান বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী সামাজিক মাধ্যম হয়ে উঠেছে। মাত্র কয়েক বছরের মধ্যে সাংস্কৃতিক, অর্থনৈতিক এবং রাজনৈতিক ক্ষেত্রেও গভীর প্রভাব ফেলেছে। ২০১৬ সালে চীনের প্রযুক্তি কোম্পানি বাইটড্যান্স এর হাত ধরে টিকটকের পথচলা শুরু করে, যা চীনে ‘ডোয়িন’ (Douyin) নামে পরিচিত। ২০১৮ সালে বাইটড্যান্স ‘Musically’ নামে আরেকটি জনপ্রিয় অ্যাপ তৈরি করে এবং বিশ্বব্যাপী টিকটকের বিকাশ ঘটায়। ছোট দৈর্ঘ্যের ভিডিও তৈরির সহজ সুযোগ, শক্তিশালী অ্যালগরিদম এবং ক্রমাগত উন্নত প্রযুক্তি ব্যবহার করে টিকটক দ্রুত জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।

টিকটক জনপ্রিয় হওয়ার পেছনে অনেক কারণ রয়েছে। এখানে সংক্ষিপ্ত ও আকর্ষণীয় কন্টেন্ট বানানো যায়। ১৫-৩০ সেকেন্ডের ভিডিওর মাধ্যমে ব্যবহারকারীরা সহজেই নিজেদের ভাবনা প্রকাশ করতে পারে। পেশাদার ভিডিও এডিটিং স্কিল ছাড়াই যে কেউ ভিডিও তৈরি করতে পারে। এর নিত্যনতুন ট্রেন্ড, মিউজিক এবং চ্যালেঞ্জ বিশ্বব্যাপী তরুণদের আকৃষ্ট করছে। টিকটক এক ধরনের ডিজিটাল সংস্কৃতি তৈরি করেছে, যেখানে নতুন ধরণের নাচ, গান, কমেডি এবং শিক্ষামূলক কন্টেন্ট উঠে আসছে। প্ল্যাটফর্মটি স্থানীয় সংস্কৃতিকে বৈশ্বিক পর্যায়ে তুলে ধরতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছে। উদাহরণস্বরূপ, দক্ষিণ এশিয়ার বলিউড মিউজিক বা কোরিয়ান কে-পপ বিশ্বব্যাপী আরও জনপ্রিয় হয়েছে টিকটকের মাধ্যমে।

টিকটক এখন কেবল বিনোদনের প্ল্যাটফর্ম নয়, এটি রাজনৈতিক ও সামাজিক আন্দোলনেরও মাধ্যম হয়ে উঠেছে। উদাহরণস্বরূপ, ২০২০ সালে যুক্তরাষ্ট্রে #BlackLives Matter ব্যবহার করে কৃষ্ণাঙ্গদের অধিকারের জন্য আন্দোলনে টিকটক ছিল গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম। ইরানের নারীবাদী হিজাববিরোধী আন্দোলনে টিকটকের মাধ্যমে বহু কনটেন্ট ছড়িয়ে পড়ে। বাংলাদেশের তরুণ সমাজও ধর্ষণবিরোধী আন্দোলন, শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার ইত্যাদির পক্ষে টিকটক ব্যবহার করছে। টিকটক একটি নতুন ধরনের অর্থনৈতিক প্ল্যাটফর্ম তৈরি করেছে, যেখানে সাধারণ কন্টেন্ট ক্রিয়েটররাও আয় করতে পারছে।

ই-কমার্স ও মার্কেটিংয়ে ব্র্যান্ড ও প্রতিষ্ঠানগুলোর জন্য এটি বড় একটি মার্কেটিং প্ল্যাটফর্ম হয়ে উঠেছে টিকটক। অনেকেই এখন টিকটক ইনফ্লুয়েন্সার হিসেবে সফল ক্যারিয়ার গড়েছেন। ছোট ব্যবসাগুলো তাদের পণ্য প্রচারের জন্য টিকটককে ব্যবহার করছে, যা প্রচলিত বিজ্ঞাপনের তুলনায় অনেক বেশি কার্যকর। টিকটকের জনপ্রিয়তার পাশাপাশি কিছু নেতিবাচক দিকও রয়েছে। অ্যালগরিদমের কারণে অনেক ব্যবহারকারী ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় ব্যয় করে, যা তাদের বাস্তব জীবনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলে। অনেক ব্যবহারকারী অনলাইন হ্যারাসমেন্টের শিকার হয়। এখানে রাজনৈতিক ও সামাজিক ইস্যুতে টিকটকের মাধ্যমে ভুয়া তথ্য দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।

টিকটকের জনপ্রিয়তা ও প্রভাব বিবেচনায় এর ভবিষ্যৎ নিয়ে অনেক আলোচনা চলছে। কযুক্তরাষ্ট্র, ভারতসহ বেশ কয়েকটি দেশ জাতীয় নিরাপত্তার কারণে টিকটকের ব্যবহার নিষিদ্ধ বা সীমিত করেছে। এআই এবং ভার্চুয়াল রিয়েলিটি (VR) প্রযুক্তি ব্যবহার করে টিকটক আরও উন্নত হতে পারে। ভবিষ্যতে টিকটক শুধু বিনোদনের প্ল্যাটফর্ম না হয়ে শিক্ষামূলক বা আয়ের কনটেন্টের বড় মাধ্যম হয়ে উঠতে পারে।


পঞ্চগড়ের নদী সংকট পানি প্রবাহহীনতা ও পরিবেশ বিপর্যয়

পঞ্চগড় জেলার ৩৯টি নদীর মধ্যে ৬টি আন্তঃসীমান্ত নদী এবং ৩৩টি অভ্যন্তরীণ নদী রয়েছে। ভারত ও চীনের উজানে বাঁধ নির্মাণের ফলে এসব নদীর পানি প্রবাহ মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে। এর ফলে নদীগুলো শুকিয়ে মরা খালে পরিণত হয়েছে এবং জলজ জীববৈচিত্র্য চরম হুমকির মুখে পড়েছে। মহানন্দা, করতোয়া, চাওয়াই, পাথরাজ, ঘোড়ামারা ও তালমা নদী ভারতের উজান থেকে প্রবাহিত হয়ে পঞ্চগড়ের বুক চিরে বাংলাদেশে প্রবেশ করেছে। ভারত উজানে বাঁধ ও ব্লুইচ গেট নির্মাণ করায় এসব নদীতে শুষ্ক মৌসুমে পানি থাকে না, বর্ষাকালে হঠাৎ স্রোত আসায় বন্যা সৃষ্টি হয়। মহানন্দা নদী বিশেষভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, কারণ ১৯৯০ সালের দিকে ভারতের শিলিগুড়ির ফুলবাড়িতে বাঁধ নির্মাণের ফলে এর স্বাভাবিক প্রবাহ পরিবর্তিত হয়েছে।

নদীগুলোর পানি প্রবাহ কমে যাওয়ায় মাছ, ব্যাঙ, জলজ উদ্ভিদ ও অন্যান্য প্রাণী বিলুপ্তির পথে। নদীগুলোতে বালুচর জমে যাওয়ায় আশপাশের কৃষিজমি অনাবাদি হয়ে পড়ছে। এ কারণে চাষিরা নদীর শুকনো অংশে বোরো-ইরি ধান ও রবিশস্য চাষ করতে বাধ্য হচ্ছেন।পাশাপাশি, পানি সংকটের ফলে ঘূর্ণিঝড়, খরা, নতুন কীটপতঙ্গ ও রোগবালাইয়ের প্রকোপ বেড়েছে।২০২০-২১ অর্থবছরে চাওয়াই নদীর পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়িত হলেও অনিয়মের কারণে কাজটি ব্যর্থ হয়েছে। বর্ষার পানির স্রোতে খনন করা বালু পুনরায় নদীতে জমা হয়েছে। একইভাবে, ২০২১-২২ অর্থবছরে তেঁতুলিয়ার তিরনইহাট নদী খননের প্রকল্পেও অনিয়ম ও দুর্নীতির অভিযোগ উঠেছে।

বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর উত্তরাঞ্চল প্রতিনিধি মো. জিয়াউর রহমান বলেন, ভারতের একতরফা বাঁধ নির্মাণ ও অবৈধ বালু-পাথর উত্তোলনের ফলে নদীগুলো সংকটে পড়েছে। বাংলাদেশের সরকারকে প্রতিবেশী দেশের সাথে কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে পানি প্রবাহ নিশ্চিত করার জন্য উদ্যোগ নিতে হবে। পাশাপাশি অভ্যন্তরীণ নদী রক্ষায় কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। পঞ্চগড়ের নদীগুলোর সংকট শুধু পরিবেশগত সমস্যা নয়, এটি কৃষি, জীববৈচিত্র্য ও অর্থনীতির উপরও বিরূপ প্রভাব ফেলছে। আন্তর্জাতিক নদীগুলোর পানির ন্যায্য হিস্যা নিশ্চিত করার জন্য সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করতে হবে।



ইউএফও বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্র সাময়িক বাহিনী যা বলেছে

ইউএফও বা অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু (Unidentified Flying Object) মানব সভ্যতার ইতিহাসে এক রহস্যময় এবং বিতর্কিত বিষয়।অনেক বছর ধরে UFO এবং এর সাথে সম্পর্কিত ঘটনা বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীতে ব্যাপক আলোচনা এবং তদন্তের বিষয় হয়ে এসেছে। বিভিন্ন সময় যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী, নেভি এবং অন্যান্য সামরিক সংস্থা ইউএফও সংক্রান্ত তথ্য সংগ্রহ করেছে এবং কিছু ঘটনাকে গোপনীয় রাখা হয়েছে।

যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ইউএফও বিষয়ক তদন্তে বেশ আগে থেকেই জড়িত ছিল। ১৯৪৭ সালে “রোজওয়েল দুর্ঘটনা” ঘটেছিল, যেখানে একটি অজ্ঞাত বস্তু অবতরণ করার খবর পাওয়া যায়। ওই ঘটনাটি ব্যাপক আলোচিত হয়েছিল এবং অনেকেই দাবি করেছিলেন যে, এটি একটি মহাকাশযান ছিল, যার সঙ্গে বিদেশী প্রাণীও থাকতে পারে। যদিও সরকার তখন দাবি করে এটি একটি তাপ বেলুনের দুর্ঘটনা, তারপরও অনেকেই বিশ্বাস করেন এটি একটি UFO ঘটনার অংশ ছিল। ২০০৭ সালে যুক্তরাষ্ট্রের পেন্টাগন একটি গোপন প্রকল্প চালু করেছিল যার নাম ছিল “অ্যাডভান্সড এয়ারক্রাফট থ্রেট আইডেন্টিফিকেশন প্রোগ্রাম (AATIP)”। এই প্রকল্পের লক্ষ্য ছিল অজ্ঞাত উড়ন্ত বস্তু এবং তার পরিণতি বিশ্লেষণ করা। ২০১৭ সালে নিউ ইয়র্ক টাইমস একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করে। যা প্রকাশ্যে আনে, পেন্টাগন দীর্ঘদিন ধরে ইউএফও অনুসন্ধান করে আসছে।

এটি নিশ্চিত করে যে, সামরিক বাহিনী UFO এবং তার পেছনের রহস্যজনক প্রযুক্তি নিয়ে গবেষণা করছে। এরপর থেকে, সামরিক বাহিনী বেশ কিছু ইউএফও ভিডিও প্রকাশ করেছে, যা ইউএস নেভির পাইলটদের দ্বারা ধারণ করা হয়েছিল। ২০২০ এবং ২০২১ সালে মার্কিন সরকার UFO সম্পর্কিত আরও তথ্য প্রকাশ করে এবং সামরিক বাহিনীর বেশ কিছু শীর্ষ কর্মকর্তা ইউএফও গুলি নিয়ে তাদের অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন। ২০২১ সালে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনী একটি রিপোর্ট প্রকাশ করে যেখানে তারা জানায়, ইউএফও সম্পর্কিত বহু ঘটনা এবং অবজারভেশন তাদের নজরে এসেছে, তবে এর মধ্যে অধিকাংশেরই কোনো নির্দিষ্ট ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

২০২১ সালে মার্কিন ডিপার্টমেন্ট অফ ডিফেন্স একটি আনুষ্ঠানিক রিপোর্ট প্রকাশ করে, যার মধ্যে ১৪৩টি ইউএফও ইস্যু উল্লেখ করা হয়। এই ঘটনাগুলির মধ্যে ১টি মাত্র ক্ষেত্রেই সঠিক ব্যাখ্যা পাওয়া গেছে, বাকি ১৪২টি ঘটনাই রয়ে গেছে অজ্ঞাত এবং রহস্যজনক। যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা এখন ইউএফও বিষয়ক তথ্য সংগ্রহ ও গবেষণায় আরও আগ্রহী হয়ে উঠেছেন। তাদের মতে, এসব অজ্ঞাত বস্তু আমাদের আধুনিক প্রযুক্তির সঙ্গে তুলনা করলে অনেক বেশি উন্নত এবং শক্তিশালী হতে পারে। তবে ইউএফওয়ের আক্রমণ বা তাদের অশুভ উদ্দেশ্য নিয়ে এখনো কোনো সুস্পষ্ট প্রমাণ পাওয়া যায়নি। পাশাপাশি জনগণের মধ্যে ইউএফও বিষয়ক কৌতূহলও বাড়ছে। অনেকেই বিশ্বাস করেন, ইউএফওগুলি হয়তো অন্য কোন সভ্যতার অস্তিত্বের প্রমাণ হতে পারে, যা এখনও পৃথিবী থেকে দূরে অবস্থান করছে।

যেহেতু ইউএফও সম্পর্কিত তথ্য এবং ঘটনার সংখ্যা বাড়ছে, তাই এই বিষয়ে ভবিষ্যতে আরও বেশি গবেষণা ও তদন্ত আশা করা হচ্ছে। সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা এবং বিজ্ঞানীরা ধারণা করছেন যে, ইউএফওগুলি সম্ভবত আমাদের বৈজ্ঞানিক ধারণাগুলিকে চ্যালেঞ্জ করতে পারে এবং এটি মহাকাশের নতুন রহস্য উন্মোচন করতে সাহায্য করতে পারে। সামরিক বাহিনী এবং সরকারের পক্ষ থেকে এখনো ইউএফওদের পরিচয় বা তাদের প্রকৃতি সম্পর্কে কিছু নিশ্চিত তথ্য প্রকাশ করা হয়নি, তবে গবেষণার অগ্রগতির সঙ্গে সাথে আরও নতুন তথ্য সামনে আসবে বলে আশা করা যায়।



পিতার মানসিক চাপ প্রভাব ফেলে তার শুক্রানুতেও

সম্প্রতি একটি নতুন গবেষণায় একটি চমকপ্রদ এবং কিছুটা চিন্তার বিষয় উঠে এসেছে। স্পার্ম সেলে পিতার অনুভূত মানসিক চাপের চিহ্ন পাওয়া যায়, যা ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্যের উপর প্রভাব ফেলতে পারে। এই গবেষণাটি স্পষ্টভাবে প্রদর্শন করেছে পরিবেশগত উপাদান, যেমন মানসিক চাপ, একটি ছাপ রেখে যায়, যা ডিএনএ এবং এপিজেনেটিক চিহ্নের উপর প্রভাব ফেলে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের স্বাস্থ্য ও বিকাশের উপর তার প্রভাব ফেলতে পারে।

গবেষণার পটভূমি
গবেষণাটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন ক্যালিফোর্নিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের (USC) একটি দলের মাধ্যমে পরিচালিত হয়েছিল, যার উদ্দেশ্য ছিল মানসিক চাপের প্রভাব প্রজনন স্বাস্থ্য এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের উপর। মানসিক চাপের প্রভাব আগে থেকেই বিভিন্ন শারীরিক এবং মানসিক অবস্থায় প্রভাব ফেলে আসছিল, তবে এটি স্পার্ম সেলের উপর কেমন প্রভাব ফেলে এবং ভবিষ্যৎ সন্তানদের উপর তার কি প্রভাব পড়তে পারে, তা তেমনভাবে জানা ছিল না।

এই গবেষণাটি বিশেষভাবে স্পার্ম সেলের এপিজেনেটিক পরিবর্তনগুলো নিয়ে কাজ করেছে। এপিজেনেটিক্স হল সেই সমস্ত পরিবর্তন যা জেনেটিক কোড পরিবর্তন না করেও একটি কোষের আচরণ পরিবর্তন করে এবং সেগুলি পরবর্তী প্রজন্মে স্থানান্তরিত হতে পারে।মানসিক চাপ শারীরিকভাবে শরীরের হরমোন যেমন করটিসোলের মাধ্যমে সক্রিয় হয়। দীর্ঘ সময় ধরে অতিরিক্ত মানসিক চাপের ফলে এই হরমোনের স্তর বেড়ে যায়, যা কোষের কার্যক্রম পরিবর্তন করতে পারে।

গবেষণায় দেখা গেছে, এটি স্পার্ম সেলের ডিএনএতে একধরনের প্রভাব ফেলতে পারে, যা ভবিষ্যৎ সন্তানের স্বাস্থ্য এবং বিকাশকে প্রভাবিত করে। মানসিক চাপ শারীরিকভাবে আমাদের শরীরে “যুদ্ধ বা পলায়ন” প্রতিক্রিয়া উদ্দীপিত করে, যার ফলে করটিসোলের মতো হরমোনের ক্ষরণ শুরু হয়। যদিও এই প্রতিক্রিয়া দ্রুত সংকট মোকাবিলার জন্য গুরুত্বপূর্ণ, দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপে এটি ক্ষতিকর হয়ে উঠতে পারে। অতিরিক্ত চাপ শরীরের কোষে দীর্ঘমেয়াদী পরিবর্তন নিয়ে আসে, যা কখনও কখনও ডিএনএ এবং এপিজেনেটিক প্রভাবের মাধ্যমে পরবর্তী প্রজন্মের উপর প্রভাব ফেলে।

এটি স্পার্ম সেলের উপর বিশেষভাবে প্রভাব ফেলে কারণ স্পার্ম সেলের পুনর্জন্ম প্রক্রিয়া খুব ধীর। সুতরাং পরিবেশগত পরিবর্তনগুলি যেমন মানসিক চাপ খুব দ্রুত এবং গভীরভাবে এর উপর প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণার ফলাফল অনুযায়ী, পিতার মানসিক চাপ স্পার্ম সেলের ডিএনএতে বিভিন্ন পরিবর্তন আনতে পারে, যার ফলে সন্তানদের শারীরিক এবং মানসিক স্বাস্থ্য প্রভাবিত হতে পারে। এছাড়াও স্পার্ম সেলের মানসিক চাপের কারণে সন্তান গর্ভাবস্থায় থাকার সময় তা তাদের জন্মগত স্বাস্থ্যে প্রভাব ফেলতে পারে। গবেষণার ফলাফলগুলি বোঝায় যে, একজন বাবা যদি দীর্ঘ সময় ধরে মানসিক চাপের মধ্যে থাকেন, তবে সেই চাপ তার স্পার্ম সেলের মধ্যে কিছু এপিজেনেটিক পরিবর্তন নিয়ে আসতে পারে, যা তার সন্তানের স্বাস্থ্যকে প্রভাবিত করতে পারে। এটি প্রজন্মের পর প্রজন্মে বিভিন্ন ধরনের স্বাস্থ্য সমস্যা তৈরি করতে পারে।

যেমন, মানসিক চাপের প্রভাবে সন্তানদের মেটাবলিক ডিসঅর্ডার, হৃদরোগ এবং মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যা যেমন উদ্বেগ বা বিষণ্ণতা দেখা দিতে পারে। এটি একটি প্রতিক্রিয়া চক্র তৈরি করতে পারে, যেখানে এক প্রজন্মের মানসিক চাপ পরবর্তী প্রজন্মের উপর প্রভাব ফেলে, এবং সেই প্রজন্ম আবার আরও চাপের মধ্যে পড়তে পারে। গবেষকরা এই ফলাফলগুলির মাধ্যমে আরও একবার স্পষ্টভাবে জোর দিয়েছেন যে পিতার মানসিক স্বাস্থ্য এবং চাপ নিয়ন্ত্রণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। যেখানে সাধারণত মাতৃস্বাস্থ্যকেই বেশি গুরুত্ব দেওয়া হয়, সেখানে বাবা-মায়ের উভয়ের স্বাস্থ্যের উপর সমানভাবে মনোযোগ দেওয়া উচিত। মানসিক চাপ কমানোর জন্য নানা ধরনের সাইকোলজিক্যাল সমর্থন, থেরাপি এবং শারীরিক কসরত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে, যা সন্তানদের উপর মানসিক চাপের প্রভাব কমাতে সাহায্য করতে পারে।

এই গবেষণাটি জনস্বাস্থ্য নীতিমালার জন্য নতুন দরজা খুলে দিয়েছে। এটি প্রমাণ করেছে যে শুধুমাত্র মাতার মানসিক স্বাস্থ্য নয়, বাবার মানসিক স্বাস্থ্যও সন্তানের বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। এটি জনস্বাস্থ্য উদ্যোগগুলির মধ্যে পুরুষদের মানসিক স্বাস্থ্য এবং চাপের প্রতি মনোযোগ বৃদ্ধি করতে পারে। এছাড়াও এটি সমাজে মানসিক স্বাস্থ্যের গুরুত্ব বাড়ানোর ক্ষেত্রে একটি কার্যকরী পদক্ষেপ হতে পারে। যেখানে মানুষের মানসিক চাপের প্রভাবগুলি সঠিকভাবে সমাধান।




সিরিয়ায় সরকারি বাহিনী ও আসাদপন্থীদের সংঘর্ষ

সিরিয়ায় বৃহস্পতিবার সরকারি বাহিনী ও ক্ষমতাচ্যুত বাশার আল-আসাদ সমর্থকদের মধ্যে তীব্র লড়াইয়ে উপকূলীয় শহর জাবলেহ ও সংলগ্ন গ্রামগুলোতে ৪৮ জন নিহত হয়েছে। এটি ডিসেম্বরে আসাদের পতনের পর সরকারি বাহিনীর বিরুদ্ধে সবচেয়ে সহিংস হামলার ঘটনা। এদিকে, সিরিয়ার হোমস ও আলেপ্পো শহরেও সংঘর্ষের খবর পাওয়া গেছে। বৃহস্পতিবারের হামলাটি হয়েছিল ভূমধ্যসাগরের তীরবর্তী সিরিয় প্রদেশ লাটাকিয়ায়। লাটাকিয়া আসাদের সংখ্যালঘু আলাওয়াইট গোষ্ঠীর ঘাঁটি হিসেবে পরিচিত। এ অঞ্চলেই আসাদের প্রতি সমর্থন সবচেয়ে বেশি।

সিরিয়ার এই অঞ্চল দেশটির অন্তর্বতীকালীন প্রেসিডেন্ট আহমেদ আল-শারার জন্য একটি বড় নিরাপত্তা ঝুঁকি হয়ে উঠেছে। নতুন প্রেসিডেন্ট দেশটির দক্ষিণাঞ্চলেও বাধার মুখে পড়ছেন। সেখানে সাম্প্রতিক সময়ে দ্রুজ বাহিনীর সঙ্গে সংঘর্ষ হয়েছে। লাটাকিয়ার নিরাপত্তা কর্মকর্তা মুস্তাফা নেফাতি বলেন, ‘এটা ছিল একটি সুপরিকল্পিত হামলা। আসাদের প্রতি অনুগত মিলিশিয়াদের বেশ কয়েকটি দল জাবলেহ এলাকায় আমাদের সামরিক অবস্থান ও চৌকিতে হামলা চালায়’। সিরিয়ার হায়াত তাহরির আল-শাম নামের ইসলামপন্থি বিদ্রোহী গোষ্ঠী আসাদ সরকারের বিরুদ্ধে সশস্ত্র লড়াই শুরু করে। ৮ ডিসেম্বর ক্ষমতা ছেড়ে রাশিয়ায় পালিয়ে যান আসাদ।

এরপর থেকেই দেশটির নতুন নিরাপত্তাবাহিনী সারা দেশে আসাদপন্থিদের খুঁজে বের করার অভিযান শুরু করে। বাসিন্দারা ও বিভিন্ন সংগঠন এসব অভিযানে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ আনেন। তারা জানান, অনেক ক্ষেত্রে বাড়িঘরের দখল, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড ও অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। সিরিয়ার নতুন প্রশাসন এগুলোকে ‘বিচ্ছিন্ন ঘটনা’ বলে অভিহিত করে দায়ী ব্যক্তিদের শাস্তি দেওয়ার অঙ্গীকার করেছে।

এবারই প্রথম নয়, আসাদ সরকারের পতনের পর থেকে প্রায়ই সশস্ত্র ‘সন্ত্রাসী’দের হামলার শিকার হচ্ছেন নিরাপত্তাকর্মীরা। এর আগেও কেন্দ্রীয় শহর হামা, হোমস, ইদলিবসহ বেশ কয়েকটি শহরে বন্দুকধারীদের হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন উল্লেখযোগ্যসংখ্যক নিরাপত্তাকর্মী। সিরিয়ার অন্তর্বতীকালীন সরকার হুঁশিয়ারি দিয়েছে, সিরিয়ার সব অবৈধ সশস্ত্র গোষ্ঠীকে দমনে কঠোর হবে কর্তৃপক্ষ। এদিকে, আসাদ সরকারের পতনের তিন মাস পরও তাঁর অনুগতদের দ্বারা এমন ঘটনাকে আল শারার সরকারের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ বলছেন বিশ্লেষকেরা।

কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য একইরকম রয়েছে এবং নারীরা পুরুষদের তুলনায় আড়াইগুণ বেশি ক্ষেত্রে বেতনহীন সেবার কাজ করেন। ইউএন উইমেন এর নির্বাহী পরিচালক সিমা বাহুস বলেছেন, সংস্থাটি আশা করে যে প্রতিবেদনের তথ্যের উপর ভিত্তি করে একটি নতুন রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ নির্ধারিত লিঙ্গ সমতা অর্জনের লক্ষ্যের আরও কাছাকাছি আসবে বিশ্ব।