Home Blog Page 177

তিন দিন মোবাইল ফোন ব্যবহার বন্ধে ব্রেইনে প্রভাব ।

সম্প্রতি একটি গবেষণা খুঁজে পেয়েছে যে শুধুমাত্র তিন দিনের জন্য স্মার্টফোন ছেড়ে দেওয়া আপনার মস্তিষ্কের কার্যকলাপে উল্লেখযোগ্য প্রভাব ফেলতে পারে। এই গবেষণাটি হাইডেলবার্গ বিশ্ববিদ্যালয় এবং কলোন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিজ্ঞানীরা পরিচালনা করেছেন, যা জার্মানির ২৫ জন ১৮ থেকে ৩০ বছর বয়সী তরুণের উপর করা হয়েছিল। অংশগ্রহণকারীদের ৭২ ঘণ্টা তাদের ফোন ব্যবহার সীমিত করার জন্য বলা হয়েছিল, শুধুমাত্র প্রয়োজনীয় যোগাযোগ এবং কাজের কাজে অনুমতি দেওয়া হয়েছিল।

ফোন “ফোন ডায়েট” শুরুর আগে এবং পরে অংশগ্রহণকারীরা এমআরআই স্ক্যান এবং মনস্তাত্ত্বিক পরীক্ষার মধ্য দিয়ে গিয়েছিলেন। উদ্দেশ্য ছিল দেখতে যে ফোন ব্যবহার কমানো তাদের মস্তিষ্কের প্যাটার্নে কিভাবে প্রভাব ফেলবে। ফলাফলগুলো দেখায়, মস্তিষ্কের সক্রিয়তা এমন কিছু পরিবর্তন হয়েছে যা আসক্তির সম্পর্কিত নিউরোট্রান্সমিটার সিস্টেমের সাথে সম্পর্কিত। গবেষণার লেখকরা তাদের প্রকাশিত পেপারে লিখেছেন “আমরা স্মার্টফোন ব্যবহারকারীদের মধ্যে স্মার্টফোন ব্যবহার সীমিত করার প্রভাবগুলি পর্যবেক্ষণ করতে একটি দীর্ঘমেয়াদী পদ্ধতি ব্যবহার করেছি,”।

স্ক্যানে অংশগ্রহণকারীদের বিভিন্ন ছবি দেখানো হয়েছিল, যার মধ্যে স্মার্টফোনের ছবি ছিল, সেগুলো অন ও অফ অবস্থায় ছিল এবং অন্যান্য ছবি যেমন নৌকা এবং ফুল। এই গবেষণা পরামর্শ দেয়, এমনকি স্বল্পকালীন স্মার্টফোন সীমাবদ্ধতা মস্তিষ্কের কার্যকলাপ পরিবর্তন করতে পারে। যা ডিজিটাল ডিভাইসগুলির প্রভাব কীভাবে আমাদের স্নায়ুতন্ত্রের প্যাটার্নকে প্রভাবিত করে তা স্পষ্ট করে।গবেষকরা আরো লিখেছেন “আমাদের ডেটা স্মার্টফোন ব্যবহার এবং সামাজিক মিথস্ক্রিয়া উভয়ের জন্য ক্রেভিংকে আলাদা করে না, যেগুলি বর্তমানে দুটি একে অপরের সাথে গভীরভাবে জড়িত প্রক্রিয়া। যদিও গবেষণার ডেটা তুলনামূলকভাবে শক্তিশালী ফলাফল দেখায় তবে এই প্রক্রিগুলির বিভাজন না হওয়া সত্ত্বেও, ভবিষ্যত গবেষণাগুলি স্পষ্টভাবে এই দিকটি মোকাবেলা করার চেষ্টা করা উচিত।”



ব্যক্তি স্বাতন্ত্র্য স্বাধীনতা বনাম নিঃসঙ্গতা

ধরা যাক, নিশাত তার ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে চাঁদের আলো দেখছে। রাতের শহর নিস্তব্ধ, শুধু দূর থেকে ভেসে আসা গাড়ির শব্দ আর বাতাসের সঙ্গে দুলতে থাকা বাতিস্তম্ভের আলো। তার জীবনটা এখন পুরোপুরি নিজের নিয়ন্ত্রণে-স্বাধীন। কিন্তু কখনো কখনো মনে হয়, এই স্বাধীনতার বিনিময়ে সে কী হারাল? পরিবারের সান্নিধ্য, সামাজিক বন্ধন, নাকি শুধু নিছক কিছু স্মৃতি? ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের সাথে তার সম্পর্কটা যেন একধরনের মিশ্র অনুভূতি নিয়ে গড়া। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য মূলত এমন এক দর্শন, যেখানে ব্যক্তির স্বাধীনতা, আত্মনির্ভরশীলতা এবং স্বকীয়তা প্রধান্য পায়। সমাজ ও পরিবারের প্রভাব থেকে কিছুটা মুক্ত হয়ে ব্যক্তি যখন নিজের জীবনযাত্রার সিদ্ধান্ত নেয়, তখনই তার ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের চর্চা শুরু হয়।

ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যের সবচেয়ে বড় প্রশ্ন হলোড় , এটি কি ব্যক্তি স্বাধীনতা নাকি মানুষকে নিঃসঙ্গতার দিকে ঠেলে দেয়? যেমন নিশাতের গল্পে দেখা যায়, সে নিজের পছন্দমতো জীবন চালাচ্ছে, কিন্তু মাঝে মাঝে একাকীত্বের অনুভূতি তাকে গ্রাস করে। ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য মানে একা থাকা নয় বরং নিজের জীবন সম্পর্কে স্বাধীনভাবে সিদ্ধান্ত নেওয়া। স্বাধীনভাবে জীবনযাপন করতে হলে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়া অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। নিশাতের মতো কেউ যদি নিজের শর্তে জীবন চালাতে চায়, তবে তাকে অর্থনৈতিকভাবে স্বনির্ভর হতে হবে। উদাহরণ দিতে গেলে বর্তমানে দেশের অনেক তরুণ ফ্রিল্যান্সিং বা উদ্যোক্তা হওয়ার পথে হাঁটছেন, যাতে তারা অন্যের ওপর নির্ভরশীল না হয়ে নিজের পছন্দের কাজ করতে পারেন। তবে এই স্বাধীনতার মূল্যও কম নয়; তারা সবসময় অনিশ্চয়তার মধ্যে থাকেন, যেখানে নিয়মিত চাকরির মতো স্থিতিশীলতা নেই।

একজন ব্যক্তি যখন স্বতন্ত্র জীবনযাপন করতে চায়, তখন সামাজিক সম্পর্কের উপর এর প্রভাব পড়ে। পরিবারের সিদ্ধান্তকে চ্যালেঞ্জ করা, প্রচলিত নিয়মের বাইরে গিয়ে জীবন গঠন করা অতটা সহজ কাজও নয়। একজন মানুষের ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্যই তার পরিচয়ের মূল ভিত্তি। যখন কেউ নিজের চিন্তাধারা, বিশ্বাস, মূল্যবোধের ওপর ভিত্তি করে জীবনযাপন করে, তখনই সে সত্যিকারের অর্থে স্বতন্ত্র হয়ে ওঠে। নিথসের দর্শন অনুযায়ী, ব্যক্তি তার নিজস্ব মূল্যবোধ তৈরি করতে পারে এবং সমাজের চাপিয়ে দেওয়া নীতিগুলোর বাইরে গিয়ে নিজের জীবন গড়ে তুলতে পারে।

ব্যক্তিস্বাতন্ত্র্য একদিকে যেমন স্বাধীনতা দেয়, অন্যদিকে একাকীত্বের সম্ভাবনাও থাকে। এটি অর্থনৈতিক, সামাজিক ও মানসিকভাবে আত্মনির্ভরতার ওপর নির্ভরশীল। নিশাতের মতো যারা নিজেদের জীবন নিজেরাই গড়তে চান, তাদের জন্য এই পথ সহজ নয়, কিন্তু তারা যদি আত্মবিশ্বাসী হন, তবে সত্যিকারের স্বকীয় জীবন গঠন সম্ভব।


সংক্ষিপ্ত জাদুবিদ্যা পরিচয়

ইহুদি রহস্যবাদ ও সৃষ্টির গোপন নকশা
কাবালা হল ইহুদি গূঢ় দর্শন, যা ব্রহ্মাণ্ড, ঈশ্বর ও আত্মার সম্পর্ক ব্যাখ্যা করে। এটি ‘সেফিরোত’ নামক দশটি গূঢ় শক্তির মাধ্যমে জগতের গঠন ব্যাখ্যা করে। মধ্যযুগে লেখা কাবালার মূল বই জোহর। সেখানে বলে যে বাস্তব জগতের বাইরে আরও উচ্চতর মাত্রা রয়েছে। কাবালা অনুসারীরা ধ্যান, নাম-মন্ত্র ও সাংকেতিক ব্যাখ্যার মাধ্যমে ঐশ্বরিক জ্ঞানে প্রবেশের চেষ্টা করেন। অনেক গোপন সমাজ এবং জাদুবিদ্যা চর্চাকারীরা কাবালা থেকে প্রভাবিত হয়েছেন।

বোয়েমিয়ান গ্রোভ ও অন্যান্য গোপন সমাজ
বোয়েমিয়ান গ্রোভ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি গোপন সংগঠন, যেখানে বিশ্বনেতা, ধনী ব্যবসায়ী ও রাজনীতিবিদরা একত্রিত হন। এখানে অদ্ভুত আনুষ্ঠানিকতা, আগুনে পূজা এবং রহস্যময় নাটক অনুষ্ঠিত হয়। অনেকে বিশ্বাস করেন, এখানে বিশ্ব রাজনীতি ও অর্থনীতির গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত গোপনে নেওয়া হয়। এমন আরও গোপন সংগঠন রয়েছে। যেমন ফ্রিম্যাসন, ইলুমিনাটি ও স্কাল অ্যান্ড বোনস, যাদের সঙ্গে বিশ্ব শাসনের ষড়যন্ত্র তত্ত্ব জড়িত। তবে এদের কার্যকলাপ নিয়ে প্রচুর বিতর্ক রয়েছে।

ভয়ংকর গূঢ় গ্রন্থ গ্রিমোয়ার ও নিষিদ্ধ জাদুবিদ্যার বই
গ্রিমোয়ার হল এমন বই, যেখানে জাদুবিদ্যা, তন্ত্রমন্ত্র ও আত্মা আহ্বানের গোপন নিয়ম লেখা থাকে। কিছু বিখ্যাত গ্রিমোয়ার হলো নেক্রোনমিকন, লিবার মোনডাস ও গ্রিমোয়ার ভারুম। এগুলোতে ডেমন আহ্বান, অমরত্ব, এবং শয়তানের সঙ্গে চুক্তির পদ্ধতি বর্ণিত আছে। অনেক ধর্মীয় কর্তৃপক্ষ এসব বই নিষিদ্ধ করেছে, কারণ এগুলো অশুভ শক্তির সঙ্গে সংযোগ স্থাপন করতে সহায়তা করতে পারে বলে মনে করা হয়। তবুও বিশ্বের অনেক গোপন সংগঠন এবং জাদুকররা এই গ্রন্থগুলো অনুসরণ করেন।

সাত মহাদেশের প্রাচীন অকাল্ট চর্চা
বিশ্বের বিভিন্ন সংস্কৃতির মধ্যে অকাল্ট চর্চার অদ্ভুত মিল দেখা যায়। আফ্রিকার ভুডু, ভারতের তন্ত্রবিদ্যা, ইউরোপের ড্রইডিক মন্ত্র ও আমেরিকার শামানিজম সবগুলোরই কিছু না কিছু মিল রয়েছে। প্রশ্ন হচ্ছে এই জাদুবিদ্যার ধারাগুলো কি একে অপরের সঙ্গে সংযুক্ত, নাকি পৃথকভাবে উদ্ভূত? কিছু গবেষক মনে করেন, প্রাচীন যুগে জাদুবিদ্যার গোপন জ্ঞান মহাদেশগুলোতে ছড়িয়ে পড়েছিল। অন্যরা বিশ্বাস করেন এসব বিদ্যা মানুষের অবচেতন মানসিক শক্তিরই ভিন্ন ভিন্ন প্রকাশ।

ক্রিপ্টিড ও শয়তানের প্রাণী
ক্রিপ্টিড বলতে এমন রহস্যময় প্রাণীদের বোঝায়, যাদের অস্তিত্ব প্রমাণিত হয়নি কিন্তু বহু লোক দাবি করে যে তারা এগুলো দেখেছে। বহু কথিত লোেচ নেস দানব স্কটল্যান্ডের এক রহস্যময় জলদানব, যা হাজার বছর ধরে মানুষের কল্পনায় বাস করছে। মেক্সিকো ও দক্ষিণ আমেরিকার গ্রামে চুপাকাবরা নামে এক রহস্যময় প্রাণীর গল্প প্রচলিত, যা নাকি গবাদিপশুর রক্ত শুষে নেয়। বিজ্ঞানীরা এগুলোকে লোককাহিনি বা ভুল তথ্য বলে উড়িয়ে দিলেও অনেক মানুষ এখনও বিশ্বাস করে যে এরা বাস্তবে অস্তিত্বশীল।

সালেম ডাইনী বিচার
১৬৯২ সালে আমেরিকার সালেম গ্রামে কিছু নারীর বিরুদ্ধে ডাইনী হওয়ার অভিযোগ ওঠে। বলা হয়, তারা শয়তানের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ হয়ে কালো জাদু চর্চা করত। অভিযোগের ভিত্তিতে ২০ জনকে ফাঁসি দেওয়া হয় এবং আরও শতাধিক মানুষ কারারুদ্ধ হয়। পরে জানা যায়,
এসব অভিযোগ ছিল আতঙ্ক ও কুসংস্কারের ফসল। সালেম ডাইনী বিচার আজও ওকাল্ট ইতিহাসের অন্যতম অন্ধকার অধ্যায় হিসেবে বিবেচিত হয় এবং এটি আধুনিক ডাইনীচর্চা (উইক্কা) ও নারীবাদী আন্দোলনের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রতীক হয়ে উঠেছে।

প্রাচীন সুমেরীয় অকাল্ট ধারা
সুমেরীয় সভ্যতার ধর্মে বলা হয় যে অনুনাকি নামে একদল দেবতা পৃথিবীতে নেমে এসে মানবজাতির সৃষ্টি করেছিল। কিছু গবেষক মনে করেন, এই কাহিনি আদতে ভিনগ্রহীদের ইঙ্গিত দেয়। প্রাচীন সুমেরীয় লিপিতে এমন কিছু সংকেত পাওয়া যায় যেগুলো আধুনিক বিজ্ঞানীদের মতে মহাবিশ্বের বিস্ময়কর তথ্য বহন করে। কিছু ষড়যন্ত্র তত্ত্ব অনুসারে, বর্তমান মানব সভ্যতা আসলে এই অনুনাকিদের উত্তরসূরি এবং সরকারগুলো এই সত্য লুকিয়ে রেখেছে।

ডেমনোলজি
ডেমনোলজি হল শয়তান ও অশুভ আত্মাদের নিয়ে গবেষণা। বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থ ও অকাল্ট টেক্সটে অনেক ভয়ংকর ডেমনের উল্লেখ পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, বেলজেবুব (শয়তানের অন্যতম প্রধান সহযোগী), আসমোডেয়াস (বাসনা ও লালসার ডেমন), লিলিথ (প্রাচীন ইহুদি ওকাল্টে উল্লেখিত রাতের আত্মা) ইত্যাদি। মধ্যযুগে ক্যাথলিক চার্চ এসব ডেমনের নাম উল্লেখ করে, যাতে মানুষ তাদের বিরুদ্ধে রক্ষা পেতে পারে। আজও অকাল্ট চর্চাকারীরা এই ডেমনদের শক্তি ও নিয়ন্ত্রণের বিষয়ে গবেষণা করে চলেছে।

CIA কি সত্যিই অতিপ্রাকৃত গবেষণা করেছে?
১৯৭০-এর দশকে, মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থা CIA এবং সামরিক বাহিনী স্টারগেট প্রজেক্ট নামক একটি গোপন গবেষণা পরিচালনা করে।তারা দাবি করেছিল, কিছু বিশেষ ব্যক্তির মধ্যে টেলিপ্যাথি, সাইকিক স্পাইং ও দূরদর্শন (remote viewing) করার ক্ষমতা আছে। এই গবেষণার মাধ্যমে সোভিয়েত ইউনিয়নের গোপন তথ্য সংগ্রহের চেষ্টা করা হয়। যদিও সরকারিভাবে বলা হয় যে এই প্রকল্প সফল হয়নি, কিন্তু কিছু গবেষক মনে করেন সত্যকে ধামাচাপা দেওয়া হয়েছে এবং এই গবেষণার কিছু ফলাফল আজও ব্যবহৃত হচ্ছে।


আরব নেতাদের গাজা পুনর্গঠন পরিকল্পনা , যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের প্রত্যাখ্যান , ট্রাম্পের প্রস্তাবে জোর

অধিবাসীদের রেখেই যুদ্ধবিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠনে আরব নেতারা যে প্রস্তাব দিয়েছেন, তা যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রত্যাখ্যান করেছে। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদের মুখপাত্র ব্রায়ান হিউস এক বিবৃতিতে বলেন, (আরব নেতাদের) বর্তমান প্রস্তাবে গাজার বাস্তবতাকে আমলে নেওয়া হয়নি। বর্তমানে গাজা বসবাসের অনুপযোগী। ধ্বংসস্তূপ ও অবিস্ফোরিত জঞ্জাল থাকায় সেখানে মানুষের পক্ষে বসবাস করা সম্ভব নয়। ব্রায়ান হিউসের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘হামাসমুক্ত গাজাকে পুনর্গঠনের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প তাঁর পরিকল্পনায় অটল রয়েছেন। ওই অঞ্চলে শান্তি ও সমৃদ্ধি আনতে আমরা আরও আলোচনা চালিয়ে যেতে আগ্রহী।’

ট্রাম্পের প্রস্তাবে গাজাবাসীকে জর্ডান ও মিসরে সরিয়ে দিতে বলা হয়েছিল। ইসরায়েল- সমর্থিত যুক্তরাষ্ট্রের সেই প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছিল, গাজাকে পুনর্গঠিত করে মধ্যপ্রাচ্যের ‘নয়নাভিরাম পর্যটনকেন্দ্রে’ পরিণত করা হবে। উপত্যকাটির নিয়ন্ত্রণ থাকবে ওয়াশিংটনের হাতে। মিসরের নেতৃত্বে আরব প্রস্তাবে বলা হয়, পুনর্গঠনের জন্য গাজার প্রায় ২০ লাখ বাসিন্দাকে নিজেদের বসত ভিটা ছাড়ার দরকার নেই। গাজার শাসনভার অন্তর্বতী সরকারের হাতে হস্তান্তর করতে হামাসের প্রতি আহ্বান জানানো হয়। ফিলিস্তিন কর্তৃপক্ষ (পিএ) পুনর্গঠিত হওয়ার আগপর্যন্ত শাসনভার ওই অন্তর্বর্তী সরকারের হাতে থাকবে।

কায়রোর বৈঠকে অধিকাংশ আরব দেশ অংশ নিলেও সৌদি আরব ও সংযুক্ত আরব আমিরাত প্রতিনিধি পাঠায়নি। অথচ গাজা পুনর্গঠনের জন্য এসব ধনী দেশের অর্থসহায়তা দরকার। আরব নেতাদের প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করে ট্রাম্পের গাজা পরিকল্পনা সমর্থনের কথা জানিয়েছে ইসরায়েল। তবে যুদ্ধপরবর্তী গাজা নিয়ে এখন পর্যন্ত নিজেদের পূর্ণাঙ্গ পরিকল্পনা প্রকাশ করেননি ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। তবে যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল নানা সময়ে বলেছে, গাজা ও পশ্চিম তীরের শাসন তাদের হাতে থাকবে। ফিলিস্তিন ও আরব নেতাদের একাংশ বারবার দাবি জানিয়ে আসছে, জেরুজালেমকে রাজধানী করে গাজা ও পশ্চিম তীর নিয়ে ফিলিস্তিন রাষ্ট্র গঠন করতে হবে। কিন্তু ইসরায়েল সরকার ও ইসরায়েলের অধিকাংশ রাজনীতিবিদ স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার বিপক্ষে।


ভারতের আধিপত্য ও গণতান্ত্রিক দক্ষিণ এশিয়ার জন্য সংগ্রাম : আনু মুহাম্মদ

“…স্বাধীনতার পর, জওহরলাল নেহেরুর নেতৃত্বে ভারত এমন নীতি গ্রহণ করে যা একটি রাষ্ট্র-সমর্থিত পুঁজিপতি শ্রেণীর বৃদ্ধিকে সহায়তা করেছিল। রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বজায় থাকার কারণে, এই পুঁজি সম্প্রসারণ অবিচ্ছিন্নভাবে চলতে থাকে, যার ফলে ভারতীয় ব্যবসায়ী গ্রুপগুলোর উত্থান এবং শক্তিশালী শিল্প ভিত্তির প্রতিষ্ঠা হয়। তবে ১৯৮০ দশকের শেষ দিকে কংগ্রেস দুর্বল হয়ে পড়ে, যার ফলে হিন্দুত্ব রাজনীতি এবং বিজেপি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নিতে শুরু করে। গত দুই দশকে আমরা দেখেছি যে কীভাবে বড় পুঁজি এবং হিন্দুত্ব রাজনীতি একত্রিত হয়েছে এবং একে অপরকে শক্তিশালী করেছে। এই সংযোগ নব্বই দশকে বিশেষভাবে স্পষ্ট হয়।

…এদিকে, তার সম্প্রসারিত পুঁজি বজায় রাখতে, ভারতকে আরও বাজার এবং কাঁচামাল প্রয়োজন। ফলে এটি সহজেই বোঝা যায় কেন ভারত তার সীমানার বাইরেও তার প্রভাব বিস্তার করতে চায়। অর্থনৈতিক সম্প্রসারণের পাশাপাশি, দেশটি একটি বৈশ্বিক সামরিক শক্তি হয়ে উঠতে চেয়েছে। …বিশ্বায়িত পুঁজিবাদী ব্যবস্থার প্রকৃতির কারণে, ভারতীয় পুঁজি সবসময় বহুজাতিক পুঁজির থেকে আলাদা করা যায় না। ভারতীয় পুঁজি, অন্যদের মধ্যে, মার্কিন, জাপানি এবং জার্মান পুঁজির সাথে সাবকন্ট্রাক্ট, অংশীদারিত্ব এবং যৌথ উদ্যোগের মাধ্যমে আন্তঃসংযুক্ত, যা একটি বহুজাতিক অর্থনৈতিক আধিপত্য সৃষ্টি করে। এ কারণে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র কয়েক দশক ধরে ভারতকে আঞ্চলিক নেতা হিসেবে প্রচার করে আসছে। ওয়াশিংটন ভারতকে একটি কৌশলগত ভারসাম্য হিসেবে চীনকে মোকাবিলা করার জন্য নির্ভর করছে এবং অঞ্চলটিতে ভারত মাধ্যমে তার অবস্থান প্রতিষ্ঠা করতে চায়।

বাংলাদেশ গত দশকে ভারতের সাথে একাধিক চুক্তি করেছে যা বিশেষভাবে ভারতীয় বড় পুঁজি স্বার্থকে সমর্থন করেছে। আগের সরকারগুলোও ভারতের সাথে অসম চুক্তি করেছে, তবে শেখ হাসিনার প্রশাসন পূর্বের সব রেকর্ড ভঙ্গ করেছে। …বাংলাদেশের জনগণের ভারতের প্রতি নির্দিষ্ট অভিযোগ, সমস্যা এবং মতামত রয়েছে। এর মধ্যে পানি ও নদী বিরোধ, সীমান্তে হত্যা, ট্রানজিট সমস্যা, অস্বাভাবিক বাণিজ্য এবং বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়সমূহে ভারতের রাজনৈতিক হস্তক্ষেপ অন্তর্ভুক্ত। ভারতের বর্তমান পররাষ্ট্রনীতির বিরুদ্ধে ক্ষোভ শুধু বাংলাদেশেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি নেপাল, ভুটান, মালদ্বীপ এবং শ্রীলঙ্কাতেও প্রভাব ফেলেছে।অতএব, আমাদের মধ্যে সমস্যা শুধু সাম্প্রদায়িক নয়; বরং এটি একটি শক্তিশালী রাষ্ট্র এবং তার বৃহৎ পুঁজি শ্রেণীর “বড় ভাই” মনোভাব থেকে উদ্ভূত।

এমন এক শান্তিপূর্ণ, গণতান্ত্রিক দক্ষিণ এশিয়ার প্রয়োজন, যা দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের স্বার্থে কাজ করবে। দক্ষিণ এশিয়ার অস্থিরতা, সহিংসতা এবং অসমতা দূর করার জন্য আমাদের যৌথ প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এই বিষয়ে, ভারতীয় জনগণ কীভাবে বর্তমান ব্যবস্থার শিকার, সেটি আমাদের স্বীকার করা গুরুত্বপূর্ণ। শেষ পর্ন্ত দক্ষিণ এশিয়ার জনগণের স্বার্থ, ভারতসহ, একেবারে সংযুক্ত।আমাদের যৌথ সংগ্রাম হওয়া উচিত, এমন এক দক্ষিণ এশিয়া তৈরি করার জন্য, যা নিপীড়ন, অসমতা এবং সাম্রাজ্যবাদী শাসনের কবল থেকে মুক্ত। এটি অর্জন করার জন্য, এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি জরুরি, পুরো অঞ্চলটির জনগণের মধ্যে সংহতি গড়ে তোলা।”



যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘ যে কোনো ধরনের যুদ্ধের ‘ জন্য প্রস্তুত চীন !

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে ‘যে কোনো ধরনের যুদ্ধের’ জন্য প্রস্তুত চীন !ট্রাম্প চীনের সব ধরনের পণ্যে বাড়তি শুল্ক আরোপের পর বিশ্বের শীর্ষ দুই অর্থনীতি একটি বাণিজ্য যুদ্ধের দ্বারপ্রান্তে আছে। যুক্তরাষ্ট্রে চীন থেকে আমদানি করা সব পণ্যে শুল্ক ১০ থেকে বাড়িয়ে ২০ শতাংশ কার্যকর করার দিনই বেইজিং মার্কিন কৃষি পণ্যে ১০ থেকে ১৫ শতাংশ পাল্টা শুল্ক আরোপ করে ওয়াশিংটনকে জবাব দেয়।সরকারি এক বিবৃতির একটা লাইন সামাজিক মাধ্যম এক্স-এ ফের পোস্ট করে চীনের ওয়াশিংটন দূতাবাস বলেছে, “যুক্তরাষ্ট্র যা চায় তা যদি যুদ্ধ হয়, হতে পারে সেটি একটি শুল্ক যুদ্ধ, একটি বাণিজ্য যুদ্ধ অথবা অন্য যে কোনো ধরনের যুদ্ধ, শেষ পর্যন্ত লড়ার জন্য আমরা প্রস্তুত আছি।”

বিবিসি লিখেছে, ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে এটি চীনের কাছ থেকে আসা সবচেয়ে কঠোর বক্তব্য। বেইজিংয়ের নেতারা চীনের জনগণের কাছে একটি বার্তা পাঠানোর চেষ্টা করছেন তা হল, বাণিজ্য যুদ্ধের হুমকি সত্ত্বেও তাদের অর্থনৈতিক অগ্রগতি অব্যাহত থাকবে এ বিষয়ে তারা আত্মবিশ্বাসী। বিবিসি-র মন্তব্য, যুক্তরাষ্ট্র তার মিত্র কানাডা ও মেক্সিকোর ওপরও বাড়তি শুল্কের বোঝা চাপিয়ে দিয়েছে। ট্রাম্পের এসব পদক্ষেপে সৃষ্ট পরিস্থিতি ব্যবহার করার আশা করতে পারে চীন। আর সম্ভাব্য নতুন বৈদেশিক অংশীদারদের শঙ্কিত করা থেকে বিরত থাকতে ‘যুদ্ধ’ বিষয়ক বাগাড়ম্বর সম্ভবত তারা আর বাড়াতে চাইবে না।

বুধবার চীনের প্রধানমন্ত্রী লি ছিয়াং ঘোষণা করেন, চীন চলতি বছরও তাদের প্রতিরক্ষা ব্যয় ৭.২% বাড়াবে। এরপর তিনি সতর্ক করে বলেন, “এক শতাব্দীতে দেখা যায়নি বিশ্বজুড়ে এমন সব পরিবর্তন দ্রুত গতিতে প্রকাশ পাচ্ছে।” বিবিসি বলছে, চীনের প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি এ পদক্ষেপ প্রত্যাশিতই ছিল এবং তারা এ সংখ্যা গত বছরই ঘোষণা করেছিল।


দেশে অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট সংকট অস্ত্রোপচারে ঝুঁকি বাড়ছে

দেশের চিকিৎসা খাতে অস্ত্রোপচারের সময় অ্যানেস্থেসিয়া প্রয়োগের ক্ষেত্রে নানা অনিয়ম ও সংকট দেখা দিচ্ছে। বিশেষজ্ঞ অ্যানেস্থেসিওলজিস্টের ঘাটতির কারণে রোগীর জীবন ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে, যা সাম্প্রতিক কয়েকটি ঘটনায় স্পষ্ট হয়েছে। সম্প্রতি কিশোরগঞ্জের শহীদ সৈয়দ নজরুল ইসলাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে হার্নিয়ার রোগী মনিরুজ্জামান মল্লিক চেতনানাশক ইনজেকশন প্রয়োগের পর মারা যান। রোগীর স্বজনরা অভিযোগ করেন, অস্ত্রোপচার কক্ষে চিকিৎসকের উপস্থিতিতে অ্যানেস্থেসিয়া প্রয়োগের নিয়ম থাকলেও তা মানা হয়নি।

বাংলাদেশ সোসাইটি অব অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ক্রিটিক্যাল কেয়ার ও পেইন ফিজিশিয়ানস (বিএসএসিসিপিপি)-এর তথ্যমতে, দেশে মোট তালিকাভুক্ত বিশেষজ্ঞ অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট ১,৯৫২ জন এবং অতিরিক্ত প্রায় ৫০০ জন রয়েছেন। কিন্তু এই সংখ্যা দেশের চাহিদার তুলনায় অপ্রতুল। সরকারি হাসপাতালে স্বল্পসংখ্যক অ্যানেস্থেসিওলজিস্ট প্রচণ্ড কাজের চাপের মুখে থাকেন, ফলে সেবার মানও ব্যাহত হয়। ভারতে ভিসা-সংক্রান্ত জটিলতার কারণে অনেক রোগী দেশে অস্ত্রোপচার করাচ্ছেন। ফলে সরকারি-বেসরকারি হাসপাতালে অস্ত্রোপচারের হার বেড়েছে। রাজধানীর স্কয়ার, ইবনে সিনা, এভারকেয়ার, ল্যাবএইড, বিআরবি হাসপাতালসহ অনেক প্রতিষ্ঠান অস্ত্রোপচারের ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য চাপ অনুভব করছে।

বেতন বৈষম্য, প্রাইভেট চেম্বার পরিচালনার সুযোগ না থাকা, কর্মক্ষেত্রে ঝুঁকি এবং সার্জনদের ওপর নির্ভরশীলতাড়এসব কারণে নতুন চিকিৎসকদের মধ্যে এ বিষয়ে পড়াশোনার আগ্রহ কমছে। অনেক চিকিৎসক পেশা পরিবর্তন করে পেইন মেডিসিন ও প্যালিয়েটিভকেয়ারের দিকে ঝুঁকছেন।বিএসএসিসিপিপির সাধারণ সম্পাদক ডা. শামসুল আরেফিন সুমন বলেন, অ্যানেস্থেসিওলজিস্টদের গুরুত্ব দেওয়া, তাদের নাম ও অবদান প্রকাশ করা, পর্যাপ্ত বেতন বৃদ্ধি ও কর্মপরিবেশ উন্নত করা জরুরি।

ল্যাবএইড গ্রুপের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ডা. এএম শামীম বলেন, দক্ষ অ্যানেস্থেসিওলজিস্টদের উপযুক্ত সম্মানী ও সুযোগ-সুবিধা প্রদান করা হলে সংকট অনেকাংশে দূর করা সম্ভব। বাংলাদেশের অস্ত্রোপচার ও চিকিৎসা সেবার মানোন্নয়নের জন্য বিশেষজ্ঞ অ্যানেস্থেসিওলজিস্টের সংখ্যা বৃদ্ধি করা, পেশাগত সুবিধা বাড়ানো এবং মেডিকেল শিক্ষার্থীদের এই বিষয়ে আকৃষ্ট করার উদ্যোগ নেওয়া জরুরি।



বাংলাদেশ থেকে নারী শ্রমিক অভিবাসন কমে যাচ্ছে

বাংলাদেশ থেকে নারীদের শ্রম অভিবাসন গত কয়েক বছরে উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। এর মূল কারণ হিসেবে বলা হচ্ছে-ভাষাগত সমস্যা, দক্ষতার অভাব এবং নিরাপত্তা ঝুঁকি। সরকারের জনশক্তি, কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরো-র পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২২ সাল থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে নারী শ্রমিকদের অভিবাসন ৪২ শতাংশ কমে গেছে। ২০২২ সালে ১,০৫,৪৬৬ নারী শ্রমিক বিদেশে গিয়েছিলেন; ২০২৪ সালে এই সংখ্যা নেমে আসে ৬১,১৫৮ জনে। বাংলাদেশের শ্রমিকরা এখন দেশগুলোর সঙ্গে প্রতিযোগিতায় পিছিয়ে পড়ছে, কারণ তারা ভাষার বিষয়ে দুর্বল এবং অন্য দেশগুলোর শ্রমিকদের চেয়ে কম দক্ষ। এ ছাড়া, উচ্চ অভিবাসন খরচ এবং অধিক পরিমাণে মানবাধিকার লঙ্ঘনের কারণে নিয়োগদাতা এজেন্টরা নারী শ্রমিক পাঠাতে আগ্রহ হারিয়েছে।

বাংলাদেশি নারীরা সাধারণত গৃহকর্মী, গার্মেন্টস কর্মী, পরিচ্ছন্নতাকর্মী, দর্জি, স্বাস্থ্যসেবা কর্মী হিসেবে বিদেশে যান।বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, অভিবাসন খাতে নারীদের দক্ষতা বাড়ানোর জন্য সরকারকে প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা পুনঃমূল্যায়ন করা উচিত। বর্তমানে, নারীদের বিদেশে কাজের জন্য কমপক্ষে দুই মাসের প্রশিক্ষণ বাধ্যতামূলক। এছাড়া, রাজনৈতিক অস্থিরতা ও অন্যান্য দেশগুলোর অভিবাসন নীতি পরিবর্তনও নারীদের অভিবাসনে নেতিবাচক প্রভাব ফেলেছে। ২০০৪ থেকে ২০২৪ এই দুই দশকে বাংলাদেশ থেকে ১১,৬২,৭৯১ জন নারী শ্রমিক বিতদশে কাজে গেছেন। এই ২০ বছরে মোট ১,২৫,২৪,২৯৮ জন অভিবাসী শ্রমিক বিদেশে গেছেন।


চিকিৎসাবিজ্ঞানের নতুন দিগন্ত নিউক্লিয়ার স্পিন মাইক্রোস্কোপি

মিউনিখ টেকনিক্যাল ইউনিভার্সিটির (TUM) গবেষকরা নিউক্লিয়ার স্পিন মাইক্রোস্কোপি নামে একদম নতুন এক মাইক্রোস্কোপির ক্ষেত্র আবিষ্কার করেছেন। এই প্রযুক্তির মাধ্যমে নিউক্লিয়ার ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স (NMR)-এর চৌম্বক সংকেতগুলিকে মাইক্রোস্কোপের মাধ্যমে দৃশ্যমান করা সম্ভব। কোয়ান্টাম সেন্সর এই সংকেতগুলিকে আলোর রূপে রূপান্তরিত করে, যা অত্যন্ত উচ্চ-রেজোলিউশনের অপটিক্যাল ইমেজিং সম্ভব করে তোলে। আমরা জানি, ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স ইমেজিং (MRI) স্ক্যানার মানুষের শরীরের গভীরে প্রবেশ করে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ ও টিস্যুর ছবি তুলতে পারে। নতুন উদ্ভাবিত এই পদ্ধতি এই প্রযুক্তিকে আরও ক্ষুদ্রাতিক্ষুদ্র মাত্রায় নিয়ে গেছে।

Nature Communications জার্নালে প্রকাশিত গবেষণাটি দেখিয়েছে, কীভাবে কোয়ান্টাম সেন্সর ব্যবহার করে ম্যাগনেটিক রেজোন্যান্স সংকেতকে অপটিক্যাল সংকেতে রূপান্তর করা যায়। এরপর ক্যামেরার মাধ্যমে সেই সংকেত ধরা হয় এবং ইমেজ আকারে প্রদর্শিত হয় বলে ব্যাখ্যা করেন TUM School of Natural Sciences-এর কোয়ান্টাম সেন্সিং অধ্যাপক এবং Munich Center for Quantum Science and Technology (MCQST)-এর গবেষক ডোমিনিক বুচার।

নতুন MRI মাইক্রোস্কোপের রেজোলিউশন দশ মিলিয়ন ভাগের এক মিটারড়্যা এতটাই সূক্ষ্ম যে ভবিষ্যতে এটি একক কোষের গঠন দৃশ্যমান করতে সক্ষম হবে। এই মাইক্রোস্কোপের কেন্দ্রবিন্দু হলো একটি ক্ষুদ্র হীরার চিপ। বিশেষভাবে প্রস্তুতকৃত এই হীরা পরমাণু স্তরে পরিবর্তিত করা হয়েছে, যা MRI চৌম্বক ক্ষেত্রের জন্য অত্যন্ত সংবেদনশীল এক কোয়ান্টাম সেন্সর হিসেবে কাজ করে। যখন এটি লেজার আলোর সংস্পর্শে আসে, তখন এক ধরনের ফ্লুরোসেন্ট সংকেত তৈরি করে, যা MRI সংকেতের তথ্য বহন করে।উচ্চ-গতির ক্যামেরার মাধ্যমে এই সংকেত রেকর্ড করা হয়, যা অতিক্ষুদ্র মাত্রার উচ্চ-রেজোলিউশনের ছবি তৈরি করতে সাহায্য করে।

নিউক্লিয়ার স্পিন মাইক্রোস্কোপির সম্ভাবনাগুলি খুবই আশাব্যঞ্জক। ক্যান্সার গবেষণায় এটি ব্যবহৃত হলে কোষের গঠন বিশ্লেষণ করে টিউমার কীভাবে বৃদ্ধি ও ছড়িয়ে পড়ে, সে সম্পর্কে নতুন তথ্য পাওয়া সম্ভব হবে। ফার্মাসিউটিক্যাল গবেষণায়, এই প্রযুক্তির মাধ্যমে ওষুধের সক্রিয় উপাদানগুলোকে দ্রুত পরীক্ষা ও উন্নত করা যাবে। এছাড়াও এটি পদার্থবিদ্যায় বিস্তৃতভাবে ব্যবহার করা যেতে পারে। যেমন পাতলা-স্তর উপকরণ বা অনুঘটকদের রাসায়নিক গঠন বিশ্লেষণের জন্য। গবেষক দল ইতিমধ্যেই এই প্রযুক্তির জন্য পেটেন্টের আবেদন করেছে এবং এর আরও উন্নতির পরিকল্পনা করছে। যাতে এটি আরও দ্রুত ও নির্ভুল করা যায়। দীর্ঘমেয়াদে এটি চিকিৎসা নির্ণয় ও গবেষণার একটি মানসম্মত সরঞ্জাম হয়ে উঠতে পারে। গবেষণার প্রথম লেখক কার্ল ডি. ব্রিয়েগেল বলেন, “কোয়ান্টাম পদার্থবিদ্যা ও ইমেজিং-এর সংমিশ্রণ আমাদেরকে আণবিক স্তরে পৃথিবীকে বোঝার এক নতুন দিগন্ত উন্মোচন করে দিচ্ছে।”


দেশে দৈনিক ৫৬ জনের আত্মহত্যা

প্রতিদিন আমাদের মাঝে থেকেই আচমকা কোনো না কোনো জীবন নিজের হাতে স্বেচ্ছায় থেমে যায়। ছোট্ট জীবনেও দীর্ঘকাল বাঁচার পরে হুট করে হাঁটার ক্লান্তি যাদের পা চেপে ধরে, তাদের মৃত্যুর জন্য তারা নিজেরা নয়, রাষ্ট্র-সমাজসহ আমরা সকলেই দায়ী। বাংলাদেশে আত্মহত্যার ঘটনা আশঙ্কাজনক হারে বৃদ্ধি পাচ্ছে। আন্তর্জাতিক গবেষণা ও স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্যানুযায়ী, প্রতিদিন গড়ে ৫৬ জন আত্মহত্যা করেন। এই সংখ্যা কেবল একটি পরিসংখ্যান নয়, এটি অসংখ্য স্বপ্নের অপমৃত্যু। সমাজের চাপ, অবহেলা, আর মানসিক যন্ত্রণার কাছে হেরে গিয়ে মানুষ নিরুপায় হয়ে নিজের অস্তিত্ব মুছে ফেলছে।

গত কয়েকদিনে বেশ কিছু হৃদয়বিদারক আত্মহত্যার ঘটনা সংবাদমাধ্যমে উঠে এসেছে। কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীতে এক মিষ্টি ব্যবসায়ী মোবাইল ফোনে ভিডিও চালু রেখে নিজের জীবন শেষ করেছেন। তার যন্ত্রণার সাক্ষী শুধু সেই অনলাইন দর্শক, যারা কিছুই করতে পারেনি। এদিকে গত এক বছরে ৩১০ জন শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন, যাদের ৪৬.১ শতাংশ মাধ্যমিক স্তরের শিক্ষার্থী। তারা হয়তো চেয়েছিল একটু বোঝাপড়া, একটু সহানুভূতি। কিন্তু সমাজ তাদের বোঝার আগেই তারা বিদায় নিয়েছে। বাংলাদেশে আত্মহত্যার হার প্রতি লাখে প্রায় ৭.৮ জন। ল্যানসেটের গবেষণা বলছে, ২০১৯ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে আত্মহত্যার সংখ্যা ক্রমাগত বাড়ছে। ২০২৩ সালের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, আত্মহত্যার শিকার ৬০% মানুষই ১৫ থেকে ৩০ বছর বয়সী। এই তরুণ প্রাণগুলো নিজেদের হারিয়ে ফেলছে মানসিক চাপে, পারিবারিক সংকটে কিংবা সম্পর্কের টানাপোড়েনে।

বাংলাদেশের আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পরিসংখ্যানে জানা যায়, ২০২২ সালে আত্মহত্যা করেছে ১৪,৪৩৬ জন, যা আগের বছরের তুলনায় ১৫% বেশি। জাতীয় মানসিক স্বাস্থ্য ইনস্টিটিউটের গবেষণা বলছে, ৭০% আত্মহত্যার কারণ মানসিক অবসাদ এবং পারিবারিক কলহ।আরও একটি জরিপে দেখা গেছে, আত্মহত্যার আগে ৮০% মানুষ মানসিক রোগে আক্রান্ত হলেও, মাত্র ১৫% স্বেচ্ছায় চিকিৎসার জন্য এগিয়ে আসেন। সমাজের ভয়, লোকলজ্জা, আর মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি উদাসীনতা তাদের একাকীত্বের দিকে ঠেলে দেয়। অন্যদিকে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির অর্থায়নে পরিচালিত জরিপ বলছে, দেশে ১ লাখ মানুষে ১২ জন আত্মহত্যা করছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের অসংক্রামক রোগ নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচির আর্থিক সহায়তায় জাতীয় জরিপ (২০২২২৩) করেছে সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্ট, বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)। ২০১৬ সালেও তারা জরিপ করেছিল।

তাদের জরিপ বলছে, দুর্ঘটনার মধ্যে সড়ক দুর্ঘটনার পর দৈনিক সবচেয়ে বেশি মানুষ মারা যান আত্মহত্যায়। ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সী নারীদের এবং ১৮ থেকে ২৪ বছর বয়সী পুরুষের মধ্যে আত্মহত্যার প্রবণতা বেশি। শহরের চেয়ে গ্রামে আত্মহত্যার হার বেশি।আত্মহত্যা সবচেয়ে বেশি দেখা গেছে বেকারদের মধ্যে। গলায় ফাঁস ও কীটনাশক পান আত্মহত্যার জন্য মানুষ এই দুটি পথই বেশি বেছে নিচ্ছেন। নারীদের মধ্যে আত্মহত্যার হার সবচেয়ে বেশি। বিশেষ করে ১০ থেকে ২৯ বছর বয়সীদের মধ্যে। পারিবারিক সহিংসতা, ইভটিজিং, বাল্যবিবাহ, সম্পর্কজনিত হতাশা আর অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা তাদের ভেতর থেকে ভেঙে দিচ্ছে। ২০২৩ সালে বাংলাদেশ মহিলা পরিষদের প্রতিবেদনে উঠে এসেছে, দেশের ৬০% আত্মহত্যাকারী নারী কোনো না কোনোভাবে পারিবারিক সহিংসতার শিকার ছিলেন। সমাজ যেখানে তাদের কষ্ট বোঝার পরিবর্তে দোষারোপ করে, সেখানে তারা কোথায় গিয়ে দাঁড়াবে?

বাংলাদেশে মানসিক স্বাস্থ্যসেবা এখনো অপর্যাপ্ত। প্রশিক্ষিত মনোরোগ বিশেষজ্ঞের অভাব, মানসিক অসুস্থতা নিয়ে সামাজিক ট্যাবু, এবং পর্যাপ্ত সহায়তার অভাবে মানুষ ক্রমাগত একাকীত্বের দিকে ধাবিত হচ্ছে। অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, কর্মক্ষেত্রের চাপ, পারিবারিক দ্বন্দ্ব এসব মিলে প্রতিদিন অসংখ্য মানুষকে মানসিকভাবে ভেঙে দিচ্ছে। অথচ একটু বোঝাপড়া, একটু সহানুভূতি, একটু সাহায্য হয়তো কারও জীবন বাঁচাতে পারতো। আত্মহত্যা আসলে হারিয়ে যাওয়া স্বপ্নের গল্প। হারিয়ে যাবার মধ্যে শান্তি আছে কিনা সেটা যারা হারিয়েছে তারাই জানে, আমরা জানিনা। এখানে আমাদের দায়িত্ব হলো সকলের মানসিক স্বাস্থ্যের ব্যাপারে আরও সংবেদনশীল হওয়া, অন্যের কষ্ট বোঝার চেষ্টা করা এবং সময় থাকতেই পাশে দাঁড়ানো। মূলত পৃথিবী সুন্দর খুবই হওয়া জরুরি।