Home Blog Page 176

ইউএন উইমেনের প্রতিবেদন : বিশ্বের এক – চতুর্থাংশ দেশে নারী অধিকার দুর্বল হয়েছে

বৃহস্পতিবার প্রকাশিত জাতিসংঘের নারীবিষয়ক সংস্থা ইউএন উইমেনের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে- দুর্বল গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান, ক্রমবর্ধমান সংঘাত, মানবিক সংকট এবং জলবায়ু পরিবর্তনের মতো বিভিন্ন সমস্যার কারণে গত বছর বিশ্বের এক চতুর্থাংশ দেশে নারীর অধিকার হ্রাস পেয়েছে। ৮ মার্চ আন্তর্জাতিক নারী দিবসের প্রাক্কালে এবং ১৯৯৫ সালে বেইজিং প্ল্যাটফর্ম ফর অ্যাকশনে নারীর অধিকার বিষয়ক একটি বিশ্বব্যাপী সম্মেলনের ৩০ বছর পূর্তি উপলক্ষে এই প্রতিবেদনটি প্রকাশিত হয়েছে। সম্মেলনটিতে ১৮৯টি দেশ লিঙ্গ সমতা অর্জনের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপগুলোর রূপরেখা দিয়ে একটি চুক্তি অনুমোদন করেছিল।

ইউএন উইমেন এর প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ‘গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোর দুর্বলতা বাড়ার সঙ্গে লিঙ্গ সমতার ওপর আঘাতও বেড়ে চলেছে। মূল বিষয়গুলো নিয়ে দীর্ঘদিনের ঐকমত্যকে সক্রিয়ভাবে ক্ষুণ্ণ করছে (নারীর) অধিকারবিরোধীরা।’ জাতিসংঘের সচিব আন্তোনিও গুতেরেস এক বিবৃতিতে বলেছেন, ‘বিশ্বব্যাপী নারীর মানবাধিকার আক্রমণের শিকার হচ্ছে। সমান অধিকারকে মূলধারায় আনার পরিবর্তে, আমরা নারী বিদ্বেষকে মূলধারায় আনতে দেখছি।’ গত ৩০ বছরের দিকে ফিরে তাকালে বিশ্বজুড়ে নারী অধিকারের বিষয়ে অগ্রগতি দেখা গেলেও তা যথেষ্ট নয় বলে উল্লেখ করা হয়েছে প্রতিবেদনে।

বিশ্বব্যাপী পার্লামেন্টগুলোতে নারী প্রতিনিধিত্বের হার আগের চেয়ে প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তবে পুরুষ আইনপ্রণেতাদের সংখ্যা এখনও তিন-চতুর্থাংশ। ২০১০ থেকে স্বাস্থ্যসেবা এবং সহিংসতা থেকে সুরক্ষার মতো সামাজিক সুরক্ষাপ্রাপ্ত নারীর সংখ্যা এক-তৃতীয়াংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, তবে এখনও ২০০ কোটি নারী ও মেয়ে শিশু এর আওতার বাইরে রয়েছেন। আইনি অধিকারের বিবেচনায় ৮৮ শতাংশ দেশ নারীর প্রতি সহিংসতা বন্ধে আইন পাস করেছে এবং পরিষেবা তৈরি করেছে। বেশিরভাগ দেশ নারীর প্রতি বৈষম্য নিষিদ্ধ করেছে এবং আরো বেশ কয়েকটি তাদের শিক্ষা ও জীবনের মান উন্নত করছে।

কর্মক্ষেত্রে লিঙ্গ বৈষম্য একইরকম রয়েছে এবং নারীরা পুরুষদের তুলনায় আড়াইগুণ বেশি ক্ষেত্রে বেতনহীন সেবার কাজ করেন। ইউএন উইমেন এর নির্বাহী পরিচালক সিমা বাহুস বলেছেন, সংস্থাটি আশা করে যে প্রতিবেদনের তথ্যের উপর ভিত্তি করে একটি নতুন রোডম্যাপ বাস্তবায়ন করা গেলে ২০৩০ সালের মধ্যে জাতিসংঘ নির্ধারিত লিঙ্গ সমতা অর্জনের লক্ষ্যের আরও কাছাকাছি আসবে বিশ্ব।

এই বছর নারী দিবস কেন গুরুত্বপূর্ণ ?

বাংলাদেশে নারী দিবসও প্রকৃতপক্ষে নারীদের জন্য নয়। কোনো দিনই ছিলো না। ঠিক এই কারণেই আন্তর্জাতিক নারী দিবস আমাদের জন্য আরও জরুরি হয়ে ওঠেড়এর তাৎপর্য আরও গভীর হয়। আগামীকাল (৮ মার্চ) বিশ্বব্যাপী ইতিহাসের বিভিন্ন পর্বে নারীদের অর্জন উদযাপিত হবে। এটি এমন একটি দিন, যা লিঙ্গসমতার পথে অগ্রগতির হলেও আমাদের হতাশাজনক পর্যালোচনা করার সুযোগ দেয় এবং নারীদের মুখোমুকি হওয়া চ্যালেঞ্জগুলোর বিষয়ে সচেতনতা বাড়ায়। কিন্তু বাংলাদেশে নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার ক্রমবর্ধমান হার নারী দিবসকে কেবল উদযাপনের বিষয় রাখেনি, এটি এখন একটি নিরবচ্ছিন্ন লড়াইয়ের একটি কঠোর স্মারক। যেখানেও নিরাপত্তা, ন্যায়বিচার ও সমঅধিকারের জন্য আমাদের লড়তে হয়।

গত এক বছরে বাংলাদেশের নারী অধিকার পরিস্থিতি নিয়ে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো এত ভয়াবহ চিত্র এঁকেছে। “ভয়াবহ” শব্দটিও হয়তো এর জন্য যথেষ্ট নয়। নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা ব্যাপকভাবে বিস্তৃত। বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ২,৩৬২ নারী ও শিশু সহিংসতার শিকার হয়েছেনড়এর মধ্যে ১,০৩৬ জনই শিশু। তাদের মধ্যে ৪৮৬ জন নিহত হয়েছেন, অর্থাৎ প্রতিদিন অন্তত একজন নারীকে হত্যা করা হয়েছে। ২০২৪ সালের প্রথম ১১ মাসে ১৮৬ জন নারী ও শিশু ধর্ষণের শিকার হয়েছেন (প্রতি দুই দিনে একজন), ১৩টি গণধর্ষণের ঘটনা নথিভুক্ত হয়েছে, এবং ৩ জনকে হত্যা করা হয়েছে।

বাংলাদেশ জাতীয় মহিলা আইনজীবী সমিতি জানিয়েছে, কেবল ২০২৪ সালের সেপ্টেম্বর মাসেই ১৮৬টি সহিংসতার ঘটনা ঘটেছ। যার মধ্যে যৌন নির্যাতন ও হয়রানি অন্তর্ভুক্ত ছিল। তবে প্রকৃত সংখ্যা আরও অনেক বেশি, কারণ অনেক ঘটনা রিপোর্টই করা হয় না। গতকালই আমরা তিন বছর বয়সী এক শিশুকেও ধর্ষণ হতে দেখেছি এবং আমাদের জন্য এটা নতুনও নয়। দেশের প্রতিটি নারীই এখন আতঙ্কে। বাংলাদেশের নারীদের জন্য এই সহিংসতা কেবল ব্যক্তিগত দুর্ভোগ নয়, এটি সামাজিক ব্যাধি। সাংস্কৃতিক রীতিনীতির কারণে অনেক নারী নির্যাতনের বিষয়ে চুপ থাকতে বাধ্য হন এবং যারা সাহায্য চান, তাদেরকে সামাজিকভাবে লজ্জিত করা হয়।

এর প্রকৃষ্ট উদাহরণ হতে পারে ৬ মার্চের ঘটনা। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় এলাকায় এক ব্যক্তি এক নারীকে মৌখিকভাবে হয়রানি করায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়, কিন্তু পরে একটি দল থানায় ভিড় করে তার মুক্তি দাবি করে এবং উল্টো অভিযোগকারী নারীর বিরুদ্ধেই ডাকাতি বা মানহানির অভিযোেগ আনার চেষ্টা করা হয়। এমন পরিস্থিতিতে প্রশ্ন জাগে, “এই দেশে অভিযোগ 66 করে আদৌ কোনো লাভ আছে?” এই সংস্কৃতি, যেখানে ভুক্তভোগীদের কণ্ঠ রুদ্ধ করা হয়, এটি নির্যাতনের প্রকৃত ব্যাপকতা নির্ধারণকে আরো কঠিন করে তোলে। নারীর প্রতি সহিংসতার আরেকটি উদ্বেগজনক দিক হলো ‘নারী বনাম নারী’ আচরণ, যেখানে নারীরাই অন্য নারীদের বিরুদ্ধে সহিংসতা বা বৈষম্যমূলক আচরণে লিপ্ত হন।

এটি বিভিন্নভাবে দেখা যায়। ধরুন, গালিগালাজ, মানসিক নির্যাতন থেকে শুরু করে পিতৃতান্ত্রিক নিয়মকানুন বজায় রাখার জন্য চুপ করে থাকা পর্যন্ত। কিছু ঘটনা সহজে ভুলবার নয়। যেমনড়এক তরুণী যখন রেলস্টেশনে জিন্স পরেছিলেন, তখন এক নারীই প্রথম তাকে আক্রমণ করেন এবং পরে জনতা মিলে তাকে হয়রানি করে। কিংবা বাসে এক রক্ষণশীল নারী এক কিশোরীকে বলছিলেন, “তোমাদের পোশাকের কারণেই তো দেশে এত ধর্ষণ হচ্ছে!” এ ধরনের আচরণ অনেক সময় ‘অভ্যন্তরীণ নারীবিদ্বেষ’ থেকে আসে। যেখানে নারীরা সমাজের শেখানো নিয়ম মেনে চলে এবং নিজেরাই ক্ষতিকর চর্চাগুলোর ধারক হয়ে ওঠেনড়যেমন বাল্যবিবাহ, যৌতুকের দাবি বা নারীর ওপর নির্যাতনের দায় নারীদের ওপর চাপানো। অনেক ক্ষেত্রেই এমন নারীরা নিজেরাই কোনো না কোনো সময় নিপীড়নের শিকার হয়েছেন এবং অবচেতনভাবে সেই কষ্ট পরবর্তী প্রজন্মের ওপর চাপিয়ে দেন।

এর ফলাফল একটি চক্র হয়ে ফিরে আসে, যেখানে সহিংসতা ও দমননীতি টিকে থাকে। এটি ভাঙতে হলে কেবল আইন পরিবর্তন করলেই হবে না বরং নারীদের মধ্যেও যে বিদ্যমান ক্ষমতার কাঠামো নারীবিদ্বেষকে টিকিয়ে রাখছে, তাকেও চ্যালেঞ্জ করা প্রয়োজন। নারী ও কন্যাশিশুর বিরুদ্ধে সহিংসতার সামাজিক প্রভাব সুদূরপ্রসারী। এটি অর্থনৈতিক উন্নয়ন, শিক্ষা এবং সামাজিক স্থিতিশীলতাকে ব্যাহত করে এবং অন্যায়ের সংস্কৃতি তৈরি করে। যখন নারীরা নিজের বাড়িতেও নিরাপদ নন, কর্মস্থলে বা রাস্তায় চলাফেরা করতে ভয় পান, তখন শুধু তাদের জীবনই নয়, বরং সমগ্র জাতির অগ্রগতিই বাধাগ্রস্ত হয়।



বাংলাদেশে মূল্যস্ফীতি এখনো দক্ষিনে এশিয়ায় সর্বোচ্চ

সাম্প্রতিক বন্যার পর বাংলাদেশে শাকসবজির ফলন ব্যাপকভাবে বৃদ্ধি পেয়েছে, যার ফলে শাকসবজির দাম অনেক কমে গেছে। যদিও এটি ভোক্তাদের জন্য স্বস্তির বিষয়, তবে কৃষকরা তাদের উৎপাদন খরচও পূর্ণ করতে পারছেন না।দেশী পেঁয়াজ বর্তমানে ৪০ টাকা কেজি দামে বিক্রি হচ্ছে, গত বছরের এই সময় পেঁয়াজের দাম ১২০ টাকা কেজি ছিল। টমেটো এবং আলুর মতো শাকসবজিগুলোর দামও ২০ টাকার নিচে। গত বছর এসব শাকসবজির দাম অনেক বেশি ছিল।শাকসবজির দাম কমলেও কৃষকরা তাদের উৎপাদন খরচও তুলতে পারছেন না, যা তাদের জন্য অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।

বাংলাদেশ পরিসংখ্যান ব্যুরো (বিবিএস) এর তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে দেশের মূল্যস্ফীতির হার ৯.৩২ শতাংশে নেমে এসেছে, জানুয়ারিতে ছিল ৯.৯৪ শতাংশ। খাদ্যের মূল্যস্ফীতি ৯.২৪ শতাংশে নেমে এসেছে, যেখানে গত বছরের মার্চের পর খাদ্যের মূল্যস্ফীতি কখনো এক অংকের মধ্যে আসেনি।বাংলাদেশের মূল্যস্ফীতির হার ফেব্রুয়ারিতে দক্ষিণ এশিয়ার মধ্যে সর্বোচ্চ ছিল। শ্রীলঙ্কার মূল্যস্ফীতির হার ছিল ঋণাত্মক ৪.২০% (-৪.২০%)। শ্রীলঙ্কায় টানা ছয় মাস ধরে মূল্যস্ফীতি ঋণাত্মক ছিল।পাকিস্তানও নজিরবিহীন সাফল্য দেখিয়েছে, তাদের মূল্যস্ফীতির হার ফেব্রুয়ারিতে ১.৫% নেমেছে, যা ৯ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন। পাকিস্তান ২০২৩ সালের এপ্রিল মাসে ৩৮% মূল্যস্ফীতি দেখেছিল।

অর্থনীতিবিদরা বলছেন, গত তিন মাসে শীতকালীন শাকসবজির দাম কমার ফলে মূল্যস্ফীতি কিছুটা হ্রাস পেয়েছে। তবে তারা মনে করেন এটি একটি সিজনাল ইফেক্ট, দীর্ঘস্থায়ী হবে না। ড. সেলিম রায়হান সাউথ এশিয়ান নেটওয়ার্ক অন ইকোনমিক মডেলিং (সানেম)-এর নির্বাহী পরিচালক জানান যে কৃষকরা প্রচুর শীতকালীন শাকসবজি চাষ করেছেন এবং বাজারে এর পর্যাপ্ত সরবরাহ রয়েছে, যা দাম কমাতে সহায়তা করেছে। তবে সরবরাহ নিশ্চিত না হলে শাকসবজির দাম আবার বাড়তে পারে।

ড. রায়হান আরও বলেন, “বাংলাদেশে মূলত সরবরাহের ঘাটতির কারণে মূল্যস্ফীতি হচ্ছে। শাকসবজির দাম কমে যাওয়ার ঘটনা আমাদের দাবিকে সমর্থন করে।” তিনি কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার বাড়ানোর উদ্যোগকেও প্রশ্নবিদ্ধ করেছেন কারণ বাজারে চাল, ডাল, মাছ-মাংসসহ অন্যান্য নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমেনি বরং অনেক পণ্যের দাম বেড়েছে।মূল্যস্ফীতি কমলেও অর্থনীতিবিদরা মনে করেন যে সরকার বা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের কোনো পদক্ষেপই এতে ভূমিকা রাখেনি। বরং এ সাফল্যের কৃতিত্ব পুরোপুরি কৃষকদের।ড. রায়হান বলেছেন, সরকার এবং কেন্দ্রীয় ব্যাংককে তাদের নীতিমালা সংশোধন করতে হবে, যাতে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ করা যায়। একটি উপযুক্ত মুদ্রানীতি এবং রাজস্বনীতি প্রণয়ন করে সংকটের সমাধান করতে হবে।

বাংলাদেশে গত তিন বছর ধরে উচ্চ মূল্যস্ফীতি বিরাজ করছে, যেখানে গত দুই অর্থবছরের গড় মূল্যস্ফীতির হার ৯ শতাংশের বেশি ছিল। ২০২৪-২৫ অর্থবছরের প্রথম মাসে (জুলাই) মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১১.৬৬ শতাংশ। তবে ৫ আগস্টের পর এটি ১০.৪৯ শতাংশে নেমে আসে। তারপর সেপ্টেম্বরে এটি কিছুটা কমে ৯.৯২ শতাংশ হয়, কিন্তু অক্টোবরে এবং নভেম্বরে আবার বৃদ্ধি পায়। অক্টোবরে এটি ১০.৮৭ শতাংশ এবং নভেম্বরে ১১.৩৮ শতাংশ হয়।বাংলাদেশে শাকসবজির দাম কমার কারণে মূল্যস্ফীতির কিছুটা হ্রাস দেখা গেলেও, দেশের সামগ্রিক মূল্যস্ফীতি দক্ষিণ এশিয়ার অন্যান্য দেশের তুলনায় অনেক বেশি। এটি প্রমাণ করে যে, মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে দীর্ঘমেয়াদী সমাধান প্রয়োজন। বিশেষ করে স্থায়ী সরবরাহ চেইন এবং উন্নত অর্থনৈতিক নীতির মাধ্যমে। শাকসবজির দাম কমার এই ট্রেন্ড মূলত সিজনাল ইফেক্টের কারণে এবং যদি সরবরাহের সমস্যা না সমাধান হয়, তাহলে শাকসবজির দাম আবারও বাড়তে পারে।

প্রাচীন গ্রিক বিজ্ঞানের অবিশ্বাস্য জগত , ৩০০০ বছর আগেই তারা যে চারটি বিষয়ে জানতেন

হেরোডোটাসের (৪৮৪ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৪২৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) লিখিত “দ্য হিস্টরিজ” খ্রিস্টপূর্ব পঞ্চম শতাব্দীর মাঝামাঝি সময়ে প্রাচীন গ্রিকদের জানা বিশ্বের একটি উল্লেখযোগ্য চিত্র উপস্থাপন করে। এটি পরবর্তী কয়েক শতাব্দীতে তাদের জ্ঞানের উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির ভিত্তি স্থাপন করে সেগুলো কেবল তাদের নিজেদের চোখে যা দেখতে পৈতেন তার উপর নির্ভর করে। হেরোডোটাস দাবি করেছিলেন যে আফ্রিকা প্রায় সম্পূর্ণরূপে সমুদ্র দ্বারা বেষ্টিত। তিনি কীভাবে এটি জানতেন? তিনি ফোনিশীয় নাবিকদের গল্প বর্ণনা করেন যারা মিশরের রাজা নেকো দ্বিতীয় (৬০০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) দ্বারা প্রেরিত হয়েছিলেন লোহিত সাগর থেকে শুরু করে ঘড়ির কাঁটার দিকে আফ্রিকা মহাদেশের চারপাশে পাড়ি দেওয়ার জন্য।

এই ভ্রমণে বেশ কয়েক বছর লেগেছিল। আফ্রিকার দক্ষিণ প্রান্ত ঘুরে পশ্চিমমুখী পথে যাত্রা করার সময়, নাবিকরা সূর্যকে তাদের ডান হাতের দিকে, উত্তর দিগন্তের উপরে দেখেছিলেন। এই পর্যবেক্ষণটি তখন অর্থপূর্ণ মনে হয়নি কারণ তারা তখনও জানত না যে পৃথিবীর আকার গোলাকার এবং একটি দক্ষিণ গোলার্ধ আছে! নিচে সেই স্বর্ণ যুগের ৪টি উদাহরণ দেওয়া হলো – গ্রহগুলি সূর্যকে প্রদক্ষিণ করে সামোসের অ্যারিস্টারকাস (৩১০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ২৩০ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) যুক্তি দিয়েছিলেন যে সূর্য ছিল মহাবিশ্বের কেন্দ্রীয় অগ্নি এবং তিনি তখন জানা সমস্ত গ্রহকে এর চারপাশে দূরত্বের সঠিক ক্রমে রেখেছিলেন। এটি সৌরজগতের প্রথম সূর্যকেন্দ্রিক তত্ত্ব।

দুর্ভাগ্যবশত যে মূল পাঠ্যে তিনি এই যুক্তি দেন তা ইতিহাসে হারিয়ে গেছে। তাই আমরা নিশ্চিতভাবে জানতে পারি না কীভাবে তিনি কাজটি কাজ করেছিলেন। অ্যারিস্টারকাস জানতেন সূর্য পৃথিবী বা চাঁদের তুলনায় অনেক বড় এবং তিনি অনুমান করেছিলেন যে এর জন্যই সৌরজগতে কেন্দ্রীয় অবস্থান থাকা উচিত। চাঁদের আকার অ্যারিস্টারকাসের যে বইগুলি টিকে আছে তার মধ্যে একটি সূর্য ও চাঁদের আকার ও দূরত্ব নিয়ে। এই উল্লেখযোগ্য গ্রন্থে অ্যারিস্টারকাস সূর্য ও চাঁদের আপেক্ষিক আকার ও দূরত্ব গণনার প্রথম জানা প্রচেষ্টা তুলে ধরেছিলেন।

দীর্ঘদিন ধরে লক্ষ্য করা গেছে যে সূর্য ও চাঁদ আকাশে একই আপাত আকারের হয়, এবং সূর্য আরও দূরে। তারা এটি সূর্যগ্রহণ থেকে বুঝতে পেরেছিল। যা পৃথিবী থেকে একটি নির্দিষ্ট দূরত্বে সূর্যের সামনে চাঁদ পাস করার কারণে ঘটে। এছাড়াও যখন চাঁদ প্রথম বা তৃতীয় কোয়ার্টারে থাকে, অ্যারিস্টারকাস যুক্তি দিয়েছিলেন যে সূর্য, পৃথিবী, এবং চাঁদ একটি সমকোণী ত্রিভুজ গঠন করবে। পিথাগোরাস কয়েক শতাব্দী আগে ত্রিভুজের বাহুগুলির দৈর্ঘ্য কীভাবে সম্পর্কিত ছিল তা নির্ধারণ করেছিলেন, অ্যারিস্টারকাস সেই ত্রিভুজ ব্যবহার করে অনুমান করেছিলেন যে সূর্যের দূরত্ব চাঁদের দূরত্বের ১৮ থেকে ২০ গুণ। তিনি চন্দ্রগ্রহণের সময় সতর্কতার সাথে মাপের ভিত্তিতে আনুমানিক হিসাব করেছিলেন যে চাঁদের আকার পৃথিবীর প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।

যদিও সূর্যের দূরত্বের তার আনুমানিক হিসাব খুব কম ছিল (প্রকৃত অনুপাত ৩৯০) সেই সময়ে দূরবীক্ষণের অভাবের কারণে। পৃথিবী থেকে চাঁদের আকারের অনুপাতের মান আশ্চর্যজনকভাবে সঠিক (চাঁদের ব্যাস পৃথিবীর ০.২৭ গুণ)। আজ আমরা চাঁদের আকার ও দূরত্ব বিভিন্ন উপায়ে সঠিকভাবে জানি, যার মধ্যে রয়েছে সঠিক দূরবীন, রাডার পর্যবেক্ষণ এবং অ্যাপোলো নভোচারীদের দ্বারা পৃষ্ঠে রাখা লেজার প্রতিফলক।

পৃথিবীর পরিধি
এরাটোস্থেনিস (২৭৬ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ১৯৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) আলেকজান্দ্রিয়ার গ্রেট লাইব্রেরির প্রধান গ্রন্থাগারিক ছিলেন এবং একজন উৎসাহী পরীক্ষাবিদ। তাঁর অনেক অর্জনের মধ্যে ছিল পৃথিবীর পরিধির প্রথম জানা গণনা। পিথাগোরাসকে সাধারণত গোলাকার পৃথিবীর প্রথম প্রবক্তা হিসাবে বিবেচনা করা হয়। সূর্য যথেষ্ট দূরে যেখানেই তার রশ্মি পৃথিবীতে পৌঁছায়, সেগুলি কার্যত সমান্তরাল, যা আগে অ্যারিস্টারকাস দ্বারা দেখানো হয়েছিল। তাই ছায়ার পার্থক্য দেখায় পৃথিবীর পৃষ্ঠ কতটা বক্র। এরাটোস্থেনিস এটি ব্যবহার করে পৃথিবীর পরিধি প্রায় ৪০,০০০ কিলোমিটার অনুমান করেছিলেন। এটি আধুনিক ভূমিতি (পৃথিবীর আকারের বিজ্ঞান) দ্বারা প্রতিষ্ঠিত প্রকৃত মানের কয়েক শতাংশের মধ্যে।

পরবর্তীতে পোসিডোনিয়াস (১৩৫ খ্রিস্টপূর্বাব্দ থেকে ৫১ খ্রিস্টপূর্বাব্দ) নামক আরেকজন বিজ্ঞানী একটু ভিন্ন পদ্ধতি ব্যবহার করে প্রায় একই উত্তরে পৌঁছেছিলেন। পোসিডোনিয়াস তাঁর জীবনের বেশিরভাগ সময় রোডস দ্বীপে বাস করেছিলেন। সেখানে তিনি লক্ষ্য করেছিলেন যে উজ্জ্বল তারা ক্যানোপাস দিগন্তের খুব কাছে থাকবে। যাইহোক আলেকজান্দ্রিয়ায়, মিশরে, তিনি লক্ষ্য করেছিলেন ক্যানোপাস দিগন্তের উপরে প্রায় ৭.৫ ডিগ্রি উত্থিত হবে। যেহেতু ৭.৫ ডিগ্রি একটি বৃত্তের ১/৪৮ অংশ, তিনি রোডস থেকে আলেকজান্দ্রিয়া পর্যন্ত দূরত্বকে ৪৮ দিয়ে গুণ করেছিলেন এবং প্রায় ৪০,০০০ কিলোমিটারের একটি মানে পৌঁছেছিলেন।

প্রথম জ্যোতির্বিজ্ঞান ক্যালকুলেটর
বিশ্বের প্রাচীনতম টিকে থাকা যান্ত্রিক ক্যালকুলেটর হল অ্যান্টিকিথেরা যন্ত্র। এই অসাধারণ যন্ত্রটি ১৯০০ সালে অ্যান্টিকিথেরা গ্রিক দ্বীপের কাছে একটি প্রাচীন জাহাজডুবিতে আবিষ্কৃত হয়েছিল। যন্ত্রটি এখন সময়ের সাথে খণ্ডিত হয়ে গেছে তবে অক্ষত অবস্থায় এটি ডজন ডজন সূক্ষ্মভাবে নির্মিত ব্রোঞ্জের গিয়ার চাকা সহ একটি বাক্স হিসাবে দেখা যেত। যখন একটি হাতল দ্বারা ম্যানুয়ালি ঘোরানো হয়, গিয়ারগুলি বাইরের ডায়ালে চাঁদের পর্যায়, চন্দ্রগ্রহণের সময় এবং বছরের বিভিন্ন সময়ে তখন জানা পাঁচটি গ্রহের (বুধ, শুক্র, মঙ্গল, বৃহস্পতি, এবং শনি) অবস্থান দেখায়। এটি এমনকি তাদের রেট্রোগ্রেড গতিও হিসাবে নিত -আকাশে গ্রহের চলাচলের একটি ভ্রান্তিমূলক পরিবর্তন।

আমরা জানি না কে এটি তৈরি করেছিল, তবে এটি খ্রিস্টপূর্ব ৩য় এবং ১ম শতাব্দীর মধ্যে কোনো সময়ে তারিখ দেয় এবং এমনকি আর্কিমিডিসের কাজও হতে পারে। অ্যান্টিকিথেরা যন্ত্রের মতো উন্নত গিয়ারিং প্রযুক্তি এক হাজার বছর পর্যন্ত আর দেখা যায়নি।দুঃখজনকভাবে এই কাজগুলির বেশিরভাগই ইতিহাসে হারিয়ে গেছে এবং আমাদের বৈজ্ঞানিক জাগরণ সহস্রাব্দ দ্বারা বিলম্বিত হয়েছিল।বৈজ্ঞানিক পরিমাপ পরিচয় করানোর একটি হাতিয়ার হিসাবে এরাটোস্থেনিসের কৌশলগুলি তুলনামূলকভাবে সহজে সম্পাদন করা যায় এবং কোনো বিশেষ সরঞ্জামের প্রয়োজন হয় না, যা বিজ্ঞানে তাদের আগ্রহ শুরু করেছে তাদের করে বোঝার, পরীক্ষা করার এবং অবশেষে প্রথম বিজ্ঞানীদের কিছুর পদাঙ্ক অনুসরণ করার অনুমতি দেয়। কেবল অনুমান করা যায়, যদি এই প্রাচীন বিজ্ঞান অবাধে চলতে থাকত তবে আমাদের সভ্যতা এখন কোথায় থাকত।





জলবায়ু পরিবর্তনে পুরুষদের চেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে নারীরা

জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে নারীরা পুরুষদের তুলনায় বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন। জাতিসংঘের এক গবেষণায় দেখা গেছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে উদ্বাস্তু হওয়া মানুষের মধ্যে ৮০ শতাংশই নারী। পরিবারের সদস্যদের যত্ন ও খাদ্য সংস্থানের দায়িত্ব নারীদের ওপর বেশি হওয়ায়, বন্যা ও খরার মতো দুর্যোগে তারা অধিক সংকটে পড়েন। এটি শুধুমাত্র প্রান্তিক এলাকার সমস্যা নয়, সারা বিশ্বেই নারীরা পুরুষদের তুলনায় কম ক্ষমতা ভোগ করেন এবং বেশি দারিদ্র্যের সম্মুখীন হন। চাকরি, আশ্রয় বা অবকাঠামোর অভাব দুর্যোগের সময় তাদের আরও বিপদে ফেলে।

অক্সফামের একটি প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, ২০০৪ সালের সুনামির পর তিনজন পুরুষের বিপরীতে একজন নারী রক্ষা পেয়েছেন। সারা বিশ্বেই একই ধরনের উদাহরণ দেখা গেছে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে নারীদের । অংশগ্রহণ নিশ্চিত করার পরামর্শ দেওয়া হচ্ছে। পরিবেশ বিজ্ঞানী ডায়ানা লিভারম্যান বলেন, “বিশ্বের মোট জনসংখ্যার অর্ধেক নারী।তাই এটি খুব গুরুত্বপূর্ণ যাতে সব বড় সিদ্ধান্তে তাদের অংশগ্রহণ থাকে। কারণ জলবায়ু পরিবর্তন ক্ষমতার কোনো লড়াই নয়, এটি টিকে থাকার লড়াই।”

বাংলাদেশে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব বিশেষভাবে দৃশ্যমান। উপকূলীয় এলাকায় নারীরা ঘূর্ণিঝড়, বন্যা ও লবণাক্ততার কারণে জীবিকা হারাচ্ছেন। এতে তাদের স্বাস্থ্য ও সামাজিক নিরাপত্তা হুমকির মুখে পড়ছে। জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় টেকসই উন্নয়ন নিশ্চিত করতে নারীদের সম্পৃক্ততা অপরিহার্য। সার্বিকভাবে জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় নারীদের সমান অংশগ্রহণ ও নেতৃত্ব নিশ্চিত করা জরুরি। তাদের স্থানীয় জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা জলবায়ু সংকট সমাধানে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।

নির্বাচনের আগে প্রেক্ষাপট ও সংস্কারের প্রতি গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান : নাহিদ ইসলামের

জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম রাজধানীর বাংলামোটরে দলের কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত সাধারণ সভার পর এক সংবাদ সম্মেলনে দলের অবস্থান তুলে ধরেন। তিনি জানান, তাদের দলের মূল ফোকাস বর্তমানে নির্বাচনের সময়ের চেয়ে প্রেক্ষাপটের দিকে। তিনি বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানের পর কোন প্রেক্ষাপটে আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়ার দিকে যেতে পারি, সেটিই আমাদের মূল চিন্তা।” নাহিদ ইসলাম আরও বলেন, “জুলাই ঘোষণাপত্র ও জুলাই সনদ আলাদা জিনিস। জুলাই ঘোষণাপত্রের দাবি ছাত্রদের পক্ষ থেকে আগেই উঠেছিল। আর জুলাই সনদ প্রধান উপদেষ্টা নিজেই ঘোষণা করেছেন। সংস্কারে ঐকমত্যের ভিত্তিতে একটি চার্টার তৈরি হবে, যাতে দেশের সংস্কারের রূপরেখা দেওয়া হবে।” তিনি ব্যাখ্যা করেন যে, রাজনৈতিক দলগুলোর জন্য সেই সংস্কারের ধারাবাহিকতা এবং জনগণের কাছে তাদের কমিটমেন্টের বিষয়ে বিস্তারিত জানাতে হবে।

দলের আর্থিক সহযোগিতার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে, নাহিদ ইসলাম জানান, “বাংলাদেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে পরিবর্তন আসা দরকার। আমরা দাবি জানাচ্ছি যে, রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে এই সংস্কৃতিটা তৈরি হোক।” তিনি আরও বলেন, যদি কারা আর্থিক সহযোগিতা করে, তবে তাদের নাম প্রকাশের ক্ষেত্রে সরকারের পক্ষ থেকে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে হবে, যা এখনও দেশে বাস্তবায়িত হয়নি। তিনি দ্রব্যমূল্য বৃদ্ধির বিষয়ে নাগরিক কমিটি ও বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের পূর্বের দাবিগুলোর কথা উল্লেখ করেন এবং বলেন, “আমরা দ্রব্যমূল্য এবং তেলের দাম নিয়ন্ত্রণে রাখতে বলেছি। দুর্নীতিবাজ ব্যবসায়ীদের আমরা কখনও সমর্থন করব না।”

নাহিদ ইসলাম বলেন, এনসিপি একটি জনগণের দল, যা সমাজের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের কাছ থেকে আর্থিক সহায়তা পাবে। দলের সদস্যদের কাছ থেকে অর্থনৈতিক সহায়তার জন্য তারা রিকশাওয়ালা থেকে শুরু করে সাধারণ জনগণের কাছে যাবে। এনসিপির আর্থিক পলিসি টিম গঠন করা হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, “দেশের বিভিন্ন অর্থনীতিবিদদের সঙ্গে কথা বলে আমরা একটি রাজনৈতিক আর্থিক পলিসি তৈরি করার চেষ্টা করছি, যাতে রাজনৈতিক দলটি সঠিকভাবে পরিচালিত হতে পারে।” সর্বশেষ নাহিদ ইসলাম বার্তা সংস্থা রয়টার্সে দেওয়া সাক্ষাৎকারের প্রসঙ্গে বলেন, “গণ-অভ্যুত্থানের পর মানুষ পরিবর্তনের আকাঙ্ক্ষা দেখেছিল। বিচার এবং সংস্কারে আমাদের কমিটমেন্টের মাধ্যমে আমরা নির্বাচন প্রক্রিয়ায় যাব।”

এছাড়াও ১০ মার্চ সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে নিহত ও আহতদের পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ইফতার মাহফিল এবং ১১ মার্চ রাজনৈতিক দল, নাগরিক সমাজ ও ব্যবসায়ীদের নিয়ে ইফতার মাহফিল আয়োজনের ঘোষণা দেন এনসিপির সদস্যসচিব আখতার হোসেন। এনসিপির কেন্দ্রীয় কমিটির সদস্যরা সাধারণ সভায় উপস্থিত ছিলেন। ১১ মার্চ ইফতার মাহফিলটি হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে আয়োজন করা হবে, যেখানে কূটনীতিকদেরও আমন্ত্রণ জানানো হবে।



নারীদের এই আবিষ্কারগুলো ছাড়া পৃথিবী কল্পনা করা সম্ভব?

ইতিহাস গড়া ৬ জন বিজ্ঞানীকে জানুন
আপনি কি এই আবিষ্কারগুলো ছাড়া একটি পৃথিবী কল্পনা করতে পারেন? নোবেল পুরস্কার বিজয়ী এই বিজ্ঞানীরা সম্ভাবনার সীমানা পেরিয়েছেন, জীবন রক্ষাকারী চিকিৎসা পদ্ধতি উদ্ভাবন করেছেন এবং ভবিষ্যতের নতুন উদ্ভাবনের পথ খুলে দিয়েছেন।

জেনিফার ডুডনা এবং এমমানুয়েল শারপেন্টিয়ের জিনোম এডিটিং-এ বিপ্লব এনেছেন। এটিকে আরও দ্রুত, সস্তা এবং আরও নির্ভুল করেছেন। তাদের আবিষ্কার ক্যান্সারের চিকিৎসা এবং জিনগত রোগ নিরাময়ের নতুন দ্বার খুলে দিচ্ছে।

ডোনা স্ট্রিকল্যান্ড লেজার প্রযুক্তির পথিকৃৎ, যেটি চোখের অস্ত্রোপচার এবং শিল্পে নিখুঁত যন্ত্রাংশ তৈরির পথ সুগম করেছে। তার উদ্ভাবন বিজ্ঞান, চিকিৎসা এবং প্রকৌশলকে চিরতরে পরিবর্তন করেছে।

ফ্রাঁসোয়াজ ব্যারে-সিনুসি এইচআইভি ভাইরাস আবিষ্কার করেন, যা চিকিৎসা এবং জীবন রক্ষাকারী গবেষণার পথ খুলে দেয়। তার কাজ বিশ্বব্যাপী এইডসের বিরুদ্ধে লড়াইকে আজো পথ দেখিয়ে যাচ্ছে।

ফ্রান্সেস আর্নল্ড ‘ডাইরেক্টেড এনজাইম বিবর্তন’-এর
পথিকৃৎ, যা প্রোটিন প্রকৌশলে বিপ্লব এনেছে। তার কাজ চিকিৎসা, টেকসই জৈব-জ্বালানি এবং আরও অনেক ক্ষেত্রে পরিবর্তন আনছে।

তু ইউইউ আর্টেমিসিনিন আবিষ্কার করেন, যা একটি বিপ্লবী চিকিৎসা পদ্ধতি হিসেবে কোটি কোটি মানুষের জীবন বাঁচিয়েছে। তার উদ্ভাবন ম্যালেরিয়ার বিরুদ্ধে বৈশ্বিক লড়াইয়ে এখনও একটি মূল ভিত্তি।

আজ, বিজ্ঞানীদের মাত্র এক-তৃতীয়াংশ নারী। বিজ্ঞানের ক্ষেত্রে আরও বেশি মেয়েদের অংশগ্রহণের ফলে বিশ্ব উপকৃত হয় আরও উদ্ভাবন, আরও আবিষ্কার এবং সবার জন্য একটি শক্তিশালী ভবিষ্যতের মাধ্যমে।



নারীদের হেনস্থা করার প্রবণতা বিপজ্জনক : মির্জা ফখরুল

নারী-নির্যাতনসহ ‘সার্বিক নৈরাজ্যকর’ পরিস্থিতিতে দেশের মানুষ এখন চরম উদ্বিগ্ন বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। সরকারকে নারী নির্যাতনসহ সব ধরনের নৈরাজ্যকর পরিস্থিতি কঠোর হাতে দমন করে দেশে ন্যায়বিচার ও শান্তি প্রতিষ্ঠার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। বর্তমানে দেশে নারী নির্যাতনসহ নারীদের বিভিন্নভাবে হেনস্থার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ জানিয়ে শুক্রবার গণমাধ্যমে এক বিবৃতি পাঠিয়েছেন মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বিবৃতিতে তিনি বলেছেন, ‘উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ করছি, রাস্তাঘাট ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নারীদের বিভিন্নভাবে হেনস্থা করার প্রবণতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এ ধরনের প্রবণতা বিপজ্জনক। এসব ঘটনা ঘটিয়ে নৈরাজ্য ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করা হচ্ছে। নারীদের সম্মান রক্ষা এবং নারী স্বাধীনতা রক্ষা করা আমাদের নৈতিক দায়িত্ব। যা নারীদের সংবিধানস্বীকৃত অধিকার।’

বিবৃতিতে বিএনপির মহাসচিব আরও বলেন, দেশের উন্নয়ন, অগ্রগতিসহ সব ক্ষেত্রে নারীরা পুরুষের পাশাপাশি অগ্রণী ভূমিকা পালন করছেন। শিক্ষা ক্ষেত্রেও নারীরা যে, অগ্রগামিতা দেখাচ্ছেন, তা অত্যন্ত প্রশংসনীয়। দেশের মতো বিদেশেও নারীরা প্রশসংনীয় ভূমিকা রেখে দেশের সম্মান বৃদ্ধি করছেন। ফ্যাসিস্ট সরকার ক্ষমতাসীন হওয়ার পর থেকে দেশে নারী নির্যাতন বেড়েছে দাবি করে মির্জা ফখরুল বলেন, আওয়ামী লীগ সরকার নারী নির্যাতনের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়নি এবং বিচারহীনতার কারণে নির্যাতনকারীরা আরও উৎসাহিত এবং বেপরোয়া হয়েছে, যা বর্তমানেও চলমান রয়েছে।

পট পরিবর্তনে জাতিসংঘ , ২০০৭ সালে রেনাটা লক , ২০২৪ সালে ভলকার তুর্ক

বিবিসি ওয়ার্ল্ড সার্ভিসের হার্ডটক অনুষ্ঠানে গত বুধবার এক সাক্ষাৎকার দেন জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক হাইকমিশনার ভলকার তুর্ক। সেখানে তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে জুলাই আন্দোলন নিয়ে জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সতর্ক করে দেয়া হয়েছিলজুলাই আন্দোলনে (দমন-পীড়ন) জড়িত হলে তারা শান্তিরক্ষা মিশনে অংশগ্রহণের ক্ষমতা হারাতে পারে।’একইভাবে ১৮ বছর আগে অনেকটা একই ধরনের আরেকটি বার্তা জাতিসংঘের পক্ষ থেকে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীকে দেয়া হয়েছিল। নিরপেক্ষ সরকারের দাবিতে ২০০৭ সালের ২২ জানুয়ারি অনুষ্ঠেয় নির্বাচনে অংশ না নেয়া ও তা হতে না দেয়ার ঘোষণাও দিয়েছিল আওয়ামী লীগ ও আন্দোলনকারী দলগুলো।

ওই বছরের জানুয়ারির শুরুতে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্যান্য পশ্চিমা দেশের কূটনীতিকদের সঙ্গে আলোচনার পর ঢাকায় জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তা রেনাটা লক ডেসালিয়ান সেনাবাহিনীকে সতর্ক করে দিয়েছিলেন-বাংলাদেশে যদি নির্বাচন (২২ জানুয়ারির নির্বাচন) অনুষ্ঠিত হয়, তাহলে জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে বাংলাদেশ সেনাবাহিনীর অংশগ্রহণ ক্ষতিগ্রস্ত হতে পারে। এ বিষয়ে একটি চিঠিও হাতে পাওয়ার কথা পরে তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদ পরে তার বইয়ে জানিয়েছিলেন। যদিও রেনাটা লক ডেসালিয়ান ওই চিঠির কথা অস্বীকার করেছিলেন।

২০০৭ সালের ১০ জানুয়ারি জাতিসংঘ মহাসচিব বান কি মুনের মুখপাত্র নিউইয়র্ক থেকে এক বিবৃতিতে জানান, বাংলাদেশের নির্বাচনের জন্য বিশ্বসংঘটির পক্ষ থেকে কোনো কারিগরি সহায়তা দেয়া হবে না। একই সঙ্গে আন্তর্জাতিক নির্বাচন পর্যবেক্ষকদের জন্য জাতিসংঘ ঢাকায় যে সমন্বয় অফিস খুলেছিল, সেটিও বন্ধ করে দেয়া হয়। বান কি মুনের ওই বিবৃতিতে সেনাবাহিনী নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করবে বলে আশা প্রকাশ করা হয়। পরে বাংলাদেশ পরিস্থিতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র এবং অন্য পশ্চিমা কূটনীতিকদের সঙ্গে আলোচনায় বসেন জাতিসংঘের শীর্ষ কর্মকর্তা রেনাটা লক ডেসালিয়ান। এর পর ২০০৭ সালের ১০ জানুয়ারি তৎকালীন সেনাপ্রধান মইন ইউ আহমেদের বাসভবনে তার সঙ্গে দেখা করতে যান তিনি। এর পরদিনই ইয়াজউদ্দিন আহম্মেদের নেতৃত্বাধীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা পরিষদ ভেঙে গঠন করা হয় ওয়ান-ইলেভেনের সরকার।

এ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে সুশাসনের জন্য নাগরিকের (সুজন) বদিউল আলম মজুমদার বলেন, ২০০৭ সালের বিষয় নিয়ে অনেক প্রশ্ন রয়েছে। কিন্তু এবারেরটা মরণ-বাঁচার সমস্যা ছিল। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী, বিজিবি, পুলিশ, আনসার এমনকি সেনাবাহিনী, র্যা ব সবাই ছাত্র-জনতার ওপর আক্রমণ করছিল এবং তাদের হতাহত করছিল। এ অবস্থায় জাতিসংঘের পক্ষ থেকে সেনাবাহিনীকে সাবধান করা যে তারা যদি এর থেকে বিরত না থাকে তাহলে শান্তিরক্ষী মিশনে থাকার ব্যাপারে প্রভাব ফেলবেড়এতে অনাকাঙ্ক্ষিত কিছু ঘটেনি বলে আমার মনে হয়। গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘন যেন আর না ঘটে, সেটি থামানোর জন্যই এটি করা হয়েছিল।’






বাংলাদেশে ‘অন্তর্ভুক্তিমূলক’ নির্বাচন ও সংখ্যালঘু নির্যাতনের বিচার চায় ভারত : জয়সোয়ালের ব্রিফিং

শুক্রবার ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সাপ্তাহিক ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সোয়াল বলেছেন-ভারত চায় বাংলাদেশ সরকার সংখ্যালঘুদের ওপর হামলাকারীদের দ্রুত সাজা দিক। অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ সব বিষয়ের নিষ্পত্তি করুক। জয়সোয়াল বলেন-বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি খুবই উদ্বেগজনক। গুরুতর অপরাধে আটক ও সাজাপ্রাপ্ত সন্ত্রাসী এবং উগ্রপন্থীদের ছেড়ে দেওয়ার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। বাংলাদেশের আন্দোলনকারী ছাত্রসমাজ সম্প্রতি রাজনৈতিক দল গঠন করেছে। সে বিষয়ে ভারতের প্রতিক্রিয়া জানতে চাওয়া হলে দল গঠন নিয়ে জয়সোয়াল কোনো মন্তব্য করেননি।

তবে তিনি বলেন-ভারত সব সময় স্থিতিশীল, প্রগতিশীল, শান্তিপূর্ণ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের সমর্থক। ভারত চায়, তারা গণতান্ত্রিক পদ্ধতিতে এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক ও অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের মধ্য দিয়ে সব বিষয়ের নিষ্পত্তি করুক। উল্লেখ্য, ভারত আগে এত জোরালোভাবে বাংলাদেশে অন্তর্ভুক্তিমূলক নির্বাচনের কথা বলেনি। সাংবিধানিক বৈধতার কথা বলে ২০১৪ সালের বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতার নির্বাচন, ২০১৮ সালের রাতের ভোট ও ২০২৪ সালে ‘ডামি’ প্রার্থীর নির্বাচনে বাংলাদেশকে সমর্থন দিয়েছিল ভারত। এই নির্বাচনগুলোর পর ক্ষমতায় যাওয়া আওয়ামী লীগ সরকারের প্রতি সমর্থন ছিল নয়াদিল্লির। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন সংখ্যালঘুদের বিষয়টি অভ্যন্তরীণ বিষয় বলে মন্তব্য করার বিষয়ে জয়সোেয়াল বলেন-আমরা বারবার বলেছি হিন্দুসহ সব সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা দেওয়া বাংলাদেশ সরকারের দায়িত্ব।

তিনি খতিয়ান তুলে ধরে বলেন-২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে এবছরের ১৬ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ২৩৭৪টি সংখ্যালঘু নির্যাতনের অভিযোগের মধ্যে বাংলাদেশের পুলিশ শুধু ১২৫৪টি ঘটনা নিশ্চিত করেছে। এর ৯৮%-কে ‘রাজনৈতিক’ কারণে সংঘটিত বলে দাবি করা হয়েছে। আমরা চাই বাংলাদেশ কোন পার্থক্য না করে প্রতিটি খুন-অগ্নি সংযোগ-হিংসার ঘটনাকে যথাযথ তদন্ত ও দোষীদের বিচার নিশ্চিত করুক ।এদিকে যুক্তরাজ্যের সঙ্গে বাংলাদেশ বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস জয়শঙ্কর। গত বৃহস্পতিবার ভারতীয় সংবাদমাধ্যম দ্য হিন্দুর প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়।